গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলের হামলা, নিহত অন্তত ৫০০

গাজার একটি হাসপাতালে ইসরায়েলি বোমা হামলায় অন্তত ৫০০ জন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। নিহতদের অধিকাংশই রোগী ও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শরণার্থী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতালটির নাম আল-আহলি আরব। হাসপাতালটি গাজার সিটির দক্ষিণ অংশে অবস্থিত। ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটিকে গাজার সবচেয়ে পুরোনো বলে বিবেচনা করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় হাসপাতালটিতে আনুমানিক ৫০০ জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘এটি ভয়াবহ অন্যায় এবং এই হামলার মাধ্যমে আবারও দেখিয়ে দেওয়া হলো—বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণের কোনো দাম দেওয়া হচ্ছে না।’

ইসরায়েলের হামলার পর হতাহতের বিষয়টি জানিয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, হাসপাতালটি রোগীদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়হীনদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘হাসপাতালটি শত শত অসুস্থ ও আহতদের ঠাঁই দেওয়ার পাশাপাশি গাজার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষদেরও আশ্রয় দিয়েছিল।’

হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘাতের সূত্র ধরে গত ১২ দিন ধরে গাজা উপত্যকায় বোমাবর্ষণ করছে ইসরায়েল। ইউএনআরডব্লিউএ-এর তথ্য মতে, চলমান সংঘাতে গাজায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা প্রায় এই শহরের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে হাসপাতালে নিহতদের সংখ্যা ছাড়াও অন্তত ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। আর ইসরায়েলি নিহত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন।

ফুলকির আয়োজনে ‘আমাদের শিশুরা’ নাটকের প্রদর্শনী

স্টাফ রিপোর্টার : শিশু নির্যাতন, শিশু অধিকার, সুরক্ষা ও পুষ্টির ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা ও উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেভ দ্যা চিলড্রেনের সহযোগিতায় এইচ এন্ড এম ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং ফুলকি’র আয়োজনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৬,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড এবং সাভারের ইয়ারপুর, তেতুলঝরা, ধামসোনা এলাকায় শেকানুল ইসলাম শাহী রচিত ও নির্দেশিত পথনাটক ‘আমাদের শিশুরা’ প্রদর্শনের আয়োজন হয়।
শ্রমজীবী মায়েদের ২ থেকে ৫ বছরের শিশুদের দিনের বেলায়  দিবা যত্ন কেন্দ্রে পড়াশুনা, খাওয়াদাওয়া করানো এবং বিনোদনের ব্যবস্থা, গার্মেন্টসে কর্মরত মায়েদের ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের  ।
‘অপরাজিতা’ প্রকল্পের কার্যক্রম, ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের দিবা যত্ন কেন্দ্রের চাইল্ড স্পেসে খেলাধুলা, লাইব্রেরি ও শিশু-বান্ধব বিনোদনের ব্যবস্থা, স্টেম কার্যক্রন্মের আওতায় শিশুদের  ন্যূনতম স্তরে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে প্রশিক্ষণের কর্মসূচি ইত্যাদি বিষয়কে উপজিব্য করে পরিবেশিত নাটকটি উপস্থিত বিপুল সংখ্যক দর্শক উপভোগ করেন এবং উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা, ছাড়িয়েছে ২৮০০

হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ গড়িয়েছে এগারোতম দিনে। এর আগে বিগত দশ দিনে অর্থাৎ গতকাল সোমবার পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০৮ জনে। এ সময় ইসরায়েলি হামলার কারণে আহত হয়েছে আরও প্রায় ১১ হাজার। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা নিউজ গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় বিগত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার) ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে ২৫৪ ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছে আরও অন্তত ৫৬২ জন। এ অবস্থায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০৮ জনে। নিহতদের মধ্যে ৬৪ শতাংশই নারী ও শিশু। নিহতদের মধ্যে নারী ৯৩৬ জন ও শিশু ৮৫৩ জন। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮৫০ জনে।

কেবল সাধারণ মানুষই নিহত হয়নি, ইসরায়েলি হামলায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালের অন্তত ৩৭ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে চিকিৎসক, প্যারামেডিক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছে।

এ ছাড়া, ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৭৩১টি আবাসিক ভবনের সাড়ে ১০ হাজার হাউজিং ইউনিট বিধ্বস্ত হয়েছে। এর বাইরে আরও প্রায় ১০ হাজার হাউজিং ইউনিট আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরও ৭ হাজার ১০০ হাউজিং ইউনিট বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ টি স্কুল পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, দেড় শতাধিক স্কুল আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর সকালে ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা শুরু করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তারা মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ইসরায়েলের দিকে পাঁচ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। একই সঙ্গে স্থলপথ, জলপথ ও আকাশপথে দেশটিতে ঢুকে পড়েন হামাস যোদ্ধারা। ইসরায়েলও এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ ঘোষণা করে হামাসের বিরুদ্ধে। এর পর থেকেই দফায় দফায় গাজায় বিমান, স্থল এমনকি নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার আহবানে সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের ভোট

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ভোট চেয়েছে রাশিয়া। আগামী সোমবার ইসরায়েল-হামাস সংঘর্ষ বন্ধের খসড়া প্রস্তাবে ভোট হবে বলে আশা করছে দেশটি।

রাশিয়ার ডেপুটি ইউএন অ্যাম্বাসেডর দিমিত্রি পলিয়ানস্কি শনিবার বলেন, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদকে যে প্রস্তাব দিয়েছি তার কোনও পরিবর্তন হয়নি। আমি আশা করছি, আগামী সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় ভোট হবে।

এক পৃষ্ঠার খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে, মানবিক সহায়তা সরবরাহ করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে  সরিয়ে নিতে হবে। সেই সঙ্গে খসড়া প্রস্তাবে বেসামরিক মানুষজনের ওপর সব ধরনের নৃশংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা হয়েছে।

খবর আল-জাজিরার

নেতানিয়াহু ও আব্বাসের সঙ্গে বাইডেনের ফোনালাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন টেলিফোনে কথা বলেছেন ইসরায়েরেলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে। শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধরত দুই ভূখণ্ডের সরকারপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ফোনালাপের সংবাদ নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।

এক লিখিত বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শনিবার প্রথমে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে টেলিফোন করেছিলেন জো বাইডেন। ফোনে আব্বাসকে তিনি বলেন, গাজা ভূখণ্ডের বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের শিগগির মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন, তা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর দিন থেকেই গাজা ভূখণ্ডে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলের বিমান বাহিনীর ব্যাপক বোমা হামলায় মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ড।

মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে ফোনালাপের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফোনে নেতানিয়াহুকে চলমান এই যুদ্ধে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে এই যুদ্ধের সহিংসতা যেন না বাড়ে— সে বিষয়ক সতর্কবার্তাও নেতানিয়াহুকে তিনি দিয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

‘ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে না পড়া ঠেকাতে ওই অঞ্চলের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারের ফোনকলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে এই বার্তাই দিয়েছেন আমাদের প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতি অটুট সমর্থন এবং ফিলিস্তিন, বিশেষ করে গাজা ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের শিগগির মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ পাঠাতে প্রয়োজোনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।’

গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে অবশ্য নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিয়মিতই টেলিফোনে যোগাযোগ হচ্ছে বাইডেনের, তবে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এই প্রথম কথা হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

সূত্র : রয়টার্স

গাজায় অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করছে ইরান: অভিযোগ ইসরাইলের

সিরিয়ার মাধ্যমে ইরান গাজায় অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের প্রধান জোশুয়া জারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে লেখেন, তারা (ইরানিরা)।’

ফিলিস্তিনের বড় সমর্থক ইরান। দেশটি হামাসকে অস্ত্র, তহবিল এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে বলে দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছে ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা।

নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থে গাজায় জেনেভা কনভেনশনও মানছে না ইসরাইল। অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির হামাস সেনাদের নিধনের নামে নিরীহ-নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে গাজায় ইসরাইলের নিরবিচ্ছিন্ন বোমা বর্ষণের ফলে চলমান রক্তপাত বন্ধে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ‘খুব দেরি’ হওয়ার আগেই ইসরাইলকে যুদ্ধ থামাতে বলেছে দেশটি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিয়ান লেবাননে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসরাইলকে এ সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, ইসরাইলি বর্ণবাদের যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি ঘটতে পারে, যার দায় জাতিসংঘ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং কাউন্সিলকে মৃত পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া রাষ্ট্রগুলোর।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তা বন্ধ করতে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে ইরান। না হলে দখলদারী দেশটিকে অবিনাশী ভূমিকম্পের সম্মুখীন হতে হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান।

গাজায় ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ কঠিন হবে: পুতিন

বেসামরিক এলাকায় ভারী সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ঝুঁকির কারণে গাজায় ইসরায়েলের স্থল অভিযান সহজতর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

শুক্রবার কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটসের শীর্ষ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আমরা বুঝি এটার মানে কি। আধা-পেশাদারভাবে বলা যেতেই পারে। তবে আবাসিক এলাকায় ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করা একটি কঠিন কাজ। এটি সব পক্ষের জন্য গুরুতর পরিণতি নিয়ে আসবে।

পুতিনের এই মন্তব্যকে রাশিয়ার নিজস্ব কাজের বিপরীত বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। কেননা ইউক্রেনে দেশটি পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন চালাচ্ছে। মস্কোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের অসংখ্য লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে যেমন বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা। মস্কো অনেক সময় বেসামরিক এলাকায় ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে বলে উঠে এসেছে একাধিক তদন্তে।

ইসরায়েলের মাথা খারাপ করে দেওয়া হামাসের মুবার

গত শনিবার (৭ অক্টোবর) ফিলিস্তিনের গেরিলা দল হামাসের আকস্মিক হামলার বিষয়টি স্বপ্নেও ভাবেনি ইসরায়েল। সেদিন সকালে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরায়েলের দিকে তাক করে পাঁচ হাজার মিসাইল ছুড়েছিল হামাস যোদ্ধারা। তারা ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করেও বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

জবাবে ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলের ওপর চড়াও হয়েছে ইসরায়েল। একের পর এক বিমান হামলায় গাজা শহরের অসংখ্য স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে তারা। তবে গাজায় হামলা চালানো ইসরায়েলি বাহিনীকেও অবাক করেছে হামাস যোদ্ধারা। কারণ সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে ফেলেছে তারা। হামাসের পক্ষ থেকে এ ধরনের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এর আগে কখনোই দেখা যায়নি।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো হামাস দাবি করেছে, নতুন ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি তারা নিজেরাই তৈরি করেছে। এটি মূলত একটি মিসাইল। মুবার-১ নামের এই মিসাইলটি আকাশে স্বল্প দূরত্বের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভুল আঘাত হানতে পারে।

হামাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মুবার-১ ব্যবহার করে তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েলের চারটি অত্যাধুনিক এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, হামাসের নতুন প্রতিরোধ ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি মুবার-১ প্রতিরক্ষা মিসাইল নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস। কীভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়—দেখানো হয়েছে ভিডিওতে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের তিনটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপটি হলো, মিসাইল নিক্ষেপের বেস। দ্বিতীয় ধাপে সেখানে আড়াই ফুট দীর্ঘ পাইপ আকৃতির একটি মিসাইল স্থাপন করা হয়। তৃতীয় ধাপে নিরাপদ অবস্থান থেকে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং লক্ষ্যবস্তুকে খুঁজে বের করে আঘাত করা হয়।

প্রতিবার এভাবে একটি করে মিসাইল নিক্ষেপের পর পরবর্তী অপারেশনের আরেকটি মিসাইল স্থাপন করতে হয়। পুরো ব্যবস্থাটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন এটিকে সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা যায়। আর মিসাইলসহ ব্যবস্থাটি চারদিকে ঘুরে এবং ২০ থেকে ৭০ ডিগ্রি উপর-নিচ হয়ে নিশানা ঠিক করতে পারে। আর মিসাইলটির মধ্যে যে পরিমাণ জ্বালানি আছে, তা ব্যবহার করে এটি ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

প্রতিটি ব্যবস্থায় চারজন সহযোগী নিযুক্ত থাকেন। এর মধ্যে দুজন মিসাইল বসানোর কাজ করেন, একজন কমান্ড দেন এবং অন্যজন এটির রাডার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করেন।

অনেকে মুবার-১ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ইরানি প্রযুক্তি দাবি করলেও হামাসের দাবি—ফিলিস্তিনের মাটিতে এটি তাদের আল-কাশেম ব্রিগেড তৈরি করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ‘শয়তান পাইপ’ মিসাইলের আদলে এটিকে তৈরি করা হয়েছে।

ইসরায়েলিরা আতঙ্কে দেশ ছাড়ছেন

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন চলমান দ্বন্দ্বে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকরা। তেল আবিবে ইউরোপিয়ান অ্যাম্বাসিগুলোতে ইসরায়েলি নাগরিকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমা পর্যটনবিষয়ক অফিসগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, সম্প্রতি ইসরায়েলি পাসপোর্টের পাশাপাশি অন্যান্য পশ্চিমা দেশের পাসপোর্ট নেওয়ার আগ্রহ বেড়ে গেছে। মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এমন সব তথ্য উঠে এসেছে।

পর্তুগিজ ইমিগ্রেশন সার্ভিস জানিয়েছে, বছরের শুরুতে সম্প্রতি ২১ হাজার ইসরায়েলি দেশটির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইমিগ্রেশন কার্যালয়গুলো এখন হাজারো ইসরায়েলির নিত্যকার গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ফ্রেঞ্চ, পর্তুগিজ, জার্মান এবং পোলিশ অ্যাম্বাসিতে আবেদনের সংখ্যা ১০ শতাংশ বেড়েছে। যেটা এর আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

গণমাধ্যম ও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলিদের অভিবাসন একটি ব্যাপক আলোচ্য বিষয়। ইসরায়েলে গুগল সার্চে সবচেয়ে বেশিবার সার্চ করা বিষয়ের ভেতর রয়েছে মুভিং আউট বা বেরিয়ে যাওয়া। বর্তমানে ফেসবুকে একটি জনপ্রিয় গ্রুপও রয়েছে। এই গ্রুপের নাম লিভিং দ্য কান্ট্রি-টুগেদার (একসঙ্গে দেশ ছাড়ি)। এখানে দেশ ছাড়তে ইসরায়েলিরা ভিসা ও পাসপোর্টবিষয়ক বিভিন্ন আলোচনা করেন।

২০২২ সালে ইসরায়েলে নির্বাচনের পর থেকে ইসরায়েলিদের ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে নাগরিকত্বের আবেদনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর যে কোনো একটির পাসপোর্ট জোটাতে পারলেই অন্তর্ভুক্ত সব দেশেই থাকা, পড়ালেখা এবং কাজ করার সুযোগ পাবে ইসরায়েলিরা।

বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের জাতীয়তা পেতে ইসরায়েলিদের আগ্রহ বাড়লেও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র মুখ খুলতে নারাজ। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারী ইসরায়েলির সংখ্যা বেড়েছে নাকি কমেছে তা নিয়েও কোনো তথ্য দেবে না দেশটি।

সম্প্রতি ইসরায়েলে যে দ্বন্দ্বময় পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে তাতে হাজারো ইসরায়েলি নতুন একটি দেশে যাওয়ার পাঁয়তারা খুঁজছেন। তারা এখন কোন দেশে সহজে পাসপোর্ট মিলবে, কোন দেশের পাসপোর্ট পেতে কম টাকা খরচ হবে এবং কোন কোন দেশ পাসপোর্ট পাওয়ার পদ্ধতি সহজ করেছে তা খুঁজছে।

ইসরায়েলিরা মনে করেন, ইউরোপিয়ান জাতীয়তা তাদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দেবে। ইসরায়েলি ভ্রমণবিষয়ক কোম্পানিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলিদের প্রলুব্ধ করতে নানা বিজ্ঞাপনও দিচ্ছে। ইউরোপিয়ান পাসপোর্টের প্রতি আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো এতে করে ২৮টি দেশে ইচ্ছামতো ভ্রমণ ও থাকার সুযোগ পাওয়া যাবে।

ইসরায়েলিদের এই দেশগুলোতে যেতে চাওয়ার মূল কারণ নিরাপত্তা। এখানে বলা বাহুল্য, শুধু যুদ্ধাবস্থার কারণেই তারা নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে চান বিষয়টি এমন নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে জীবনযাত্রার মান, শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ, বিনামূল্যের শিক্ষা প্রভৃতি কারণগুলোও। অনেক ইসরায়েলি এমনটাও মনে করেন, দেশটিতে জীবনযাত্রার মানও চরম অবস্থায় পৌঁছেছে।

চলমান সময়ে নাগরিকত্বের আবেদনের সংখ্যায় ব্যাপক বৃদ্ধির বিষয়টি ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, রোমানিয়া, পর্তুগাল, স্পেন, জার্মান ও ইটালি স্বীকার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলিরা দেশ থেকে অন্য দেশে চিরস্থায়ী বসবাসের বিষয়টিকে ‘পালানোর পরিকল্পনা’ বলছেন। বর্তমানে যা ঘটছে তা নিয়ে ভয়ের ভেতর রয়েছে ইসরায়েলিরা।

রাফায়েল ডিফেন্স সিস্টেমের সাবেক পরিচালক জিওরা সালজ বেফাঁস এক মন্তব্যে বলেছেন, আমি আর আমার নাতি নাতনিরা আর ইসরায়েলে থাকতে আগ্রহী নই। কিছুদিন আগ পর্যন্তও ইসরায়েল থেকে অন্য দেশে চিরতরে চলে যাওয়ার বিষয়টিকে বিশ্বাসঘাতকতা বলে বিবেচিত হতো। তবে এখন আর সেদিন নেই। অনেক ইসরায়েলিই আরেকটি পাসপোর্ট থাকার বিষয়টিকে অনেকটা ইনস্যুরেন্সের মতো করে দেখছেন।

ইসরায়েল ছাড়ার বিষয়টি রীতিমতো আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। লিভিং দ্য কান্ট্রি-টুগেদার নামের গ্রুপটি ১০ হাজার ইসরায়েলিকে দেশ ছাড়ার বিষয়ে সাহায্য করছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্দোলকারী নেতা ইয়ানিভ গোরিক এবং ব্যবসায়ী মোরদেচাই কাহানে যেসব ইসরায়েলি দেশ ছেড়ে আমেরিকা যেতে চান তাদের সাহায্য করার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন বিতর্কিত পদক্ষেপের জন্য যদি ইসরায়েলের অবস্থা আরও খারাপ হয় তাহলে ইহুদিবাদী আন্দোলনকে পথ দেখাতেই এসব পথ খোলা রাখছেন তারা। অনেক ইহুদিরাই মনে করেন, ইসরায়েলে তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এদিকে ইসরায়েল রাষ্ট্র তার নাগরিকদের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আনার চেষ্টারত। ২০২০ সাল নাগাদ ৭ লাখ ৫৬ হাজার ইসরায়েলি দেশের বাইরে পাড়ি জমিয়েছেন। এই হিসাবে অন্য দেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যা বিবেচনায় আনা হয়নি। পুনরায় ইসরায়েলিদের সংখ্যা কমে যাওয়ার পুরোনো ভয় জেগে উঠছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

 

হামাসের হামলায় ইসরায়েলের ব্রিগেড কমান্ডারসহ ২৬ সেনা নিহত, সংঘর্ষে যোগ দিল হিজবুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেক্স

ফিলিস্তিনের পক্ষে হামাসের যোদ্ধারা এখনও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ‘ভয়াবহ’ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন দাবি করেছে সংগঠনটি। স্বাধীনতাকামী হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডস তদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায় তাদের যোদ্ধারা এখনও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি শহরে ‘তীব্র সংঘর্ষে’ নিয়োজিত রয়েছে।

তারা জানায়, অফাকিম, সেডেরট, ইয়াদ মোর্দেচাই এবং কেফার আজ্জা, বেরি এবং কিসুফিমওসহ বেশ কিছু ইসরায়েলি শহরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে হামাসের যোদ্ধারা।

এদিকে লেবানন সীমান্তেও এই যুদ্ধে আঁচ লাগতে শুরু করছে। আজ লেবানন থেকে ছোড়া গোলা শেবা ফার্মসে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় আঘাত করে। হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলে মর্টার হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, লেবাননের যেখান থেকে এসব গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে সেই এলাকায় পাল্টা আর্টিলারি হামলা চালাচ্ছে তারা। খবর আল জাজিরা, রয়টার্স।

এদিকে হামাসের নজিরবিহীন হামলায় ইসরায়েলের অন্তত ২৬ সেনা নিহত হয়েছে বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে। নিহত সৈন্যদের নাম প্রকাশ করে তাদের পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

এর আগে হামাস দাবি করেছিল বহু ইসরায়েলি সৈন্যকে আটক করেছে তারা। যা ইসরায়েলি কারাগারে থাকা সমস্ত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্ত করার জন্য যথেষ্ট।