চলমান পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সংকট নিরসনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তা স্থগিত করা হলো।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফ মাহমুদ অপু বৈঠক স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আবার এই সভা কখন হবে বা আদৌ হবে কি-না সে ব্যাপারে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে ডাকা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্ব করার কথা ছিল।
বলা হয়েছিল, সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ছাড়াও সংশ্লিষ্ট অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেবেন। এই সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছিলেন এক কর্মকর্তা।
ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করার পর গত শুক্রবার থেকে অঘোষিত ধর্মঘটে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
আজ দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ট্রাক শ্রমিক-মালিক ফেডারেশন জানিয়েছে, ডিজেলের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার অথবা পরিবহনের ভাড়া না বাড়ানো পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
ফেডারেশনের অতিরিক্ত মহাসচিব আবদুল মোতালেব সাংবাদিকদের বলেছেন, দাবি মানা হলেই কেবল ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে। হয় বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে, নয়তো ভাড়া বাড়াতে হবে। দুটির একটি না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাক শ্রমিক-মালিক ফেডারেশনের নেতারা।
এদিকে পরিবহন মালিকদের দাবিতে ভাড়া বাড়ালেও তা যেন জনগণের জন্য সহনীয় হয়, সরকার সেদিকে দৃষ্টি রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিজনিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি পাচার রোধে সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে। তবে এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকার সবসময়ই জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
You must be logged in to post a comment.