ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে ইরানের সেনাপ্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২৬ ooo
Update : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থন জানানোর পর দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আমির হাতামি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাইরের শক্তির হুমকি নীরবে সহ্য করবে না তেহরান। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, ‌‌‘‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, এই ধরনের বক্তব্য সহ্য করা হবে না এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’’

ইরানের সেনাবাহিনীর এই প্রধান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘শত্রুপক্ষ যদি ভুল করে, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময়কার চেয়েও কঠোর হবে।’’

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করায় গত কয়েক দিনে একাধিকবার দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে তিনি ইরানে হস্তক্ষেপ করতে পারেন বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মিলিয়ে একইভাবে ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে ব্যবসায়ীরা আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি আর রিয়ালের দরপতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই দেশটির অন্যান্য কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

তবে দেশটিতে সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ ২০২২-২০২৩ সালের আন্দোলনের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। এমনকি বিতর্কিত নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের ব্যাপক বিক্ষোভের পর্যায়েও পৌঁছায়নি।

তবে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেকের নজর কেড়েছে; যার মধ্যে ইরানের আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর নেতারাও রয়েছেন। তারা এই সংকটে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘আমরা ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। অতীতে যেমন তারা মানুষ হত্যা করেছে, যদি আবার তা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খুব কঠোর আঘাত আসবে বলে আমি মনে করি।’’

এদিকে, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘‘ইরানি জনগণের লড়াই এবং স্বাধীনতা, মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতি আমরা সংহতি প্রকাশ করছি। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে সহিংসতায় উসকানি এবং ইরানের জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগ করেছে।

গত জুনে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রও স্বল্প সময়ের জন্য ওই হামলায় অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।

সূত্র: এএফপি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category