ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল. চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আগামী তিন দিন বা ৭২ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে এই সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।
এ ছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামে ৩৩ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ২১ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং আজ ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
গত ২৪ ঘন্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৭৩ মিলিমিটার। এছাড়া চাঁদপুরে ১১১ মিলিমিটার এবং বরিশালে ৮৬ মিলিমিটার।

ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ।

আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। মধ্য প্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত আরেকটি লঘুচাপও বর্তমানে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে বিদায় নিয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় আছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারী থেকে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

১৮ বছর বয়সীরা টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছেন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

শামসুল হক  বলেন, টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা ১৮ বছরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে নিবন্ধন চালু হয়েছে। এখন থেকে ১৮ বছর ও তার ওপরের সবাই সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করে টিকা নিতে পারবেন। এর আগে সর্বনিম্ন ২৫ বছর বয়সীরা টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারতেন।

শাহরুখের ছেলে আরিয়ানের জামিন হয়নি আজও

আজও শাহরুখ-পুত্রের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল না মুম্বইয়ের এক বিশেষ আদালত। ফলে আরও কয়েক দিনের বন্দিদশা আরিয়ান খানের। জামিন না পাওয়ায় আপাতত তাকে থাকতে হচ্ছে জেল হেফাজতেই। তার সঙ্গে আরও দুই অভিযুক্ত আরবাজ মার্চেন্ট এবং মুনমুন ধমেচার জামিনের আবেদনও খারিজ। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, আজ শুক্রবার শুনানি শেষে মুম্বাই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের প্রধান আরএম নেরলিকার আরিয়ান খান, তার বন্ধু আরবাজ মার্চেন্ট ও মুনমুন ধামেচার জামিন না মঞ্জুর করেছেন। আদালত থেকে তাকে আর্থার রোড কারাগারে পাঠানো হবে। আদালতে শাহরুখ ও গৌরী খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে পরিবারের সদস্যরা এজেন্সির মাধ্যমে আরিয়ানের সঙ্গে দেখা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

আজ আদালতে আরিয়ানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সতীশ মানেশিন্দে, অন্যদিকে এনসিবির হয়ে আদালতে দলিল পেশ করছেন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অব ইন্ডিয়া অনিল সিং।

এনসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরিয়ানসহ অন্য অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন ‘ভুল, অস্পষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য নয়’। অন্যদিকে আরিয়ানের আইনজীবী সতীশ মানেশিন্দে বলেন, আরিয়ানের কাছ থেকে কোনও মাদক উদ্ধার হয়নি, তার বিরুদ্ধে কেবল মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। যে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কথা এনসিবি উল্লেখ করছে সেটিও মাদক সংক্রান্ত নয়।

টঙ্গীতে রেল লাইনের উপরে অবৈধ বাজার

 

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
টঙ্গীতে রেলের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন মার্কেট। স্থানীয় বউবাজার এলাকায় প্রতিদিন এই রেলপথ ব্যবহার করে অর্ধ শতাধিক ট্রেন চলাচল করে এবং এই রেলক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে লক্ষাধিক মানুষ। অথচ এখানে লেভেল ক্রসিং বা প্রতিবন্ধকতা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে রেলপথ পারাপার হন পথচারী ও স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রী। প্রায়ই বৌ-বাজার এলাকায় রেলে কাটা পড়ে পথচারী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এলাকার লোকজন জানায়, বৌ-বাজার এলাকায় রেললাইনের মাঝে এবং দুইপার্শ্বে দোকান ভাড়া নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রকে অগ্রিম বাবদ দিতে হয় সর্বনিন্¥ ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন এসব দোকান ও বিট থেকে ১০০-২০০ টাকা চাঁদা উত্তলেনা করা হয়। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিল বাবদ লাইট প্রতি নেওয়া হয় দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ টাকা। বৌ-বাজার এলাকার রেলের জায়গা থেকে প্রতিদিন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামে চাঁদা তোলা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রেললাইনের পূর্ব-দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে সরকার বাড়ি রোডে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০টি দোকান ও গোডাউন। সিরিয়ালের প্রথম ১০টি দোকান থেকে দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০টাকা করে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের নেতৃত্বে চাঁদা উঠানো হয়।
এবিষয়ে টঙ্গী রেলওয়ে ফাঁড়িতে যোগাযোগ করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে এসব ঘটনায় যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, একই সাথে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের এসব বিষয়ে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গণভবন থেকে ভিডিও কন্ফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কুমিল্লার ঘটনা সম্পর্কে হয়তো দ্রুতই কিছু জানা যাবে।

তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মের অবমাননার বিষয়ে কোনো মুসলমানকে ধ্বংসাত্মক কাজ করার অধিকার দেয় না। এটা ইসলামে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

সচিব বলেন, ‘আমি প্রতিবাদ করতে পারি এবং সরকারের কাছে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার এবং তাদের শাস্তির দাবি করতে পারি।’

মোল্লা বারাদারের মৃত্যুর খবর অস্বীকার করলো তালেবান

তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান আফগানিস্তান সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছে গোষ্ঠীটি। গতকাল সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে ভারতে তার মৃত্যুর গুজব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে বলা হয়, কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে তালেবানের মধ্যকার গ্রুপগুলোর বন্দুকযুদ্ধে তিনি মারাত্মক আহত হয়েছেন। পরে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবানের মুখপাত্র সুলাইল শাহিন এক অডিও বার্তায় মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার আহত ও তার মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছেন।

 

 

 

 

 

 

টুইটারে তিনি বলেন, ‘খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।’

 

তালেবান একটি ভিডিও ফুটেজও শেয়ার করেছে। সেখানে দেখা যায়, কান্দাহারে বৈঠক করছেন মোল্লা বারাদার। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

সিলেটের মেয়র আরিফুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন

সিলেট সিটি কর্পোরেশনে মেয়র আরিফুল হকের বিরুদ্ধে লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় হোয়াইটচ্যাপলের মাইদা গ্রীল রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন প্রবাসী আনিসুল হক। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের সিলেট নগরীর বাসিন্দা। সোবহানিঘাট এলাকায় আমার পিতা আরকান আলী ১৯৮২ সালে গুল মোহাম্মদ ও আব্দুর রহিম নামে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ২৪ শতক জায়গা ক্রয় করেন। ক্রয় করার পর থেকে জায়গাটি আমরা ভোগদখল করে আসছি। পরে মালিকানার কাগজপত্র দিয়ে আমরা সিটি করর্পোরেশনের অনুমতিক্রমে ক্রয়কৃত জমিতে দোকান নির্মাণ করি। স্থাপনার কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়।

আমাদের মালিক মেনেই ২০২০ সালের ২৭ জুলাই সিলেট সিটি করর্পোরেশন হোল্ডিং বিবরণী (হোল্ডিং নং২৩১০/২) প্রেরণ করার জন্য নেটিশ প্রদান করে। নোটিশে মেয়র আরিফুল হকের স্বাক্ষর ছিলো। নোটিশ পাওয়ার পর আমর পরিবারে পক্ষ থেকে যথা নিয়মে ট্যাক্স প্রদান করি।

আনিসুল হক আরো বলেন, আমরা প্রবাসে থাকায় জমির বিষয়ে তেমন খোঁজ খবর রাখা সম্ভব হয়নি। যার ফলে জমির নামজারি না হওয়ায় ২০০২ সালে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেট জজ কোর্টে একটি মামলা করি। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এবং জায়গা আমাদের দখলে থাকার পর নোটিশ ছাড়াই গত ১৫ই আগস্ট মেয়র আরিফুল হকের নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে জোরপূর্বক দখল করা হয়। শুধু দখল নয়, ঘর-বাড়িসহ সকল স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। মামলা চলমান থাকার পরও তিনি বলেছেন, আদালতের রায়ে জমিটি দখল নিয়েছেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোন কাগজ দেখাতে পারেননি। তিনি বলেছেন, আদালতে বিচারাধীন তাই কাগজ দেয়া যাবে না। পরে আমরা তথ্য অধিকার আইনে কাগজ দাবি করলেও তা দিতে অস্বীকার করেন। আদালতে বিচারাধীন থাকায় কাগজ দিতে পারছেন না তাহলে জায়গা দখল কিভাবে করলেন মেয়র? কাগজ যাচাই না করে মেয়র যা করেছেন, তা আদালত অবমাননার শামিল। সিটি করর্পোরেশনের কাজ হলো নাগরিকদের সেবা দেওয়া, কিন্তু তারা এখন দখলদার হয়ে উঠেছে। মেয়রের বক্তব্যে আমরা হতাশ, ক্ষুব্ধ। আমার অসহায় পরিবারের চাওয়া আদালতের সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত আমরা যেন নাগরিক অধিকার সম্মানটুকু পাই। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ক্রয় সূত্রে জায়গার মালিক দাবি করা মরহুম আরকান আলীদ ছেলে আনিসুল হক ও মেয়ে আবিদা সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সাইদুর রহমান সাঈদ ও সামছুর রহমান মাতাব প্রমুখ।

ফেসবুক মাধ্যমে নানা পোস্টের সত্যতা যাচাই না করে উত্তেজনা বা খামাখা উস্কানিতে কেউ পথ ভুলবেন না :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা উড়ো খবরের সত্যতা যাচাই না করে উত্তেজক পরিস্থিতি সৃষ্টিতে বিরত থাকতে দেশবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেন, ‘ফেসবুক মাধ্যমে নানা পোস্টের সত্যতা যাচাই না করে উত্তেজনা বা খামাখা উস্কানিতে কেউ পথ ভুলবেন না। রংপুরের মতো কাণ্ড ঘটিয়ে বসবেন না।’।

র‍্যাবের সব ব্যাটালিয়ন ও ক্যাম্প পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ‘র‍্যাবের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন’ শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন ও ইন্সপেকশন) মইনুর রহমান চৌধুরী, র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হামলাকারীদের আমরা খুব দ্রুত ধরে ফেলতে পারব। তারা স্থান পরিবর্তন করে এদিক সেদিক যাচ্ছে। ‘

তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে অনেক সময় অনেক কিছু ঘটে যায়। কিন্তু আমরা বলি, আমরা আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখব। আমরা যখন সে পথে অনেকটা এগিয়ে গেছি, তখন সেই সম্প্রীতি বিনষ্ট করার নানা তৎপরতা চলছে। ফেসবুকে অপপ্রচারের মাধ্যমে কোন স্বার্থান্বেষী মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, তা আমরা দেখছি।’

সম্প্রতি নোয়াখালীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, মণ্ডপে হামলার ঘটনায় একজনকে পিটিয়ে মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে।

২০১৬ সালে রাজধানীর পল্লবীতে এক ব্যক্তিকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ভিডিওকে এখন নোয়াখালীর ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এমন ভিডিও প্রচারকে ‘অপপ্রচার, অমানবিক ও ন্যক্কারজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ওই ভিডিও প্রচারকারীদের হুশিয়ার করে দেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সহিংসতার বিষয়টি আলোচনা এলে সরকারপ্রধান এ নির্দেশনা দেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান।

কুমিল্লা থেকে শুরুর পর গত পাঁচ দিনে সারাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় সারাদেশে ৭১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আটক করা হয়েছে ৪৫০ জনকে।

গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক ‘অপ্রীতিকর ঘটনায়’ এ পর্যন্ত ৭১টি মামলা রুজু হয়েছে। আরও কিছু মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।

 

এসব হামলা-ভাংচুরে জড়িত সন্দেহে ৪৫০ জনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সব অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।

হাজীগঞ্জে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ আরও ১ যুবকের মৃত্যু

 হাজীগঞ্জে গত বুধবারের পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ আরও ১ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হলো।

বাচ্চু মিয়া জানান, মৃত সাগরকে (২৪) গত ১৬ অক্টোবর হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

সাগরের বাবা মো. মোবারক হোসেন  জানান, বুধবার রাতে হাজীগঞ্জ বাজারে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় সোহাগ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।

সাগর পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন বলে জানান তিনি।

সাগরের মরদেহ ঢাকা থেকে এখনও পৌঁছায়নি বলে জানান হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ।

যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খেয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

গাজীপুরে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খেয়ে গার্মেন্টসকর্মী এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

রোববার (১৭ অক্টোবর) দিনগত রাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ এলাকার জাহিদ কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।

 

সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-কমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিহত দুজন হলেন- নওগাঁ জেলার মান্দা থানার কয়লাবাড়ি এলাকার ফাছির উদ্দিনের ছেলে মো. ফিরোজ হোসেন (২৭) ও তার স্ত্রী নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার সর্বমৈশা এলাকার সবুজ মিয়ার মেয়ে তাহমিনা আক্তার লিজা (২০)।

জিএমপির উপ-কমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ পুকুরপাড় এলাকার জাহিদ কলোনির ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন ফিরোজ ও তার স্ত্রী লিজা। মাসখানেক আগে লিজা চাকরি ছেড়ে দেন। ফুটপাতের হকারের কাছ থেকে কেনা যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট রোববার তারা দু’জনেই সেবন করেন। রাত দেড়টার দিকে তাদের হৈ চৈ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের বিবস্ত্র অবস্থায় পায়। এ সময় ওই দম্পতি স্থানীয়দের কাছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবনের কথা বলে। পরে প্রতিবেশীরা গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ বিকেলে ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।