রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা পরীমনির তিন দফায় জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে বিভিন্নমহলে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। কেন এবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো তার উত্তরে সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত এবং পূর্ণাঙ্গ পুলিশি প্রতিবেদন দাখিলের স্বার্থেই পরীমনিকে তিন দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের সময় এ কথা বলেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রথমত অভিযুক্ত পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা ও তার বক্তব্য শোনা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে অভিযুক্ত কী বলে সেটা আগে জানতে চেয়েছে সিআইডি।’
সিআইডি প্রধান বলেন, ‘তার কাছে মাদক কীভাবে এলো, কারা দিলো, কী উপায়ে এলো। এসব তথ্য জানার পর আমরা কিন্তু আর পরীমনিকে রিমান্ডে চাইনি। কিন্তু তদন্ত ও যাচাই করতে গিয়ে দেখি পরীমনির দেওয়া সেসব তথ্যের অনেক কিছুই মিথ্যে বা ভুল। তখন আমরা আদালতে আবারো রিমান্ড চেয়ে অনুরোধ করি। আদালত একদিনের রিমান্ড দেন।’
ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা কখনো দরকার না হলে কোনো আসামিকে রিমান্ডে চাই না। আমরা ওই এক দিনের মধ্যে পরীমণির দেওয়া তথ্য যাচাই করি। পুলিশ রিপোর্টের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করার জন্য তিন দফায় পরীমণিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ. বি. এম. ইকবালের সঙ্গে পরীমনির ছবি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে। এই বিষয়ে সিআইডি তদন্ত করছে কি না, এইচ. বি. এম. ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন কি না? জানতে চাইলে সিআইডি প্রধান বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে যাকে প্রয়োজন তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। এখন পর্যন্ত পরীমনির মাদক মামলায় যাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল তাদের ডেকেছি, জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আপাতত পরীমনিসহ ১৫ মামলায় আর কাউকে ডাকা আর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। পরে যদি বিষয়টি অন্য কোনোদিকে টার্ন নেয় বা মানি লন্ডারিং মামলার কোনো বিষয় আসে তা ভিন্নভাবে দেখা হবে। প্রয়োজনে ডাকা হবে। তবে আপাতত কাউকে ডাকা বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না।
You must be logged in to post a comment.