শেষ সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ মারা গেছেন

শেষ সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি স্নায়ুযুদ্ধের শান্তিপূর্ণ অবসান ঘটিয়েছিলেন।

১৯৮৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন গর্বাচেভ। তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করেছিলেন এবং সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেঙে যাওয়াকে রোধ করতে পারেননি, যেখান থেকে আধুনিক রাশিয়ার উদ্ভব ঘটেছিল।

গর্বাচেভের প্রতি বিশ্বব্যাপী শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তিনি ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন গর্বাচেভ। তিনি মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, জুনে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। যদিও তার মৃত্যুর কারণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। গর্বাচেভের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন গর্বাচেভকে একজন বিশ্বস্ত ও সম্মানিত নেতা হিসেবে প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি মুক্ত ইউরোপের পথ খুলে দিয়েছেন। তার অবদান আমরা কখনো ভুলব না।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন গর্বাচেভের সাহস ও সততার প্রশংসা করে বলেন, ইউক্রেনে পুতিনের আগ্রাসনের সময়েও সোভিয়েত সমাজকে উন্মুক্ত করার জন্য গর্বাচেভের অক্লান্ত প্রতিশ্রুতি আমাদের সবার কাছে একটি উদাহরণ হয়ে আছে।

সব হারানোর শঙ্কায় হাজারো মানুষ

তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে উত্তরে সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের তিস্তা-দুধকুমার-ব্রহ্মপুত্র পাড়ের শত শত পরিবার। গত ৩-৪ দিনে তিস্তা নদীর ভাঙনের তোড়ে জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের তিন গ্রামের মানুষ হারিয়েছে প্রায় আড়াই শতাধিক বাড়িঘর।

ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, দুটি মসজিদ, একটি মন্দির, ঈদগাহ মাঠ, বজরা পশ্চিমপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, পুরাতন বজরা বাজার ও একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙন কবলিতরা আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশে। উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ভাঙন কবলিতদের পাশে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের রলাকাটা ও গোয়ালপুড়ি গ্রামে গত এক মাসে ২০টি বাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়েছে। তাছাড়াও ঘোগাদহ ইউনিয়নের প্রথমআলোর চর ও রসুলপুর গ্রামেও গত একমাসে ৩০টি পরিবার ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে।

গত এক মাস যাবৎ ভাঙন শুরু হয়েছিল উলিপুরের বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম কালপানি বজরা, কালপানি বজরা ও সাতালস্কর গ্রামে। উত্তরে জজমিয়ার বাড়ি থেকে দক্ষিণে রোস্তম মৌলভীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাব্যাপী ভাঙন শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে গত তিনদিনে হঠাৎ করে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রায় আড়াই শতাধিক বাড়িঘর, শত শত বিঘা ফসলী জমি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ মাঠসহ মানুষের শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের তীব্রতা এমনি ভয়াবহ ছিল যে একরাতের মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক ও ৩০/৪০টি বাড়ি মুহুর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কোনো রকমে প্রাণ বাঁচিয়েছেন অনেকেই। ভাঙন কবলিত এলাকায় দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বজরা পশ্চিম পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মৌলভী রেফাকাত হোসেন জানান, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে এখানে সুন্দরভাবে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলাম। গত পরশুদিন থেকে হঠাৎ করে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে মাদ্রাসার অর্ধেক চলে গেছে। বাকিটা ভেঙে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’

কালপানি বজরার এলাকার মোজাম্মেল হক (৬৫) জানান, ‘তিনদিন থাকি এটে (খোলা মাঠে) পরি আছি। গরীব মানুষ জায়গা নাই কোটে যাই। আজকে বজরা বাজারের বাসিন্দা দুর সম্পর্কের জেঠতো ভাই টিটু মিয়া তার খুলিত (আঙিনায়) ঘর তোলার অনুমতি দিছে। দেখি ওটে যায়া আপাতত উঠি, তারপর আল্লাহ দেখপে।’

এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠেছে, সরকারিভাবে সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি কেউ। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা শুধু দেখে গেছেন। তাদের নাকি কিছুই করার নেই।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, গত এক মাসে ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। তাদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে।

ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার বলেন, তার ইউনিয়নে গত এক মাসে ৩০টির মত পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। তাদের তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল কুমার জানান, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ভাঙন কবলিতদের তালিকা দ্রুততম সময়ে করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই সহযোগিতা শুরু করা হবে। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে ভাঙনের বিষয়গুলো আপডেট করেছি। একইসঙ্গে, বাজেট না থাকায় তারা মুভমেন্ট করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ইউএনও। আর খোলা আকাশে কেউ থাকলে সেটা তার নজরে আসেনি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ২০-২৫ বছর পূর্বে মূল নদীর স্রোতে ছিল এই এলাকায়। গ্রামগুলোর উজানে নদী শাসনের ব্যবস্থা নেয়ায় এখানে হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৩৮৩ ডিলার-ব্যবসায়ীকে ৫৭ লাখ টাকা জরিমানা

সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও কারসাজির দায়ে সারাদেশে চলতি আগস্ট মাসে ৩৮৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ৩৮৩ জন ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত পাম ভিয়েট চিয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ সময় কৃষিসচিব সায়েদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, শুধু জরিমানা নয়, সার কারসাজিতে জড়িত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। লাইসেন্স দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সেজন্য, লাইসেন্স বাতিলের জন্য তাদের নাম শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কাজ চলছে।

আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সারের মজুতে কোনো ঘাটতি নেই দাবি করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বরাদ্দও বেশি দেয়া হয়েছে। তারপরও কোথাও কোথাও সারের সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে। এটি হতে পারে না। ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাঠ প্রশাসন বা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গাফিলতি পাওয়া গেলে-তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে।

চালের দাম শিগগির কমবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

এর আগে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের কৃষি সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত পাম ভিয়েট চিয়েন বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে কৃষি সহযোগিতার জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করার প্রস্তাব দেন।

ব্র্যাক শিক্ষার্থী সানাজানার আত্মহত্যা : বাবা গ্রেফতার

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানাজানা মোসাদ্দিকার (২১) আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় বাবা শাহীন আলমকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

আজ বুধবার সকালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত শনিবার দুপুরে দক্ষিণখান মোল্লারটেক এলাকার একটি ১২ তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন সানজানা মোসাদ্দেক। এ ঘটনায় রাতেই সানজানার মা নিহতের বাবার বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। এতে ওই শিক্ষার্থীর বাবা শাহীন আলমকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনার পর আসামি ঢাকা থেকে পালিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আত্মগোপনে যায়। র‍্যাব ঘটনার পর থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণখানের বাসার ছাদ থেকে পড়ে সানজানা আত্মহত্যা করেছেন জানতে পেরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। আত্মহত্যার আগে মেয়েটি তার বাবা শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে একটি সুইসাইড নোট লিখে গেছেন।

এতে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমার বাবা দায়ী। একটা ঘরে পশুর সঙ্গে থাকা যায়। কিন্তু অমানুষের সঙ্গে না। একজন অত্যাচারী রেপিস্ট যে কাজের মেয়েকেও ছাড়ে নাই। আমি তার করুণ ভাগ্যের সূচনা।’

ব্যাটিং-বোলিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের পরাজয়

এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট-বলের ব্যর্থতায় হারল বাংলাদেশ। দাপুটে ক্রিকেট খেলে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে আফগানরা। সেই সঙ্গে আসরটির সুপার ফোরেও জায়গা করে নিল মোহাম্মদ নবীর দল।

নিজেদের প্রথম ম্যাচেও আফগানিস্তান শ্রীলংকাকে বিধ্বস্ত করে জয় পেয়েছিল। তবে সুপার ফোরে উঠতে হলে বাংলাদেশকে শ্রীলংকাকে হারাতেই হবে।মঙ্গলবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় গড়ায়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৩ উইকেট হারিয়ে ও ৯ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।

 

বাংলাদেশের দেওয়া ১২৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে আফগানিস্তান। যেখানে নিজের তৃতীয় ওভারে আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফেরান সাকিব আল হাসান। স্টাম্পিংয়ের শিকার এই ব্যাটার।

দশম ওভারে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ২৩ রানে থাকা হজরতউল্লাহ জাজাইকে এলবির ফাঁদে ফেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। এরপর দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নিজের প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পান। আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীকে এলবি করেন সাইফউদ্দিন।

তবে এরপর গল্পটা শুধুই দুই আফগান জাদরানের। চতুর্থ উইকেট জুটিতে নাজিবুল্লাহ ও ইব্রাহিমের ৩৩ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের পার্টনারশিপ জয় পাইয়ে দেয় দলটিকে। ইব্রাহিম ৪২ ও নাজিবুল্লাহ ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। নাজিবুল্লাহ মাত্র ১৭ বলে একটি চার ও ৬টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান।

টস জিতে এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুজিব-রশিদের তাণ্ডবে দিশেহারা বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দেন মোসাদ্দেক হোসন।

বাংলাদেশ শিবিরে শুরু থেকেই ঘূর্ণির ঝলক দেখান মুজিব উর রহমান। এই লেগস্পিনার দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ও এনামুল হকের পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকেও তুলে নেন। এরপর আরেক তারকা স্পিনার রশিদ খান মুশফিকুর রহিমকে বিদায় করেন।

রশিদ খান ফের তার ঘূর্ণি জাল বিছিয়ে দেন। এবার তার ফাঁদে পড়েন আফিফ হোসেন। ১২ রান করে এলবি হন এই বাঁহাতি। এই ডানহাতি স্পিনার নিজের শেষ ওভারে এসে মাহমুদউল্লাহকে ফেরান। মাহমুদউল্লাহ তুলে মারতে গেলে ইব্রাহিম জাদরানের ক্যাচে পরিণত হন। ২৭ বলে ২৫ রান করেন তিনি।

শেষ দিকে ১৪ রান করে রান আউট হন মেহেদী হাসান। তবে দলের অন্যদের বাজে অবস্থাতেও অবিচল থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন। শেষ অবধি এই ব্যাটার ৩১ বলে ৪৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও একটি ছক্কা। তার ব্যাটেই মূলত ৬ এর ওপর রান রেট তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

আফগান বোলারদের মধ্যে ৩টি করে উইকেট পান মুজিব ও রশিদ।

গাজীপুরের শিক্ষক দম্পতি মৃত্যুর রহস্য উম্মোচনের দাবীতে টঙ্গীতে সভা ও দোয়া প্রতিনিধি টঙ্গী (গাজীপুর)

গাজীপুরে শিক্ষক দম্পতি মৃত্যুর রহস্য উম্মোচনের দাবীতে গতকাল মঙ্গলবার টঙ্গীর আমজাদ আলী সরকার স্কুল এন্ড কলেজে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আমজাদ আলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক এর সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, গাজী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা। আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষক দম্পতির সহকর্মী রফিকুল ইসলাম,জামাল উদ্দিন, মুশফিকুর রহমান, ফাতেমা আক্তার, ফেরদৌসি আক্তার, জাহাঙ্গীর হোসেন, নিহত শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুন এর বড় ভাই আতিকুর রহমান ও আমজাদ আলী স্কুল এন্ড কলেজের গভনিং বডির সদস্য সেলিম খান প্রমুখ। সভায় বক্তারা শিক্ষক দম্পতির মৃত্যুর ১৩দিন পরও মৃত্যু রহস্য উম্মোচিত না হওয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এবং অবিলম্বে মৃত্যু রহস্য উম্মোচনের দাবী জানায়। নইলে গাজীপুরের শিক্ষক ছাত্র/ছাত্রীরা বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসুচীর ঘোষনা দেবেন বলে হুমকি প্রদান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ (দক্ষিন) এডিসি হাসিবুল আলম, টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইন চার্জ জাবেদ মাসুদ, টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একডেমী এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান, টঙ্গীর সিরাজউদ্দিন সরকার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াদুদুর রহমান, টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন, আশরাফ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আতিক,শিলমুন আবদুল হাকিম মাষ্টার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সহ আমজাদ আলী সরকার স্কুল এন্ড কলেজের কয়েকশত শিক্ষার্থী। আলোচনা সভাশেষে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

হামলার শিকার মমতাজের স্বামী

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ মমতাজ বেগমের স্বামী ডা. এ এস এম মঈন হাসানের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে মমতাজের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটলকেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করছেন অনেকে।

ডা. মঈন গত শুক্রবার বিকেলে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিংগাইরের ধল্লা এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি।

ডা. মঈন হাসান একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। তিনি মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের তৃতীয় স্বামী।

অভিযুক্ত হামলাকারীরা হলেন সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আব্দুল জজ মিয়ার ছেলে নয়ন মিয়া, শুকুর আলীর ছেলে রুবেল মিয়া, ফিরোজ মুন্সির ছেলে আশরাফ আলী, আব্বাস উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন, হয়রত আলীর ছেলে মোসলেম উদ্দিন ও আনোয়ার আলীর ছেলে পাঙ্গা জসিমসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।

সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগপত্রে জানা যায়, সিংগাইরের বিনাডিঙ্গী রোকেয়া চক্ষু সেন্টারে কাজ শেষে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার পথে উপজেলার ধল্লা এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা মঈনের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে ছয়-আটজন ব্যক্তি লাঠিসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তার ওপর হামলা চালায়।

হামলায় হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান ডা. মঈন। এ সময় তার আত্মচিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মঈন হাসানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মঈন হাসানের স্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ মমতাজ বেগমকে ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে মানিকগঞ্জে মমতাজ চক্ষু হাসপাতাল এবং জয়মণ্ডপ মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের দেখাশোনার পাশাপাশি চিকিৎসাও দিয়ে আসছিলেন মঈন হাসান। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে তার সঙ্গে মমতাজের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

দূরত্বের কারণেই সিংগাইরের বিনাডিঙ্গী এলাকায় রোকেয়া চক্ষু সেন্টার নামে আলাদা চেম্বার করেন ডা. মঈন। অধিকাংশ সময় সেখানেই চিকিৎসা দিতেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে পারিবারিক ঝামেলার কারণেই ডা. মঈন হাসানের ওপর হামলা হতে পারে বলে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মমতাজের ভাগনে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান বলেন, ‘আমার জানামতে, তাদের স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে কোনো ঝামেলা নাই। তবে কিছু মানুষ আছে, যারা এসব বাজে কথা বলে বেড়ায়। ডা. মঈন হাসানের ওপর হামলার পর তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে পুলিশকে। আমাদের দলের পক্ষ থেকেও তদন্ত করছি।’

ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা  জানান, ‘ঘটনার চার দিন পর সাংসদ মমতাজ বেগমের স্বামী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

হামলার পর ডা. মঈন হাসান ঢাকায় অবস্থান করছেন বলেও জানান ওসি।

এভারকেয়ার হাসপাতালের পথে বেগম খালেদা জিয়া

ছয় দিন পর ফের হাসপাতালের উদ্দেশে বাসা ছাড়লেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

রোববার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ৮টার দিকে তিনি তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা করেন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা করার সকল প্রস্তুতি এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে

গত ২২ আগস্ট খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের হৃদযন্ত্রের কয়েকটি পরীক্ষা; যেমন ইকো, ইসিজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাম ও এক্সরে করা হয়েছিলো। সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরে মেডিক্যাল বোর্ড আরো কয়েকটি পরীক্ষার জন্য জরুরিভাবে হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া রোববার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

হাসপাতালটির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেবেন খালেদা জিয়া।

চেক-ডিজঅনার মামলায় জেলে পাঠানো সংবিধান পরিপন্থী : হাইকোর্ট

চেক ডিজ-অনারের মামলায় কোনো ব্যক্তিকে জেলে পাঠানো সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা থেকে ও ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।’

রোববার (২৮ আগস্ট) এ সংক্রান্ত বেশকিছু মামলা নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো: আশরাফুল কামালের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালত তার রায়ে নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা সংশোধন করে চেক ডিজ-অনারের মামলায় জেলে পাঠানোর বিধান বাতিল করার জন্য জাতীয় সংসদকে পরামর্শ দিয়েছেন। একইসাথে নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত চেক ডিজ-অনারের মামলা নিষ্পত্তির জন্য একটি গাইড লাইন করে দিয়েছেন আদালত।

রায়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে তার ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা সংবিধান পরিপন্থী। নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের অধীনে চেক-ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলায় কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে বন্দী রাখা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণের নামান্তর। চেক ডিজ-অনার মামলায় কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো বা কারাগারে রাখা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটসের (ওএইচসিএইচআর) ১১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। বাংলাদেশ ওএইচসিএইচআর-এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে চেক ডিজ-অনার মামলায় কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠাতে পারে না।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে তুলনা করে আদালত বলেন, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চেক ডিজ-অনার মামলায় জেলে পাঠানোর বিধান নেই। এসব দেশে চেক ডিজ-অনারের মামলাগুলোকে দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৯৯৪ সালে পেনাল কোড সংযোজনের মাধ্যমে আধা-ফৌজদারি হিসেবে পরিণত করা হয়েছে।

কন্ট্রাকচ্যুয়াল অব নেগোসিয়েশন বা চুক্তিগত দ্বায়-দায়িত্ব পূরণের ব্যর্থতার জন্য কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে বন্দী রাখা যাবে না। চুক্তিগত দ্বায়-দায়িত্ব পূরণে ব্যর্থতার জন্য যদি কারাগারে পাঠানো হয়, তাহলে অচিরেই বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ কারাগারে চলে যাবে। এটা কারো কাম্য নয়।

নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা দ্রুত সংশোধন করে কারাগারে পাঠানোর বিধান বাতিল করা আবশ্যক। আদালত প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয় সংসদ অতি দ্রুত নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা সংশোধন করবে বলে আমাদের (হাইকোর্ট) প্রত্যাশা।

আদালত আরো বলেন, মহান জাতীয় সংসদ যতদিন না ১৩৮ ধারার সংশোধন করেন বা সংশোধনী আনা হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার আওতায় চেক ডিজঅনারের মামলা আপসযোগ্য হবে। চেক ডিজ-অনারের মামলা বিচারের এখতিয়ার সম্পন্ন দেশের সব আদালতে সাজার পরিবর্তে তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানা দিতে পারবে।

আদালত তার এই রায়ের অনুলিপি দেশের সব আদালতে এবং আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোরও নির্দেশনা দিয়েছেন।

সানজানার মৃত্যু: বাবাকে গ্রেপ্তারের দাবি ব্র্যাক শিক্ষার্থীদের

বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সানজানা মুসাদ্দিকাকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে তার বাবাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।

মহাখালীর ওয়্যারলেস গেট এলাকায় রোববার দুপুরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে এমন দাবি করেন সানজানার বন্ধুরা।

সানজানা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। রাজধানীর দক্ষিণখানের হাজি ক্যাম্প এলাকায় নিজ বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ায় তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওপর থেকে কিছু পড়ার শব্দ পেয়ে ভবনের উত্তর পাশে সানজানাকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে উত্তরার বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

মানববন্ধনে যোগ দেয়া সানজানার বন্ধু অর্ণব দেব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা পুরাপুরি একটা হত্যা ছিল। আমি সানজানাকে চিনি ইউনিভার্সিটির শুরুর থেকে। শুরু থেকেই আমরা বন্ধু। ওর বাবা কখনও ওকে মেয়ে হিসেবে ট্রিট করে না। ওকে সব সময় মারধরের ওপর রাখে। আমি এটাও শুনেছি সানজানাকে এক মাসের মতো বাসায় বেঁধে রাখা হয়েছিল, যেটা ওর খালা আমায় জানিয়েছেন।

‘ওর খালা আমায় এও বলেছেন, সানজানার হৃদয় নামের এক কাজিন আছে। সেও সানজানার গায়ে হাত তুলত। সানজানার বাবার পরিবার সানজানার বিরুদ্ধে কথা বলত সব সময়। সানজানার মায়ের গায়ে হাত তোলা হতো। ঠেকাতে গেলে সানজানার গায়ে হাত তোলা হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) সানজানা মারা যাওয়ার পরে তার এক আত্মীয় এসে বলেন, সানজানার নামে যে ৫২ লাখ টাকার একটা প্লট আছে, এই প্লটটা কোথায় যাবে। তার মধ্যে অনুশোচনা বলতে কিছু নেই যে, একটা মেয়ে মারা গেছে। তার প্রথম কথাই ৫২ লাখ টাকার প্লট কী হবে। থানায় একটা কথা ছড়ানো হচ্ছিল, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নাকি পরিবর্তন করে ফেলা হবে; সানজানার বডি গায়েব করে ফেলা হবে।

‘পরে আমরা ১০ থেকে ১২ জন লাশের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ১২ তলা থেকে লাফ দিলে ব্লিডিং হবে না, হাত-পা ভাঙবে না, বডি থেঁতলে যাবে না, এটা অসম্ভব।’

সানজানার ওপর তার বাবা কেন চড়াও ছিল, তা জানতে চাইলে অর্ণব বলেন, ‘সানজানার বাবা দুইটা বিয়ে করেছেন। সানজানার মায়ের সঙ্গে নিয়মিত ঝামেলা হতো। সানজানা ঠেকাতে গেলে তাকেও মারা হতো।’

সানজানার আরেক বন্ধু ধ্রুব বলেন, ‘সানজানার শরীরে মারের দাগ ছিল। ঘটনার পর তার বাবা পলাতক।

‘দ্রুত তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক। সানজানা তার চিরকুটে তার বাবার নাম লিখে গেছিল।’