দেশের সমৃদ্ধি এসেছে আওয়ামী লীগের ২১ বছরে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

আওয়ামী লীগের ২১ বছরের শাসন আমলে দেশের সমৃদ্ধি এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ২১ বছর ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। এই সময় দেশে অনেক সমৃদ্ধি এসেছে। আর বাকি ২৯ বছর ক্ষমতায় ছিল বিএনপি জামাত ও অন্যান্যরা। তখন দেশের কোন উন্নতি হয়নি, দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে।’

আজ শনিবার গাজীপুর চৌরাস্তায় চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ মাঠে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আয়োজনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ কথা  বলেন।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছর ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রায় ১৭ বছর। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলতি ১৩ বছর মেয়াদের সময় অনেক অর্জন হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও স্বাধীনতা বিরোধীরা দেশকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, ধর্মীয় উস্কানি দিচ্ছে।এদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপসহ প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে পরিণতি আরও খারাপ হবে।

অনুষ্ঠানে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কামরুল আহসান রাসেল সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লাহ খাঁন, সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল,মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম সহ মহানগর যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

চা শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার চা বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শনিবার বিকেল ৪টার পরপরই গণভবনে এ বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। ১৩ জন বাগানমালিক এ বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আহমেদ কায়কাউস এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর আজকের সিদ্ধান্তের আশায় বুক বাঁধছেন চা-শ্রমিকরা। তাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান দেবেন এবং এতে তাদের কাজে ফেরার পরিবেশ তৈরি হবে।

জেলার ২৪টি চা বাগানে ১৮ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। প্রশাসন ও মালিকপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পরও বিষয়টি সমাধান হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রী ও বাগান মালিকদের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন শ্রমিকরা।

তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী একটি সিদ্ধান্ত নেবেন, তবে তিনি যে সিদ্ধান্তই নেন না কেন, সেটাই মেনে নিয়ে কাজে ফিরবেন তারা।বৈঠকের বিষয়ে চান্দপুর চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান সাধন সাঁওতাল বলেছিলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে জীবন পরিচালনা করি। তাই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে আমরা ‘মা’ বলে ডাকি। মা আমাদের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছেন জেনে আমরা খুবই আনন্দিত।

“শনিবার তিনি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আমরা আশা করি তিনি আমাদের একটি সুন্দর সমাধান দেবেন, তবে যে সমাধানই দেন না কেন, তিনি বললে আমরা কাজে ফিরে যাব।”

বাংলাদেশ নারী চা-শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি খায়রুন আক্তার বলেন, ‘আমরা ১৮ দিন ধরে ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলনে আছি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিষয়টি নিয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন। যেহেতু আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক বিশ্বাস ও সম্মান করি এবং তিনি আমাদের নিজেদের লোক মনে করেন, তাই তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা তা-ই মেনে নেব। আশা করি, তিনি ৩০০ টাকা না হলেও এর কাছাকাছি আমাদের মজুরি নির্ধারণ করবেন।’

দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে গত ৯ আগস্ট থেকে আন্দোলনে নামেন দেশের ১৬৬ চা-বাগানের দেড় লাখের বেশি শ্রমিক। সেদিন থেকে চার দিন পর্যন্ত ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন তারা।

এরপর গত ১৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোপুরি কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। গত ১৯ আগস্ট রাতে মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করার বিষয়ে একটি চুক্তি হলেও সেটি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যান শ্রমিকরা।

এর মধ্যে কয়েক দফা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে থাকা চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও বার্তার দাবি জানান শ্রমিকরা।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল- যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

 

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এম পি বলেছেন,জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। অন্যদিকে জাতির পিতারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চরম শিখরে পৌঁছে দিচ্ছেন। তার বলিষ্ঠ ও সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল৷ শুক্রবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাবেক টঙ্গী পৌরসভা চত্বরে ১৫ আগষ্ট উপলক্ষে আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, শামসুন্নাহার ভূঁইয়া এমপি, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লাহ খাঁন, সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল,কাউন্সিলর আবদুল আলীম মোল্লা, কাউন্সসিলর নাসির উদ্দিন মোল্লা, কাউন্সিলর নূরুল ইসলাম নূরু, ওসমান আলী, জয়নাল আবেদিন বিএ, সাইফুল ইসলাম, মশিউর রহমান সরকার বাবু, বিল্লাল হোসেন প্রমূখ।

জাহিদ আহসান রাসেল আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন- তিনি পদ্মা সেতু করবেন, তিনি তা করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন- মধ্যম আয়ের দেশ করবেন, মেট্রোরেল করবেন, বিনামূল্যে বই দেবেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেবেন, ঘরে ঘরে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সড়ক মহাসড়ক করবেন, এমনি ভাবে শত শত ওয়াদা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছেন।

 

বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ কিনে বছরে ক্ষতি সাড়ে ৯ হাজার কোটি

বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশে উচ্চ দামে বিদ্যুৎ কিনে বছরে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি হয়েছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা হিসাবে)।

গবেষণা বলছে, প্রায় একই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ার পরও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কিছু কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৫ শতাংশ বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনেছে।

২০০৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ১৩ বছরে ৫৮টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কেনা বিদ্যুতের মূল্য বিশ্লেষণ করে গবেষণায় বলা হয়, কিছু বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক চুক্তি না করায় বিদ্যুৎ খাতে বিপুল খরচ বেড়েছে।

বুধবার (২৪ আগস্ট) গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। গবেষণাটি করেছেন অ্যান্টি করাপশন এভিডেন্স রিসার্চ পার্টনারশিপ কনসোর্টিয়ামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন খান। তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক।

গবেষণায় দেখানো হয়েছে কীভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যবসায়ীদের কারণে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাচ্ছে। মুশতাক হোসেন খান বলেন, খরচের দিক দেখলে এটা বিশাল পার্থক্য তৈরি করছে। যা বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।’

গবেষণা বলছে, জনগণের নাগালে রাখতে বিপিডিবি তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। আর লোকসান সামাল দেওয়া হয় জনগণের টাকায় ভর্তুকির মাধ্যমে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ভর্তুকি হিসেবে শুধুমাত্র সরকারি জমি ইজারা দেওয়ার কারণে বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বেড়ে যায়। ইজারার বিষয়টিকে অর্থনৈতিক মডেলিংয়ে বিবেচনায় নিয়ে এ হিসাব করা হয়েছে।

এছাড়াও, রাজনৈতিক যোগসাজশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির পথ সুগম হয়েছে। যেমন, কম খরচের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে ব্যয়বহুল কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। অথচ বিষয়টা উল্টো হওয়ার কথা ছিল।

‘ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও বিদ্যুতের চাহিদা যখন সর্বনিম্ন থাকে (বেস লোড) তখনো এদের থেকেই বিদ্যুৎ কেনা হয়। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অন্যদের তুলনায় আগে গ্যাস পায়। দুই পক্ষের মধ্যে যোগসাজশে এটা হয়।’

গবেষণায় উঠে এসেছে, ব্যয়বহুল রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সরকারের চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্ডার দেওয়া না হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ শতাংশ দাম দিতে হয়। ক্যাপাসিটি চার্জের সুবিধা থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেই বরং তাদের মুনাফা বেশি হয়।

মুশতাক বলেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ বিবেচনা না করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাই এর একমাত্র সমাধান।

তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিচয় নেই এরকম বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এতে উৎপাদন পর্যায়ে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমতে পারে।

গবেষণা থেকে আরও জানা গেছে, বিশ্ব ব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তা নিলে এবং জমি ইজারার ব্যাপারটি পরিবর্তন করলে বিদ্যুতের দাম ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক বিনায়ক সেন দুর্নীতি দমন কৌশল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ বা ট্যাক্সের মতো গোপনীয় তথ্য পাওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাওনের থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া সেই প্রতারক গ্রেপ্তার

অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের বিকাশে অ্যাকাউন্ট থেক প্রায় ৩২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মো. রবিউল ইসলাম নিজেকে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া পরিচয় দিয়ে এই প্রতারণা করেন। বুধবার দিবাগত রাতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল। রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

আজ দুপুরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, রবিউল নিজেকে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া পরিচয় দিয়ে ফোন করেছিলেন। তিনি তাকে বলেন, নূহাশ পল্লীর উন্নয়নের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে একটি বড় তহবিল এসেছে। এই টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবের মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

শাওন ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে উপসচিব পরিচয়ে একজন কথা বলেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা অর্থ স্থানান্তরের জন্য সরকারি ট্যাক্স বা ফি বাবদ ৩১ হাজার ৮৫০ টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলেন। তিনি সরল বিশ্বাসে টাকা পাঠানোর পর সেই নম্বরটি বন্ধ পান। তখন তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এই ঘটনায় নুহাশ পল্লীর ম্যানেজার গত ১২ মে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ মামলা তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রতারককে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরও বলেন, প্রতারক রবিউল ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন কৌশলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাদের কখনো ডেপুটি স্পিকার, কখনো বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পরিচয় দিয়ে ফোন করতেন। বিদেশি অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি ভ্যাট, ট্যাক্স ও প্রসেসিং ফি-এর নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল বন্ধ করে রাখতেন। এভাবে তিনি শতাধিক মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘রবিউল ফোন করে এমনভাবে কৌশলে কথা বলেছে যে আমি তার প্রতারণা ধরতে পারিনি। যাচাই না করে টাকা পাঠানোয় আমার ভুল হয়েছে।’

চালের দাম আরও কমবে: খাদ্যমন্ত্রী

১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় কম দামে চাল বিক্রি কার্যক্রম চালু হলে বাজারে চালের দাম আরও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত খাদ্য আমদানি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চালের দাম এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে, দাম আরও কমবে। গত সপ্তাহে চালের দাম যেটা বেড়েছে, সেটা কমছে। এর মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওএমএস দেওয়ার পরে তো আরও কমবে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘কমফোর্টেবল আমদানির জন্য কমফোর্টেবল পেমেন্টের জন্য, যা যা করার দরকার, তা ক্লিয়ার আছে। দ্যাটস এনাফ।’

কমফোর্টেবল বিষয়টি আসলে কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খালি আপনারা দেখতে থাকেন, গম আসতে থাকবে, চাল আসতে থাকবে’।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ এই অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গাদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক ও বিস্তৃত মানবিক প্রতিক্রিয়ার একটি অপরিহার্য উপাদান হিসাবে আমরা বাংলাদেশসহ এই অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার জন্য কাজ করছি, যাতে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের জীবন পুনর্গঠন করতে পারে।’

কবে থেকে রোহিঙ্গাদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে কিংবা তাদের সংখ্যা কত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি ব্লিঙ্কেন।

রোহিঙ্গাদের প্রতি মার্কিন সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ও বার্মার (মিয়ানমার) জনগণকে তাদের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের জন্য প্রচেষ্টা, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি এবং বার্মার সব ব্যক্তির মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।’

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের গণহত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা ও বার্মার জনগণের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার অগ্রগতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে এবং নির্যাতিত ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। জেনোসাইড কনভেনশনের অধীনে যে মামলাটি গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বার্মার বিরুদ্ধে এনেছে এবং বার্মিজ সামরিক বাহিনীর নৃশংসতা অপরাধের বিচারের জন্য বিশ্বজুড়ে আস্থাভাজন যেসব আদালতের বিচারিক এখতিয়ার রয়েছে তাদের স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানানো আমরা অব্যাহত রাখছি।’

এক কারখানায় ১৪ নকল পণ্য উৎপাদন

বগুড়ার সোনাতলায় অনুমোদন ছাড়াই এক কারখানায় তৈরি করা হতো ১৪টি নকল পণ্য। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই কারখানায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জানা যায়, সোনাতলা উপজেলা সদরের গড় ফতেপুর গ্রামে মেসার্স সালেক ফুড অ্যান্ড ক্যামিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি কারখানা গড়ে তোলেন ওই গ্রামের সালেক সোলার। কোনো প্রকার সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ছাড়াই কারখানায় উৎপাদন শুরু করেন সুরভী ড্রিংকিং ওয়াটার, সুরভী মরিচ ও হলুদের গুঁড়া, সুরভী সরিষার তেল, সুরভী শ্যাম্পু, সুরভী আইস ললি, সুরভী চানাচুর, লিকুইড ডিশওয়াশ, সালেক মশার কয়েল, সালেক বলপেন, সালেক হ্যান্ড ওয়াশ, সালেক স্যানিটাইজার, সালেক টয়লেট ক্লিনার ও এসপিএল ব্যাটারির পানি। অবৈধ উপায়ে এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার বিষয়টি নজরে আসে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যদের।

তথ্য পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত আজ দুপুরে ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করার পাশাপাশি সালেক ও মোফাজ্জলকে আটক করেন। তাদের আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে জব্দ করা প্রায় ১০ লাখ টাকার নকল পণ্য সেখানেই রোলার চালিয়ে ধ্বংস করা হয়।

 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমীর সালমান রনির নেতৃত্বে এই অভিযানে ছিলেন বিএসটিআই, এনএসআই, এপিবিএন ও থানা পুলিশের সদস্যরা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমীর সালমান রনি জানান, খাদ্য নিরাপত্তসহ অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হাওয়া’র পরিচালককে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

বন্যপ্রাণী আইনের মামলায় ‘হাওয়া’ সিনেমার পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৭ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। মামলায় বাদী হয়েছেন বন্যপ্রাণী পরিদর্শক নারগিস সুলতানা। সাক্ষী করা হয়েছে তদন্ত কমিটিতে কাজ করা অপর তিন সদস্য আব্দুল্লাহ আস সাদিক, অসীম মল্লিক ও রথিন্দ্র কুমার বিশ্বাসকে।

গত ২৯ জুলাই মুক্তি পাওয়া ‘হাওয়া’ সিনেমায় একটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে, সিনেমায় একটি পাখিকে হত্যা করে চিবিয়ে খেয়েছেন চান মাঝির চরিত্রে অভিনয় করা চঞ্চল চৌধুরী। সিনেমায় একটি শালিক পাখিকে খাঁচায় আটকে রাখা ও এক পর্যায়ে হত্যা করে খাওয়ার দৃশ্য দেখানোর মাধ্যমে বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন অনেকে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় ও দেশে পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা ৩৩টি সংগঠনের সমন্বিত প্রয়াস বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট (বিএনসিএ)। এর পরদিন প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি দেখে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান বন অধিদফতরের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এরপর ১৭ আগস্ট মামলা দায়ের করা হয়।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা বিশ্বব্যাংকের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়নসহ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন।

বুধবার (২৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি এই প্রশংসা ব্যক্ত করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং এর তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন দেখে অভিভূত হয়েছেন।

কুমিল্লার একটি গ্রামের উদাহরণ তুলে ধরে টেম্বন বলেন, তিনি ছোট ছোট বাড়ি দেখে খুশি হয়েছেন, যেখানে প্রতিটি পরিবার তাদের বাড়ির চত্বরে গাছ লাগিয়েছে এবং সবজি চাষ করছে। তিনি তার আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানান।

এ প্রসঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্পের আওতায় দেওয়া বাড়ির মালিক স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এবং তারা তাদের বাড়ির জমি সবজি চাষে ব্যবহার করছেন।

টেম্বন প্রধানমন্ত্রীকে জানান, কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন কৃষকদের সাহায্য করার জন্য শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য লোকেরা ধান কাটার কাজে নিজেদের জড়িত করেছে দেখে তিনি খুবই খুশি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে এ কাজ করেছে।

নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী কান্ট্রি ডিরেক্টরকে বলেছেন, কাজটি এত সহজ ছিল না এবং এ জন্য তার সরকারকে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশে নারী উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার সরকার বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরও বলেন, নারীর অগ্রগতির বাধা দূর করায় খেলাধুলা ও কর্মসংস্থানসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

পরে ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক আখতার হোসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি বিশ্ব ডায়াবেটিক ফেডারেশন কংগ্রেসে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। আগামী ডিসেম্বরে পর্তুগালে এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডায়াবেটিসের প্রথম গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

শেখ হাসিনা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এই উপাধিতে ভূষিত করায় বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশনের গভর্নিং বডিকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং গণসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর জোর দেন।

বিশ্ব ডায়াবেটিক ফেডারেশনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীকে তাদের কার্যক্রমের কথা জানান। জাতীয় অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।