নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, পরিকল্পিত ভোটার মাইগ্রেশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুল করার ছক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি জড়িত। তবে এসব অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশনের অবস্থানে সন্তুষ্ট নয় বিএনপি।
রোববার নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খাঁন বলেন,
“আমরা যে তথ্য-প্রমাণ দিয়েছি, তাতে স্পষ্ট—ঢাকাসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে ব্যাপক ভোটার মাইগ্রেশন ঘটানো হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের জবাব হতাশাজনক।”
এ সময় রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম খাঁনের অভিযোগ, একটি হোল্ডিং নম্বরে ২০ থেকে ৩০ জন পর্যন্ত ভোটার দেখানো হয়েছে। কোথাও কোথাও ভোটার মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে হোল্ডিং নম্বরই নেই। তাদের দাবি, এই অনিয়ম চলতে থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিএনপি আরও অভিযোগ করে, জামায়াতের পক্ষ থেকে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের শামিল। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপি নেতারা।
এছাড়া সারাদেশে জামায়াত নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে প্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। অথচ এসব গুরুতর অভিযোগের পরও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি নেতারা।
নজরুল ইসলাম খাঁন বলেন,
“শুধু কাগজে-কলমে নয়, মাঠ পর্যায়েও নির্বাচন কমিশনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। এতে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—এই নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু হবে কি না।”
হঠাৎ করে নির্বাচনের একেবারে শেষ পর্যায়ে এমন জোরালো অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি কি এবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বড় কোনো কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছে? যার প্রভাব পড়তে পারে ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচির ওপরও।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন, জামায়াত এবং বিএনপিকে কেন্দ্র করে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।