চীনের কাছ থেকে জে-১০ সি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের চালান পেল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩৮০ ooo
Update : মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫

চীনের কাছ থেকে জে-১০ সি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের চালান পেল ইরান।ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে নাটকীয় পরিবর্তন আনার আভাস দিল এক নতুন খবর। ব্রিকস নিউজ-এর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দাবি করেছে, চীনের জে-১০ সি যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড এএইসিএসএ রাডার এবং পিএল-১৫ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জে-১০ সি যুদ্ধবিমান ইসরাইলের এফ-৩৫ স্টিলথ জঙ্গি বিমানগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ব্রিকস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে শক্তির ভারসাম্য ইরানের পক্ষে চলে যেতে পারে। অবশ্য প্রথম চালানে কয়টা বিমান ইরানকে দেওয়া হয়েছে তার উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি কয়টি চালান দেওয়া হবে তাও জানান হয়নি।

এর আগে ইরানের জনপ্রিয় দৈনিক হামশাহরি অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ইরান চীনের কাছ থেকে মোট ৪০টি জে-১০ সি যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে। প্রতিটি জে-১০ সি-এর দাম প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার হওয়ায় পুরো ৪০টি বিমানের সম্ভাব্য মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার। তবে কেবল বিমান কেনার খরচই শেষ কথা নয়—দীর্ঘমেয়াদে এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিমানের মূল দামের প্রায় তিনগুণ হতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

হামশাহরি অনলাইনের আরেক প্রতিবেদনে এই জে-১০ সি যুদ্ধবিমানের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, জে-১০ চীনের তৈরি অন্যতম অত্যাধুনিক কৌশলগত যুদ্ধবিমান। এই বিমানকে চীনের সামরিক স্বনির্ভরতার প্রতীক এবং ২১ শতকের অ্যারোস্পেস প্রযুক্তির অগ্রগতির দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা হয়। চেংদু এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং কর্পোরেশন বা সিএসি এই বিমানটির নকশা তৈরি করেছে এবং তৈরিও করেছে। ন্যাটো চীনের এ বিমানকে “ফায়ার বার্ড” নামে ডাকলেও চীনে একে “মাইটি ড্রাগন” বলা হয়।

রাশিয়ার কিছু প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ফাইটারটির নকশায় এফ-১৬-এর মতো কিছু দিকও রয়েছে। প্রায় দুই দশক গবেষণা ও উন্নয়নের পর ২০০৫ সালে জে-১০ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনা বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়। আজও এটি চীনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সব মিলিয়ে, চীনা জে-১০ সি যুদ্ধবিমান ইরানের হাতে পৌঁছানো শুধু তেহরানের সামরিক ক্ষমতা নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শক্তির ভারসাম্যকেই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

চীনের কাছ থেকে ভূমি-থেকে-আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র–ব্যবস্থা হাতে পেয়েছে ইরান। ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুনরায় শক্তিশালী করতে তেহরান নিজেদের অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

একজন আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, গত ২৪ জুন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর চীনের তৈরি ওই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তেহরানে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক আরব কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা জানত যে তেহরান তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউসকেও ইরানের অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধবিরতির পর চীনের কাছ থেকে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র বা এসএএম পেয়েছে, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কিছু বলেননি। তবে একজন আরব কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান তেলের বিনিময়ে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কিনেছে।

ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থার (ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট চীনে রপ্তানি হয়। কনডেনসেট হলো প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সময় সংগৃহীত হালকা তরল জ্বালানি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত কয়েক বছর ধরে চীন ইরানের কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে আসছে। আমদানি করা তেলের উৎস গোপন রাখতে চীন মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোকে ট্রানশিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।

এই চালানগুলো বেইজিং ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতার ইঙ্গিত দেয়। ইরানে এমন এক সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ওই চালান এসেছে যখন পশ্চিমাদের ধারণা, ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার সময় চীন ও রাশিয়া ইরান থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছে।

১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধকালীন ইরান চীন থেকে উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে এইচওয়াই-২ সিল্কওয়ার্ম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছিল।

১২ দিনের ওই সংঘাতে ইসরায়েল ইরানের আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। ইসরায়েল সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়ে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনাগুলো নিশানা করতে এবং কয়েকজন শীর্ষ ইরানি জেনারেল ও পরমাণুবিজ্ঞানীকে হত্যা করতে সক্ষম হয়।

ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিব ও হাইফা শহরের বেশ কিছু সংবেদনশীল স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে বিবদমান দুদেশ একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। গত ২৪ জুন থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতির আগে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধকালীন ইরান চীন থেকে উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে এইচওয়াই-২ সিল্কওয়ার্ম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছিল। এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান কুয়েতের ওপর হামলা করে এবং তথাকথিত ‘ট্যাংকার যুদ্ধের’ সময় একটি মার্কিন পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

২০১০ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরান চীনের কাছ থেকে এইচকিউ৯ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category