ভারতকে রুখে দিয়ে সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু বাংলাদেশের

ড্র দিয়ে সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করল বাংলাদেশ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভারতের সাথে জমজমাট লড়াই হলো তাদের। তবে কেউই পেল না জয়সূচক গোলের দেখা। থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি হলে বুধবার ভারতের বিপক্ষে ৪–৪ ড্র করেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ দুই দল শেষ করেছিল ২–২ সমতায়। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের। ভারতের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দারুণ কিছুর ইঙ্গিতই দিচ্ছিল বাংলাদেশ। এ অর্ধে গোল হয়েছে চারটি। নবম মিনিটে রাহবার খানের পাস ধরে ডান দিক থেকে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন মঈন আহমেদ। একটু পরই আনমোল অধিকারী সমতার স্বস্তি এনে দেন ভারতকে। বিরতির বাঁশি বাজার একটু আগে হয় আরও দুই গোল। ষোড়শ মিনিটে মঈনের পাস থেকে গোল করেন রাহবার। এরপর ভারতের লালসোয়ামপুইয়ার শট বাংলাদেশের তুহিনের পায়ে লেগে গোলকিপারকে বিভ্রান্ত করে খুঁজে নেয় জাল। দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই চলতে থাকে একই গতিতে। ২৭তম মিনিটে লালরিনজুয়ালার শট বুক দিয়ে জালে ঠেলে দ্বিতীয়ার্ধে ভারতকে এগিয়ে নেন রোলুয়াপুইয়া। একটু পর দূরূহ কোণ থেকে মঈনের লক্ষ্যভেদে সমতায় ফিরে বাংলাদেশ। এরপর ৩৬তম মিনিটে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে বাংলাদেশের বিপদ বাড়ান গোলকিপার। সতীর্থের পাস ধরে ফাঁকা জালে অনায়াসে বল জড়িয়ে দেন রোলুয়াপুইয়া। ফের এগিয়ে যায় ভারত। নাটকীয়তার তখনও বাকি। ভারতের আনমোল তালগোল পাকিয়ে বল হারালে পেয়ে যান অধিনায়ক রাহবার। দারুণ ক্ষিপ্রতায় বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করে ৪–৪ সমতায় ফেরান দলকে।

পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর খুলে দেওয়া হলো ইরানের আকাশসীমা

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় কয়েক ঘণ্টার জন্য আকাশপথ বন্ধ রাখার পর আবারও সব ধরনের ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইরান। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার এই বন্ধে বিশ্বজুড়ে বহু এয়ারলাইনসকে ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব কিংবা রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ২২১৫) ইরান সব ধরনের ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। তবে সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের আগমন ও বহির্গমন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার ২৪ জানায়, ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী রাত ১০টার কিছু আগে (গ্রিনিচ মান সময় ০৩০০) সংশ্লিষ্ট নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ইরানি এয়ারলাইনস মাহান এয়ার, ইয়াজদ এয়ারওয়েজ ও এভিএ এয়ারলাইনসের মোট পাঁচটি ফ্লাইট পুনরায় আকাশে ওঠে।

ফ্লাইটরাডার ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, আকাশসীমা বন্ধের সময়ের কাছাকাছি সময়ে আগের সপ্তাহে ইরানের আকাশে ডজনখানেক বাণিজ্যিক বিমান চলাচল করছিল, যা এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

ইরানে বর্তমানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই ইরান আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র‍্যাব মহাপরিচালককে এতে বিবাদী করা হয়েছে।

 

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা সত্ত্বেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, এ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এরইমধ্যে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ উসমান হাদির সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে এ নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বক্তব্য দিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।

 

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান রিট আবেদনে আরও উল্লেখ করেছেন, সরকার কিছু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও দেশের আপামর ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ অবস্থায় লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা বাংলাদেশ সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার অর্থাৎ ‘জীবনের অধিকার’ এর চরম লঙ্ঘন হবে। তাই রিট আবেদনে লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

টঙ্গীতে ২ প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

গাজীপুরের টঙ্গীতে হঠাৎ খিঁচুনি উঠে দুই প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বুধবারের ঘটনায় দুটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে মেঘনা রোডের মা টাওয়ারে অবস্থিত গার্মেন্ট এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড ও একই এলাকার আলম টাওয়ারে অবস্থিত ব্রাভো অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় এই ঘটনা ঘটে।অসুস্থ্যরা হচ্ছেন শেফালী, আকলিমা, মারজান, ফুলবানু, লিমা, শারমিন, আন্না, শিল্পী, নাজমুল, ডলি, আলী, মেহেদী, সুবর্ণা, মনেয়ারা, হৃদয়, মালেকা, লিজা, শেফালী, আসমা, মনিরা, নাসিমা, রিয়া, কিরন দাস, সুমা, শাহালম, নাদিয়া, জান্নাত, আমেনা ও মোরশেদাকে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে গুরুতর ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন রোগী গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আলম টাওয়ারে অবস্থিত ব্রাভো অ্যাপারেল ম্যানুফেকচারার লিমিটেডের শ্রমিকে মো. রনি মিয়া জানান, সকালে মশা তাড়ানোর গ্যাস ছিটানো হয়।এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকে একের পর এক শ্রমিকরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান, অনেকে বমি করতে থাকেন এবং মুখ দিয়ে ফেনা বেরিয়ে যায়।পাশের গার্মেন্ট এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের শ্রমিকেরা যেভাবে অসুস্থ হচ্ছে আমাদের গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা একইভাবে অসুস্থ হচ্ছেন বলে জানান তিনি।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার নাহিদ সুলতানা বলেন, এটা সাধারণত মশার ওষুধ ছিটানোর গন্ধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এক-দুজনের হওয়ার পর তাদের দেখাদেখি ওপর শ্রমিকদের একই অবস্থা হয়ে যাচ্ছে।এটা সাধারণত প্যানিক অ্যাটাক।
ব্রাভো অ্যাপারেন্স কারখানার কর্মকর্তা খোরশেদ বলেন, শ্রমিক অসুস্থতার ঘটনায় বুধবারের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গার্মেন্ট এক্সপোর্ট ভিলেইজ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার সুজন মাহমুদ বলেন, শ্রমিক অসুস্থতার কারণে প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পরিদর্শক (টঙ্গী জোন) আজাদ রহমান বলেন, ঘটনার পরপর সব শ্রমিক এমনিতেই চলে গেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে অফিসিয়ালি ছুটি ঘোষণা করা হবে।

গাজায় তীব্র শীতে মৃত্যু বেড়ে ২৪, প্রাণ হারিয়েছে ২১ শিশু

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তীব্র শীত ও হিমাঙ্কছোঁয়া তাপমাত্রায় জমে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই শিশু। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। চলমান শীত মৌসুমের শুরু থেকেই তীব্র ঠান্ডার কারণে সাতজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যা গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যাকে এই ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। নিহতদের সবাই বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ছিলেন এবং তারা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, গাজায় বর্তমানে বয়ে যাওয়া নিম্নচাপ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৭ হাজার তাবু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। দেইর আল-বালাহসহ বিভিন্ন এলাকায় তাবুগুলো প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে ভেসে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

ইসরায়েলি অবরোধ ও নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর অধিকাংশ এখন ধ্বংসস্তূপ। বর্তমানে ১৫ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি এমন সব ক্যাম্পে বাস করছেন যেখানে বেঁচে থাকার ন্যূনতম পরিবেশটুকুও নেই। হিমাঙ্কছোঁয়া এই তাপমাত্রা ফিরে আসায় বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মতো অসহায় গোষ্ঠীগুলোর জীবনের ওপর বড় ধরণের হুমকি তৈরি হয়েছে।

মিডিয়া অফিস সতর্ক করে বলেছে, গাজায় বর্তমানে গরম কাপড়ের তীব্র সংকট এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে মানবিক সহায়তা ও জ্বালানি প্রবেশ করতে না পারায় সেখানে কোনো ধরনের হিটিং ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

গাজা সরকার এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে এবং একে ‘ধীরে ধীরে হত্যা, অনাহার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির’ একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পর্যাপ্ত কম্বল ও শীতবস্ত্রের অভাবে শিশুদের মৃত্যুহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলি আগ্রাসনে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে।

যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকেও নতুন করে ৪৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ২৪৬ জন আহত হয়েছেন। এই বিরূপ আবহাওয়ায় ত্রাণ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে আরও বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মুঠোফোনের আমদানি শুল্ক ৬০% কমল, দাম কত কমবে

মুঠোফোনের মূল্য গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আমদানি শুল্ক কমানো হলো। ফোন আমদানিতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে মুঠোফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমানো হলো।

আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মুঠোফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের উপকরণ আমদানিতে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে মুঠোফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের উপকরণ আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমানো হলো।

কত টাকা খরচ কমল

এনবিআরের হিসাব অনুসারে, ৩০ হাজার টাকার অধিক মূল্যের আমদানি হওয়া প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ মুঠোফোনের দাম আনুমানিক সাড়ে ৫ হাজার টাকা কমবে।

আর ৩০ হাজার টাকার অধিক মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মুঠোফোনের দাম আনুমানিক ১৫০০ টাকা কমবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুঠোফোন আমদানি ও মুঠোফোন সংযোজন শিল্পের উপকরণ আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক হ্রাসের ফলে সব ধরনের মুঠোফোনের মূল্য গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। দেশের নাগরিকদের পক্ষে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ সহজ হবে।

এবার নিউ ইয়র্ক সিটিতে বিক্ষোভ, পাশে দাঁড়িয়েছেন মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে বৃহত্তম নার্স বিক্ষোভ-ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের দাবিতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোর থেকে মাউন্ট সিনাই, মন্টিফিওর এবং নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান—এই তিনটি প্রধান বেসরকারি হাসপাতালের নার্সরা কর্মবিরতি শুরু করেন। 

দীর্ঘ সময় ধরে চলা চুক্তিভিত্তিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নিউ ইয়র্ক স্টেট নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন (এনওয়াইএসএনএ) এই ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটরত নার্সদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাজপথে নেমেছেন সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। মেয়রের এই প্রকাশ্য সমর্থন নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্যখাতের প্রভাবশালী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।
নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কয়েক মাসের দরকষাকষি সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপদ স্টাফিং বা পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগের বিষয়ে কোনো অর্থবহ অগ্রগতি করতে পারেনি। উল্টো ধনকুবের হাসপাতালগুলো নার্সদের বর্তমান স্বাস্থ্য বিমা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের’ নিন্দা জানাতে ইরানের রাস্তায় দাঙ্গার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ইরানজুড়ে বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থী বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারের সমর্থনে স্লোগান দেয় এবং দাঙ্গা সৃষ্টিকারীদের ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের’ নিন্দা করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি বিরজান্দ, জাহেদান, জানজান, ইলাম, কেরমান, কোম, রাশত, হামেদান ও শাহরেকোর্দ শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, দাঙ্গাবাজদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ইরানি রিয়ালের তীব্র দরপতনের মুখে গত ২৯ ডিসেম্বর তেহরানে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করে। ৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অস্থিরতায় যোগ দেয়- এরপর বেশিরভাগ বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

রুশ বার্তা সংস্থা তাস বলছে, দাঙ্গাবাজদের কর্মকাণ্ডের ফলে ৮ জানুয়ারি রাতে বিক্ষোভে তিন বছরের এক শিশুসহ কমপক্ষে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৮ জন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাও প্রাণ হারিয়েছেন।

ইরানের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’, সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছেন ট্রাম্প: আরাঘচি

ইরানজুড়ে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও অস্থিরতা কাটিয়ে দেশের পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই দাবি করেন। আরাঘচি জানান, গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে রক্তাক্ত ও সহিংস করা হয়েছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করার একটি ‘অজুহাত’ তৈরি করতে প

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বর্তমান সংকট নিরসনে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের পথও খোলা রেখেছি।’ তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সারা দেশে দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করার কাজ চলছে।

বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূতাবাস এবং সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোতে খুব শীঘ্রই ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেন। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে কঠোর অবস্থান নেয় এবং কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তাকে ইতিহাসের কুখ্যাত ও অহংকারী স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

খামেনি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘যিনি দম্ভের সঙ্গে বসে সারা বিশ্বকে বিচার করছেন, তিনি জেনে রাখুন—ফেরাউন, নমরুদ ও রেজা শাহর মতো অহংকারী শাসকেরা যখন ক্ষমতার চূড়ায় ছিলেন, তখনই তাদের পতন হয়েছিল। তার (ট্রাম্প) পতনও অনিবার্য।’ খামেনির এই মন্তব্য ট্রাম্পের ‘গ্রেট ইরান’ গড়ার আহ্বানের বিপরীতে তেহরানের অনমনীয় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ দুটোই খোলা রাখার কৌশল নিয়েছে ইরান সরকার। বর্তমান এই সংকটময় মুহূর্তে তেহরানের রাজপথ শান্ত থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এক নতুন মোড় নিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা

ভেনেজুয়েলায় অভিযানে রহস্যময় অস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযানে শক্তিশালী রহস্যময় অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল মার্কিন বাহিনী। এতে অনেকের নাক দিয়ে রক্ত ঝরে, কারও কারও রক্তবমি হয়। আর তাতেই কাবু হয় মাদুরোর নিরাপত্তায় থাকা বিশাল বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট হওয়া ভেনেজুয়েলার প্রত্যক্ষদর্শী এক নিরাপত্তারক্ষীর বর্ণনা তুলে ধরে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত শনিবার এক্সে নিরাপত্তারক্ষীর বিবরণ শেয়ার করেন। খবর বিডিনিউজের।

সেখানে চমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই নিরাপত্তারক্ষী বর্ণনা করেন, কীভাবে আমেরিকান বাহিনী নিজেদের একটি সেনাও না খুইয়ে শত শত সেনাকে কাবু করে ফেলেছে এমন এক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা কখনও তিনি দেখেননি বা শোনেননি। ওই রক্ষীর কথায়, সামরিক অভিযান হওয়ার আগ পর্যন্ত কিছু টের পাওয়া যায়নি।

আমরা পাহারায় ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমাদের রেডার ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশে একের পর এক ড্রোন দেখা যায়। ঝুঁকে ঝাঁকে ড্রোন আমাদের অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়তে শুরু করে। আমরা কী করব বুঝতে পারছিলাম না। কয়েক মুহূর্ত পরেই কয়েকটি হেলিকপ্টার আসে। ৮ টির মতো হেলিকপ্টার। সেই কপ্টারগুলো থেকে ২০ জন মতো মার্কিন সেনা নেমে এসেছিল। তাদের হাতে বন্দুকের চেয়েও শক্তিশালী কোনও অস্ত্র ছিল। নিরাপত্তারক্ষী বলেন, তাদের কাছে এমন কোনও উন্নতি প্রযুক্তি ছিল যা আগে কখনও দেখিনি বা শুনিনি।

তাদের কাছে এমন কিছু ছিল, যা আমরা আগে কখনও মোকাবেলা করিনি। এরপরের ঘটনাকে তিনি লড়াই নয়, বরং নির্মম হত্যাযজ্ঞ বলে বর্ণনা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তারক্ষীর দাবি, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন ছিল। কিন্তু আমাদের কিছু করার সুযোগই ছিল না। তারা নিখুঁত নিশানা এবং ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গুলি চালাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যেন, প্রতিটি মার্কিন সেনা মিনিটে ৩০০ রাউন্ড গুলি ছুড়ছে। তারপরেই সেই রহস্যময় অস্ত্রের হামলা হয়, যার ভয়াবহতা তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে জানান তিনি। নিরাপত্তারক্ষী বলেন, এক পর্যায়ে তারা (মার্কিন সেনা) কিছু দিয়ে হামলা চালাল। আমি জানিনা সেটাকে কীভাবে বর্ণনা করব। জোরাল একটি আওয়াজ শোনা গিয়েছিল। এতটাই জোরাল যে, মনে হচ্ছিল আমার মাথা ভেতর থেকে ফেটে বেরুবে। এরপর সঙ্গে সঙ্গেই যা হল তা ভয়াবহ। আমাদের সবার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করল। কেউ কেউ রক্ত বমি করতে লাগল। আমরা মাটিতে পড়ে গেলাম। নড়াচড়া করার শক্তি ছিল না। ওই সনিক অস্ত্র বা সেটি যাই হয়ে থাকুক, সেই অস্ত্রের হামলার পর আমরা আর উঠেও দাঁড়াতে পারিনি।