আনারকলিকে নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্র সচিব

বাসায় মাদক রাখার অপরাধে ইন্দোনেশিয়ায় আটকের পর দেশে ফিরিয়ে আনা কূটনীতিক কাজী আনারকলির বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কাজী আনারকলির পেশাগত আচরণ সরকারি আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। বিশেষ করে মারিজুয়ানা সংক্রান্ত। সরকারি কর্মচারীদের জন্য যে আচরণবিধি আছে, সেটার সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক। সুতরাং বিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা হয়তো আরও গভীরে যেতে পারব।’

ফৌজদারি মামলা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি অন্য দেশে হয়েছে। একেক দেশে একেক রকম নিয়ম। একই ঘটনা যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজ্যে হয়, সেখানে এটি অবৈধ নয়। নেদারল্যান্ডসেও এটি অবৈধ নয়। এ পর্যন্ত আমরা সরকারি আচরণবিধির মাধ্যমে ঘটনাটি দেখার চেষ্টা করছি।’

 

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘তার (কাজী আনারকলি) বাসায় বিদেশি বন্ধু থাকার কোনো সত্যতা আমরা পাইনি।’ তবে মারিজুয়ানার পরিমাণ কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিমাণ তেমন নয়, অত্যন্ত সামান্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া থেকে আমরা যে তথ্য পেয়েছি, সেটার ভিত্তিতেই তাকে (কাজী আনারকলি) ফেরত আনা হয়েছে। এখন তদন্তের জন্য যদি সেখানে যেতে হয়, যে তদন্ত কর্মকর্তা যাবেন, হয়তো তিনি আরও বেশি তথ্য বের করতে পারবেন।’

এ সময় কাজী আনারকলির ডোপ টেস্ট করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট করার সিস্টেম নেই।’

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড : ৬ জনের লাশ উদ্ধার

আগুনে পোড়া রাজধানীর চকবাজার এলাকার কামালবাগের দেবী দাস ঘাটের চারতলা ভবন থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ভবনে আগুন লাগার পর ফায়ার সর্ভিসের ১০টি ইউনিট সোয়া দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের অয়্যার হাউজ ইনস্পেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা ভবনের ভেতরে ছয়জনের দেহাবশেষ পেয়েছি।’

জন্মনিবন্ধনে মা-বাবার সনদ লাগবে না

এখন থেকে জন্মনিবন্ধন করতে মা-বাবার জন্মসনদ আর লাগবে না। মা-বাবার জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করে নিয়ম কার্যকরের দেড় বছরের বেশি সময় পর তা তুলে দেওয়া হলো।

‘রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন’ বলছে, ২৭ জুলাই থেকে জন্মনিবন্ধনের আবেদন করতে গেলে সফটওয়্যারে মা-বাবার জন্মসনদ চাওয়া হচ্ছে না। এতে বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সন্তান, যাদের মা কিংবা বাবা যেকোনো একজনের সঙ্গে যোগাযোগ নেই এবং পথশিশুদের জন্মনিবন্ধন করতে যে জটিলতা ছিল, তা কাটবে বলে মনে করছেন ভোগান্তির শিকার মানুষে

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, এখন থেকে হাসপাতালে জন্ম নেওয়ার পর দেওয়া ছাড়পত্র বা টিকার কাগজ যেকোনো একটি প্রমাণ দেখিয়ে শিশুর জন্মনিবন্ধন করা যাবে।

এ নিয়ম আগেও কার্যকর ছিল। তবে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিয়মে পরিবর্তন এনে বলা হয়েছিল, ২০০১ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্মনিবন্ধন করতে হলে তার বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন সনদ অবশ্যই প্রয়োজন হবে। ওই সময় জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে নানা ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবকেরা।

চাপা পড়া প্রাইভেট কারে মিলল ৫ মরদেহ

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্টের নিচে চাপা পড়া প্রাইভেট কার থেকে পাঁচটি মরদেহ পাওয়া গেছে। প্রথমে পুলিশ চার জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল।

এ ঘটনায় দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

যারা মারা গেছেন তাদের পুরো নাম পাওয়া যায়নি। এটুকু জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আছেন ৫০ বছর বয়সী রুবেল, ২৮ বছর বয়সী ঝর্ণা, ৬ বছর বয়সী জান্নাত ও দুই বছর বয়সী জাকারিয়া। বাকি এক মৃত ব্যক্তির নাম জানাতে পারেনি পুলিশ।

যে দুই জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, তারা হলেন ২৬ বছর বয়সী হৃদয় ও ২১ বছর বয়সী রিয়া মনি।

জসীম উদ্দীন মোড়ে প্যারাডাইজ টাওয়ারের সামনের সড়কে সোমবার বিকেলে ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্টের চাপায় পড়ে একটি প্রাইভেট কার।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভায়াডাক্টটি ক্রেন দিয়ে তোলার সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেটি তোলার সময় সেখানে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়নি, যে কারণে এই প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটে।

উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) পার্থ প্রতিম ব্রহ্মচারী বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি।’

ক্রেন কে চালাচ্ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচ জনের নাম পেয়েছি। তবে কে ক্রেন চালাচ্ছিলে সেটা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

 

নিহতদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে জাহিদ হাসান শুভ নামে একজন  বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতির মেয়ের বিয়ে হয় গত শনিবার। তাদের ভগ্নিপতির বাড়ি কাওলায়। আজকে বৌভাত গেছে। আমরা মেয়ে জামাইসহ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলাম।

‘ছেলের বাবা ড্রাইভ করছিলেন। ভাগ্নি আর জামাই জানলার সাইডে ছিল। ওদেরকে বের করা হয়েছে। ভেতরে আমার বোন ভাগ্নিসহ ৫ জন ছিল। সবাই স্পটে ডেড হইছে।’

ক্রেনের চালক পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোহসীন। এই ঘটনায় ঠিকাদারি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এলেও সব কিছু এখনও জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার ছিঁড়াকে কেন্দ্র করে টঙ্গী প্রেসক্লাবে উত্তেজনা

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
টঙ্গী প্রেসক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের ছবি সম্বলিত জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেড় বছর আগে টঙ্গী প্রেসক্লাবের বিলুপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি আলী হায়দার ও কালিমুল্লাহর নেতৃত্বে বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্রে-শস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ব্যানারটি প্রেসক্লাব ভবন থেকে ছিঁড়ে নিয়ে যায় বলে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী টঙ্গী পশ্চিম থানায় অভিযোগ করেছেন। এদিকে জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার ছিঁড়াকে কেন্দ্র করে ক্লাবের সদস্যদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী জানান, তারা আগামীকাল সোমবার প্রেসক্লাবে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানের এ ব্যানার তারা গতকাল রোববার বেলা পৌনে ২টায় পেসক্লাব ভবনে টানান। এর কিছুক্ষন পরই প্রেসক্লাবের বিগত কমিটির বিপদগামী, বিতর্কিত ও স্বঘোষিত কথিত কর্মকর্তা আলী হায়দার ও কালিমুল্লাহ ইকবালের নেতৃত্বে বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে ব্যানারটি ছিঁড়ে নিয়ে যায়।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান বানচালের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা ব্যক্ত করে তারা আগেই জিএমপি কমিশনারকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। রোববার প্রেসক্লাব ভবন থেকে শোক দিবসের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছেন। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ফোনে আমাকে ঘটনাটি অবহিত করেছেন। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এটিএম বুথে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, ঘাতক আটক

রাজধানীর উত্তরায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মো. শরিফ উল্লাহ (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এরই মধ্যে আব্দুস সামাদ নামের ঘাতককে আটক করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার ভোররাত  এ ঘটনা ঘটে। 

বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন। নিহত ব্যবসায়ীর নাম শরিফ উল্লাহ (৪৪)। তিনি টঙ্গী এলাকায় টাইলসের ব্যবসা করতেন।

নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, আজ ভোররাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শরিফ উত্তরার ডাচ বাংলা ব্যাংকের বুথে টাকা তুলতে যায়। সেসময় অভিযুক্ত হত্যাকারী আবদুস সামাদ (৩৮) বুথে ঢুকে শরিফের টাকা কেড়ে নিতে চায়। শরিফ বাধা দিলে সামাদ তাকে ছুরিকাঘাত করে। এরপর শরিফের চিৎকারে বুথের নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ছিনতাইকারী সামাদকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে এবং শরিফকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শরিফকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে’, বলেন ওসি।

চাঁদপুরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৫ নৌ ডাকাত আটক

চাঁদপুরের পদ্মা নদীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ডাকাতদলের ৫ সদস্যকে আটক করেছে নৌ পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ১টি স্পিডবোট, ২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র জব্দ করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন—মুন্সিগঞ্জের আকতার হোসেন (৩০), ইকবাল মুন্সি (২৮), আবুল বাসার (২২), শাকিল দেওয়ান (২১) ও ইয়ামিন (১৯)।

আজ শুক্রবার সকালে চাঁদপুর নৌ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর চাঁদপুর অঞ্চলে পদ্মা নদীতে নৌ-পুলিশ এই অভিযান চালায়। এসময় ডাকাতদলটি ডাকাতির প্রস্ততি নিচ্ছিলো। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দলটি স্পিডবোটে করে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাওদিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি পাটক্ষেতে আত্মগোপন করে। পরে সেখান থেকে পুলিশ ২ জনকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও ৩ জনকে আটক করা হলেও ৮ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আওয়ামী লীগ চাপে পড়ে নিজেদের সভ্য দেখাচ্ছে : মির্জা ফখরুল

আওয়ামী লীগ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন চাপে পড়ে বিরোধী দলকে সভা সমাবেশ করার সুযোগ দিচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা নিজেদেরকে সভ্য দেখাচ্ছে। তারা দেখাচ্ছে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। গতকাল আমাদের সমাবেশে বাধা দেয়নি, আজও শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারছি- এটাও একটা প্রতারণা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে কোনো ধরনের নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় আসার নতুন করে পায়তারা শুরু করেছে।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জ্বালানি তেলের মূল্য অসহনীয় বৃদ্ধি, নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের লাগামহীন দাম, বিদ্যুৎতের বিপর্যয়, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, রাজনৈতিক নেতাদের নির্বিচারে গুলি ও খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে এক পেশাজীবি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের কী অবস্থা- এখন নতুন করে বলার দরকার নেই, রাস্তায় বাসের যাত্রীদের জিজ্ঞেস করুন- কতো টাকা বাসভাড়া বাড়িয়েছে! রিক্সাচালক, কৃষক, শিক্ষক সবাই কষ্টে আছে…। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে মধ্যবিত্ত, যারা সইতে পারছে না। দেশে সুনামি সৃষ্টি হবে, সেই সুনামিতে এ সরকার বিদায় নেবে।

তিনি বলেন, জনগণ জেগে উঠেছে, সরকারের পতন অনিবার্য। রাজপথ দখল করে জনগণের সুনামিতে ভয়াবহ এই সরকারের পতন ঘটবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। স্থিতিশীল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে।

তিনি বলেন, এ সরকার ডাকাতি করছে, চুরি করছে, এদেশের সাথে পাকিস্তানের কোনো পার্থক্য নেই- এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ব্যাংকগুলো লুটপাট করছে, কুইক রেন্টাল ৭৮ হাজার কোটি টাকার বিদুৎ উৎপাদন না করেই ক্যাপাসিটি চার্জ দিচ্ছে, ৭ বছরে জ্বালানি তেলের দাম আমাদের পকেট থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি নিয়ে গেছে, বিশ্ব বাজারে এখন দাম কমলেও তারা দাম বাড়িয়েছে।

এতোদিন মেট্রোরেল, ট্যানেল, ব্রিজ ইত্যাদির উন্নয়নের গল্প বললেও এখন উল্টো আইএমএফসহ অনেকের কাছে উল্টো লোন চাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কত সুন্দর করে বলছে ইভিএম মেশিন চায় তারা ৩০০ আসনে, কারণ তারা জানে ইভিএম ছাড়া জেতার উপায় নেই, ইভিএমে ভোট দিবেন ধানের শীষে, পড়বে গিয়ে নৌকায়।

দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা পাচার হয়েছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, এতো টাকা পাচার হলেও কোনো বিচার নেই, অথচ দেশনেত্রীর নামে টাকা আত্মসাতের মিথ্যা মামলা দিকে তাকে বন্দী করে রেখেছে, অথচ সেই টাকা ব্যাংকে রয়েছে, উল্টো সেই টাকা বেড়ে গেছে।

গত ১৫ বছরে সরকার ৬০০-এর অধিক নেতাকর্মী গুম করেছে, হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমকে গুম করেছে। তাই সরকারের পতনের জন্য পেশাজীবীদের অতীতের মতো রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকারেরকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বাতিল করতে হবে, নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমানুল্লাহ আমান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক আবদাল আহমেদ, বিএফইউজের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্যামসাং ‘রাজপুত্রের’ দুর্নীতি কেন ক্ষমা করলো দক্ষিণ কোরিয়া?

দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক খাতে সবচেয়ে প্রভাবশালী অপরাধীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।

স্যামসাং গ্রুপের উত্তরাধিকারী লি জে-ইয়ং দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেয়েছেন। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্টকে ঘুষ দেয়ার অপরাধে তাকে দুইবার কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টিকে সমর্থন করে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার বলছে, মহামারী পরবর্তী দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার মনে করছে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য দেশের সবচেয়ে বড় কোম্পানির উত্তরাধীকে তার কোম্পানির হাল ধরা প্রয়োজন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাই যে দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছিলেন তার সাথে স্যামসাং গ্রুপের উত্তরাধিকারীর সম্পৃক্ততা ছিল।

দুর্নীতির কেলেঙ্কারির কারণে পাক ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন এবং তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল।

পাক ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

প্রেসিডেন্টকে ঘুষ দেয়া
লি জে-ইয়ং ২০১৪ সাল থেকে কার্যত স্যামসাং পরিচালনা করে আসছিলেন।

তিনি যখন স্যামসাং গ্রুপের দুটি কোম্পানি একত্রীকরণ করার উদ্যোগ নেন তখন শেয়ারহোল্ডাররা তীব্র আপত্তি তোলেন।

একত্রীকরণের কাজ করে কোম্পানির উপর তাদের পরিবারের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাই এবং সহযোগীকে আট মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেবার অভিযোগ উঠেছিল।

এ খবর ফাঁস হয়ে যাবার পর দক্ষিণ কোরিয়ার লাখ লাখ মানুষ প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে।

২০১৬/১৭ সালে বিক্ষোভকারীরা প্রতি সপ্তাহে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মোমবাতি হাতে নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করতো।

পরবর্তী সময়ে কোরিয়ার পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাইকে অভিশংসন করে ক্ষমতাচ্যুত করে। ২০১৭ সালে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়।

দুর্নীতি ও অব্যস্থাপনা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসেন প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন। কিন্তু তিনিও তেমন কোনো অগ্রগতি করতে পারেননি। তার ক্ষমতার শেষের দিকে দণ্ডিত সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাইকে ক্ষমা করে দেয়া হয়।

এর পর নতুন আরেকজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসেন। তিনি ক্ষমতায় আসার আট মাসের মধ্যে স্যামসাংয়ের উত্তরাধীকে ক্ষমা করে দেন।

দুর্নীতি বন্ধের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যারা আন্দোলন করছিলেন তাদের জন্য এটি বড় এক ধাক্কা।

ব্যবসায়ীরা আইনের উর্ধ্বে
স্যামসাং উত্তরাধিকারী লি’র এই ঘটনা এই ধারণা প্রমাণ করে যে ব্যবসায়ী নেতাদের কেউ স্পর্শ করতে পারবে না এবং তারা আইনের ঊর্ধ্বে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বড় ব্যবসা সাম্রাজ্যের মালিকরা দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন। দেশটির শীর্ষ ১০টি কোম্পানি থেকেই আসে জিডিপির ৮০ শতাংশ। এদের মধ্যে এলজি, হুন্দাই, লোট্টি এবং এসকে’র মতো কোম্পানি রয়েছে।

তবে স্যামসাং সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্মার্টফোন প্রস্ততকারক হচ্ছে স্যামসাং।

বিশ্বজুড়ে তাদের পরিচিতি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর জন্য হলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের হাসপাতাল, হোটেল, ইনস্যুরেন্স, বিলবোর্ড, শিপইয়ার্ড ও থিম পার্কের ব্যবসা আছে।

কানাডার টরন্টো ইউনিভার্সিটির সমাজ বিজ্ঞানী ইউনকাং লি বলেন, স্যামসাং ও অন্যান্য বড় কোম্পানিগুলো দক্ষিণ কোরিয়ায় অক্টোপাসের মতো।

এই অক্টোপাস রাজনীতির সর্বোচ্চ পর্যায়কেও ধরেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কোরিয়া যুদ্ধের পরে সে দেশের সরকার এসব কোম্পানিকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করে। তাদেরকে সস্তা বিদ্যুৎ এবং ব্যাপক কর সুবিধা দেয়া হয়।

এসব কোম্পানিকে সুবিধা দেবার জন্য শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে শক্ত হাতে দমন করে কোরিয়া সরকার।

ফলে এক ধরনের মনোপলি গড়ে উঠে। যার পরিণতিতে ঘুষ ও দুর্নীতিও ছড়িয়ে যায়।

অধ্যাপক লি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এসব কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের লঘু সাজা দেয়া হয় কিংবা সাজা দিয়েও সেটি স্থগিত করা হয়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচারক বলেন, শীর্ষ কর্মকর্তারা কোম্পানি পরিচালনার সাথে না থাকলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১৯৯০-এর দশকে স্যামসাং চেয়ারম্যান ঘুষ ও দুর্নীতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু তাকে এক দিনও জেল খাটতে হয়নি।

২০১৭ সালে তার ছেলের যখন পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় তখন অনেকে ভেবেছিলেন এটা হয়তো একটা টার্নিং পয়েন্ট হবে।

কিন্তু তা হয়নি। লি’র মামলা কয়েক বছর ধরে ঝুলতে থাকে। ঘটনাক্রমে অনেকটা কোরিয়ান সিনেমার মতো নানা দিকে মোড় নিতে থাকে।

লি’র কারাদণ্ড হলেও আপিল আদালত তাকে মুক্ত করে দেয়। পরে উচ্চ আদালত পুনরায় বিচারের আদেশ দেয়। তখন তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

তাকে দ্বিতীয় দফা কারাদণ্ড দেবার কয়েক মাসের সরকার তাকে ‘জাতীয় স্বার্থে’ প্যারোলে মুক্তি দেয়।

তখন থেকে তিনি স্যামসাংয়ের হয়ে জনসমক্ষে আসেন। মে মাসে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যখন দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন, তখন লি তার সাথে দেখা করেন।

তার দণ্ড মওকুফ করে দেয়ার অর্থ হচ্ছে, তিনি এখন পুরোদমে থেকে স্যামসাংয়ের নির্বাহী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

সূত্র : বিবিসি

আ.লীগ মাঠে নামলে বিএনপি অলিগলিও খুঁজে পাবে না: কাদের

বিএনপি পরিকল্পিতভাবে অপরাজনীতির মাধ্যমে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ কর্মীরা মাঠে নামলে রাজপথ নয়, বিএনপি অলিগলিও খুঁজে পাবে না।

ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সকালে তার রাজধানীর বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন।

ঢাকায় বৃহস্পতিবারের জনসভায় বিএনপি নেতারা তাদের কর্মীদের রাজপথ দখলের নির্দেশ দেওয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজপথ কার পৈতৃক সম্পত্তি নয়, রাজপথ জনগণের সম্পদ, কাজেই অতীতের মতো আবারও যদি রাজপথ দখলের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয় তা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।