বিএনপিকে ঠেকাতে রাজপথের অবস্থান অব্যাহত রাখবে আ. লীগ

ঢাকা: বিএনপির বিপরীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে অবস্থান নেওয়ায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখায় বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করতে রাজপথের এই অবস্থান অব্যাহত রাখবে আওয়ামী লীগ।

সরকার পতনে বিএনপি ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগও বিএনপির এ আন্দোলনকে রাজপথে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সব সংঘর্ষের ঘটনা ইতোমধ্যে রক্তক্ষয়ী পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ঢাকার বনানী ও মিরপুর এবং মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভোলাসহ ২০টির বেশি জেলায় এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বিএনপির অভিযোগ তাদের কর্মসূচিতে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ হামলা চালাচ্ছে।

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্দোলনের নামে বিএনপি সন্ত্রাস ও সহিংসতা চালাচ্ছে, পুলিশের ওপরে হামলা করছে। নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছে। অতীতে যেভাবে বিএনপি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার পতনের চেষ্টা করেছিল, আবারো সেই ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। বিএনপি যাতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলতে না পারে, পূর্বের অবস্থায় নিয়ে যেতে না পারে এ কারণে আগে থেকেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির এ সহিংসতা নৈরাজ্য প্রতিরোধে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো রাজপথের অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে দলের নীতি নির্ধারকরা জানান।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে রাজপথে আবারও সহিংসতা ও সন্ত্রাস সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বিএনপি। আজকাল বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে বাঁশের লাঠির সাথে জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে, এটা কীসের আলামত?

এর আগের দিন ২০ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা মাঠ ছাড়ব না। রাজপথ দখলে নিতে হবে, সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। আপনারা (বিএনপি) ফাঁকা মাঠে তাফালিং করবেন আর আওয়ামী লীগ আঙুল চুষবে, এটা মনে করবেন না।

বিএনপির অব্যাহত কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, বিএনপি আগুন-সন্ত্রাসের পথেই হাঁটছে। অতীতের মতো তারা আবারও দেশে আগুন-সন্ত্রাস চালাতে চায়। তারা সেটারই মহড়া দিচ্ছে। মনে আছে ২০১৩ সালে গাইবান্ধায় পুলিশের গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছিল। সর্বশেষ মুন্সিগঞ্জেও সেই ঘটনা ঘটাতে পুলিশের ওপরে হামলা করেছে। একইভাবে পুলিশকে পিটিয়েছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করবে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, তারা অবশ্যই এ ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখায় ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নেমেছে এবং অবস্থান অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে যুবলীগ সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে মাঠে রয়েছে। দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছে সংগঠনটি। রাজধানীতে যুবলীগ ঢাকা মহান উত্তর ও দক্ষিণ এলাকা ভিক্তিক বিক্ষোভ সমাবেশ করছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, আজ থেকে আমরা মাঠেই থাকবো, মাঠে থেকেই আপনাদের সকল নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র আর হিংসার জবাব দেবো। যদি বিএনপি-জামায়াত এদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটায়, জনগণের বন্ধু পুলিশের ওপর হামলা করে, জনগণের জান-মালের ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে যুবলীগের প্রত্যেক নেতা-কর্মী রাজপথে থেকে তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

এরপর থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে যুবলীগ। গত ২২ সেপ্টেম্বর শ্যামলীতে, তার আগে মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, সবুজবাগ, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, শ্যামপুর, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংগঠনটি। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে মিপুর ১ নম্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংঘাত বাড়ছে মিয়ানমারে, হিমশিম খাচ্ছে সেনাবাহিনী

মিয়ানমারের আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সামরিক বাহিনী বা সরকারের সংঘাতের ইতিহাস পুরনো হলেও এখন সেটা আরও বড় আকার ধারণ করেছে। গণতন্ত্রপন্থী যোদ্ধারা আদিবাসী ও বিচ্ছিন্নতাপন্থী গ্রুপগুলোর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে শুরু করেছে। সীমান্ত বা দূরবর্তী অঞ্চলগুলোয় একসময় সংঘাতপ্রবণ হলেও এখন সেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলেও।

পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, মিয়ানমারে এখন যে অবস্থা চলছে, তাতে অচিরেই দেশটি একটি পুরাদস্তুর গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। মিয়ানমারের এই সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারতেও। খবর: বিবিসির

বাংলাদেশের ঘুমঘুম ও উখিয়া সীমান্ত এলাকায় অব্যাহত গোলাগুলির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সীমান্তের ভেতরে গোলা পড়ায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কয়েকবার সতর্কও করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে অনেক মানুষ পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। দেশজুড়ে সংঘাত পরিস্থিতিতে রাজধানী নেপিট এবং আশেপাশের শহরগুলোয় রাতে কারফিউ জারি করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত শহরে চলাফেরা করা যাবে না। সেই সঙ্গে চারজনের বেশি একত্র হওয়া যাবে না। কোনরকম বিক্ষোভ বা প্রকাশ্য বক্তব্য দেয়া যাবে না।

থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের সংবাদপত্র ইরাওয়ার্দি জানিয়েছে, কারফিউয়ের পাশাপাশি রাজধানীতে বাঙ্কার তৈরি করছে সামরিক বাহিনী। এছাড়া পুলিশের নতুন নতুন চৌকি তৈরি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের সংখ্যা অনেক বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সামরিক বাহিনীর সদস্য বা পরিবার বসবাস করে, সেসব এলাকায় চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থাগুলোর খবর অনুযায়ী, সহিংসতা প্রবণ এলাকাগুলো ছাড়াও মিয়ানমারের অসংখ্য শহরে কারফিউ এবং মানুষজনের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার তারা নতুন একটি আইন জারি করেছে যে, সামাজিক মাধ্যমে সরকারবিরোধী কোন পোস্টে লাইক বা শেয়ার করা হলেও কারাদণ্ড দেয়া হবে।

বিমানবন্দরে সাফজয়ীদের রাজকীয় বরণ

সাত জাতি সাফ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফেরার পর বাঘিনীদের রাজকীয় বরণ করে নিল ঢাকা। প্রিয় খেলোয়াড়দের ধুমধামে সংবর্ধনা দিলো ঢাকাবাসী।

বুধবার বিকেলে নেপাল থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায় তারা।

সোমবার সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে (রঙ্গশালা) ফাইনালে বাংলাদেশ চারবারের রানার্সআপ এবং স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০০৬ সালের পর তাদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো সাফ মহিলাদের মুকুট জয় করল বাঘিনীরা।

দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাঘিনী দলকে স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

এ সময় বিমানবন্দরে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানানোর পর কেক কাটা হয়। নারী ফুটবলারদের গৌরবময় কৃতিত্বের জন্য স্বাগত জানাতে হাজার হাজার ফুটবল-পাগল ও ভক্ত ঢাকা বিমানবন্দরে ভিড় করেন।

বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন, বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও মিডফিল্ডার সানজিদা আক্তার।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিকেল সাড়ে ৩টায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে সুসজ্জিত ওপেন-ডেক বিআরটিসি বাসে ওঠেন জাতীয় বীরাঙ্গনারা। মতিঝিলে বাফুফে অফিসে যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা।

ফাইনালের আগে, বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের সদস্য সানজিদা আক্তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছিলেন, তারা জয় উদযাপন করার জন্য একটি খোলা ডেক বাস নাও পেতে পারে। তবুও তারা টুর্নামেন্ট জয়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ফাইনালে সাবিনা আক্তারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের হয়ে দুটি গোল করেন কৃষ্ণা রানী সরকার এবং অপর গোলটি করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র।

ফ্লাইটটি ঢাকায় আসার আগেই হাজার হাজার ভক্ত দলে দলে এসে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। তারা মেয়েদের অভিনন্দন জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল।

সূত্র : ইউএনবি

 

অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে পদ্মা সেতু

সরকারি নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করেই শরীয়তপুরের জাজিরার পদ্মা সেতুসংলগ্ন পদ্মা নদীতে শত শত অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র।

পদ্মা সেতুর কাছ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এক দিকে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু।

অন্যদিকে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে চারটি গ্রাম শত শত একর ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ প্রায় এক হাজার পরিবার। এদিকে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ ও নদী শাসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলকাবাসী।

তবে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, পদ্মা সেতুর পিলারের সুরক্ষায় কিছু ড্রেজারের অনুমতি থাকলেও অনেক অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। আমরা কয়েক দিন আগে ২১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছি। জাজিরা সীমান্তে অবৈধ ড্রেজার চললে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নিরাপত্তা চেয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম কোনারপাড়া নো মেনস ল্যান্ডের (শূন্যরেখা) শিবিরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা নিজেদের নিরাপত্তা দাবি করে জাতিসংঘের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। জাতিসংঘের কাছে ইমেইলে পাঠানো চিঠিতে শিবিরটির সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার বাহিনীর মর্টারশেল ও গোলাবর্ষণের ঘটনায় চরম আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়নের কোনারপাড়া সংলগ্ন শূন্যরেখার ক্যাম্পে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ জানিয়েছেন, তার সই করা চিঠিটি ইমেইলের মাধ্যমে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। একই দাবিতে রোহিঙ্গারা গতকাল সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শিবিরে এক মানববন্ধন কর্মসুচিও পালন করে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছি মিয়ানমার সামরিক জান্তা বাহিনী যে কোনো মুহূর্তে  শূন্যরেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণ করতে পারে। ’

এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে চিঠিতে শূন্যরেখার আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি জানানো হয়েছে বলেও যোগ করেন দীল মোহাম্মদ।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে ঘুমধুমে শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সেখান থেকে তাড়ানোর জন্য নানা পাঁয়তারা করে আসছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এখনো হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে সেখানকার রোহিঙ্গাদের। এমনকি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে শূন্যরেখায় মর্টারশেল ও গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। এতে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু ও পাঁচজন আহত হয়েছে।

এদিকে সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্টের অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা মর্টারশেল হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করে মিয়ানমারের মর্টারশেলে রোহিঙ্গা যুবক মো. ইকবাল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান দীল মোহাম্মদ।

ভারতের মানচিত্র থেকে বাদ অরুণাচল, লাদাখ! বিতর্ক তুঙ্গে

সাংহাই কো-অপারেশন সম্মেলনে চীনের পক্ষ থেকে যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছিল সেখানে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বাদ দেয়া হয়েছে অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখকে। এমনকী অধিকৃত কাশ্মীরকেও দেখানো হয় পাকিস্তানের অংশ হিসেবে!

স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই ঘটনায়। পাশাপাশি চীনের এই প্রবণতাকে মারাত্মক বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যেহেতু নতুন এই মানচিত্র পেশ করার মঞ্চ হিসেবে সরাসরি এসসিও সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চকে বেছে নিয়েছে তারা। আরও বিস্ময়কর বিষয় হল, ওই সম্মেলনের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

  চীনের তরফে যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়, সেখানে ভারতকে দেখানো হয়েছে একটি অতি ক্ষুদ্র দেশ হিসেবে। এমনকি, মানচিত্রে দেখানো হয়েছে ভারতের থেকে কাজাখস্তানের আয়তন বড়। এই নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। কংগ্রেস বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের উপহার হিসেবে চীন এই মানচিত্র উপহার দিয়েছে। মোদি কি এই জায়গাগুলো চীনকে উপহার দিয়েছেন? টিআরএসের কটাক্ষ, চীনের প্রকাশিত মানচিত্রে ভারত কাজাখস্তানের থেকেও ছোট দেশ! এরপরেও নরেন্দ্র মোদি কেন চুপ? ৫৬ ইঞ্চির ছাতি কোথায় লুকিয়ে ছিলেন?

তবে মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বৈঠকে ভারতকে সাহায্য করার বার্তা দিয়েছেন জিনপিং। ২০২৩ সালের এসসিও সম্মেলন আয়োজন করবে ভারত। সেখানে ভারতকে সবরকমের সাহায্য করার বার্তা দিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: টাইমস নাউ।

 

নদী ভাঙনে নিঃস্ব মানুষ

কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, রাজশাহী, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে ভাঙনে রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা, কবরস্থানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ষ ভাঙনরোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয় : ড. আইনুন নিশাত ষ ১২ জেলার ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি নদীতে বিলীন হতে পারে : সিইজি

বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত  বলেন, নদীভাঙন বিষয়টাকে সরকার কতটা গুরুত্বের সাথে দেখছে সেটা বড় প্রশ্ন। ভাঙন রোধে আজও টেকসই বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এর ফলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার বিষয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। নদীভাঙন রোধে সরকার প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে নদীর তীর রক্ষায় ও বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণে প্রচুর অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, হচ্ছে। তবে এতে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে, সে অনুপাতে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং অনিয়ম দুর্নীতির ফলে নদী রক্ষায় যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়, সেগুলো কিছুদিনের মধ্যেই ভেঙে যায়। প্রতি বছরই বাঁধ ভাঙে, আবার তা মেরামত করা হয়।

এ বছর ভরা বর্ষায় দেশে তেমন কোনো বন্যা হয়নি। ফলে অন্যান্য বছরের মতো এবার জুলাই-আগস্টে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপে দেখা যায়নি। তারপরও এসব অঞ্চল ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) পূর্বাভাস বলছে, এ বছর দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১২ জেলার ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি নদীতে বিলীন হতে পারে। এ কারণে ফসলি জমির পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারাতে পারেন প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা সিইজিআইএস মূলত যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা অববাহিকার সম্ভাব্য ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে থাকে। এবার যমুনায় ১৪টি স্থানে, গঙ্গার ৭টি ও পদ্মার ১টি স্থানে ভাঙন বেশি হতে পারে বলে তারা অনুমান করছে। সিইজিআইএসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এবার দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভাঙন বেশি হবে। জেলাগুলো হলোÑ কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, রাজশাহী, ফরিদপুর ও মাদারীপুর। এসব জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে ১৬৫ হেক্টরে মানুষের বসতি আছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৭৯০ মিটার বেড়িবাঁধ, ২ হাজার ২৬৫ মিটার সড়কপথ ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। এর মধ্যে জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছেÑ ২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, ১৬টি মসজিদ ও ৫টি হাটবাজার, ২টি কবরস্থান, ২টি বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়, এতিমখানা, বাসস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মাদারীপুরের ৫১৫ হেক্টর, কুষ্টিয়ার ২১৫ হেক্টর এবং টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের প্রায় ২০০ হেক্টর এলাকায়।

 

সিইজিআইএসের নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান বলেন, আমরা নিয়মিত ভাঙনের সম্ভাব্য শিকার এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সরকারকে তথ্য দিই। সরকার থেকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু দেশের অনেক এলাকায় অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে হঠাৎ ভাঙন বেড়ে যায়। তাই যথাযথ বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে কোনো এলাকা থেকে কী পরিমাণে বালু উত্তোলন করা যাবে, তার একটি কঠোর নিয়ম থাকা উচিৎ।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জানা যায়,

মাদারীপুর- থেমে থেমে চলছে মাদারীপুরের বিভিন্নস্থানে নদীভাঙন। বিশেষ করে শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীর ভাঙনে পাঁচটি ইউনিয়নে অসংখ্য বসতভিটা-ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে। নদী ভাঙনে সম্প্রতি শিবচর উপজেলার সন্যাসীরচর, চরজানাজাত, দত্তপাড়া, নিলখী ও বহেরাতলা ইউনিয়নে সাত শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও ভাঙনের শিকার হয়েছে দুটি বেড়িবাঁধ। ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য পরিবার উঁচু সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙনের শিকার সন্নাসীর চর ৮নং ওর্য়াডের জামে মসজিদটি। উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির পাশের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকও নদী ভাঙনের মুখে রয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে ইউনিয়নটির কাজীরসুরা বাজার। অপরদিকে রাজৈর উপজেলায় কুমার নদের অব্যাহত ভাঙনে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে গেছে। নানা অজুহাতে বালুদস্যুদের অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, স্রোত ও ট্রলার চলাচলে ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙছে কুমার নদের পাড়, গৃহহারা হয়ে কাঁদছে নদীর পাড়ের মানুষ।

মানিকগঞ্জঃ জেলার ধলেশ্বরী ও ইছামতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ঘিওর হাটের ৮টি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় অর্ধশত বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘিওরের পরান গরুর হাট, কুস্তা কবরস্থান, কুস্তা বেইলি ব্রিজসহ শতাধিক পরিবার। ভাঙনরোধ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, এবছর নদী ভাঙনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘিওর উপজেলার কুস্তা ও ঘিওরের গরুর হাট এলাকার মানুষ। এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী এলাকার হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাঙনরোধে ১৫ কোটি টাকার জিওব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে প্রয়োজনের তুলনায় জিওব্যাগ কম ফেলায় তাতে কোনো ফল হয়নি।
ফরিদপুর থেকে আনোয়ার জাহিদ জানান, জেলা সদরসহ সদরপুর, চরভদ্রাসন, আলফাডাঙ্গায় উপজেলার পদ্মা নদী ও মধুমতির নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রচÐ নদী ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। দুটি নদীর ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়েছে। তিন উপজেলার ৫টি ইউনিয়ের ২৪টি গ্রামের শত শত বিঘা ফসলি জমি স্কুল, মাদ্রাসা, মন্দির, হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ মূল্যবান স্থাপনা পদ্মা ও মধুমতি নদীর বুকে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে, ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গী খেয়াঘাট, গোলডাঙ্গী, উস্তাডাঙ্গী এবং ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গীর কমপক্ষে তিনটি গ্রাম নদীতে ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হয়েছে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি এবং প্রায় চার শত বাড়ি-ঘর। গত ৭ দিনে একমাত্র ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙী গ্রামের ৭০-৮০টি বসত ভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় দেড়শত পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে।

ফেনীঃ জেলার ফুলগাজী উপজেলায় মুহুরী নদীর দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে অন্তত ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে মানুষের ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট, রোপা আমন ধান, মৎস্য ঘের ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সরেজমিনে গেলে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ভারতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহমান মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে ডুকে পড়লে নদীতে পানি বেড়ে গিয়ে গত রোববার বিকেলে বিপৎসীমার ৮০ মেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রোববার রাত থেকে মুহুরী নদীর পাড়ে বসবাসরত মানুষ নদীর বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাটির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, নদীতে পানির তীব্র চাপের কারণে ভোররাতে মুহুরী নদীর দুটি স্থান ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর অংশে বড় ভাঙনের দেখা দেয়। মুহূর্তে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে থাকে এবং মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলি জমিতে রোপা আমনের ধান ক্ষেত, মৎস্য ঘের, শত শত পুকুরের মাছ, সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়।

টাঙ্গাইলঃ যুমনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও গত কয়েকদিন ধরে কমতে শুরু করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী টাঙ্গাইলের ভ‚ঞাপুর, কালিহাতী, সদর, নাগরপুর ও বাসাইলের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। এতে করে নদী পাড়ের মানুষদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় ভ‚ঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া ও চিতুলিয়াপাড়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙনরোধে এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

গাইবান্ধারঃ তিস্তা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা কখনো বাড়ে, কখনো কমে। কিন্তু ভাঙন বন্ধ হয় না। গত কয়েকদিন থেকে নদীভাঙন রোধে ফেলা জিও ব্যাগসহ নদীতীর দেবে যাচ্ছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে নদী পাড়ের মানুষ। বর্তমানে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের পাড়াসাদুয়া, কাপাসিয়া ইউনিয়নের পাগলারচর, বাদামেরচর, ভাটি কাপাসিয়া ও উজান বুড়াইল, চন্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের ভিটে-মাটি, জমা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে। জানা যায়, উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড পাড়াসাদুয়া গ্রামে নদীভাঙন তীব্রতর হয়েছে। গত এক সপ্তাহে পাড়াসাদুয়া গ্রামে ২৫/৩০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জঃ পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের সর্দারকান্দি ও শম্বু হালদারকান্দি গ্রামের পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি রাতারাতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এ ভাঙনে তিন শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পরেছে। নমকান্দি গ্রামের প্রধীপ গুপ্তের স্ত্রী তুলশী রাণী বলেন, রাতের বেলায় ভাঙন শুরু হয়। একটি ঘর ভেঙে নিতে পেরেছি অনেক মালামাল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মেঘনার অব্যাহত ভাঙনের মুখে গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের কালীপুরা গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পরেছে। ভাঙনে কালিপুরা গ্রামের একটি বিশাল অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। এ ছাড়া জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় শত কোটি টাকায় নির্মিত সেতুর পিলারের বøক ধসে পড়ছে। সেতুর মূল অংশ, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনরোধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

 

যে বাঁশিতে ঘুম ভাঙত, সে বাঁশিতেই চির নিদ্রায় রানী

রানীর রাজত্বের সাত দশক ধরে, ব্রিটিশ জনসাধারণ তার অনেক অদ্ভুত বিষয় জানতে পেরেছিল: তার রসবোধ, তার টুপি, তার পোশাক, সব কিছুই ছিল চর্চার বিষয়। তবে, সোমবার যখন জাতি তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য জড়ো হয়েছিল, তারা রানীর জীবনের একটি কম পরিচিত বিষয় প্রত্যক্ষ করেছিল, সেটি হচ্ছে তার পাইপার বা বংশীবাদক।

তার রাজত্বের বেশিরভাগ সময়, রানী তার জানালার নীচে বাজানো ব্যাগপাইপের শব্দে উজ্জীবিত হয়ে উঠতেন। রাজকীয় এই পাইপার কয়েক দশক ধরে রানীর ব্যক্তিগত অ্যালার্ম ঘড়ি হিসাবে কাজ করতের। তিনি প্রতিদিন সকালে ১৫ মিনিট ধরে ব্যাগপাইপ বাজিয়ে রানীর ঘুম ভাঙাতের। কিন্তু সোমবার, সেই পাইপারই ছিল একটি ভিন্ন ভূমিকায়। যে সঙ্গীতটি রানীর সকালের শুরুর সংকেত দিত, সেই সঙ্গীতই তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সমাপ্তির সংকেত দেয়। যখন তার কফিন উইন্ডসর ক্যাসেলের সেন্ট জর্জ চ্যাপেলের নীচে রয়্যাল ভল্টে নামানো হয়েছিল, তখন তিনি একটি চূড়ান্ত সুর বাজাচ্ছিলেন, ‘এ স্যালুট টু দ্য রয়্যাল ফেন্ডারস্মিথ’’।

চ্যাপেল এবং ডিনের ক্লোইস্টারের মধ্যবর্তী দরজা থেকে পাইপার তার সুর বাজাতে শুরু করেন। এটি করার সময়, তিনি ধীরে ধীরে ডিনারির দিকে হাঁটতে শুরু করেন যাতে চ্যাপেলের মধ্যে সুর ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায়। এটি একটি প্রতীকী পূর্ণ মুহূর্ত ছিল, যা গত বছর প্রিন্স ফিলিপের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুরূপ সমাপ্তি প্রতিফলিত করে। উইন্ডসরে বাজানোর আগে, পাইপার ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেতে রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিলাপের সাথে ‘ঘুম, প্রিয়, ঘুম’ সুর বাজিয়ে এসেছিলেন।

রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পাইপারের এ ভূমিকা চলে আসছে রানী ভিক্টোরিয়ার রাজত্বকাল থেকে। স্কটিশ হাইল্যান্ডস ভ্রমণের সময়, তিনি এবং তার স্বামী, প্রিন্স অ্যালবার্ট, ব্যাগপাইপের সুরের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। ১৮৪৩ সাল থেকে রাজকীয়ভাবে পাইপার নিয়োগ শুরু হয়। তখন থেকে দ্বিতীয় এলিজাবেথের আমল অবধি মোট ১৭জন বাদক প্রধান পাইপারের ভূমিকা পালন করেছেন। সূত্র: সিএনএন।

 

সাফের শিরোপা জিতে বাংলাদেশের ইতিহাস

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ফাইনালের মঞ্চে নেপালকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা।

আজ সোমবার কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৫টায় মাঠে নামে দুদল। যেখানে বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন কৃষ্ণা রাণী সরকার। আরও একটি গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। নেপালের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন আনিতা বাসেট।

সাফের ষষ্ঠ আসরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৬ আসরে শিলিগুড়িতে ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে হতাশ হয় লাল-সবুজের দল। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘোচাল।

এদিন খেলার ১৩তম মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোলে লিড পায় বাংলাদেশ। ১০ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়র স্বপ্নার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। আর মাঠে নেমেই তিন মিনিটের মাথায় গোল করেন তিনি। ডান দিক থেকে মণিকা চাকমার ক্রস পেয়ে ডি বক্সে থাকা শামসুন্নাহার পায়ের আলতো শটে নেপালের জালে বল জড়ান।

ম্যাচের ৪২তম ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সাবিনার বাড়ানো এক থ্রু পাসে গোলটি করেন কৃষ্ণা রাণী সরকার।

বিরতির পর অবশ্য পাল্টা আক্রমণ চালায় নেপাল। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে তারা সফলতাও পায়। আনিতার বাসেটের ডান পায়ের জোরাল শটে ব্যবধান কমায় স্বাগতিকরা।

তবে ৮ মিনিট পরে ফের ব্যবধান বাড়ায় বাংলাদেশ। ৭৮তম মিনিটে মাঝমাঠের একটু সামনে থেকে ডি বক্সের ডান দিকে লম্বা পাস পান কৃষ্ণা। সুযোগ হাতছাড়া করেননি। নেপালি গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জড়ান নেপালের জালে।

ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হলে ৩-১ ব্যবধানের আনন্দ নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন বাংলাদেশের সাবিনা।

এর আগে গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও ভারতকে হারায় বাংলাদেশ। পরে সেমিফাইনালে ভুটানকে উড়িয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

মীরসরাইয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের চিনকিরহাট এলাকায় নিজের দোকানের সামনে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।

নিহত ৩০ বছর বয়সী শহীদুল ইসলাম আকাশ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দোকানের সামনে তার উপর দুর্বৃত্তরা হামলা করে। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে নিতে পরামর্শ দেন। সেখানে রাতে তিনি মারা যান।’

তিনি জানান, শহীদুলের দোকানে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। তবে তাতে সংযোগ ছিল না বলে হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি।

বছর চারেক আগেও একবার দুর্বৃত্তরা শহীদুলের উপর হামলা করেছিল বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামরুজ্জামান কামরুল।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শহীদুল নিজ এলাকায় একটি ফার্নিচারের দোকান চালাত। সে এবার ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিল। এর আগে ২০১৮ সালেও তার উপর এভাবে হামলা হয়েছিল। সেবার প্রাণে বেঁচে যায় সে। তার উপর হামলার ঘটনায় কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছিল সে সময়।’

তবে ওই হামলার তথ্য জানা নেই ওসির।

তিনি বলেন, ‘আমি এর পরে যোগ দেয়ায় তখনকার ঘটনা জানি না। মামলার কোনো নথি থাকলে খোঁজ নিয়ে দেখব।’