কিয়েভে দফায় দফায় রাশিয়ার বিমান হামলা, ৮ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দফায় দফায় বিমান হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টার পর কমপক্ষে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় বলে জানাচ্ছেন কিয়েভে বিবিসি সংবাদদাতা।

এসব হামলায় কমপক্ষে আটজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেন সরকারের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন। বেশ কিছু যানবাহন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

বিবিসির একজন সংবাদদাতা যখন টেলিভিশনে সরাসরি খবর দিচ্ছিলেন তখনো বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার বিমান হামলা এখনো চলছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছেন কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের আঞ্চলিক প্রধান।

ওলেক্সি কুলেবা টেলিগ্রামে শহরটির বাসিন্দাদের পাঠানো বার্তায় বলেছেন, ইউক্রেনের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অর্থাৎ প্রতিরক্ষা কাজ করছে। কিন্তু আগে জারি করা ‘সতর্কতা’ এখনো বহাল রয়েছে।

সর্বশেষ কয়েকমাসে কিয়েভে কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।

তবে এবারের বিস্ফোরণ ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময়ের চেয়ে কিয়েভের বেশি কাছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাত্র দু’দিন আগে রাশিয়ার সাথে অধিকৃত ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করা একমাত্র সেতুটি বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই ঘটনা ঘটলো।

তবে মস্কো এখনো এ হামলার ব্যাপারে মন্তব্য করেনি।

এদিকে, আজই ক্রিমিয়ার ওই সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিজের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অলেক্সি রেজনিকভ বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীদের ক্ষেপণাস্ত্র কখনো তার দেশের সাহস ধ্বংস’ করতে পারবে না।

তিনি টুইটারে লিখেছেন, রাশিয়ার হামলা ‘তার দেশের মিত্রদের মনে কাঁপন’ ধরাতে পারবে না।

বিস্ফোরণে একাধিক নিহত
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটশকো বলেছেন, শেভচেনকিভস্কি শহরের কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে এই বিস্ফোরণ।

দেশটির নামী সাংবাদিক আন্দ্রি সাপলিয়েঙ্কো বলেছেন, বিস্ফোরণে কমপক্ষে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন সহকারী ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে লিখেছেন কিয়েভে হামলায় কমপক্ষে আটজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন।

রোস্তিস্লাভ স্মিরনভ আরো লিখেছেন, বিস্ফোরণে ছয়টি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আরো ১৫টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর আগে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন, রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ঝাপোরিঝিয়া এবং দনিয়েপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এতে একটি বহুতল আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অনেকে হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঝাপোরিঝিয়ার গভর্নর ওলেক্সান্ডার স্তারুখ।

গত কয়েক সপ্তাহে শহরটির ওপর একাধিক হামলা হয়েছে এবং ১২ জনের মতো মানুষ নিহত হয়েছেন।

কিয়েভের জরুরি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বলেছে, সকালের হামলায় বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু হতাহতের সংখ্যা ঠিক কত সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা এখনো পাওয়া যায়নি।

দু’দিন আগে রুশ-অধিকৃত ক্রিমিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি রেল ও সড়ক সংযোগ সেতু বিশাল এক বিস্ফোরণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিস্ফোরণের শব্দ বাড়ছে
কিয়েভ থেকে বিবিসি সংবাদদাতা পল অ্যাডামস জানিয়েছেন, কিয়েভে এখন বিস্ফোরণের আরো শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

শুধু কিয়েভ নয়, ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গা থেকেই এখন বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বিবিসি টেলিভিশনের লাইভে পল অ্যাডামস যখন কথা বলছেন, তখন আরেকটি বিস্ফোরণের ব্যাপক শব্দ শোনা যায়।

গণমাধ্যমের ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি ঘটনাস্থলে হাজির হতে পারেননি সাংবাদিকেরা।

তবে বিভিন্ন সূত্রে সংগ্রহ করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণে গাড়ি এবং বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করা ছবি এবং ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কিয়েভের বিভিন্ন অংশে ভবনের ওপর থেকে ধোঁয়া উড়ছে।

ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে রাশিয়া কিয়েভে কয়েক দফা হামলা চালালেও মাঝে বেশ কয়েক মাস রুশ বাহিনী আর হামলা চালায়নি। কিন্তু এখনকার এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিয়েভের আরো কেন্দ্রে এবং আরো ব্যাপক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী রবিবার

আগামীকাল রবিবার (৯ অক্টোবর) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। ৫৭০ সালে ১২ রবিউল আউয়াল এই দিনে মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর জন্ম। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ দিন হিসেবে বিবেচিত।

এই দিনে আরবের মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ গোত্রে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। অন্ধকার যুগ থেকে মানবজাতির মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতায়ালা রাসুলুল্লাহকে (সা.) প্রেরণ করেন এই ধরাধামে। পবিত্র কোরআন শরিফে বর্ণিত আছে, মহানবীকে (সা.) সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে তারা মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ দিবসের বাণীতে বলেন, হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ ও বিচক্ষণতা বর্তমান বিশ্বে জাতিতে জাতিতে সংঘাত-সংঘর্ষ নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সারাবিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। তৎকালীন আরব সমাজের অন্যায়, অবিচার, অসত্য ও অন্ধকারের বিপরীতে তিনি মানুষকে আলোর পথ দেখান এবং প্রতিষ্ঠা করেন  সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা। সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি নারীর মর্যাদা ও অধিকার, শ্রমের মর্যাদা এবং মনিবের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বিদায় হজের ভাষণ সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরকালীন দিশারী হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী (সা.) এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তার জীবনাদর্শ আমাদের সবার জীবনকে আলোকিত করুক, আমাদের চলার পথের পাথেয় হোক, মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ  (সা.) এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। তিনি বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে বিশ্বে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বশান্তির অগ্রনায়ক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিকদের মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ নানা দিক বিবেচনা করে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন মানব ইতিহাসের প্রথম প্রশাসনিক সংবিধান ‘মদিনা সনদ’। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)- এর অনবদ্য ভূমিকার আরেকটি অনন্য স্মারক হুদায়বিয়ার সন্ধি। বাহ্যিক পরাজয়মূলক হওয়া সত্ত্বেও কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তিনি এ সন্ধিতে স্বাক্ষর করেন। তাঁর অমিত সাহস, ধৈর্য ও বিচক্ষণতা তখনকার মানুষকে যেমন বিমুগ্ধ করে, তেমনি অনাগত মানুষদের জন্যও শান্তি প্রতিষ্ঠার আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারিসহ আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.) এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি।

দিবসের কর্মসূচি

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.) এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। এর আগে তিনি বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্ত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধন করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে পবিত্র কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সেমিনার, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আরবি খুতবা লিখন প্রতিযোগিতা, ক্বিরাত মাহফিল, হামদ-না’ত, স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন বিষয়ক সেমিনার, বিশেষ স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ।

এছাড়াও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(সা.) ১৪৪৪ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০টি ইসলামিক মিশন ও সাত৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নত খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাসস।

তারেককে দেশে আনার চাপ

 বিএনপি এবং বিভিন্ন মহল তারেককে দেশে ফেরার জন্য রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করছে। তবে তারেক জিয়া এখনই দেশে ফিরতে রাজি না। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময় বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করছেন। এ সমস্ত আন্দোলনে নেতৃত্বের সংকট বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যদিও বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়াই তাদের নেতা। কিন্তু এই ধরনের বক্তব্যগুলো রাজনীতির মাঠে যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না, ঠিক তেমনি কূটনীতিকরাও এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে না। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, যদি বিএনপি শেষ পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলন করতে চায় তবে তারেক জিয়ার দেশে ফেরার কোনো বিকল্প নেই। তারেক জিয়া যদি দেশে ফিরে কারাবরণ করেন বা তাকে গ্রেপ্তার করা হয় তাহলে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে। তবে একাধিক বিএনপির সূত্র বলছে, তারেক জিয়া দেশে ফিরতে আগ্রহী নন। বরং লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপনেই তিনি অধিক আগ্রহী। কোনভাবেই আবার জেলে যাওয়া বা তার মামলাগুলোর মুখোমুখি হতে তিনি সম্মত নন।
তারেক জিয়ার একজন আইনজীবী বলেছেন যে, তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে মানি-লন্ডারিংয়ের মামলাটিতে দন্ড হাইকোর্ট দিয়েছে। নিম্ন আদালতে ওই মামলায় তারেক জিয়াকে দণ্ড থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়েছিলো, তাকে খালাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এই মামলায় আপিল শুনানিতে তারেক জিয়াকে দোষী হিসেবে দেখতে পায় এবং তাকে সাত বছরের দণ্ড দেয়। এই মামলাটির শেষ ধাপ হলো আপিল বিভাগ। আইনজীবীরা বলছেন যে, মামলার যে ধরন এবং হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তাতে এই মামলা থেকে তারেক জিয়ার নিষ্কৃতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। আপিল বিভাগ হলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শেষ পর্যন্ত যদি আপিল বিভাগে এই মামলায় তারেক জিয় দণ্ডিত হয়ে যায় তাহলে তারেকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলাতেও তারেক জিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই মামলার বিরুদ্ধে তারেক জিয়া এখন পর্যন্ত আপিল করেননি। এই আপিল করার জন্য তাকে আত্মসমর্পণ করে আপিল করতে হবে। সেই সুযোগটি তিনি গ্রহণ করেননি। ইতিমধ্যে এই মামলায় আপিল করার সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। আইনজীবীরা বলছেন যে, অতিক্রান্ত হলেও তিনি যখনই দেশে ফিরবেন তখনই মামলায় আত্মসমর্পণ করে তাকে আপিল করতে হবে। সেজন্য তাকে জেলে যেতে হবে।
তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ বলছেন যে, সরকার এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী এবং তারেক জিয়া যদি শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরেন তাহলে তাকে কারাগারে যেতেই হবে। কারাগারে গেলে তারেক জিয়ার বের হওয়াটা অনেক মুশকিল এবং দূরহ কাজ। তারা এক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার উদাহরণ দেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো সেই সময় অনেকে বলেছিলো যে, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে বা তাকে জেলে রাখা হলে সরকারের পতন ঘটবে। কিন্তু আসলে সরকারের তেমন কিছুই হয়নি, বরং বিএনপি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি বিএনপির সাংগঠনিক দৈন্যদশা এর মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে একটি ভালো মিছিল পর্যন্ত করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সরকারের অনুকম্পায় বেগম খালেদা জিয়া এখন জামিনে মুক্ত আছেন। তারেক জিয়ার বিষয়টিও সেরকমই মনে করছেন বিএনপির তারেকপন্থীরা। তারা মনে করছেন, এই সময়ে দেশে আসা হবে আত্মঘাতী এবং সরকারকে আরও সুযোগ দেওয়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ওই বাস্তবতা এখন আর নেই যে, একজন নেতা আসলে তার জন্য হাজার হাজার লোক রাস্তায় নামবে। বরং এখন বাংলাদেশের মানুষ নিজেদেরকে নিয়েই ব্যস্ত। এই বাস্তবতায় বিভিন্ন মহল থেকে তারেক জিয়ার দেশে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি হলেও তারেক জিয়া দেশে আসতে চান না। বরং লন্ডনে বসে মনোনয়ন বাণিজ্য, কমিটি বাণিজ্য এবং নানা রকম উপায়ে বিপুল বিত্তে আরাম আয়েশে জীবন কাটানোই তিনি শ্রেয় মনে করছেন।
সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

কোনো দলের হয়ে কাজ করা যাবে না, ডিসি-এসপিদের প্রতি সিইসি

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেছেন, “দল নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করতে হবে। এমন কাজ করা যাবে না, যাতে জনগণ মনে করে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন।”

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণার পর মাঠের খবর জানতে শনিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে সব ডিসি ও এসপিদের বৈঠকে ডেকে এই বার্তা দেন সিইসি।

জেলা পর্যায়ে প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড ইসি পর্যবেক্ষণে রাখবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সকাল ১০টা থেকে তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় বৈঠকে ছিলেন না আইজিপি।

সংসদ নির্বাচনে ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বটি স্থানীয়ভাবে এসপির উপরই বর্তায়।

সভা শেষে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই।

“সেই সঙ্গে তাদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছি- দল নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করতে হবে। এমন কাজ করা যাবে না, যাতে জনগণ মনে করে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন।”

সভায় লিখিত বক্তব্যে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “কোনো বিশেষ রাজনীতি বা রাজনৈতিক দলের প্রতি আপনাদের সমর্থন থাকতে পারে, কিন্তু আচরণে তার প্রকাশ্য প্রতিফলন হবে না। আপনারা প্রকাশ্য আচরণ ও দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ হবেন।”

সরকার ও দলের মধ্যে প্রভেদ বিবেচনা রেখে দল নিরেপেক্ষ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

“দলীয় সরকারের অধীন মনে করে নিজেদেরকে দলীয় কর্মী বা সমর্থক ভাববেন না বা এমনভাবে আচরণ করবেন না, যাতে সরকারি বা গণকর্মচারি হিসেবে আপনাদের দল-নিরপেক্ষতা জনগণের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”

কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করে হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচনের সময় ইসির অবস্থান থাকবে কঠোর। মাঠ কর্মকর্তাদের কাজও পর্যবেক্ষণ করা হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো শৈথ্ল্য সহ্য করা হবে না।

সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং ইসির প্রতি আস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিভাজন কাটাতে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের জোর দেন সিইসি।

“সংসদ নির্বাচন নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন নিয়ে সংশয় থাকলেও আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট সব দল, পক্ষ তাদের সদিচ্ছা, প্রজ্ঞা যে কোনো সংকট-সংশয় নিরসনে সামর্থ্য রাখে। মতৈক্য ও সমঝোতা হবে; সংশয় ও সংকট কেটে যাবে।”

ইভিএম প্রসঙ্গ নিয়ে সভায় আলোচনা এলেও কর্মকর্তারা এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান সিইসি।

আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা, ভোটারদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্র বাড়লেও পাশাপাশি ভোটকক্ষ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে বৈঠকে।

ভোটের এখনও এক বছর দুই মাসের বেশি সময় বাকি রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠেয় সব নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে নিজেদের ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেন সিইসি।

সভায় তিনি বলেন, “আমরা কঠোর ভাষায় বলছি- ভয়ভীতি, পক্ষপাতিত্ব, চাপ বা অন্য যে কোনো কারণে নির্বাচনে অবৈধ হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে না করণে নির্বাচন হবে না; প্রহসন হবে। পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে।”

এতে সংসদ নির্বাচনে জনগণের আগ্রহ, আস্থা ও অংশগ্রহণ উৎসাহিত হবে বলে মনে করেন সিইসি।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুলিশ যেন হয়রানি করা না করে, সে বিষয়েও পুলিশকে বলা হয়।

ডিসি ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনাররা

|

 

 

 

ভারতের মহারাষ্ট্রে বাসে আগুন লেগে ১১ মৃত্যু, আহত ৩৮

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাসিক শহরে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লেগে অন্তত ১১ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে নাসিকের আওরঙ্গাবাদ সড়কে বাসটি একটি ট্রাককে ধাক্কা দেওয়ার পর সেটিতে আগুন ধরে যায় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নাসিকের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার আমোল টামবে বলেন, “মৃতদের অধিকাংশই বাসটির যাত্রী। বাসটি একটি স্লিপার কোচ। চিকিৎসার জন্য আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।”

এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ বের করতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিওতে পুরো বাসটিতে আগুন জ্বলতে ও দমকল কর্মীদের আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে, জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভারের ঘোষনা দিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিএনপির আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না : ফখরুল

আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপি আর কখনো সংলাপে যাবে না বলে জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিরোধী দল নিবার্চনে না এলে কিছু করার নেই, সংলাপও হবে না প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা চায় বিরোধী পক্ষ না থাকুক- ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই। বিএনপিও আওয়ামী লীগের সাথে কখনো সংলাপে যাবে না, প্রশ্নই ওঠে না। আর এই ধরনের নিবার্চন জনগণ মানবে না ।

শুক্রবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী নেতাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহের নির্দেশ সংবিধান পরিপন্থী মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে সরকার বিরোধীদলের নেতা এবং সহযোগীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহের জন্য পুলিশের হেড কোয়ার্টার বেতার বার্তায় নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় পুলিশকে, যা নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন। এটা সংবিধান পরিপন্থী। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমানোর জন্য এটা করা হয়েছে। যে সকল অতিউৎসাহী কর্মকর্তা এ ধরনের অবৈধ হীন কাজের সাথে জড়িত দেশের মানুষ তাদের চিহ্নিত করে রাখবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই ভীত হয়ে আছে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে। সুষ্ঠু এবং অংশ গ্রহণ মুলক নির্বাচন দিলে তাদের ভরাডুবি হবে জেনেই তারা চায় যাতে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করে। কিন্তু সেই অপচেষ্টা জনগণ মানবে না। সময় হলেই এই সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে নামবে বিএনপি তার মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে।

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকাস্থ স্পেশাল ব্রাঞ্চ হেডকোয়াটার্সের বরাত দিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার পুলিশ সুপার গত ২৫ সেপ্টেম্বর জেলার সকল থানার ওসিদেরকে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের রাঙ্গামাটি জেলার কমপক্ষে ৮ জন শীর্ষ ব্যক্তি, প্রতি উপজেলার শীর্ষ ৫ ব্যক্তি এবং রাঙ্গামাটি জেলার সকল পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের অধীন কমপক্ষে ৫ ব্যক্তি যারা বর্তমান সরকার বিরোধী চলমান গণআন্দোলনে “জনবল সংগঠক” বা অর্থায়ন করে কিংবা অন্য কোনভাবে সহযোগিতা করে এমন ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য যেমন ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও এনআইডি নং ইত্যাদি সংগ্রহ করে তার কাছে প্রথমে ইমেইল যোগে এবং পরে হার্ডকপি পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার নির্দেশনা অনুযায়ীই এই বার্তা পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছে যে ঢাকাস্থ স্পেশাল ব্রাঞ্চের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের সকল জেলার পুলিশ সুপার নিজ নিজ এলাকার সকল থানার ওসিকে উপরোক্ত বেতার বার্তা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহের জন্য অনুরূপ নির্দেশনা জারী করেছেন যা অত্যন্ত ভয়ংকর, অপ্রত্যাশিত, অসাংবিধানিক, এখতিয়ার বহির্ভূত, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণবিধি পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক দল তথা গণমানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আন্দোলন সমাবেশ করার মৌলিক অধিকার বিরোধী।

ফখরুল বলেন, ‘বিষয়বস্তু থেকে এটি প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থসমূহ বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে একটি নীল নকসার অধীনে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে গুড়িয়ে দমন করার জন্য একযোগে কাজ করছে।’

‘এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে বর্তমান সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করার জন্য রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অত্যাচার-নির্যাতনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক মেরুদন্ডও ভেঙ্গে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো গণআন্দোলন দমনের হীন উদ্দেশ্যে মানুষ হত্যার জন্য শান্তিপূর্ণ আইনসিদ্ধ গণতান্ত্রিক মিছিলে গুলিবর্ষণ করে নেতাকর্মীদের হত্যা করছে।’

ফখরুল বলেন, বেতার বার্তাটি আমাদের কষ্টার্জিত সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে আঘাত করেছে যা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র, আইনের শাসন, আইনানুগ সংস্থা ও সমাবেশের নিশ্চয়তা, জনগণের বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইন অনুযায়ী সমানভাবে আচরণ করার অধিকার এর পরিপন্থী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাভোকেট জয়নাল আবেদীন, চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, বিএনপি আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল‌।

যে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা পুতিনকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে

শুক্রবার ভ্লাদিমির পুতিনের ৭০তম জন্মদিন। ইউক্রেনে বিপর্যয় ডেকে আনা আক্রমণের রূপকার রাশিয়ার এই প্রেসিডেন্ট কিভাবে একজন বিচ্ছিন্ন একনায়ক হয়ে উঠলেন? তার এই দীর্ঘ জীবনে সাতটি মোড় ঘোরানো ঘটনা রয়েছে। যা তার আজকের দিনের চিন্তাধারা এবং পশ্চিমা বিশ্ব থেকে তার বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে।

জুডো খেলার শুরু ১৯৬৪
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৮৭২ দিনের এক অবরোধের ক্ষতচিহ্ন বয়ে চলা লেলিনগ্রাদে জন্ম নেন ভ্লাদিমির পুতিন।

স্কুলজীবনেই বেশ মারকুটে স্বভাবের ছিলেন। তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাকে স্মরণ করেন এমন একজন হিসেবে, ‘সে যেকারো সাথে মারপিটে জড়িয়ে পড়তো কারণ তার ভেতরে কোনো ভয় ছিল না।’

রাস্তায় গুণ্ডা আর গ্যাং দিয়ে ভরা শহরের হালকা পাতলা গড়নের অগোছালো সেই ছেলেটির কিছুটা ধারালো বৈশিষ্ট্যের দরকার ছিল। ১২ বছর বয়সে তিনি রাশিয়ান মার্শাল আর্ট ‘সাম্বো’ শেখা শুরু করেন এবং তারপর শেখেন জুডো।

ওই সময় থেকেই তিনি ছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এবং সুশৃঙ্খল স্বভাবের। ১৮ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি পেয়ে যান জুডো ব্ল্যাক বেল্ট এবং জাতীয় জুনিয়র প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি।

তার পুরুষালী ব্যক্তিত্বের যে ভাবমূর্তি, সেটি তৈরির পেছনে এই বিষয়টিকে ব্যবহার করা হয়েছে। একই সাথে এটি তার জীবনের শুরুর দিকের ওই বিশ্বাসকে জোরদার করে যে তাকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।

এটি তাকে এই উপলব্ধিতে পৌঁছাতে সাহায্য করে যে, ‘কোনো লড়াই যখন অবধারিত তখন প্রতিপক্ষকে আগে আঘাত করতে হবে। এমন শক্ত আঘাত হানতে হবে যাতে সে যেন আর কোনো দিন উঠে দাঁড়াতে না পারে।’

চাকরির খোঁজে কেজিবি ১৯৬৮
মানুষজন সাধারণভাবে লেনিনগ্রাদের চার লিটেনি প্রসপেক্টে অবস্থিত কেজিবির রাজনৈতিক পুলিশের সদর দফতর এড়িয়ে চলতো। স্ট্যালিনের যুগে এত মানুষকে-এর জিজ্ঞাসাবাদ সেল পার হয়ে গুলাগের শ্রমশিবিরে যেতে হয়েছে যে এ নিয়ে অনেকটা তিক্ত রসিকতা দাঁড়িয়ে গিয়েছিল।

এটি ছিল এমন ‘দা বিগ হাউস’ নামে পরিচিত ‘বলশয় ডোম’ নাকি লেলিনগ্রাদের সবচেয়ে উঁচু ভবন। কারণ তার বেজমেন্ট থেকেই সোজা সাইবেরিয়া পর্যন্ত দেখা যায়। শ্রম শিবিরগুলোর বেশিরভাগই ছিল সাইবেরিয়াতে।

১৬ বছর বয়সে লালগালিচা পাতা সেই ভবনটির অভ্যর্থনা কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন পুতিন। সেখানে ডেস্কের পেছনে বসা একজন কর্মকর্তাকে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন যে সেখানে কিভাবে চাকরি পাওয়া যাবে।

তাকে বলা হয়েছিল যে তার সেনাবাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা একটি ডিগ্রি থাকতে হবে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন কোন ডিগ্রি হলে এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হবে।

এই প্রশ্নের উত্তর ছিল আইন। সেই সময় থেকেই পুতিন আইনে স্নাতক করার জন্য বদ্ধপরিকর ছিলেন। আর আইনে স্নাতক করার পর তাকে কেজিবিতে চাকরি দেয়া হয়েছিল।

রাস্তায় পোড় খাওয়া পুতিনের কাছে কেজিবি ছিল শহরের সবচেয়ে বড় গ্যাং। পার্টির সাথে কোনো যোগাযোগ নেই এমন মানুষকেও তারা নিরাপত্তা দেয় এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু একই সাথে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠার সুযোগও দেয়।

ছোটবেলায় গুপ্তচরদের নিয়ে সিনেমা দেখতেন তিনি আর নিজেই বলতেন, ‘একজন গুপ্তচর হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।’

বিক্ষুব্ধ জনতার ঘেরাও ১৯৮৯
পুতিন যত আশাই করুন না কেন, কেজিবিতে তার অবস্থানের তেমন একটা উন্নতি ঘটেনি। তিনি ছিলেন পরিশ্রমী কর্মী কিন্তু শীর্ষে যাওয়ার মতো ছিলেন না।

তিনি এক পর্যায়ে জার্মান ভাষা শিখেছিলেন আর সে কারণে ১৯৮৫ সালে পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে লিয়াজোঁ অফিসে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

প্রবাসে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের জীবনই কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে বিস্ময়কর গতিতে পূর্ব জার্মানির সরকারের পতন ঘটতে শুরু করে।

ডিসেম্বরের ৫ তারিখ ড্রেসডেনে কেজিবি ভবন ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধ জনতা। সেদিন পুতিন মরিয়া হয়ে রাশিয়ান রেড আর্মির সবচেয়ে কাছের সেনানিবাসে ফোন করে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন।

তারা অসহায়ভাবে উত্তর দিয়েছিল, ‘মস্কো থেকে আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারছি না। আর মস্কো চুপচাপ বসে আছে।’

কেন্দ্রে ক্ষমতার হঠাৎ পতনে পুতিন সেদিন ভয় পেতে শিখেছিলেন। বিরোধিতার মুখে দ্রুত জবাব না দিয়ে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্ভাচফ যে ভুল করেছিলেন, কখনোই তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে ব্যাপারে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন।

তেলের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি ১৯৯২
সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর পুতিন কেজিবি ত্যাগ করেন। কিন্তু দ্রুতই আজ যেটি সেন্ট পিটার্সবার্গ সেই শহরের সংস্কারপন্থী নতুন মেয়রের একজন সহায়তাকারী হিসেবে একটি কাজ জুটিয়ে ফেলেন।

দেশটির অর্থনীতিতে তখন ধস চলছিল। পুতিনের ওপর দায়িত্ব পড়েছিল শহরের জনগণকে সাহায্য করার জন্য একশ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল এবং ধাতব পদার্থের বিনিময়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করা।

বাস্তবে কেউ কখনো কোনো খাবার দেখেনি। তবে একটি তদন্ত অনুযায়ী- যেটি খুব দ্রুতই চাপা দেয়া হয়। পুতিন, তার বন্ধুরা এবং শহরের গ্যাংস্টাররা টাকাটা নিজেদের পকেটে পুরেছিলেন।

উত্তাল ৯০-এর সেই দশকে পুতিন শিখে গিয়েছিলেন যে রাজনৈতিক প্রভাব এমন একটি পণ্য যা টাকায় রূপান্তর করা যায় এবং গ্যাংস্টারেরা দরকারের সময় মিত্র হতে পারে।

তার চারপাশের সবাই যখন নিজেদের অবস্থান ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন, তিনি কেন সেটা করবেন না?

জর্জিয়ায় হামলা ২০০৮
২০০০ সালে পুতিন যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হন তখন তিনি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন জুড়ে প্রভাব বলয় সৃষ্টিসহ পশ্চিমের সাথে নিজের মতো করে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন বলে আশা করেছিলেন।

কিন্তু বেশ দ্রুতই তিনি হতাশ হয়ে পড়েন, তারপর ক্ষুব্ধ। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে পশ্চিমারা ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন ও অবমাননা করার চেষ্টা করছে।

জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল সাকাশভিলি যখন ন্যাটোতে যোগদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তখন পুতিন ভয় পেয়ে যান। রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্ন অঞ্চল দক্ষিণ ওসেটিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে জর্জিয়ার প্রচেষ্টা পুতিনের জন্য একটি শাস্তিমূলক অভিযান শুরুর একটি অজুহাত হয়ে ওঠে।

পাঁচ দিনের মধ্যে রাশিয়ার বাহিনী জর্জিয়ার সামরিক বাহিনীকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে এবং সাকাশভিলির ওপর একটি অপমানজনক শান্তি প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেয়া হয়।

পশ্চিমারা তখন ক্ষুব্ধ হয়েছিল তবে এক বছরের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি মস্কোকে ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

পুতিনের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে শক্তিই ক্ষমতার উৎস এবং দুর্বল ও অস্থির পশ্চিমারা ফোঁসফোঁস করবে ঠিকই কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৃঢ় সংকল্পের মুখে পিছিয়ে যাবে।

মস্কোতে বিক্ষোভ ২০১১-১৩
এটি বেশ ব্যাপকভাবে মনে করা হয় এবং যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য ছিল যে ২০১১ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল। আর সেই বিশ্বাস দেশটিতে বিক্ষোভের জন্ম দেয়। এই বিক্ষোভ আরো ফুঁসে ওঠে যখন পুতিন ঘোষণা দেন যে তিনি ২০১২ সালের নির্বাচনে পুনরায় দাঁড়াবেন।

এই বিক্ষোভ ‘বোলোতনায়া প্রতিবাদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। কারণ বিক্ষোভকারীরা মস্কোর এই নামের একটি স্কয়ারে জমায়েত হতেন। পুতিনের বিরুদ্ধে সেটি ছিল এখনো পর্যন্ত জনসাধারণের সবচেয়ে ব্যাপকভিত্তিক বিরোধিতা।

পুতিনের বিশ্বাস ছিল যে এই সমাবেশগুলো ওয়াশিংটনের প্ররোচনায় শুরু, উৎসাহিত ও পরিচালিত হয়েছিল। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে এসবের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করেছিলেন।

পুতিনের কাছে এটি ছিল প্রমাণস্বরূপ যে পশ্চিমারা সরাসরি তার দিকেই আসছে এবং যে কারণে কার্যত তিনি এখন যুদ্ধে লিপ্ত।

কোভিডের কারণে বিচ্ছিন্নতা ২০২০-২১
কোভিড-১৯ যখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তখন পুতিন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় চলে যান, খুব ব্যক্তিত্ববাদী স্বৈরাচারীদের জন্যও যা ছিল অস্বাভাবিক।

তার সাথে যারাই দেখা করতে যাচ্ছিলেন তাদের প্রথমে পুরো ১৪ দিনের জন্য কঠোর পাহারায় বিচ্ছিন্ন করে রাখা হতো। তারপর তাদেরকে জীবাণুনাশক ‘আল্ট্রাভায়োলেট লাইট’ ও স্প্রে পার হয়ে তার কাছে যেতে হতো।

এই সময় জুড়ে পুতিনের সাথে মুখোমুখি দেখা করতে সক্ষম এমন মিত্র ও উপদেষ্টাদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছিল। খুব মুষ্টিমেয় কয়েকজনে সীমাবদ্ধ হয়েছিল তাদের সংখ্যা। যারা কেবল ‘জ্বি আজ্ঞে’ বলা লোক এবং তাদের সহযোগী।

বিকল্প মতামত তার কাছে তখন খুব কমই পৌঁছাত। সে সময় পুতিন সম্ভবত শিখেছেন যে তার সমস্ত অনুমান ও বিশ্বাস সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত ছিল এবং তখনই সম্ভবত ইউক্রেন আক্রমণের বীজ বপন করা হয়েছিল।

সূত্র : বিবিসি

যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি বিদ্যুৎ সেবা চালু করা হবে

বিদ্যুতের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড ফেল করায় দেশের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।   মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বেলা দুইটার দিকে এ বিপর্যয় ঘটে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্রুততার সঙ্গে জাতীয় গ্রিড সচলের নিবিড় প্রচেষ্টা চলছে। অপরদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান জানিয়েছে এক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে বিদ্যুৎ চলে আসবে।

বিদ্যুতের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ফলে এই চার বিভাগের বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে।

 

জাতীয় গ্রিডে দ্রুততার সঙ্গে বিদ্যুৎ সচল করার বিষয়টি মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আকস্মিকভাবে আজ দুপুর ২টা ৪ মিনিট থেকে জাতীয় গ্রিডের ইস্টার্ন অংশে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ) সমস্যা দেখা দেওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) এর প্রকৌশলীগণ দ্রুততার সঙ্গে জাতীয় গ্রিড সচল করতে নিবিড় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি বিদ্যুৎ সেবা চালু করা হবে বলে আশা করা যায়। পিজিসিবিসহ বিদ্যুৎ খাতের সকল সংস্থা একযোগে পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধৈর্য্য ধারণ করতে বিনীতভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

এদিকে, পিজিসিবি দাবি করেছে, সন্ধ্যার মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান জানিয়েছে এক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে বিদ্যুৎ চলে আসবে। সন্ধ্যার মধ্যে সারাদেশে বিদ্যুৎ সচল হবে।

কী কারণে গ্রিড বিপর্যয় হয়েছে, সে কারণ জানাতে পারেননি সচিব। তিনি বলেন, কারণ এখনো জানা যায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রিডে সংস্কারের কাজ চলছে।

 

বিয়ের কথা জানালেন বুবলী

ঢালিউডের আলোচিত জুটি শাকিব খান ও শবনম বুবলী। সম্প্রতি এই দুই তারকা তাদের সন্তান শেহজাদ খান বীরের কথা প্রকাশ্য আনেন। এরপর তারা দুজনই দূরত্ব রেখে একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াল। এ নিয়ে সিনেপাড়ায় গুঞ্জন রটে শাকিব-বুবলীর মধ্যে বিয়ে হয়নি। তারা শুধু কাজের সম্পর্কই রেখেছেন। তবে এই গুঞ্জনে জল ঢেলে দিয়েছেন বুবলী নিজেই।
সোমবার বুবলী তার ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে শাকিবের সাথে তার তিনটি ছবি পোস্ট করে শাকিবের সাথে বিয়ে ও সন্তানের জন্মের তারিখ জানান দিয়ে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
অভিনেত্রী লিখেছেন- ‌আমার জীবনের দুটি স্মরণীয় তারিখ।’ সেখানে উল্লেখ করেছেন- শাকিব খান-বুবলী ২০১৮ সালের ২০ জুলাই বিয়ে করেছেন। পুত্র শেহজাদ খান বীরের জন্ম হয়েছে ২০২০ সালের ৩১ মার্চ। ছবিগুলো তোলা হয়েছে নিউইয়কের্র টাইমস স্কয়ারে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর শাকিব খান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তার ও অপু বিশ্বাসের সন্তান আব্রাম খান জয়ের সপ্তম জন্মদিনে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমার ছোট্ট আব্রাম তার জীবনে নতুন বছরে পা রাখল। প্রতিনিয়ত খেয়াল করছি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তুমি মানুষের মতো মানুষ হতে এগিয়ে যাচ্ছ। হয়তো একটা সময় গিয়ে বুঝবে— তোমার বাবা আছে বলেই জীবন এত সুন্দর। বাবারা কখনো শো অফ করে না, তারা দেখিয়ে দেয়! তোমার প্রতি আমার স্নেহ, আদর, দোয়া ও মঙ্গলকর দায়িত্ব সারা জীবন থাকবে।’
শাকিব খান তার সন্তান জয়কে নিয়ে এই স্ট্যাটাস দেওয়ার ঠিক ৩ ঘণ্টা পর শবনম বুবলি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে ২ বছর আগের ২টি ছবি প্রকাশ করেন। যেখানে তার বেবি বাম্প দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচনের আগেই দশ আঙুলের ছাপ নিবে ইসি

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) আঙুলের ছাপ না মেলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার এক শতাংশ ভোটদানের বিধানটি আইনের কাঠামোয় আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) প্রয়োজনীয় সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দু-একদিনের মধ্যে এই সংশোধনী প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হবে।
সোমবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমিশনার মো. আলমগীর এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নানা অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাবেক এই ইসি সচিব বলেন, বর্তমানে প্রিসাইডিং অফিসারের ক্ষমতা এক শতাংশ। ইভিএম মেশিন সেভাবেই কাস্টমাইজ করা হয়। তিনি চাইলে তার চেয়ে বেশি দিতে পারেন না। যাদের হাতের আঙুলের ছাপ মেলে না তাদের তো ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভোটার নিশ্চিত হলে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেন। এখানে প্রিসাইডিং অফিসার শুধু ভোট দেওয়ার অনুমতি দেন। ওই ভোটার গোপন কক্ষে গিয়ে নিজের ভোট নিজেই দেন। এ বিষয়টি আলাদা রেকর্ড রাখা হয়।
আইনি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির যুক্তি তুলে ধরে আলমগীর বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে যাতে কনফিউশন না হয়, যার কারণে আইনের কাঠামোয় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি সংশোধনী আগেই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তার সঙ্গে নতুন এই অংশটুকু যুক্ত হবে।
এক শতাংশ ভোট দেওয়ার রেকর্ড রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বিধিমালায়ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা ভোটারদের বর্তমানে চার আঙুলের ছাপের পরিবর্তে দশ আঙুলের ছাপ নিতে যাচ্ছি। যাদের স্মার্টকার্ড দিয়েছি তাদের সবারই দশ আঙুলে হিসাব নেওয়া হয়েছে। পাঁচ কোটি ভোটারের দশ আঙুলের ছাপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। বাকি যারা স্মার্টকার্ড নেবেন তাদেরও দশ আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। এছাড়া স্মার্টকার্ড দিতে পারি বা না পারি আমরা সবারই দশ আঙুলের ছাপ নেবো। আমাদের লক্ষ্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই যাতে সবার দশ আঙুলের ছাপ নিতে পারি। তখন এই সমস্যাটা আর থাকবে না। কারণ এই দশটা আঙুলের কোনো না কোনো আঙুলের মাধ্যমেই আমরা ভোটার চিহ্নিত করতে পারবো। দশ আঙুলের ছাপ নিলে তখন আর এক শতাংশও প্রয়োজন হবে না। তারপরও শেষ ব্যবস্থা হিসেবে আমরা এটা রাখছি।
এক শতাংশের বেশির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে আলমগীর বলেন, এক শতাংশের বেশি হলে সেখানকার প্রিজাইডিং অফিসার রিটার্নিং অফিসারকে জানাবেন। এক্ষেত্রে কোন কোন ভোটার ভোট দিতে পারছেন না তা জানাবেন। রিটার্নিং অফিসার তা যাচাই করে সন্তুষ্ট হলেন তিনি কমিশনকে জানান এবং কমিশন সেটা ভেরিফাই করে দেখে সন্তুষ্ট হলে ওই নির্দিষ্ট ভোটারের জন্য আলাদা কোড দিয়ে ভোট প্রদানের সুযোগ দিয়ে থাকেন। এটা করতে হলে বিশেষ ব্যবস্থা করতে হয়। এক শতাংশের বিষয়টি আইনি কাঠামোয় এলে এই বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে না। এক্ষেত্রে এক শতাংশ বেশি হলে তারা ভোট দিতে পারবে না।
এ রকম ক্ষেত্রে কোনো ভোটারের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ণ হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে এটা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ভোটার যেহেতু এটাকে সন্দেহের মধ্যে রাখেন এবং রাজনৈতিক দল এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলে- যার কারণে বৃহত্তর স্বার্থে আমরা এটা করতে যাচ্ছি।