ত্রিভুজ প্রেমের নির্মম পরিণতি, টঙ্গীতে সোহেল রানা ও তার ছোট ছেলে সাকিব হত্যাকান্ড

Reporter Name / ৯৩ ooo
Update : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন উত্তর বনমালা এলাকায় সোহেল রানা ও তার ছোট ছেলে সাকিব হত্যাকান্ডের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। সিসিটিভি ফুটেজ, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং পুলিশের বক্তব্য মিলিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা এক ভয়াবহ ত্রিভুজ প্রেম, পারিবারিক দ্বন্ধ এবং ঠান্ড মাথার পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের ঘটনা।
তদন্তে জানা গেছে, খালাত বোনের সঙ্গে বড় ছেলে সোহানের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু সেই মেয়ের সঙ্গে গোপনে সম্পর্ক গড়ে তোলে ছোট ভাই সাকিব। বিষয়টি জানার পর থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্ধ। সোহান বারবার সতর্ক করলেও সম্পর্ক থামেনি। ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক পরিণত হয় মানসিক চাপ, অপমানবোধ এবং জমে থাকা ক্ষোভে। শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষোভই রূপ নেয় রক্তাক্ত প্রতিশোধে।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বড় ভাই সোহান গভীর রাতে প্রথমে ধারাল অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাইয়ের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়, যাতে সে পালাতে না পারে। এরপর একাধিক আঘাতে নিশ্চিত করে তার মৃত্যু। ঘরের ভেতরেই নিভে যায় একটি তরুণ প্রাণ। হত্যাকান্ডের কিছুক্ষণ পরই বাবা সোহেল রানা (৫০) ঘটনাটি দেখে ফেলেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সোহান আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং দ্রুত একজন সহযোগীকে ডেকে আনে। এরপর তারা দুজন মিলে বাবাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে সেই ভয়াবহ দৃশ্য রাতের অন্ধকারে দুইজন ব্যক্তি একজন দুর্বল মানুষকে ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, সেই ব্যক্তি ছিলেন সোহেলের বাবা। ফুটেজে আরও দেখা যায়, রেললাইনের ওপর তাকে ফেলে রেখে দ্রুত সরে যায় তারা। কিছু সময় পর ট্রেনের নিচে পড়ে মৃত্যু হয় তার। এটি দুর্ঘটনা না পরিকল্পিত হত্যাকান্ড নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে, তবে প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকান্ডের অংশ বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ঘটনার পরপরই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে বাবা নাকি ছোট ছেলেকে হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু এই গল্প বেশিক্ষণ টেকেনি। কারণ, সিসিটিভি ফুটেজই ভেঙে দেয় সব মিথ্যা। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায় বাবাকে জীবিত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, সোহানের উপস্থিতি এবং তার সন্দেহজনক গতিবিধি। এই প্রযুক্তিগত প্রমাণই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সামনে আসে প্রকৃত সত্য।এদিকে, ঘটনার পর সোহানের আচরণ ছিল আরও রহস্যজনক। সে পালিয়ে যায়নি, বরং স্বজনদের ফোন করে হত্যার খবর জানাতে থাকে। কিন্তু তার ফোনকলের সময়, বক্তব্য এবং বাস্তব ঘটনার মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
তদন্তকারীদের মতে, এটি ছিল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা, যাতে সন্দেহ অন্যদিকে ঘুরে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রমাণের কাছে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়ে বড় ভাই একাই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category