টাঙ্গাইলের এক প্রবাসীর বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক প্রবাসীর বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকাল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কামতলা দক্ষিণপাড়া গ্রামের প্রবাসী জয়েন উদ্দীনের বাড়ি থেকে তার মা জামেলা বেগম (৫৬), স্ত্রী সুমী আক্তার (২৬) ও শাহজালাল (২৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ছুরি, রেঞ্জ ও হাঁতুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া মরদেহ উদ্ধার হওয়া বসতঘরের দেয়ালে দেখা যায় রক্ত দিয়ে লেখা কিছু কথা। সেখানে লেখা রয়েছে- ‘এমনটা হতো না যদি আমার সুমী আমার কাছে থাকতো, এই সবকিছুর জন্য সুমীর বাবা দায়ী’।

জয়েন উদ্দিনের চাচাতো ভাই চান মাহমুদ জানান, প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের স্ত্রী সুমী তার বৃদ্ধ শাশুড়ি ও সন্তান সাফীকে নিয়ে আলাদা এক বাড়িতে থাকতেন। শনিবার সকাল ৮টা বেজে গেলেও ওই বাড়ির কারো কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে খোঁজ নিতে যান তিনি। সেখানে গিয়ে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে বিকল্প অন্য একটি দরজা ভেঙে তিনিসহ তার অন্য এক চাচা সিলিং বেয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় সুমী ও শাহজালালের লাশ ও মেঝেতে জামেলা বেগমের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খাটের অন্যপাশে সুমীর ছেলে সাফীকে মাথা থেঁতলানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শিশু সাফীর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তার স্বজনরা।

জয়েন উদ্দিনের চাচা নজরুল ইসলাম ও মামা জামের আলী জানান, জয়েন উদ্দিনের বাবা হযরত আলী মারা গেছেন প্রায় ১৫ বছর আগে। জয়েন উদ্দিনরা দুই ভাই। ছোট ভাইয়ের নাম জয়নাল। দু’জনই সৌদি প্রবাসী। অপরদিকে একই গ্রামের সুমী শিশু বয়সে তার বাবা মাকে হারান। লালিত-পালিত হন একই গ্রামের জিন্নত আলীর কাছে। আট বছর আগে জয়েন দেশে এসে পারিবারিকভাবে বিয়ে করে সুমীকে। ৮ বছরের সংসার জীবনে চার বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে তাদের। প্রায় দেড় বছর আগে সুমীর ফুফাতো বোন সিজারীয়ান অপরেশনের জন্য কালিহাতী হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে যাওয়া আসার সুবাদে সুমীর পরিচয় হয় ওই হাসপাতালে ঝাড়ুদার শাহজালাল ওরফে সোহাগের সঙ্গে। এরপর শাহজালালের সঙ্গে সুমীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শাহজালাল কখনও ঝালমুড়ি বিক্রি, কখনও ঝাড়ুদারের কাজ আবার কখনও দিনমজুরের কাজ করতেন। তিনি কালিহাতী উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে। প্রেমের সম্পর্কের পাঁচ মাসের মাথায় স্বামী, সন্তান, সংসার সব রেখে শাহজালালকে বিয়ে করেন সুমী। সেখানে প্রায় চার মাস সংসার করেন। এরপর দেশে ফেরেন জয়েন উদ্দিন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সুমীকে পুরনায় ঘরে ফিরিয়ে তিনি। ছুটি শেষে মাস তিনেক আগে আবার সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। এরপর সুমীর আবারও যোগাযোগ হয় শাহজালালের সঙ্গে। শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় শাহজালাল আসেন সুমীর বাড়িতে। সুমী ও তার শাশুড়ির সঙ্গে লাশ হয়ে পড়ে থাকেন শাহজালালও।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল এর কোম্পানি কমান্ডার লে. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, স্থানীয়দের কাছে থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- পরকীয়া প্রেমের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, আলামত বলছে এটি অবশ্যই হত্যাকাণ্ড। হত্যার রহস্য উম্মোচনের জন্য আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, সিআইডির ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, রেঞ্জ ও হাঁতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। দেয়ালে যেসব লেখা রয়েছে সেটি কার হাতের লেখা তা মিলিয়ে দেখা হবে। সর্বপরি সব আলামত সংগ্রহ করে বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হবে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঘাটাইল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা ইয়াসমিন, টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশের একটি টিম, সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা এবং ঘাটাইল দিগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন।

জেল থেকে বাবা–মায়ের কাছে আরিয়ান

গতকাল শুক্রবার থেকেই মান্নতে সাজ সাজ রব ছিল। কিন্তু জামিনসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় গতকাল আর্থার রোড জেল থেকে ছাড়া পাননি আরিয়ান।
আজ শনিবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে জেল থেকে মান্নতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন আরিয়ান। এক বিশাল কনভয় নিয়ে জেলে তাঁকে আনতে গিয়েছিলেন শাহরুখের দেহরক্ষী রবি।

গত ২৮ দিন ধরে দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা

গত ২৮ দিন ধরে দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা

সকাল থেকেই মান্নতের বাইরে অনুরাগীদের তুমুল উন্মাদনা। আটকের পর থেকেই গত ২৮ দিন ধরে দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা।

বাজনা বাজিয়ে, পটকা ফাটিয়ে, নেচে–গেয়ে আরিয়ানকে স্বাগত জানান শাহরুখ অনুরাগীরা।

তাঁরা উচ্চ স্বরে বলছিলেন, ‘উই লাভ শাহরুখ, উই লাভ আরিয়ান।’ মান্নতের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন সংবাদমাধ্যমগুলোর কর্মীরাও।

সকাল থেকেই মান্নতের বাইরে অনুরাগীদের তুমুল উন্মাদনা

সকাল থেকেই মান্নতের বাইরে অনুরাগীদের তুমুল উন্মাদনা

প্রথমে খবর ছিল আরিয়ানকে স্বাগত জানাতে একটি পাঁচতারা হোটেলে আছেন শাহরু

কিন্তু পরে জানা যায়, মান্নতেই আছেন শাহরুখ–গৌরী। তাঁদের অনেক আত্মীয়স্বজন মান্নতে উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, আরিয়ানের গলা জড়িয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন শাহরুখ-গৌরী।

বগুড়ায় মাটি খুঁড়লেই বের হচ্ছে ধোঁয়া, এলাকাবাসী আতঙ্কে

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন দিন ধরে বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে পায়ে অতিরিক্ত তাপ লাগে। এই তাপ লাগার কৌতূহল থেকে শুক্রবার সকাল ছয়টায় গ্রামের নয়ন, পিয়াল, শাহাদাৎ, তারেক, বরকত উল্লাহসহ কয়েকজন যুবক সেখানকার মাটি খুঁড়তে থাকেন। এক ফুট পরিমাণ মাটি খোঁড়ার পরপরই দেখা যায়, বের হচ্ছে ধোঁয়া। সেই ধোঁয়ার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। যতই তাঁরা খুঁড়ছেন, ততই ধোঁয়ার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এমন ঘটনা দেখতে দূর–দূরান্ত থেকে আসছে এলাকার শিশু, নারী, পুরুষসহ উৎসুক জনতা।

তিন দিন ধরে বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে পায়ে অতিরিক্ত তাপ লাগে। কারণ খুঁজতে আজ শুক্রবার সকালে গ্রামের কয়েকজন যুবক সেখানকার মাটি খুঁড়তে থাকেন।

এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ মনে করছে, সেখানে কোনো দাহ্য পদার্থ থাকতে পারে। আবার কেউ মনে করছে গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে বড় দুর্ঘটনা হতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্যামগাঁতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে মাটির রাস্তার এক পাশে গর্ত করা হয়েছে। গর্তের দুই-তিন ফুট এলাকা গরম হয়ে আছে। আর ওই গর্ত থেকে বের হচ্ছে ধোঁয়া। ঘটনাস্থলে ভিড় করছে এলাকার শত শত মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল আলম বলেন, ‘মাটি খোঁড়ার পর এখানে ম্যাচের কাঠিতে আগুন ধরিয়ে দেখেছি, গ্যাসের কোনো কিছু খুঁজে পাইনি। এদিকে ধোঁয়া বের হওয়া বন্ধ হচ্ছে না। এতে গ্রামের সবাই আতঙ্কে আছে।’

সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ : ফখরুল

আওয়ামী লীগের লোকেরা সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়ায় এবং টোল আদায় করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এখন আর ভালো খেতে পারে না। খায় কারা? আওয়ামী লীগের লোকেরা খায়। দেশের মানুষের এখন নাভিশ্বাস উঠেছে।’

আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

সে সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি বাজারে যান?’ সবাই হ্যাঁ জবাব দিলে, তিনি আবার প্রশ্ন করেন, ‘বাজারে কি আগুন দেখতে পান? চাল-ডাল-তেলের দাম কমছে না বাড়ছে? বাড়ছে বন্ধুগণ। ডিম, চিনি, কেরোসিন তেল, শশা কাঁচা বাজার, একটা জিনিসও আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। সাধারণ মানুষ এখন আর ভালো খেতে পারে না। খায় কারা, আওয়ামী লীগের লোকেরা খায়। তারা সিন্ডিকেট করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় আবার চাঁদা নেয়। উত্তরবঙ্গ থেকে যে সবজি আসে সেই ট্রাক থেকে পথে পথে টোল আদায় করে। দেশের মানুষের এখন নাভিশ্বাস উঠেছে। তাদের শ্বাস গলায় আটকে গেছে, আর পারে না। তারা এখন বার বার বলে আর কতদিন, আর কত অত্যাচার নির্যাতন আমরা সহ্য করবো।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একটা কথা বলেছেন যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এটা দেখতে চান। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, সবাই ভোট দিতে পারবে সেটা দেখতে চান। ভূতের মুখে রাম নাম। তিন তিনটা ইলেকশন ধ্বংস করলো, ভোটাধিকার পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে শরীয়তপুরের এমপি বলেছেন, আমি ঠিক করে দেব কে চেয়ারম্যান হবে কে মেম্বার হবে। অন্য কেউ দাঁড়াতে পারবে না। আমরা চিন্তাই করতে পারি না, ১৯৭১ সালে এই গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম। আজকে গণতন্ত্রকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়ে তারা একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করেছে। আজকে আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি নেতাদের দৌড়াত্মে কেউ আর থাকতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আজকে এই সরকার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারী করছে। হাজার হাজার কোটিপতি তৈরি হচ্ছে আর মানুষ দিন দিন গরীব হচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলেছি আমরা অবশ্যই নির্বাচন চাই। কিন্তু সেই নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তবেই এদেশে নির্বাচন হবে, অন্যথায় নির্বাচন হবে না।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী।

মসজিদ থেকে ফেরার পথে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

সরকারি দিঘি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে বাদশা প্রামাণিক ও সাহাবুল ইসলামের নেতৃত্বে দুটি পক্ষ গড়ে উঠেছে। গত এক যুগ ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে মখলেছুর রহমান (৫০) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আরেক হামলায় আহত হয়েছেন ছাকাত মন্ডল (৬৫) নামে অপর এক কৃষক। আজ শুক্রবার ভোরে নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে গ্রামের মসজিদ থেকে নামাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে সাহাবুল পক্ষের সমর্থক মখলেছুর রহমানের ওপর বাদশা প্রামাণিক পক্ষের লোকজন হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তারা ঈশ্বরপাড়া বাজারে গিয়ে একটি চায়ের দোকানে ছাকাত মন্ডলের ওপর হামলা করে। গুরুতর আহত মখলেছুর রহমান ও ছাকাত মন্ডলকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মখলেছুরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় পথেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ছাকাত মন্ডল বর্তমানে রাজশাহী মেডিেেকল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘প্রথমে বাদশা ও আক্কাস অতর্কিতভাবে তার স্বামীর ওপর হামলা করে। চাইনিজ কুড়াল দিয়ে পায়ে ও হাসুয়া দিয়ে পিঠে আঘাত করে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটায়।’

 

নিহতের ভাই মন্টু মন্ডল বলেন, ‘প্রতিপক্ষরা এর আগে তাদের লোকজনের হাত, পা কেটে নিয়ে পঙ্গু করেছে। প্রশাসন প্রতিপক্ষকে কঠোর শাস্তি না দিলে তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না।’

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ব্যাপারে লালপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

বাঁধ নির্মাণের এক বছরের মাথায় ধস, আতঙ্কে যমুনার তীরবর্তী মানুষ

জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের এক বছরের মাথায় ধস দেখা দিয়েছে। উপজেলার কুলকান্দি হার্ডপয়েন্ট থেকে গুঠাইল হার্ডপয়েন্টের মাঝামাঝি এলাকার অন্তত ৯০ মিটার বাঁধের সিসি ব্লগ নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে চরম আতঙ্কে রয়েছে যমুনার তীরবর্তী মানুষ। হুমকির মুখে পড়েছে, কুলকান্দি বাজার, শামছুন্নাহার উচ্চ বিদ্যালয়, দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মসজিদ, বসতবাড়িসহ কয়েক হাজার ফসলি জমি।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনার ভাঙন প্রতিরোধে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের ফুটানী বাজার থেকে সরিষাবাড়ি উপজেলার পিংনা পর্যন্ত তিনটি পয়েন্টের মধ্যে ইসলামপুরের কুলকান্দি হার্ডপয়েন্ট থেকে গুঠাইল হার্ডপয়েন্টের আড়াই হাজার মিটারের জন্য ৯০ কোটি টাকার ব্যায়ে যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প নামে একটি তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০২০ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হয়।

আজ শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত একবছর আগেই বাঁধের নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। হঠাৎ করে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাঁধ ভেঙে নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বলছেন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং শুক্রবার বিকাল থেকে ভাঙন রোধে বলি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে।

কুলকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান দুলাল  জানান, একটি শক্তিশালী বালু সিন্ডিকেটরা দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভাঙন রোধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান  বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না, আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, ‘যমুনা নদীতে নতুন চ্যানেল সৃষ্টি হওয়ায় তীর রক্ষা বাঁধের ৯০ মিটার অংশ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হবে।’

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে ‘কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থে গণ্ডগোল’ বাধিয়েছে – আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে ‘কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থে গণ্ডগোল’ বাধিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ কখনও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেবে না।

শুক্রবার বেলা ১১টায় আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ভারত সরকারের দেওয়া উপহারের দুইটি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর উপলক্ষে আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

আনিসুল হক বলেন, ‘ একটি কুচক্রী মহল তাদের নিজস্ব এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য গন্ডগোল লাগিয়েছিল। সেটি জনগণ গ্রহণ করেনি। পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি দুঃখিত, কিছু কিছু জায়গায় এ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এটা বাংলাদেশের সার্বিক চিত্র নয়।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং বাংলাদেশ জীবিত থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও জীবিত থাকবে। বাংলাদেশ কখনও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেবে না।’

অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের পর আইনমন্ত্রী ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় ভারতের প্রয়োজনে বাংলাদেশও পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে জনগণের কল্যাণের জন্য ভারত সামর্থ্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং আজীবন বন্ধু।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খানের সভাপতিত্বে ও আখাউড়া সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মো. সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মাসুদ বিন মোমেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার ও আখাউড়া পৌরসভার মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজ।

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ একরাম উল্লাহ, পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, সঙ্গীতা দুরাইস্বামী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোমানা আক্তার, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক মো. জয়নাল আবেদীন, কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওছার জীবন ও ঢাকার গুলশান অঞ্চলের সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ রমজান খান উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে এক দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে এক দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে উপজেলার কামাড়পাড়া ঘোষপাড়ায় বসত ঘর থেকে থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- দ্বিজগোপাল ঘোষের ছেলে গৌরাঙ্গ ষোঘ (২৫) ও তার স্ত্রী তমা রানী ঘোষ (২০)। খাটের ওপর ছিল তমার মৃতদেহ এবং মেঝেতে ছিল গৌরাঙ্গের মৃতদেহ।

এদিকে, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও আলামত সংগ্রহে সিআইডি পুলিশের একটি দল দুপুরে ঘটনাস্থলে এসেছে। বেলকুচি থানা পুলিশের প্রাথমিক ধারনা, দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে খুনের পর স্বামী নিজেই ছুরি দিয়ে নিজের শরীরের রগ কেটে আত্মহত্যা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন গৌরাঙ্গ ঘোষ। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দোকানে কাজ শেষে রাতে এসে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। সকালে পরিবারের লোকজন তাদের বারবার ডাকলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে দরজা ভেঙে দুজনের মৃতদেহ দেখা যায়। খাটের ওপর তমা এবং মেঝেতে গৌরাঙ্গের মৃতদেহ পড়ে ছিল।

বেলকুচি ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুলন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গৌরাঙ্গ ঘোষের হাতের শিরা কাটা থাকলেও তার স্ত্রীর শরীরে কোনো দাগ ছিলনা।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি আরো জানান, স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয় নিয়ে কিছুদিন থেকেই তাদের মধ্যে ঝামেলা ছিল। স্ত্রীকে প্রায়ই সন্দেহের চোখে দেখতেন গৌরাঙ্গ। ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য ঝামেলার জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গৌরাঙ্গ ছুরি দিয়ে নিজের হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে রহস্য স্পষ্ট জানা যাবে।

অবশেষে জামিন পেলেন শাহরুখপুত্র আরিয়ান

তিন সপ্তাহ জেলে থাকার পর মাদক মামলায় জামিন পেলেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান। বম্বে হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

গত মঙ্গলবার এবং বুধবার আরিয়ানের জামিনের শুনানি অসমাপ্ত ছিল। তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার শুনানি শেষ হয়।

গত ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে গোয়াগামী প্রমোদতরী থেকে আটক করা হয়েছিল আরিয়ানকে। তার পর ৩ তারিখ তাকে গ্রেফতার করে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। গ্রেফতারের পর বেশ কয়েকবার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। তিন সপ্তাহ ধরে মুম্বাইয়ের আর্থার রোড জেলে বন্ধী ছিলেন ২৩ বছর বয়সী শাহরুখের ছেলে।

গাজীপুরে টিকাকেন্দ্রে ধাক্কাধাক্কি-হট্টগোল, কার্যক্রম বন্ধ ১ ঘণ্টা

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি-হট্টগোলের কারণে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় এক ঘন্টা পর ফের টিকাদান কার্যক্রম চালু হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছিল। সকাল থেকেই শতাধিক মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে পর্যায়ক্রমে টিকা নিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন লাইন ভেঙ্গে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোল শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ সময় টিকা নিতে না পারায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুর সিভিল সার্জন ড. মো. খায়রুজ্জামান বলেন, করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে। কয়েক হাজার লোক একসঙ্গে টিকা নিতে এসেছেন। একসঙ্গে সবাইকে টিকা দেওয়া সম্ভব নয়। সবাইকে পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হবে। সবার মাঝে সহযোগি মনোভাব থাকা দরকার।

তিনি আরও বলেন,টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি-হট্টগোল শুরু হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রায় ঘন্টা খানেক পর টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়।