অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় এখনো চলছে ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলা। পাশাপাশি চলছে স্থল অভিযানও। এরই মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৩ হাজার ৩ শতাধিক মানুষ। এই অবস্থায় হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সন্নিকটে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার পৃথক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আজ মঙ্গলবার। পরে তিনি তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, ‘আমরা একটি যুদ্ধবিরতির খুব সন্নিকটে।’ রয়টার্সের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতেও তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যে আলোচনা চলছিল তাতে হামাস সায় দিয়েছে।
ইসমাইল হানিয়ার ওই বিবৃতিতে আর বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে হামাসের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, মূলত এই যুদ্ধবিরতি কত দিন স্থায়ী হবে, ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে গাজায় কী পরিমাণ এবং কীভাবে সহায়তা পাঠানো হবে একই সঙ্গে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্ত করার বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।
হামাস কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রাশিক বলেছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষই মূলত নারী ও শিশুদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করবে কাতার। উল্লেখ্য, হামাস গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্ত পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে দেশটির ২৪০ জন নাগরিককে জিম্মি করে আনে।
আল-রাশিক জানিয়েছেন, জিম্মি মুক্তির বাইরেও যুদ্ধবিরতির সময়সীমা, গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দেওয়া, আহত গাজাবাসীকে চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই আলোচনা বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এখনো অনেকটাই অনড়।
আল-রাশিক জানান, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে গাজা এবং ফিলিস্তিনের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। কারণ, ফিলিস্তিনের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীই এই যুদ্ধবিরতির শর্তের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
You must be logged in to post a comment.