টঙ্গীতে শিক্ষক দম্পতির হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
টংগীর আলোচিত শিক্ষক দম্পতির রহস্যজনক হত্যা কান্ডের বিচারের দাবিতে মহা সড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে শিক্ষার্থীরা। টংগীর শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুন ও তার সহধর্মিণী আমজাদ আলী গার্লস স্কুলের সহকারী শিক্ষক মাহমুদা আক্তার জলির রহস্যজনক মৃত্যুর প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত দুই প্রতিষ্ঠানের সামনে আলাদা আলাদা ২ টি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আমজাদ আলী গার্লস স্কুলের ছাত্রীরা বেলা ১১ টায় ঢাকা ময়মনসিংহ মহা সড়কে এবং শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২ টায় বিসিক সড়কে অবস্থান করে এ শিক্ষক দম্পতি হত্যাকান্ডের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন ২ টিতে সংহতি প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তপূবক এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করে বক্তব্য রাখেন, জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা, আমজাদ আলী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন সেলিম, আশরাফ টেক্সটাইল মিলস স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশনের সহ – সভাপতি সৈয়দ আতিক, শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান রানা, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটির মহাসচিব নাসির উদ্দিন বুলবুল, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুস সাত্তার, মোতাহার হোসেন, শিলমুন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন। বক্তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা না হলে টংগী ও গাজীপুরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

 

 

 

আইসিসিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ জমা দিলেন ফিলিস্তিনিরা

ইসরাইলের বিরুদ্ধে বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ দাখিল করেছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অফ জাস্টিস ফর প্যালেস্টিনিয়াস (আইসিজেপি)।

বসতি স্থাপনের জন্য এবং ‘সামরিক প্রয়োজনে ন্যায্য নয় এমন পরিস্থিতিতেও’ বেআইনিভাবে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ এনেছে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচারের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি।

গাজা উপত্যকার বাসিন্দা রেজক সালেম হামেদ কাদিহ ও অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের সেখ জাররাহর সালহিয়া পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিযোগটি দাখিল করা হয়েছে। ২০২১ সালের ৩ মার্চ এ ব্যাপারে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল।

তদন্ত চলাকালে আইসিসির তৎকালীন প্রসিকিউটর ফাতু বেনসুদা বলেছিলেন, ‘পূর্ব জেরুসালেমসহ পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ হয়েছে বা হচ্ছে- এ কথা বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি রয়েছে। পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য মামলাগুলো গ্রহণযোগ্য হবে, এবং এটি বিশ্বাস করার কোনো যথেষ্ট কারণ নেই যে তদন্ত ন্যায়বিচারের স্বার্থে কাজ করবে না।’

অভিযোগটি আইসিসি প্রসিকিউটরের দাখিল করা মামলাগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক তদন্তের অংশ হিসেবে জমা দিতে চায়। এ সময়ে আইসিজেপি অসংখ্য অভিযোগ সংগ্রহ করতে থাকে আইসিসিতে জমা দেয়ার জন্য।

আইসিজেপি পরিচালক তায়াব আলি বলেছেন, ‘ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি-সম্পর্কিত করা অপরাধের অভিযোগকে সমর্থন করার জন্য সংগৃহীত প্রমাণগুলো যথেষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য ও স্পষ্ট।

তিনি আরো বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীরবতা এবং সমর্থন এই অপরাধের সাথে জড়িত হওয়ার সমতুল্য।’

সূত্র : মিডলইস্ট আই


ধৈর্যহারা হবেন না, ইনশা আল্লাহ এই দিন আর থাকবে না : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের আর্থিক সঙ্কটের বৈশ্বিক পরিস্থিতির মূল্য দিতে হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে মূল্য দিতে হচ্ছে। রাত জেগে জেগে দেশের মানুষের কথা ভাবতে হচ্ছে। ধৈর্যহারা হবেন না কেউ, ইনশা আল্লাহ এই দিন আর থাকবে না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি’তে ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “শেখ হাসিনা মানুষের কষ্ট বোঝেন। সরকারপ্রধান হয়ে তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন, ‘মানুষ কষ্ট করছে’। এই কষ্ট লাঘবে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই কষ্ট সাময়িক, এই দুর্দিন চলে যাবে। সুদিন আবার আসবে।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ দেশে আন্দোলনে জিতলে নির্বাচনেও জেতা যায়। ষড়যন্ত্র করে কাউকে হত্যা করতে পারলে ক্ষমতা পাওয়া যায় না। দেখতে দেখতে ১৩ বছর। দিন যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায়, পদ্মা-মেঘনা নদীতে কত পানি গড়িয়ে যায়। কিন্তু, ফখরুল সাহেবদের আকাঙ্ক্ষিত আন্দোলনের সোনার হরিণ দেখা তো গেল না। আন্দোলনের সোনার হরিণ দেখা না দিলে ক্ষমতার ময়ূর সিংহাসন কোনো দিনও দেখা দেবে না।’

এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কষ্ট প্রকাশ করে কী করবেন? শেখ হাসিনাকে আল্লাহ ক্ষমতা দিয়েছেন, তিনি ভাগ্যবতী। আল্লাহ এ দেশে একজনকে সৃষ্টি করেছেন স্বাধীনতার জন্য, আরেকজনকে সৃষ্টি করেছেন মুক্তির জন্য। শোককে শক্তিতে পরিণত করে মুক্তির লড়াইয়ের আপসহীন কান্ডারি শেখ হাসিনা।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান আলোচক ছিলেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

বিষ দিয়ে মাছ শিকার চলতে থাকলে মৎস্যশূন্য হবে সুন্দরবন : হাইকোর্ট

বিষ প্রয়োগ করে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ শিকার চলতে থাকলে এক সময় পুরো সুন্দরবন এলাকা মৎস্যশূন্য হয়ে যাবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, ‘বিষ নিয়ে মাছ শিকার করলে কিংবা চারু পদ্ধতির মাধ্যমে কাঁকড়া শিকার করলে ওই নৌকার সব আরোহীকে প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।’

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আল ফয়সাল সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

অ্যাডভোকেট আল ফয়সাল সিদ্দিকী জানান, নিবন্ধিত ট্রলারে পশুর নদী ব্যবহার করে দুবলার চর থেকে সব ধরনের মাছ পরিবহনের অনুমতি আছে বন বিভাগের। তবে, কাঁকড়া বহনের অনুমতি দেয়া হচ্ছিল না। ফলে, কাঁকড়া ধরার পর খুলনায় আনতে দেরি হওয়ায় অনেক কাঁকড়া মারা যেত।

এ অবস্থায় অন্যদের মতো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কাঁকড়া পরিবহনের অনুমতি চেয়ে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেন দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার কাঁকড়া আহরণকারী জেলেরা। কিন্তু বন বিভাগ ওই আবেদনে সাড়া না দেয়ায় জেলেরা ওই বছরই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে ওই আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

এরপর বন বিভাগ থেকে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর আবেদনকারীদের জানানো হয় যে, কাঁকড়া পরিবহনের অনুমতি দেয়া হবে না। এরপর বন বিভাগের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে জাহান আলী গাজীসহ আটজন ২০১৯ সালে রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে আদালত বলেন, ‘এক শ্রেণির জেলে সুন্দরবন থেকে মাছ আহরণ করার জন্য পাস সংগ্রহ করে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবাহিত খালগুলোতে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ আহরণ করে। ফলে বিষ প্রয়োগ করা খালে সব প্রকার জীববৈচিত্র্যসহ উদ্ভিদ নষ্ট হয়ে যায়। এমন কাজ অত্যন্ত নিকৃষ্ট। এভাবে বিষ প্রয়োগ করে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ আহরণ করা অব্যাহত থাকলে এক সময় পুরো সুন্দরবন এলাকা মৎস্যশূন্য হয়ে যাবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

হাইকোর্টের রায়ের সাত দফা নির্দেশনাগুলো হলো :

১) রিটকারীরাসহ কাঁকড়া জেলেরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সুন্দরবনের সংশ্লিষ্ট স্টেশন অফিসে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব প্রদান করে পাস (অনুমতি) সংগ্রহ করে কেবল বৈঠা চালিত নৌকা এবং ‘দোন দড়ি’র মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজনের কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন।

২) কোনো অবস্থাতেই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত এলাকার খালের ভেতরে কোনো প্রকার ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলার চলাচল করা যাবে না। এজন্য বন বিভাগসহ সুন্দরবনের অভ্যন্তরে চলাচলকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে।

৩) পাস নিয়ে কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় বন বিভাগের স্টেশন অফিস থেকে কঠোরভাবে সংশ্লিষ্ট নৌকা ও নৌকার লোকদের পরীক্ষা করতে হবে, যাতে কোনো প্রকার ‘চারু’ (কাঁকড়া ধরার জন্য বাঁশের শোলা দ্বারা নির্মিত চাঁই, যা স্থানীয়ভাবে চারু নামে পরিচিত) এবং ‘বিষ’ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি জিনিস বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে। এ ক্ষেত্রে দিনের বেলা তাদের নৌকা পরীক্ষা করে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেয়া সমীচীন হবে।

৪) প্রতিটি নৌকা পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশকালে তাদের জন্য কী কী করণীয় এবং কী করা দণ্ডনীয় সে সম্পর্কিত হ্যান্ডবিল/পোস্টার সরবরাহ করা যেতে পারে।

৫) যেহেতু সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবাহিত নদী ও খালগুলো থেকে মাছ আহরণের পর তা জেলে পল্লী দুবলা থেকে সংগ্রহ করে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে পরিবহন করে বাজারজাত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমতি দেয়া হয়েছে, সেহেতু অনুরূপভাবে বৈঠাচালিত নৌকা দ্বারা কেবল ‘দোন দড়ি’ পদ্ধতিতে কাঁকড়া আহরণ করে তা দুবলা জেলে পল্লীসহ সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অন্য যেকোনো স্বীকৃত স্থানে, যেখানে ইঞ্জিনচালিত নৌকার/ট্রলারের যাতায়াতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, সেখান থেকে সংগ্রহ করে দ্রুত বাজারজাত করার জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে পরিবহনের অনুমতি দিতে হবে। সেক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত ইঞ্জিনচালিত নৌকা/ট্রলারে কাঁকড়া পরিবহনের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করতে হবে এবং ওই সব ইঞ্জিনচালিত নৌকা/ট্রলার সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশকালে স্থানীয় স্টেশন অফিস কর্তৃপক্ষ ওই নৌকা/ট্রলার কঠোরভাবে পরীক্ষা করে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেবে, যাতে কোনো প্রকার বেআইনি জিনিস, যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্য ধ্বংস করতে পারে, তা যেন সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করাতে না পারে।

৬) সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিতভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয় বাজার, ওষুধের দোকানসহ কৃষির জন্য সার, ওষুধ ও বীজ বিক্রির দোকানগুলোতে অনুসন্ধান করতে হবে, যাতে ওই এলাকায় অননুমোদিত কোনো বিষ বিক্রি করা না হয়।

৭) পাস সংগ্রহ করে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশকালে কিংবা সুন্দরবনে অবস্থানকালে কাঁকড়া জেলেসহ মৎস্য জেলে ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাছে কোনোরূপ বেআইনি দ্রব্য পাওয়া গেলে তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

পটিয়ায় মাকে গুলি করে হত্যাকারী সেই পাষণ্ড ছেলে গ্রেফতার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় গুলি করে মাকে হত্যা করা সেই পাষণ্ড ছেলে মাইনুলকে (২৯) অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭। বুধবার (১৭ আগস্ট) রাতে নগরী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মাইনুল ইসলামকে গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইফসুফ।

গত ১৬ আগস্ট দুপুর দেড়টায় পটিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে মা জেসমিন আকতারকে (৬০) গুলি করে পালিয়ে যান মাইনুল ইসলাম। পরে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে মা জেসমিন আক্তার মারা যান। ওই ঘটনায় নিহতের মেয়ে শায়লা শারমিন নীপা পটিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে জেসমিন আকতারের লাশ বাড়িতে আনা হয়। পরে একই দিন বাদ আসর জানাযা শেষে সবজারপাড়া পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ছেলের গুলিতে নিহত জেসমিন আক্তার পটিয়া পৌরসভার সাবেক দুইবারের পৌর মেয়র ও জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ শামসুল আলম মাস্টারের সহধর্মিনী ছিলেন। শামসুল আলম মাস্টার গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। স্বামী মারা যাওয়ার ৩৫ দিনের মাথায় ছেলের গুলিতে মারা যান জেসমিন আকতার।

স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত হত্যা গাজীপুরে নিজস্ব গাড়ি থেকে উদ্ধার হলো শিক্ষক দম্পতির লাশ

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
নিজের গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসা ও স্টিয়ারিংয়ে হাত রাখা অবস্থায় মিললো প্রধান শিক্ষককের লাশ। পেছনের সিটেই বসা অবস্থায় পাওয়া যায় তার স্ত্রীর লাশও। গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী বিসিক শিল্প নগরীর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুন (৫০) ও তার স্ত্রী টঙ্গী আমজাদ আলী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এÐ কলেজের সহকারী শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তার জলির (৩৫) লাশ বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের গাড়ির ভেতর এভাবেই পাওয়া যায়। এর আগে বুধবার রাত পৌনে ৭টা থেকে তারা নিখোঁজ হন। বহু খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার ভোরে গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের জয় বাংলা সড়কের বগারটেক এলাকায় মেসার্স লিমন ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে তাদের গাড়ির সন্ধান পান স্বজনরা। গাড়ির ভেতর থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজধানীর উত্তরার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এর পর স্বজনরা লাশ দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে জিএমপির গাছা থানায় নেন। সেখানে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ দুটি গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। তাদের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পিবিআই, সিআইডিসহ পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিট। তবে তাদের স্বজনদের অভিযোগ, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হত্যাকাÐ।
নিহত জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই একেএম জিয়াউল হক বলেন, এটি পুরোপুরি পরিকল্পিত হত্যাকাÐ। তাদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, দেড় লক্ষাধিক নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন সবই অক্ষত ছিল। যদি ছিনতাইকারী কিংবা দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটাতো তাহলে টাকা, স্বর্ণ, মোবাইলসহ সব কিছু লুটে নিত। কিন্তু তেমন কিছুই ঘটেনি। শুধু তাজা দু’টি প্রাণ নিয়ে গেছে। তবে কেন এবং কারা এ হত্যাকাÐ ঘটাতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের প্রকাশ্য কোনো শত্রæ নেই। তার কোনো অপ্রকাশ্য শত্রæ সম্পর্কেও আমাদের জানা নেই। কারোর সাথে তার কোনো বিরোধও ছিল না।
টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নূরুজ্জামান রানা জানান, নিহত জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী টঙ্গী আমজাদ আলী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এÐ কলেজের সহকারী শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তার জলি বুধবার বিকেল ৪টায় শহিদ স্মৃতি স্কুলে যান। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তারা নগরীর গাছা থানাধীন কামারজুরির বাড়ির উদ্দেশ্যে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে স্কুল থেকে রওনা হন। পরে রাতে তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পান।
নিহত শিক্ষক জিয়াউর রহমানের ছেলে একেএম তৌসিফুর রহমান মিরাজ বলেন, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাবার মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে মায়ের মোবাইলে ফোন দিলে রিসিভ হয়। এসময় মায়ের কন্ঠ ভার ছিল। পরবর্তীতে মা-বাবার কারোর ফোন রিসিভ না হওয়ায় রাতে আত্মীয় স্বজনদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। ভোররাত ৪টার দিকে গাছা থানার জয়বাংলা সড়কে দক্ষিণ খাইলকুর বগারটেক নামক স্থানে তাদের প্রাইভেটকার দেখতে পেয়ে কাছে যান। এসময় চালকের আসনে বাবা ও পাশেই পেছনের সিটে মাকে নিস্তেজ অবস্থায় পেয়ে প্রথমে তায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এরপর দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের লাশ গাছা থানায় আনা হয়।
নিহত জিয়াউর রহমানের ভগ্নিপতি মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন জিয়াউর রহমান। পরে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার জলিও স্থানীয় আমজাদ আলী সরকার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এÐ কলেজের সহকারী শিক্ষিকা। তারা সপরিবারে গাছা থানার কামারজুরি এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তারা দুজনই স্কুলে যাওয়া আসা করতেন।
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী গাছা থানার এসআই নাদিরুজ্জামান বলেন, নিহত দম্পতির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষিকা জলির নাক দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা গেছে।
এদিকে সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ও পিবিআই সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিআইডি সদস্যরা গাড়ি থেকে খাবারের প্যাকেট, টিফিন ক্যারিয়ারে খাবারের উচ্ছি¡ষ্টসহ বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছেন। খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে বলে স্বজনদের দাবি।
নিহত জিয়াউর রহমানের বড় ভাইয়ের স্ত্রী সাজেদা বেগম জানান, জিয়াউর রহমানের প্রথম স্ত্রী প্রায় আট বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর পর তিনি শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তার জলিকে বিবাহ করেন। এই শিক্ষক দম্পতির কোনো সন্তান নেই। জিয়াউর রহমানের আগের সংসারের একমাত্র ছেলে তৌসিফুর রহমান মিরাজ সাভার মির্জা নগরে গণস্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
নিহত জিয়াউর রহমানের বড় ভাই মো. রিপন জানান, ময়না তদন্ত শেষে টঙ্গী শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম নামাজে জানাযা ও পরে নগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কামারজুরি এলাকায় দ্বিতীয় নামাজে জানাযা শেষে লাশ দুটি তাদের ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার দড়ি কাঠাল গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে।
এব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ বলেন, সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টি পরিকল্পিত হত্যাকাÐ কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিভাবে এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। মামলা প্রক্রিয়াধীনে আছে।

গাজীপুরের গাছায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের হামলায় তিতাসের ৩ কর্মকর্তাসহ ৫জন আহত

 

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন কুনিয়া তারগাছ টেকপাড়া এলাকায় তিতাস গ্যাসের অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করণের সময় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের হামলায় তিতাসের ৩কর্মকর্তাসহ ৫জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হামলাকারীরা তিতাস গ্যাসের রাইজার ছিনিয়ে নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিতাসের চলমান অভিযানের অংশ হিসাবে গত রোববার অবৈধ গ্যাস সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান চালায় গাজীপুর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। বিকালে নগরীর কুনিয়া তারগাছ টেকপাড়ায় সুলতানা রাজিয়ার বাড়ি ও মোয়াজ্জেমের বাড়ীতে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ পান অভিযান টিম। পরে বাড়ির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় সুলতানা রাজিয়ার ছেলে ইফতি দলবল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের নিকট থাকা গ্যাস লাইনের রাইজার ছিনিয়ে নেয়। এসময় সহকারী কর্মকর্তা মো. আল আমীন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনিমেষ পাল, সিনিয়র বিক্রয় সহকারী আনোয়ার হোসেনসহ ৫ জনকে মারধর করে প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। অভিযান টিমের সদস্যরা অবরুদ্ধ আছেন এমন খবর পেয়ে ম্যানেজার ও অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের আহত অবস্থায় সন্ধ্যায় উদ্ধার করেন।

অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী সুলতানা রাজিয়ার ছেলে ইফতি জানান, আমাদের গ্যাস লাইনের রাইজার কয়েকজন লোক খুলে নেয়ার সময় জানতে চাইলে কথা কাটাকাটি হয়।

গাজীপুর তিতাস গ্যাস ম্যানেজার নৃপেন্দ্র নাথ বিশ^াস বলেন, অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন কালে ইফতির নেতৃত্বে একদল লোক হামলা চালায়। এসময় আমাদের কর্মকর্তারা আহত হয়। পরে আমিসহ অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্ধার করি। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

যারা মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে, তারাই খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেসব দেশ মানবাধিকার বিষয়ে সবক দেয় বা প্রশ্ন তোলে এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারাই বঙ্গবন্ধু ও নারী-শিশুসহ তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যাকারীদের আশ্রয় দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এদের কাছ থেকে মানবাধিকারের সবক নিতে হয়। যারা আমার বাবা, মা, ভাই, নারী-শিশুদেরকে হত্যা করেছে তাদেরকে তারা রক্ষা করে।’

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতার ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই খুনি রাশেদ ছিল কমান্ডিং অফিসার, আমেরিকার সঙ্গে বার বার কথা বলেছি তাকে তারা দিচ্ছে না। তাকে তারা লালন-পালন করে রেখে দিচ্ছে। আর নূর আছে কানাডায়।’

তিনি পলাতক খুনীদের অবস্থান সম্পর্কে বলেন, রশিদ লিবিয়াতে পড়ে থাকে মাঝে মাঝে পাকিস্তানে যায়। ডালিম আছে লাহোরে এইটুকু জানি। খুব বেশি খবর পাওয়া যাচ্ছে না। মোসলেহ উদ্দিন নাম-ধাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান বদল করে বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দিয়ে আছে। হুদাকে সে দেশের সরকারের সহযোগিতায় থাইল্যান্ড থেকে এবং মহিউদ্দিনকে দেশে এনে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে ফারুকসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে এই ৪৭ বছরে। তাহলে তার এবং পরিবারের ভাগ্যহতদের মানবাধিকার কোথায় সে প্রশ্নও তোলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সূচনা বক্তৃতা করেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বর্ষীয়ান নেতা আমি হোসের আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, দলের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মহানগর উত্তর সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও দক্ষিণ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ সভা সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ’৭৫ এর ১৫ আগষ্টের সকল শহীদ স্মরণে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ অনেকেই সোচ্চার হন, মানবাধিকারের কথা বলা হয়, মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে, আমাদের সরকারকে অনেকে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন করেন। যারা এই প্রশ্ন করেন তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদেরতো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমরা যারা মা-বাবা হারিয়েছি তারা মামলা করতে পারব না। বিচার চাইতে পারব না, কেন? আমরা এ দেশের নাগরিক নই? উল্টো খুনিদের ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে দায়মুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে জিয়াউর রহমান পুরস্কৃত করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন জিয়াউর রহমান যদি খুনি বা ষড়যন্ত্রকারী না হন তাহলে খুনি মোশতাক তাকে সেনাপ্রধান করবে কেন? আর সেই বা এই খুনিদের পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভুট্টোকে অনুরোধ করে তাকে দিয়ে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফিকে অনুরোধ করিয়ে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেবে কেন? পরবর্তীতে তাদের আবার বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

খুনিদের আশ্রয়-প্রশয়ের বিষয়ে তিনি ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, তিনি খুনি পাশা এবং হুদাকে নিয়ে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি নামে একটি রাজনৈতিক দল গড়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় এসে খুনি ফারুককে দিয়ে ফ্রিডম পার্টি গঠন করায়। খালেদা জিয়া আরো একধাপ উপরে উঠে খুনি ফরুক, রশিদ এবং হুদাকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করে। ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে হুদাকে চুয়াডাঙ্গা থেকে এবং রশিদকে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত ঘোষণা করে সংসদে বিরোধী দলের নেতা বানায়। কাজেই তারা কিভাবে অস্বীকার করবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত নয়?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপিতো এদের মদতদাতা। এদের লালন পালনকারী। ’৯৬ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন জনগণ মেনে না নিলে গণআন্দোলনের মুখে ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে গেলেও সেই বাঁচা ছিল যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকা বলেন জাতির পিতার কন্যা।

শেখ হাসিনা বলেন, ’৯৬ সালে যদি তিনি সরকারে আসতে না পারতেন, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করতে না পারতেন তাহলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কোনোদিন হত না। তারপরেও ’৯৮ সালে যেদিন জাতির পিতা হত্যা মামলার বিচারের রায় হবার কথা সেদিনও হরতাল ডেকেছিল বিএনপি, খুনিদের বাঁচাতে। আর ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেই খালেদা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এই মামলার সব বিচারকার্য বন্ধ করে দেয়।

বেঁচে থাকলে সকলেই পাশে থাকে আর মরে গেলে যে কাউকে পাশে পাওয়া যায় না তার প্রমাণ ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের ওই বাড়িটিতে মৃতদেহগুলো পরদিন পর্যন্ত পড়ছিল বলেও তিনি জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব সহ্য করে নীলকণ্ঠ হয়ে শুধু অপেক্ষায় থেকেছি কবে ক্ষমতায় যেতে পারব আর এই দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো এবং দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। আর তাহলেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত প্রতিশোধ নেয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের এই শোক সভায় আজকে আমরা এই প্রতিজ্ঞাই নেব- জাতির পিতার যে আদর্শ সেই আদর্শকে ধারণ করে এই দেশকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।

তিনি বলেন, জাতির পিতা এদেশের মানুষর জন্য জন্য রক্ত দিয়ে গেছেন। রক্ত দিয়ে গেছেন আমার মা, ভাইয়েরা সে কথা আমি ভুলতে পারি না। সেই মানুষগুলোর পাশে থাকা কর্তব্য বলে মনে করি। এখানে কোন মানুষ কষ্ট পাক আমরা তা চাই না।

তিনি বলেন, ‘যে নাম ঘাতকের দল মুছে ফেলতে চেয়েছিল আজ আর সেই নাম মুছতে পারবে না। আজকে বিশ্বব্যাপী সে নাম সমাদৃত। সেই জয় বাংলা স্লোগান আবার ফিরে এসেছে। ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বিকৃত ইতিহাস নয়, আজকে সঠিক ইতিহাস মানুষ জানতে পারছে। বিশ্ব দরবারে আজ আমরা মাথা উঁচু করে চলতে পারছি, মাথা উঁচু করেই চলবো। কিন্তু এই দুঃসময়ে দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যার যেটুকু সামর্থ সে অনুযায়ী মানুষের সেবা করতে হবে।’

তিনি সমাজের বিত্তবানদের সাধারণ দুঃস্থ জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। সরকার যথাসাধ্য করবে এবং তিনি তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের এ সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার তালিকা করে সকল ভূমিহীন-গৃহহীনকে ঘর করে দিচ্ছে। কিন্তু এর বাইরেও যদি কেউ কারো এলাকায় থাকেন তাহলে সে ব্যাপারে তার সরকারকে জানালে তাদেরকে গৃহনির্মাণ করে দেয়া হবে। কেননা সরকার চায় দেশে আর কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না।

তিনি এ সময় কোথাও এতটুকু জমিও অনাবাদি না রেখে তাকে উৎপাদনের আওতায় আনার মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের তার আহ্বান পুণর্ব্যক্ত করে বলেন, তার একটাই লক্ষ্য জাতির পিতা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যে লক্ষ্য অর্জনের পথে তার সরকার অনেকদূর এগিয়েছে, ইনশাল্লাহ এই যাত্রা আর কেউ থামাতে পারবে না।

স্ত্রীর মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার আড়াই বছরের জেল

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শামসুদ্দোহাকে (৪০) দুই বছর ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক প্রদীপ কুমার রায় এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শামসুদ্দোহা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামের নুরুদ্দিন আহম্মেদের ছেলে।

জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় শামসুদ্দোহাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন স্ত্রী ফারজানা খন্দকার। পরে এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার রাজাবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শামসুদ্দোহাকে কোতোয়ালি থানায় আনা হয় এবং বিচারের জন্য ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ মো. আবু জাফর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া মিলবে না নার্সিংয়ের বদলি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অনুমোদন ছাড়া নাসিং ও মিডওয়াফারি অধিদপ্তর কোনো বদলি, পদায়ন বা সংযুক্তির আদেশ জারি করতে পারবে না। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় থেকে এমন একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আনোয়ারুল হক স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বদলি, পদায়ন বা সংযুক্তির প্রস্তাব স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে অনুমোদনের জন্য পাঠাবে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অনুমোদন পেলে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বদলি, পদায়ন বা সংযুক্তির আদেশ জারি করবে।

আদেশে আরও বলা হয়, সব ধরনের ছুটি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর মঞ্জুর করলেও সেটি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে জানাতে হবে।