পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: আঘাতের চিহ্নের উল্লেখ নেই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে তাজুল ইসলামকে (৫৫) আটকের পর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠলেও, তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ  এ তথ্য জানিয়েছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মাদকসেবী তাজুল ইসলামের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এবং তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজিবুল ইসলাম মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ফরেনসিক বিভাগ থেকে তাজুলের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

আবু মারুফ হোসেন বলেন, ‘পুলিশি নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়নি। এটা প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানেন এবং তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু কিছু লোক মৃত্যুর ঘটনাকে পুলিশের নির্যাতনের গুজব চালিয়ে থানা ঘেরাও করে হামলা ও ভাঙচুর করেছে।’

স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় হারাগাছ পৌর এলাকার নতুন বাজার বছি বানিয়ার তেপথি মোড়ে অভিযানে যায় হারাগাছ থানা পুলিশ। সেখানে তাজুল ইসলামকে মাদকসহ আটকের পর মারধর করে পুলিশ। পুলিশের মারধরে তিনি জ্ঞান হারান। পরে সেখানেই তিনি মারা যান।

তবে, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় সোমবার রাতেই হারাগাছ থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেন নিহতের ভাই।

বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল ও আদেশ দেন।

আদেশে তাজুল ইসলামকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত ৪ সদস্যের কমিটিকে প্রতিবেদন এবং মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অপমৃত্যুর মামলার অনুলিপি আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কার্বন সংগ্রহে বেলুন আবিষ্কার ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের

কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণের জন্য অভিনব এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে ইসরায়েলের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা এমন বেলুন আবিষ্কার করেছে, যা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তর থেকে কার্বন ডাই–অক্সাইড ধারণ করে ভূপৃষ্ঠে নিয়ে আসতে সক্ষম। এরপর এই কার্বন ডাই–অক্সাইডকে রিসাইকেল করা হবে। খবর রয়টার্সের।

ইসরায়েলি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান হাই হোপস ল্যাবস-এর দাবি, তাদের তৈরি বেলুন অপেক্ষাকৃত কম খরচে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তর থেকে কার্বন ডাই–অক্সাইড ধারণ করতে পারবে।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাদাভ ম্যানসডোর্ফ বলেন, চমৎকার বিষয় হলো, প্রায় ঘনীভূত গ্যাসকে ধারণ করাটা অনেক বেশি সহজ।

নাদাভ আরও বলেন, ‘মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কার্বন জমতে থাকে। আমাদের মাথা থেকে ৯ মাইল ওপরেই কেবল এমন তাপমাত্রায় কার্বনকে পাওয়া যায়।

নাদাভ জানান, তার প্রতিষ্ঠান ছোট পরিসরে তাদের আবিষ্কৃত পদ্ধতিটির পরীক্ষা চালিয়েছে। গ্যাসভর্তি বেলুনের সঙ্গে একটি বাক্স (কার্বন ধারণ যন্ত্র) যুক্ত করে তা তারা বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরপর তা বায়ুমণ্ডল থেকে হিমায়িত কার্বন আলাদা করে পৃথিবীতে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। আর এই কার্বন রিসাইকেল করা যায়।

হাই হোপস ল্যাবস আশা করেন, দুই বছরের মধ্যে তারা বড় আকারের বেলুন তৈরি করতে পারবে। আর তা তৈরি করা গেলে দিনে প্রতিটি বেলুন এক টন করে কার্বন শোষণ করতে পারবে। এতে খরচ পড়বে ১০০ ডলারের কম।

ইউরোপ আবারও মহামারির কেন্দ্র হতে পারে, বলছে ডব্লিউএইচও

ইউরোপ আবারও করোনাভাইরাস মহামারির কেন্দ্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ইউরোপজুড়ে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এমন আশঙ্কা করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর ইউরোপবিষয়ক প্রধান হ্যান্স ক্লুজ বলেন, আসন্ন ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইউরোপে আরও ৫০ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

এই সংকটে জন্য অপর্যাপ্ত টিকা গ্রহণকে দায়ী করেছেন হ্যান্স ক্লুজ। তিনি বলেন, কসংক্রমণ রোধে আমাদের অবশ্যই কৌশল পরিবর্তন করতে হবে।

বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপজুড়ে টিকা দেওয়ার হারে গতি কমেছে। অবশ্য স্পেনের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স ও জার্মানিতে এ সংখ্যা যথাক্রমে ৬৮ ও ৬৬ শতাংশ। মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশে এ হার এখনো অনেক কম।

ডব্লিউএইচওর কারিগরি দলের প্রধান মারিয়া ভ্যান কার্কখোভ বলেন, গত চার সপ্তাহে ইউরোপজুড়ে ৫৫ শতাংশ সংক্রমণ বেড়েছে। পর্যাপ্ত টিকা ও করোনাভাইরাসের চিকিৎসাসামগ্রী থাকা সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান ওবায়দুল কাদেরের

জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার ঢাকায় নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা আজ থেকে পরিবহন ধর্মঘটের যে ডাক দিয়েছেন, তাতে পরীক্ষার্থী এবং জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী ৭ নভেম্বর  রবিবার বিআরটিএ’র ভাড়া পুনঃনির্ধারণ কমিটির বৈঠক হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলাপ আলোচনা করে বাস্তবভিত্তিক মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যম জনগণের উপর বাড়তি চাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।’

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সেতু ও মুক্তারপুর সেতুর টোলও বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধির কারণে অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেণিবিন্যাস এবং টোলহার বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুতে সর্বশেষ ২০১১ সালে টোলহার বাড়ানো হয়েছিল, আর ২০০৮ সালে মুক্তারপুর সেতু চালু হবার পর এই প্রথম সেখানে টোলহার বাড়ানো হল।

বাস্তবভিত্তিক ও যৌক্তিক হারে টোল বৃদ্ধির বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান সেতুমন্ত্রী।

 

গণপরিবহন বন্ধ, বিপাকে সাধারণ মানুষ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে সারা দেশে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন মালিকরা। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশেই সাধারণ মানুষকে পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। রাজধানীতে অটোরিকশা, রিকশা ও বাইকের ভাড়া তিন গুণ হয়ে গেছে। ১০০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে।

 

একদিকে, শুক্রবার রাজধানীতে সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির বাণিজ্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছুটির দিন হলেও আজ রাজধানীতে রয়েছে যাত্রীর চাপ। অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ট্রাক-বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘটের কারণে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে নগরীতে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন।

 

রাজধানীর নতুনবাজারে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা এক যাত্রী জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। শুক্রবার সরকারি বন্ধ থাকলেও তার অফিস খোলা থাকে। তিনি অফিস করতে যাবেন, কিন্তু গণপরিবহন নেই। এদিকে সড়কে চলমান অটোরিকশা থাকলেও চওড়া ভাড়া হাঁকাচ্ছেন।

 

তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহন বন্ধ। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যেও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা সুযোগ নিতে শুরু করেছে। ২০০ টাকার ভাড়া চাইছে ৫০০ টাকা। বিপদে পড়েছি। তাই রিকশা যোগে ভেঙে ভেঙে পল্টনে যাচ্ছি।

 

আরেক যাত্রী জানান, তিনি অটোরিকশা খুঁজছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তিনি অটোরিকশা পাননি। বাস না থাকায় অটোরিকশা চালকদের ডিমান্ড বেড়ে গেছে। তারা অনেক বেশি ভাড়া চাইছে। বুধবার (০৩ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি গেজেটে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম।

বৃহস্পতিবার থেকে ‘চাকা ঘুরবে না’ বাস-ট্রাকের

বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে এবং ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন পরিবহন মালিকরা। আগামী রবিবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। এর আগ পর্যন্ত বাস-ট্রাকের চাকা ঘুরবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়  আলাপকালে খন্দকার এনায়েত উল্যাহ এ কথা বলেন।

এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের কাছে খবর আসছে তারা পণ্যবাহী পরিবহনের পাশাপাশি যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছেন। কেন্দ্রও তাদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত।’

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা বিআরটিএর সঙ্গে আলাপ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিআরটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের সঙ্গে রবিবার আমাদের বৈঠক। তার আগ পর্যন্ত সব পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ থাকবে।’

এর আগে বুধবার রাতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১৫ টাকা হারে বাড়ানো হয়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব পণ্যবাহী পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করেন পরিবহন মালিকরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) চিঠি দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে একে একে যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধের ঘোষণা আসতে শুরু করে। আর এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

 

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শেষ

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবারের মতো পর্দা নামলো বাংলাদেশ দলের। টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম আসরের মূলপর্বে জয়হীন থাকলো টাইগাররা। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় হারেই শেষ হলো লাল-সবুজ জার্সিধারীদের আমিরাত বিশ্বকাপ।

আজ দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাজে শুরু করেন টাইগাররা। আসা-যাওয়ার মাঝে থাকা বাংলাদেশিদের কোনো ব্যাটসম্যানই দেখাতে পারেননি এতটুকুও আশা! বরং অপেশাদার, দায়িত্বহীন এবং বাজে শটের মহড়ায় টাইগাররা গড়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের চতুর্থ সর্বনিম্ন রান। দেশের হিসেবে সেটা এই সংস্করণের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। আগের সর্বনিম্ন ছিলো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭০ রান।

এদিন টাইগারদের ছোড়া ৭৪ রানের টার্গেট মাত্র ৬.২ ওভারেই পেরিয়ে যায় অজিরা। তাদের হারানো দুটি উইকেটের একটি নেন তাসকিন আহমেদ। তিনি ৩.২ ওভারে খরচ করেন ৩৬ রান। ডেভিড ওয়ার্নারকে ১৮ রানে ফেরান শরিফুল ইসলাম। বরাবরের মতো আসরে খরুচে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২ ওভারে তার বল থেকে ৩২ রান সংগ্রহ করেছেন অজি ব্যাটাররা।

তবে অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ২০ বলে ৪০ রানের ঝড়ে ৮২ বল থাকতেই জয়ের পথ সুগম করে রাখে অস্ট্রেলিয়া। শেষে ৫ বলে মিচেল মার্শের ১৬ রানে ৮ উইকেটের বড় জয় পায় অজিরা।

এর আগে, ব্যাটিংয়ে বাজে শুরু করেন টাইগাররা। শুরুর দিকে বাজে শটে ফিরেন সৌম্য সরকার এবং মুশফিকুর রহিম। মিচেল মার্শের দুর্দান্ত ইয়র্কার ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে বোল্ড হন লিটন দাস। পরে অস্ট্রেলিয়ান দীর্ঘদেহী এই পেসার নেন আরো একটি উইকেট। খরচ করেন ৪ ওভারে ২১ রান।

সবশেষে কোনোমতে ৭৪ রানের একটি টার্গেট ছুড়তে পারে বাংলাদেশ। যা বিশ্বকাপের যেকোনো দলের হয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন স্কোর। লিটন-সৌম্যদের ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হওয়ার দিনে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন অ্যাডাম জাম্পা। নিজের কোটার ওভার শেষে মাত্র ১৯ রান খরচে পেয়েছেন ৫টি উইকেট। অবশ্য তাসকিনের ক্যাচটি ম্যাথু ওয়েড মিস না করলে জাম্পা পেয়েও যেত হ্যাটট্রিকের দেখা। কিন্তু ইনিংসের সমাপ্তিটা টানা হলো তার হাতেই।

মোস্তাফিজকে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ বানানোর পর স্লিপে শরিফুলকে ক্যাচ বানান ফিঞ্চের। তাতেই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটের দেখা পেলো জাম্পা। ১৫ ওভারে অলআউট হওয়ার পথে টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেছেন শামিম হোসেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মোহাম্মদ নাঈমের। ১৮ বলে ১৬ রান করেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

অজিদের দুর্দান্ত জয়ের নায়ক বনেছেন স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। পয়েন্ট টেবিলেও দুর্দান্ত এগিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৪ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন টেবিলের দুইয়ে। সমান ম্যাচ ও হারে সমান পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ছেলের কান্ডে জীবিত মা মৃত

ঘটনাটির শুরু ১৯৮৭ সালে। ওই বছর বুকুন দেবীর ছেলে সুখদেও প্রসাদ পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে তাঁর মায়ের ডেথ সার্টিফিকেট বের করে। উদ্দেশ্য ছিল, বুকুন দেবীর ১৮ কাঠা জমি দখল করা। বুকুন দেবী জানান, তাঁর স্বামী ওই জায়গাটুকু তাঁকে রেজিস্ট্রির করে দিয়ে যান। কিন্তু পরে সেটি তাঁর ছেলে দখল করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। মায়ের জাল ডেথ সার্টিফিকেট বের করে বুকুন দেবীর ছেলে জায়গাটি দখল করে।

এর পর থেকে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে ৩৪ বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন ৫২ বছর বয়সী বৃদ্ধা বুকুন দেবী। ভারতের বিহার রাজ্যের বাসিন্দা তিনি।

দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫২ বছর বয়সী বৃদ্ধা বুকুন দেবী বিহারের ওয়েস্ট চাম্পারান জেলার বাসিন্দা। ১৯৮৭ সাল থেকেই সরকারি খাতায় মৃত বুকুন দেবী। যতবারই তিনি নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে গেছেন, ততবারই তাঁকে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে।

বুকুন দেবী জানান,  ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা তাঁকে দেখে বহুবার বলেছেন যে আবার এসেছে সেই মৃত নারী নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে।

 

বুকুন দেবী বলেন, `আমি যখনই স্থানীয় সরকারি অফিসে সমস্যা সমাধানের জন্য গেছি, তখনই আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আমাকে বলতেন, তুমি মৃত, বাড়ি যাও।’

বুকুন জানান, জীবিত প্রমাণ করার জন্য আঁধার কার্ড, ব্যাংক পাসবুকের সব গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট দেওয়া হয়েছে।  এর পরেও তাঁকে জীবিত মানতে নারাজ সরকারি কর্মকর্তারা।

বুকুনের আশা ছিল করোনার দুই ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সার্টিফিকেটের মাধ্যমে হয়তো তাঁর সমস্যার সমাধান হবে। গত জুলাইতে তিনি ওই সার্টিফিকেট পান। ওই সার্টিফিকেটও প্রত্যাখ্যান করেন কর্মকর্তারা। ওই সার্টিফিকেট গ্রামের কাউন্সিলর দ্বারাও সত্যায়িত ছিল।

এ প্রসঙ্গে বুকুন দেবী বলেন, `আমি কী করব? আমি অসহায়!’

ওয়েস্ট চামপারান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কুন্দান কুমার বলেন, `এটি খুব গুরুতর একটি ঘটনা। আমরা বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গভীর রহস্যে ভরা শাহরুখপুত্রের গ্রেপ্তার

 

সফল অভিনেতা শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের গ্রেপ্তার-রহস্য রুপালি পর্দার যেকোনো সিনেমাকে হার মানাতে বাধ্য। ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে প্রমোদতরি থেকে মাদককাণ্ডে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর থেকে ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত বাঁক খাচ্ছে, তাতে করে আরও বেশি রহস্যময় হয়ে উঠছে মামলাটি। নিম্ন আদালতে দু-দুবার জামিন খারিজের পর টানা তিন দিন শুনানির পর বোম্বে হাইকোর্ট আরিয়ানের জামিন মঞ্জুর করলেও ছাড়া পেতে সময় লেগে যায় আরও দুদিন। ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কর্তারা দাবি করেন, তাঁরা আরিয়ানের মাধ্যমেই নাগাল পেতে চান আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারিদের। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের প্রভাবশালী মন্ত্রী নবাব মালিকের সরাসরি অভিযোগ, অর্থ আদায়ই আরিয়ানকে গ্রেপ্তারের একমাত্র কারণ। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, বিজেপিই শাহরুখদের বিরুদ্ধে এনসিবিকে ব্যবহার করছে। ফলে সন্দেহের উপাদান রয়েছে পরতে পরতে।

এদিকে, এই মামলার অন্যতম সাক্ষী কিরণ গোসাভিকে গ্রেপ্তার করেছে পুনের পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁরই দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত প্রভাকর সইল। অভিযোগ করেন, ফোনে ২৫ কোটি রুপি ঘুষ নিয়ে গোসাভিকে স্যাম ডিসুজা নামের একজনের সঙ্গে তিনি কথা বলতে শুনেছেন। শেষে ১৮ কোটিতে তাঁদের রফা হয়। সেই ১৮ কোটির মধ্যে ৮ কোটি রুপি দেওয়ার কথা হয়েছিল সমীর ওয়াংখেড়েকে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন কিরণ গোসাভি ও সমীর ওয়াংখেড়। ঘুষের কথা বিবৃতি দিয়ে এনসিবিও অস্বীকার করেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। শাহরুখের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছে এনসিবি। অভিযোগ উঠেছে তাঁর ম্যানেজার পূজা দালানির বিরুদ্ধেও। পূজা নাকি ঘুষ দিয়ে মামলাকে প্রভাবিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শাহরুখ একটিবারের মতো প্রকাশ্যে এই মামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। পেছন থেকে শুধু মামলায় বাবার দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি মান্নতে বিনা পরোয়ানায় মাদক-কর্তারা প্রবেশ করলেও তাঁদের সহযোগিতা করেছেন বলিউডের এই সুপারস্টার। তাঁর স্ত্রী গৌরীকেও দেখা গেছে, নীরবে মায়ের স্নেহ আর কর্তব্য দিয়ে ছেলেকে বিপদ থেকে উদ্ধারের মানবিক ভূমিকায়।

অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অঙ্গ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় দাঁড়িয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা এনসিবি এবং রাজ্য সংস্থা পুলিশ আরিয়ান-কাণ্ড নিয়ে এমন লড়াই শুরু করেছে, বিষয়টি উদ্বেগের। শাহরুখপুত্রকে গ্রেপ্তারে নেতৃত্বে ছিলেন এনসিবির কর্তা সমীর ওয়াংখেড়। এখন গ্রেপ্তারের ভয়ে তিনি নিজেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই সমীরের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন আরেক সমীর, সমীর খানের শ্বশুর, রাজস্থানের মন্ত্রী নবাব মালিক। ওয়াংখেড়কে জেলে পাঠানোর প্রতিজ্ঞাও করেছেন তিনি। কারণ এনসিবির এই বিতর্কিত কর্তার জাত-ধর্ম নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। নবাবের অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াংখেড়ের জন্মের প্রশংসাপত্র ঠিক নেই। হিন্দু হয়েও মুসলিম ধর্মমতে তিনি নাকি বিয়ে করেছেন মুসলিম নারীকে। ঠিক তেমনি কর্মজীবনেও নাকি অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা ও মন্ত্রী নবাবের রাগের কারণ, কিছুদিন আগে তাঁর জামাতাকেও একই কারণে গ্রেপ্তার করেছিলেন ওয়াংখেড়। পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পান তিনি। শাহরুখপুত্রের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এনসিবি বিজেপি পরিচালিত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন সংস্থা। তাই এর পেছনে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন অনেকে। এমনিতে শাহরুখপুত্রের বিরুদ্ধে মাদক চোরাকারবারের গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি করেছেন ভারতের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহাতগি। তা ছাড়া, মাদকাসক্তির সঙ্গে মাদক চোরাকারবার মোটেই এক জিনিস নয়। আরিয়ান মাদকাসক্ত হয়ে থাকলে তাঁর চিকিৎসা প্রয়োজন, জেলে পাঠিয়ে তো তাঁকে সুস্থ করা যায় না। কিন্তু তাঁকে প্রায় তিন সপ্তাহ আটকে রাখা হয়। আরিয়ানের আইনজীবী মুকুল রোহাতগির মতে, বয়স বিবেচনা করে তাঁদের (আরিয়ানসহ ধৃতদের) রিহ্যাবে পাঠানো যেতে পারে। সামান্য পরিমাণ মাদক গ্রহণ করলে শাস্তির প্রশ্ন আসে না। তা ছাড়া, মাদক চোরাকারবারের কোনো প্রমাণই পেশ করতে পারেনি এনসিবি। শাহরুখপুত্রের গ্রেপ্তারিও ভারতের সংবিধানসম্মতভাবে হয়নি বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এনসিবির অধিকার নিয়েও। মাদক মামলার মূল তদন্তকারী নিজে গ্রেপ্তারের ভয় পাচ্ছেন। সাক্ষী পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ১৮ কোটি রুপি ঘুষের। সর্বোপরি, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী শিবসেনা নেতা উদ্ভব ঠাকরের অভিযোগ, তাঁদের রাজ্যের বদনাম করার চক্রান্ত। মহারাষ্ট্রে বিজেপির সঙ্গে জোট করে বিধানসভা ভোটে লড়লেও পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস ও এনসিপিকে নিয়ে সরকার গড়েছে শিবসেনা। তাই বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করারও অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে আঞ্চলিক দল বা বিরোধীদের ভয় দেখানোর অভিযোগও নতুন কিছু নয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অনেকেই একই অভিযোগে সোচ্চার। কিন্তু শাহরুখ খানের সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। এনসিপি, শিবসেনা বা কংগ্রেস জানিয়েছে, বিজেপি শাহরুখকে নিয়ে রাজনীতি করলেও তাঁদের কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই। তাঁরা শুধু বিজেপির ফ্যাসিস্ট আচরণের প্রতিবাদ করছেন।

অমিতাভ বচ্চনের পর মুম্বাই চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে সফল অভিনেতার নাম শাহরুখ খান। জনপ্রিয়তায় তাঁর ধারে-কাছে কেউ নেই। শাহরুখ মানেই সিনেমা হিট। প্রযোজকেরা কোটি কোটি টাকা লগ্নি করতে ভরসা পান শাহরুখকে পেলেই। তাঁর স্ত্রী গৌরী খান পাঞ্জাবি হিন্দু পরিবারে জন্মিয়েও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। শাহরুখের বিলাসবহুল আবাসন মান্নতে সব ধর্মের আরাধনা হয়। ঈদ বা দিওয়ালিতে মান্নত মেতে ওঠে আনন্দে। চলচ্চিত্র জগতে শাহরুখের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। কিন্তু তাঁদের বৈবাহিক জীবনে কখনো কোনো বিতর্ক দেখা দেয়নি। রাজনীতির থেকে অনেকটাই দূরে থাকেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক। এই মুসলিম অভিনেতার গায়ে কোনো কালির দাগ লাগাতে পারেনি কেউ। তাঁর সাফল্যে শুধু হিংসাই করে গিয়েছেন শাহরুখবিরোধীরা। বহুকাল ধরেই হিন্দি সিনেমায় খানদেরই রাজত্ব চলছে। দিলীপ কুমার-পরবর্তী সময়ে সালমান, আমির ও শাহরুখদের দাপটে অন্যরা কিছুটা হলেও পিছিয়ে পড়েছেন। আগের মতো কাপুরদের রমরমা নেই। এ অবস্থায় হিন্দুত্ববাদীরা অনেকেই চাইছেন বলিউডের দখল নিতে। কিন্তু তাঁদের বিকল্প মিলছে না সহজে। ভারতের আপামর জনসাধারণের মন জয় করে নিয়েছেন শাহরুখেরা। ভারতীয় বিনোদনে কোনো কালেই ধর্ম বাধা হয়নি সাফল্যের ক্ষেত্রে। কিন্তু হিন্দুত্ববাদীদের সেটা সহ্য হচ্ছে না। তাই শাহরুখ-বিরোধিতার চাপা স্রোত ছিলই। সেই স্রোতেই কি ডুবতে হলো আরিয়ানকে? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিশেষ করে মাদক মামলায় ঘটনাচক্রের অসংলগ্নতা এবং ঘটনাপ্রবাহ সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পরিস্থিতি ভালো না হলে ভোট বন্ধ, প্রার্থিতা বাতিল: সিইসি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ ১১ নভেম্বর। এই ভোটকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সহিংসতা বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া দিকনির্দেশনাতেও থামছে না। পরিস্থিতি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এ অবস্থায় আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। কোনো এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু মনে না হলে সেখানকার ভোট গ্রহণ বন্ধ এবং আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার মতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভোট নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে এক ঘণ্টাও বিলম্ব করে না ইসি। কোথাও কোনো সমস্যা হলে ইসিকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে সাংবিধানিক সংস্থাটি। সিইসি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা যদি মনে করে যে, সেই এলাকার নির্বাচনী পরিবেশ ভালো না, তাহলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার নির্বাচন বন্ধ করে দেব। যদি কোনো প্রার্থীর আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হয়, তাহলে তদন্ত করে সত্যতা পেলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা আমাদের আছে।

সভায় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সাহসী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান নুরুল হুদা। তাঁদের সাহস দিতে জেলা প্রশাসকদের পাশে থাকতে বলেছেন তিনি। কোনো রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে তাঁরা আইনের আওতায় আসবে এবং এই জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানিয়েছেন সিইসি।

কে এম নুরুল হুদা জানান, বর্তমানে নির্বাচনী পরিস্থিতি ভালো হয়েছে। আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা ও খুলনায় উত্তেজনা রয়েছে। তিনি বলেন, খুলনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ঢাকার ব্যাপারে সচেতন থাকবে। কোথায় কোথায় সমস্যা আছে সেগুলো চিহ্নিত করে তৎপর হওয়ার ব্যাপারেও মাঠ প্রশাসনকে অনুরোধ করেন সিইসি। পাশাপাশি তাদের মধ্যে অভূতপূর্ব সমন্বয় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর ফলে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে ইসি এমনটাই মনে করেন সিইসি।

একই সঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি দেখাতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ভোটাররা যেন সুন্দর পরিবেশে ভোট দিয়ে যেতে পারেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করার ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন তিনি। কেএম নুরুল হুদা বলেন, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে ভোটাররা যার যার ভোট দিয়ে চলে যাবেন এই রকম একটি পরিবেশ সৃষ্টি করবেন। নির্বাচন কমিশনের প্রায় সকল দায়িত্ব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অর্পিত থাকে। নির্বাচন কমিশনের হাতে প্রায় কিছুই থাকে না।

ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথের পরিচালনায় অনলাইন সভায় আরও নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (অব.), সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বিভাগীয় কমিশনার, উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।