পদ্মা সেতুতে বসবে স্পিডগান মেশিন ও সিসি ক্যামেরা

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সাময়িক। সেতুতে স্পিডগান মেশিন ও সিসি ক্যামেরা বসানোর পরই মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

কবে থেকে মোটরসাইকেল চলবে, তা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) সচিবালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিমুলিয়ার মাঝিকান্দি রুটে ফেরি চলাচল বন্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। যানবাহনের চাহিদা যদি থাকে ফেরি চলাচল অব্যাহত থাকবে। শিমুলিয়া ঘাটে এখন ছয়টি ফেরি আছে। যদি চাহিদা না থাকে কোনো ফেরি থাকবে না।

পদ্মা সেতুতে নাট খুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসচেতন ও দেশবিরোধী নেতৃত্বের কারণে খালেদা জিয়া পদ্মা সেতু নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ সেতু ভেঙে পড়বে। ওই বক্তব্যের ফলে তার কিছু অনুসারী এ নাট খুলে ফেলেন।

বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৮৬ : স্বাস্থ্য অধিদফতর

সারাদেশে বন্যা ও বন্যায় সৃষ্ট রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু সিলেট বিভাগেই ৫৩ জন মারা গেছেন। তাছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ২৮ জন, রংপুর বিভাগে পাঁচজন মারা গেছেন। গত ১৭ মে থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়েছে।বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে আজ বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, বন্যায় জেলাভিত্তিক মৃত্যুতে শীর্ষে রয়েছে সুনামগঞ্জ। এ জেলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেট জেলায় মারা গেছেন ১৮ জন। নেত্রকোনায় ও জামালপুরে বন্যা ও বন্যায় সৃষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন করে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া হবিগঞ্জে চারজন ও মৌলভীবাজারে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহে মারা গেছেন পাঁচজন। এ ছাড়া শেরপুরে পাঁচজন, কুড়িগ্রামে চারজন ও লালমনিরহাটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ পর্যন্ত বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন, যাদের মধ্যে ১৪ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের।

তাছাড়া বরিবার পর্যন্ত বন্যাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫ হাজার ৮৯০ জন। আজ মঙ্গলবার তা বেড়ে ৭ হাজার ৭৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুদিনে এক হাজার ৮৪১ জন। বন্যার শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ২৪৪ জন। এতে মৃত্যু হয়েছে একজনের। আরটিআই (চোখের রোগ) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১১ জন। তবে এতে কারও মৃত্যুর খবর নেই।

 

ন্যাটো ক্রাইমিয়া পুনর্দখলের চেষ্টা করলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী : মেদভেদেভ

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ক্রাইমিয়া নিয়ে যদি মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট সীমালংঙ্ঘন করে তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ঘোষণা হচ্ছে যে, ক্রিমিয়া হচ্ছে রাশিয়ার অংশ এবং সেটি চিরজীবনের জন্য। ফলে ক্রিমিয়া নিয়ে যেকোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করার চেষ্টা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে বিবেচনা করা হবে।’

মস্কো থেকে পরিচালিত একটি নিউজ ওয়েবসাইটকে এসব কথা বলেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ।

তিনি আরো বলেন, ‘এবং এই বাড়াবাড়ির কাজটি যদি ন্যাটো জোটভুক্ত কোনো দেশ করে তাহলে ধরে নেয়া হবে পুরো সামরিক জোট এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যার অর্থ হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আর এমনটি হলে তা হবে সারা বিশ্বের রজন্য বিপর্যয়।’

মেদভেদেভ আরো বলেন, ‘যদি ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটো সামরিক জোটে যোগ দেয় তাহলে রাশিয়াও তার সীমান্তে সেনা উপস্থিতি জোরদার করবে এবং পাল্টা যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি রাশিয়া ইস্কান্দার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন করতে পারে।

২০১৪ সালে গণভোটের মাধ্যমে ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ রাশিয়ার সাথে যুক্ত হয় কিন্তু ইউক্রেন, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তারা ক্রাইমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ বলে মনে করে।

সূত্র : পার্সটুডে

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র : তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

পদ্মা সেতু আটকাতে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টিকারী প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটি গঠন করে দুই মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। আগামী ২৮ আগস্ট পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুন) পাঁচ বছর আগের স্বপ্রণোদিত মামলার শুনানি করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

আইন কর্মকর্তা মানিক পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিশন গঠনের নির্দেশ বিবাদিদের দেওয়া হলেও এক নম্বর বিবাদি হিসেবে এর মূখ্য দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব। এক মাসের মধ্যে কমিটি করে দুই মাসের মধ্যে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। ’

বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের জন্য চুক্তি করেও পরে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে প্রথমে তা স্থগিত এবং পরে তা বাতিল করে। এরপর নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ তদারকির পাঁচ কোটি ডলারের কাজ পেতে এসএনসি-লাভালিনের কর্মীরা ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে মামলা হয়েছিল কানাডার আদালতে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কানাডার আদালত ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার তিন আসামিকে খালাস দেন। রায়ে কানাডার আদালত বলেন, এই মামলায় প্রমাণ হিসেবে যেগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো ‘অনুমানভিত্তিক, গাল-গল্প ও গুজবের বেশি কিছু নয়’।

এ রায়ের আগে দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগে বাধ্য হন সেই সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন। অভিযোগ ছিল সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও। সে সময় সেতু সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে দুর্নীতির মামলায় কারাগারেও যেতে হয়। তবে তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় যায়নি বলে জানায় দুদক। পরে ২০১৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে পদ্মা দুর্নীতি মামলার অবসান ঘটে। সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ সাত আসামির সবাইকে অব্যাহতি দেন আদালত। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছিলেন, হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন আটকে ছিলেন নোবেলজয়ী বাংলাদেশি মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাতে বাংলাদেশের এক সম্পাদকেরও ভূমিকা ছিল।

এরপরই দেশের বিভিন্ন দৈনিক পদ্মা সেতু ষড়যন্ত্রে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে জড়িয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই সব প্রতিবেদন নজরে আসার পর ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে রুলসহ আদেশ দেন। ১৯৫৬ সালের ইনকোয়ারি অ্যাক্টের ৩ ধারা এবং অন্যান্য আইন অনুযায়ী পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, জানতে রুল জারি করেন। ‘প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের’ কেন বিচারের মুখোমুখী করা হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, যোগযোগ সচিব, দুদক চেয়ারম্যাান ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এছাড়া কমিটি বা কমিশন গঠনে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা জানিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেন আদালত।

এরপর কমিশন গঠন নিয়ে বিবাদিদের মধ্যে চিঠি চালাচালির পর সেটি আলোর মুখ দেখেনি। এর মধ্যে স্বপ্রণোদিত রুল জারি করা আদালতের এখতিয়ার পরিবর্তন, করোনা ভাইরাস মহামারীসহ নানা কারণে রুলটি এখতিয়ার সম্পন্ন অন্য কোনো বেঞ্চে আর উঠায়নি রাষ্ট্রপক্ষ। গত শনিবার পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রাক্কালে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ প্রেক্ষাপটে রুল জারির পাঁচ বছর তিন মাস পর ফের আদালতে ওঠে মামলাটি।

অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা: ৯ দিন পর মামলা, গ্রেফতার ৩

নড়াইলে পুলিশের সামনে শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে গলায় জুতার মালা দিয়ে অপদস্ত করার ঘটনায় ৯ দিনের মাথায় এ ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। এছাড়া এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার রাতে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

তারা হলেন, নড়াইল সদর উপজেলার বিচালি ইউনিয়নের আড়া পাড়া গ্রামের মালেক মুন্সির ছেলে শাওন মুন্সি, মির্জাপুর গ্রামের সৈয়দ মিলনের ছেলে সৈয়দ রিমন এবং একই গ্রামের মনিরুল শেখ।

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারী ভারতের বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে ফেসবুকে ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রের পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলেন ওই কলেজের ছাত্র ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। একই ধর্মের হওয়ায় তাকে সাপোর্ট দিচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। এ সময় তাদের পাশে পুলিশের অবস্থান দেখা গেছে।

নড়াইলে এ ঘটনার সূত্রপাত ১৭ জুন। ওই দিন মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র নিজের ফেসবুক আইডিতে বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে পোস্ট করেন- ‘প্রণাম নিও বস ‘নূপুর শর্মা’ জয় শ্রীরাম’।

বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে কলেজের কিছু ছাত্র তাকে সেটি মুছে (ডিলিট) ফেলতে বলেন। এরপর ১৮ জুন সকালে অভিযুক্ত ছাত্র কলেজে আসলে তার সহপাঠীসহ সব মুসলিম ছাত্র তার গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের দাবি তুলে অধ্যক্ষের কাছে বিচার দেয়। কিন্তু ওই সময় ‘অধ্যক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় তাকে রক্ষা করার চেষ্টায় ওই ছাত্রের পক্ষ নিয়েছেন’ এমন কথা রটানো হলে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এ সময় বিষয়টি কলেজের গণ্ডি ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযুক্ত ছাত্র ও অধ্যক্ষের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। খবর পেয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষুব্ধ জনতাকে লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে।

এরপর পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত জনতার মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। দিনভর পুলিশ ও ছাত্র-জনতা দফায় দফায় সংঘর্ষে  দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় মারাত্মক আহত হন কলেজের বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ। ওই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা কলেজের শিক্ষকদের ৩টি মোটরসাইকেল আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এরপর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের উপস্থিতিতে উত্তেজিত জনতা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়েছিল। এ সময় গ্রেফতারের দাবি জানালে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস, অভিযুক্ত রাহুল দেব রায় ও তার বাবা বাবুল রায়কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এসব ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে আসে। এরপর থেকে পুলিশের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ ধরনের পাশবিক উপায়ে সম্মানিত অধ্যক্ষকে অপমানিত করা হয়েছে, তাতে সারা দেশের শিক্ষক সমাজের সঙ্গে শান্তিপ্রিয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

টঙ্গীতে দুর্যোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ওয়ার্ড পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী অনুযায়ী দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সোমবার ২৭ জুন গাসিক টঙ্গী জোনের সভাকক্ষে শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আরবান এ্যাম্পাওয়ারমেন্ট এন্ড রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট এই কর্মশালা আয়োজনে সহযোগিতা করেছে।
গাসিক টঙ্গী জোনের সভাপতি ও ৫৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নাসির উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে গাসিক সংরক্ষিত ৫২, ৫৩ ও ৫৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কেয়া শারমিন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আরবান এ্যাম্পাওয়ারমেন্ট এন্ড রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ মোসলেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-গাজীপুর জেলা ইউনিটের জুনিয়র এ্যাসিসটেন্ট ডাইরেক্টর মোঃ কামাল উদ্দিন, সাংবাদিক শাহজাহান সিরাজ সাজু, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ হারুন-অর-রশীদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় গাসিকের টঙ্গী জোনের ১৫টি ওয়ার্ডের প্রায় দেড় শতাধিক ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

পুলিশের সামনে অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা

পুলিশের সামনেই নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও ওই কলেজের এক ছাত্রের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের চৌধুরীকে। এ কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন-জেলা শিক্ষা অফিসার মো. ছায়েদুর রহমান ও সদর থানার ওসি শেখ শওকত কবীর।

অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলামকে আহবায়ক করে পুলিশ প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ডিআই ওয়ান মীর শরীফুল হক ও পুলিশ পরিদর্শক (অপরাধ) রফিকুল ইসলাম। তাদের ৩০ জুনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এলাকার লোজজন জানায়,নড়াইলে এ ঘটনার সূত্রপাত ১৭ জুন। ওই দিন মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র নিজের ফেসবুক আইডিতে বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে পোস্ট করেন- ‘প্রণাম নিও বস ‘নূপুর শর্মা’ জয় শ্রীরাম’।

বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে কলেজের কিছু ছাত্র তাকে সেটি মুছে (ডিলিট) ফেলতে বলেন। এরপর ১৮ জুন সকালে অভিযুক্ত ছাত্র কলেজে আসলে তার সহপাঠীসহ সব মুসলিম ছাত্র তার গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের দাবি তুলে অধ্যক্ষের কাছে বিচার দেয়। কিন্তু ওই সময় ‘অধ্যক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় তাকে রক্ষা করার চেষ্টায় ওই ছাত্রের পক্ষ নিয়েছেন’ এমন কথা রটানো হলে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এ সময় বিষয়টি কলেজের গণ্ডি ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযুক্ত ছাত্র ও অধ্যক্ষের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। খবর পেয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষুব্ধ জনতাকে লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে।

এরপর পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত জনতার মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। দিনভর পুলিশ ও ছাত্র-জনতা দফায় দফায় সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় মারাত্মক আহত হন কলেজের বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ। ওই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা কলেজের শিক্ষকদের ৩টি মোটরসাইকেল আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এরপর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের উপস্থিতিতে উত্তেজিত জনতা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়েছিল। এ সময় গ্রেফতারের দাবি জানালে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস, অভিযুক্ত রাহুল দেব রায় ও তার বাবা বাবুল রায়কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এসব ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে আসে। এরপর থেকে পুলিশের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ ধরনের পাশবিক উপায়ে সম্মানিত অধ্যক্ষকে অপমানিত করা হয়েছে, তাতে সারা দেশের শিক্ষক সমাজের সঙ্গে শান্তিপ্রিয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

ভার্চুয়াল জগত ছেড়ে সেই প্রতিবাদ এবার মাঠেও নামছে। পুলিশের সামনে কী করে একজন শিক্ষককে এভাবে অসম্মান করা গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে সোমবার (২৭ জুন) সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ওই পরিবারের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় পরিচয় দিয়ে পুলিশের অনুমতি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে হয়। তাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে যেতে চাইলে পুলিশের অনুমতি নিয়ে যেতে হয়।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষের মা বনলতা বিশ্বাস বলেন, কলেজের ঘটনায় পুলিশ আমার ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি আসেনি। আমার সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করেনি।

একই বিষয়ে অধ্যক্ষের চাচাতো ভাই সুমিত্র কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি কলেজের ঘটনায় তাকে নিরাপত্তা দিয়ে থানা হেফাজতে রাখার পর ওই দিনই রিলিজ দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার অভাবে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকে আমাদের বাড়িটিতে সবসময় পুলিশ পাহারায় রয়েছে। প্রথমদিকে বাড়ির ওঠানেই অবস্থান করলেও থাকার সমস্যার কারণে বাড়ির প্রবেশ মুখেই একটি সর্বজনীন মন্দিরে রাতদিন ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ প্রহরায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত ছাত্র রাহুল দেব রায়ের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করার পর সে কারাগারে আছেন। অন্যদিকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে অব্যাহতি দিয়ে ওই কলেজের শিক্ষক আকতার হোসেন টিংকুকে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় বলেন, তখন জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলার কাজে ব্যস্ত থাকায় অধ্যক্ষের গলায় কে-বা কারা কখন মালা পরিয়েছে তা লক্ষ্য করিনি। তবে এ বিষয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দোষী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে।

একই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, কলেজ ভবন থেকে বের করে আনার সময় উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষার্থীকে বাঁচানোর জন্য পুলিশ হয়তো জুতার মালা পরানোর বিষয়টি লক্ষ্য করেনি। এসব ঘটনা তদন্তের জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটির গঠন করা হয়েছে।

৩৫ বছরে উঠে আসবে পদ্মা সেতুর খরচ

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ২০৫৭ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের টোল আদায়ের মধ্য দিয়ে সেতুর জন্য ব্যয়িত অর্থ উঠে আসবে। আদায়কৃত টোল থেকে ৩৫ বছরে ১৪০টি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে সরকার প্রদত্ত ঋণ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সদস্য মমতা হেনা লাভলী। লিখিত জবাবে মন্ত্রী পদ্মা সেতু নির্মাণ ও উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সরকারি দলের সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ’র প্রশ্নের জবাবে সেতু মন্ত্রী জানান, সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় দুটি সেতু থেকে টোল আদায় করা হয়ে থাকে। সেতু দুটি হলো যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু ও ধলেশ্বরী নদীর ওপর মুক্তারপুর সেতু। সেতুগুলো স্বয়ংক্রিয় ওজন স্কেলের মাধ্যমে চলাচলকারী যানবাহনের ওজন নির্ণয় করা হয়ে থাকে। যেসব ট্রাক ওজন স্কেলের নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত পণ্য বহন করে সেসব যানবাহনকে সেতুতে চলাচল করতে দেওয়া হয় না।

সংসদ সদস্য মো. শামসুল হক টুকুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সেতু বিভাগের আওতায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্দেশনা পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিরোধীদলীয় সদস্য মো. ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক ফোরামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এসব আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরামের সদস্য হওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন সড়ক রুট, ‘আঞ্চলিক রুট’ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। এসব আঞ্চলিক রুটের আওতায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সড়ক করিডোরগুলো যথাযথ মানোন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু সড়ক উন্নয়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পদ্মা সেতুর নাট খুলে টিকটক, ৭ দিনের রিমান্ডে বায়েজীদ

পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে টিকটক করে ভাইরাল বায়জীদ তালহাকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ সোমবার বিকেলে শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুজ্জামান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শরীয়তপুর কোর্ট পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আজ বিকেল ৪টার দিকে বায়েজীদকে আদালতে ওঠানো হয়। সিআইডির আবেদনেই বিচারক তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শরীয়তপুর কোট জিআরও’র কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বায়জীদ তালহার নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় করা মামলায় আজ বিকেলে বায়েজীদকে আদালতে হাজির করেন সিআইডি ঢাকা হেডকোয়ার্টারের পুলিশ পরিদর্শক শাহিনুল ইসলাম। শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেটের আদালতের বিচারক মো. সালেহুজ্জামান তাকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল একটি টিকটক ভিডিওতে দেখা যায়, বায়েজীদ হাত দিয়েই পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে ফেলছেন।

ওই ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে বায়েজীদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছে ও বাসায় তল্লাশি করে বেশকিছু ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

প্রসঙ্গত, ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার ভোর ৬টা থেকে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন গাজীপুরে দুইশ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শোকজ ও হামলার বিচার দাবি

 

প্রতিনিধি টঙ্গী (গাজীপুর)
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ, থানা ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দসহ প্রায় দুইশ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও রহস্যজনক কারণে শোকজ ও কার্যকরি কমিটির সভায় বর্বরোচিত হামলাসহ বিভিন্ন সময়ে ত্যাগী, পরিক্ষিত, দুর্দিনের আওয়ামী লীগের নেতাদের উপর হামলা এবং মানহানীর ন্যায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভূক্তভোগী নেতাকর্মীরা।

গতকাল শনিবার বিকেলে শতাধিক নেতাকর্মী স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রটি ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়–য়ার কাছে পৌঁছানো হয়। এছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, এমপি, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দীপু মনি, এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, এমপির কাছে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রিয়াজ মাহমুদ আয়নাল।

রিয়াজ মাহমুদ আয়নাল জানান, আমরা দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মী। ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থেকে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সবাই গাজীপুর আওয়ামী লীগের দুর্দিনের আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মী। প্রত্যেকেই ন্যূনতম ২০ থেকে ৫০ বছর যাবত কোনো না কোনো সাংগঠনিক দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন। এমনকি এসব নেতারা অতীতে জেল-জুলুম, নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ওই সকল নেতাদেরকে মহানগর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমের সাথে সংশ্লিষ্টতার ঠুনকো অভিযোগ এনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশ গত ১লা জুন মহানগর থেকে শুরু করে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দুইশ’ নেতাকর্মীর নামে প্রেরণ করা হয়েছে। যা দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও গত ২১ ডিসেম্বর দলীয় কার্যকরি কমিটির সভায় বর্বোরোচিত হামলা করে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস.এম মোকসেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমানকে মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দেয়। যা দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ খ্যাত গাজীপুর আওয়ামী লীগের জন্য অশনি সংকেত।
তিনি আরও জানান, দলীয় শৃঙ্খলা অটুট এবং গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত রাখতে জরুরি ভিত্তিতে দলীয় কার্যকরি কমিটির সভায় ন্যাক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু বিচার ও অনৈতিক শোকজ প্রদান করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি লাঘবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।