বাবুলের কারাকক্ষে ওসির তল্লাশির অভিযোগ

কারাগারে বন্দি স্ত্রী মিতু হত্যা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের কারাকক্ষে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তল্লাশি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি তদন্তে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে সোমবার বাবুলের পক্ষে আবেদনটি করেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মনির হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সকালে আবেদনের পর কিছুক্ষণ আগে শুনানি হয়েছে। আদালত আবেদনটি আদেশের জন্য রেখেছেন।’

আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ দাবি করেন, ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের পর আসামিরা মারমুখী আচরণ করছেন। তাদের নির্দেশে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জেল কোডের তোয়াক্কা না করে কারাগারে বাবুলের কক্ষে প্রবেশ করেন।

‘তিনি (ওসি) দীর্ঘ সময় ওই কক্ষে তল্লাশির নামে বাদীর জীবনের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে।’

তিনি আরও জানান, জেল কোড অনুসারে কর্মরত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা কোনোভাবেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালতের লিখিত অনুমতি ছাড়া জেলখানায় প্রবেশ করতে পারেন না।

আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, ‘এই যাত্রায় আসামিরা সফল না হলেও অভিযোগকারী বাবুল আক্তার ও তার পরিবারের জীবননাশসহ যেকোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তাই বাবুল আক্তারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদালতে তার পক্ষে পিটিশনটি (আবেদন) করেছি।’

তবে জেল সুপারের কক্ষে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কারাগারে বাবুল আক্তারের কক্ষে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আমি একটি মামলার বিষয়ে কারাগারের সুপার মহোদয়ের কক্ষে গিয়েছিলাম। ওই দিন বিকেলে একজন জিজ্ঞাসা করায় প্রথম জানতে পারি যে স্যার (বাবুল আক্তার) এখানে আছেন। এখানে তো ওনার মামলা বা তদন্ত সম্পর্কিত কিছু নাই। আমি তো কোনোভাবে ওনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না। আমি কোন ক্ষমতাবলে ওনার কক্ষে যাব?’

জেল সুপার আনোয়ারুল করিম বলেন, ‘বাবুল আক্তারের কক্ষে ওসি যাননি। ওই দিন উনি থানার মামলাসংক্রান্ত কী যেন কাজে এসেছিলেন। দুই থেকে তিন মিনিট পর চলে গেছেন। বাবুল আক্তারের কক্ষে গিয়ে তল্লাশির অভিযোগ সত্য নয়।’

গাজীপুরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আবৃত্তি উৎসব

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে আবৃত্তি উৎসব। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, টঙ্গী শনিবার বিকেলে এ উৎসবের আয়োজন করে।

টংগী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আবৃত্তি উৎসবের উদ্বোধন করেন বরেণ্য আবৃত্তিকার ও বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার। এডভোকেট শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন টঙ্গী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আতিক।

এ ছাড়া অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, টংগী‘র সাবেক সভাপতি শেকানুল ইসলাম শাহী, নিজাম উদ্দিন, প্রদীপ অধিকারী, মুস্তাফা কামাল বাদল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাধব আচার্য, মিজানুর রহমান মঞ্জু, এম এ মালেক, জহিরুল আলম বাধন, তামান্না ইসলাম,আজিজ টিপু, শাহজাহান শোভন ও উজ্জল লস্কর। অনুষ্ঠানে জোটভুক্ত সংগঠনের সদস্যরা একক ও বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংলাপে ইভিএমে ভোট গ্রহণ ও নির্বাচনকানলীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যেই আগামী  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) চূড়ান্ত করছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি (ইসি)। মূলত এ রোডম্যাপে মূল ৭টি বিষয়কে ধারণ করে চলতি মাসে চূড়ান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ধাপে ধাপে নির্বাচন কমিশন একটি আইনি কাঠামো প্রস্তুত করেছে। নির্বাচন কমিশনের যে প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক সক্ষমতা রয়েছে তার মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। প্রয়োজনে বিধিমালায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনী আনয়নের মাধ্যমে তা আরো কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে বলে কমিশন মনে করে।

রোড ম্যাপের পরিকল্পনায় আছে, সংসদ নির্বাচন সমানে রেখে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচন এলাকা পূর্ণনির্ধারণের জন্য আগের নীতিমালা পর্যলোচনা করে একটি নতুন নীতিমালা প্রস্তুত করা। ২০২৩ সালের মার্চে নীতিমালার আলোকে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ৩০০ আসনে সীমানা পূর্ণনির্ধারণ করে খসড়া করবে ইসি।

নির্বাচনী আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা করা হবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এছাড়া একই বছরের আগস্টে খসড়া ভোট কেন্দ্রর তালিকার উপর দাবি- আপত্তি নিস্পত্তি করবে ইসি।

অন্যদিকে ২০২৩ সালের জুন মাসে নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।

কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার। নির্বাচন প্রক্রিয়া সময়োপযোগীকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের পরামর্শ গ্রহণ। সংসদীয় এলাকার সীমানা র্নিধারণ। নির্ভুল ভোটর তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ। বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক ভোটকেন্দ্র স্থাপন। নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ। নির্বাচনে অধিকতর প্রযুক্তির ব্যবহার। দক্ষ নির্বাচনি কর্মকর্তার প্যানেল তৈরি ও প্রশিক্ষণ। ভোটার সচেতসতা বৃদ্ধি কার্যক্রম। পর্যবেক্ষণ সংস্থা নিবন্ধন ও নবায়ন কার্যক্রম। নির্বাচনী কার্যক্রমে গণমাধ্যমকে আইনী কাঠামোর আওতায় সম্পৃক্তকরণ।

জানা গেছে, নির্বাচনে অধিকতর প্রযুক্তির ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে জিআইএস পদ্ধতিতে ভোট কেন্দ্রের তথ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ডাটাবেজ ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ার প্রণয়ন। নির্বাচনী ক্যালেন্ডার, অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল ও গ্রহণ, প্রার্থীর তথ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যবেক্ষণ ব্যববস্থাপনা কার্যক্রম, ভোট  গ্রহণ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডাটাবেজ তৈরি, কেন্দ্রের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্র গতে নিরাপদ ও দ্রুতসময়ে নির্বাচনী ফলাফল প্রেরণ সংক্রান্ত সিস্টেমের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ার প্রণয়ণ। নির্বাচন বিষয়ক তথ্য সংক্রান্ত অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ার প্রণয়ন। সফটওয়ারের মাধ্যমে অডিট ও বিভিন্ন রিপোর্ট প্রস্তুত করা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, কমপ্লেইন্ট এবং কমপ্লায়েন্স ম্যানেজমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ার প্রণয়ন। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ার প্রণয়ন।

এছাড়া আছে ভোটার সংখ্যা, জনশুমারী ও ভৌগলিক অবস্থানের ভিত্তিতে জিআইএস পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত ডাটাবেজ ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ার প্রণয়ন। এক্ষেত্রে আগামী জানুয়ারিতে আগের নীতিমালা পর্যালোচনা করে একটটা নতুন নীতিমালা প্রস্তুতবরণ।

ফেব্রুয়ারিতে জিআইএস সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। মার্চে নীতিমামলার আলোকে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ৩শ আসেনর নীমানা পুননির্ধারণ করে খসড়া প্রস্তুত।

কর্মপরিকল্পনার মধ্যে আরো আছে, আগামী মাসে নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও নির্বাচদের সঙ্গে সংলাপ। একই মাসে নির্বাচান পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ইসির সংলাপ। আগামী নভেম্বর মাসে নারী নেতৃন্দের সঙ্গে সংলাপ। একই মাসে সুপারিশমালার খসড়া চূড়ান্তকরণ। ডিসেম্বরে সুপারিশমালার চূড়ান্তকরণ।

সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো নির্বাচনের মূল অংশীজন এবং উপকারভোগী সংগঠন-রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের সমীপে উপস্থান করে সবার মতামতের আলোকে কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সামগ্রিক কর্মকান্ড তদারকি এবং তা চূড়াকরণের

এছাড়া আরও জানা যায়, কর্মপরিকল্পনার দেখভাল করার জন্য মাননীয় কমিশনারগণের নেতৃত্বে বিষয়ভিত্তিক আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবার মতামতের আলোকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আমরা শুধু দলকে নয়, সরকারকেও সংলাপ থেকে আসা মতামত জানিয়েছি। কেননা, দলগুলো কী বলছে তা সরকারেরও জানা উচিত। সরকার কিন্তু কোনো দলের নয়। সেই বিভাজনটাকে মাথায় রেখে আমরা সরকাকে জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেছিলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় বিরোধী দলগুলো। সেটা আমরা দলগুলোকে জানিয়েছি। ভোটার তালিকা আগামী বছর মার্চ মাসে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবো। রোডম্যাপ সপ্তাহ দুই সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্তভাবে অবহিত করতে পারবো।

এর আগে সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আলমগীর বলেছিলেন,সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপে টোটাল নির্বাচনি ম্যানেজমেন্ট থাকবে। ভুল থাকলে কেউ ধরিয়ে দিতে পারবে। রোডম্যাপ চূড়ান্ত। এখন প্রকাশের অপেক্ষা। প্রিন্ট হলেই প্রকাশ হবে। সচিবালয় বিষয়গুলো দেখছে।

এ নির্বাচন কমিশনার আরও বলেছেন, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সেই হিসেবে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়, যদি এটি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই নভেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে সিডিউল দিতে হবে। আর যদি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হয় তাহলে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ঘোষণা হবে।

টঙ্গী থেকে কড্ডা ও উলুখোলায় স্পিডবোট চলাচল ও টঙ্গী নদী বন্দরে বিআইডবিøউটিএর ইকোপাক উদ্বোধন

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
টঙ্গী নদীবন্দর থেকে কড্ডা ও উলুখোলা রুটে স্পিডবোট চলাচল গতকাল শনিবার উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। টঙ্গী-কড্ডা ও টঙ্গী-উলুখোলা রুটে স্পিডবোটগুলো ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। টঙ্গী থেকে কড্ডার ভাড়া ১৫০ টাকা, টঙ্গী থেকে উলুখোলার ভাড়া ১২০ টাকা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইনফিনিটি মেরিটাইমের মাধ্যমে এ সেবা চালু করা হল।
বিআইডবিøউটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার বলেন, সকাল ১১টায় প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল টঙ্গী নদী বন্দরে বিআইডবিøউটিএ র ইকোপার্ক এবং দুপুরে টঙ্গী নদী বন্দর হতে ঢাকা বৃত্তাকার নৌপথে স্পিডবোট সার্ভিসের ফলক উন্মোচন ও উদ্বোধন করেন।
তিনি আরো বলেন,রাজধানীতে যানবাহনের চাপ কমাতে চারপাশ ঘিরে বৃত্তাকার নৌপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০০ সালে। এই নৌপথ দিয়ে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সহজে যাতায়াত করতে পারবে মানুষ।
এ উপলক্ষ্যে শনিবার দুপুরে টঙ্গীর নদী বন্দর প্রাঙ্গনে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করেন বিআইডবিøউটিএ ।
বিআইডবিøউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এর সভাপতিত্বে, অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তাফা কামাল। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শফিউল ইসলাম, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম শফিউল আজম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম, বিপিএম(বার), পিপিএম(বার), গাজীপুর জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান প্রমূখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ইকোপার্ক ও স্পিডবোট সার্ভিস পরিদর্শন করেন অতিথিরা।

বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের হামলা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের হামলা বন্ধ করতে এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)।

শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) সভাপতি কমরেড ডা. এমএ সামাদ, সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাহিদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কমরেড তালেবুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড জাহিদ আনসারী, কমরেড তারেক ইসলাম, কমরেড নূর আফসানা নীপা প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কমরেড ডা. এমএ সামাদ বলেন, মিয়ানমারের মতো দেশ বাংলাদেশ সীমান্তে বর্বরতা দেখানোর সাহস দেখাচ্ছে। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি মিয়ানমার বাংলাদেশের ভেতরে মর্টার শেল নিক্ষেপ, গুলিবর্ষণ ও সীমান্ত এলাকায় সৈন্য সমাবেশ করছে।

তিনি আরও বলেন, আজ ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে এটা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নিরাপত্তাসহ নানাবিধ সমস্যা তৈরি করছে। অথচ সরকার এখন পর্যন্ত এদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারছে না। এক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হিমার্স, হাউইটজার ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হিমার্স রকেট লাঞ্চার যান ও হাউইটজার কামান ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হিমার্স রকেট লাঞ্চার যান ও জাপোরোজিয়া অঞ্চলে হাউইটজার কামান ধ্বংস করা হয়েছে।

অবশ্য রাশিয়ার এই দাবি রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনীয় সেনারা গত সপ্তাহে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে এক হাজার বর্গ কিলোমিটারের বেশি অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেছে। শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি এ কথা বলেন।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, আক্রমণের পর তারা প্রায় ৫০ কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে। যা রাশিয়ানদের অবাক করে দিয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

অবশ্য ইউক্রেনের এসব দাবির ব্যাপারে মুখ খোলেনি মস্কো।

একসঙ্গে দাফন করা হলো একই পরিবারের ৫ জনকে

বজ্রপাতে নিহত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভার শিবপুর গ্রামে শমসের আলীর পরিবারের ৫ জনকে একসঙ্গে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজন হারানোদের কান্না থামানো যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার বিকালে বজ্রপাতে উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের মাটিকোড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের মাঠে একটি শ্যালোমেশিন ঘরের মধ্যে নিহত হন ৯ জন। আহত হন আরও ৪ জন।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে উল্লাপাড়া পৌরসভার শিবপুর গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয় কৃষি শ্রমিক শমসের আলীসহ তার পরিবারের সদস্য আফসার আলী, শাহিন, মোবাক্ষর ও মোন্নাফ আলীকে। একই সময় মাটিকোড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের নিহত আব্দুল কুদ্দুস, শাহ আলম, রিতু খাতুন ও জান্নাতী নদীকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় উভয় গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বজ্রপাতের ঘটনার আগে নিহত ও আহতরা সবাই মাঠে রোপা ধানের চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজ করছিলেন। আকস্মিকভাবে শুরু হয় বৃষ্টি। জীবন বাঁচাতে দৌড়ে গিয়ে সবাই আশ্রয় নেন মাঠে অবস্থিত একটি শ্যালোমেশিন ঘরে। কিছুক্ষণের মধ্যে আশ্রয়স্থলেই বজ্রপাতে মৃত্যু হয় তাদের। উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে উল্লাপাড়া ৩০ শয্যা হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

উপজেলার শিবপুর গ্রামে শমসের আলীর পরিবারের ৫ জন মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। শুক্রবার শমসের আলীর বাড়িতে গেলে তার শোকাতুর স্ত্রী শান্তি খাতুন কান্না করে বলছেন, পরিবারের উপার্জনের লোক ছিল তার স্বামী শমসের আলী ও তার সন্তান শাহীন। দুজনই মারা গেলেন। এখন কীভাবে তার সংসার চলবে এটাই প্রশ্ন করছিলেন সবাইকে শান্তি খাতুন।

এদিকে এ দুর্ঘটনার পর উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম নিহতদের পরিবারে গিয়ে তাদের সমবেদনা জানান। সেই সাথে পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, বজ্রপাতে নিহত প্রতিটি পরিবারকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ ২৫ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এ টাকা পরিবারগুলোকে প্রদান করা হবে।

রানির মৃত্যুতে বাকিংহ্যাম প্যালেসের বাইরে শোকার্ত মানুষের ঢল

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে শ্রদ্ধা জানাতে বাকিংহ্যাম প্যালেসের বাইরে জড়ো হয়েছেন হাজারও মানুষ।

বৃহস্পতিবার শোকের মধ্যেই সড়কে দাঁড়িয়ে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা যায় তাদের। খবর বিবিসির।

বৃহস্পতিবার রানির মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার পর প্যালেসের পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। এ সময় প্যালেসের বাইরের চত্বরে শত শত মানুষকে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা রানিকে শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন অনেকেই।

এর আগে ওই দিন দুপুরে বাকিংহ্যাম প্রাসাদ থেকে যখন জানানো হয়, রানি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, তখনই তার স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এ কারণে মৃত্যুর খবর ঘোষণার আগেই সাধারণ মানুষ রানির সুস্থতা কামনায় বাকিংহ্যাম প্যালেসের ফটকে ফুল দিতে আসেন।

রানিকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা শিলা বিল্লাইগু (৭৭) নামে একজন বলেন, সবাই এখানে আছে বলে আমার খুব খারাপ লাগছে। পতাকা না দেখা পর্যন্ত আমি জানতামই না যে রানি মারা গেছেন।

শিলার মতো মাইকেল হ্যামন্ড নামে এক তরুণ অর্ধনমিত পতাকা দেখে রানির মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তিনি বলেন, আমি একেবারে হতাশ। আমি ভেবেছিলাম তিনি ব্রিটিশ চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

এদিকে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি শ্রদ্ধার জানাতে বাকিংহ্যাম প্যালেসের দিকে যাওয়ার প্রধান রাস্তায় সারি সারি কালো ক্যাব পার্কিং করে রেখেছেন লন্ডনের প্রায় ৫০ জন ক্যাবচালক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রানির মৃত্যুর খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে অনেক চালকই গাড়ি পার্ক করা শুরু করেন।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বেশ কিছু দিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। হাঁটাচলা ও দাঁড়িয়ে থাকতে তার সমস্যা হচ্ছিল। স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসলে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি মারা যান বলে ঘোষণা দেয় বাকিংহ্যাম প্যালেস। মৃত্যুর খবর শুনে ক্যাসলের বাইরে ফুল দিয়ে রানিকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঊর্ধ্বে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঊর্ধ্বে এবং গত এক দশকে তা আরও জোরদার হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত ৫০ বছরে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পর, উভয় দেশই ক্রমবর্ধমান বিস্তৃত সেক্টরাল সহযোগিতায় কাজ করছে।’

প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে অবস্থানকালীন হোটেলের বলরুমে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বা গুরুতর আহত ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সৈনিক বা কর্মকর্তাদের সরাসরি বংশধরদের ‘মুজিব বৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

সামুদ্রিক ও স্থল সীমানা নির্ধারণের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান সেই প্রভাবের সাক্ষ্য বহন করে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্পর্কটি বিশ্বব্যাপী প্রতিবেশী কূটনীতির জন্য রোল মডেল হিসেবে পরিচিত।’

তিনি বলেন, ‘২০০টি মুজিব স্কলারশিপ, দশম শ্রেণিতে ১০০টি এবং দ্বাদশ শ্রেণির স্তরে ১০০টি, যুদ্ধের ভারতীয় প্রবীণ সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাদের বংশধরদের জন্য আমাদের এই শুভেচ্ছা উপহার, যারা আমাদের জন্য ১৯৭১ সালে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ভারতীয় ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের অমূল্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং রক্ত দিয়েছেন। যারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের স্মরণ করা আমাদের জন্য সর্বদা গর্বের বিষয়। আপনাদের আমার অভিবাদন, হে সাহসী হৃদয় ,আমাদের বীরদের!’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের মহান পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী, তাই তরুণ প্রজন্মকে সেই ঐতিহাসিক অতীতের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করার জন্য আমাদের এই বিনীত প্রচেষ্টা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বিশ্বাস করেন যে বৃত্তি প্রাপ্তরা তাদের পূর্বপুরুষদের বীরত্বের স্মৃতি পুনরায় ঘুরে দেখার, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত বন্ধুত্বের পথ অতিক্রম করছে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ আমাদের সম্পর্কের একটি যুগান্তকারী বছর ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী।

প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন যে ভারতের রাষ্ট্রপতি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় আমাদের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে যোগ দিয়েছিলেন।

এসব উপলক্ষ্য উদযাপনে বেশ কিছু যৌথ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধী এবং বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ, বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী প্রভৃতি। তাছাড়া ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণাধীন বায়োপিক ‘মুজিব: দ্য মেকিং অব দ্য নেশন’ এর কাজ চলছে এবং শিগগিরই মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে ৬ ডিসেম্বরকে ‘মৈত্রী দিবস’ হিসেবে উদযাপন করছে, যে দিনটি একটি ঐতিহাসিক দিন যখন ভারত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যৌথ উদযাপনের মাধ্যমে, বাংলাদেশ ও ভারত বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ভালো প্রতিবেশীকে তুলে ধরেছে।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা আমাদের বিদেশি বন্ধুদের সম্মান জানাতে বাংলাদেশ সরকার একটি কর্মসূচি শুরু করেছে। আমরা সৌভাগ্যবান যে ২০১১ সালে প্রথম সম্মাননা প্রদানের অনুষ্ঠান করতে পেরেছিলাম যখন বিদেশি বন্ধুদের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘বাংলাদেশ ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড’ ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে ভারতের আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীসহ আরও অনেক ভারতীয় নেতাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল।

যুদ্ধের নায়ক এবং ভারতের নাগরিক সমাজের সদস্যদেরও পর্যায়ক্রমে সম্মানিত করা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোট ৩৪০ জন বিদেশি নাগরিক এবং সংস্থাকে সম্মানিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২২৬ জনই ভারতের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের এপ্রিলে আমি নয়াদিল্লিতে মোদিজির উপস্থিতিতে বীর যোদ্ধাদের বংশধর ও পরিবারের নিকটাত্মীয় সদস্যদের পুরস্কার প্রদানের জন্য সম্মান পেয়েছি।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতে তাদের চিকিৎসার জন্য সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের বৃত্তি প্রদানের জন্য ভারত সরকারের সদয় পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই বাংলাদেশের যুদ্ধ বীরদের জন্য তাদের অব্যাহত সমর্থন এবং সদিচ্ছা প্রদর্শন করে যারা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের জন্য লড়াই করেছিলেন।’

প্রতারণা করছে পশ্চিমারা: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বুধবার ভ্লাদিভোসতোকে ইস্টার্ন ইকোনোমিক ফোরামের উদ্বোধন করেন। এই সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এর মধ্যে ছিল জুলাই মাসে হওয়া শস্য চুক্তির বিষয়টি। গত জুলাইয়ে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় শস্য চুক্তি হয়। যার মাধ্যমে ইউক্রেনে আটকে থাকা খাদ্য শস্য বের হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে পুতিন দাবি করেছেন, এই শস্য নিয়ে প্রতারণা করছে পশ্চিমারা। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে খাদ্য সংকটের কথা  বলে চুক্তি করলেও ইউক্রেনের শস্য যাচ্ছে ইউরোপে।

এ ব্যাপারে পুতিন বলেন, ইউক্রেন থেকে যে শস্য রপ্তানি হচ্ছে তার মাত্র ৩ ভাগ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যাচ্ছে, বেশিরভাগ যাচ্ছে ইউরোপে। আগের সময়গুলোতে ইউরোপের দেশগুলো ঔপনিবেশিক শক্তির মতো আচরণ করেছে। এখনো তারা এটি করে যাচ্ছে। আরেকবার তারা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বঞ্চিত করছে।

পুতিন হুশিয়ারি দিয়েছেন, যদি এমনটি হতে থাকে তাহলে বিশ্বে খাদ্য সংকট বেড়েই যাবে।

তিনি আরও বলেছেন, খাদ্য শস্য চুক্তি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিস্যেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।

সূত্র: সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান