নোবেল শিমুর গলার ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে হত্যা করে

সম্প্রতি ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার ঘটনায় স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।  কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

শিমু হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। অভিযোগপত্রের বিষয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে আদালতে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাবা-মাকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতেন নায়িকা শিমু। তাদের বাসার পাশে ছিল নোবেলের বাসা। ফলে নিয়মিত দেখা হতো। এক সময় তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরে বাবা-মায়ের অমতে শিমুকে বিয়ে করেন নোবেল। ফলে নোবেলের বাবা-মা আলাদাভাবে বসবাস করতে থাকেন। রাজধানীর গ্রিন রোডে স্ত্রী-সন্তানসহ বসবাস করতেন নোবেল।

বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য দেখা দেয় দুজনের। এর মধ্যে নোবেল শিমুকে সিনেমায় অভিনয় করতে নিষেধ করেন। তার কথামতো সিনেমা ছেড়ে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেল চাকরি নেন শিমু। এ চাকরিটাও ভালোভাবে নেননি নোবেল। এ নিয়ে নোবেল ও শিমুর সংসারে চলে আসছিল কলহ। এ কলহের কথা নোবেল তার বাল্যবন্ধু ফরহাদের সঙ্গে শেয়ার করতেন।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি সকাল সোয়া ৮টায় নোবেলের বাসায় যান ফরহাদ। এ সময় ফরহাদকে ড্রইংরুমে বসতে দিয়ে নোবেলকে জানান শিমু। নোবেল গিয়ে ফরহাদের সঙ্গে দেখা করে রান্নাঘরে চা বানাতে যান।

এ সময় বেডরুমে বসে মোবাইল দেখছিলেন শিমু। তখন নোবেল গিয়ে সেই মোবাইল দেখতে চান। কিন্তু শিমু দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। হইচই শুনে ফরহাদ উঠে শিমুর রুমে যান। তখন নোবেল ফরহাদকে বলেন, শিমুকে ধর, ওকে আজ মেরেই ফেলব।

কথামতো ফরহাদ ধরতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন শিমু। এরপর নোবেল প্রথমে শিমুর গলা ধরতে গেলে তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। এবার ফরহাদকে শিমুর গলা ধরার জন্য বলেন নোবেল। ফরহাদ গলা আর নোবেল দুই হাত চেপে ধরেন। একপর্যায়ে নিচে পড়ে যান শিমু। নোবেল শিমুর গলার ওপর পা দিয়ে দাঁড়ান। এতে প্রস্রাব করে দেন শিমু। এক সময় শিমু নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি সকালে কেরাণীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকা থেকে শিমুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। শিমুকে হত্যা করার অভিযোগে তার স্বামী নোবেল ও বন্ধু ফরহাদকে গ্রেফতার করে কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ। তাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নিহতের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

টঙ্গীতে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ৩

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে এক গৃহবধূকে (২৪) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার টঙ্গীর মিরাশপাড়া নদীবন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেন টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই সাব্বির হোসেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন টঙ্গীর মিরাশপাড়া এলাকার জাবেদ মিয়ার ছেলে মো. শাওন (২৪), নবীন হোসেনের ছেলে নাদিম হোসেন (১৯) ও গাজী সালাউদ্দিনের ছেলে গাজী সাকিবুজ্জামান সিয়াম (২১)। তারা একই এলাকায় বাস করতেন।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত যুবক শাওন সঙ্গে ওই নারীর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার সকালে তাকে বাসা থেকে ফোন করে ওই এলাকার মৃত গাজী আলাউদ্দিনের বাড়িতে নিয়ে যায় শাওন। পরে একটি কক্ষে ওই নারীর চোখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। এ সময় ঘটনাটির ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে শাওন। পরে ওই নারীকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্তরা। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ওই নারী বাসায় ফিরে ৯৯৯ ফোন করে পুলিশকে জানালে পুলিশ অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেফতার করে। ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নির্যাতিতা নারী জানান, শাওন আমার পূর্ব পরিচিত। কয়েক মাস আগে আমার বিয়ে হয়। আমি মিরাশপাড়া এলাকার একটা ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে বাস করি। সোমবার সকালে ফোন করে শাওন দেখা করতে চাইলে আমি ওই স্থানে যাই। পরে সে ও তার বন্ধুরা একটি ঘরে আমাকে নিয়ে যায়। আমার ওড়না দিয়ে চোখ বেঁধে তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এ সময় শাওন মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। পরে কাউকে কিছু জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানায়। বাসায় ফিরে পুলিশকে জানালে পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে আসে। মঙ্গলবার ওই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও ঘটনাটির ভিডিও ধারনের কথা স্বীকার করেছে তিন যুবক। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে

এর বাইরে সুনীল অর্থনীতিতে সহযোগিতা এবং দুই দেশের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম কর্তৃপক্ষের মধ্যে অতীতে সই হওয়া দুটি এমওইউ এবারের শীর্ষ বৈঠকের পর আবার নবায়ন হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কূটনীতিক এই প্রতিবেদককে বলেন, সাধারণত অন্যান্য শীর্ষ বৈঠকের মতো এবারও কিছু সমঝোতা স্মারক সই নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে কাজ চলছে। তবে তালিকায় সংযোজন আর বিয়োজনের কাজটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলতে থাকে। শুরুর দিকে ১২টি এমওইউ সই ও নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। কাজেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ নিয়ে কাজ চলতে থাকে।

ওই কূটনীতিক আরও জানান, ভারতের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জিএমআরের সঙ্গে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা রয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খুলনায় রূপসা নদীর ওপর নির্মিত সেতু উদ্বোধন করতে পারেন।

দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, পানিবণ্টন ও সংযুক্তির মতো বিষয়গুলো এবার গুরুত্ব পাবে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রেখে কীভাবে তা আরও বিস্তৃত করা যায়, তা নিয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা আলোচনা করবেন।

আগামীকাল সোমবার দিনের প্রথম ভাগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি এসে পৌঁছাবেন। এরপর বিকেলের কোনো এক সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাঁর সঙ্গে হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মঙ্গলবার সকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। সেখান থেকে তিনি যাবেন দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে।

সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একান্তে এবং প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠক করবেন। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তালিকায় থাকা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে এবং পরে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদ্বীপ ধানকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ৭ সেপ্টেম্বর ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেবেন। ওই দিন দুপুরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয়দের পরিবারের সদস্যদের হাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বৃত্তি হস্তান্তর করবেন। ৮ সেপ্টেম্বর তিনি রাজস্থানে আজমির শরিফ দরগায় যাবেন। সেখানে মাজার জিয়ারত শেষে ওই দিন বিকেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

রাখাইনে সাম্প্রতিক অস্থিরতার দিকে নজর রাখছে ভারত

ভারত মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার দিকে নজর রাখছে যেখানে বাংলাদেশ আশঙ্কা করছে এঘটনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেন।

বৈঠক শেষে ভারতীয় মন্ত্রীর বরাত দিয়ে সিনিয়র পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, ‘তারা আমাদের বলেছে যে, ভারত সেখানে (রাখাইন রাজ্য) সৃষ্ট অস্থিরতার দিকে নজর রাখছে।’

বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার ইস্যুতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যাহত হবে কিনা।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই সেই আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। তিনি মনে করেন, এই সফরের ফলে এক বছরে (২০২১) ভারতীয় রাষ্ট্রপতি এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে শুরু হওয়া চক্রটি শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুবই ভালো।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়াতে তাদের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এমন প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ লক্ষ্যে এই অঞ্চলে আরও ভালো যোগাযোগের জন্য বিবিআইএন-এর মতো উদ্যোগকে বেগবান করতে হবে।

তিনি বলেন, নেপাল ও ভুটানকে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন “এই সংযোগ মানে শুধু ভৌত সংযোগ নয়, এতে আছে জ্বালানি সংযোগ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগ”।

কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির পর সড়ক, বিমান ও রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রিড কানেক্টিভিটির বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, গ্রিড কানেক্টিভিটি বাংলাদেশকে নেপাল, ভুটান এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনতে এক অংশ থেকে অন্য অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সহায়তা করবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরই মধ্যে সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনা হচ্ছে।

আলোচনাকালে পানি বণ্টনের বিষয়টিও উঠে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল এ লক্ষ্যে মূল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, বৈঠকে তারা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করেছেন যা বিশ্বে একটি সংকট তৈরি করেছে।

তিনি আরো বলেন, উভয় নেতা সম্মিলিতভাবে সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

যুদ্ধের পটভূমিতে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মত শর্তাবলীর ভিত্তিতে জ্বালানি উদ্বৃত্ত থাকলে বাংলাদেশ ভারত থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারে।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা রাশিয়া থেকে তেল নিতে পাবেনা এটা ঠিক নয়, তবে “আমরা এখন প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো যাচাই করছি”।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন, পানি ব্যবস্থাপনা, তথ্য ও সম্প্রচার, রেলওয়ে এবং বিএসআরআই-এর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার লক্ষ্যে খসড়া চূড়ান্ত করছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যান্য আরো অনেক ইস্যুর পাশাপাশি তিস্তা ও গঙ্গা নদীর পানি বন্টন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। শীঘ্রই গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।

কাউকে ধরে-বেঁধে নির্বাচনে আনব না: সিইসি

কোনো দলকে ধরে-বেঁধে নির্বাচনে আনবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। সব দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ চাই। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হলে ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক দলগুলোই এ ভারসাম্য সৃষ্টি করে। সবার প্রতি আহ্বান থাকবে- আপনারা আসুন, সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিন। নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখুন এবং সহায়তা করুন। কাউকে ধরে-বেঁধে নির্বাচনে আনব না।’

সিইসি বলেন, ‘বিএনপি অন্যতম প্রধান দল। তারা যেসব বিষয় চাচ্ছে, সেগুলোতে আমাদের কোনো বাধা নেই। তাদের রাজনৈতিক কৌশলে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার আমাদের নেই। তবে আমাদের যে দায়িত্ব, সে পথে আমরা এগিয়ে যাব।বিএনপি আসলে আগামী নির্বাচন অধিক অংশগ্রহণমূলক হবে। কাল যদি আমাকে উচ্ছেদ করা হয়, সেজন্য আমি তো মর্মাহত হব না।’

 

কাজী হাবিবুল বলেন, ‘আজ দুটি দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে যেন সহায়ক হয় সেজন্যই সংলাপ করেছি। সংলাপ শেষে আমরা তাদের লিখিত আকারে সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। ইভিএম নিয়েও বৈঠক করেছি। ইভিএম নিয়েও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে।’

সিইসি বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব বিবেচনায় এবং দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে যৌক্তিকভাবে ব্যালট পেপারে ১৫০ আসন এবং ইভিএমে ১৫০ আসনে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেকে মেশিনে বিশ্বাস করেন, অনেকে করেন না। তবে আমাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না তা নির্ভর করবে- এটা পাওয়া যাবে কি না তার ওপর। কারণ, ইভিএমের বেশিরভাগ পার্টস আসবে বিদেশ থেকে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু দলকে নয়, সরকারকেও সংলাপ থেকে আসা মতামতগুলো জানিয়েছি। কেননা, দলগুলো কী বলছে তা সরকারেরও জানা উচিত। সরকার কোনো দলের নয়। সেই বিভাজন মাথায় রেখেই আমরা সরকারকে জানিয়েছি।’

কাজী আউয়াল বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে আমরা খুঁটিনাটি অনেক কাজ করেছি। ইভিএমের মধ্যে ওই ধরনের কারচুপি, এটা সেটা এবং কার্ডের মাধ্যমে কী সম্ভব, আমরা তা খতিয়ে দেখেছি। কারচুপির বিষয় পাইনি। ব্যক্তি শনাক্তকরণের পর আঙুলের ছাপ দিলেই ছবি ভেসে আসবে। এরপর ব্যালট ওপেন হবে। ৪০ সেকেন্ড থাকবে। এর মধ্যেই ভোট দিতে হবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন প্রকল্পে ইভিএম সংরক্ষণের ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। এটা আমাদের পরিকল্পনা। প্রকল্প অনুমোদনের পর যদি বাস্তবায়ন করতে না পারি তাহলে ব্যালটে নির্বাচন করব।’

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন লিজ ট্রাস

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন লিজ ট্রাস। ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে ঋষি সুনাককে হারিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন তিনি। আজ সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব বুঝে নেবেন লিজ ট্রাস।

কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান স্যার গ্রাহাব ব্রাডি জানিয়েছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় লিজ ট্রাস পেয়েছেন ৮১ হাজার ৩২৬ ভোট। অন্যদিকে ঋষি সুনাক পেয়েছেন ৬০ হাজার ৩৯৯ ভোট। দলের ৮২.৬ ভাগ সদস্য নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

 

এর আগে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কনজারভেটিভ পার্টির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস অথবা সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মদের পার্টি কেলেঙ্কারি, উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রচণ্ড চাপের মুখে থাকা বরিস জনসন গত ৭ জুলাই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য হন। তার পদত্যাগের পর শুরু হয় দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া।

দিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের রেল ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী দর্শনা বিক্রম এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় ছয় থেকে সাত সদস্যের একটি সাংস্কৃতিক দল নৃত্য ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীর চারদিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টন ও রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সহযোগিতা আলোচ্যসূচিতে  থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া সফরের এজেন্ডার শীর্ষে উভয় দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও উন্নত করা, আঞ্চলিক সংযোগের উদ্যোগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টিও রয়েছে বলে জানিয়েছে এএনআই।

শেখ হাসিনা ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে ৬ সেপ্টেম্বর হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও একান্ত বৈঠক করার কথা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরে একটি প্রেস বিবৃতি জারি করা হবে।

হায়দ্রাবাদ হাউসে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার পরিদর্শন করবেন। শেখ হাসিনা পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজনে যোগ দেবেন।

আজ রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে শেখ হাসিনা। ৬ সেপ্টেম্বর তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জগদীপ ধনখারের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই দিনে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার দেখা করার কথা রয়েছে।

টঙ্গীতে পূঁজা মন্দিরে বহিরাগতদের হামলা, আহত তিন

প্রতিনিধি টঙ্গী (গাজীপুর)

গাজীপুরের টঙ্গী বাজার দূর্গা মন্দিরে সভা চলাকালীন সময় বহিরাগতদের হামলায় তিনজন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার মধ্যরাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় মন্দিরের সদস্য ও ভক্তবৃন্দের মাঝে আতষ্ক বিরাজ করছে। টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, টঙ্গীর বাজার কেন্দ্রীয় মন্দিরে আগামী দূর্গা পূঁজা উপলক্ষে শনিবার রাতে একটি আলোচনা সভা আয়োজন করেন মন্দির কমিটি সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস। উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকারকে প্রধান অতিথি করা হয়। সভা চলাকালীন সময় এক বক্তার উস্কানীমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ করলে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। এসময় স্থানীয় কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতাও বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পরে। পরে মন্দিরের বাহিরে অবস্থান নেয়া কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার ও টঙ্গী পূর্ব থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী লিটন উদ্দিন সরকারের লোকজন মন্দিরের ভিতরের প্রবেশ করে চড়াও হয়ে হামলা করে। এতে টঙ্গী পূর্ব থানা পুজা উদযাপন কমিটির সহসভাপতি রতন কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক অমল চন্দ্র ঘোষ, সহ দপ্তর সম্পাদক বিপুল দেবনাথ আহত হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানা পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমল চন্দ্র ঘোষ বলেন, বর্তমান মন্দির কমিটি মেয়াদ ২বছর আগে শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ না থাকায় সকল সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে পূঁজার প্রস্তুতি সভায় একজনের উস্কানীমূলক বক্তব্যের কারনে বিসৃংখলার সৃষ্টি হয়। মন্দিরের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাসের ইন্দনে বহিরাগত লোকজন মন্দিরের ভিতরে হামলা চালিয়ে লোকজনকে আহত করে।
মন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস জানান, সভাকালীন একজন উস্কানীমূলক বক্তব্য দিলে সভায় থাকা অপর একজন প্রতিবাদ জানায়। এতে কথা কাটাকাটি ও বাক-বিতন্ডা হয়।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার বলেন, একজনের উস্কানীমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় মন্দিরে অবস্থানরত সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। পরে আমি তাদের ধমক দিয়ে নিবৃত করি।
টঙ্গী পূর্ব থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার আর নেই

কিংবদন্তি গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও অনেক কালজয়ী গানের স্রষ্টা গাজী মাজহারুল আনোয়ার রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পুত্রবধূ শাহানা মির্জা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, অসুস্থ অবস্থায় রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেন, তার পালস পাওয়া যাচ্ছে না। এর কিছুক্ষণ পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

শাহানা মির্জা আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এসিডিটির সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। আমরা শনিবার তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। রক্ত পরীক্ষা করানো হয়েছিল। রোববার উনার আরও অনেক কিছু পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু সকালে তো তিনি চলে গেলেন।

দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে বেতার, টেলিভিশন, সিনেমাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার গান রচনা করেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তার লেখা কালজয়ী গানও অসংখ্য। গীতিকবিতায় অবদান রাখার জন্য ২০০২ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি। পাঁচবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

তার লেখা কিছু কালজয়ী গান হলো-‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’, ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’, ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’, ‘ও পাখি তোর যন্ত্রণা’, ‘ইশারায় শীষ দিয়ে’, ‘চোখের নজর এমনি কইরা’, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, ‘চলে আমার সাইকেল হাওয়ার বেগে’ প্রভৃতি।

ওষুধের অস্থির দামে স্বস্তিতে নেই সাধারণ মানুষ

বাংলাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মতো সম্প্রতি অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম গত দেড় মাসে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ বেড়েছে।

বাংলাদেশে এখনো মানুষের চিকিৎসা বাবদ মোট খরচের বড় অংশই ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়, সেখানে ওষুধ ভেদে বড় ব্যবধানে দাম বাড়ায় অস্থিরতা বিরাজ করছে সাধারণ মানুষ। জ্বালানি তেল ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ওষুধের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বলে দাবি ওষুধ প্রশাসনের। তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, এভাবে ওষুধের দাম বাড়লে চিকিৎসা বড় সঙ্কটে পড়বে।

ঢাকার বাসিন্দা ইভানা গাজীর বাড়িতে শিশু এবং প্রবীণ দুই বয়সের মানুষের জন্য প্রতিমাসে ওষুধ কেনা বাবদ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা রাখতে হয়। তার সন্তানের প্রায়শই ঠাণ্ডা জ্বর লেগে থাকে।

অন্যদিকে, তার বাবা বেশ কয়েক বছর ধরেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এজন্য নিয়মিত ওষুধ কিনতেই হয়। যেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা সেখানে গত জুলাই মাসে বহুল ব্যবহৃত ৫৩টি ওষুধের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে।

ইভানা গাজীর পরিবারকে এ ধরনের অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়মিত কিনতে হয়। যার কারণে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

তিনি বলছিলেন, আমার বাচ্চার ওষুধ যদি দু’হাজার থেকে চার হাজার টাকা হয়ে যায়, আমার বাবার ওষুধের দাম যদি তিন থেকে ছয় হাজার টাকা হয়, তাহলে আমার মাসে চলবো কীভাবে? আমাদের রোজগারই বা কতোটুকু। ওষুধ বাদ দিলে তো হাসপাতালে দৌড়াতে হবে। সেই অবস্থাও তো নেই। ওষুধ তো বাদ দেয়া সম্ভব না।

ওষুধের দোকানগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্যারাসিটামল, সেইসাথে রক্তাচাপ, হৃদরোগ, ব্যাথানাশক ও পেটে গ্যাসের সমস্যার নিয়মিত ওষুধগুলোর দাম ৫০ শতাংশ থেকে ১৩৪ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ কিছু ওষুধের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে।

ওষুধের দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিকে দুষছেন ওষুধ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মুক্তাদির।

তিনি বলছেন, গত মাসে ওষুধের কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছিল ৮০ টাকা ডলারে। শিপমেন্ট পৌঁছানোর পর ডলারের দাম উঠেছে ১১০ টাকায়। প্রতি ডলারে ৩০ টাকা করে বেশি দিতে হয়েছে।

ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো আরও বেশকিছু ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে জমা দিয়েছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করে, যৌক্তিক মনে হলেই দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান অধিদপ্তরের পরিচালক আইয়ুব হোসেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের তথ্যমতে, বাংলাদেশে একজন মানুষের মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ ওষুধ বাবদ খরচ হয় এবং এই খরচ করতে রোগীর পকেট থেকেই। অর্থাৎ দেশের হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওষুধেই মানুষের সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে।

বাংলাদেশে যেখানে স্বাস্থ্যবীমা খুবই সীমিত সেখানে ওষুধে এই বাড়তি দাম রোগীর ওপরে চাপ আরো বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাহিদ আক্তার জাহান। এর বাইরে যে ওষুধ রয়েছে, সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে ওষুধ কোম্পানিগুলো।