রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামীর পাশে সমাহিত খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সাড়ে চুয়াল্লিশ বছর আগে যেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে সমাহিত করা হয়েছে, সেই জিয়া উদ্যানে স্বামীর পাশেই শায়িত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

 

 

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হ

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্র তৈরি হয়।

 

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান।

 

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার আগে উপস্থিত মুসল্লিসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

জানাজার আগে তারেক রহমান বলেন, আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া কারো থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব। খালেদা জিয়ার জীবনে কখনো কোনো আচরণে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান তারেক রহমান।

 

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ দলের সর্বস্তরের নেতারকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত ইসলামীর শফিকুর রহমান, মিয়া গোলাম পরওয়ার, শামীম সাঈদী, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরকে দেখা গেছে। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আহমাদুল্লাহও বিএনপি নেত্রীর জানাজায় অংশ নেন।

 

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।

 

এই মানিক মিয়া অ্যাভেনিউতেই ১৯৮১ সালের ২ জুন খালেদা জিয়ার স্বামী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা হয়েছিল। পরে তাকে সমাহিত করা হয় চন্দ্রিমা উদ্যানে, যার বর্তমান নাম জিয়া উদ্যান।

 

১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় খালেদা জিয়ার।

 

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান ছিলেন ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক। মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য স্বাধীনতার পর তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। পরে নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে তিনি ক্ষমার শীর্ষে পৌঁছান।

 

জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া, তখন তিনি নিতান্তই একজন গৃহবধূ। তিনি ১৯৮৪ সালের অগাস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন, আমৃত্যু তিনি সে দায়িত্বে ছিলেন।

 

১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনে এরশাদ সরকারের সঙ্গে কখনো আপস করেননি খালেদা।

 

অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতা করলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি কোনো সমঝোতায় যায়নি। তাই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার নাম হয় আপসহীন নেত্রী।

 

৪০ দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তার মৃত্যুতে দেশে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে, বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।

 

বুধবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার কফিন নেওয়া হয় গুলশানে তার ছেলে তারেক রহমানের বাড়িতে।

 

পরে জাতীয় পতাকা শোভিত লাশবাহী গাড়ি বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছায়। গাড়িবহরে একটি বাসে করে সেখানে পৌঁছান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা। বাদ জোহর খালেদা জিয়ার জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই সংসদ ভবন এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়।

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন থাকতে পারে। শুষ্ক থাকতে পারে আবহাওয়া।

এ ছাড়া সকালের দিকে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। পাশাপাশি উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। সেই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

 

এদিকে ভোর ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৫ শতাংশ। ঢাকায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বেলারুশে শব্দের চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করল রাশিয়া

প্রতিবেশী রাষ্ট্র বেলারুশে নিজেদের তৈরি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক মোতায়েন করেছে রাশিয়া। বেলারুশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিবৃতিতে বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগ দেশের নির্দিষ্ট এলাকায় কমব্যাট ডিউটি পালন শুরু করেছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্পর্কে একবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছিলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন এবং একে আটকে দেওয়ার মতো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এখনো তৈরি হয়নি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বেলারুশে মোতায়েনের পুরো ইউরোপ এখন এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় থাকবে। কারণ মধ্যমপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ফলে বেলারুশ থেকে ইউরোপের যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে তো বটেই, উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলেও আঘাত হানতে পারবে ওরেশনিক।

রাশিয়া এবং বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে অরণ্যপথের ভেতর দিয়ে একটি ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেটি ঢাকা আছে সবুজ রঙের নেটে। বেলারুশের ঠিক কোথায় এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মোতায়েন করা হয়েছে, তা জানায় রুশ এবং বেলারেুশ সেনাবাহিনী।

পশ্চিমা রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সম্প্রতি ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর কয়েক জন সদস্য এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেগুলো রাশিয়ার একদম ভেতরে আঘাত হানতে সক্ষম।

এমন তথ্য পাওয়ার পরই বেলারুশে ওরেশনিক মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া।

সূত্র: এএফপি

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জনতার ঢল

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজার আগেই জনতার ঢল নেমেছে। জানাজাস্থল মানিক মিয়া এভিনিউ নেতাকর্মী সাধারণ মানুষের আগমনে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

বুধবার দুপুর ২টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সকাল থেকেই মানুষ আসতে শুরু করেছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াশাজড়ানো তীব্র শীত উপেক্ষা করেও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই লোকসমাগম বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষের চোখে-মুখে একজন আপসহীন দেশনেত্রীকে হারানোর বেদনা।

সকাল থেকে ঢাকার প্রবেশপথগুলো দিয়ে সারি সারি গাড়ি ঢাকায় প্রবেশ করেছে। দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষ খঅলেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে রওনা হচ্ছেন।

এদিকে জানাজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে শুরু করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে মরদেহবাহী গাড়ি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। এরই মধ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত থেকেই পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। জানাজা থেকে শুরু করে দাফনকাজ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে মিয়া অ্যাভিনিউসহ পুরো রাজধানীজুড়ে।

ডিএমপি বলছে, বাংলাদেশের জাতীয় নেতাকে সর্বস্তরের জনগণ যেন নির্বিঘ্নে সম্মান জানাতে পারেন এবং তার জানাজায় অংশ নিতে পারেন সেজন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে নিরাপত্তা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সব দপ্তর। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের চারপাশের সড়কগুলোতেও যেন জনসাধারণ অবস্থান করতে পারেন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার জানাজা : কফিন রাখার স্থান পরিবর্তন

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার ৯৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে কফিন রাখা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্নের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশের এই জাতীয় নেতাকে সর্বস্তরের জনগণ যেন নির্বিঘ্নে সম্মান জানাতে পারেন এবং তাঁর জানাজায় অংশ নিতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সব দপ্তর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের চারপাশের সড়কগুলোতেও জনসাধারণ যেন অবস্থান করতে পারেন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।জানাজার পর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শহিদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত রাজনীতিবিদরা উপস্থিত থাকবেন।

খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার দুপুর ২টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। নামাজে জানাজা পড়াবেন জাতীয় মসজিদের খতিব। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ জিয়ার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

 

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সামনে থেকে জরুরি বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। এর আগে দুপুর ১২টায় জরুরি বৈঠকে বসেন দলটির স্থায়ী কমিটির নেতারা।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

 

মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম জিয়ার মৃত্যু দেশের মানুষের জন্য আপূরণীয় ক্ষতি। তিনি এমন সময় চলে গেলেন যখন তাকে সবচেয়ে বেশি দরকার ছিলো।

 

 

এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাসারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।

Continue reading “খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার দুপুর ২টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়”

খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার: সালাহউদ্দিন আহমেদ

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা গেছেন; তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, তারেকের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান, জাফিয়া রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, প্রয়াত সাইদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার, খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সময় হাসপাতালে ছিলেন।

এদিকে, খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার জানান, খালেদা জিয়ার জানাজার সময়সূচি ও দাফনের বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিন ধরে নানা অসুস্থতা ছিল। মুক্তি পাওয়ার পর চলতি বছর ৭ জানুয়ারি লন্ডনে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।

খালেদা জিয়ার মৃত্যু: তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, বুধবার সাধারণ ছুটি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে আগামীকাল (বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ।

তিনি জানান, ৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি—এই তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এ উপলক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হবে।

এর আগে, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

অপারেশন সিঁদুরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রথমবারের মত স্বীকার করল পাকিস্তান

গত মে মাসে ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে পাকিস্তান। চার দিনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সামরিক উত্তেজনার প্রায় সাত–আট মাস পর দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, ভারতীয় ড্রোন হামলায় রাওয়ালপিন্ডির চাকলালা এলাকায় অবস্থিত কৌশলগত নূর খান বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে পাকিস্তানের সামরিক সদস্যরা আহত হয়েছেন।

নির্বাচনে অংশ নেবেন না আসিফ মাহমুদ

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ বা এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন। তিনি দলটিতে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করবেন তবে নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

দলটিতে মুখপাত্রের দায়িত্ব পাওয়া আসিফ মাহমুদের বিষয়ে তিনি বলেন, এনসিপির যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তাদের জিতিয়ে সংসদে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি (আসিফ মাহমুদ) কাজ করবেন। সেজন্য তাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির জন্য অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, আজকের এই দিনে সারা বাংলাদেশে আমাদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া এই দিনটি আরও একটি কারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে কার,ণ জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অত্যন্ত দক্ষ ও সফল মন্ত্রী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগদান করলেন।

তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক পর্ষদের একটি জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্রের দায়িত্ব দিচ্ছি। তিনি আসন্ন নির্বাচনে নিজে অংশগ্রহণ করবেন না, বরং দলের মনোনীত প্রার্থীরা যাতে জয়ী হয়ে সংসদে গিয়ে মানুষের পক্ষে কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে সেজন্য তিনি কাজ করবেন। এ কারণে আসিফ মাহমুদকে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল যে তিনি এই দলে যোগদান করবেন এবং তার এই যোগদানের মাধ্যমেই সেই জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।