ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নতুন ঘোষণা

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো দেশজুড়ে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন।

স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া একটি ভিডিও ভাষণে, আজকের এই মার্কিন হামলাকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বাজে আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ।

এসময় দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

ভেনেজুয়েলা মাদুরোর নির্দেশ অনুসরণ করছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে কিন্তু তারা আমাদের দমন করতে পারবে না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ২টায় দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ অন্যান্য অঞ্চল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। এরপর ভেনেজুয়েলার সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন জায়গায় সামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে।

ভেনেজুয়েলা সরকার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে ‘আগ্রাসন’ চালিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘সামরিক আগ্রাসন’ প্রত্যাখ্যান করছে। এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এই হামলাকে তার দেশের তেল ও খনিজ সম্পদ কেড়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা করেছেন।

ভেনেজুয়েলা সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগওয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে মোতায়েন করেছেন।

এদিকে ভেনেজুয়েলায় শনিবার ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসির খবরে বলা হয়, মাদুরোকে কীভাবে ধরা হয়েছে বা তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে গ্রেফতার করার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

 

মাদুরোর ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ চাইলেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির পর, তার ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ চাইলেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো বা ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস কোথায় আছেন এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার এখনও জানেনা বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

বলেন, সরকার তাদের উভয়েরই ‘তাৎক্ষণিক জীবিত থাকার প্রমাণ’ দাবি করেছে।

এর আগে, ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানো এবং “দেশটির নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে” বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলা ও তার নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে এবং স্ত্রীসহ তাকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

টানা কয়েক মাসের হুমকির পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে সিরিজ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে টানা দেড় ঘণ্টা ধরে কারাকাসের আকাশে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, যুদ্ধবিমানের গর্জন এবং ঘন কালো ধোঁয়া আচ্ছন্ন হয়ে ছিল।

হামলার পরপরই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে মোতায়েন করেছেন।

ফের শাহবাগে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করে আবারও শাহবাগে অবস্থান নিয়েছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলা পৌনে ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগে পৌঁছান, যার ফলে এক পাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন, যেমন ‘তুমি কে, আমি কে, হাদি-হাদি’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘ভারত না বাংলাদেশ, বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ ইত্যাদি।

এর আগে ইনকিলাব মঞ্চ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে দুপুরে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করার ঘোষণা দেয়। একটি ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “শাহবাগ শহীদ হাদি চত্বরে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান করা হচ্ছে।”

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির কাছে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা নিয়মিত শাহবাগে অবস্থান নিয়ে হত্যার বিচার দাবি করে আসছেন।

শীত ও কুয়াশার তীব্রতা আরও কতদিন থাকবে?

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া প্রথম দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এ ছাড়া গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছু কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে। এদিন সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

দ্বিতীয় দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এদিনও কুয়াশার কারণে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

তৃতীয় দিন রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

চতুর্থ দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) এবং পঞ্চম দিন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ও সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। পঞ্চম দিনে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে সারাদেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন, নেতৃত্ব পেলেন যারা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। যার চেয়ারম্যান বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সদস্যসচিব করা হয়েছে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীকে।

 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে বেগম সেলিমা রহমান ও শামসুজ্জামান দুদুকে। এ ছাড়া প্রধান সমন্বয়ক করা হয়েছে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে।

 

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অ্যাড. মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিজন কান্তি সরকার, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ড. মওদুদ হোসাইন আলমগীর পাভেল, ড. মাহদী আমিন, সালেহ শিবলী, এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, ড. সাইমুম পারভেজ, রেহান আসাদ, জুবায়ের বাবু, মেজর জে. (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, আব্দুল কাইয়ুম, ব্যারিস্টার গিয়াসউদ্দিন রিমন, হুমায়ুন কবির, এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, মোস্তাকুর রহমান, অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন মৃধা, মেহেদুল ইসলাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, প্রফেসর ড. মোর্শেদ হাসান খান, অ্যাড. কামরুল ইসলাম সজল, প্রফেসর ডা. হারুন অর রশিদ, প্রকৌশলী শোয়েব বাশারী হাবলু, ড. কামরুজ্জামান কায়সার, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, মিসেস আফরোজা আব্বাস, মনির খান, আনম খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, ইয়াসিন আলী, আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা কাজী মো. সেলিম রেজা, রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং আনোয়ার হোসেন।

সুইজারল্যান্ডে নববর্ষ উদ্‌যাপনের সময় বিস্ফোরণে নিহত ৪০, আহত ১০০

সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনের আল্পস পবর্তমালা কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র ক্রঁ-মঁতানার একটি স্কি রিসোর্টের বারে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ১০০ জন আহত হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগের অবস্থা গুরুতর।

 

হতাহতদের মধ্যে অনেকে অন্য দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছেন ভ্যালাইস ক্যান্টনের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান স্টিফেন গ্যান্জার।

বছরকে বরণ

সে সময় বারে নববর্ষ উদ্‌যাপন করতে আসা বহু মানুষের ভিড় ছিল। বিস্ফোরণের পর বারে আগুন ধরে যায়।

 

ক্রানস-মন্টানার ওই স্কি রিসোর্টের নাম ‘লা কনস্টেলেশন’। সেটির বারে স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে (জিএমটি সাড়ে ১২টা) বিস্ফোরণ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

 

হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে দ্রুত সেখানে পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড ও উদ্ধারকর্মীরা হাজির হন।

 

শুরুতে পুলিশ হতাহতের সংখ্যা নিয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, বিস্ফোরণের সময় বারের ভেতর শতাধিক মানুষ ছিলেন।

 

পরে এ ঘটনা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউটর বিয়াট্রিস পিলাউড বলেন, ‘এখন আমরা এটিকে একটি অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছি। ঘটনাটিকে এখন আর সম্ভাব্য হামলার ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।’

 

পিলাউড আরও বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। বেশির ভাগ মানুষের অবস্থা গুরুতর। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।’

 

আহত ব্যক্তিদের সিয়ন, লসান, জেনেভা ও জুরিখের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

ভ্যালাইস ক্যান্টনের নিরাপত্তাপ্রধান স্টেফান গ্যানজার বলেছেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশিরাও রয়েছেন। ক্যান্টনের পুলিশপ্রধান ফ্রেডরিক গিসলার জানান, এ ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

 

সুইজারল্যান্ড পুলিশ নিহত মানুষের সংখ্যা প্রকাশ না করলেও তাদের বরাত দিয়ে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সেখানে প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

গিসলার নিহত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করতে রাজি হননি।

 

এ ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। সেখানে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল (নো ফ্লাই জোন) নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

বসুন্ধরায় শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা, পরিবারের অভিযোগ ‘মব’

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নাঈম পাবনা জেলা জজকোর্টের আইনজীবী ছিলেন।

নিহত নাঈম কিবরিয়ার খালাতো ভাই মো. রাকিবুল ইসলাম শামীমের অভিযোগ, মব সৃষ্টি করে নাঈমকে মারধর করা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় তারা জানেন না।

নাঈমের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার চকজয়েনপুরে। ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় নাঈমের নামে একটি মামলা হয় পাবনা থানায়। এরপর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলেও জানান শামীম।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, নাঈমের প্রাইভেটকারের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটলে মোটরসাইকেল আরোহীরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে আই ব্লক, ১০ নম্বর রোডে ওয়ালটন বাড়ির সামনে ফেলে যায়।

পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

নিহতের গলায়, হাত ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত করছে।

শামীম জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে নাঈমের ফোনে কল আসে, কিন্তু তিনি কথা বলছিলেন না। শুধু হৈ-চৈ শোনা যাচ্ছিল। এরপর বারবার তার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে এক নিরাপত্তাকর্মীর ফোন ধরে জানান, নাঈমকে আই ব্লকে মারধর করে ফেলে রাখা হয়েছে। পরে নাঈমের খালাতো ভাই তাকে উদ্ধার করে বারিধারা এবং পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

শামীম জানান, নাঈমের বাবা গোলাম কিবরিয়া। মা আইরিন কিবরিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাবনা জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন।

প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে এনইআইআর চালুর ঘোষণা, মোবাইল ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষোভ

সরকারের দেওয়া ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডের প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) সিস্টেম চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কমিশনের আজকে দেয়া এই সিদ্ধান্তকে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের স্বার্থরক্ষার অপচেষ্টা উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মোবাইল ও গ্যাজেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি)।
আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমবিসিবি জানায়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ব্যবসায়ীদের ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়ার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই সময়ে ব্যবসায়ীদের নিরবচ্ছিন্ন পণ্য সংগ্রহ ও ব্যবসা পরিচালনার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল এবং জানানো হয়েছিল যে, এই সময়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া কোনো ডিভাইস ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্ন করা হবে না। যদিও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দিয়েছিল, তবে তার কোনো কার্যকর বা লিখিত প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি।
সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, গত ১৫ ডিসেম্বর বিটিআরসি হঠাৎ করে মাত্র ১৫ দিনের সময় দিয়ে এনইআইআর চালুর ঘোষণা দেয়, যা সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সর্বশেষ ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর চালুর ঘোষণার মাধ্যমে সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। এমবিসিবির দাবি, এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের স্বার্থরক্ষার বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে এমবিসিবির সভাপতি মোহাম্মাদ আসলাম বলেন, দেশের মোবাইল বাজার নিয়ন্ত্রণে এনে কয়েকটি সিন্ডিকেটভুক্ত প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া সুবিধা নিশ্চিত করতেই পরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসায়ী কোণঠাসা হচ্ছেন এবং লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা এনইআইআর-এর বিরোধী নন; বরং সংস্কার করে এনইআইআর চালুর পক্ষে। বৈধভাবে কর পরিশোধ করে ব্যবসা করতে তারা আগ্রহী। এজন্য করের হার সহনীয় করা, নতুন ফোনের পাশাপাশি পুরাতন ফোন আমদানির নীতিগত বাধা দূর করার দাবি জানান তিনি।
একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যদি সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ড নিশ্চিত না করা হয়, শুল্ক কাঠামো ও উন্মুক্ত আমদানি বিষয়ে লিখিত ও স্পষ্ট সরকারি অবস্থান না আসে এবং সিন্ডিকেটমুক্ত নীতিগত সংস্কার দৃশ্যমান না হয়, তবে এনইআইআর কার্যক্রম শুরুর আগেই সারাদেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
মোহাম্মাদ আসলাম আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সরকারি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে দেশে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায়ভার ব্যবসায়ীরা নেবে না। তিনি বলেন, আমরা সরকারের বা সংস্কারের বিরোধী নই। কিন্তু সিন্ডিকেটের স্বার্থে প্রতিশ্রুতি ভেঙে একটি পুরো খাত ধ্বংসের অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। এখনো সময় আছে সরকার চাইলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সিন্ডিকেটমুক্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে।

জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সবার জন্য উন্মুক্ত

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০১ ডিসেম্বর) দুপুরে সর্বসাধাণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকে ওই এলাকায় ভিড় করেন। উদ্যান বন্ধ থাকায় বিজয় সরণি মোড়ে উদ্যানের প্রবেশ মুখে ব্যারিকেডে অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। সমাধিস্থলে যেতে না পেরে অনেকে সড়কে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন।

জানা যায়, সংস্কারকাজ চলমান থাকায় বন্ধ রাখা হয় ভেতরে প্রবেশ। এখন তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পুরো উদ্যানের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে অন্য বাহিনীর সদস্যরাও।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আবদুল মালেকের ইমামতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল পৌনে ৫টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মারা যান।

গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে নিউমোনিয়া দেখা দেয় এবং কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ পুরোনো জটিলতা আরও বেড়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়, যেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এস এস সি ফরম পূরণের সর্বোচ্চ ফি ২৪৩৫ টাকা

আগামী বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণের সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৪৩৫ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয়সহ ফরম পূরণে এ ফি দিতে হবে। আর ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয়সহ ফরম পূরণে লাগবে ২ হাজার ৩১৫ টাকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার এসএসসির ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এ পরীক্ষার ফরম পূরণ আগের ঘোষণা অনুযায়ী শুরু হবে ৩১ ডিসেম্বর থেকে। খবর বিডিনিউজের।

ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচনি পরীক্ষা নিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশ করবে। বিলম্ব ফি ছাড়া ৩১ ডিসেম্বর থেকে ফরম পূরণ শুরু হয়ে চলবে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। ফি জমা দেওয়া যাবে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত। পরীক্ষাপ্রতি ১০০ টাকা হারে বিলম্ব ফিসহ অনলাইনে ফরমপূরণ করা যাবে ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিলম্ব ফিসহ অনলাইনে ফি জমা দেওয়া যাবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

বোর্ড বলছে, পরীক্ষার্থীদের বেতন ও সেশন চার্জ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধ করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর নবম ও দশম শ্রেণির ২৪ মাসের বেশি বেতন নেওয়া যাবে না।