১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের টিকাদান শুরু বৃহস্পতিবার

স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে ৫০ থেকে ১০০ শিক্ষার্থীকে টিকাদানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে টিকা দেওয়া শিক্ষার্থীদের ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর এ কার্যক্রম ব্যাপকাকারে শুরু হবে।

বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এসব তথ্য জানান। প্রায় দুই মাস ধরে আলোচনা-মতবিনিময়ের পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের এ সিদ্ধান্ত এল। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকাকরণ করা হবে। সেক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর কো-মরবিডিটি রয়েছে তারাও অগ্রাধিকার পাবেন।

এরপর টিকা দেওয়া হবে নবম ও একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। পরে ধাপে ধাপে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হবে। স্কুল-কলেজের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকার আওতায় আসছেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ লাখ শিক্ষার্থী: স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারের কাছে ৬০ লাখের মতো ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা মজুদ রয়েছে। এ টিকা দিয়ে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে পূর্ণ দুই ডোজ টিকা দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশ্বের কয়েকটি দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ফাইজার-বায়োএনটেক ও মর্ডানার টিকা দেওয়া হচ্ছে। অন্য কোনো টিকা ১৮ বছরের কম বয়সী মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগের ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। এ কারণে অন্য টিকা মজুদ থাকলেও সেগুলো শিশুদের প্রয়োগ করা হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মিলে দেশে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। এসব শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে হলে প্রয়োজন দুই কোটি ডোজ টিকা। যা আবার ফাইজার অথবা মর্ডানা টিকা হতে হবে। শুরুতে নবম, দশম এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীদের শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হবে। এই চার শ্রেণী মিলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি হবে না। সরকারের কাছে মজুদ থাকা ফাইজারের ৬০ লাখ টিকার মাধ্যমে তাদের টিকাকরণ সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক  বলেন, স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে সংগত কারণেই এসব শিক্ষার্থীদের টিকাকরণের প্রসঙ্গটি চলে এসেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা পর স্কুল-কলেজের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকাকরণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রথমে একাদশ, দ্বাদশ এবং নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে। কারণ এসব শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। সুতরাং তাদের আগে টিকাকরণ প্রয়োজন। এরপর টিকা পাওয়া সাপেক্ষে অন্যদের দেওয়া হবে।

প্রয়োজন দুই কোটি ডোজ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মিলে দেশে প্রায় এক কোটির মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এসব শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে হলে দুই কোটি ডোজের প্রয়োজন। সরকারের কাছে এই টিকার মজুদ কিংবা ক্রয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফাইজারের ৬০ লাখ ডোজ টিকা বর্তমানে মজুদ রয়েছে। যা দিয়ে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকাকরণ করা যাবে। ফাইজারের কাছে আরও ৭০ লাখ টিকার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এটি পাওয়া গেলে আরও ৩৫ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকাকরণ করা সম্ভব হবে। এর বাইরে ফাইজার ও মর্ডানার টিকা কেনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চীনের সিনোফার্ম টিকা ট্রায়ালের মাধ্যমে কার্যকর ফল দিলে ওই টিকাও এ কার্যক্রমে কাজে লাগানো হবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, চীনের পক্ষ থেকে ওই ট্রায়ালে সন্তোষজনক ফল পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

শিশুদের টিকাদানের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্মতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি সুইজারল্যান্ড সফরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ও গ্যাভির প্রতিনিধির সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। শিশুদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে তারা সম্মতি দিয়েছে। এরপরই স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের টিকাকরণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম দিনে ৫০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। টিকা দেওয়ার পর তাদের ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর বড় আকারে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।

গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের এক অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের চলতি সপ্তাহেই ফাইজারের টিকার মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। ফাইজারের টিকার সংরক্ষণ জটিল হওয়ায় আপাতত জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার ২১ কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। তবে কোন কেন্দ্রে কখন শুরু করা হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, প্রথমে স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষার্থীদের তালিকা এনে তা সুরক্ষা ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হবে। পরে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকাকেন্দ্রও পৃথক হবে।

স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্র জানায়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও টিকার আওতায় আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) একটি অ্যাপের মাধ্যমে এসব শিক্ষার্থীদের এ কার্যক্রমে যুক্ত করছে। যেসব শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারা জন্মনিবন্ধন কার্ডের মাধ্যমে টিকা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ইউজিসি থেকে পাঠানো শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা সুরক্ষা অ্যাপে যুক্ত হওয়ার পর তারা নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। এরপর তারাও টিকার আওতায় আসবেন।

চালের দাম বাড়ছেই

এবার ধানের উৎপাদন বেশি হয়েছে। বাড়তি উৎপাদন হলেও চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার শুল্ক্ক কমিয়ে বেসরকারি খাতে আমদানির সুযোগ দিয়েছে। সরকার নিজেও আমদানি করছে। খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমসহ অন্যান্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের কোনো প্রভাব নেই বাজারে। চড়া দরেই চাল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে গত বছরের তুলনায় চালের দাম কমেছে। এমনকি আমদানি করা চালের যে যৌক্তিক মূল্য খাদ্য অধিদপ্তর নির্ধারণ করেছে, তার চেয়ে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের অযৌক্তিক মুনাফাই মূলত চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ব্যবসায়ী, সরকারের সংশ্নিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালের চড়া দামের কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত- বাজারের সিংহভাগ সরবরাহ বড় ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে। ধানের দাম বৃদ্ধিও অন্যতম কারণ। তবে ধানের বাড়তি দামের সুফল কৃষক খুব একটা পান না। এ ছাড়া প্রকৃত উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক তথ্য নেই। সরকারি সংস্থাগুলো চাহিদা ও সরবরাহের যেসব তথ্য মাঝেমাঝে দেয় সেখানে গরমিল রয়েছে। মজুদ আইনের ফাঁকফোকর এবং মনিটরিংয়ের দুর্বলতার কারণেও সরকারের নীতি উদ্যোগ ঠিকমতো কাজ করছে না।
গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে মোটা চাল বিক্রি হয়েছে। মাঝারি মানের প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৬ টাকা দরে। আর বিভিন্ন জাতের সরু চাল প্রতি কেজি ৫৮ থেকে ৬৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম বাড়তি থাকায় নিম্ন-আয়ের মানুষের সংসার চালানোর কষ্ট আরও বেড়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সেপ্টেম্বরে ভারতে এক টন চালের দাম ছিল ৩৭৪ ডলার, যা বর্তমানে ৩৬০ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে। থাইল্যান্ডে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৪৭৭ ডলার দিয়ে এক টন চাল কিনতে হয়েছে। যা বর্তমানে মিলছে ৩৮১ ডলারে। একইভাবে ভিয়েতনামে চালের দাম প্রতি টনে ২৫ ডলার কমে ৪২৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশের আমদানিকারকরা এসব দেশ থেকেই চাল আমদানি করছেন। সরকারও ভারত, থাইল্যান্ড থেকে চাল আমদানি করছে। খাদ্য অধিদপ্তর বলছে ভারত থেকে চাল আমদানি করলে জাহাজ ভাড়াসহ সব ধরনের খরচ ও কেজিতে এক লাখ লাভ যোগ করে বাংলাদেশের বাজারে তার দাম পড়বে ৩৩ টাকা ৫৩ পয়সা। থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করলে তার দাম পড়বে ৩৮ টাকা। কিন্তু দেশের বাজারে কোথাও এই দরে চাল পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় মিলের চালের দাম কমছে না বলে আমদানিকারকরা দাম কমাচ্ছে না। তবে আমদানির প্রভাবে দাম কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ। তিনি বুধবার বলেন, আমদানির ফলে চালের দাম যেভাবে কমার কথা ছিল, সেভাবে কমেনি। তবে সামগ্রিকভাবে দাম কমছে। কিছুদিন আগে যে চালের বস্তা (৫০ কেজি) ২ হাজার ৯০০ টাকা বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি না হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে আমদানির সুফল পুরোপুরি বাজারে না পড়লে তার জন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাজারে আধুনিক মেশিনের চালের চাহিদা বাড়ছে বলেই অটো রাইস মিল বাড়ছে। মিলারদের মধ্যে কোনো সিন্ডিকেট নেই।
চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ৭ জানুয়ারি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে আমদানি শুল্ক্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে। পাশাপাশি আমদানিতে সব ধরনের নিয়ন্ত্রকমূলক শুল্ক্ক প্রত্যাহার করা হয়। তবে চাল আমদানিতে আগাম কর ৫ শতাংশ ও আগাম আয়কর ৫ শতাংশ বহাল থাকে। এক কথায় চাল আমদানিতে শুল্ক্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ সুবিধায় চাল আমদানি করা গেছে। পরে চালের দাম আরও বাড়লে সরকার পুনরায় গত ১২ আগস্ট একই সুবিধায় আমদানির সুযোগ দিয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এই কম শুল্ক্কে চাল আমদানি করা যাবে। বর্তমানে চাল আমদানি চলছে। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ৫ লাখ ৩৬ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১৩ লাখ ৫৯ হাজার টন চাল আমদানি হয়।
কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, গেল বোরো মৌসুমে ২ কোটি ৮ লাখ টন ধান উৎপাদন হয়েছে। এ বছর আমনের চাষ বেড়েছে ৪৩ হাজার হেক্টর। এ জন্য সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান আশা করছেন, আমনের ফলনও আগের বছরের তুুলনায় বেশি হবে। তিনি বলেন, এ বছর আমন থেকে দেড় কোটি টন ধান পাওয়া যাবে। বর্তমানে আমন কাটা শুরু হয়েছে। গত বছর ১ কোটি ৪৬ লাখ টন আমন ধান উৎপাদন হয়েছিল। এ ছাড়া ৩০ হাজার টনের বেশি আউশ উৎপাদন হয়েছে। সব মিলিয়ে গেল বছর ৩ কোটি ৬০ লাখ টন ধানের উৎপাদন আশা করা হচ্ছে।
এদিকে দেশে চালের প্রকৃত চাহিদা কত তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০১৬-এ বলা হয়েছে, দেশের মানুষ দৈনিক গড়ে ৩৬৭ গ্রাম চাল খায়। এ হিসাবে দেশে ১৭ কোটি মানুষ ধরলে ২ কোটি ২৭ লাখ টন চালের প্রয়োজন পড়ে। তবে অনেকে মনে করেন, দেশের জনসংখ্যা আরও বেশি। চালের অন্যান্য ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে মুড়ি, চিড়া ও পিঠাপুলিতে চালের ব্যবহার হয়ে থাকে। এ ছাড়া মাছ, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগির খাবার হিসেবেও চালের ব্যবহার হয়। ফলে মোট চাহিদা আরও বেশি। তবে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, দেশে চালের চাহিদার বিভিন্ন হিসাব আছে। গবেষকদের এক হিসাবে দেখা গেছে, বছরে ৩ কোটি ২৩ লাখ টন চালের চাহিদা রয়েছে।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে চালের দাম কমলেও দেশের বাজারে পণ্যটির বাড়তি দামের কারণ জানতে চাইলে মিল মালিক, আড়তদার, পাইকারি ব্যবসায়ীদের কেউই সদুত্তর দেননি। অধিকাংশরাই এড়িয়ে গেছেন। কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, দেশে ছোট ছোট চাল ব্যবসায়ীরা ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়েছে। অনেক ছোট চালকল এখন বন্ধ। ফলে বিভিন্ন জেলার স্থানীয় সরবরাহ কমে গেছে। বড় বড় কিছু চালকল পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, চলতি বোরো মৌসুমের সংগ্রহ সফলভাবে শেষ হয়েছে। গত ২১ আগস্ট পর্যন্ত ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৫ টন বোরো ধান এবং ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪৬০ টন বোরো চাল এবং ৮৫ হাজার ৫০৩ টন বোরোর আতপ চাল সংগ্রহ করেছে। ১১ অক্টোবরে সরকারি গুদামে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার টন চাল মজুদ রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি বিষয়ক সভায় বলা হয়েছে, বাজারের চালের কোনো সংকট নেই।
অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ দেশের চালের বাজারে বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা ও প্রতিযোগিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি  বলেন, চালের বাজারে বড় রাইস মিলগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক সময় দেশে লাখ লাখ চাতাল ছিল, যা বর্তমানে অনেক কমে গেছে। চাতাল দেশব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এবং কম পরিমাণে উৎপাদন ও সরবরাহ করত। তাতে বাজারে সরবরাহ ছিল অনেকের হাতে। এখন সরবরাহের বড় অংশ চলে গেছে গুটিকয়েক বড় মিলের হাতে। এ জন্য চালের বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বড় অটো রাইস মিলের দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার। ৫০টি অটো রাইস মিল চালের বাজারের ২০ ভাগের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তিগত উৎপাদন ব্যবস্থার দরকার আছে। কিন্তু একটা মিল সর্বোচ্চ কী পরিমাণ উৎপাদন করবে, তার মূল্যায়ন করা দরকার। পাশাপাশি মজুদ আইনে পরিবর্তন দরকার। কারণ বড় মিল উৎপাদন ও সংরক্ষণ ক্ষমতা অনুযায়ী বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে। এতে একটা মিলই প্রচুর ধান সংগ্রহ করে থাকে। এমনকি অনেক দূরের মোকাম থেকে ধান সংগ্রহ করে মিলগুলো। সেজন্য পরিবহন খরচ বেশি হয়। অন্যদিকে চাল পলিশ করায়ও খরচ বাড়ে। দেশে চালের দাম বেশি থাকার এগুলোও কারণ।

বনানীতে চিরনিদ্রায় ড. ইনামুল হক

একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা ড. ইনামুল হককে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। আজ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রয়াতের জামাতা অভিনেতা সাজু খাদেম।

এর আগে, শেষবিদায় জানাতে এই বর্ষীয়ান অভিনেতার মরদেহ নেওয়া হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, কেন্দ্রীয় শাহীদ মিনার ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)।

শিল্পকলা আয়োজনটি হয় গতকাল সন্ধ্যা। আর পরের দুটি আয়োজন আজ সকাল ও দুপুরে হয়েছে। সকাল ১১টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ নিয়ে এলে বিভিন্ন স্তরের সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ফুল দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় শ্রদ্ধা জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ, আবুল হায়াত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি, তানজিকা আমিন, নাতাশা হায়াত, মোমেনা চৌধুরী, নাট্যকার বৃন্দাবন দাস, অভিনেতা মীর সাব্বির, ফারুক আহমেদ, নির্মাতা অরণ্য আনোয়ার, পিকলু চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অসীম কুমার উকিল ও সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ বেতার-টেলিভিশন শিল্পী সংস্থা বাঙালি সাংস্কৃতিক বন্ধন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটি, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ, ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা-নাট্যকার ড. ইনামুল হক গতকাল দুপুরে বেইলি রোডের নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। জানা যায়, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ড. ইনামুল হকের অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৬৮ সালে। তার প্রথম অভিনীত টেলিভিশন নাটক ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’। এটি প্রযোজনা করেন মুস্তাফা মনোয়ার। নাট্যকার হিসেবে তার পথচলা শুরু ওই বছরই। তার প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘অনেকদিনের একদিন’। আবদুল্লাহ আল মামুন নাটকটি প্রযোজনা করেছিলেন টেলিভিশনের জন্য।

এ পর্যন্ত টেলিভিশনের জন্য ৬০টি নাটক লিখেছেন তিনি। তার লেখা আলোচিত টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সেইসব দিনগুলি’ (মুক্তিযুদ্ধের নাটক), ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’। মঞ্চের জন্য প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘বিবাহ উৎসব’। এটি লিখেছিলেন উদীচীর জন্যে। তার নিজ দল নাগরিক নাট্যাঙ্গনের জন্য প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘গৃহবাসী’। ১৯৮৩ সালে লেখা হয় নাটকটি। ঢাকার মঞ্চে বেশ আলোচিত নাটক এটি।

গুণী এই অভিনেতার পুরো পরিবারই নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার স্ত্রী লাকী ইনামও কিংবদন্তি অভিনেত্রী। মেয়ে হৃদি হকও নির্দেশক এবং অভিনেত্রী। তার জামাই অভিনেতা লিটু আনাম। ড. ইনামুলের অপর মেয়ে প্রৈতি হকের স্বামী সাজু খাদেম।

নাটক-আত্মজীবনী লেখা, বই পড়া ছাড়াও বাসায় নাতি-নাতনিদের সঙ্গে গল্প করেও সময় পার করতেন ড. ইনামুল হক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘পড়ার জন্য কত বই রয়েছে! লেখার কতো কী বাকি! অনেক কিছুই বাকি রয়ে গেল!’

আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, যারা আগের রাতে ভোট চুরি করে নিয়ে যায়, ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করে, বন্দুক আর পিস্তল দিয়ে জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকে, তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের লজ্জা হয় না, যখন গণতন্ত্রের কথা বলে?’

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর হাসান জাফির তুহিন ও শহিদুল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে নবগঠিত কৃষক দলের আংশিক কমিটি গঠনের পর এটি তাদের প্রথম সম্মেলন। সারাদেশ থেকে কৃষক দলের জেলা প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশের কোথাও আওয়ামী লীগ নেই। এখন হচ্ছে আমলা লীগ। এখন ডিসি, এসপি, ওসি- এরা অনেক বড় সাহেব। আওয়ামী লীগের চাইতে তারা অনেক বড় আওয়ামী লীগ। এই অবস্থার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, তার সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে দলের অবস্থা স্পষ্ট করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এদেশে অবশ্যই একটা নির্বাচন হতে হবে। সেই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণ তাদের মতামত দেবেন এবং সেই নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। যাতে জনগণ ভোট দিতে যেতে পারে। যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে- সেই ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে।’

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা নির্বাচন কমিশন নিয়ে খুব মাতামাতি করছেন। সার্চ কমিটির কথা বলছেন। কিসের সার্চ কমিটি? এটা নাটক। কারণ তারা যাকে দেবেন তাকে দিয়ে ইসি গঠন করা হবে। তারা যাকে চাইবেন সেই হবে। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার কিছু সত্য কথা বলেছেন। এখন তার বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লেগেছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম কথা বলছে, তাকে মানসিক রোগী বলছে। মানসিক রোগী তো আওয়ামী লীগ সরকার।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৮ সালে কোনো নির্বাচন হয়নি। মানুষ ভোট দিতে পারেননি। বর্তমান সরকার ১২ বছর ধরে এ দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করছে। শেখ হাসিনার প্রতি, আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। সরকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নষ্ট করে দিয়েছে।’

কৃষক দলকে গণসংগঠনে রূপ দিতে হবে উল্লেখ করে সংগঠনের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘কৃষক দলের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন জড়িত ছিলাম। তাই এ সংগঠনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা আশা করবো কৃষকদলকে সত্যিকার অর্থেই জনগণের একটা সংগঠনের পরিণত করবেন, গণসংগঠনে পরিণত করবেন নতুন নেতারা। এই দুঃসময়ে কৃষক দলকে সংগঠিত করে জনতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেন আমরা এই ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে সরাতে পারি এবং সত্যিকার অর্থে জনগণের একটা সরকার, জনগণের একটা রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারি।’

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় এই প্রতিনিধি সম্মেলনে কৃষক দলের নবগঠিত কমিটির হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, গৌতম চক্রবর্তী, টিএস আইয়ুব, মোশাররফ হোসেন, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজারবাগ পীর ও তার দরবারের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে

রাজারবাগ পীর দিল্লুর রহমান ও তার দরবারের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে পীর দিল্লুরের আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার চেম্বার আদালতের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ‘নো অর্ডার’ দেন।

এর ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী শিশির মনির। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের আদেশ বহাল হওয়ায় রাজারবাগ পীরের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ চলতে আইনগত আর কোনো বাধা রইল না।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ দরবার শরীফের সব সম্পদের তথ্য খুঁজতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), তাদের জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি-না তা তদন্ত করতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং উচ্চ আদালতে রিটকারী ৮ জনের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন দিল্লুর রহমান। আদালতে দিল্লুর রহমানের পক্ষ শুনানি করেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুকুল।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর দিল্লুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ৮ জন ব্যক্তির পক্ষে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়।

আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সমর্থন এবং সহযোগিতা চেয়েছেন।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে শেখ হাসিনা এই সমর্থন-সহযোগিতা চান। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। খবর বাসসের।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে চাই এবং এ ব্যাপারে রাশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতার প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার কারিগরি এবং আর্থিক সহযোগিতায় প্রথম বারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম এই সহযোগিতা দিয়েছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুতা¡রোপ করে প্রধানমন্ত্রী রোসাটম’র মহাপরিচালককে স্থানীয় জনগণকে প্রশিক্ষণ দেয়ার আহ্বান জানান, যাতে তারা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিপি) চালাতে পারে।

আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতা পারমাণবিক ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে এবং ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তিধর দেশে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, আরএনপিপি পরিচালনার জন্য তারা বাংলাদেশিদের প্রশিক্ষণ দিবেন এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি স্থানীয় কর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান এবং অন্যান্য জনবলসহ ২০ হাজারের ও বেশি মানুষ আরএনপিপিতে কাজ করে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। তিনি বলেন, অনেক বাংলাদেশি কোম্পানিও সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করছে।

রোসাটম’র মহাপরিচালক আরএনপিপি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু কমিশনের সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেছেন, কিন্তু ‘বাস্তবায়নের সময় সমন্বয় করা যেতে পারে।’

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, আরএনপিপি’র নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিবেন এবং তারা প্লান্টের কাছাকাছি এলাকায় সামাজিক উন্নয়নেও কাজ করছেন।

তাকে ছাড়া আমি আমি কিভাবে বাঁচবো

সন্ধ্যায় সর্বস্তরের শ্রদ্ধার জন্য বরেণ্য অভিনেতা-নাট্যকার ড. ইনামুল হকের মরদেহ নেয়া হয়েছে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে। এ সময় প্রখ্যাত এ নাট্যজনকে এক নজর দেখতে ছুটে আসেন  সতীর্থ ও নাট্যকর্মীরা। চোখের জল ও শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানান প্রিয় নাট্যজনকে।

সেখানে জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়া স্ত্রী নাট্যজন লাকী ইনামও উপস্থিত ছিলেন।  স্বামীর মরদেহ সামনে রেখে চোখের জলে তিনিও  প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সংস্কৃতি অঙ্গনে  ড. ইনামুল হকের  অবদান সরণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন লাকী ইনাম। এ সময তিনি বলেন, আমার বুঝতে পারছি না উনি ছাড়া কিভাবে বাকি জীবনটা কাটাবো, থিয়েটার করবো?  আমার বিশ্বাস হচ্ছে না এই মানুষটি চলে গেছে। এত দেশপ্রেমী, এত মানবপ্রেমী, সবাইকে ভালোবাসতেন। কেউ তার সামনে বদনাম করতে পারতো না, বলতেন, ‘তোমরা হয়তো জানো না তার গুণ কোথায়’। থিয়েটারের ছেলে মেয়েরা তার প্রাণ ছিলো। তাকে ছাড়া আমি একা একা কী করে থিয়েটার করবো, আমার সংগ্রাম কী করে চালাবো আমি জানি না। আমি জানি আমার সব কাজে আমি তোমাকে পাশে পাবো, পাশে পাবো তোমাকে। তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারো না, কক্ষণো না।’

শোকসভায় বক্তব্য রাখেন নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকিসহ অনেকে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল (১২ অক্টোবর) সর্বস্তরের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে ড. ইনামুল হকের মরদেহ। সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে। এরপর বেলা ১২টায় ইনামুল হককে নেওয়া হবে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বুয়েটে। সেখানে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে বাদ জোহর তাকে সমাহিত করা হবে।

সোমবার বিকালে রাজধানীর বেইলি রোডের নিজ বাসায় মারা গেছেন  ড. ইনামুল হক।  বর্ষিয়ান এই নাট্যজনের চির বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংস্কৃতি অঙ্গনে।

জীবন  প্রায় পুরোটা সময় নাটকের সঙ্গেই থেকেচেন তিনি। ছাত্র অবস্থায় নটরডেম কলেজে পড়াশোনাকালীন প্রথম মঞ্চে আগমন ঘটে তার। ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ড. ইনামুল হক। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ নাটকে।

এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। সর্বশেষ দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গুণী এই নাট্যজন।

নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময় ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ইনামুল হকের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নে। তার বাবা ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন।

ড. ইনামুল হকের পুরো পরিবারই বাংলা নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তার দাম্পত্য সঙ্গী নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক আর প্রৈতি হক। দুই জামাতা অভিনেতা লিটু আনাম ও সাজু খাদেম।

ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি বিএসসি ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেন।

এবছর অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন যারা

চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন অর্থনীতিবিদ। তারা হলেন- কানাডিয়ান অর্থনীতিবিদ ডেভিড কার্ড, মার্কিন অর্থনীতিবিদ জোশুয়া অ্যাংগ্রিস্ট এবং ডাচ–মার্কিন অর্থনীতিবিদ গুইডো ইমবেনস।

আজ বিকেল পৌনে চারটায় দ্য রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব ইকোনমিক সায়েন্সের সভাপতি পিটার ফ্রেডরিকসন অর্থনীতিতে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বলেছে, আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতি রক্ষার্থে অর্থনীতিতে এ বছর ভেরিজ রিক্সব্যাংক পুরস্কারের অর্ধেক পাবেন ডেভিড কার্ড এবং বাকি অর্ধেক যৌথভাবে পাবেন জোশুয়া ডি অ্যাঙ্গরিস্ট এবং গুইডো ডব্লিউ ইমবেনস।

প্রাকৃতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনীতিবিদ ডেভিড কার্ড শ্রমবাজারে ন্যূনতম মজুরি, অভিবাসন এবং শিক্ষার প্রভাব বিশ্লেষণ করে অর্থনীতির এই নোবেল পেয়েছেন। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি কর্মের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে প্রাকৃতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়েছেন তিনি। এর আগে, গত বছর নিলাম তত্ত্বের উন্নতি এবং নতুন নিলাম বিন্যাস উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পান দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ পল আর. মিলগ্রোম ও রবার্ট বি. উইলসন।

উনবিংশ শতাব্দীতে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেছিলেন ডিনামাইট নামে ব্যাপক বিধ্বংসী বিস্ফোরক, যা তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পত্তির মালিক করে তোলে। মৃত্যুর আগে তিনি উইল করে যান; প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থ, রসায়ন, শান্তি, সাহিত্য ও অর্থনীতি- এই ৬টি বিষয়ে যারা বিশেষ অবদান রাখবেন তাদের যেন এই অর্থ থেকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

গত ৪ অক্টোবর চিকিৎসার নোবেল বিজয়ী হিসেবে লেবানিজ বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী আর্ডেম পাতাপুতিয়ান ও মার্কিন বিজ্ঞানী ডেভিড জুলিয়াসের নাম ঘোষণার মাধ্যমে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের অনুষ্ঠানের শুরু হয়। আর অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা শেষ হলো।

১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভেরিজ রিক্সব্যাংকের এই পুরস্কারের প্রবর্তন করে। পরের বছর থেকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু করে। সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের সম্মানে এই পুরস্কারের পুরো নাম রাখা হয় ‘আলফ্রেড নোবেল স্মৃতি রক্ষার্থে অর্থনীতিতে ভেরিজ রিক্সব্যাংক পুরস্কার।’

প্রতিবন্ধীদের চাকুরির নিয়োগপত্র বিতরন

 টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
টঙ্গীতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দুঃস্থদের চাকুরির নিয়োগপত্র, হাইটেক কৃত্রিমপা, হিয়ারিং এবং ব্রেইলবইসহ অন্যান্য উপকরন বিনামুল্যে বিতরণ করেন শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং জেলা প্রশাসন। গতকাল রোববার দুপুরে নতুন বাজার এলাকায় সমাজ ক্যলান মন্ত্রণালয়ের মৈত্রী শিল্পের মাঠে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। আরও বক্তব্য রাখেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শেখ রফিকুল ইসলাম, সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের অতিরক্তি সচিব (প্রশাসন) ড. শাহ আলম ও যুগ্মসচিব, একসেস ইনফরমেশন এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

অনেকে বুঝে না বুঝে সমালোচনা করে: প্রধানমন্ত্রী

 

পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সেভাবেই রাশিয়ার সাথে চুক্তি করা হয়েছে ৷ তারপরও অনেকে বুঝে না বুঝে সমালোচনা করে।’

রোববার সকালে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র প্রথম ইউনিটে স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার কারণে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পেরেছেন- এমন মন্তব্য করে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান শুধু জমি দিয়েছে, কিন্তু রূপপুরে বরাদ্দ টাকা তারা নিয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানে।’

তিনি বলেন, ৭০’র নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের দাবি তোলেন ৷ স্বাধীনতার পর তিনি আইএর সঙ্গে চুক্তি করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সব থেমে যায়। এরপরের শাসকরা এ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার যোগ্য ছিলো না, নিতেও চায়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবার এ প্রকল্প এগিয়ে নেয়। ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে তার সরকার রাশিয়ার সহযোগিতায় রূপপুর প্রকল্পকে চূড়ান্ত রূপ দেয়।

এর আগে সকাল ১১ টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র প্রথম ইউনিটে স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জিয়াউল হাসান ৷ তিনি বলেন, এ প্রকল্প পরিবেশবান্ধব বলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।

এরপর রূপপুর প্রকল্পের ওপর একটি ডকুমেন্টরি প্রদর্শিত হয়।

রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে রূপপুর প্রকল্প। প্রকল্পের ঠিকাদার রুশ পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচেভ অনুষ্ঠানে বলেন, বিজ্ঞান নিয়ে বছরের পর বছর রাশিয়া যে উৎকর্ষতা অর্জন করেছে, সেই অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান আজ রূপপুরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কিছু ব্যবস্থাপনা রূপপুর প্রকল্পকে করেছে সবচেয়ে নিরাপদ। করোনা মহামারির মধ্যেও সময় মতো প্রকল্প শেষ করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্পর্কে জনবল তৈরিতেও সহযোগিতা করছে ৷ এ প্রকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ও জিডিপি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে ৷ প্রকল্পের নিরাপত্তাকে রোসাটম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিজ্ঞানমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, এই ঘটনা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর ফলে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যাবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশ আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে  বলে মন্তব্য করেন ইয়াফেস ওসমান।

রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। প্রকল্প পরিচালক ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মো. শৌকত আকবর বলেন, ইউনিট-১ এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের পারমাণবিক যন্ত্রাংশ স্থাপন সম্পন্ন হলো। এর ফলে এই ইউনিটের রিয়াক্টর ভবনের ভেতরের কাজ প্রায় শেষ হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে এ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।