দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে সরকার: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অত্যন্ত দুঃখনজনক যে, আজকে দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে নির্মমভাবে ধ্বংস করেছে। দেশে মানুষের বাক স্বাধীনতা নেই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই ও গণতন্ত্র নেই। দেশে ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

রোববার সকালে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদেরকে এসব কথা বলেন তিনি। ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দলের সিনিয়র ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়ার কবর প্রাঙ্গণে আসেন বিএনপি মহাসচিব সহ সিনিয়র নেতারা। পরে তারা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতিহা পাঠ করেন। এ সময় জিয়া পরিবার ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা এবং করোনার হাত থেকে রক্ষার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন আজকে তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করেছে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এভাবে দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এদিন আমরা দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা পেয়েছিলাম।

সাংবাদিকদেরকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যেভাবে আমরা একাত্তরের একটি চেতনা ও আকাঙক্ষাকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। সেভাবেই ৭ নভেম্বর আমাদের সিপাহী জনতা সংহতি প্রকাশ করেছিল। এরপরই দেশে গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এ মতাবস্থায় আজকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমরা শপথ নিয়েছি যে, সব নেতাকর্মী ও সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারকে হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন কায়েম করা হবে।

 

বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, আমিনুল হক, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, নূরুল ইসলাম নয়ন, ওলামা দলের মাওলানা শাহ মো: নেছারুল হক, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহাতাব, মো. আবদুর রহিম, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মো: মজিবুর রহমান, জাসাসের হেলাল খান, জাকির হোসেন রোকন, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।

এদিকে ঢাকা জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় অন্যদের মধ্যে ঢাকা জেলা বিএনপির ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, খন্দকার আবু আশফাক, ড্যাবের অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মো. আবদুস সালাম, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাসভাড়া ঢাকায় ৭০ ও চট্টগ্রামে ৮০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব বিআরটিএ’র

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে যথাক্রমে ৭০ ও ৮০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লা রুটে চলাচলকারী ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া (ঢাকা মহানগর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছাড়া) কিলোমিটারে ৫৮ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণে রোববার পরিবহন মালিক ও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের বৈঠকে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তবে পরিবহন মালিকরা মহানগরীতে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৩ টাকা ৪০ পয়সা করার দাবি জানিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

এদিন সকাল সাড়ে ১১টার পর রাজধানীর মহাখালীতে বিআরটিএ ভবনে বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার। পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বৈঠকে উপস্থিত আছেন।

বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে যথাক্রমে ১ টাকা ৭০ পয়সা ও ১ টাকা ৬০ পয়সা। বিআরটিএ’র প্রস্তাব অনুযায়ী ভাড়া যথাক্রমে ৭০ ও ৮০ পয়সা করে বাড়ানো হলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ বাসভাড়া বেড়ে হবে ২ টাকা ৪০ পয়সা।

অন্যদিকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লা রুটে চলাচলকারী ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া বর্তমানে ১ টাকা ৪২ পয়সা। প্রস্তাব অনুযায়ী ৫৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হলে তা বেড়ে ২ টাকায় দাঁড়াবে।

দেশের বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ডাকে দেশজুড়ে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। এ অবস্থায় রোববার ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাস মালিকেরা।

করোনা আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে এসেছে-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, এখনও দেশে করোনা আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। করোনা আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে এসেছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে টিকার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।

শনিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা গড়পাড়া শুভ্র সেন্টারে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সভা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা নিয়ন্ত্রন না হলে দেশের অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে যাবে, লেখাপড়া, স্বাস্থ্যসেবাসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের দেশে করোনায় মৃত্যুর হার অনেক দিন ধরেই সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এসেছে। আমেরিকা দুই হাজার, রাশিয়া ১২ থেকে ১৩০০, ইউরোপে চার থেকে পাঁচশ ও ভারত দুই থেকে ৩০০ জন প্রতিদিন করোনায় মারা যাচ্ছেন। আমাদের এখন টিকা নেওয়ার পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তা হলেই একদিন আমাদের দেশে করোনা শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে।’

যারা এখনো টিকা নেননি তাদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্যই টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন থাকুক বা না থাকুক ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে টিকা কেন্দ্রে গেলেই টিকা নেওয়া যাবে। যাদের ভোটার আইডি কার্ড নেই তারাও টিকা নিতে পারবেন।’

ইউপি নির্বাচন নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করা মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাথে বিরোধিতা করা। এই বিরোধিতাকারীদের বরদাস্ত করা হবে না। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে।’ ইউপি নির্বাচনে প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদেব সাহা, সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিনসহ প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডেকে ঘণ্টাখানেকের মাথায় স্থগিত

চলমান পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সংকট নিরসনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তা স্থগিত করা হলো।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফ মাহমুদ অপু বৈঠক স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আবার এই সভা কখন হবে বা আদৌ হবে কি-না সে ব্যাপারে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে ডাকা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্ব করার কথা ছিল।

বলা হয়েছিল, সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ছাড়াও সংশ্লিষ্ট অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেবেন। এই সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছিলেন এক কর্মকর্তা।

ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করার পর গত শুক্রবার থেকে অঘোষিত ধর্মঘটে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

আজ দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ট্রাক শ্রমিক-মালিক ফেডারেশন জানিয়েছে, ডিজেলের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার অথবা পরিবহনের ভাড়া না বাড়ানো পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

ফেডারেশনের অতিরিক্ত মহাসচিব আবদুল মোতালেব সাংবাদিকদের বলেছেন, দাবি মানা হলেই কেবল ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে। হয় বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে, নয়তো ভাড়া বাড়াতে হবে। দুটির একটি না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাক শ্রমিক-মালিক ফেডারেশনের নেতারা।

এদিকে পরিবহন মালিকদের দাবিতে ভাড়া বাড়ালেও তা যেন জনগণের জন্য সহনীয় হয়, সরকার সেদিকে দৃষ্টি রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিজনিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি পাচার রোধে সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে। তবে এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকার সবসময়ই জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

দ্বিতীয় দিনের মতো পরিবহন বন্ধে ভোগান্তিতে মানুষ

যাত্রীবাহী যান চলাচল দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ থাকায় শনিবার সকালে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বাস না পেয়ে অফিসগামী যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, লেগুনা চলাচল করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এ সুযোগে এসব যানবাহনে নেওয়া হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায়ই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান, কাভার্ডভ্যানে চড়েও যাচ্ছেন কর্মস্থল ও গন্তব্যে।

হান্নান নামে বেসরকারি এক চাকরিজীবী গুলশান থেকে যাবেন মহাখালীতে। কিন্তু কোনো বাস না পেয়ে হেঁটে রওনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো বাস পাইনি। আবার সিএনজির ভাড়া চাচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। তাই হেঁটেই রওনা দিয়েছি।

গার্মেন্টসে চাকরি করেন পলাশ। ভাড়া বেশি চাওয়ায় কোনো গাড়িতে না গিয়ে কয়েকজন মিলে ভ্যানে করে তিনি বাড্ডা থেকে যাচ্ছেন উত্তরা। তিনি বলেন, বেশি দেরি হয়ে গেলে বেতন কাটা যাবে। তাই উপায় না দেখে কয়েকজন মিলে ভ্যান ভাড়া করে যাচ্ছি।

বুধবার মধ্যরাত থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। এরপরই শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে পরিবহন মালিকরা তেলের দাম কমানো বা ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন।

অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের প্রথম দিনে শুক্রবার কার্যত অচল হয়ে পড়ে দেশ। ঘর থেকে যারা বের হয়েছেন, তারা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন। পথে পথে ছিল দুর্ভোগ। শিশু ও বয়স্কদের পড়তে হয় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়। ভর্তি ও চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা পড়েছেন আরও বিপাকে। কয়েক গুণ ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে তারা কেন্দ্রে পৌঁছেন।

বুধবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়। লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা আসে। রাতেই তা কার্যকর হয়। এর ফলে ডিজেল ও কেরোসিন তেলের নতুন দর হয় প্রতি লিটার ৮০ টাকা; যা এতদিন ছিল ৬৫ টাকা।

ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ট্রাক, বাসসহ পরিবহনের জ্বালানি হিসেবেই ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ট্রাক ভাড়া বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাবে। দাম বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের। চাপ পড়বে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।

সিয়েরা লিওনে তেল ট্যাংকার বিস্ফোরণ, নিহত ৯১

ফ্রি টাউন শহরের ওয়েলিংটন অঞ্চলের চোইথ্রাম সুপারমার্কেটের কাছে একটি সড়কে রাত ১০টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে। সিয়েরা লিওনের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান ব্রিমা বুরেহ সেসাই এ ঘটনাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত ট্যাংকারের আশপাশের রাস্তায় ছিন্নভিন্ন মরদেহ পড়ে আছে।

ফ্রি টাউনের মেয়র ইয়েভননে হাকি সাভায়ের জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ‘মর্মান্তিক’ ফুটেজ দেখেছেন তিনি। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাভায়ের আরও জানান, এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। তবে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। সিয়েরা লিওনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন একটি মর্গের ব্যবস্থাপক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ঘটনার পর এখন পর্যন্ত তাঁদের কাছে ৯১টি মৃতদেহ পৌঁছেছে।

ফ্রি টাউন শহরে ১০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি গুরুতর ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এ শহর। গত মার্চে শহরের একটি বস্তিতে আগুন লেগে ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়। বাস্তুচ্যুত হয় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। ২০১৭ সালে ভারী বর্ষণের পর সৃষ্ট ভূমিধসে এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। ঘরহারা হয় প্রায় তিন হাজার মানুষ।

ভাড়া বাড়ানোর দাবীতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা

সাধারণ লঞ্চমালিকদের সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মাহাবুব উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গতকাল আমরা চিঠি দিয়ে পরিষ্কার বলে দিয়েছি, ভাড়া বাড়াতে। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিয়ে আমাকে বলেছিলেন দুপুর ১২টার মধ্যে জানাবেন। কিন্তু তিনি কোনো খবর নেননি, একটা ফোন পর্যন্ত করেননি। আমার সঙ্গে এখানে লঞ্চমালিকেরা বলছেন, তাঁদের তেল কেনার টাকা নেই। এই অবস্থায় আমরা কেউই লঞ্চ চালাতে পারব না।’

মাহাবুব উদ্দিন আরও বলেন, লঞ্চ চলাচলের বিষয়ে কারও ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের দাবি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। ভাড়া বৃদ্ধিসহ এগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মালিকেরা লঞ্চ চালাবেন না।

গতকাল শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা থেকে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের কাছে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবের চিঠি পাঠানো হয়।

অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাহবুব উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ৩ নভেম্বর সরকার হঠাৎ করে জ্বালানি তেল তথা ডিজেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় এবং ওই দিন রাত ১২টা থেকে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে নৌযান পরিচালনা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। সংগত কারণে সারা দেশে লঞ্চমালিকেরা যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধি করার জন্য সংস্থাকে অনুরোধ করেন। অন্যথায় জাহাজ পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৫ টাকা এবং এরই মধ্যে স্টিল ও অন্যান্য পণ্যের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, তাই ব্যবসায় টিকে থাকার লক্ষ্যে লঞ্চ ভাড়া ১০০ কিমি পর্যন্ত ১ টাকা ৭০ পয়সার পরিবর্তে ৩ টাকা ৪০ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে ১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ। স্টিলের দাম বেড়েছে ২০-২৫ শতাংশ। এসব কিছু মিলিয়ে আমরা শতভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছি।’

চিঠিতে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানকে আজ দুপুরের মধ্যে ভাড়া বৃদ্ধি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জানাতে বলা হয়েছে।

জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদ

পার্টি পুনর্গঠনে বিদিশা এরশাদকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট পার্ক বারিধারায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পার্টির মুখপাত্র নীলফামারী ১ আসনের সাবেক এমপি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী এই ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, পার্টিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে গত ৩১ অক্টোবর পার্টির স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ গুরুতর অসুস্থ থাকায় পার্টির কার্যক্রমকে বেগবান করার জন্য পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাতীয় পার্টির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বিদিশা এরশাদ এবং দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি এ সময় দেশবাসীকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্টির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট কাজী রুবায়েত হাসান, যুগ্ম মহাসচিব মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিকদার আনিসুর রহমান, এডভোকেট শোয়েব আহমেদ, কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত শাহজাহান সিরাজ, অ্যাডভোকেট এম এ ওয়াদুদ দিদার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাফিজ মাহবুব, কেন্দ্রীয় সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিয়াউল হক সরকার, শেখ রুনা, জুলিয়া আক্তার মীরা প্রমূখ।

সভায় বেগম রওশন এরশাদ এমপির আশু রোগমুক্তি কামনা করা হয়। সভার শুরুতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিদিশা এরশাদ বলেন, সম্প্রতি তিনি সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সফরে গিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীর ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন এবং সারা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তাকে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন । তিনি নেতাকর্মীদের আহ্বানের প্রতি সম্মান জানিয়ে শীঘ্রই বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা ও সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট ভুক্ত হয়ে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিদিশা এরশাদ আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। এরিক এরশাদ, কাজী মামুন ও আমি ম্যাডাম রওশন এরশাদকে সিএমএম হসপিটালে দেখতে গিয়েছিলাম। আপাকে আমি কথা দিয়ে এসেছি পল্লীবন্ধু ও উনি যেভাবে জাতীয় পার্টিকে ভালোবাসতেন আমিও ঠিক সেই ভাবেই জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া মাধ্যমে সারা দেশে কাজ করবো।

দেশ গড়ার লক্ষ্যে স্বাধীনতার স্বপক্ষের দলগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্লাটফর্ম তৈরি করতে চাই এবং সেই লক্ষ্যে আমি ডাক দিতে চাই ছোট-বড় সমস্ত বিরোধী দলগুলোকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাড়ছে সংক্রমণ, ফের লকডাউন চীনে

করোনার আঁতুরঘর চীনে আবারও বাড়তে শুরু করেছে করোনার সংক্রমণ। ডেল্টা স্ট্রেনের এই সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ফের লকডাউন দেওয়া হয়েছে দেশটির ইজিন কাউন্টিতে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (২৫ অক্টোবর) চীনে ৩৮ জন সংক্রমিত হয়েছেন। অন্যান্য দেশের তুলনায় এই সংক্রমণ নেহায়েত কম। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে এবার একটু বেশিই কঠোর হচ্ছে দেশটির সরকার।

ইজিন কাউন্টি চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। নতুন করে সংক্রমণের জেরে এখানকার ৩৫ হাজার ৭০০ জন বাসিন্দাকে গৃহবন্দি করেছে সরকার। সেখানে কেউ ঘরের বাইরে বেরুলেই আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হবে। কেউ সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে সেটাকে সামাজিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সংক্রমণের কারণে ইজিনকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে চীন সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটিতে গত সপ্তাহে যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তার এক-তৃতীয়াংশই ছড়িয়েছে ইজিন থেকে। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কমিশন।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্তা উ লিয়ানগিউ জানান, নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে রাজধানী বেইজিংয়েও। দেশের সংক্রমিত অঞ্চল থেকে কোনো ব্যক্তিকে বেইজিংয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কেবল করোনা নেগেটিভ সনদ থাকলেই রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে করোনা একেবারে নিস্তেজ হয়ে এলেও চীন এ ব্যাপারে অবশ্য জিরো টলারেন্স পলিসি নিয়েছে। দেশটির ৭৬ শতাংশ বাসিন্দার টিকা নিশ্চিত করেছে সরকার। ৩ থেকে ১১ বছরের বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাঁচটি প্রদেশ। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

নয়াপল্টনে কার্যালয় ঘেরাও, বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সরকারের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ব্যর্থতার প্রতিবাদে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সমানের রাস্তায় দলটির নেতাকর্মীদের ‘শান্তি শোভাযাত্রা’ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।

আজ সকাল থেকে এ মিছিলে অংশ নিতে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতাকর্মীরা।

এদিকে বিএনপির এ কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কাছেই দেখা যায় পুলিশের সাঁজোয়া যান। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাঁধা ও তাদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা।

বিএনপি নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এসময় জড়ো হওয়া নেতাকর্মীরা ‘এক হও লড়াই করো’ ‘জিয়ার সৈনিক হও, এক হও’ ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’- ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুলিশ সেখান থেকে দুই ডজনের বেশি নেতা-কর্মীকে আটক করে নিয়ে গেছে বলে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশ এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।

কার্যালয়ের সামনে পিকআপ ভ্যানে অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, সকাল থেকে পুলিশ বিএনপি কার্যালয় ঘিরে রেখেছে। সকাল থেকে পুলিশ আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। অনেকের ওপর হামলা করেছে। মিছিল শেষ হওয়ার আগেই তাদের মুক্তি দিতে হবে।

বিএনপির এ প্রতিবাদ মিছিল নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর-পল্টন হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির মিছিলকে কেন্দ্র করে ফকিরাপুল ও নয়াপল্টন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।