হামলার শিকার মমতাজের স্বামী

Reporter Name / ২০৩ ooo
Update : সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০২২

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ মমতাজ বেগমের স্বামী ডা. এ এস এম মঈন হাসানের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে মমতাজের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটলকেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করছেন অনেকে।

ডা. মঈন গত শুক্রবার বিকেলে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিংগাইরের ধল্লা এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি।

ডা. মঈন হাসান একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। তিনি মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের তৃতীয় স্বামী।

অভিযুক্ত হামলাকারীরা হলেন সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আব্দুল জজ মিয়ার ছেলে নয়ন মিয়া, শুকুর আলীর ছেলে রুবেল মিয়া, ফিরোজ মুন্সির ছেলে আশরাফ আলী, আব্বাস উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন, হয়রত আলীর ছেলে মোসলেম উদ্দিন ও আনোয়ার আলীর ছেলে পাঙ্গা জসিমসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।

সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগপত্রে জানা যায়, সিংগাইরের বিনাডিঙ্গী রোকেয়া চক্ষু সেন্টারে কাজ শেষে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার পথে উপজেলার ধল্লা এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা মঈনের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে ছয়-আটজন ব্যক্তি লাঠিসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তার ওপর হামলা চালায়।

হামলায় হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান ডা. মঈন। এ সময় তার আত্মচিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মঈন হাসানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মঈন হাসানের স্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ মমতাজ বেগমকে ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে মানিকগঞ্জে মমতাজ চক্ষু হাসপাতাল এবং জয়মণ্ডপ মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের দেখাশোনার পাশাপাশি চিকিৎসাও দিয়ে আসছিলেন মঈন হাসান। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে তার সঙ্গে মমতাজের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

দূরত্বের কারণেই সিংগাইরের বিনাডিঙ্গী এলাকায় রোকেয়া চক্ষু সেন্টার নামে আলাদা চেম্বার করেন ডা. মঈন। অধিকাংশ সময় সেখানেই চিকিৎসা দিতেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে পারিবারিক ঝামেলার কারণেই ডা. মঈন হাসানের ওপর হামলা হতে পারে বলে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মমতাজের ভাগনে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান বলেন, ‘আমার জানামতে, তাদের স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে কোনো ঝামেলা নাই। তবে কিছু মানুষ আছে, যারা এসব বাজে কথা বলে বেড়ায়। ডা. মঈন হাসানের ওপর হামলার পর তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে পুলিশকে। আমাদের দলের পক্ষ থেকেও তদন্ত করছি।’

ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা  জানান, ‘ঘটনার চার দিন পর সাংসদ মমতাজ বেগমের স্বামী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

হামলার পর ডা. মঈন হাসান ঢাকায় অবস্থান করছেন বলেও জানান ওসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category