অগ্রযাত্রার মুকুটে আরেকটি পালক: প্রধানমন্ত্রী

মেট্রোরেলকে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রার মুকুটে আরেকটি পালক হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, আজকে আমরা বাংলাদেশের অহংকারে আরেকটি পালক সংযোজন করতে পারলাম।

মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বুধবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে আয়োজিত সুধীসমাবেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মেট্রোরেল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রায় আরেকটি পালক দিতে পারলাম, এটিই বড় কথা।’

সবাইকে মেট্রোরেলের সঠিক সংরক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, অনেক টাকা খরচ করে মেট্রোরেল করা হয়েছে। এ মেট্রোরেল সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। যাতে মেট্রোরেলের কোনো কিছু নষ্ট না হয়, সে জন্য তিনি সবাইকে তা ব্যবহারে যত্নশীল হতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই মেট্রোরেল পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণ সেবা করার সুযোগ দিয়েছিল। সে জন্য সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।

নতুন যুগের শুরু, মেট্রোরেল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মেট্রোরেলের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বেলা ১১টায় মেট্রোরেলের উদ্বোধন আনুষ্ঠানিক করেন তিনি।  আর এর মাধ্যমেই মেট্রোরেল যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

উদ্বোধনের পর সবুজ পতাকা নেড়ে, লাল ফিতা কেটে প্রথম যাত্রী হিসেবে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করবেন তিনি। আর সেই ট্রেনটি চালাবেন নারী চালক মরিয়ম আফিজা।

মেট্রোরেলে ভ্রমণের জন্য দুই ধরনের টিকিট রাখা হয়েছে। একটি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহারের এমআরটি পাস, অপরটি এক যাত্রার (সিঙ্গেল জার্নি) কার্ড।

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, শুরুতে কেবল মেট্রোরেল স্টেশনের কাউন্টার থেকে নির্দিষ্ট জামানত দিলে মিলবে এমআরটি পাস। আর একবারের যাত্রার জন্য টিকিট মিলবে স্টেশনে থাকা কাউন্টার এবং পাশের স্বয়ংক্রিয় ‘টিকিট মেশিন’ থেকে। যাত্রা শেষে নির্ধারিত মেশিনে টিকিট কার্ডটি ফেরত দিলে তবেই স্টেশন থেকে বের হতে পারবেন যাত্রীরা।

ঘুষি মারার স্পষ্ট দাগ ছিল সুশান্তের চোখে: ডোম

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর দুই বছর পর তাকে খুন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন কুপার হাসপাতালের মর্গের এক কর্মী। ওই হাসপাতালেই ময়নাতদন্ত হয়েছিল অভিনেতার।

রূপকুমার শাহ নামে মর্গের ওই কর্মীর দাবি, সুশান্তের দেহে এবং গলায় একাধিক ক্ষতের দাগ ছিল। তার চোখে স্পষ্ট ঘুষির দাগ ছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সে কথা তিনি জানিয়েছিলেন বলে দাবি শাহের। তখন কর্তৃপক্ষ তাকে ‘নীতি’ মেনে কাজের নির্দেশ দেন।

একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ বলেন, সুশান্ত সিংহ রাজপুত যখন মারা গিয়েছিলেন, তখন আমাদের কুপার হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য মোট পাঁচটি দেহ এসেছিল। পাঁচটির মধ্যে একটি দেহ ছিল ভিআইপির। ময়নাতদন্তের কাজের সময় জানতে পারি তিনি সুশান্ত সিংহ রাজপুত। তার শরীরে একাধিক এবং গলায় দুই থেকে তিনটি দাগ ছিল। ময়নাতদন্তের ভিডিও রেকর্ড করার দরকার ছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র দেহের ছবি তুলতে বলেন। তাদের নির্দেশ মেনেই কাজটা করেছিলাম।

শাহ বলেন, যখন সুশান্তের দেহ প্রথম বার দেখি, তখনই সিনিয়রদের বলি যে, আমার মনে হয় এটা আত্মহত্যার ঘটনা নয়। খুন হয়েছেন তিনি। আমি এ-ও বলি যে, নিয়ম মেনেই আমাদের কাজ করা উচিত। যদিও সিনিয়রেরা আমায় যত দ্রুত সম্ভব দেহের ছবি তুলে পুলিশের হাতে দেহ দিয়ে দিতে বলেন। রাতেই আমরা সুশান্তের দেহের ময়নাতদন্ত করেছিলাম।

২০২০ সালের জুনে মুম্বাইয়ের আবাসন থেকে সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছিল, আত্মহত্যাই করেছেন সুশান্ত। যদিও তার পরিবার দাবি করে, খুন করা হয়েছিল অভিনেতাকে।

দ্বিতীয়বার রংপুর সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়ে যা বললেন মোস্তফা

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, এ বিজয়ের জন্য মহান আল্লাহতায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এ বিজয়কে আমি রংপুর মহানগরবাসীর কাছে উৎসর্গ করলাম। আপনারা আগের মতো আমার পাশে থাকবেন। আমিও দরজায় পর্দাবিহীনভাবে আপনাদের পাশে থাকব। দুর্নীতি মুক্ত থেকে নগরবাসীর সেবা করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

এ সময় তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কথা স্মরণ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট ধীরগতিতে এবং বিভিন্ন কেন্দ্রের মেশিনের ত্রুটির কারণে ভোট কম পোলিং হয়েছে। যদি স্বাভাবিকভাবে ভোট হতো এবং কাঙ্ক্ষিত ভোট পোল হতো তা হলে এবার আমি দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম।

নির্ধারিত সময় সাড়ে ৪টায় হলেও অনেক কেন্দ্রে ভোট হয়েছে সন্ধ্যা পর্যন্ত। একদিকে অনেক কেন্দ্রের ফল ঘোষিত হয়েছে, আর অনেক কেন্দ্রে চলেছে ভোট।

ইভিএমে ভোট ধীরগতিতে হওয়ায় যারা সাড়ে ৪টার আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিলেন তাদের ভোট নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল সাড়ে ৪টার পরও যেসব কেন্দ্রের ভেতরে মানুষ থাকবে, সেখানে ভোটগ্রহণ করা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন।

প্রসঙ্গত, এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। সরকারদলীয় প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়ার চেয়ে এক লাখ ২৪ হাজার ৫৫৯ ভোট বেশি পেয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৯২ ভোট। ৩৩ হাজার ৮৮৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন হাতি প্রতীকের স্বতন্ত্রপ্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) লতিফুর রহমান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডালিয়া পেয়েছেন ২২ হাজার ৩০৯ ভোট।

 

সবুজ পতাকা দুলিয়ে মেট্রোরেলের যাত্রা সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ খুলে দেবেন কাঙ্ক্ষিত দুয়ার। ফলে মেট্রোর যুগে প্রবেশ করবে দেশ। হবে মেট্রোরেলে কালজয়ী স্বপ্নপূরণ। এটা পদ্মা সেতুর মতো আরেকটি স্বপ্ন জয়ের গল্প। এভাবেই গর্বের অহংকারের আরেকটি মাইলফলক পেরোল দেশ। সাফল্যের পালক যোগ হলো সরকারের মুকুটে। শুরুর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী নিজেই হবেন প্রথম যাত্রী। উদ্বোধনের দিন ঘিরে রাজধানীতে সাজ সাজ রব। ঢাকাবাসীর দৃষ্টি উত্তরার দিয়াবাড়ীতে। তারা প্রহর গুনছেন কখন ঘুরবে চাকা, চলবে মেট্রো। আজ নয়, কাল থেকে গণমানুষের জন্য অত্যাধুনিক এই বৈদ্যুতিক গণপরিবহণ উন্মুক্ত হবে। উদ্বোধন কেন্দ্র করে দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁ পর্যন্ত পুরো এলাকা ঢেকে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তা চাদরে।

উদ্বোধন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গর্ব ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক মেট্রোরেল বাংলাদেশের নগর গণপরিবহণ ব্যবস্থায় একটি অনন্য মাইলফলক। উদ্বোধনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আজ মেট্রোরেল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৫০ টাকা মূল্যমানের স্মারক নোট অবমুক্ত করবেন।

উন্নত দেশগুলো বহু আগে মেট্রোরেল করলেও এর আগে বাংলাদেশের কোনো সরকার এটা নির্মাণের সাহস দেখায়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেল নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে ২০১২ সালে প্রকল্প অনুমোদন করেন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। আজ প্রধানমন্ত্রীর দুঃসাহসিক স্বপ্নজয়ের সেই দিন।

জানা গেছে, ঢাকার যানজট নিরসনে মেট্রোরেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে লক্ষ্যে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) গঠন করা হয়। এই কোম্পানির মাধ্যমে প্রথম প্রকল্প হিসাবে নেওয়া হয় ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট লাইন-৬। যা এমআরটি-৬ নামে পরিচিত। প্রকল্পটি উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত। এই প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। আজ উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের উদ্বোধন। এই অংশের দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ১০ মিনিট অন্তর চলবে এই ট্রেন। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত কোনো স্টেশনে না থেমে পৌঁছাতে সময় লাগবে ১০ মিনিট এবং স্টেশনগুলোতে থেমে থেমে পৌঁছাতে সময় লাগবে ১৭ মিনিট। প্রাথমিক পর্যায়ে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে। ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য স্কেলেটর, লিফটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেউ অসুস্থ হলে সেখান প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া যাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১১ নম্বর পর্যন্ত মেট্রোরেলের নিচের সড়ক সরেজমিন দেখা যায়, সড়ক বিভাজনগুলো সুন্দর করে সাজানোর কাজ চলছে। অর্ধেক অংশে নানা রঙের ফুলের গাছ রোপণ করা হয়েছে। আর কিছু অংশে ফুল, লতাগুল্ম দিয়ে সাজানোর কাজ চলছে। বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্রধানমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রীর ফেস্টুন নজর কাড়ছে নগরবাসীর। মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ১১ নম্বর সড়ক বিভাজনে টাঙানো ফেস্টুনে লেখা, ‘নিরাপদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ মেট্রোরেল।’ ‘মেট্রোরেল জীবনে আনবে গতি, কমে যাবে যানজটের দুর্গতি’ এবং ‘এগিয়ে চলছে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ, দুর্বার সময় এখন মাথা উচু করে দাঁড়াবার।’

মঙ্গলবার আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনের কনকোর্স হলে সংবাদ সম্মেলন করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। বেলা ১১টার পর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আপানারা জানেন, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২। বিজয়ের মাসের এই দিন বেলা ১১টায় বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইন-৬ এর উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের উদ্বোধন হবে। আমাদের আশার বাতিঘর, সাহসের বর্ণিল ঠিকানা, রূপান্তরের রূপকার, বঙ্গবন্ধুকন্যা ও দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই তরুণ প্রজন্মের মেট্রোরেলের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া আমরা আশা করছি, আগামী বছরের ডিসেম্বরে এমআরটি-৬ এর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন হবে। আর ২০২৫ সালে মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের উদ্বোধন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর মতো এমআরটি-৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় একটি সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের সি-এ ব্লক খেলার মাঠে এটা করা হবে। ১১টা ১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হবেন। ১১টা ৫ মিনিটে মেট্রোরেলের উদ্বোধনের নামফলক জনসম্মুখে উন্মোচন করবেন। ১১টা ২০ মিনিটে মোনাজাত করা হবে। পায়রা উড়ানো ও ফায়ার ওয়াক্স নিরাপত্তাজনিত কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুধী সমাবেশ শুরু ১১টা ২৫ মিনিটে এবং প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা করবেন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক মেট্রোরেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। সভাপতিত্ব করবেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বাগত বক্তৃতা করবেন সড়ক পরিবহণ ও মহাড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লা নুরী এবং অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত শুভেচ্ছা বক্তৃতা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার আগে সভাপতি বক্তৃতা করবেন, এরআগে এরিয়াল ভিডিও প্রদর্শনী, থিমসং পরিবেশন করা হবে। সমাবেশের বক্তৃতা শেষে প্রধানমন্ত্রী উত্তরা উত্তর স্টেশনে যাবেন, মূল ফলক পরিদর্শন এবং সেখানে একটি তেঁতুল গাছের চারা রোপণ করবেন। এরপর সিঁড়ি বেয়ে কনকর্স হলে পৌঁছাবেন। সেখানে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে এই হল সম্পর্কে ধারণা দেবেন। এরপর টিকিট কেটে প্লাটফরমে যাবেন। সেখানে তিনি সবুজ পতাকা নাড়িয়ে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল চলাচলের শুভ সূচনা করবেন। স্মারক হিসাবে সবুজ পতাকায় প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংরক্ষিত মেট্রোর দরজার ফিতা কেটে তিনি ট্রেনের নির্ধারিত আসনে বসবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভ্রমণসঙ্গী হবেন ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি। তাদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করবেন। ট্রেন আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে পৌঁছালে তিনি নেমে যাবেন। সেখান থেকে আসবেন গণভবনে।

উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের ভাড়া লাগবে ৬০ টাকা। প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। মেট্রোরেলে ছাত্রদের জন্য হাফ ভাড়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে যারা র‌্যাপিড পাশ বা এমআরটি পাশ ব্যবহার করবেন তারা ১০ ভাগ ছাড় পাবেন। এছাড়া এমআরটি-৬ এ যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিনা ভাড়ায় চলাচল করবেন। প্রতিবন্ধীরা এককভাবে চলাচলের সময় ভাড়া ১৫ ভাগ ছাড় পাবেন। আর তিন ফুট পর্যন্ত উচ্চতার শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে চলাচলের সময় ভাড়ার প্রয়োজন হবে না।

অন্যান্য দেশের তুলনায় এমআরটি-৬ এর ভাড়া বেশি নির্ধারণ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমটিসিএল’র এমডি এমএএন সিদ্দিক বলেন, কোন সময় ঢাকায় মেট্রোরেল তৈরি করা হয়েছে, সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ভাড়ার সঙ্গে তুলনা করতে হবে। কলকাতার মেট্রোরেল অনেক আগে নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে সুবিধাও অনেক কম। আমাদের মেট্রোরেলে আধুনিকমানের এবং এখানে অনেক বেশি সুবিধা রয়েছে। আমাদের মেট্রোরেল অনেক সময় সাশ্রয়ী। বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা গেছে, যানজটের কারণে যে শ্রমঘণ্টার ক্ষতি হতো তার আর্থিক পরিমাণ ৪০ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা। মেট্রোর কারণে সেই অর্থ সাশ্রয় হবে।

তিনি বলেন, এটা একটি বৈদ্যুতিক ট্রেন। বিদ্যুৎ খরচের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কোনো দেশের মেট্রোরেলের ভাড়ার সঙ্গে ঢাকার মেট্রোরেলের ভাড়ার তুলনা করার আগে সেখানকার বিদ্যুৎ খরচের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এসব তুলনা করলে দেখবেন, এটা সর্বনিম্ন ভাড়া। এই ভাড়া আদায় করেও মেট্রোরেল লাভজনকভাবে পরিচালনা করা যাবে না। এজন্য আমরা স্টেশন প্লাজা ও টিওডি নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। সেই আয় থেকে ভাড়া বাবদ ৩০-৩৫ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে।

ভাড়া বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এখন ঢাকা সিটিতে যে অবস্থা; কেউ উত্তরা থেকে কমলাপুর আসতে ভাড়া দিতে হয় ১০০ টাকা। কত সময়ে আসবে ৩৮ থেকে ৪০ মিনিটে। ভাড়া এমন একটি বিষয় প্রথমে কেউ এটি গ্রহণ করে না। কিন্তু, বাস্তবে সবাই গ্রহণ করবে। এখন সর্বনিম্ন রিকশা ভাড়াও ২০ টাকা।

ডিএমটিসিএল’র এমডি বলেন, সব মেট্রো স্টেশন প্রস্তুত। মানুষের অভ্যস্ততার জন্য এটা করা হয়েছে। মানুষ যত দ্রুত অভ্যস্ত হবে, তত দ্রুত অন্যান্য স্টেশনগুলোও চালু করা হবে। ২৬ মার্চ সব স্টেশনে যাত্রী উঠানামার জন্য খুলে দেওয়া হবে।

স্টেশন : মেট্রো স্টেশনগুলো হলো-উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর, মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, মতিঝিল এবং কমলাপুর।

সরকার ২০১২ সালে মেট্রোরেল প্রকল্প গ্রহণ করে। বাস্তবে কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। এ প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে রয়েছে-জাপান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (জাইকা)। শুরুতে প্রকল্পের আকার ছিল প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। সম্প্রসারণ, স্টেশন প্লাজা নির্মাণ, কিছু স্টেশনে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ, পরামর্শকের পেছনে ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়তি ভ্যাটের কারণে আরও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের লাইন-৬ এর খরচ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এরমধ্যে জাইকা দিচ্ছে ১৯ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। আর সরকার এই প্রকল্পে খরচ করছে ১৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

ভূয়া ওয়ারিশ আতঙ্কে জমির বর্তমান মালিকরা

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
ভূয়া ওয়ারিশ আতঙ্কে ভুগছেন ধৌড় মৌজায় জমির বর্তমান মালিকরা। জালিয়াত চক্রের কবলে পড়ে অনেকে জমি কিনেও সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ভূমিদস্যুরা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে ভূয়া ওয়ারিশমূলে মালিকানা বিহীনভাবে একাধিক দলিল রেজিস্ট্রি করায় জবরদখল আতঙ্কে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট জমির হালনাগাদ মালিকরা।
জানা গেছে, তুরাগ থানার ধউর এলাকার জৈনক ইউসুফ আলী মৃত্যুকালে স্ত্রী হাজেরা বিবি, তিন ছেলে যথা হানিফ আলী, আকবর আলী ও একাব্বর আলী ওরফে সবদর আলীকে ওয়ারিশ রেখে যান। পরবর্তীতে বিধবা হাজেরা বিবি একই এলাকার জৈনক ঠাকুর আলী ওরফে খাকুরি মোল্ল্যার কাছে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। হাজেরার এই সংসারেও দুই ছেলে আব্দুল হালিম ও আলা উদ্দিন আলালের জন্ম হয়। অপরদিকে ইতিমধ্যে হাজেরার আগের সংসারের দুই ছেলে হানিফ আলী ও আকবর আলীও মারা যান। এতে ওয়ারিশ হিসেবে স্বামী ও দুই ছেলের সম্পত্তিতে মালিকানা লাভ করেন হাজেরা। পরবর্তীতে হাজেরা তার এসব ওয়ারেশি সম্পত্তি পুরোটাই বিক্রি করে দেন।
স্থানীয়রা জানান, হাজেরা বিবির প্রথম সংসারের ছেলে আকবর আলীর জীবদ্দশায় ১৯৭৫ সালে স্ত্রী ফিরোজার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে ফিরোজা চুয়াডাঙ্গা জেলায় পিত্রালয়ে ফিরে যান। পরবর্তীতে ফিরোজা ১৯৭৯ সালে জৈনক আলী রেজার সাথে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এ সংসারে রাশিদা বেগম নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। এদিকে হাজেরা বিবির ২য় সংসারের ছেলে আলা উদ্দিন আলাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বৈপিত্রেয় ভাই মৃত আকবর আলীর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী ফিরোজাকে ওয়ারিশ সাজিয়ে একাধিক দলিল তৈরি করেন। পরবর্তীতে ভুয়া ওয়ারিশ ফিরোজার মালিকানাবিহীন দলিলমূলে জমি হস্তান্তর করতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হয়। অবশেষে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতে ফিরোজা মৃত আকবরের ভূয়া ওয়ারিশ অর্থাৎ জীবদ্দশায় আকবর আলীর সাথে তার বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রমাণ হয়।
কিন্তু ইতিমধ্যেই আকবর আলীর বৈপিত্রেয় ভাই আলা উদ্দিন আলালের খপ্পরে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। আদালতে ফিরোজা ভূয়া ওয়ারিশ প্রমাণ হওয়ার পর আলাউদ্দিন এখনো এই ভূয়া ওয়ারিশ সূত্রে জমি অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা করছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। বিশেষ করে ধউর মৌজার সিএস ১৯, ২৭৫, ২৭৮, এসএ ১৯, আরএস ৪৩নং খতিয়ানের সিএস ও এসএ ৫২৬, ৫২৭, ৫১৫, ৫৫৩, ৫১৪, আরএস ৩১৩, ৩১৪, ৩১৫ নং দাগের এবং নলভোগ মৌজার সিএস ৩৫, এসএ ১৯নং খতিয়ানের জমির বর্তমান মালিকরা আলোচিত ভূয়া ওয়ারিশ আতঙ্কে ভুগছেন। এলাকার একটি চিহ্নিত ভূমিদস্যুচক্র এ ভুয়া ওয়ারিশমূলে প্রকৃত মালিকদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছেন বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। ভূমি সংক্রান্ত জালজালিয়াতির ঘটনায় আলাল উদ্দিন আলাল ও তার ছেলে ওমর ফারুক হিমেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলাউদ্দিন আলাল।

 

 

কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক?

 রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। বিকালে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে (ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে) নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। সম্মেলনে কে পাচ্ছেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব? এই প্রশ্নটিই এখন সবার মুখে মুখে।

গত চার দশক ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এবারো সভাপতি পদে পরিবর্তন হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে মূল আলোচনা সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য পদগুলো নিয়ে।

সভাপতির পর সাধারণ সম্পাদকই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। টানা দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন ওবায়দুল কাদের। সম্মেলন সামনে রেখে তিনি গত দুই মাস জেলায় জেলায় দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তার অনুসারীদের ধারণা, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনিই থেকে যাচ্ছেন।

এদিকে ওবায়দুল কাদের যদি এবারো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান, তাহলে তার মন্ত্রিত্ব রাখা না রাখার বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নিতে হবে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আর নতুন কেউ এলে তা মন্ত্রিপরিষদের বাইরের কেউ হবেন।

কারণ আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলনে সরকার ও দলের নেতৃত্ব আলাদা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সম্মেলনের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যর্থতা ও সফলতা নিয়ে কথা বলেছেন ওবায়দুল কাদের। কাউন্সিলে দায়িত্ব বদলালেও দলের জন্যই কাজ করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলনের প্রস্তুতি জানাতে শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ওবায়দুল কাদের। এটি এই মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদকের শেষ সংবাদ সম্মেলন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। শনিবার দলের ২২তম জাতীয় সম্মেলনে নতুন কমিটি হলে সেখানে তিনি তৃতীয় দফায় একই পদে থাকছেন কিনা, সে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে।

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দায়িত্ব বদলালেও এই দলেই আছি, দলের জন্যই কাজ করব।

দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কতটুকু সফল হয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষাও নেব, যেখানে ভুল আছে, আমরা সম্মিলিতভাবে আগামীতে চেষ্টাও করব।  কে কোন দায়িত্বে সেটা ব্যাপার না, দায়িত্ব বদলালেও তো আমরা এই দলেই আছি।

ওবায়দুল কাদেরের বাইরে সাধারণ সম্পাদকের পদের দাবিদার হিসেবে আরও কয়েকজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কাজী জাফর উল্যাহ ও আবদুর রহমান।

অন্যদিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের প্রায় সবাই সাধারণ সম্পাদকের দাবিদার। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন মাহবুবউল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলের একটা অংশ চাইছে ওবায়দুল কাদেরই সাধারণ সম্পাদক পদে থাকুক। তিনি না হলে হাছান মাহমুদকে এই পদে দেখতে চায় তারা। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে গণমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতি এবং বিরোধী দলের সব আন্দোলনকেই নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারায় তিনি সাধারণ সম্পাদক পদের অন্যতম দাবিদার- এমনটা মনে করেন তার অনুসারীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় একাধিকবার বাহাউদ্দিন নাছিমের ওপর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছেন। দলের জন্য তার ত্যাগের কথা স্মরণ করেছেন। ফলে তাকেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিবেচনা করছেন কেউ কেউ।

 

ভারতে বাস খাদে পড়ে তিন অফিসারসহ ১৬ সেনার প্রাণহানি

ভারতের সিকিমে সেনাবাহিনীর একটি বাস খাদে পড়ে ৩ অফিসারসহ ১৬ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন।

শুক্রবার সকালে উত্তর সিকিমের লাচেনে বাসটি খাদে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দেশটির সেনাবাহিনীর বিবৃতির বরাতে দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি।

এতে বলা হয়, সকালে উত্তর সিকিমের লাচেন থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে জেমা এলাকায় তিনটি গাড়ির কনভয় নিয়ে থাঙ্গুর দিকে যাচ্ছিল সেনাবাহিনীর বাসটি। পাহাড়ি বাঁকে বাসটি ঘোরাতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গভীর খাদে পড়ে যায়।

তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং আহত ৪ সেনাকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ওই বাসে ২০ জন সেনা সদস্য ছিলেন।  নিহত সেনা সদস্যরা কোন রেজিমেন্টের, তা এখনো জানা যায়নি। নিহতদের মধ্যে তিনজন অফিসার পদমর্যাদার।

এ ঘটনায় ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক টুইটবার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, উত্তর সিকিমে দুর্ঘটনায় সেনা সদস্যদের নিহতের ঘটনাটি বেদনাদায়ক। জাতি তাদের সেবা ও প্রতিশ্রুতির জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা কার্ড দেখিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বীর মুক্তিযোদ্ধারা সপ্তাহে এক দিন তাদের কার্ড দেখিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সংবর্ধনার আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ে নোটিশ দিয়ে দেব। মুক্তিযোদ্ধারা এলে যেন সম্মানের সঙ্গে সচিবালয় প্রবেশ করতে পারেন। সপ্তাহে প্রতিদিন যাওয়ার দরকার নেই। এক দিন যাবেন মুক্তিযোদ্ধারা।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে সম্মান করেন, বঙ্গবন্ধুর পরে আর কেউ (এ রকম সম্মান) দেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নানা সুবিধা দিয়েছেন, হাসপাতাল করা হয়েছে, সেখানে ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন।’

মীরজাফরের বংশধর এখনো বেঁচে রয়েছে, এবং তারা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সহ্য করতে পারেন না বলে উল্লেখ করেন আসাদুজ্জান খান। তিনি বলেন, ‘তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সহ্য করতে পারে না। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব ও দেশ স্বাধীন করার অবদান স্বীকার করে না। সে জন্য তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানিত হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।’

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের নানা স্মৃতিচারণ করে এ বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জনগণকে সম্পৃক্ত করেই স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, যার কারণে সবাই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমরা ঢাকার কাছে চলে আসছিলাম। ঢাকা দখল করে ফেলার মতো অবস্থায় চলে আসছিলাম। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমি গিয়েছি। কিছুদিন আগেই বর্ডার এলাকায় গিয়েছিলাম। অনেক মুক্তিযোদ্ধার কবর বর্ডার এলাকায় রয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধারা যত দিন বেঁচে আছি, সবাই একসঙ্গে থাকব, একসঙ্গে চলব। আমরা সব সময় বাংলাদেশের বিজয়ের কথা বলব। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছি, তখন আমাদের কাছে হাতিয়ার ছিল না। একটি জিনিস ছিল, একটি স্লোগান ছিল—‘‘জয় বাংলা’’। আমাদের একটি দাবি ছিল, ‘‘জয় বাংলা’’কে জাতীয় স্লোগানে পরিণত করা হোক। আজকে সেটা জাতীয় স্লোগানের পরিণত হয়েছে। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা তার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে সবকিছুতেই ঋণী।’

ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীর বিক্রমসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

হাসপাতালে জায়গা নেই শ্মশানে মৃতদেহের স্তূপ!

চীনে আবারও হু হু করে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

করোনা রোগীর চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোর ওপর যেমন চাপ পড়েছে তেমনিই মৃতদেহ সৎকার করতে গিয়ে শ্মশানগুলোতে টালমাটাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বেইজিং, চংকিং ও গুয়াংঝৌ শহরের শ্মশানগুলোয় মঙ্গলবার সারি সারি মৃতদেহ দেখা গেছে। শ্মশানগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ সময়ের চেয়ে তারা এখন অনেক বেশি ব্যস্ত সময় পার করছে। চীনে এখন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটিই ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্স ও হিন্দুস্তান টাইমসের।

২০১৯ সালের শেষ দিকে করোনাভাইরাস মহামারি পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৬৬ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। চীনে মৃত্যু বা সংক্রমণের সংখ্যা একেবারেই কম ছিল।

মহামারি করোনা ঠেকাতে ৩ বছর ধরে চীন নজিরবিহীনভাবে লকডাউন, কোয়ারেন্টিন ও গণপরীক্ষা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে চীনের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হলে কর্তৃপক্ষ এসব বিধিনিষেধের অনেকটাই তুলে নেয়।

সিদ্ধান্তটি যে যথাযথ ছিল না-তা কয়েকদিনের মধ্যেই টের পাওয়া গেছে। সেখানে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কয়েকদিনে চীনের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালগুলো করোনা রোগীতে ভরে গেছে। পাশাপাশি সৎকারকেন্দ্রে লাশের স্তূপ জমেছে।

চীনের মহামারি বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ এরিক ফেইগল-ডিং জানান, চীনের হাসপাতালগুলো এখন কোভিড রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে চীনের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষের কোভিড সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। স্পষ্ট কোনো সংখ্যা জানা না গেলেও বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে বলা হচ্ছে, চীন কোভিডে মৃতদের জায়গা সংকুলান করতে পারছে না। হঠাৎ করেই এত মৃত্যুর স্রোত মোকাবিলা করতে খেই হারিয়ে ফেলছে বিভিন্ন প্রদেশের কর্তৃপক্ষ। তিন কোটি মানুষের শহর চংকিং কর্তৃপক্ষ স্বীকার করছে, এত মৃতদেহ রাখার জায়গা তাদের নেই। এছাড়া তারা ওষুধ সংকটেও পড়েছে।

মঙ্গলবার চীন জানিয়েছে, তারা কোভিড-১৯ মৃত্যুর ক্ষেত্রে সংজ্ঞা নতুন করে সাজিয়েছে। এর ফলে কোভিডে মৃত্যু হিসাবে শুধু তাদেরই ধরা হবে যারা কোভিড পজিটিভ ছিলেন এবং শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন।

কোভিডে অসুস্থ হয়ে হার্ট অ্যাটাক বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত অবস্থায় মারা গেলে সেটিকে কোভিডে মৃত্যু বলে গণ্য করা হবে না। চীনে কোভিড সংক্রমণ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে মৃত্যুর হারও দ্রুতগতিতে বাড়ছে। তবে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই কোভিডে মৃত্যুর সংজ্ঞা পরিবর্তন করেছে চীন। কারণ চীনের বিভিন্ন অংশে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে অনেকে মারা যাচ্ছেন। কিন্তু ক্যাটাগরির ভিন্নতায় ফেলে চীন এ সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে।

চীনের হাসপাতাল ও সৎকার কেন্দ্রগুলো উপচে পড়া ভিড় থাকলেও সরকার এ মাসে কোভিডে মাত্র ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। অথচ চংকিংয়ের একটি সৎকারকেন্দ্রের কর্মীর দাবি-মৃতদেহ রাখার জায়গা ফুরিয়ে গেছে। আগের তুলনায় অনেক বেশি মৃতদেহ আসছে। কিন্তু সেগুলো রাখার জন্য আমাদের কাছে কোনো হিমাগার নেই।

অন্যদিকে গুয়াংজু প্রদেশের দক্ষিণ মেগাপোলিসে, জেংচেং জেলার সৎকারকেন্দ্রের এক কর্মচারী জানান, তারা প্রতিদিন ৩০টিরও বেশি মৃতদেহ দাহ করছেন। শহরের আরেকটি সৎকারকেন্দ্র থেকেও একই বার্তা দিয়ে বলা হয়, সৎকারকাজে তারা অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০টির বেশি মৃতদেহ সৎকার করতে হচ্ছে। তারা দাবি করেন, পুরো গুয়াংজুর চিত্র একই রকম। গুয়াংজুর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর শেনিয়াংয়ের একটি বেসরকারি সৎকারকেন্দ্রের এক কর্মী জানান, তাদের কাছে বেশি বেশি মৃতদেহ আসায় সেগুলো ৫ দিনের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকছে।