লুহানেস্কে অবস্থান শক্ত করছে রুশ সেনারা

ইউক্রেনের দোনবাসের লুহানেস্কের নির্বাসিত গভর্নর সেরহি হাইদাই বৃহস্পতিবার বলেছেন, খারকিভে যেভাবে রুশ সেনাদের হটিয়ে দিয়ে ইউক্রেন মাইলের পর মাইল জায়গা স্বাধীন করেছে, লুহানেস্কে তেমনটি আশা করা যাচ্ছে না। কারণ এখানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে রুশ সেনারা।

তিনি আরও বলেন, লুহানেস্কসহ বিভিন্ন দিকে লড়াই অব্যাহত আছে। খারকিভের মতো অবস্থা এখানে হবে না।

তিনি জানান, এই অঞ্চলের পুরুষদের এখন জেলে ভরছে রুশ সেনারা।

লুহানেস্কের নির্বাসিত এ মেয়র টেলিগ্রামে আরও বলেছেন, আমাদের অঞ্চলের জন্য আমাদের কঠিন লড়াই করতে হবে। রাশিয়ানরা তাদের রক্ষা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে লুহানেস্ক হলো দোনবাসের বৃহত্তম অঞ্চল। গত জুলাইয়ে লুহানেস্ক দখল করতে ব্যাপক হামলা চালায় রুশ সেনারা। এরপর সেটি তাদের অধীনে চলে আসে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

এককেন্দ্রিক বিশ্ব গঠনের প্রচেষ্টা ঘৃণ্য, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাংহাই কো-অপারেশন সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার উজবেকিস্তানের সামারকান্দে গেছেন।

এ সম্মেলনের মাঝে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন।

রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা টাস নিউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন চীনের প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এককেন্দ্রিক বিশ্ব গঠনের প্রচেষ্টা ঘৃণ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই মানে না।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন বার বার দাবি করে থাকেন বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রই শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতার বিস্তার ঘটাতে চায়। নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে আর একা ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ না দেওয়ার কথা বলেছেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেছিলেন, বিশ্বে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে।

এদিকে টাস নিউজ জানিয়েছে, পুতিনের এমন মন্তব্যের পর চীনের প্রেসিডেন্ট বলেছন, বর্তমানে বিশ্ব ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চীন ও রাশিয়া বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উদাহরণ তৈরি করে  ক্রমপরিবর্তন পৃথিবীকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসবে।

 

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া রাতভর সংঘর্ষে প্রায় ১০০ সেনা নিহত

নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান। গত সোমবার রাতভর হওয়া এই যুদ্ধে উভয়পক্ষের প্রায় ১০০ সেনা নিহত হয়েছেন। নিহত সেনাদের ৪৯ জন আর্মেনিয়ার এবং ৫০ জন আজারবাইজানের।

এর আগে সংঘর্ষের পর তাৎক্ষণিকভাবে আর্মেনিয়ার অর্ধশত সেনা নিহত হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল। সময় গড়ানোর সাথে সাথে আজারবাইজানের সেনা নিহতের তথ্যও সামনে এসেছে। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেছেন, সোমবার রাতভর ওই যুদ্ধে তাদের ৪৯ জন সৈন্য নিহত হয়েছে। অন্যদিকে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষে তাদেরও ৫০ জন সৈন্য নিহত হয়েছে।

প্রতিবেশী এই দেশ দু’টি একে অপরের সঙ্গে দু’টি যুদ্ধ করেছে এবং তিন দশক ধরে নিয়মিত ছোট ছোট সংঘর্ষ চালিয়ে এসেছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার রাশিয়া বলেছে, সর্বশেষ সংঘর্ষ বন্ধের জন্য তারা যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতা করেছে।

আর্মেনিয়া প্রাথমিকভাবে বলেছিল, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পরিবর্তে শান্ত অবস্থায় রয়েছে। পরে আজারবাইজান জানায়, তারা প্রতিবেশী দেশটির ‘উস্কানি’র কারণে তার উদ্দেশ্যগুলো সম্পন্ন করেছে।

বিবাদের মূলে রয়েছে নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল, যা মূলত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অঞ্চল হিসাবে স্বীকৃত। সাবেক সোভিয়েত এ দুই রাষ্ট্র বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে ২০২০ সালে প্রাণঘাতী এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। দুই দেশের সৈন্যদের হামলা-পাল্টা হামলায় সেই যুদ্ধে উভয় পক্ষের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

ওই যুদ্ধের পর আর্মেনিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া নাগোরনো-কারাবাখে কয়েক হাজার শান্তিরক্ষী মোতায়েন করে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সেখান থেকে শান্তিরক্ষীদের পরে প্রত্যাহার করে নেয় মস্কো।

আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রে বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত অনুযায়ী আজারবাইজানের অংশ, তবে সেখানে থাকে মূলত জাতিগত আর্মেনিয়ানরা।

তবে এই সাংস্কৃতিক বিভেদ কেবল রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, এর পাশাপাশি ধর্মীয় বিভেদও দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। আর্মেনিয়া মূলত খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, অন্যদিকে আজারবাইজান মূলত মুসলিম।

দুটি দেশই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশকে বড় আকারে যুদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালেও দুই দেশ ছয় সপ্তাহ ধরে এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল।

বিবিসি বলছে, সর্বশেষ লড়াইয়ের জন্য দুই দেশ পরস্পরকে দোষারোপ করছে। আর্মেনিয়া দাবি করছে, সীমান্ত এলাকায় তাদের কয়েকটি শহরে আজারবাইজান গোলা বর্ষণ করেছে এবং তারা এই উস্কানির পাল্টা জবাব দিয়েছে।

অন্যদিকে আজারবাইজান বলেছে, তাদের অবকাঠামো প্রথমে হামলার শিকার হয়। তাদের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, গত মাস ধরে আর্মেনিয়ার সামরিক বাহিনীর তৎপরতা দেখে বোঝা যাচ্ছিল তারা একটি বড় আকারের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এদিকে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সীমান্তে নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তিনি এই বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তুলবেন।

আর্মেনিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া এই অঞ্চলের একটি প্রধান শক্তি এবং উভয় পক্ষের সাথেই দেশটি সম্পর্ক বজায় রাখে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘ব্যক্তিগতভাবে’ মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখছেন।

তিনি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট স্বাভাবিকভাবেই সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন।’

অন্যদিকে তুরস্কের সঙ্গে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং আপাতদৃষ্টিতে আঙ্কারা আজারবাইজানকে সমর্থন করেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন, ‘আর্মেনিয়ার উচিত

তার উস্কানি বন্ধ করা এবং শান্তি আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া’।

 

বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে, শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকট আগামী বছর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই দেশের মাটিতে ফসল ফলিয়ে নিজের খাবার নিজেদের ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন তিনি।

ভারত সফর নিয়ে আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংকট এখন যেটা দেখছেন, হয়তো সামনের বছর আরও বেশি সংকট দেখা দেবে। এটা সারা বিশ্বব্যাপী। আমার শঙ্কা হচ্ছে যে, সারা বিশ্বেই দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে, সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক চরম দুরবস্থা দেখা দেবে। সেই ক্ষেত্রে আমি আগে থেকেই আমাদের সবাইকে বলে রেখেছি, আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে, ফসল ফলাও, নিজের খাবার নিজে ব্যবস্থা করো। নিজেরটা আগে আমরা নিজে করে রাখি, যেন আমাদের কারও মুখাপেক্ষী না হতে হয়।’

পশ্চিমা বিশ্বের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ তবুও তো আমরা চালাচ্ছি, ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ডের যে অবস্থাটা—সেটা একবার চিন্তা করে দেখেন, কী ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা প্রণোদনা দিয়েছি, গ্রামে গ্রামে অর্থ সরবরাহ করেছি, সাধারণ মানুষকে নগদ অর্থ দিয়েছি, আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছি, শ্রমিকদের বেতন সরাসরি দিয়ে দিয়েছি, কৃষকদের সব ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছি। সার থেকে শুরু করে কৃষি উপকরণ, পৃথিবীর যেখানে পাচ্ছি নিয়ে এসে সরবরাহ করে যাচ্ছি। আমরা কোনো দিকে এতটুকু শিথিলতা দেখাচ্ছি না।’

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি ব্যবস্থাপনা, রেলপথ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

সফরে হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সম্পর্ক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মাদক চোরাচালান ও মানবপাচার রোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সফর শেষে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

যুবলীগ নেতার দখলে শ্রেণিকক্ষ, মাঠে চলছে পাঠদান

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ সিন্দুর্ণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনে মোট তিনটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। এর একটিতে শিক্ষকরা বসেন। একটি দখল করে নির্মাণসামগ্রী রেখেছেন হাতিবান্ধা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণের ঠিকাদার আব্দুল হামিদ সরকার হামিদুল। বাকি একটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান।

বিদ্যালয়ের ওই একটি কক্ষে সকালে শুরু হয় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান। এরপর একই কক্ষে একসঙ্গে হয় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান। শিশু শ্রেণির ক্লাস হচ্ছে কখনো বারান্দায়, কখনো বিদ্যালয়ের মাঠে অর্থাৎ খোলা আকাশের নিচে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের একটি কক্ষে তারা বসেন।  ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ ৪ বছরে নিমার্ণকাজ শেষ না করে উল্টো পুরোনো ভবনের একটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে নির্মাণসামগ্রী রেখেছেন ঠিকাদার আব্দুল হামিদ সরকার হামিদুল। ফলে এক শ্রেণিকক্ষে একসঙ্গে চলছে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়- হামিদুল বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ শেষ না করলেও অধিকাংশ টাকাই উত্তোলন করেছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগকে জানানো হলেও কোনো সুফল আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার আব্দুল হামিদ সরকার হামিদুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। প্রথমে রিসিভ করার পর সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কলটি তিনি কেটে দেন। এরপর বারবার কল করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

হাতীবান্ধা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মিঠুন বর্মণ বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে ঠিকাদার মালামাল রেখেছেন, তা আমি জানি না। আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী নজির হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারকে অনেক চাপ দেওয়া হচ্ছে তারপরও তিনি কাজ শেষ করছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবন খুলে দেওয়া হবে।’

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ বেছে নিলেন বিশ্বখ্যাত নির্মাতা গদার

ফ্রান্সের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জ্যঁ-লুক গদার আর নেই। গত মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পৃথিবী ভ্রমণ শেষ করেন বিশ্বখ্যাত এই নির্মাতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

তাৎক্ষণিকভাবে গদারের মৃত্যুর কারণ জানানো না হলেও কয়েক ঘণ্টা পর তার আইনজীবীর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্যঁ-লুক গদার স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন।

 গদারের আইনি কাউন্সিল প্যাট্রিক জনারে বলেন, একাধিক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন বিশ্বখ্যাত এই নির্মাতা। স্বেচ্ছায় মৃত্যুর জন্য তিনি সুইজারল্যান্ডে যান।

নিজের জীবন শেষ করতে আইনিভাবে অন্য কারও সাহায্য নেওয়াই হলো ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’। সুইজারল্যান্ডে এ ধরনের মৃত্যুর বৈধতা রয়েছে। তবে ফ্রান্সে স্বেচ্ছামৃত্যুর আইনি বৈধতা না থাকায় গদারের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ জানিয়েছেন, স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার নিয়ে জাতীয় বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের ‘লিবারেশন’ পত্রিকা গদারের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজনের (নাম উল্লেখ করেননি) উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, জ্যঁ-লুক গদার অসুস্থ ছিলেন না। তিনি খুবই ক্লান্ত ছিলেন। তার তাই এই ক্লান্তির অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন।

১৯৩০ সালের ৩ ডিসেম্বর প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন জ্যঁ-লুক গদার। পঞ্চাশের দশকে তিনি চলচ্চিত্র জগতে আত্মপ্রকাশ করেন। তার হাত ধরেই বদলে যেতে থাকে ফরাসি চলচ্চিত্রের ধারা। এজন্য তাকে বলা হয় ফ্রেঞ্চ নতুন ধারার চলচ্চিত্রের রূপকার।

মূলত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আবির্ভূত ফরাসি নির্মাতাদের মধ্যে সেরা বিবেচনা করা হয় গদারকে। তার নির্মিত বিখ্যাত কয়েকটি সিনেমা হলো ‘উইকেন্ড’, ‘পাইরট লে ফু’, ‘লা পেটিট সোলদাদ’, ‘ইন প্যারিস অব লাভ’, ‘দ্য কারাবিনারস’, ‘দ্য ইমেজ বুক’, ‘অল দ্য বয়েজ আর কল্ড প্যাট্রিক’ ইত্যাদি।

রানির কফিন আনা হয়েছে বাকিংহাম প্যালেসে, রাজপরিবারের একসঙ্গে নৈশভোজ

স্কটল্যান্ডের এডিনবরা থেকে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মরদেহ লন্ডনে আনা হয়েছে। বিবিসি বলছে, বাকিংহাম প্যালেসে রানির মরদেহ রাখা হয়েছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রানির কফিন গ্রহণের পর গতকাল রাজপরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে নৈশভোজ করেছেন।

রানির কফিন বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লস, কুইন কনসোর্ট, প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারি এবং পরিবারের অন্যরা গ্রহণ করেছিলেন। রানির প্রয়াত বোন প্রিন্সেস মার্গারেটের সন্তান লেডি সারাহ চাট্টো এবং আর্ল স্নোডনও উপস্থিত ছিলেন।

এয়ার চিফ মার্শাল স্যার মাইক উইগস্টন মঙ্গলবার স্কাই নিউজকে বলেন, কফিনটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পশ্চিম লন্ডনের আরএএফ নর্থোল্ট এয়ারবাস থেকে গাড়িতে করে বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছেছিল। এর আগে মঙ্গলবার সকালে স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ থেকে একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

রানির মেয়ে প্রিন্সেস অ্যান ফ্লাইটে রানির কফিনের সঙ্গে ছিলেন। রানির চার সন্তানের মধ্যে অ্যানই সোমবার বালমোরাল ক্যাসেল থেকে এডিনবার্গে তাঁর কফিনের সঙ্গে ছিলেন।

এক বিবৃতিতে অ্যান বলেছিলেন, ‘মায়ের শেষযাত্রায় সঙ্গে থাকা সম্মানের এবং বিশেষাধিকার ছিল। এই যাত্রায় অনেকের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সাক্ষী হয়েছি। আমরা সবাই অনন্য স্মৃতি শেয়ার করব। আমি প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই।’

এডিনবার্গের সেন্ট জাইলস ক্যাথেড্রালে রানির কফিনের পাশে অবস্থান করেছিলেন রাজা তৃতীয় চার্লস, প্রিন্সেস অ্যান, প্রিন্সেস অ্যান্ড্রু ও এডওয়ার্ড।
ব্রিটেনের নতুন রাজা হিসেবে চার্লসের উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রথম ভ্রমণের পর মঙ্গলবার বাকিংহাম প্যালেসে রানীর কফিন গ্রহণ করার জন্য রাজা ও কুইন কনসোর্ট রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।
আজ বুধবার রানির কফিন ওয়েস্টমিনস্টারে নেওয়া হবে। সেখানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগের চার দিন রানির কফিন রাখা হবে। পরে তাঁর কফিন উইন্ডসরে যাবে, যেখানে তাঁকে সমাহিত করা হবে। সূত্র : সিএনএন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল ঘোষণা: বাদ পড়লেন মাহমুদউল্লাহ

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাকিব আল হাসান দলকে নেতৃত্ব দেবেন। সহ-অধিনায়ক হিসেবে আছেন নুরুল হাসান সোহান। তবে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ তারকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

আজ বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়মের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে দল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন।

গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচ খেলে মাহমুদউল্লাহ মাত্র ১৬.৫৪ গড় ও ১০২.৮২ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর এই ডানহাতি ব্যাটার এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১২১টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক থাকা এই তারকা বিশ্বকাপে বাদ পড়ায় এই সংস্করণে তার ভবিষ্যৎটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন লিটন দাস, নুরুল হাসান, ইয়াসির আলী ও হাসান মাহমুদ। তারা কেউই এশিয়া কাপে ছিলেন না। তবে মাহমুদউল্লাহ ছাড়াও এশিয়া কাপের দল থেকে বাদ পড়েছেন এনামুল হক, মোহাম্মদ নাঈম, পারভেজ হোসেন ও মেহেদী হাসান। এছাড়া এশিয়া কাপ শেষে টি-টোয়েন্টিতে অবসর নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ডাক পেয়েছেন ইয়াসির আলী রাব্বি, হাসান মাহমুদ ও এবাদত হেসেন। এছাড়া সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপে দলে থাকা সাব্বির রহমানও সুযোগ পেয়েছেন। তবে সৌম্য সরকারকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ১৬ অক্টোবর (বাছাইপর্ব) থেকে। তবে সুপার টুয়েলভে সরাসরি জায়গা করে নেওয়া বাংলাদেশ গ্রুপ ‘টু’তে ২৪ অক্টোবর বাছাই থেকে উঠে আসা দলের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান (সহ-অধিনায়ক), লিটন দাস, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, ইয়াসির আলী রাব্বি, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাজমুল হোসেন শান্ত, নাসুম আহমেদ।

স্ট্যান্ডবাই: শরীফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান, সৌম্য সরকার।

লাইফবয় সাবানের বিজ্ঞাপন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারে লিগ্যাল নোটিশ

লাইফবয় সাবান ব্যবহার করলে ‌‘৩০০ টাকা মূল্যের ডাক্তারের পরার্মশ ফ্রি’ অফার দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ ও প্রত্যাহার করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নওশিন শারমিন পূরবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট এসকে ইউসুফ রহমান এ নোটিশ পাঠান। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব টিভি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এই বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ইউনিলিভারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার এর পণ্য লাইফবয় সাবানের একটি বিজ্ঞাপন বাংলাদেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করা হচ্ছে, সেখানে বলা হয়েছে লাইফবয় সাবান ব্যবহার করলে ৩০০ টাকা মূল্যের চিকিৎসকের পরামর্শ তারা ফ্রি দেবে। যা চিকিৎসক সমাজের জন্য অত্যন্ত মানহানিকর।

এতে জানানো হয়, এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের অসম্মান করা হয়েছে ও খ্যাতি নষ্ট করা হয়েছে। কারণ, চিকিৎসকরা কোনো পণ্য নয় যে আপনি তাদের মূল্য নির্ধারণ করতে পারবেন। যেখানে চিকিৎসকদের সেবা বিবেচনা করা হয় মহৎ হিসেবে এবং তারা বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্যের অবস্থার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ‘অবমাননাকর’ বিজ্ঞাপন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া যেমন টিভি চ্যানেল, ইউটিউব, ফেসবুক ইত্যাদি থেকে প্রত্যাহার করা উচিত এবং বাংলাদেশের চিকিৎসক সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

পাশাপাশি আর কখনো কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অবমাননাকর বিজ্ঞাপন তৈরি এবং প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় খুব শিগগিরই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়।

মিতু হত্যার অভিযোগে বাবুল আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

চট্টগ্রামে মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার ঘটনায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ছয় বছর আগে যে মামলা করেছিলেন, তাতে তাকেই প্রধান আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের সুপার নাঈমা সুলতানার নেতৃত্বে তদন্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ওমর ফারুকসহ এ সংস্থার একটি দল মঙ্গলবার আদালতে গিয়ে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।

নাঈমা সুলতানা বলেন, মোট সাতজনকে এ মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে আমরা বাবুল আক্তারকে আসামি হিসেবে পেয়েছি। আমরা আগে বারবার বলেছি হত্যাকাণ্ড কেন হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর আমরা তদন্ত করেছি। ১ নম্বর আসামি বাবুল আক্তার কীভাবে জড়িত তা আমরা পেয়েছি।

বাকি আসামিদের নাম জানতে চাইলে নাঈমা সুলতানা বলেন, তদন্ত করে যাকে আসামি পেয়েছি, তাদেরই অভিযুক্ত করেছি। বিচার প্রক্রিয়ায় গেলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। নো মোর কমেন্টস।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনারের (প্রসিকিউশন) কার্যালয়ে পৌঁছান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ এনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার ও চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের এসপি নাঈমা সুলতানাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে মামলার আবেদন জমা দেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী জানান, বাবুল আক্তার একটি মামলার আবেদন করেছেন। আদালত এখনো আদেশ দেননি।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসপি মো. নাজমুল হাসান, খুলশী থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা, সিএমপির ডিবি বন্দর জোনের সহকারী কমিশনার একেএম মহিউদ্দিন সেলিম ও পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার ইন্সপেক্টর কাজী এনায়েত কবির।

২০২১ সালের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। এরপর থেকে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

মামলায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ (১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়- ২০২১ সালের ১০ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত সময়ে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ও জেলা অফিসে বাবুল আক্তারের উপর নির্যাতন করা হয়। স্ত্রী হত্যার ঘটনায় মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য বাবুল আক্তারের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন আইনজীবীরা।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার কাছে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ওই বছরের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বাবুলের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে তার শ্বশুরের করা মামলার অভিযোগপত্রে তাকে (বাবুল আক্তারকে) প্রধান আসামি করা হয়।