হামাসের নতুন প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১২৫ ooo
Update : বুধবার, ৭ আগস্ট, ২০২৪

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক শাখার নতুন প্রধান নিযুক্ত হয়েছেন ইয়াহিয়া সিনওয়ার। গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনটি এক বিবৃতিতে এ সিনওয়ারের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

হামাসের রাজনৈতিক শাখা তথা পলিটব্যুরোর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ইয়াহিয়া সিনওয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় হামাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তিনি গাজায় হামাসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, ‘ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস কমান্ডার ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে রাজনৈতিক শাখার প্রধান নিযুক্ত করেছে। তিনি শহীদ কমান্ডার ইসমাইল হানিয়ার স্থলাভিষিক্ত হবেন। আল্লাহ তাঁকে (হানিয়াকে) ক্ষমা করুক।’

হামাসের প্রয়াত প্রধান ইসমাইল হানিয়া গত ৩১ জুলাই ভোররাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে এক গুপ্তহত্যায় নিহত হন। ধারণা করা হয়, ইসরায়েল তাঁকে হত্যা করেছে। কিন্তু ইসরায়েল এ বিষয়ে এখনো কিছু বলেনি। হানিয়া তেহরানে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন।

হামাসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সিনওয়ার আগের দায়িত্বও পালন করবেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তাঁকে আ প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, তিনি গাজায়ই রয়েছেন। মাঝে একবার ইসরায়েলি বাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছিল, সিনওয়ার গাজায় হামাসের টানেলের ভেতরে আছেন।

৬১ বছর বয়সী সিনওয়ারকে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে ধরা হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয় ও আহত হয় আরও কয়েক হাজার। এ ছাড়া প্রায় আড়াই শ লোককে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।

হামাসের সেই হামলার জবাবে ওই দিন থেকেই গাজায় তাণ্ডব শুরু করে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই শিশু ও নারী। হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ।

বছরের পর বছর ইসরায়েলি অবরোধের শিকার গাজার মোট জনসংখ্যা ২৪ লাখের কাছাকাছি। চলমান গাজা যুদ্ধে তাঁদের প্রায় সবাই এক বা একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। উপত্যকাটিতে এখন নজিরবিহীন মানবিক সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

More News Of This Category