সিরাজগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মা ‍ও দুই সন্তান হত্যার রহস্য উন্মোচন, হত্যাকারী গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মা ‍ও দুই সন্তান হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পাথরের শিলসহ আলামত উদ্ধার করা হয়। সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।
গ্রেফতারকৃত হত্যাকারি আইয়ুব আলী জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার মোকছেদ মোল্লার ছেলে। সে সম্পর্কে নিহত রওশন আরার সৎ ভাগ্নে।
পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে হত্যাকারি আইয়ুব আলী জেলার বেলকুচি উপজেলার মবুপুর গ্রামে তার সৎ খালা রওশন আরার বাড়িতে আসে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহন করা তাঁত শ্রমিক আইয়ুব আলী নিহত রওশন আরার নিকট টাকা ধার চান। ধার না পেয়ে গভীর রাতে রওশন আরার ঘরে থাকা চারটি ট্রাংক খুলে টাকা চুরির জন্য খোঁজাখুজি করার সময় রওশন আরা ঘুমের মধ্যে নড়ে ওঠে। রওশন আরা চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরেছে ধারনা করে তার বুকে শিল পাথর দিয়ে আঘাত করে ঘাতক, এরপর গলাটিপে তাকে হত্যা করে। রওশন আরার পাশে ঘুমিয়ে থাকা তার তিন বছরের শিশু সন্তান মাহিন কান্নাকাটি শুরু করলে তাকেও গলাটিপে হত্যা করে আইয়ুব। এসময় রওশন আরার অপর সন্তান জিহাদ জেগে উঠলে তাকেও গলাটিপে হত্যা করে ঘরের দরজায় শিকল লাগিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক আইয়ুব।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার তিনদিন পর ১ অক্টোবর বিকেলে নিজ ঘর থেকে সুলতান আলীর স্ত্রী রওশন আরা, তার দুই শিশু সন্তান মাহিন ও জিহাদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐদিন রাতেই নিহতের ভাই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে বেলকুচি থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বেলকুচি থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাবহারের মাধ্যমে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো: জুলহাজ উদ্দিন (বিপিএম পিপিএম), উপ-পরিদর্শক ওয়াদুদ আলী পিপিএম ও সহকারি উপ-পরিদর্শক মো: মিন্টু মিয়া পিপিএম এর নেতৃত্বে একটি টিম রবিবার দিনগত রাত সোয়া বারটার দিকে জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নন্দিগাতি গ্রাম থেকে মুল হত্যাকারি আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে আলামত উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) জানান, ঘাতক আইয়ুব আলীকে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) সামিউল ইসলাম, বেলকুচি সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার সিদ্দিক আহম্মেদ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া হোসেন, বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ তাজমিলুর রহমান ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির।

 

সবার জন্য দরজা খোলা জানালেন মির্জা ফখরুল

বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে দ্বিতীয় ধাপে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শুরু করেছে বিএনপি। এতে সব দলের জন্য দরজা খোলা আছে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিকে আজ দ্বিতীয় ধাপের প্রথম বৈঠকে ছিল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সাথে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনে বিএনপির সাথে একমত হয়েছে দলটি।

রোববার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক শেষে বিষয়টি জানান মির্জা ফখরুল এবং কল্যাণ পার্টি চেয়্যারম্যন মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, এই অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আন্দোলন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সাথে বসেছিলাম।

তিনি বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আন্দোলন শুরু করব। আন্দোলনের দাবিগুলোর সাথে আমরা একমত হয়েছি। দাবিগুলো হচ্ছে- নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন গঠন, একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। আন্দোলনে কাউকে গ্রেফতার ও কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা না দেয়া হয় সেই ব্যাপারে একমত হয়েছি।

মির্জা ফখরুলের সাথে যোগ করে কল্যাণ পার্টি চেয়্যারম্যন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ধর্মীয় অঙ্গনে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে দেয়া হয়েছে। তাদের মুক্তির ব্যাপারেও আমাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বিএনপি ও কল্যাণ পার্টি কোনো অবস্থাতেই ধর্মীয় অঙ্গনে নেতাদের উপর অত্যাচর-নিপিড়নকে অবহেলা করছে না। আমরা সেটাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।

যুগপৎ আন্দোলনের তারিখ না জানালেও তিনি বলেন, ‘চকম আছে। আপনার প্রস্তুত থাকতে পারেন। আমি মুক্তিযোদ্ধা, আমি মনে করি এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে সংগ্রাম- সেটা আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ। আমরা সবাই মিলে লড়ব, জয়ী হব। জয় ব্যতীত অন্য কিছু নাই। কল্যাণ পার্টি যুগপৎ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। ’

দ্বিতীয় দফার সংলাপে জাতীয় পার্টির থাকবে কিনা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, সময় হলে জানতে পারবেন। সবার জন্য দরজা খোলা রয়েছে।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন, অতিরিক্ত মহাসচিব, নুরুল কবির পিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান সাকিব, যুগ্ম মহাসচিব রাশেদ ফেরদৌস সোহেল মোল্লা, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাহবুবুর রহমান শামিম, সেক্রেটারি জামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু হানিফ, সেক্রেটারি আবু ইউসুফ সুমন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গ্রাম শহরে পরিণত হয়েছে: তোফায়েল

বিএনপি ক্ষমতায় এলেই অন্যায়-নির্যাতন করে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। আজ রোববার বিকেলে ভোলা সদরের কাচিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘তারা আবারও ২০০১ সালের মতো ধর্ষণ, নির্যাতন, অত্যাচার করবে। সুতরাং আপনারা সতর্ক থাকবেন, যাতে কোনো মতেই অশুভ শক্তি ক্ষমতায় আসতে না পারে। বিএনপি শুধু বক্তৃতা-বিবৃতি দেয়, অপপ্রচার চালায়, কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রামগুলো শহরে পরিণত হয়েছে।’

কাচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির হোসেন মাস্টারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মমিন টুলু, সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকিব, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পাচ্ছে ৪৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

৪৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৫ ও ১৪২৬। কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১৪২৫ সালের ১৫ ব্যক্তি ও সংগঠনকে এবং ২১ ব্যক্তি ও সংগঠনকে ১৪২৬ সালের জন্যে পুরস্কার দেওয়া হবে।

কৃষির বিভিন্নখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত ব্যক্তি ও সংস্থার মধ্যে তিনটি স্বর্ণপদক, ২৫টি ব্রোঞ্জপদক এবং ১৬টি রৌপ্যপদক বিতরণ করা হবে।

আগামী ১২ অক্টোবর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পুরস্কার প্রদান করবেন। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কৃষিমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

প্রত্যেক স্বর্ণপদক বিজয়ী পাবে ২৫ গ্রাম ওজনের ১৮-ক্যারেট স্বর্ণপদকসহ এক লাখ টাকা করে, রৌপ্যপদক বিজয়ী ২৫ গ্রাম খাঁটি রৌপ্য পদকসহ ৫০ হাজার টাকা করে এবং ব্রোঞ্জ বিজয়ী প্রত্যেকে একটি করে ব্রোঞ্জপদকসহ ২৫ হাজার টাকা পাবে।

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ, সমবায়, প্রেরণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বাণিজ্যিক চাষ, বনায়ন, পশুপালন ও হাঁস-মুরগী ও মাছ চাষের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন, যা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গঠিত সরকার বাতিল করে।

তবে ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু প্রবর্তিত পুরস্কারটির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার তহবিল আইন-২০০৯’ গঠন করে। এই খাতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন, ২০১৬ প্রণয়ন করা হয়।

প্লাস্টিকের পুরোনো বোতলে পানি পানে হতে পারে বিপদ

পানি পান করতে প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই প্লাস্টিকের বোতলে দিনের পর দিন পানি পান ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ।

রোজ বোতলে পানি ভরে অফিসে যান, সন্তানের স্কুলব্যাগেও ভরে দেন প্লাস্টিকের পানির বোতল? তৎক্ষণাৎ কিছু না বোঝা গেলেও দিনের পর দিন এমন কাজ করলে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে শরীরের। দেখা দিতে পারে দুরারোগ্য ব্যাধিও।

এক। বাজারে যে জলের বোতলে পানীয় জল বিক্রি করা হয়, তাঁর অধিকাংশই এক বার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকে তৈরি। এই ধরনের বোতলে দিনের-পর-দিন পানি পান করলে তাতে বৃদ্ধি পায় শরীরে ক্যানসারের আশঙ্কা। প্লাস্টিক বোতল তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ‘বিসফেনল এ’ বা ‘বিপিএ’-সহ একাধিক উপাদান, যা দেহের জন্য ক্ষতিকর। এই ধরনের বোতলে দিনের পর দিন পানি পান করতে থাকলে বোতল থেকে ক্রমাগত এই উপাদানগুলি শরীরে প্রবেশ করতে থাকে। এই উপাদানগুলি রক্তে মিশলে কিডনির সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্লাস্টিকের বোতলে যদি গরম পানি ভরা হয়, তবে আরও বৃদ্ধি পায় এই ঝুঁকি।

দুই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বলছে, প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহারের ফলে দেহে প্রবেশ করতে পারে ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’। প্লাস্টিকের আণুবিক্ষণিক কণাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৯৩ শতাংশ প্লাস্টিক বোতলেই রয়েছে এই ক্ষতিকর উপাদান।

তিন। শুধু যিনি পানি পান করছেন তিনিই নন, এর ফলে ক্ষতি হতে পারে পরের প্রজন্মেরও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘টাইপ ৭’ নামক এক ধরনের প্লাস্টিক থেকে দেখা দিতে পারে প্রজননের সমস্যা। তা ছাড়া বিপিএ হরমোন ও ক্রোমোজোমের সমস্যাও ডেকে আনতে পারে। ক্রোমজোমের সমস্যা তৈরি হলে সন্তানের দেহে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মত কারও কারও।

 

‘নির্বাচন প্রতিহতের নামে বিশৃঙ্খলা করলে আগুনে পুড়বে বিএনপি’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন প্রতিহতের নামে দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা করলে জনগণের প্রতিরোধে বিএনপি আগুনে পুড়বে।

শনিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর হাজারীবাগে থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

বিএনপির ইচ্ছায় নয়, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নাকি আগামী নির্বাচনে ৩০ আসনও পাবে না, তাহলে কি বিএনপি মহাসচিব জ্যোতিষবিদ হয়ে গেছেন?

তিনি বলেন, ২০০৮ সালেও বিএনপির নেত্রী বলেছিলেন আওয়ামী লীগ ৩০ আসনও পাবে না, কিন্তু ভোটে দেখা গেলো উল্টো বিএনপিই ৩০ আসনও পায়নি।

আগামী নির্বাচনের ফল কি হবে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও দেশের জনগণ জানে, বিএনপি মহাসচিবের কথায় হবে না বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হলে বিএনপির কপাল পুড়বে তাই তারা এর বিরোধিতা করছে এমন দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি হচ্ছে ভোট ডাকাতের সর্দার, তাই বিএনপি ভোট ডাকাতি করার জন্য ইভিএমের বিরোধিতা করছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে আসা না আসা বিএনপির একান্ত নিজস্ব ব্যাপার, আওয়ামী লীগও চায় বিএনপি নির্বাচনে আসুক, কিন্তু কাউকে জোর করে নির্বাচনে আনার কোনো দরকার নেই।

হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দিন ফরাজি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির ও সাংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও নুরুল আমিন রুহুল।

 

চার বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেছেন, ‘এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। আমরা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেয়ার কারণে গত চার বছরেও কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।’

শনিবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সম্প্রীতি সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এবার দিনাজপুরে বোর্ডে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব অনেকগুলো প্রশ্নপত্রের প্যাকেট একসাথে করে নিয়ে গেছেন। এটি কি কারণে হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। এবং সেই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা: দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন রয়েছে। আমরা একে অপরের কাজে সহযোগিতা করবো। যারা ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করে তারা কোনো ধর্মের মানুষ নয়। তাদের কাছ থেকে সতর্ক থাকবেন। দুর্গাপূজার সকল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে চাঁদপুর জেলাসহ সারাদেশে উদযাপিত হবে। এজন্য সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার), জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা: জে আর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা: শাহাদাৎ হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাশেদুল ইসলাম, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমতিয়াজ আহমদ।

 

সিরাজগঞ্জে শোয়ার ঘর থেকে মা ও দুই ছেলের লাশ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় শোয়ার ঘর থেকে এক নারী ও তার দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার উপজেলার মবুপুর পশ্চিম পাড়া গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- রওশন আরা (৪৫) ও তার দুই ছেলে মো: জিহাদ (১০) ও মো: মাহিন (৩)।

রওশনের বড় বোন লিলি জানায়, রওশন বেলকুচি সদরে একটি স্পিনিং মিলে কাজ করতেন।

তিনি আরো বলেন, বুধবার তার সাপ্তাহিক অর্থ প্রদানের জন্য মিলটিতে না যাওয়ায়, মিল মালিক তাকে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও কোনো উত্তর পাননি।

রওশনের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে মিল মালিক লিলিকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপর লিলি রওশনের বাড়িতে গিয়ে তিনটি লাশ এক বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মো: আব্দুর রহিম মন্ডল বলেন, লিলির কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে লাশ উদ্ধার করে।

 

সামরিক স্বৈরশাসক ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে হত্যা, গুম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির রাজনীতির সূচনা করেছিলেন-প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামরিক স্বৈরশাসক ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে হত্যা, গুম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির রাজনীতির সূচনা করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করেছি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দেশটির কাছে অনুরোধ করছি।’

শুক্রবার (স্থানীয় সময়) ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতা-কর্মী ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী খুনিদের আশ্রয় দেয়া সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের কথা বলে।

তিনি বলেন, খুনিরা এমনকি চার বছরের শিশু ও নারীসহ শিশুদেরও রেহাই দেয়নি।

তিনি বর্লেন, কিছু সংস্থা বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছে এবং দুই ভারতীয়র নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি তালিকা (নিখোঁজের শিকার) দিয়েছে। কিন্তু, তাদের এখন বিএনপি’র মিছিলে দেখা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

‘আমাদের দ্বারা নির্মিত ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধার জন্য কিছু লোক প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যা খুশি বলছে,। তিনি তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের উদ্দেশ হচ্ছে, মিথ্যা অভিযোগ এনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।
তিনি বলেন, কিছু বাংলাদেশী যারা বিভিন্ন অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের স্বজনরা রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের পেছনে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াত জোটের দ্বারা সংঘটিত অগ্নি সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে বিশ্বকে জানাতে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কারণ এর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চলেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই ষড়যন্ত্রের পেছনে ছিলেন। কিন্তু, আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি।’

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় আঞ্চলিক ও স্থানীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে।

তিনি আবারো জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সব ধরনের শোষণমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীদের উচিত বিদেশীদের কাছে প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা।
তিনি তাদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, যে কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিবর্তে পাসপোর্ট ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।

গুলিতে নয়, ইটের আঘাতে যুবদল কর্মী শাওনের মৃত্যু: এসপি

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে যুবদল কর্মী শহিদুল ইসলাম ওরফে শাওনের মৃত্যুর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান আল মামুন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, গুলিতে নয়, ইটের আঘাতে যুবদল কর্মী শহিদুল ইসলাম ওরফে শাওনের মৃত্যু হয়েছে।

শাওনের মৃত্যুর ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন এসপি।

তিনি বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর একপর্যায়ে পেছন থেকে ছোড়া ঢিলে যুবদল কর্মী শাওন ও তার সঙ্গে থাকা বিএনপির অপর এক কর্মী আঘাত পান। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরদিন রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা সেখানে তিনি মারা যান।

পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিহত শাওনের মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করে। ফরেনসিক বিভাগ লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে ভিসেরা পরীক্ষা করে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ‘মাথায় আঘাতের কারণে শাওনের মৃত্যু হয়েছে’ বলে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনে আরও বলা হয়- মাথার পেছনে থেঁতলানো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গান শুটের কোনো আঘাত নেই। ইটের আঘাতেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শাওন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শাওনের পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। শাওনের পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টার দিকে মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকায় নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বিএনপির নেতাকর্মীরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশও টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় যুবদল কর্মী শাওনসহ বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ শটগানের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সংঘর্ষ প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলতে থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল মিনহাজ উল ইসলাম, সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামানসহ কমপক্ষে ২৫ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদেরকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

নিহত শাওন মুন্সীগঞ্জ উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার মুরমা এলাকার ছোয়াব আলীর বড় ছেলে। তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। পাশাপাশি মিরকাদিম পৌরসভা ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী হিসেবে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।