টঙ্গীতে আউট সোর্সিয়ের হামলায় সংবাদিক আহত

 

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহকালে আনন্দ টেলিভিশনের টঙ্গী প্রতিনিধি শাকিলের উপর হামলা চালিয়েছে ওই হাসপাতালের আউট সোর্সিং ভারপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাস্টার তৌহিদুল ইসলাম হৃদয় ও তার সহযোগীরা। এসময় সাংবাদিকের ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার কক্ষে এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) কক্ষে একটি রিপোর্টের বিষয়ে বক্তব্য নিতে তার অনুমতি সাপেক্ষে কক্ষে প্রবেশ করেন সাংবাদিক শাকিল। ওই সময় আরএমও তাকে বসতে বললেও ওই কক্ষে অবস্থান করা হাসপাতালের আউট সোর্সিং ভারপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাস্টার তৌহিদুল ইসলাম হৃদয় ও তার সহযোগীরা সাংবাদিককে বের হয়ে যেতে বলেন। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে হৃদয় সাংবাদিক শাকিলকে এলোপাথারি মারধর করে তার সাথে থাকা ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। হামলায় আহত শাকিলকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ জাবেদ মাসুদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। আরএমওকে দায়িত্ব দিয়েছি বিষয়টি দেখার জন্য।

আপনার আচরণ সভ্য রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্ক: ইউএনওকে হাইকোর্ট

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল বোয়ালমারী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের দেওয়ানি মামলার (৫৩/২০২২) নোটিশ জারি করতে জারিকারক মো. কামাল হোসেন ও মেহেদী হাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। আদালতের কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার হুমকির অভিযোগ ওঠে। এরপর ফরিদপুর আদালত থেকে লিখিতভাবে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে ঘটনা জানিয়ে অবহিতকরণপত্র পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। শুনানি নিয়ে ৭ জুন হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার রুল দিয়ে নিজেদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে বোয়ালমারীর ইউএনও ও তাঁর অফিসের নাজিরকে ২১ জুন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।

এ অনুসারে সকালে বোয়ালমারীর ইউএনও মো. রেজাউল করিম ও তাঁর অফিসের নাজির উকিল মিয়া আদালতে হাজির হন। আদালতে ইউএনওর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শফিক আহমেদ ও মাহবুব শফিক। উকিল মিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোজাম্মেল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

শুনানিতে ইউএনও মো. রেজাউল করিম নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাঁর আইনজীবী বলেন, একটি ভুল–বোঝাবুঝি হয়ে গেছে। বিচার বিভাগকে অবজ্ঞা করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।

ইউএনও মো. রেজাউল করিমের উদ্দেশে আদালত বলেন, জারিকারক সমন নিয়ে গেছে, তখন ঘটনা ঘটেছে, এটি তো ফ্যাক্ট। জারিকারক দাওয়াত দিতে যাননি। আদালত সবার ওপরে। আদালত সমন দিলে তা মানতে হবে। ইউএনও মানে কী? আইন আছে বলেই ইউএনও। আইন ও আদালতকে সম্মান না করলে আপনাকেও কেউ সম্মান করবে না। আপনি যদি আইন না মানেন, কেউ আপনাকে মানবে না।
আদালত বলেন, নাজিরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি? তখন ইউএনও মো. রেজাউল করিম বলেন, কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

ইউএনও মো. রেজাউল করিমের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনি উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। আপনি বিষয়টি হ্যান্ডেল করতে পারেননি। আদালত অবমাননার কারণে আপনাকে আসতে হয়েছে। ক্যারিয়ারে কী হলো? ক্যারিয়ারে স্পট পড়ে গেল। জীবনে একটি স্পট পড়ে গেল। একটি লাইন লিখে দিলে আপনার জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এ সময় ইউএনও মো. রেজাউল করিম বলেন, আইন ও আদালতের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল।

এরপর ইউএনও অফিসের নাজির উকিল মিয়ার উদ্দেশে আদালত বলেন, আপনি মূল অপরাধী। আপনি সমনের নোটিশ গ্রহণ না করে গন্ডগোল করেছেন। সিনক্রিয়েট করেছেন।

শুনানির শেষ পর্যায়ে ইউএনওর উদ্দেশে আদালত বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তখন ইউএনও বলেন, ‘আদালতের আদেশ পালনে সচেষ্ট থাকব।’ আদালত বলেন, আপনার চেয়ার ও দায়িত্বের প্রতি নজর রাখবেন। মানুষ যত উচ্চ পদে যায়, তাকে তত বিনয়ী হতে হয়। আদালতকে সম্মান না করলে আপনিও সম্মান পাবেন না। আদালতকে সম্মান করা দায়িত্ব।

শুনানি নিয়ে আদালত ইউএনও রেজাউল করিম ও তাঁর অফিসের নাজির উকিল মিয়াকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আগামী রোববার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

 

‘মুসার লাঠি’-র সাইবার হামলা, ইসরাইলে বাজলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সাইরেন

গত কয়েক মাস ধরে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা জোরদার হয়েছে। গত বুধবার ‘মুসার লাঠি’ নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ ইলেকট্রিসিটি নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা চালায়। তারা সেসময় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে যে, ইসরাইলকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখা হবে। এর কিছুদিন পরেই ইসরাইলে বাজল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের ওপর সাইবার হামলার কারণে অন্তত দুটি শহরে এক ঘন্টা ধরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজেছে। ইসরাইলের গণমাধ্যম এই খবর দিয়েছে।

ইসরাইলি গণমাধ্যম বলছে, পবিত্র আল-কুদস এবং এইলাত শহরে শনিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

ইসরাইলের সামরিক কর্তৃপক্ষ লোকজনকে নিশ্চিত করেছে যে, ভুলক্রমে এই সাইরেন বেজেছে। একে যান্ত্রিক ত্রুটি বলে উল্লেখ করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। তবে সোমবার ইসরাইলের সামরিক বাহিনী পরিচালিত রেডিও চ্যানেল জানিয়েছে, সাইবার হামলার কারণেই শনিবার সাইরেন বেজেছে।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বলছে, মিউনিসিপাল সাইরেন সিস্টেম সাইবার হামলার শিকার হয় এবং হামলাকারীরা অ্যালার্ট সিস্টেমে ঢুকে পড়ে তা সক্রিয় করে দেয়।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি তবে ইসরাইলের সাবেক একজন কর্মকর্তা আর্মি রেডিওর কাছে বলেছেন যে, এই হামলার জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান দায়ী। সূত্র: পার্সটুডে

আমারসংবাদ/এবি

কলম্বিয়ায় বামপন্থী প্রেসিডেন্টের বিজয়

কলম্বিয়ার বোগোটা শহরের সাবেক মেয়র এবং সাবেক গেরিলা নেতা গুস্তাভো পেত্রো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফার ভোটেও জয় পেয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে কলম্বিয়ায় প্রথমবারের মতো কোনো বামপন্থী নেতা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। তাঁর রানিংমেট ফ্রান্সা মার্কেজ হচ্ছেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট। খবর বিবিসির।

গত ২৯ মে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে গুস্তাভো পেত্রো জয়ী হলেও কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করতে না পারায় গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। এ নির্বাচনে পেত্রোর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৭৭ বছর বয়সী ব্যবসায়ী রোদোলফো এরনান্দেজ।

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন পেত্রো। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এরনান্দেজের চেয়ে সাত লাখের বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি।

এ জয়কে ‘ঈশ্বর ও জনগণের জয়’ বলে উল্লেখ করেছেন পেত্রো। টুইটারে তিনি লিখেছেন, মাতৃভূমির হৃদয়ে আজ যে খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে, তা দিয়ে সকল ভোগান্তি ধুয়ে যাক।

ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেত্রোর রানিংমেট ছিলেন ফ্রান্সা মার্কেজ। কলম্বিয়ার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।

ইতিমধ্যে নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছেন এরনান্দেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আজ কলম্বিয়ার বেশির ভাগ নাগরিক অপর প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন। প্রচারণার সময় আমি বলেছিলাম, নির্বাচনের ফল মেনে নেব। আশা করি কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে হবে, তা পেত্রো জানেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান বজায় রাখবেন তিনি।’

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ইভান দুকু টুইটার পোস্টে লিখেছেন, তিনি পেত্রোকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একটি সর্বসম্মত, প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে আগামী দিনগুলোতে বৈঠকে বসার ব্যাপারে সম্মত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন দুকু।

একসময় এম-১৯ গেরিলার সদস্য ছিলেন পেত্রো। কয়েক দশক আগে এ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পেত্রো। বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিনা মূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা, পেনশন ব্যবস্থায় সংস্কার আনা এবং অনুৎপাদনশীল জমির ওপর উচ্চ কর আরোপ করবেন। ২০১৬ সালে যে চুক্তির কারণে কমিউনিস্ট গেরিলা গোষ্ঠী ফার্কের সঙ্গে সরকারের ৫০ বছরের দীর্ঘ সংঘাতের অবসান হয়েছিল, তা বাস্তবায়নেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

গুস্তাভো পেত্রোর সমালোচকেরা বলেছিলেন, তিনি যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, তা দেশকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

তবে শেষ পর্যন্ত পেত্রোর দারিদ্র্য দূর করার প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত অসাম্যের দেশটির জনগণকে টানতে পেরেছে। বাস্তুচ্যুত আফ্রো-কলম্বিয়ান নারী ইফোর আনা বিয়াত্রিজ আচেভেদো মনে করেন, এ নির্বাচন দেশের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

বিয়াত্রিজ আচেভেদো বলেন, ‘নারীরা কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোতে অসমতার বিষয়টিকে এ দেশের একটি সমস্যা বলে বিবেচনা করেন। আর তাঁরা (পেত্রো ও মার্কেজ) সে বৈষম্যের শিকার মানুষদেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন। একজন মিশ্র বর্ণের আর অন্যজন কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আর এ দুজনই সমতায় বিশ্বাসী।’

এদিকে বোগোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আরলিন টিকনার মনে করেন, কলম্বিয়ায় বর্তমান মেরুকরণের মাত্রা এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক সংকট পেত্রো সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

 

বিক্রয় ডটকম থেকে মোবাইল কিনে জীবনটাই শেষ!

দেশের অন্যতম ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস বিক্রয় ডটকম থেকে মোবাইল কিনে মো. রেহান নামে এক ব্যক্তি বড় ধরনের বিপদে পড়েছেন। এমনকি তাকে দুই মাস জেলও খাটতে হয়েছে। ডিজিটাল এই মার্কেটপ্লেস থেকে মোবাইল কিনে বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

‘বিক্রয় ডটকম থেকে মোবাইল কেনার আগে হাজারবার চিন্তা করবেন। আপনি বিপদে পড়ে টাকা, সম্মান সবকিছু খোয়াবেন। কিন্তু বিক্রয় ডটকমকে পাশে পাবেন না। বিক্র‍য় ডটকম থেকে মোবাইল কিনে চোরাই ফোনের মামলার আমাকে দুই মাস জেলও খাটতে হয়েছে।

২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে বিক্রয় ডটকমের নারায়ণগঞ্জের চাষাড়াতে আমার বন্ধু একটি oppo A95 মোবাইলের বিজ্ঞাপন দেখে আমাকে জানায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম বক্স এবং ক্যাশমেমো আছে কিনা। বলল, সবকিছু আছে ১০ দিন ব্যবহার করা ফোনোম্যানিয়া শোরুম থেকে কেনা। সাধারণত বক্স আর মেমো থাকলে বাংলাদেশের যেকোনো দোকানদার সেই ফোন কিনে রাখে, আমিও তাই করলাম। ফোনের সাথে ফুল বক্সসহ ‘phonomania’ নামের মোহাম্মদপুরের একটি জনপ্রিয় মোবাইল শপের সিলসহ ক্যাশমেমো ছিল। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে আমি মোবাইলটা ক্রয় করি। তারপর ২২ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল জেলার ভুয়াপুর নামক জায়গা থেকে মোবইল চুরির অভিযোগে পুলিশ আমাকে নিয়ে যায়। আমি তাদেরকে ফুল বক্সের সঙ্গে ক্যাশমেমোসহ সকল প্রমাণ দিই। এমনকি যার থেকে কিনেছি তার নাম্বারও দিই এবং মোবাইলটি যদি চুরি হয়ে থাকে, তাহলে যে দোকানের ক্যাশমেমো সেই দোকানে অভিযান চালান। তাদের ক্যাশমেমোর সিরিয়াল নাম্বার মিলিয়ে দেখেন তাহলেই সব প্রমাণ হয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ নাছোরবান্দা, তাদের কথা- এতকিছু দেখার সময় নেই। তোমার কাছে পেয়েছি, তুমিই চুরি করেছ।

তারপর বললাম, স্যার আমার মোবাইল ট্রেস করে দেখেন আমি জীবনে কোনোদিন টাঙ্গাইল গেছি কিনা অথবা টাঙ্গাইলের কোনো মানুষের সাথে কোনোদিন কথা বলছি কিনা? কিন্তু পুলিশ কোনো কথাই শুনল না। নারায়ণগঞ্জ থেকে রাত ১০টায় টাঙ্গাইলের উদ্দেশে পুলিশ ভ্যানে করে যাত্রা করলাম। একে তো শীতের সময়, তারমধ্যে এমন এক জায়গা তার নাম আগে শুনিনি। থানায় নিয়ে শুরু হলো আরেক কাহিনি। তাদের ওখান থেকে অর্থাৎ শোরুম থেকে নাকি ১১০ মোবাইল চুরি হয়েছে, তারমধ্যে ৯৩টার আইএমইআই (IMEI) পাওয়া গেছে। তারমধ্যে আমার একটা। তাদের অভিযোগ, সব চোরাই ফোন নাকি আমার কাছে আছে, এ বলে নির্যাতন শুরু করে দিল। স্বীকার না করায় তারা বলল, ১১০টি মোবাইল ফোন ফেরত দিতে, না-হয় ১৫ লাখ টাকা দিতে। তারা এই টাকা বাদীকে দেবে। এই পুরো সময়টা বাদী থানার মধ্যেই ছিল আর হাসছিল।

নিজের টাকা দিয়ে মোবাইল কিনে এমন একটা বিপদে পড়ব, তা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার বাড়ির কেউ জানে না এটা টাঙ্গাইলের কোথায়। আমাকে গুম করল, নাকি অন্যকিছু করল, কেউ জানে না। টানা দুই দিন থানার হাজতে আটকে রাখা হলো আর ভয়ভীতি দেখাল। অন্যান্য মামলায়ও নাম দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

এদিকে হাজতের অবস্থা এত খারাপ ছিল যে, সেখানে একটা কুকুরও থাকার মতো পরিবেশ নেই। টয়লেট সেখলে যে কেউ বমি করে দেবে। তারপর দুইদিন পর কোর্টে চালান দিলো। সেখান থেকে টাঙ্গাইল কারাগারে প্রেরণ। সে এক আজব দুনিয়া। সেখানে সব ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীদের দেখা যায়। সাতদিন একটা ঘরে বন্দি করে রাখা হলো কোয়ারেন্টিনের নামে। এক রুমে ৭০ জন করে, এককাতে ঘুমাতে হয়, নড়াচড়ার সুযোগ নেই। তারমধ্যে খাবার দেয় মুলা আর শালগম। গরম পানিতে সিদ্ধ করা তরকারি। মোটা চালের ভাত, যার মধ্যে পচা গন্ধ আর পোকা। আর একবেলা পাঙাশ মাছ, তারও আবার খুবই ছোট পিস। তার সাত দিন পর কোর্টে জামিন শুনানি হয়। সেখানে পুলিশ রিমান্ড চায়, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব জেলগেট জিজ্ঞাসাবাদ দেয়। অথচ, মামলার আইও জেলগেটে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি। কিন্তু আদালতে প্রতিবেদন দেয়, আমরা স্বীকার করেছি ৯৩টা মোবাইল আমাদের কাছে আছে। অতঃপর পুলিশ আবার রিমান্ড চাইলে বিচারক দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একটা খুনের মামলায়ও দুইবার রিমান্ড দেয় না। কিন্তু আমাকে এই মিথ্যা চুরির মামলায় দুইবার রিমান্ড দেওয়া হয়।

এরপর থানায় এনে সেকি অত্যাচার! হাত-পা বেঁধে বেধরক মারধর। ভাই, পুরা জীবনটাই শেষ করে দিছে। ২৩ হাজার টাকার একটা মোবাইল ১৮ হাজার টাকায় কিনে থানা-পুলিশ উকিল সবমিলিয়ে ৫ লাখ টাকা শেষ। তাও আবার দুই মাস জেল খাটার পর। কী আমার অপরাধ? দুই মাস আমার মোবাইল পুলিশের কাছে ছিল, তারা সবভাবে যাচাই করে দেখছে আমি কোনো অপরাধী নই, তবুও এই মামলা থেকে মুক্তি নেই। প্রতিমাসে নারায়ণগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইল গিয়ে হাজিরা দিতে হয়। এদিকে আমার ব্যবসা-দোকান সব শেষ। সবকিছু ছেড়ে দিতে হয়েছে। আজ আমি পথের ফকির, একটি মোবাইল কিনে জীবনটা নরক হয়ে গেছে। আর কীভাবে যাচাই করে আপনারা পুরাতন ফোন কিনবেন? বক্স আছে ক্যাশমেমো আছে তবুও যদি বলে সবকিছুই ফেক। তাহলে সেটা সাধারণ মানুষের পক্ষে যাচাই করার সুযোগ কোথায়? কীভাবে আপনি নিরাপদ থাকবেন, যদি একটা ফোন কিনে শুনেন আপনি মার্ডার কেসের আসামি? এত প্রযুক্তি আর টেকনোলজি থেকেইবা লাভ কী, যদি পুলিশ প্রকৃত আসামি না ধরে? যার কাছে মোবাইল পেল সেই আসামি? জাতির বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন।

কোনো আইনের লোক থাকলে প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন। এই বিপদ থেকে কীভাবে মুক্তি পেতে পারি?’

স্বদেশে ফিরে যাওয়ার দাবিতে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ

রোববার  প্রতিটি শিবিরেই সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত একঘণ্টার কর্মসূচি পালন করেন তারা। আগামীকাল সোমবার বিশ্ব শরণার্থী দিবসের একদিন আগে লাখো রোহিঙ্গা তাদের বস্তির বাইরে এসে ‘ গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষের মুখে একটি আওয়াজ ছিল- এবারের বিশ্ব শরণার্থী দিবসেই আমাদের শরণার্থী জীবনের অবসান হওয়া চাই। রোহিঙ্গারা এ আয়োজনে নানা প্ল্যাকার্ড বহন করেছেন বিশ্ব বিবেকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। তাতে তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, উই ওয়ান্ট রাইটস, উই ওয়ান্ট টু গো ব্যাক টু আওয়ার মাদারল্যান্ড’সহ আরো অনেক দাবি তুলেছেন।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের ৩৪টি শিবিরেই একযোগে ‘গো হোম’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সাধারণ রোহিঙ্গারাই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে দলে দলে। সকাল থেকেই মুশলধারে বৃষ্টিও নামে। প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করেই রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে ফিরতে ব্যাকুলতার কথা জানাতে তারা শিবিরের বাইরে এসে সমবেত হন।

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জাফর এ বিষয়ে জানান, স্বদেশে ফিরতে বাধাদানকারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের প্রচণ্ড চাপ উপেক্ষা করেই আমরা আজকের ‘গো হোম’ কর্মসূচির আয়োজন করেছি। আমরা সন্ত্রাসীদের অস্ত্রকে আর ভয় পাই না। আমরা ফিরতে চাই শত বছরের আমাদের বাপ-দাদার বাড়িভিটায়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মো. শামছুদ্দৌজা নয়ন জানান, শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কথা তারা বিশ্ববিবেকের কাছে তুলে ধরতেই পারেন। রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবির কথা জানিয়েছেন।

সিলেটে বন্যায় ২২ জনের মৃত্যু

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলাই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বিভাগের চার জেলার কয়েক লাখ মানুষ। বানের পানিতে ডুবে এবং ভেসে গিয়ে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগের ২২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ৩টায় বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক হিমাংশু লাল রায়।

তিনি জানান, বিভাগে পানির প্রবল স্রোতে পড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‌‘সিলেটের জৈন্তাপুরে মা-ছেলের মৃত্যুসহ এ পর্যন্ত বিভাগে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ১৪ জন, মৌলভীবাজারে তিন ও সুনামগঞ্জে পাঁচ জনের প্রাণহানি হয়েছে।’ এদিকে পাহাড়ি ঢল আর বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিলেট বিভাগ। তার ওপর সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া উজানের পানি নামতে শুরু করায় সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার নিচু এলাকায় পানি বেড়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

নতুন আরো তিন রুটে চালু হচ্ছে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’

বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হচ্ছে নতুন আরও তিনটি রুট। ২২, ২৩ এবং ২৬ নম্বর এই রুটগুলোতে নতুন বাস দিয়ে যাত্রা শুরু হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুন) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ২৩তম সভা শেষে এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
তিনি বলেন, বাস-বে, যাত্রী ছাউনিসহ সব অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে এ সময়ের মধ্যে। এছাড়া নগর পরিবহনের আওতায় যেসব বাস চলবে তারা আবেদন করেছে। এসব রুটে বাসগুলো চলাচলের জন্য ২২ নম্বর রুটে ৫০টি নতুন বাস আবেদন, ২৩ নম্বর রুটে ১০০টি আবেদন পড়েছে। অন্যদিকে ২৬ নম্বর রুটে বিআরটিসির নতুন ৫০টি ডাবল ডেকার বাস পরিচালনা করা হবে। সব মিলিয়ে নতুন এই তিন রুটে সব নতুন বাস দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, নতুন চালু হতে যাওয়া ২২ নম্বর রুটটি হলো ঘাটারচর থেকে বছিলা, মোহাম্মদপুর টাউন হল, আসাদগেট, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, কাকরাইল, ফকিরাপুল, মতিঝিল, টিকাটুলি, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কোনাপাড়া হয়ে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত।
অন্যদিকে ২৩ নম্বর রুট হচ্ছে ঘাটারচর থেকে বছিলা, মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, কলাবাগান, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, মৎস্যভবন, প্রেস ক্লাব, গুলিস্তান, দৈনিক বাংলা, কমলাপুর, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়ের বাগ, মাতুয়াইল, সাইনবোর্ড, চিটাগাং রোড পর্যন্ত।
২৬ নম্বর রুট হলো ঘাটারচর থেকে বছিলা, মোহাম্মদপুর টাউন হল, আসাদগেট, কলাবাগান, সায়েন্সল্যাব, নিউ মার্কেট, আজিমপুর, পলাশী মোড়, চাঁনখারপুল, পোস্তগোলা হয়ে কদমতলী পর্যন্ত।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক রুটভিত্তিক কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ২০১৫ সালে। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি ১১টি সভা করেছেন। এরপর নতুন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস কমিটির দায়িত্ব পান।

ভারতে অভিনেত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ভারতের বিনোদন জগতে একের পর এক দুঃসংবাদ শোনা যাচ্ছে। কিছু দিন আগেই পল্লবী থেকে বিদিশা একাধিক অভিনেত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই ঘটনা ঘটল। ভুবনেশ্বরে বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হলো ২৩ বছর বয়সী  অভিনেত্রী ওড়িয়া রশ্মিরেখা ওঝার লাশ। তিনি ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রাশমিরেখার ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে আত্মহত্যা করেছেন অভিনেত্রী। একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাতে লেখা রয়েছে- ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’

আরো জানা গেছে, রাশমিরেখা সন্তোষ নামে একজনের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। তার বাবার অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর পেছনে লিভ-ইন পার্টনার সন্তোষের হাত রয়েছে। এরই মধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রাশমিরেখার বাবা বলেন, ‘শনিবার আমরা রাশমিরেখাকে বারবার ফোন করি কিন্তু ও ফোন ধরেনি। পরে সন্তোষ আমাদের মৃত্যুর খবর দেয়। আমরা বাড়ির মালিকের কাছ থেকে জেনেছি, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওরা ভাড়া থাকত। এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণাই নেই।’

করের ৮৩ লাখ টাকা জমা ড. কামালের

কর আপিলেট ট্রাইব্যুনালে ৮৩ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন।

মঙ্গলবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে হাইকোর্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা ছয় কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৫ টাকা ট্যাক্সের মধ্যে ১০ শতাংশ পরিশোধ করতে বলেছিল। সে নির্দেশনা অনুযায়ী এ টাকা জমা দেয়া হয়।

ড. কামালের আইনজীবী ব্যারিস্টার রমজান আলী শিকদার টাকা জমার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী ৮৩ লাখ টাকা আমরা জমা দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট আমাদের রিটের শুনানি নিয়ে স্টাটাস কো (স্থিতিবস্থা) জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি রুল জারি করেছে। ৮৩ লাখ টাকা আমরা আগেই জমা দেয়া আছে। গতকাল আরও ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী যে টাকা পরিশোধ করে আপিল করতে হয়, আমরা তার সম্পূর্ণ পরিশোধ করলাম। এখন আর কোনো পাওনা থাকলো না।’

এক প্রশ্নে কামাল হোসেনের আইনজীবী বলেন, ‘আপনারা যে একে ফাঁকি দেয়া কর বলছেন, সেটি সঠিক নয়। কর তো নির্ধারণই হয়নি। এ জন্যই তো রিট।’

গত ১৪ জুন কর ফাঁকির বিষয়ে আপিলেট ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয় হাইকোর্টের ভিন্ন একটি বেঞ্চ। এরপর বিষয়টি নিয়ে আরেকটি বেঞ্চে যান তিনি। যেখানে আজকে আদেশের জন্য রয়েছে।

কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক কোটি চার লাখ তিন হাজার ৪৯৫ টাকা আয়কর রিটার্ন জমা দেয়। কিন্তু ওই অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তার নামে ২০ কোটি ১১ লাখ চার হাজার ২১৯ টাকার সম্পদ দেখিয়ে ছয় কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৫ টাকা আয়কর এবং আরও ৮৭ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৪ টাকা সুদ দাবি করে।

২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বরে রাজস্ব বোর্ডের এক ডেপুটি কমিশনার ওই আদেশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট যুগ্ম কমিশনারের কাছে আপিল করেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিক ড. কামাল হোসেন। ওই আপিল শুনানি শেষে ২০২০ সালের ২৫ জুন তা খারিজ করে আদেশ দেয়া হয়।

ছয় কোটি টাকা কর ফাঁকির বিষয়ে ট্যাকসেস আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করে ড. কামাল হোসেন অ্যাসোসিয়েটস।