ঘুরেফিরে আলোচনায় আগামী নির্বাচন

তিন দিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এবারের সম্মেলনে একক কোনো বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়নি। সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বেশ কয়েকজন ডিসি জানান, সম্মেলন থেকে অনেক শেখার আছে। তবে ঘুরেফিরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েই বেশি কথা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের শেষ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন ছিল এটি। এ কারণেই জাতীয় নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ডিসিদের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসিদের মুক্ত আলোচনায় জনসম্পৃক্ততা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি উঠে আসে। ডিসিরা জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসাবে কাজ করেন। তাই প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিব-সবাই ডিসিদের নির্বাচনকেন্দ্রিক পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। গত ১৪ বছরে সরকার যেসব উন্নয়ন করেছে, তা প্রচারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন ডিসিদের। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসি হিসাবে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের কোথাও আর নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করা হবে না। যে রাস্তাগুলো বিদ্যমান, সেগুলো মেরামত করতে চাই। ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে চাই। যেগুলো আছে, তা মেরামত করা আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনমুখী জনপ্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে ডিসিদের আরও বেশি জনসম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। সেবাপ্রার্থীদের সম্মান দিতে হবে।’ তথ্য, স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার বিভাগমন্ত্রী নির্বাচনি প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলেন।

ডিসি সম্মেলন উপলক্ষ্যে এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সব নির্বাচনেই মাঠ প্রশাসন সহযোগিতা করে থাকে। অতীতে নির্বাচনে সহযোগিতার অভিজ্ঞতা থেকে মাঠ প্রশাসন অগামী নির্বাচনেও সহযোগিতা করবে।’

ডিসি সম্মেলন হলো প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। এতে অংশীজন থাকেন বিভাগীয় কমিশনাররা। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত থাকেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, এবারের সম্মেলনে সরকার ডিসিদের জনসম্পৃক্ততার বার্তা দিয়েছে। মন্ত্রীরা ডিসিদের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোসহ নির্বাচনের প্রস্তুতিসংক্রান্ত অনেক উপদেশ দিয়েছেন। সম্মেলনে ডিসিরা যে লিখিত প্রস্তাব পাঠান, সেসব নিয়ে অধিবেশনগুলোয় মতবিনিময় হয়েছে। পরে সেসব প্রস্তাবের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

একাধিক ডিসি যুগান্তরকে বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। পুরো প্রশাসনই নির্বাচনমুখী। এ সময় সরকার জনমুখী হতেই পারে। এজন্য জনসেবা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে এবার বেশি আলোচনা হয়েছে।’

একাধিক সূত্র জানায়, খাদ্য উৎপাদন সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি। তা বাস্তবায়নে সম্মেলনে জোরালো নির্দেশনা ছিল। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে তেল পাচার বন্ধ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো জনকল্যাণমুখী। জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ করতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এবারের ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন থেকে ২৪৫টি প্রস্তাব এসেছে। এগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং সচিবদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, পরামর্শ এবং ব্যাখ্যা পেয়েছেন ডিসিরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সব প্রস্তাব একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব না। তবে অনেকগুলো বাস্তবায়নযোগ্য এবং এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও আশা করি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক প্রস্তাব ঘুরেফিরে প্রতিবছরই আসে। তবে সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। হলে ভালো হতো।

দেশের সব নাগরিককে পেনশনের আওতায় আনতে বিল পাস

দেশের সব নাগরিককে পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল-২০২৩’ পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার বিলটি জাতীয় সংসদে তোলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরে সংসদে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

এই পেনশন-সুবিধা পেতে ধারাবাহিকভাবে কমপক্ষে ১০ বছর প্রিমিয়াম বা চাঁদা দিতে হবে। বয়সের ৬০ বছর পূর্তিতে পেনশন তহবিলে পুঞ্জীভূত মুনাফাসহ জমার বিপরীতে পেনশন দেওয়া হবে।

এর আগে বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। নিয়ম অনুয়ায়ী বিলটি এখন রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। তার অনুমোদনের পরই তা আইনে পরিণত হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্রকে ভিত্তি ধরে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিক অংশ নিতে পারবেন। বিশেষ বিবেচনায় পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিরাও এর আওতায় থাকবেন।

প্রিমিয়ামের হার কত হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। আইন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটি নির্ধারণ করবে। মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে চাঁদা দেওয়া যাবে এবং অগ্রিম ও কিস্তিতেও চাঁদা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

পেনশনে থাকাকালীন কোনো ব্যক্তি ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তার নমিনি অবশিষ্ট সময়ের জন্য (মূল পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত) মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন। চাঁদাদাতা কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার আগে মারা গেলে জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।

পেনশন তহবিলে জমা দেওয়া অর্থ কোনো পর্যায়ে এককালীন তোলার প্রয়োজন পড়লে চাঁদাদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমা দেওয়া অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ হিসেবে তুলতে পারবেন, যা ফিসহ পরিশোধ করতে হবে।

পেনশনের অর্থ আয়করমুক্ত থাকবে। পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হবে।

এছাড়া নিম্ন আয়সীমার নিচের নাগরিকদের অথবা অসচ্ছল চাঁদাদাতার ক্ষেত্রে পেনশন তহবিলে মাসিক চাঁদার একটি অংশ সরকার অনুদান হিসেবে দিতে পারবে। আইনে সর্বজনীন পেনশন-পদ্ধতিতে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের চাঁদার অংশ কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি ও আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা এর বাইরে থাকবেন।

এছাড়া আইনে একটি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এতে একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য থাকবেন। এদের নিয়োগ করবে সরকার।

১৬ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে বিলে। এর চেয়ারম্যান হবেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থবিভাগের সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি, উইমেন চেম্বার্স অব কমার্সের সভাপতি- এর সদস্য হবেন। পর্ষদের সদস্যসচিব হবেন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান।

বিধি দ্বারা নির্ধারিত এক বা একাধিক তফসিলি ব্যাংক জাতীয় পেনশন তহবিলের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে শুধু সরকারি কর্মচারীরা পেনশন পেলেও বেসরকারি চাকরিজীবীসহ সবাইকে পেনশনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে। সরকার গঠনের পর সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা সবার জন্য এ সুবিধা চালু করার কথাও বলেন। এরপর এজন্য আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ঢাকার প্রাণ ফেরাবে নতুন ৮৮টি পার্ক

নগরায়ণের নামে ঢাকার খোলা ও সবুজ জায়গায়ও কংক্রিটের স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। বেড়েছে নানা দূষণ ও তাপমাত্রা। শহরের জনঘত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় সুস্থ পরিবেশে মানুষের সময় কাটানোর জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে। বাসযোগ্যতার মানদণ্ডে ঢাকার অবস্থান তলানিতে পৌঁছেছে। প্রাণহীন এ অবস্থার উত্তরণে রাজধানীতে নতুন ৮৮টি নতুন পার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পার্কগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকা এবং আশপাশের এলাকা অনেকাংশে বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। এমন অভিমত পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনাকারী সংস্থা রাজউক ও বিশেষজ্ঞদের।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) ২০২০ সালে ঢাকা শহরের সবুজ এলাকা, জলাশয়, খোলা উদ্যান ও কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার বিদ্যমান অবস্থা এবং বিগত ২০ বছরে পরিবর্তন শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই গবেষণায় বলা হয়, ২০১৯ সালের জরিপে দেখা যায়, ঢাকার ৮২ ভাগ এলাকা কংক্রিটে ঢেকে গেছে। দুই দশক আগেও যা ছিল ৬৪ দশমিক ৯৯ ভাগ। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় ১৯৯৯ সালে জলজ ভূমি ছিল ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২০০৯ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছিল ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর ২০১৯ সালে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশে। সবুজ এলাকা ১৯৯৯ সালে ছিল ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ২০০৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে তা আবার কমে হয়েছে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ১৯৯৯ সালে ছিল ৬৪ দশমিক ৯৯ ভাগ, ২০০৯ সালে বেড়ে হয় ৭৭ দশমিক ১৮ ভাগ আর ২০১৯ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশে। ঢাকায় ১৯৯৯ সালে খোলা জায়গা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ভাগ, ২০০৯ সালে ছিল ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ; ২০১৯ সালে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৬১ শতাংশে। ওই গবেষণা প্রতিবেদনের সুপারিশে ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে পার্ক, মাঠ ও উন্মুক্ত জায়গা সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বিআইপির সাবেক সভাপতি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর অঞ্চল ও পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ জানান, পার্ক অনুধাবন করার বিষয়। খাবার যেমন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, পার্ক এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাসযোগ্য পরিবেশ ঠিক রাখতে হলে উন্মুক্ত স্থান, পার্ক, খেলার মাঠ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে বাজারমূল্যে জমি কিনে হলেও উন্মুক্ত জায়গা সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়। এজন্য খাসজমিগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। কোথাও খাসজমি পাওয়া না গেলে অধিগ্রহণ বা বাজারমূল্যে জমি কিনে হলেও পার্ক তৈরি করতে হবে।

এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রকল্পের পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ বসবাস করছে ঢাকায়। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় ন্যূনতম উন্মুক্ত স্থান নেই। এজন্য ঢাকায় এখন বসবাস করা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। সেসব দিক বিবেচনা করে ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে পার্ক তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ড্যাপে। সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সংস্থা পার্ক বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

পাঁচ আঞ্চলিক পার্ক : রাজউকের পরিকল্পনায় ৫টি আঞ্চলিক পার্কের মধ্যে আছে নারায়ণগঞ্জে আলীরটেকে ১৪৬ একর জায়গায় নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পার্ক, সাভারের ইয়াহিয়াপুরের ২০৭ একর জায়গায় সাভার আঞ্চলিক পার্ক, কায়েতপাড়ার ৬৪৫ একর জায়গায় রূপগঞ্জ ও কালীগঞ্জ পার্ক, রুহিতপুর ও কলাতিয়ার মুগারচর ও চরচামারদাহা মৌজায় ৫৪৬ একর জায়গায় কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পার্ক এবং সিটি করপোরেশনের সারুপাইতালি ও সুরাবাড়ী মৌজার ২৮২ একর জায়গায় গাজীপুর আঞ্চলিক পার্ক।

জলকেন্দ্রিক ৫৫ পার্ক : শহর এলাকার জলাশয়গুলো এখন আর পরিত্যক্ত থাকবে না। হাতিরঝিলের আদলে গড়ে তোলা হবে বিনোদনকেন্দ্র। সেই চিন্তা থেকে জলকেন্দ্রিক পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলকেন্দ্রিক পার্কের তালিকায় রয়েছে গোড়ান চটবাড়ীর ৫৮৭ একর জায়গায় জলকেন্দ্রিক পার্ক, ২৭ একর জায়গায় রূপনগর শিয়ালাবড়ী পার্ক, ১০০ একর জায়গায় কালশী-মাটিকাটা পার্ক, ৫৫ একর জায়গায় হেমায়েতপুর পার্ক, গাবতলী বাসটার্মিনালসংলগ্ন ১৫৮ একর জায়গায় গাবতলী পার্ক, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কাছাকাছি ৩৯ একর জায়গায় বাউনিয়া পার্ক, ঢাকা সেনানিবাসের পাশে ৪৩ একর জায়গায় পার্ক, গাজীপুর মিরেরগাঁও এলাকায় ৫২ একর জায়গায় বিনোদন পার্ক-১, মিরেরগাঁও মৌজায় ৬২ একর জায়গায় বিনোদন পার্ক-২, গাজীপুরের জয়ারটেক ও বেগমপুরে ৭০ একর জায়গায় পার্ক, নারায়ণগঞ্জের পাগলায় ১১ একর জায়গায় পার্ক, নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুরের বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এলাকায় ৬ একর জায়গায় পার্ক। ঢাকার কল্যাণপুর ৪ একর জায়গাজুড়ে পার্ক, কল্যাণপুর হাউজবিল্ডিং নামে প্রায় ৩ একর জায়গায় পার্ক, ৭ একর জায়গায় বাঙলা কলেজসংলগ্ন পার্ক, কেরানীগঞ্জ সোনাকান্দা ২৫ একর জায়গায় সোনাকান্দা পার্ক, কেরানীগঞ্জ ১৪ একর জায়গায় হোগলাঘাটি পার্ক, কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া-তারানগর এলাকার ৬২ একর জায়গায় পার্ক, ৩২ একর জায়গায় সাভারের মুশুরী খোলা পার্ক, ৩১ একর জায়গায় কেরানীগঞ্জের তারানগর পার্ক, কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকায় ১৮ একর জায়গায় শেখ রাসেল পার্ক, কেরানীগঞ্জের কোনাখোলার ব্রাহ্মণকিত্তার ৭ একর জায়গায় পার্ক। সাভারের বিরুলিয়ার কুমারখণ্ড মৌজার ৬ একর জায়গায় গোলাপগ্রাম পার্ক, সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ৭ একর জায়গায় পার্ক, সাভার পৌরসভার রাঢ়ি বাড়ি মৌজার সাড়ে ৪ একর জায়গায় জাহাঙ্গীরনগর হাউজিং সোসাইটি লেক পার্ক, সাভারের চারিগাঁও মৌজার ১২ একার জায়গায় পার্ক, সাভারের তৈয়বপুর মৌজার ১৩ একর জায়গায় পার্ক, সাভার ধামসোনা ইউনিয়নের ২০৫ একর জায়গায় সাভার ইপিজেড পার্ক, সাভার ধামসোনা ইউনিয়নের সুবান্দি ইউনিয়নের ১৯ একর জায়গায় কলতাসুতি পার্ক, সাভার ধামসোনার বানসাবাড়ি মৌজার ৮ একর জায়গায় পার্ক, সাভারের ধামসোনার পাথালিয়া মৌজায় ২০ একর জায়গায় মির্জানগর পার্ক, খিলগাঁও ১৭ একর জায়গায় হাজিপাড়া পার্ক, খিলগাঁও মৌজার ১০ একর জায়গায় সিপাহিবাগ পার্ক, ভাটারা মৌজার ১৭ একর জায়গায় মাদানি পার্ক, সাঁতারকুলে ১৫০ একর জায়গায় সাঁতারকুল পার্ক, ঢাকার বারুয়া মৌজার ৪১ একর জায়গায় পার্ক, দক্ষিণখান ২২ একর জায়গায় পার্ক, ৯ একর জায়গায় উত্তরখান পার্ক, ৪৩ একর জায়গায় মাতুয়াইল পার্ক, ৪৫ একরে মাতুয়াইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পার্ক, ২০ একরের নারায়ণগঞ্জের ডেইলপাড়া মৌজার নূরবাগ পার্ক, ঢাকার ভাটারা থানার ৫৯ একরের বেরাইদ পার্ক, ২৩ একরের মাণ্ডা পার্ক, ২৬ একরের ডগাইর পার্ক, তারাব পৌরসভার ২২ একরের পার্ক, ৩৬ একরের তারাব পৌরসভার গোলাকান্দাইল পার্ক, ৩০ একরের ভুলতা নাসিংগাল পার্ক, ৩৩ একরের গোলাকান্দাইলের মাহানা পার্ক, ঢাকার মিরপুরে ৩ একরের মিরপুর মাজার পার্ক, ২৫ একরের পল্লবী পার্ক, ঢাকা উত্তর সিটির ১৫নং ওয়ার্ডে ৮ একরের ধামালকোর্ট পার্ক, ৪ একর জায়গায় সাভারের বলিয়ারপুর পার্ক, ৩১ একর জায়গায় নারায়ণগঞ্জের কাশিপুর ডিক্রিচর পার্ক এবং ৮ একর জায়গায় গাজীপুর গুটিয়া পার্ক।

১৪ ইকোপার্ক : ভাওয়াল বন এলাকা নিয়ে গাজীপুর ইকোপার্ক (রাজউক অংশ)। ৫০৮ একর জায়গা নিয়ে উত্তরখান ইকো পার্ক। ২৮৫ একর জায়গা নিয়ে জাঞ্জিরা-বক্তাবলি ইকোপার্ক। ১২০৭ একর জায়গাজুড়ে নাসিরাবাদ জলকেন্দ্রিক পার্ক। ৪৩ একর জায়গাজুড়ে সাইনবোর্ড ইকোপার্ক। ৮৮ একর জায়গাজুড়ে নারায়ণগঞ্জ জালকুড়ি জলকেন্দ্রিক ইকো পার্ক। ৬১ একর জায়গাজুড়ে নারায়ণগঞ্জ মেনিখালি ইকোপার্ক। ৫৩ একর জায়গাজুড়ে তারাবর ভারাগাঁও জলকেন্দ্রিক ইকোপার্ক। ৪ একর জায়গাজুড়ে কাঁটাসুরের বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক। ৬৪ একর জায়গাজুড়ে জাঞ্জিরা ইকোপার্ক। ১৫ একর জায়গাজুড়ে রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ ইকোপার্ক। ২২৭ একর জায়গাজুড়ে গাজীপুর খালিকাইর ইকোপার্ক। ৮৭ একর জায়গাজুড়ে নারায়ণগঞ্জ জলকুড়ি ও ৮৩ একর জায়গাজুড়ে জয়দেবপুর ইকোপার্ক।

অন্যান্য পার্ক : ৪২২ একর জায়গাজুড়ে কেরানীগঞ্জের কাজিরগাঁও, শুভাড্যা, কুল্লিরচর, বাঘির মৌজাজুড়ে শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় পার্ক। ১৪ একর জায়গাজুড়ে বাউনিয়া খেলার মাঠ পার্ক। ১৬ একর জায়গাজুড়ে সাভার বংশী পার্ক এবং ২৮ একর জায়গাজুড়ে সাভার পার্ক। ২৫ একর জায়গাজুড়ে নারায়ণগঞ্জ পার্ক। ৬ একর জায়গাজুড়ে খোলামোড়া পার্ক। ১০ একর জায়গাজুড়ে কাউন্দিয়া কেন্দ্রীয় পার্ক। ৬ একর জায়গাজুড়ে কেন্দ্রীয় পার্ক। ৩ একর জায়গাজুড়ে আমিনবাজার পার্ক। ৪৭ একর জায়গাজুড়ে হাজারীবাগ ট্যানারি এলাকার জীববৈচিত্র্য পুনঃস্থাপন পার্ক এবং ৪৫ একর জায়গাজুড়ে নার্সিংগাল পার্ক।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডার পদত্যাগ

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগামী বছর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানিয়েছেন। আগামী মাসের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন। আর কিছু দেয়ার নেই বলেই তিনি সরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

অনেক কষ্টে কান্না চেপে জেসিন্ডা বৃহস্পতিবার নেপিয়ারে সাংবাদিকদের বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি হবে তার শেষ অফিস।

তিনি বলেন, ‌আমি চলে যাচ্ছি, কারণ কাজটি কঠিন।’
তিনি বলেন, ‌এই পদটি কী তা আমি জানি। আমি জানি, এই পদের প্রতি সুবিচার করার মতো আর কিছু মজুত নেই আমার কাছে। বিষয়টি একেবারেই সহজ।’

জেসিন্ডা ২০১৭ সালে জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। চলতি বছর তাকে কঠিন নির্বাচনী পরীক্ষায় পড়তে হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই বছর আগে উদারপন্থী লেবার পার্টি সহজেই বিপুল বিজয় পেলেও সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে যে রক্ষণশীলেরা বেশ এগিয়ে গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারী দমনে তার ভূমিকা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। তবে কড়াকড়িভাবে করোনাবিধি পালন করায় দেশে তিনি সমালোচিত হয়েছেন।

জেসিন্ডা জানান, আগামী ১৪ অক্টোবর পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, আগামী রোববার পরবর্তী লেবার নেতা নির্বাচন করা হবে। তিনি আশা করেন, তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবার জয়ী হবে।

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হল বিশ^ ইজতেমার প্রথম পর্ব

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
দেশের কল্যাণ, দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হল তাবলিগ জামাতের তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। রোববার সকাল ১০টায় আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে সকাল ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চলে। ২০ মিনিট ব্যাপি আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলীগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি মাওলানা জুবায়ের।
আখেরি মোনাজাতে আমিন আমিন ধ্বনিতে কম্পিত হয় পুরো ইজতেমার ময়দান ও আশপাশ। টঙ্গীর তুরাগ তীরে সমবেত হয়ে অশ্রæভেজা চোখে মুসল্লিরা দেশ জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। ইজতেমা ময়দান ও আশপাশে অবস্থান নিয়ে আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান্নার বুক ভাসান মুসল্লিরা। সারা বিশে^র পথভ্রষ্ট মুসলমানের সঠিক পথে চলা এবং তাবলীগের কাজে সবাইকে নিয়োজিত হওয়ার তাওফিক কামনা করে মহান আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত প্রার্থনা করা হয়। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ কামনায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি স্রষ্টার দরবারে কান্নাকাটি করেন। লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হয় আমিন-আমিন।
এর আগে ফজরের পর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা রবিউল ইসলাম। আর ভারতের আব্দুর রহমান হেদায়তি বয়ান করেন। হেদায়তি বয়ানের পরপরই শুরু হয় আখেরি মোনাজাত।
বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. মাহফুজ জানান, আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার রাত থেকেই ইজতেমাস্থল টঙ্গীর তুরাগ নদের তীর অভিমুখে মানুষের ঢল নামে। আজ সকাল ৯টার দিকে ইজতেমা ময়দানের আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শীত-ধুলো-বালি উপেক্ষা করে ৫-৬ কিলোমিটার দূরে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, কার, ট্যাক্সি ও অন্যান্য যানবাহন রেখে হেঁটেই মুসুল্লিরা ছুটে আসেন ইজতেমা ময়দানের দিকে। মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে বোর্ডবাজার-গাজীপুরা-টঙ্গী-আশুলিয়াসহ বিভিন্ন সড়ক মুসুল্লিতে একাকার হয়ে যায়। যে দিকেই চোখ যায় শুধু পাঞ্জাবী-টুপি পড়া মানুষ আর মানুষ।
মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমার মূল ময়দানে ঢুকতে না পেরে পত্রিকা, পাটি, চট, জায়নামাজ, পলিথিন বিছিয়ে রাস্তায় বসে পডছেন মুসুল্লিরা। অনেকেই আবার মোবাইল ফোনে দূর থেকে মোনাজাতে শরিক হন। আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঢল নামে মুসল্লিদের। ভোগাড়া বাইপাস থেকে ইজতেমা মাঠের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। এই পুরো জায়গা হেঁটেই মুসল্লিরা রওনা হয়েছেন ইজতেমা মাঠের উদ্দেশে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে।

মূল ইজতেমা ময়দানে নারীদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। সে কারণে ময়দানের বাইরে খালি জায়গায়, কলকারখানা ও বসত বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন বহু নারী।
টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন শতাধিক নারী। সেখানে নরসিংদী থাকা আসা সানোয়ারা বেগম বললেন, শনিবার রাতে তিনি টঙ্গী পৌঁছেছেন। কোথাও স্থান না পেয়ে হাসপাতালের চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন।
প্রথম পর্বে ভারত ও পাকিস্তান সহ মরক্কো, ফ্রান্স, মোজাম্বিক, রাশিয়া, জর্দান, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তিউনিশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, আমেরিকা, ফিলিস্তিন, শ্রীলংকা, মিসর, সিরিয়া, বেলজিয়াম, সেনেগাল, জাম্বিয়া, কাতার, মালে, লেবানন, কিরগিজস্তান, নেপাল, ইয়েমেন, কেনিয়া, সুইডিস, ইথিওপিয়া, তুর্কি, মিয়ানমার, ক্যামেরুন ও আইভেরিকোষ্টের প্রায় ৫৫০০ বিদেশী মেহমান বিশ^ ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিদেশ থেকে আসা অতিথিরা প্রথম পর্ব শেষে ইজতেমাস্থল ত্যাগ করে হাজী ক্যাম্পে অবস্থান করবেন। সেখান থেকে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে যাবেন।
মোনাজাতে ভিআইপিদের অংশগ্রহণ: শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে অবস্থিত পুলিশ ক্যাম্পে প্রথম পর্বের ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শরিক হয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাসিক (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র আসাদুর রহমান কিরন, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম প্রমূখ।
মোনাজাত শেষে বাড়ি ফেরা ও যানজটঃ
আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে আশা মানুষ নিজ গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করেন। আগে যাওয়ার জন্য মুসল্লিরা তাড়াহুড়ো শুরু করে। এতে টঙ্গীর কামারপাড়া সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী- কালীগঞ্জ সড়কের আহসান উল্লাহ মাষ্টার উড়াল সেতু ও আশপাশের সড়ক-মহাসড়ক এবং সংযোগ সড়ক গুলোতে দীর্ঘ জনজট ও যানজট দেখা দেয়। যানজট নিরসন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়। যানবাহন না পেয়ে অনেক মুসল্লিকে পায়ে হেটে গন্তব্যে রওয়না হতে দেখা যায়।
ইজতেমায় ৮ মুসল্লির মৃত্যুঃ
বৃহস্পতিবার থেকে রোববার দুপুর নাগাদ ময়দানে আট মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। রোববার ভোরে আনিসুর রহমান (৭১) নামে এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঢাকার বংশালের মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে। তিনি ময়দানের ১৮ ও ১৯নং টয়লেটের জিম্মাদার ছিলেন।রোববার ভোরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া ইজতেমা চলাকালে আরও সাত মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার মলমলিয়া গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে মুফাজ্জল হোসেন খান (৭০), চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানা সদরের আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৭০), নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার মাসিমপুর গ্রামের রহমতুল্লাহর ছেলে হাবিবুর রহমান হাবি (৭০), সিলেটের জৈন্তাপুরের নুরুল হক (৬৩), ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাবিবুল্লাহ হবি (৬৮), গাজীপুরের ভুরুলিয়ার আবু তৈয়ব ওরফে আবু তালেব (৯০) ও ঢাকার মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরের আক্কাস আলী শিকদার (৫০) মৃত্যুবরণ করেন।

আগামী মঙ্গলবার সকাল ১১ টার মধ্যে মাওলানা জোবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠ ত্যাগ করবেন। মাঠ বুঝিয়ে দেওয়া হবে প্রশাসনের কাছে। পরে প্রশাসন মাওলানা সাদ অনুসারীদের কাছে ময়দান বুঝিয়ে দেবেন। ২০ জানুয়ারি বাদ ফজর থেকে মাওলানা সাদ অনুসারীদের পরিচালনায় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে। ২৩ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এ বছরের ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমা।

আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হচ্ছে প্রথম পর্বের বিশ^ ইজতেমা

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
আজ রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হবে। আখেরি মোনাজাত কাকরাইল জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমেদ পরিচালনা করবেন। আখেরি মোনাজাত সকাল ১০টা থেকে ১১ টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান ও মুসল্লিদের নফল নামাজ, তাসবিহ তাহলিল এবং জিকির-আসগারের মধ্য দিয়ে শনিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে।
শনিবার বাদ ফজর পাকিস্তানের মাওলানা খুরশিদ আলমের বয়ানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। বয়ানে মাওলানারা তাবলিগের ছয় উসুলের (মৌলিক বিষয়ে) নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের আখলাক সুন্দর করতে হবে। জানমাল দ্বীনের দাওয়াতের কাজে ব্যয় করতে হবে। তিনি বলেন, ঘর তৈরি করতে গেলে যে পরিমান মেহনত করা প্রয়োজন, আমরা সে পরিমাণ মেহনত করলে একটি ঘর তৈরি হয়।ঠিক একইভাবে দাওয়াতের কাজে যে পরিমাণ মেহনত করা প্রয়োজন, সে পরিমাণ মেহনত করলে আল্লাহজাল্লাহ শানহু আমাদের দাওয়াতকে কবুল করবেন। আর দাওয়াত কবুল হলে আমাদের দোয়া কবুল হবে। দোয়া কবুল হলে আমাদের জীবন পরিবর্তন হয়ে যাবে।
মুরব্বিদের বয়ান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ময়দানে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। নিজের ইমান আমলকে মজবুত করার একমাত্র মোক্ষম সময় হৃদয়ে ধারণ করে গভীর মনোযোগ দিয়ে মুরব্বিদের বয়ান শুনছেন।
শনিবার বয়ানে অংশ নিয়েছেন বয়ান করছেন : বাদ জোহর ভারতের মাওলানা ফারুক, বাদ আসর ভারতের মাওলানা জুহাইরুল হাসান।বাদ মাগরিব, ভারতের মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা।
দ্বিতীয় দিনেও ইজতেমাস্থলে মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। আখেরি মোনাজাতে প্রায় ২৫-৩০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিবেন বলে আয়োজকদের ধারণা। ইজতেমার প্রথম পর্বে শিল্প নগরী টঙ্গী ইতোমধ্যেই ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। টঙ্গী শহর ও ইজতেমাস্থলের আশপাশ এলাকা যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় আগত লাখ-লাখ মুসল্লির পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এদিনও টঙ্গী অভিমুখী বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ছিল মানুষের ভিড়। সেটি আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ ঢল অব্যাহত থাকবে । আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ আগমন ঢল অব্যাহত থাকবে। কাল আখেরি মোনাজাতে বেশ কয়েকজন ভিআইপি অংশগ্রহণ করবেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষ্যে গাজীপুর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম।তিনি শনিবার দুপুরে টেশিস শিল্প সংস্থার মাঠে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা জানান। কমিশনার বলেন, আখেরি মোনাজাতে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেবেন। শনিবার রাত ১২টা থেকে টঙ্গী-কামারপাড়া রোড, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস পর্যন্ত এবং আবদুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়ার বাইপাইল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়াও ময়মনসিংহ ও গাজীপুরগামী যানবাহনগুলোকে গাবতলী দিয়ে কোনাবাড়ি হয়ে এবং ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে ভোগরা বাইপাস দিয়ে তিনশ ফিট রাস্তা ব্যবহার করে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত: বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে মুসল্লিদের নিরাপদ অবস্থান ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইজতেমায় অতিরিক্ত দামে কম্বল বিক্রি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গতকাল ১৪ ব্যবসায়ী বিভিন্ন অংকের টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
যৌতুকবিহীন ৭০টি বিয়ে: টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন (শনিবার) বাদ আসর ৭০ জোড়া বর-কনের যৌতুক বিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য ও মিডিয়া সমন্বয়ক মুফতি জহির ইবনে মুসলিম গনমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চত করেছেন। পারস্পরিক সম্মতিতে বরেরা মূল বয়ান মঞ্চের সামনে উপস্থিত হন আর কনেরা নিজেদের গৃহে অবস্থান করেন। বিয়ে শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে খুরমা খেজুর বিতরণ ও দোয়া করা হয়।
ইজতেমায় ৭ মুসল্লির মৃত্যু : গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত বিশ্ব এজতেমায় আগত আরও ৪ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার মলমদিয়া গ্রামের মোবারক হোসেন খানের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন খান(৭০), ঢাকা কেরানীগঞ্জের হাজী হাবিবুল্লাহ হবি (৬৮), চট্রোগ্রাম সদরের রাউযান এলাকার আঃ রশিদ মিয়ার ছেলে আঃ রাজ্জাক(৭০) ও নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার মাছিমপুর গ্রামের মৃত রহমতুল্লার ছেলে হাবিবুর রহমান (৭০)। এর আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার আক্কাস আলি সিকদার (৫০), সিলেটের জৈন্তাপুরের নুরুল হক (৬৩) ও গাজীপুরের ভিরুলিয়ার তৈয়ব আবু তালেব (৯০) মারা যান। এ নিয়ে এজতেমায় প্রথম পর্বে মোট ৭ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়দানে লাশের জিম্মাদার মাওলানা মুহাম্মদ শাকের।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুর রহমান কিরণ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন : ইজতেমায় আগত দেশী-বিদেশী মুসল্লিদের স্বাগত জানিয়ে তোরণ, নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব ও পুলিশের জন্য ওয়াচ টাওয়ার, শৌচাগার, গোসলখানা নির্মাণ করা হয়েছে। ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্ষক্রম চলমান রয়েছে।
চিকিৎসা সেবা: টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ৪শ’ ১৪ জন মুসল্লি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে বাথজ্বর, মাথা ব্যথা, সর্দি, কাশি, পেটেরপীড়া, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগজনিত কারনে ১৭ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
ইজতেমায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প : এবারের বিশ্বইজতেমায় আগত মুসুল্লিদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করছে। অলিম্পিয়ার স্কুল মাঠে হামদর্দ ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প ছাড়াও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর সিভিল সার্জন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, র‌্যাবসহ কয়েকটি সংস্থার ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ময়দানের মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছেন। গতকাল পর্ষন্ত তারা বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত প্রায় ১০হাজার অসুস্থ্য রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।
ইজতেমা ময়দানে শনিবার পর্যন্ত ৬৫ দেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বিদেশি মুসল্লি উপস্থিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৫ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথমপর্বের (আলমি শুরার) বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে। মাঝে চার দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের অনুসারী (ওয়াসিফুল ইসলামপন্থি) মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয়পর্বে অংশ নেবেন। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে।

খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বাড়লো

দেশে প্রথমবারের মতো নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। খুচরা পর্যায়ে এ দাম বৃদ্ধির পরিমাণ ৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

চলতি জানুয়ারি থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৩ টাকা ৯৪ পয়সা, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ১৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা, ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৫ টাকা ৭২ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ১ পয়সা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৬ টাকা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ৩০ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৬ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ৬৬ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের জন্য ৯ টাকা ৯৪ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের ওপরে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল ১১ টাকা ৪৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১২ টাকা ৩ পয়সা করা হয়েছে।

সংশোধিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অধ্যাদেশের ক্ষমতাবলে সরকার প্রথমবারের মতো নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ালো।

বিশেষ ক্ষেত্রে বিইআরসি ছাড়াই ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয়ে সরকারকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২’-এ। গত ১ ডিসেম্বর অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। অধ্যাদেশটিকে এখন আইনে পরিণত করার প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সব পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। সেসময় পাইকারিতে দাম ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়।

টঙ্গীতে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আলমি শূরার তত্ত্বাবধানে (জুবায়েরপন্থি) মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। শুক্রবার বাদ ফজর মাওলানা জিয়াউল হকের আম বয়ানের মধ্যদিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইজতেমায় যোগ দিতে মুসল্লিরা তুরাগ তীরে আসছেন। কেউ বাসে, কেউ ট্রাকে, আবার কেউ পিকআপ ভ্যানে চড়ে এসেছেন ইজতেমা মাঠে। সবার হতেই একাধিক ব্যাগ ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র। মুসল্লিরা মাঠে ঢুকছেন ভিন্ন ভিন্ন ফটক দিয়ে। মাঠে ঢুকেই নিজ নিজ খিত্তায় (নির্ধারিত জায়গা) অবস্থান নিচ্ছেন মুসল্লিরা।
ইজতেমায় মুসল্লিদের ভিড় : বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যেই লাখ লাখ মুসল্লিরা ময়দানে এসে নিজ নিজ খিত্তায় অংশ নিয়েছেন। যারা খিত্তায় স্থান পাননি তারা বাধ্য হয়ে ময়দানের বাউন্ডারির বাইরে চারপাশের খালি জায়গায় ইস্তেমীয় সিমানা নিয়ে বসে পড়েছেন।
গাইবান্ধা জেলার মসুল্লি আবদুল হক জানান, তাদের জন্য নির্ধারিত ৩৩নং খিত্তায় মুসল্লি পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে বাটা সু কারখানার সামনের রাস্তায় অবস্থান করছেন।
নোয়াখালী জেলা থেকে আসা মুসল্লি আবুল হোসেন জানান, ময়দানে আমাদের খিত্তা নং-৬৫। সকালে ময়দানে গিয়ে দেখি পুরো খিত্তায় মুসল্লিতে ঠাসা। খিত্তায় জায়গা না পেয়ে ময়দানের বাইরে অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করে যাচ্ছি।
টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে এসেছেন ২৮ দেশের বিদেশী মুসল্লি ঃ বুধবার দুপুর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ২৮ দেশের এক হাজার ৪৬১ জন বিদেশি মেহমান ময়দানের উত্তর-পশ্চিম দিকে তাদের জন্য নির্ধারিত নিবাসে অবস্থান নিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইজতেমা ময়দানের মিডিয়া সমন্বয়কারী মুফতি জহির ইবনে মুসলিম। ভারতের এক হাজার ১২৩ জন, পাকিস্তানের ৮২জন, মিয়ানমারের ১৬জন ও আফগানিস্তানের ৮জন বিদেশি মুসল্রি ময়দানে অবস্থান নিয়েছেন।
ইজতেমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা : গতকার বৃহস্পতিবার থেকেই দু’পর্বের ইজতেমায় পুলিশ, র‌্যাব, কিউআরটি, আনসারসহ সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ ১০ সহ¯্রাধিক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩ শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের করা হয়েছে। ১৩টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হচ্ছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরাগুলো।
এছাড়াও থাকছে মেটাল ডিটেক্টর, বাইনোকুলার, নাইটভিশন গগল্স, পুলিশ ও র‌্যাবের ষ্ট্রাইকিং ফোর্স, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, নৌ টহল, হেলিকপ্টার টহল, মুসলিল্লদের খিত্তাওয়ারী মোটরসাইকেল টহল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং এর জন্য একটি প্রধান কন্ট্রোল রুম ও সাব কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের গৃহীত কার্যক্রম: ইজতেমায় আগত দেশী-বিদেশী মুসল্লিদের স্বাগত জানিয়ে তোরণ, নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব ও পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার, ৩১টি শৌচাগারে ৮ হাজার ৮’শ ৮৪টি টয়লেট ও ২৯৪টি গোসলখানা নির্মাণ করা হয়েছে। ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম গ্রহণ, ইজতেমা কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক ব্লিচিং পাউডার সরবরাহসহ ইজতেমা চলাকালে গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে।
পানির ব্যবস্থা: ময়দানে আগত মুসল্লিদের ওজু গোসলসহ অন্যান্য কাজে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৪ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হয়। সেজন্য পূর্বের স্থাপন করা ১৪টি গভীর নলকূপের পাশাপাশি এবার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ময়দানে নতুন করে ১ হাজার ফুট গভীর ২টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।
গ্যাস সংযোগ: ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে বিদেশি মেহমানদের জন্য নির্ধারিত কামরার পাশে ১৪০ থেকে ১৫০ পিএসআই উচ্চচাপ সম্পন্ন গ্যাসের লাইন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে শুধু বিদেশি মেহমানদের রান্নার কাজ হয়ে থাকে।
ময়দান জুড়ে প্রায় ৫শ মাইক: আগত মুসল্লিরা যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে শীর্ষ মুরব্বিদের বয়ান শুনতে পারেন সেজন্য শব্দ প্রতিধ্বনিরোধক ৩২০টি ছাতা মাইক এবং বিদেশি মেহমানদের বয়ান শোনার জন্য বিদেশি কামরা ও তার আশপাশে ২০০টি ইউনিসেফ (প্রতিধ্বনি প্রতিরোধক) মাইন স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজতেমা ময়দানের মাইকের জামাতের শীর্ষ জিম্মাদার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
ভাসমান পন্টুন সেতু: ইজতেমা ময়দানে আগত মুসল্লিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা টঙ্গী-কামারপাড়া ব্রীজ থেকে আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সংযোগ ব্রীজ পর্যন্ত তুরাগ নদে ৫টি ভাসমান পন্টুন সেতু তৈরি করেছেন। পন্টুন সেতু দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল থেকে আগত মুসল্লিরা সহজে তুরাগ নদ পারাপার হতে পারবেন।
ফায়ার সার্ভিস: ইজতেমাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একটি কন্ট্রোল রুম থাকবে। সেখানে সার্বক্ষনিক কর্মকর্তাসহ ফায়ারম্যানরা অবস্থান করবেন। টু-হেলার মোটর সাইকেল টহল, ফায়ার ফাইটিং ইউনিট, ষ্ট্যান্ডবাই লাইটিং ইউনিট, মোবাইল জেনারেটর ও প্রতি খিত্তায় ২জন ফায়ারম্যান থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে এ্যাম্বুলেন্স, অগ্নি নির্বাপন গাড়ী, পানিবাহী গাড়ী, ডুবুরি ইউনিট, রেসকিউ বোর্ড, রেসকিউ গাড়ী থাকবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাসহ ৩৬১ কর্মী সার্বক্ষনিক উপস্থিত থাকবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায় রেড ক্রিসেন্ট ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইজতেমায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা: ইজতেমার ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে উত্তরা, টঙ্গী সুপার গ্রিড ও টঙ্গী নিউ গ্রিডকে বরাবরের মতোই মোট ১৩২ কেভি সোর্স হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে করে একটি গ্রিড অকেজো হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত না হয়। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫ টি ১১ কেভি ফিডার লাইন ও ১৯ টি বিতরণ কেন্দ্র করা হয়েছে। হঠাৎ কোন কারনে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়লে সাথে সাথে যাতে বদল করা যায় তার জন্য স্ব স্ব স্থানে ট্রলি ট্রান্সফরমার রাখা হবে। এছাড়া অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসাবে ৪ টি জেনারেটর সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। ডেসকোর প্রায় ২শতাধিক কর্মী পালাক্রমে ২৪ ঘন্টা কর্মরত রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ১৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৫ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে। মাঝে ৪দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের অনুসারী (ওয়াসিফুল ইসলামপন্থী) মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইজতেমার পরিসমাপ্তি ঘটবে।

‘চিকিৎসায় সবাইকে হেলথ কার্ড দেবে সরকার’

সরকার দেশের সব নাগরিককে হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের জন্য হেলথ কার্ড থাকবে। ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পরিকল্পনা কমিশনে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী এটি পাশ করে দেবেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, হেলথ কার্ডে স্বাস্থ্যবিষয়ক সব তথ্য থাকবে। বিদেশে এমন কার্ড দেওয়া হয়। আমরাও তাদের মতো করে হেলথ কার্ড দেব।

সংলাপে তিনি আরও জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নবনির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে গত ২৭ ডিসেম্বর হাসপাতালের ১৪ বিভাগে রোগী দেখা শুরু করেন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকরা। এ ধারাবাহিকতায় এবার চলতি মাসের ২৩ জানুয়ারি থেকে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোগী ভর্তিসহ পুরোদমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাস। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

আন্দোলনে আ.লীগ সরকারকে উৎখাত করা সোজা নয় —প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিশ দল ভেঙে কয়েকটি জোট গঠন করেছে সরকারবিরোধী দলগুলো। তারা সরকার উৎখাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে ১১ জানুয়ারি গণঅবস্থানের মাধ্যমে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১০ তারিখ (ডিসেম্বর) নিয়ে খুব একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এত ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ১০ তারিখ চলে গেল গোলাপবাগে। এরপর ১১ তারিখ (জানুয়ারি) থেকে তারা আন্দোলন করবে! তাদের সঙ্গে আবার জুটে গেছে অতিবাম, অতিডান। সব অতিরা এক জায়গায় হয়ে আতি-পাতি নেতা হয়ে তারা নাকি আমাদের ক্ষমতা থেকে একেবারে উৎখাত করবে?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে তারা (বিএনপি) নাকি গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করে। তাদের জন্মই তো গণতন্ত্র থেকে হয়নি। হয়েছে ক্ষমতা দখলকারী, সংবিধান লঙ্ঘনকারী মিলিটারি ডিকটেটরের পকেট থেকে। এরা তো ভাসমান। এদের বাংলাদেশের প্রতি কেন দরদ থাকবে? সেজন্যই অগ্নিসন্ত্রাস করে, মানুষ হত্যা করতে পারে। হাজার হাজার মানুষকে পুড়িয়ে তারা আনন্দ পায়। দেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একবারই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, মেয়াদ শেষ হলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ২০০১ সালের জুলাই মাসে ক্ষমতা হস্তান্তর করি। এর আগে-পরে আর কখনো শান্তিপূর্ণভাবে হয়নি। খালেদা জিয়ার অধীনে দুইটা নির্বাচন হয়- ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আর ২০০৬ সালের ৬ জানুয়ারি নির্বাচন। দুটি নির্বাচনই তো বাতিল করতে বাধ্য হয়। কারণ জনগণের ভোট চুরি করার ফলে জনগণই তাদের বিতাড়িত করে। যারা বারবার জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত-বিতারিত তারা গণতন্ত্রটা চর্চা করলো কবে? তাদের নিজেদেরই গণতন্ত্র নেই। তাদের দলের কোনো ঠিকানা নেই। একটা মাইক লাগিয়ে, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি, তাদের কিছু ভাড়াটে লোক আছে, দেশ-বিদেশে বসে, সামাজিকমাধ্যমে সারাদিন আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাবে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আলী আরাফাত, তারানা হালিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ফারজানা ইসলাম, অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএ মান্নান কচি বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।