তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ১৩ জুন বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়। মিটিংয়ের এজেন্ডা ছিল (১) পূর্বের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন (২) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অনুমোদন (৩) লতিফুর রহমান কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে অনুমোদন। এ মিটিংয়ে হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয়। হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন। বোর্ড মিটিংয়ে তৃতীয় এজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে তাঁর বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি এবং ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে ৪ হাজার ৭২০টি করে শেয়ার হস্তান্তর করা হয়। এ মিটিংয়ের বিষয়ে বাদী দাবি করেন, এ ধরনের বোর্ড মিটিং ২০২০ সালের ১৩ জুন অনুষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকালে কোম্পানির বর্তমান পরিচালককে ২০২০ সালের ১৩ জুনের বোর্ড মিটিং ও রেজল্যুশনের কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হলে আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তদন্তে বোর্ড মিটিংয়ের আগে কোনো ইমেল অথবা ডাকযোগে কোনো নোটিস বা চিঠির কপি পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া RJSC-তে জমাকৃত শেয়ার হস্তান্তরে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন সিমিন রহমান। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র RJSC-তে জমা দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট শেয়ার হস্তান্তর হলেও RJSC-এর নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের ফি পরিশোধ না করে বিলম্বে ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পরিশোধ করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তর জমা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কোনো পক্ষই RJSC-তে উপস্থিত ছিলেন না। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলাকালে শেয়ার গ্রহীতা, অর্থাৎ আসামিদের পক্ষে শুধু অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষকে সশরীরে উপস্থিত থেকে RJSC-এর প্রতিনিধির সামনে উভয় পক্ষকে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় উক্ত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি; যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন।
এ ছাড়া ২০২০ সালে ভাইবোনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে বেশির ভাগ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার জন্য সিমিন গ্রুপ অব কোম্পানির নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট তৈরি করেন।
এজন্য সিমিন রহমান দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা, ভাই ও অন্যদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকমের বেশির ভাগ শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করেন এবং এগুলো যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) দাখিল করেন। শাযরেহ হকের নামে আরজেএসসিতে সিমিনের দায়ের করা এফিডেভিটের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত বলে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চার্জশিটে আরও বলা হয়, জাল সন্দেহ হওয়ায় দুটি স্ট্যাম্পের সত্যতা নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন চান আদালত। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ভেন্ডর থেকে এ স্ট্যাম্প দুটি সরবরাহের তথ্য রয়েছে, ওই ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়। তিনি ২০২৩ সালের স্ট্যাম্পকে অসদুপায়ে সংগ্রহ করে আসামিপক্ষকে ২০২০ সালের ৩ মার্চ নিজ স্বাক্ষরে সরবরাহ করেন।
এর আগে ভাইবোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লতিফুর রহমানের অন্য মেয়ে শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জালজালিয়াতির অভিযোগ করা হয়।






