ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলায় নিহত অন্তত ৩০০

গাজা থেকে ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন রকেট হামলায় অন্তত ৩০০জন নিহত হয়েছে। আজ শনিবার ফিলিস্তিনিদের হামলায় প্রায় সাড়ে পাঁচশ জন আহত হয়েছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পড়েছি।’

এর আগে সকালে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ৫ হাজারেরও বেশি রকেট হামলা চালয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। শুধু রকেট হামলাই নয়, হামাসের যোদ্ধারা সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে প্রবেশও করেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতির মূল্যায়ন করে পাল্টা অভিযানের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। সশস্ত্র বাহিনী বলছে, হামাসকে এঘটনার দায় এবং পরিণতি বহন করতে হবে।

বিরল এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করে হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের নেতা মোহাম্মদ দায়েফ বলেছেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। আমরা ফিলিস্তিনিদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা এরই মধ্যে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ৫ হাজার রকেট হামলা চালিয়েছি।’

দায়েফ আরও বলেন, শত্রুপক্ষকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। দখলদারেরা এখানে শত শত বেসামরিক নাগরিককে গণহত্যা করেছে। তাদের হামলায় চলতি বছর শত শত মানুষ শহীদ হয়েছে, আহত হয়েছে।

বড় ধরনের এই রকেট হামলাকে ‘অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম’ হিসেবে ঘোষণা করে আল-ক্বাসাম ব্রিগেডপ্রধান বলেন, ‘আমরাই আগে হামলা চালিয়েছি।’

হামাসের সামরিক শাখার এই শীর্ষ নেতা জানান, আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের সদস্যরা ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অবস্থান, বিমানবন্দর, বিভিন্ন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক রকেট হামলা চালিয়েছে। সব মিলিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালানো রকেটের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

পাকিস্তানকে উড়িয়ে ফাইনালে ভারতকে পেল আফগানরা

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে হংকংকে উড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। সেমিফাইনালে সেই পারফরম্যান্স আর ধরে রাখতে পারেনি পাকিস্তান। ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি অফ ক্যাম্পাস টেকনোলজি ক্রিকেট ফিল্ডে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে আফগানিস্তান। আগামীকাল ফাইনালে আফগানদের প্রতিপক্ষ ভারত।

১১৬ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই ৯ রানেই ভেঙে যায় আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতালকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেছেন কাসিম আকরাম। এরপর উইকেটে আসেন নুর আলি জাদরান। ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করনে নুর। প্রথম চার ওভারে আফগানিস্তান করে ফেলে ১ উইকেটে ৩৫ রান। পঞ্চম ওভার বোলিংয়ে এসে জোড়া ধাক্কা দেন আরাফাত মিনহাস। ওভারের প্রথম বলে শাহজাদকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেটের ২৬ রানের জুটি ভেঙেছেন মিনহাস। একই ওভারের তৃতীয় বলে শাহিদুল্লাহ কামালকে ফিরিয়েছেন মিনহাস। রানের খাতা খুলতেই পারেননি আফগান এই ব্যাটার।

এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৪.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৫ রান। দুই সতীর্থের বিদায়ের পর একপ্রান্তে সাবলীলভাবে খেলে যাচ্ছিলেন নুর। চতুর্থ উইকেটে ৪৪ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েছেন নুর-আফসার জাজাই। নুরকে ফিরিয়ে জুটি ভেঙেছেন সুফিয়ান মুকিম। ৩৩ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ রান করেছেন আফগান এই টপ অর্ডার ব্যাটার।

নুর ফেরার পর সাময়িক ধস নামে আফগানিস্তানের ইনিংসে। ৭১ থেকে ৮৪-১৩ রানে এই ৩ উইকেট হারায় আফগানরা। সঙ্গে রানের চাকা কিছুটা ধীর গতির হয়ে যায় আফগানিস্তানের। ১৭ ওভার শেষে তাদের স্কোর ৬ উইকেটে ৯৩ রান। ৩ ওভারের প্রয়োজনীয় ২৩ রান আফগানরা তুলে ফেলে ১৮ তম ওভারেই। ১৮ তম ওভার বোলিংয়ে আসা পাকিস্তান পেসার আমির জামালের ওপর ঝড় বইয়ে দেন আফগানিস্তান অধিনায়ক গুলবদিন নাইব। এই ওভার থেকে ২ ছক্কা ও ১ চার মারেন নাইব। ওভারের পঞ্চম বলে আমিরকে চার মেরে আফগানদের ৪ উইকেটের জয় এনে দেন নাইব। ১৯ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন আফগান অধিনায়ক। নুরের ৩৯ রানের পর আফগানদের ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে নাইবের ব্যাটে। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন উসমান কাদির ও মিনহাস।

এর আগে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আফগানিস্তান অধিনায়ক গুলবদিন নাইব। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং পেয়ে প্রথমে ব্যাটিং পাওয়া পাকিস্তান পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি। ১৮ ওভারে ১১৫ রান করে অলআউট হয় পাকিস্তান। ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন ওমাইর ইউসুফ। ১৯ বলের ইনিংসে ২ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন। আফগান বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিং করেছেন ফরিদ আহমাদ। ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন ফরিদ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সুলিভানের সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে-প্রধানমন্ত্রী

ওয়াশিংটন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সুলিভানের সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়। আমি সবুজ জলবায়ু তহবিলে অর্থায়ন এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ফান্ডকে কার্যকর করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছি।

জেইক সুলিভান নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস দমনের মতো সরকারের অর্জনের প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় তিনি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। সভায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে জোরদার করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে দুই দেশ।

জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান ও যুক্তরাজ্য সফরের নানা দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 

সৌদি ভিসা ছাড়াই ওমরাহ পালনের সুযোগ

সৌদি আরবের ভিসা আগে নেওয়া না থাকলেও সৌদিয়া এয়ারলাইনসসহ দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ারলাইনসে ভ্রমণে ট্রানজিট যাত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সেনজেন ভিসাধারী ব্যক্তিরা ওমরাহ করতে পারবেন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে সৌদি স্বেচ্ছাসেবা কর্মসূচি ইবসার উদ্বোধন উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ওমরাহ করতে ইচ্ছুক সৌদিগামী যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি ভিসা না থাকলেও বাংলাদেশের নাগরিকেরা ওমরাহ পালন করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁদের সৌদিয়া এয়ারলাইনস অথবা সে দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ারলাইনসে ট্রানজিটের যাত্রী হতে হবে। ট্রানজিটের যাত্রীরা ৯৬ ঘণ্টার জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করতে পারবেন।

এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সেনজেন ভিসা থাকলেও ওমরাহ পালন করা যাবে বলে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।

ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান বলেন, নুসুক অ্যাপে নিবন্ধন করে কোনো এজেন্সির সহায়তা ছাড়াই যে কেউ ওমরাহ ভিসা করতে পারবেন।

কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণকেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারভাইজার জেনারেল ড. আকিল আল-গামদি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ইবসার কর্মসূচির আওতায় ঢাকা জেলার ৫০ স্কুলে ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে চক্ষুসেবা দেওয়া হবে বলে আকিল আল-গামদি জানান।

মাদক কারবারির সঙ্গে যুক্ত তিন কর্মকর্তার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃচাদপুর জেলার মাদক নিয়ন্ত্রণে যাঁরা রক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্তত তিনজন ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন।সেই তিনজন হলেন চাঁদপুর জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) পিয়ার হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সাইফুল ইসলাম ও পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) সেন্টু রঞ্জন নাথ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্ল্যাহ কাজলের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়। তবু এখন পর্যন্ত তাঁরা চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ে বহাল তবিয়তে আছেন। এ অভিযোগের অনুলিপি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকার মহাপরিচালক (ডিজি) ও পরিচালকের (অপারেশন ও গোয়েন্দা) কাছেও পাঠানো হয়েছে।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাঁদপুর শহরের একাধিক মাদক কারবারির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এই তিন কর্মকর্তার।

অভিযানের আগে তাঁরা মোবাইল ফোনে কল করে মাদক কারবারিদের জানিয়ে দেন। এর বিনিময়ে আদায় করেন মাসোহারা।
অনুসন্ধান ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুরে যোগদান করার পর সেন্টু, পিয়ার ও সাইফুল মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোপনে সখ্য গড়ে তোলেন। ফলে মাদকের বড় ধরনের কোনো মামলা উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়নি গত পাঁচ বছরে। তাঁরা মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা হিসেবে টাকা নেন বলেও কয়েকজন কারবারি অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া সংঘবদ্ধভাবে মাদক বিক্রি করতে কারবারিদের বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে এই তিনজনের বিরুদ্ধে।

আরও জানা গেছে, এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক সপ্তাহ আগে শহরের ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

চাঁদপুর শহরের আদালতপাড়া এলাকার শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনি একসময় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু সন্তানেরা বড় হওয়ার পর তা ছেড়ে দেন। কিন্তু এরপরও ভালো থাকতে পারেননি। কারণ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তা সাইফুল, পিয়ার ও সেন্টু তাঁকে মাদক কারবারে বাধ্য করেন।

শহরের কয়লাঘাট এলাকার বাসিন্দা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সোর্স রিপন ঢালী বলেন, মাদক কারবারি রানা, রহিমসহ তাঁদের সহযোগীদের টাকা খেয়ে ছেড়ে দেন এই তিন কর্মকর্তা।শহরের জামতলার মাদক কারবারি শাহজাহানের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার পুতুল বলেন, তাঁর স্বামী এখন মাদক সেবন করেন, কিন্তু বিক্রি করেন না। যখন বিক্রি করতেন, তখন সাইফুল, পিয়ার ও সেন্টু প্রতি মাসে টাকা নিতেন। এখন মাসিক টাকা না দেওয়ায় নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম দিদারুল আলম বলেন, ‘আমি এ জেলায় আগেও ছিলাম। চলতি বছরের জুন মাসে আবার যোগ দিয়েছি। এখানকার প্রশাসন ও অন্যান্য লোকজন আমার পরিচিত হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আমার কাছে নানাভাবে অভিযোগ আসতে থাকে। এগুলো আমার কাছে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।’

দিদারুল আলম আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাঁকে লিখিত দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্ল্যাহ কাজলের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এখন অধিদপ্তর তাঁদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি দেখবে। তবে অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, পিয়ার হোসেন ও সেন্টু রঞ্জন দেবনাথের বক্তব্য নিতে তাঁদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁরা কল রিসিভ করেননি। পরে গত রোববার অফিস চলাকালে দপ্তরে গিয়েও পাওয়া যায়নি তাঁদের।

জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্ল্যাহ কাজল বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের প্রধান দপ্তর কাজ করছে। এই বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

পুলকিত হওয়ার কারণ নেই, নির্বাচনে যারা বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধেই ভিসানীতি প্রযোজ্য হবে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ভিসানীতি নিয়ে কারো পুলকিত হওয়ার কারণ নেই। নির্বাচনে যারা বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধেই ভিসানীতি প্রযোজ্য হবে।
তিনি বলেন, ‘’যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের সহযোগিতা এবং বহুমাত্রিক সম্পর্ক দিন দিন দৃঢ়তর হচ্ছে। সুতরাং কোনো একটা ভিসানীতি বা কিছু নিয়ে কারো পুলকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই নীতি তাদের বিরুদ্ধেই প্রযোজ্য হবে, যারা নির্বাচনে বাধা দেবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাথে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ সেটিই প্রমাণ করে।’
তথ্যমন্ত্রী আজ দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেসক্লাবে উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অকুতোভয় বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমসাময়িক প্রসঙ্গে এ কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বিএনপি নানা ধরণের কথা বলে। ভিসানীতি ঘোষণার পর এক কথা বলে, আবার পত্রিকায় গত পরশু দিন খবর আসার পর আরেক ধরণের কথা বলে। এগুলো বলে কোনো লাভ নেই।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু পরাশক্তি আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো। কিন্তু সেইসব রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আমাদের পূর্বসূরী মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলো। আজকেও অনেকেই চোখ রাঙ্গায়, অনেক দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র হয়। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার ধমনীতে, শিরায় বঙ্গবন্ধুর রক্তস্রোত প্রবাহমান, যে রক্ত পরাভব মানে না, আপোষ জানে না। সমস্ত ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে দেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদেরই নতুন সংস্করণ হচ্ছে বিএনপি। এবং তাদের সহযোগী হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী, যারা দেশের স্বাধীনতার শুধু বিরোধিতাই করেনি, স্বাধীনতা সংগ্রামে এদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে অস্ত্রধারণ করেছিল। তাই এই বিএনপি-জামাত চক্র আজকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে, আগামী নির্বাচনকে ভন্ডুল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
কিন্তু, সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আগামী নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে প্রত্যয় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সেই নির্বাচনে যদি বিদেশি পর্যবেক্ষকরা আসে আমরা স্বাগত জানাই। তবে কেউ না আসলেও কোনো অসুবিধা নাই। এই নির্বাচন আমাদের, এই দেশ আমাদের, এখানে নির্বাচন কিভাবে হবে সেটি আমরা ঠিক করবো। আমাদেরকে কারো গণতন্ত্র শেখাতে হবে না। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা আমরা জানি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।’
বিপ্লবী প্রীতিলতা, সূর্যসেন আজও দেশবিরোধীদেরকে প্রতিরোধের অনুপ্রেরণা : এর আগে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, দেশবিরোধীদের প্রতিরোধে প্রীতিলতা, সূর্যসেনের মতো বিপ্লবীরা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা।
১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ও ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা থেকে স্বদেশভূমির স্বাধীনতার জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গনকারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান বলেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রথম বাঙালি শহীদ নারী যিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আত্মাহুতি দিয়েছেন। অত্যন্ত মেধাবী প্রীতিলতা মেট্রিকুলেশন ও ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রামে অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন, সেই স্কুল এখনও আছে।
তিনি বলেন, সূর্যসেনের বিপ্লবী দলের সদস্য অসীম সাহসী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার যখন পুরুষের বেশে ইউরোপীয়ন ক্লাবে সফলভাবে আক্রমণ করে ফিরে আসছিলেন, তখন তিনি গুলিবিদ্ধ হন। নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ব্রিটিশ শত্রুপক্ষ বিদ্রোহের পরিকল্পনা যেন না জানতে পারে, সে জন্য তিনি পটাসিয়াম সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন।
ইতিহাসের দিকে দৃকপাত করে হাছান মাহমুদ উল্লেখ করেন, প্রীতিলতার পরনের পোষাকে ৩২ পৃষ্ঠার একটি জবানবন্দি ছিলো। তিনি সেখানে লিখেছিলেন যে, ‘…..অত্যাচার ও স্বার্থসাধনে নিয়োজিত সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসনের উচ্ছেদ সাধন করিয়া আমি ভারতবর্ষে গণতান্ত্রিক শাসন প্রবর্তন করিতে ইচ্ছুক। আমি সেই ভারতীয় রিপাবলিকান আর্মির চট্টগ্রাম শাখার একজন সদস্য।….আমার দেশের ভগ্নীরা আজ নিজেকে দুর্বল মনে করেন না। সশস্ত্র ভারতীয় নারী হিসেবে সহস্র বিপদ ও বাধাকে তুচ্ছ করিয়া এই বিদ্রোহ আন্দোলনে যোগদান করিলাম। তাহার জন্য নিজেকে তৈয়ার করিলাম এবং এই আশা লইয়াই আমি আজ আত্মদানে নিজেকে উৎসর্গ করিলাম।’
তখ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যেভাবে দেশমাতৃকার জন্য জীবন দিয়েছেন, উপমহাদেশের মুক্তিসংগ্রাম এবং আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের এই আত্মদান বাঙালিদের প্রেরণা যুগিয়েছে, ভবিষ্যতেও যোগাবে। আজকে তাই সূর্যসেনের প্রতি, প্রীতিলতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রণতি জানাই।’
নিজের স্মৃতিচারণ করে চট্টগ্রামের সন্তান হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমি মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকা দেখেছি। মায়ের আচঁলের নিচে বসে শ্লোগান শুনেছি “বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা”। সেই শ্লোগানেই আমার কচি রক্তে আগুন ধরেছে। ইচ্ছে হতো মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেই। নানার বাড়িতে গল্প শোনাতো যে প্যালেস্টাইনে কিভাবে শিশুরা বুকে মাইন পেতে ট্যাঙ্ক উড়িয়ে দিতো। সেই গল্প শুনে সে রকমই আত্মাহুতি দেওয়ার ইচ্ছা জাগতো। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে আমি যেতে পারি নাই। বয়স আমার প্রতিবন্ধক ছিলো।’
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কার্যকরী সভাপতি স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্রের সংগীতশিল্পী মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট বলরাম পোদ্দার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল ও ডা: অরূপ রতন চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মানিক লাল ঘোষ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন।

মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না: ১৪ দলের শরিকেরা

নির্বাচনে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি প্রয়োগ শুরু করলেও তা নিয়ে বিচলিত নন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক নেতারা। তাঁরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

গতকাল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন  বলেন, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়াই তো শুরু হয়নি। তার আগেই ভিসা নীতির প্রয়োগ কীভাবে হয়, তা বুঝিনি। আমেরিকার উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান নয়, তাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের জনগণকে ভয় দেখানো।’

তিনি বলেন, এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে নিজেদের স্বার্থে ও সুবিধার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি প্রয়োগ করছে। এটা কাউকেই সুবিধা দেবে না।

রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভিসা নীতি উপেক্ষা করবে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করবে। ক্ষমতাসীনেরাও নির্বাচনের আগে সহিংসতা চায় না জানিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, ‘মার্কিন ভিসা নীতিতে আহামরি কিছু নেই। নির্বাচনে যারা সহিংসতা করবে, তাদের ওপর ভিসা নীতি আরোপ করবে, করুক। আমরাও তো সহিংসতার বিরুদ্ধে।’ ভিসা নীতি প্রয়োগের ফলে সরকার বা নির্বাচনের ওপর কোনো চাপ বা প্রভাব পড়বে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এতে চাপ সৃষ্টি হওয়ার কী আছে? আমরা সবাই মিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছি। সুন্দর নির্বাচন হোক, সবাই ভোট দিতে আসবে, এটাই আমাদের চাওয়া।’

১৪ দলের আরেক শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া ভিসা নীতির প্রয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এবং অনধিকার চর্চা। আরেক শরিক কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম খানও বিষয়টিকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ বলে দেখছেন। ভিসা নীতির প্রয়োগকে অবমাননাকর পদক্ষেপ উল্লেখ করে গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার বলেন, এটা সঠিক বলে মনে করেন না।

পুরো প্রক্রিয়াটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয় অভিহিত করে এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশে কাকে ঢুকতে দেবে, কাকে দেবে না, এটা সম্পূর্ণ তাদের ইচ্ছা। প্রতিদিন মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করছে, বেশির ভাগই পাচ্ছে না। এটা তো নতুন কিছু নয়। কাদের বিরুদ্ধে এটা প্রয়োগ হবে, এটা কেউ জানে না। একমাত্র তারাই জানে।

প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট’ অভিযানের নেপথ্যে মন্ত্রীর ছেলে, অভিযোগ মালিকপক্ষের

রাজধানীর বনানীতে ‘প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট’ নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবহার করে অভিযান ও তালা দিয়ে দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। এর নেপথ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে রাহাত মালিকের হাত আছে বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আবুল খায়ের।

আজ রোববার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

খন্দকার আবুল খায়ের বলেন, ‘প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল বেআইনিভাবে বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে রাহাত মালেকের নির্দেশেই তা করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে আইন আদালতকে তোয়াক্কা করা হয়নি, শুধুমাত্র ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে জোরপূর্বক তা করা হয়েছে। আমাদের এ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও ভবনটি দখল করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।’

এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান ও তালা দেওয়ার নেপথ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমাদের মনে হয় এখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে রাহাত মালিকের হাত আছে। উনি আমাদের ম্যানেজারকে বলেছিল তিনি প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট কিনে নিতে চান। তখন আমাদের ম্যানেজার তাঁকে বলেছিল আপনার তো টাকা আছে আপনাকে এটা কিনে নিতে হবে কেন? তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে বলেছে যদি বাড়ি ছেড়ে না দেন তাহলে সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে হবে।’

খন্দকার আবুল খায়ের আরও বলেন, ‘যেখানে সরকারি অফিসে টাকা দিয়েও ফাইল নড়ানো যায় না, সেখানে সরকারি ফাইল কীভাবে দ্রুত গতিতে নড়ে? এত তাড়াহুড়ো করার উদ্দেশ্য নিশ্চয় এখানে ওপর মহলের হাত আছে।’

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক অভিযোগ করে বলেন, ‘অভিযানের দিন আসা ম্যাজিস্ট্রেট ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লোকজন আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ দেখাতে পারেনি। শুধু বলছে আপনারা দ্রুত মালামাল সরিয়ে নেন। এর জন্য কোনো কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি। তাঁরা আমাদের লাইসেন্স স্থগিত করতে পারে, কার্যক্রম বন্ধ করতে পারে কিন্তু আমরা কবে মালামাল সরিয়ে নেব তা তো বলতে পারে না। তাঁরা যেহেতু মালামাল সরিয়ে নিতে বলছে অবশ্যই তাঁদের অভিপ্রায় আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আবুল খায়ের আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি প্রতিষ্ঠানটি ছয় কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলের ঘনিষ্ঠ ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান তা ক্রয় করেছে। অথচ এই সম্পত্তির দাম ৪৫ কোটি টাকার বেশি হবে। ফলে সরকার কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আরেকটি কথা, নামমাত্র মূল্যে এই সম্পত্তি কিনে নিলেও তারা আমাদের বাড়ি ছাড়ার কোনো নোটিশ দেয়নি। বরং তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ব্যবহার করে এই প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

খন্দকার আবুল খায়ের জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে এখন প্রায় ২০০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত। এ ছাড়া ৫০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়মিত চেম্বার করে উন্নত চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের গত ১৮ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শন দল সেখানে যায়। এরপর ১৮ মে তারিখ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে চিঠি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ও লাইসেন্স স্থগিত করার আদেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আপিল করলে তা অগ্রাহ্য করে ৭ জুন তাদের চিঠি দেয়। পরে নিয়মানুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আপিল করলেও তারা রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করে। পরে তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিটটি এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। হাইকোর্ট খুললে সেটির শুনানি হবে বলেও জানান তিনি।

বাইডেনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচি নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সংবর্ধনার কথা সাংবাদিকদের জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) থিম্যাটিক অ্যাম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

ভোজসভায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

 

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়ার সরঞ্জাম বাংলাদেশে নেই : এ্যাব

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বিবৃতি দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)।

সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু এবং মহাসচিব প্রকৌশলী হাছিন আহমেদ সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রবীণ ও মহিয়সী নারী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছে যে, তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তার লিভারের কার্যক্ষমতা প্রায় শেষের দিকে। এ অবস্থায় দেশে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। কেননা তার চিকিৎসার জন্য যে ধরনের চিকিৎসা-সরঞ্জামাদি দরকার সেসব বাংলাদেশে নেই। ফলে খালেদা জিয়াকে বাঁচাতে হলে বিদেশে অ্যাডভান্স সেন্টারে নিয়ে ট্রিটমেন্ট অতি জরুরি। তাই আমরা সরকারকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক দিক বিবেচনায় একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দিতে আহ্বান জানাচ্ছি।

নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সংগ্রামী আপসহীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার কর্তৃক উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বঞ্চিত হওয়ায় আমরা এ্যাবের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে সুচিকিৎসার সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তারা আরও বলেন, দলীয় সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব পরিহার করে সরকারকে গণতান্ত্রিক পথে চলার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা। অন্যথায় বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।