ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ১৯২ : মানবাধিকার সংস্থা

নরওয়েভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানায়, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানে সরকারবিরোধী ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন বলে রোববার জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা।

নরওয়েভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানায়, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাই ব্যাহত হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা ইরানের, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি

টানা দুই সপ্তাহের ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন, তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানের আইনে এ অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমনকি যারা ‘দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করেছেন’, তারাও একই অভিযোগের মুখোমুখি হবেন।

ইরানের দণ্ডবিধির ১৮৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়ায়, তাহলে যারা জেনে-বুঝে সেই গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে সহায়তা করে, তারাও ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন—এমনকি তারা নিজেরা সরাসরি সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে অংশ না নিলেও।

দণ্ডবিধির ১৯০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘মোহারেব’-এর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা অথবা স্থায়ীভাবে দেশের অভ্যন্তরে নির্বাসন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নেওয়া এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপক্ষকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে এবং বিলম্ব না করে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার পথ তৈরি করতে হবে এবং যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে বিদেশি আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও চূড়ান্ত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘কোনো ধরনের শিথিলতা, সহানুভূতি বা ছাড় না দিয়েই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে।’

মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এসব বিক্ষোভে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে এবং টেলিফোন লাইনও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে শনিবার ও রোববার রাস্তায় নামতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের শাহ আমলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত সিংহ-সূর্য চিহ্নযুক্ত পুরোনো ইরানি পতাকা ও অন্যান্য জাতীয় প্রতীক বহন করার আহ্বান জানান, যাতে তারা ‘জনসাধারণের স্থানগুলো নিজেদের বলে দাবি করতে পারে’।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড দরপতনের মুখে পড়ে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখের বেশি রিয়ালে নেমে গেলে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। শুরুতে এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি সাধারণ অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

সূত্র: এনডিটিভি

বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে নিহত অন্তত ৬২, পিছু না হটার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন-আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরানের সরকার। বিক্ষোভ দমাতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ; চালানো হচ্ছে দমন-পীড়ন। দেশটির মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাবাহিনীর ১৪ সদস্য রয়েছেন।
শুক্রবার ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং জার্মানির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ইরানি কর্তৃপক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ থেকে ১৩ দিন আগে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমেই রূপ নিচ্ছে সরকার পতনের আন্দোলনে। বিক্ষোভকারীরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে অবমাননাসূচক স্লোগান দিচ্ছেন, যা দেশটির বাস্তবতায় খুবই বিরল।

 ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লক জানিয়েছে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে যথাযথ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করে বলেছে, বিক্ষোভ দমন করতে ইরান শাসকরা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যে অপরাধ করছে, তার প্রকৃত প্রমাণ লুকাতেই ‘সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ’ করা হয়েছে।এদিকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশটিতে বিমানের ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।
দুবাই বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, দুবাই ও ইরানের মধ্যকার অন্তত ১৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।এদিকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভের মুখে পিছু না হটার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ট্রাম্পের পতন নিশ্চিত, হুঁশিয়ারি খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইতিহাসের অন্য স্বৈরশাসকদের মতো ট্রাম্পকেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, রেজা শাহ বা মোহাম্মদ রেজা শাহের মতো শাসকরাও তাদের অহংকারের চরম শিখরে পৌঁছে পতনের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং ট্রাম্পের পরিণতিও একই হবে।

দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মুখে ইরান পিছু হটবে না উল্লেখ করে খামেনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতেই এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

খামেনি তার ভাষণে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই দেশ চালাতে জানতেন তবে নিজের দেশের সমস্যাগুলোই আগে সমাধান করতেন। তিনি ইরানি যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি যেকোনো শত্রুকে পরাস্ত করতে সক্ষম।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী যদি আন্দোলনকারীদের ওপর আবারও হত্যাযজ্ঞ চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার ‘কঠোর জবাব’ দেবে। বর্তমানে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে এবং বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে।

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইরান কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন বা ‘অফলাইন’ অবস্থায় রয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপের মাঝেই সহিংসতা ও প্রাণহানির খবর আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্যমতে, এই অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করার খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বিক্ষোভ কেবল অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার প্রতি জনগণের গভীর হতাশার বহিঃপ্রকাশ। ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি এবং খামেনির অনমনীয় অবস্থান দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে।

একদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং অন্যদিকে সরকারের দমনমূলক নীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল এবং দ্য ডন

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দল ঘোষণা বাংলাদেশের

আইসিসি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নেপালে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বাংলাদেশ নারী দল ১২ জানুয়ারি কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেবে। ঘোষিত স্কোয়াডে অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি।

সহ–অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাহিদা আক্তারকে। নেপালে অনুষ্ঠিত এই বাছাইপর্বে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়াই বাংলাদেশের লক্ষ্য। নেপালে ১৮ জানুয়ারি থেকে পহেলা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বাছাই পর্ব। বাছাই পর্বে ‘এ’ গ্রুপে আছে বাংলাদেশ নারী দল।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ঐ গ্রুপে নিগার সুলতানার দলের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড, পাপুয়া নিউ গিনি ও নামিবিয়া। ১৮ জানুয়ারি বাছাই পর্ব শুরুর দিন আপার মুলপানি ক্রিকেট মাঠে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ২০ জানুয়ারি পাপুয়া নিউ গিনির এবং ২২ জানুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট মাঠে খেলতে নামবে টাইগ্রেসরা। ২৪ জানুয়ারি আপার মুলপানি মাঠে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। ১০ দলকে দু’টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে আছে জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও নেপাল।

বাংলাদেশের স্কোয়াড : নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ–অধিনায়ক), সোবহানা মোস্তারি, ফারজানা হক, শারমিন আক্তার সুপ্তা, দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা ও সুলতানা খাতুন।

স্ট্যান্ডবাই– শারমিন সুলতানা, ফারজানা ইয়াসমিন, শরিফা খাতুন, ফাতেমা জাহান সোনিয়া ও হাবিবা ইসলাম পিংকি।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব ব্যবস্থা ধ্বংস করছে

জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক–ভল্টার স্টাইনমাইয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশ নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব ব্যবস্থা ধ্বংসে বড় ভূমিকা রাখছে। খবর বিডিনিউজের।

অত্যাচারীরা যা খুশি তা ছিনিয়ে নিতে পারে, বিশ্ব ব্যবস্থা যেন এমন ডাকাতদের আস্তানায় পরিণত না হয় সেজন্য ব্যবস্থা নিতে তিনি বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন। কয়েকদিন আগে ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণকাণ্ডে বিশ্বজুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিন্দা অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করেই স্টাইনমাইয়ার এমন নজিরবিহীন কড়া মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টাইমাইয়ারের মতে, বৈশ্বিক গণতন্ত্র এখন যেভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছে, অতীতে কখনোই তা দেখা যায়নি। জার্মান শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা অনেকটাই অলঙ্কারিক, তবে তার কথার মূল্য আছে। মত প্রকাশের ক্ষেত্রে দেশটির প্রেসিডেন্টরা রাজনীতিকদের চেয়েও বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেন। রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল এবং ইউক্রেনে পুরোদস্তুর আক্রমণ চালানোর ঘটনাকে সন্ধিক্ষণ অভিহিত করে স্টাইনমাইয়ার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ দ্বিতীয় ঐতিহাসিক ধসকে নির্দেশ করছে। আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পতন, যারা এই বিশ্ব ব্যবস্থা গড়তে সহায়তা করেছিল, বুধবার এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন জার্মান প্রেসিডেন্ট।

তিনি এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ভারত, ব্রাজিলের মতো দেশগুলোকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান। এটা হল বিশ্বকে ডাকাতদের আস্তানায় পরিণত হওয়া আটকানো, যেখানে সবচেয়ে বড় অত্যাচারী তার ইচ্ছামতো যা খুশি তা নিয়ে নিয়ে নেয়, যেখানে অঞ্চলগুলো বা একেকটা দেশ বিবেচিত হয় সামান্য সংখ্যক শক্তিধরের সম্পদ রূপে, বলেছেন তিনি। হুমকিতে পরিপূর্ণ এমন পরিস্থিতিতে সক্রিয় হস্তক্ষেপ জরুরি এবং এজন্য ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলোকে বিশ্বব্যবস্থা রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ করতে হবে, বলেছেন স্টাইনমাইয়ার।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন: ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর চালানো অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। এর আগে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো না হলেও এবারই প্রথম কাবেলো নিহতের এই বিশাল সংখ্যার কথা উল্লেখ করলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলো তার বক্তব্যে জানান, অভিযানে নিহতদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর অন্তত ২৩ জন সদস্য রয়েছেন, যাদের নামের একটি তালিকা ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, মাদুরোর নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় অংশকে মার্কিন সেনারা ‘ঠান্ডা মাথায়’ হত্যা করেছে।

এ ছাড়া কিউবা সরকারও নিশ্চিত করেছে যে, ভেনেজুয়েলায় মোতায়েনকৃত তাদের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকজন সদস্য এই সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন। অভিযানে নিহত সেনাসদস্যদের স্মরণে গত মঙ্গলবার থেকে ভেনেজুয়েলায় এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং কাবেলো তাদের ‘সাহসী’ বলে অভিহিত করেছেন।

অভিযানের সময় মাদুরো দম্পতির শারীরিক আঘাতের বিষয়েও নতুন তথ্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান যে, সিলিয়া ফ্লোরেস পালানোর সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং মাদুরো নিজেও পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। বর্তমানে মাদুরো ও তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বন্দিশালায় রয়েছেন এবং তাদের নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয়েছে।

এদিকে কারাকাসে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে সরকার পরিচালনা ও জনমত গঠনের চেষ্টা চলছে। গত মঙ্গলবার কাবেলো নিজে কারাকাসে এক বিশাল মিছিলে অংশ নিয়ে মার্কিন এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানান।

সূত্র: রয়টার্স

টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন। তিনি প্রথমবারের মতো আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার বাইরে বগুড়ায় যাচ্ছেন।

এ যাত্রার শুরুতেই তিনি টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, ১১ জানুয়ারি (রোববার) সকাল ৯ থেকে ১০টার মধ্যে ঢাকার বাসভবন থেকে সড়ক পথে যাত্রা শুরু করবেন তারেক রহমান। দুপুর আনুমানিক ১টায় তিনি টাঙ্গাইলে পৌঁছাবেন। সেখানে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।

এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের এটিই প্রথম কর্মসূচি হওয়ায় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তার আগমন উপলক্ষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে অভিবাদন জানাবেন।

সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর অংশ থেকেই তারেক রহমানকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে প্রশাসনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম জেলা সফর হিসেবে টাঙ্গাইলে আসছেন। এই সফরকে ঘিরে টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ইনশাল্লাহ, আমরা সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে তাকে সংবর্ধনা জানাবো। টাঙ্গাইলবাসী অধীর আগ্রহে তাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের আগমন ও দোয়া মাহফিল সফল করতে দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে ইরানের সেনাপ্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থন জানানোর পর দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আমির হাতামি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাইরের শক্তির হুমকি নীরবে সহ্য করবে না তেহরান। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, ‌‌‘‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, এই ধরনের বক্তব্য সহ্য করা হবে না এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’’

ইরানের সেনাবাহিনীর এই প্রধান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘শত্রুপক্ষ যদি ভুল করে, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময়কার চেয়েও কঠোর হবে।’’

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করায় গত কয়েক দিনে একাধিকবার দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে তিনি ইরানে হস্তক্ষেপ করতে পারেন বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মিলিয়ে একইভাবে ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে ব্যবসায়ীরা আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি আর রিয়ালের দরপতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই দেশটির অন্যান্য কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

তবে দেশটিতে সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ ২০২২-২০২৩ সালের আন্দোলনের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। এমনকি বিতর্কিত নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের ব্যাপক বিক্ষোভের পর্যায়েও পৌঁছায়নি।

তবে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেকের নজর কেড়েছে; যার মধ্যে ইরানের আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর নেতারাও রয়েছেন। তারা এই সংকটে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘আমরা ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। অতীতে যেমন তারা মানুষ হত্যা করেছে, যদি আবার তা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খুব কঠোর আঘাত আসবে বলে আমি মনে করি।’’

এদিকে, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘‘ইরানি জনগণের লড়াই এবং স্বাধীনতা, মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতি আমরা সংহতি প্রকাশ করছি। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে সহিংসতায় উসকানি এবং ইরানের জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগ করেছে।

গত জুনে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রও স্বল্প সময়ের জন্য ওই হামলায় অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।

সূত্র: এএফপি।

আরেকটি পাতানো নির্বাচনের শঙ্কা প্রকাশ করছি: ডা. তাহের

জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে একটি দলের দিকে ‘ঝুঁকে’ পড়েছে, প্রশাসন যেভাবে ‘আনুগত্য’ দেখাচ্ছে, তাতে অতীতের মতো আরেকটি পাতানো নির্বাচনের শঙ্কা প্রকাশ করছি।’

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীতে জামায়াতে আমিরের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এই শঙ্কা প্রকাশ করেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, বিগত দিনের মতো কোনো পাতানো নির্বাচন দেশকে আবারও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. তাহের বলেন, ইইউকে জানানো হয়েছে, আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ প্রত্যাশা করে জামায়াত। তবে প্রশাসন একটি দলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, তার দল ক্ষমতায় গেলে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার গঠন করা হবে।

এদিকে এনসিপিকে ১০ আসনে ছাড় দেওয়ার যে খবর রটেছে, বিষয়টিকে ‘কাল্পনিক’ বলছেন জামায়াতের নায়েবে আমির।এ সময় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী আসন সমঝোতা শিগগিরই হচ্ছে বলে জানান তিনি।