পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৫০০ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কমপক্ষে সাড়ে তিন কোটি মানুষ। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু।
পাকিস্তানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দেশজুড়ে স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের শঙ্কার সতর্কতা জারি করেছেন। দেশটির বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তানব্যাপী ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং গুরুতর গ্যাস্ট্রিক সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবের কথা উল্লেখ করেছে।
দেশটিতে বন্যায় ঘরছাড়া বহু মানুষ এখনো জলবদ্ধতার কাছে বসবাস করছে। এতে ডেঙ্গুতে দৈনিক মৃতের সংখ্যার সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে।
সিন্ধু প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা প্রদেশটিতে অন্তত তিন হাজার ৮৩০ জন ডেঙ্গু রোগীর তথ্য রিপোর্ট করেছে। এছাড়া অঞ্চলটিতে মারা গেছে অন্তত ৯ জন। প্রকৃত সংখ্যা এর থেকে বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাকিস্তান মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল গফুর শরো বিবিসিকে বলেন, সর্বোপরি সিন্ধুর অবস্থা অনেক খারাপ। আমরা এই প্রদেশজুড়ে মেডিক্যাল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করছি। এতে বেশিরভাগই ডেঙ্গু রোগী দেখতে পাচ্ছি। সামনের দিনগুলোতে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। এখনো পাকিস্তানের হাজার হাজার গ্রাম পানির নিচে, এতে ঘরছাড়া রয়েছে অগণিত পরিবার।
মুনা নামে এক নারী তার এক বছরের সন্তান সখিনাকে সিন্ধু প্রদেশের সেহওয়ানে এক মোবাইল ক্লিনিকে নিয়ে এসেছেন। তিনি আশা করছেন, এবার বোধহয় তার সন্তান একটু হলেও চিকিৎসা পাবে।
গ্যাস্ট্রিকের সংক্রমণ নিয়ে সখিনা কয়েকদিন থেকে অসুস্থ ছিল। তার মা সখিনার বুক ভালভাবে চেপে ধরে আছে যাতে সখিনা ভালো অনুভব করে এবং কান্না থামায়।
মুনা বলেন, আমার দুই সন্তানই ভালো নেই, তাদের চিকিৎসা করার মত টাকা আমার কাছে নেই। বন্যায় আমি সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। এরকম দেশটিতে আরও বহু পরিবার এমন পরিস্থিতির শিকার বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয় গুতেরেস গত সপ্তাতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে পাকিস্তান সফরে যান। সেই সময় তিনি বন্যায় সবকিছু হারিয়ে ফেলা পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেইসময় গুতেরেস দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
You must be logged in to post a comment.