‘খালেদা জিয়া ঘরে ঘরে ত্রাণ দিয়েছেন, শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে দুর্গত এলাকায় ঘুরেছেন’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ দিয়েছেন, কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে দুর্গত এলাকায় ঘুরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বৃহস্পতিবার সিলেটের জৈন্তাপুরে ত্রাণ বিতরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মানুষ না খেয়ে আছে। বিনা চিকিৎসায় আছে। অথচ সরকার পদ্মা সেতু নিয়ে ব্যস্ত।’

দেশের মানুষকে অভুক্ত রেখে সরকার পদ্মা সেতু নিয়ে উৎসব করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘সিলেটের ৩০ লাখ বানভাসি মানুষের জন্য সরকার মাত্র ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। অথচ পদ্মা সেতু উদ্বোধনে শত কোটি টাকা খরচ করছে।’

তিনি বলেন, ‘বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করলেও, প্রধানমন্ত্রী গুটিকয়েক মানুষকে ত্রাণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন।’

‘২০০৪ সালের বন্যায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে বন্যাদুর্গত এলাকায় ঘুরে গেছেন,’ বলেন মির্জা ফখরুল।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এর আগে সিলেট পৌঁছে তারা হযরত শাহজালালের (র.) মাজার জিয়ারত করেন।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওয়াসার এমডি তাকসিমের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির ১৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য নির্বাহী হাকিমের (সিএমএম) আদালতে এ আবেদন করেছেন সমিতিটির সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন সরকার।

ঢাকা সিএমএম আদালতের বিচারক আশেক ইমাম বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য রেখেছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. মুনজুর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী শারমিন হক আমীর, সাবেক রাজস্ব পরিদর্শক মিঞা মো. মিজানুর রহমান, প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান, রাজস্ব পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন, প্রকৌশলী মো. বদরুল আলম, জনতা ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম শ্যামল বিশ্বাস, উপসচিব শেখ এনায়েত উল্লাহ ও উপপ্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সালেকুর রহমান। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামাদেরও আসামি করার আবেদন করা হয়েছে।।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই  ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৯৯ কোটি ৬৫ লাখ ১৯ হাজার ১৭৩ টাকা ঢাকা ওয়াসা থেকে রাজস্ব আদায় কাজ বাবদ পায়। আর ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ অর্থবছরে একই কাজ বাবদ সমিতি আয় করে ৩৪ কোটি ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯০ টাকা। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০১৮ অর্থবছরে সমিতির হিসাবে জমা হয় ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৩ টাকা। অবশিষ্ট ১৩২ কোটি ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৬০ টাকা ৬ টি ব্যাংক থেকে বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে আসামি তাকসিম এ খানের প্রত্যক্ষ মদদে ও নির্দেশে অপর আসামিরা টাকাগুলো উত্তোলন করে আত্মসাত করেন।

আসামিদের এই আত্মসাতের বিষয়টি সমবায় অধিদপ্তরের অডিট রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া সমিতির গাড়িসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সমিতির হেফাজত থেকে স্থানান্তর করে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সমমূল্যের সম্পদ চুরি করেন আসামিরা। আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে বিশ্বাসভঙ্গ করে আত্মসাৎ ও চুরির অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩৮০/৪২০/৪০৬/৫০৬/১০৯ অপরাধ করেছেন।

আফগানিস্তানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সহস্রাধিক

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে দেড় হাজার। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কারণ ভূমিকম্পে বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষের নিচে আরো লাশ আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকতিকা প্রদেশ।

বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বুধবার ভোরে দেশটিতে ছয় দশমিক এক মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, পাকতিকা প্রদেশে স্ট্রেচারে করে আহত মানুষকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপ এবং বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষ।

স্থানীয় বাখতার নিউজ এজেন্সি জানায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে হেলিকপ্টারে করে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সরিয়ে আনা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খোস্ত শহর থেকে ৪৪ কিলোমিটার দুরে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, আফগানিস্তান ছাড়াও পাকিস্তানে ভূমিকম্প হয়েছে। তবে সেখানে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, আফগানিস্তানের কাবুল ও পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

আল-জাজিরা থেকে আলি লতিফি কাবুল থেকে জানান, সেখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শতাধিক বাড়িঘর ধসে গেছে। সেখানে হেলিকপ্টারে করে সহায়তার জন্য লোক পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় সেখানে সাহায্য পাঠানো কঠিন।

সেভেরোদনেতস্কে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের জন্য ‘নরক’ হয়ে উঠেছে : কিয়েভ

ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র পূর্বাঞ্চলীয় লুগানস্ক অঞ্চল এবং প্রধান শহর সেভেরোদনেতস্কে রুশ বাহিনীর ভয়ঙ্কর বোমাবর্ষণে ইউক্রেন সৈন্যদের জন্য ‘নরক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার কিয়েভ এ কথা জানিয়ে বলেছে, প্রতিরোধ যোদ্ধারা ‘যতক্ষণ প্রয়োজন’ তাদের অবস্থান ধরে রাখবে।

মস্কোর সৈন্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে পূর্ব ইউক্রেনে জোরালো হামলা চালাচ্ছে এবং ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রচণ্ড প্রতিরোধ সত্ত্বেও ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে।

ভ্লাদিমির পুতিনের বাহিনী দনবাসের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর সেভেরোদনেতস্কের উপর তাদের দখল শক্ত করার সাথে সাথে এর নিকটস্থ শহর লিসিচানস্ক এখন ভারী বোমা বর্ষণের শিকার হচ্ছে।

লুগানস্ক অঞ্চলের গভর্নর টেলিগ্রামে লিখেছেন, লিসিচানস্কে ‘রাশিয়ান বাহিনী সবকিছু ধ্বংস করছে’। লুগানস্ক অঞ্চলের মধ্যেই সেভেরোদনেতস্ক ও লিসিচানস্ক শহর অবস্থিত।

তিনি লিখেছেন, দোনেৎস নদীর ওপারে সেভেরোদনেতস্কে চার মাস ধরে গোলাবর্ষণের পর ‘এটি এখন নরকে’ পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সৈন্যরা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং যতক্ষণ প্রয়োজন ততদিন ধরে রাখবে।’

রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দাবি করেছে, তারা লিসিচানস্ক এবং সেভেরোদনেতস্কে উভয় শহর কাছাকাছি অবস্থান থেকে ঘিরে রেখেছে।

লুগানস্কেও বিচ্ছিন্নতাবাদী সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা আন্দ্রেই মারোচকো রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করেছেন যে, তারা ‘গত কয়েক দিন ধরে বিশাল কাজ করেছেন।’

শহর দু’টি মস্কোর নিয়ন্ত্রণে গেলে তারা গোটা লুগানস্কের নিয়ন্ত্রণ করবে এবং দনবাস অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাবে।

ফেব্রুয়ারিতে অভিযান শুরুর পর কিয়েভ দখলের চেষ্টায় পিছু হটে মস্কো এখন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দখলের চেষ্টা করছে। তবে তারা দেশের অন্যান্য এলাকায়ও বোমা হামলা চালাচ্ছে।

এএফপি’র এক সংবাদদাতা বলেছেন, রাশিয়ার গোলা বর্ষণে পাঁচ নিহত হওয়ার একদিন পর রাশিয়া সীমান্তের কাছে খারকিভ শহর বুধবার প্রায় খালি হয়ে গেছে।

বড় খরচ উঠলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু : প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতু নির্মাণে যে বড় খরচ হয়েছে সেটা উঠলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ২১ জেলার মানুষ সংযুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৬ জেলার মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু (দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া) নির্মাণ হলে।

শেখ হাসিনা বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন সেতু নির্মাণ করে সংযোগ তৈরি করেছি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরে দ্বিতীয়টার জন্য আয়োজন রয়েছে। তবুও আগে দেখতে হবে, এটার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? সেটা বিবেচনা করে করা হবে। এখনই এত বড় একটা কাজ শেষ করে, আবার আরেকটা এখনই শুরু করতে পারব না।

তিনি বলেন, এখন এত বড় খরচ করেছি, সেটার টাকা আগে উঠুক। তারপরে দ্বিতীয়টা করব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে রাতে খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন, মুখ খুললেন রিজভী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে স্ত্রীসহ কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে দাওয়াত খাওয়ার বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠায় মুখ খুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বুধবার নয়াপল্টনে এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এ সমস্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মূলত দমনমূলক তত্ত্ব। পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার যত সমালোচনার মুখে পড়েছে সেটিকে আড়াল করতেই তারা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সাজিয়েছে।’

জানা গেছে, গত রোববার রাতে রুহুল কবির রিজভী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে যান। সেখানে রাত ১টা পর্যন্ত তিনি অবস্থান করেন। সঙ্গে তার স্ত্রী ও কয়েকজন বন্ধুও ছিলেন।

এই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সভাপতি বিএনপি সমর্থিত সাদা দলের শিক্ষক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং ঘটনা অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‌‘রাতে ক্লাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অতিথিরা আসেন। খাওয়া-দাওয়া করেন। এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ক্লাবের সভাপতি। আমার আমন্ত্রণেও রুহুল কবির রিজভীসহ বেশ কয়েকজন অতিথিও এসেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘অতিথিরা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। আমরা যখন ক্লাবে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন অন্য রুমে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরাও ছিলেন। রাতে ক্লাবে এ রকম অতিথি সব শিক্ষকেরই আসে। আমরা তো কখনো এ নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি? কেন তুলব? এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। মূলত হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‌‘গত ১৮ জুন ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয় ক্লাবে ইউট্যাব’র একটি ঘরোয়া দাওয়াতে আমি এবং ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও তিনজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলাম। আমন্ত্রিত অতিথিসহ সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ জন উপস্থিত ছিলেন। এখানে যদি নাশকতার কোনো পরিকল্পনা করা হতো, তাহলে সিসিটিভি’র ক্যামেরার আওতার মধ্যে কিভাবে আমরা ডাইনিং কক্ষে গিয়ে বসলাম। সেখানে অনেকেই সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন। এটিকেই এখন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং তাদের দলদাস কিছু শিক্ষক।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিভিন্ন সংগঠনের নামে এখন তারা ষড়যন্ত্রের নামে আমাদের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি দিয়ে আমিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ওবায়দুলকে গ্রেপ্তারের জন্য দাবি জানাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের দল দাস প্রশাসন ড. ওবায়দুলকে নানাভাবে হয়রানি করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেন এক্সপোর্ট প্রমোশন জোনের মতো আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের প্রমোশন জোনে পরিণত হয়েছে। আর এদেরকে ছত্রছায়া দিচ্ছে দলদাস বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

রিজভী বলেন, ‘আসলে এক দেশে দুই আইন। ক্লাবসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর আওয়ামী নেতা-মন্ত্রীদের অভয়ারণ্য। অনেক রাত পর্যন্ত তারা ক্লাবে আড্ডা দেয় এবং লন টেনিস খেলাসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ড চালায়। তাদের জন্য সাত খুন মাফ। অথচ কোনো শিক্ষকের আমন্ত্রণে বিরোধী দলের কোনো নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সময়ের জন্য সেখানে অবস্থান করলেই তারা সেখানে নাশকতার গন্ধ পায়। এমনকি অন্য দেশের অনেক শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীকে অহরহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যেটিতে অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অগোচরে ব্যক্তিগত বা বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা দিব্যি সারা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপিয়ে বেড়ায়। মূলত রাষ্ট্রবিরোধী দলের ওপর অত্যাচার করছে বা প্রতিশোধ নিচ্ছে। ’

সরকার তাদের সমালোচনাকারীদের কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এ সমস্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মূলত দমনমূলক তত্ত্ব। পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার যত সমালোচনার মুখে পড়েছে সেটিকে আড়াল করতেই তারা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সাজিয়েছে। এই সেতু নিয়ে দুর্নীতি পাগলা ঘোড়ার মতো বেসামাল হয়ে পড়েছে। মানুষের সমালোচনাকে বাকরুদ্ধ করার জন্যই দমন নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা আসলেই আমাদের সমাজের অভ্যন্তরে অঘোষিত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার ক্ষমতা অজেয় ও তার কর্তৃত্ব অনতিক্রম্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক দিন আগে শেখ হাসিনা আরও বেশি ক্ষমতা চান বলে জানিয়েছেন। আরও বেশি ক্ষমতা অধিকারী হলে শেখ হাসিনা দেশটাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে তা চিন্তা করতেও গা শিউরে ওঠে। আর্তনাদ আর হাহাকারে দেশটা ভরে উঠবে। শুরু হবে অন্ধকার প্রতিক্রিয়া ও দাসত্বের বাতাবরণ। শেখ হাসিনা আরও বেশি ক্ষমতার অধিকারী হলে জনগণের বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতা এবং আলো ও অগ্রগতি চিরতরে ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর দুর্নীতি এবং সিলেটসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা মোকাবিলায় ব্যর্থতা, প্রচণ্ড মূদ্রস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্য হু হু করে বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে সরকার বিরোধী দলের সমালোচনাকে দমন করার লক্ষ্যে দলবাজ কিছু শিক্ষক মিডিয়ায় নাশকতার অপপ্রচারের ধুম্রজাল সৃষ্টি করেছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবে আমাদের উপস্থিতিকে নিয়ে নাটক শুরু করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে যে নাটক করা হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

ঈদ উপলক্ষে ১ থেকে ১০ জুলাই দোকানপাট বন্ধের সময়ে পরিবর্তন

দোকানপাট, মার্কেট, বিপণিবিতান বন্ধের সময়ে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ১ থেকে ১০ জুলাই দশ দিন রাত ৮টার পরিবর্তে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট- বিপণিবিতান। বিশেষ অবস্থা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ১১৪ এর ৪ উপধারার ক্ষমতাবলে সাময়িক এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ জুন প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে শ্রম মন্ত্রণালয়ে ডাকা বৈঠকে দোকানপাট, মার্কেট, বিপণিবিতান রাত ৮টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন মালিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ জুন থেকে সারাদেশে রাত ৮টায় দোকানপাট- বিপণিবিতান বন্ধের বিষয় কার্যকর করা হয়।

পরে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি দশ দিন দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি চায়। তাদের অনুরোধ বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট উপস্থাপন করা হবে বলে শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন।

তবে ১০ জুলাইয়ের পর থেকে রাত ৮টায় দোকানপাট, বিপণিবিতান বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১১৪ এর উপধারা ৩ কঠোরভাবে প্রতিপালন করা হবে।

বন্যার্তদের পাশে চিত্রনায়িকা শাবনুর

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জবাসী। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এই দুই জেলায় প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বানভাসি এসব মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে সাধারণ মানুষজন। কাজ করছেন শোবিজ অঙ্গনের শিল্পীরাও।

এবার সূদুর অস্ট্রেলিয়া থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর। এক ফেসবুকবার্তায় এই চিত্রনায়িকা বলেন, ‘বন্ধুরা আমি সবার উদ্দেশে কিছু কথা বলতে চাই। আমি ইদানীং দেখতে পাচ্ছি, সবার মধ্যে একটি যুদ্ধ চলছে! অথচ এই কথাটি কেউ বুঝতে চাইছে না যে, একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে। আবার এ কথাও সত্যি যে, আমরা সবাই একে অপরের চেনামুখ।’

শাবনূর আরও বলেন, ‘দিন শেষে আমাদের সবার চলার পথ একটাই। চলার পথে আমাদের একে অপরের মুখোমুখি হতে হবে। একে অপরের সুখ-দুঃখে আমাদেরকেই পাশে থাকতে হবে। তাই আমরা এসব যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে, আমাদের রাগ-ক্ষোভ পেছনে ফেলে নিজেদেরকে সুন্দর জীবনমুখী করে তুলি। এই মুহূর্তে দেশে এক ভয়াবহ সংকট চলছে। সিলেটসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল ক্রমাগত বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে। এই দুর্বিষহ পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে আমরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সব বন্যা-কবলিত অঞ্চলের মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ। ধন্যবাদ! আশাকরি সবাই সবাইকে নিয়ে ভালো থাকবেন। অপরকে ভালো রাখলে আল্লাহও আপনাকে ভালো রাখবে।’

উল্লেখ্য, প্রায় এক দশক ধরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকছেন শাবনূর। সেখানে ছেলে আইজান, মা, ভাই, বোনসহ স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি। জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় ছোট বোন ঝুমুরের স্বামীর সঙ্গে ব্যবসা করছেন শাবনূর।

সবশেষ শাবনূরকে ২০১৫ সালে ‘পাগল মানুষ’ সিনেমায় দেখা গেছে। এরপর আর কোনো সিনেমায় দেখা মেলেনি দর্শকপ্রিয় এই অভিনেত্রীর।

আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০

আফগানিস্তনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরও ৬০০ জনের মতো নিখোঁজ আছেন। উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধারে তৎপড়তা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে দেশটির পাকতিকা প্রদেশে ভয়াবহ এ ভূমিকম্প আঘাত হানে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দেশটির পাকতিকা প্রদেশে স্ট্রেচারে করে আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি-ঘরের দৃশ্যও উঠে এসেছে।

আফগানিস্তানের স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা ২৮০। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খোস্ত থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। সেখান থেকে প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার দূরে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতেও ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়েছে।

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলোজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির প্রভাব আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও অনুভূত হয়েছে।

পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সিসমিক মনিটরিং সেন্টার জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। উৎপত্তিস্থল আফগানিস্তানের খোস্ত শহরে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) অবশ্য ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৯ রেকর্ড করেছে। এতে কেঁপে ওঠে আফগানিস্তান-পাকিস্তান উভয় দেশই।

টঙ্গীতে বিদ্যুৎস্পর্শে দুই যুবকের মৃত্যু আহত ১

 

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে দোকানের সাইনবোর্ড নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে জুলহাস (২৫) ও সায়েম (৩০) নামে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় অপর একজন গুরুতর আহত অবস্থায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে চেরাগআলী সুরতরঙ্গ রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত জুলহাস ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার বিলপাজরা গ্রামের ঝিল্টু হোসেনের ছেলে এবং সায়েম নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার করিমপুর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে। আহত ব্যক্তির নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, দোকান মালিক সায়েম ও ভ্যান চালক জুলহাস দোকানের সাইনবোর্ড অপসারণ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত: সাইনবোর্ডটি দোকানের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের হাইভোল্টেজ তারের সাথে লেগে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে রাস্তার উপর ছিটকে পড়েন তারা। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় অপর একজন আহত ব্যাক্তি একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জুলহাস ও সায়েমকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লা মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় তিন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই জন মারা গেছেন। অপর এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।