পদ্মা সেতুতে বাইক দুর্ঘটনা, মারা গেলেন সেই ২ যুবক

শনিবার পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর রোববার সকাল থেকে যান চাল শুরু হয়েছে। আর যান চলাচলের প্রথম দিনেই পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

রোববার (২৬ জুন) রাতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবক আহত হন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সেতুর ২৭ ও ২৮ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে আহত দুই যুবকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুলিশ ক্যাম্পের (ইনচার্জ) ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মারাত্মক আহত হয়ে দুজন সেতুর ওপর পড়ে আছেন। পাশে রক্তের ছোপ। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটা উন্নতির দিকে। তার অবস্থার আরেকটু উন্নতি ঘটলে আগামী সপ্তাহে বাসায় আনা হতে পারে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এক চিকিৎসক জানান, বুধবার (২২ জুন) খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানার জন্য বেশ কিছু পরীক্ষা করানো হয়। এর মধ্যে এন্ডোসকপি, আল্ট্রাসাউন্ড, ইকোকার্ডিওগ্রাম ছাড়া আরও বেশ কিছু পরীক্ষা করানো হয়। এসব পরীক্ষার ফলাফল পর্যবেক্ষণে সন্ধ্যায় মেডিকেল বোর্ডের সভা হয়। এতে বোর্ডপ্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. জাফর ইকবাল, ডা. শামস মনোয়ার, ডা. শাহরিয়ার, ডা. আমিনসহ খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ, ডা. এফএম সিদ্দিকী এবং ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, মেডিকেল বোর্ডের সভায় খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা, তার পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন চিকিৎসকরা। এতে তারা অনেকটা সন্তুষ্ট। এ অবস্থা বজায় থাকলে এবং তার অবস্থার উন্নতি ঘটলে আগামী সপ্তাহে তাঁকে বাসায় নেয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

গত ১০ জুন খালেদা জিয়া মাইল্ড হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে এনজিওগ্রাম পরীক্ষায় তিনটা ব্লক পাওয়া যায়। এনজিওগ্রামের সঙ্গে সঙ্গে স্টেন্টিং করা হয়েছে। সিসিইউতে কার্ডিওলজিস্টদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাকে ১৫ জুন কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।

পদ্মা সেতুতে প্রথম ৮ ঘণ্টায় ৮২ লাখ টাকা টোল আদায়

পদ্মা সেতুতে প্রথম ৮ ঘণ্টায় ৮২ লাখ ১৯ হাজার ৫০ টাকার টোল আদায় করা হয়েছে। এসময় গাড়ি চলাচল করেছে ১৫ হাজার ২০০টি। রোববার (২৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ৮ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্তে ৮ হাজার ৪৩৮টি গাড়ি থেকে আয় ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৫০ টাকা। জাজিরা প্রান্তে ৬ হাজার ৭৬২টি গাড়ি থেকে আয় ৩৫ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।

প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, সকাল থেকে যেসব গাড়ি চলাচল করেছে তার ৬০ শতাংশই মোটরসাইকেল। সে তুলনায় বড় যানবাহন কিছুটা কম। সেতুর টোলপ্লাজায় দায়িত্বরত এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সকাল থেকেই আমরা প্রস্তুত ছিলাম। ৬টার আগেই আমরা যানচলাচলের জন্য কাজ শুরু করি।

রোববার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় পদ্মা সেতু। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকায় আসতে দীর্ঘদিন যে অসহনীয় দুর্ভোগ ও কষ্ট ছিল আজ থেকেই তা দূর হয়েছে।

শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত দিয়ে উত্তাল পদ্মা নদী পার হতে যেখানে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতো এখন সেই নদী পার হতে সময় লাগছে মাত্র কয়েক মিনিট। এতে অনেকেই বাইক ও প্রাইভেটকার নিয়ে পার হচ্ছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সেই সঙ্গে ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানচলাচল করছে সেতু দিয়ে।

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৫ জুন) উদ্বোধন হয়েছে পদ্মা সেতুর।

প্রথম যাত্রী হিসেবে টোল দিয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে টোল দেন। এরপর তার গাড়িবহর সেতু উদ্বোধনের জন্য ফলকের স্থানে যায়। প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা গাড়ি থেকে নামেন। সেখানে প্রথমে মোনাজাত করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এরপর দুপুর ১২টার একটু আগে সুইচ টিপে সেতুর ফলক উন্মোচন করেন তিনি। এর মাধ্যমেই খুলে যায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের সড়ক পথের দ্বার।

যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার ইউক্রেনে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু ইউক্রেনে অবস্থানরত রুশ সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

গত ২৪ ফেব্র্রুয়ারি রাশিয়া ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর পর এই প্রথম দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইউক্রেন সফরের খবর সামনে এলো।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শোইগুর ওই সফরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ওই ভিডিওতে তাকে গাঢ় সবুজ সামরিক পোশাকে একটি হেলিকপ্টার থেকে নামতে এবং তারপরে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা গেছে।

সফরকালে ‘শোইগু বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রধান অপারেশনাল এলাকায় রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কমান্ডারদের কাছ থেকে রিপোর্ট শুনেছেন’ বলে জানা গেছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তিনি ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’ অবদান রাখায় সেনাদের আলাদা আলাদাভাবে পদক প্রদান করেছেন।

আগামী দিনের নেতৃত্ব দিতে তৈরি হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের নেতৃত্ব দিতে তৈরি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমাদের সোনার ছেলেমেয়েরা তোমরা তৈরি হও দেশকে আগামী দিনের নেতৃত্ব দিতে। সর্বক্ষেত্রে তোমরা তোমাদের মেধা বিকাশ করবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে যেন বাংলাদেশ আর পিছিয়ে না থাকে। বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যায়।

রোববার সকালে ‘বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ-২০২২’ প্রতিযোগিতায় সেরাদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি, আমাদের আজকের শিশুরা ভবিষ্যতে এ দেশের কর্ণধার হবে। তারাই তো আমার মতো প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে, শিক্ষক হবে, শিক্ষার্থী হবে এবং বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে দেশের উন্নতি করবে।

আধুনিক বিশ্বে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি যে বিকাশ ঘটছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গবেষণার ওপর জোর দেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, আমাদের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা, যারা আজকে এই যে মেধা অন্বেষণ আমরা করছি, তারা যে নব নব সৃষ্টি করার যে চিন্তা-চেতনা, এই চেতনাই আমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিকায়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি— আমাদের আজকের শিশুরা, তারাই তো ভবিষ্যতে এই ২০৪১-এর কর্ণধার। শুধু ‘৪১-এ থেমে থাকলে হবে না। ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ আমরা উদযাপন করব। আর সেই সঙ্গে ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান আমরা করে দিয়ে গেলাম।
বাঙালি বিজয়ী জাতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি। আজকের শিশুদের বলব, নতুন প্রজন্মকে বলব, আমাদের মাথায় এটা সবসময় রাখতে হবে— আমরা বিজয়ী জাতি। বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলব। সম্মানের সঙ্গে চলব। আর এই দেশ আমাদের দেশ। এই দেশকে আমরা গড়ে তুলব উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে।

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু

রোববার ভোর ৬টার দিকে শুরু হয়েছে সেতু দিয়ে যান চলাচল। নির্ধারিত টোল দিয়ে থ্রি-হইলার ছাড়া যেকোনো গাড়ি পার হচ্ছে সেতু।

পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ থাকায় যান চলাচল শুরুর দিনে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও যথাযথ প্রস্তুতি রেখেছে বলে জানানো হয়েছে।

ভায়াডাক্টসহ ৯ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুটির টোল আদায় কার্যক্রম দ্রুতগতির করতে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের দুটি টোলপ্লাজায় বসানো হয়েছে সাতটি করে মোট ১৪টি গেট। 

যান চলাচলে সেতুটি খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রান্তের ১৪টি টোল গেট চালু হয়ে গেছে। সবকটি গেটে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (কারিগরি) কাজী মোহাম্মাদ ফেরদৌস।

তবে সেতুর টোল আদায় প্রক্রিয়া মাত্র ৩ সেকেন্ডের মধ্যে নিয়ে আসতে চায় কর্তৃপক্ষ। সে জন্য টোলপ্লাজায় বসানো হচ্ছে আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) বুথ। এটি চালু হয়ে গেলে চলমান গাড়ি থেকে মাত্র ৩ সেকেন্ডে‌ স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা যাবে।

প্রথম পর্যায়ে সেতুর দুই প্রান্তের টোলপ্লাজায় দুটি গেটে বসানো হবে ইটিসি বুথ। পর্যায়ক্রমে দুই প্রান্তের অন্য ১২টি গেটেও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা হবে। তবে এ কাজটি সম্পন্ন করতে আরও ছয় মাস লাগবে বলেও জানিয়েছেন কাজী মোহাম্মদ ফেরদৌস।

পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশনকে। তারাই ইটিসি বুথগুলো স্থাপনে কাজ করছে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টোল পরিশোধের জন্য যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে লাগাতে হবে বিশেষ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ড। ফাস্ট ট্র্যাকের মাধ্যমে এই প্রি-পেইড কার্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেবে ইটিসি বুথ।

ইটিসি বুথ স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি গেট থেকে ম্যানুয়ালি টোল আদায় করা হবে বলে জানান বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী।

 

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু
মাওয়ায় শনিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর প্রথম টোল দিয়ে পদ্মা সেতুতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও

 

সেতু সচিব মো. মনজুর হোসেন বলেন, ‘পদ্মা সেতু এলাকায় একটি অটোমেটিক টোল সিস্টেম থাকবে। এটা এমন নয় যে ২৫ তারিখ থেকেই চালু হয়ে যাবে। এর জন্য আমাদের কিছুটা সময় লাগবে। যে কোম্পানি কাজ নিয়েছে তাদের অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে ইটিসি চালু করতে।’

কোরিয়া ও চীনের দুটি কোম্পানি যৌথভাবে পাঁচ বছরের জন্য পদ্মা বহুমুখী সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছে। এরা হলো কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন (কেইসি) এবং চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি)। কোম্পানি দুটি এ জন্য পাবে ৬৯২ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

 

পদ্মা সেতুর টোল

গত ১৭ মে পদ্মা সেতুর টোল হার প্রকাশ করে সরকার। সে হিসাবে এই সেতু পাড়ি দিতে মোটরসাইকেলকে দিতে হবে ১০০ টাকা।

প্রাইভেট কার ও সাধারণ জিপে টোল ঠিক করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। পিকআপ ও বিলাসবহুল জিপ পারাপারে টোল ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

মাইক্রোবাস পারাপারে সেতুর টোল ১ হাজার ৩০০ টাকা। ৩১ বা এর কম আসনের ছোট বাসের জন্য দিতে হবে ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাঝারি বাসের টোল ২ হাজার টাকা। বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

পাঁচ টনের ট্রাক এই সেতু পাড়ি দিলে গুনতে হবে ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাঁচ টন থেকে আট টনের মাঝারি ট্রাকের জন্য দিতে হবে ২ হাজার ১০০ টাকা। আট টন থেকে ১১ টনের মাঝারি ট্রাকের টোল ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

থ্রি এক্সেলের ট্রাক পারাপারে টোল ঠিক করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। মালবাহী ট্রেইলারের (চার এক্সেল) টোল ৬ হাজার টাকা। চার এক্সেলের ওপরে মালবাহী ট্রেইলারের জন্য প্রতি এক্সেলে দেড় হাজার টাকা যোগ হবে।

বর্তমানে ফেরিতে নদী পারাপারে যে হারে মাশুল দিতে হয়, সেতুতে তা দেড় গুণ বা আশপাশে বাড়ানো হয়েছে।

 

 

সেই রাসায়নিক কারখানাও রাশিয়ার দখলে

ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ  লুহানস্ক অঞ্চলের সেভেরোদোনেৎস্ক শহরে অবস্থিত আজত রাসায়নিক কারখানা দখলে নিয়েছে রাশিয়া। মস্কোপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মস্কোপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জানান, রুশ ও রাশিয়াপন্থী বাহিনী সেভেরোদোনেৎস্ক শহরে অবস্থিত আজত রাসায়নিক কারখানার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া আট শতাধিক বেসামরিক নাগরিককে ‘সরিয়ে’ নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দ্রেই মারাচকো টেলিগ্রাম অ্যাপে জানান, রাশিয়া ও মিত্র বাহিনী ‘আজত প্ল্যান্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে’।

আরেক বিচ্ছিন্নতাবাদী মুখপাত্র ইভান ফিলিপোনেঙ্কো বলেন, কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ের সময় প্ল্যান্টে আশ্রয় নেওয়া প্রায় আট শতাধিক বেসামরিক মানুষকে ‘সরিয়ে’ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সেভেরোদোনেৎস্ক শহরটি রাশিয়ান বাহিনী পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার মেয়র মেয়র অলেক্সান্ডার স্ট্রিউক।

অলেক্সান্ডার স্ট্রিউক ইউক্রেনের জাতীয় টেলিভিশনে বলেন, শহরটি এখন রাশিয়ার সম্পূর্ণ দখলে। তারা শহরটিতে তাদের নিজস্ব নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আমি যতদূর জানি তারা এক ধরনের কমান্ড্যান্ট নিয়োগ করেছে।

লুহানস্কের গভর্নর সেরহি হাইদাই আরও জানান, রুশ বাহিনীর অব্যাহত বোমা হামলার কারণে সেভেরোদোনেৎস্ক পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ার পথে।

শহরের ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। শহরের যেসব ভবন বা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার ৮০ শতাংশ ভেঙে ফেলতে হবে।

ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কোনো অভাব হবে না : মন্ত্রী

এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কোনো অভাব হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শনিবার তিনি ইউএনবিকে ফোনে বলেন, ‘ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য সারাদেশে এক দশমিক ২১ কোটির বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে।’

এছাড়া ঈদ উদযাপনে সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কোরবানির হাটে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পাশাপাশি অসুস্থ পশু হাটে বিক্রি করতে দেয়া হবে না। ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সদস্য নিয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো কোনো খামারি নিজ বাড়ি থেকে পশু বিক্রি করলে তাকে হাসিল দিতে হবে না। কোনো খামারি তার পশু দূরবর্তী হাটে নিতে চাইলে, রাস্তাঘাটে জোর করে নামাতে বাধ্য করা যাবে না। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকারের ইউনিট তথা পৌরসভা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি করপোরেশন এ বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, পশু হাটে আনার পথে কেউ প্রাণী বিক্রি করলে তার কাছ থেকে ইজারা গ্রাহক জোর করে চাঁদা বা হাসিল নিতে পারবে না। এটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। নগদ টাকা বহন না করে বিকল্প উপায়ে স্মার্ট পদ্ধতিতে খামারিরা যাতে আর্থিক লেনদেন করতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত বছর অনলাইনে পশু বিক্রির বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই বছরও এই পদ্ধতি অব্যাহত থাকবে। অনলাইনে ক্রয় করা গরু পছন্দ না হলে টাকা ফেরত নেয়ার ব্যবস্থাও সংযোজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি নির্ধারিত কোরবানির পশুর হাটে ভেটেরিনারি সার্জন থাকবে। গবাদিপশু কোরবানির উপযোগী কি না বা তাদের শরীরে দূষিত পদার্থ প্রবেশ করানো হয়েছে কি না, তারা সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে বা যেখানে হাট বসালে যান চলাচল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কিছু যাতে না হয় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে। সড়কে বা সেতুতে কোরবানির পশুবাহী গাড়িকে প্রাধান্য দেয়া হবে, যাতে রাস্তায় পশু আটকে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে না পারে। এক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পাশাপাশি হটলাইন ১৬৩৫৮ চালু থাকবে। পশু কোরবানির ক্ষেত্রে কোনো রকম সমস্যা যাতে না হয়, সেজন্য সবধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে গবাদিপশু কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে গবাদিপশুর খাবার সরবরাহ এবং চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার বিষয়েও চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। কোরবানির সময় যাতে ওই অঞ্চলে দেশের অন্য অঞ্চল থেকে পশু যেতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র : ইউএনবি

দেখুন পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে কি না, খালেদা জিয়াকে শেখ হাসিনা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদ্মা সেতু হবে না। তাকে বলব- আসুন, দেখুন পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে কি না।’

আজ শনিবার দুপুর ১টার পর মাদারীপুরের শিবচরে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আয়োজিত জনসভায় এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে আমরা পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। খালেদা জিয়া এসে তা বন্ধ করে দেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। তখন তারা বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ কোনো দিন নাকি পদ্মা সেতুর কাজ করতে পারবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাঙালি জাতি কখনো মাথায় নোয়ায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাথা নোয়াননি। তিনি আমাদের মাথা নোয়াতে শেখাননি। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি জীবনের জয়গান গেয়েছেন। তারই নেতৃত্বে ২৩ বছরের রাজনৈতি সংগ্রাম এবং নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছি। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। যা মূল সেতুকে জাতীয় সড়ক যোগযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পদ্মা সেতুর ৪১টির মধ্যে ৩৭ স্প্যানের নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিশ্বের সেরা প্রযুক্তিতে নির্মিত এ দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে স্টিল ও কংক্রিটের স্ট্রাকচারে। বহুমুখী এই সেতুর ওপরের ডেক দিয়ে যানবাহন এবং নিচের ডেক দিয়ে ট্রেন চলেবে। সেতু চালু হওয়ার পর সড়ক ও রেলপথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগযোগ স্থাপিত হবে।’

আজ শনিবার দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে টোল প্লাজা সংলগ্ন উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-২ উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করেন তিনি। পরে তিনি মোনাজাতে অংশ নেন।

দুপুর ১২টা ০৬ মিনিটে সেতু দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর জাজিরার অভিমুখে রওয়ানা হয়। এর আগে বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে নিজহাতে নির্ধারিত টোল দেন প্রধানমন্ত্রী।

সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে মুন্সীগঞ্জের দোগাছি পদ্মা সেতু সার্ভিস এরিয়া-১ এ পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে পদ্মা সেতুর উত্তর থানা সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সমাবেশে অংশ নেন সাড়ে তিন হাজার সুধীজন। যাদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিশিষ্ট নাগরিক ও সাংবাদিকরা।

পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শনিবার বেলা ১২ টায় মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এর আগে সকাল ১০টার কিছুক্ষণ আগে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকা থেকে তিনি মাওয়ায় পৌঁছান। সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।