পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল পদ্মা সেতুর সড়কপথ

প্রকল্প নতুন এক মাইলফলক পূরণ করলো আজ সোমবার। এদিন সকালে সেতুতে শেষ স্ল্যাব বসানো হয়েছে। আজ সকাল ১০টা ১২ মিনিটের দিকে সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারে সর্বশেষ রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়। এতে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুতে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল সড়কপথ।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সেতুর মোট ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের সবগুলোই বসানো শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করার ক্ষেত্রে বাকি থাকল শুধু পিচঢালাই।

তিনি বলেন, সেতুর মোট ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে মাত্র তিনটি স্ল্যাব বসানো বাকি ছিল। যার মধ্যে গতকাল রোববার রাতে বসানো হয় দুটি স্ল্যাব। আর আজ সকালে একটি। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

 

এ ছাড়া পদ্মা সেতুর মাঝখান দিয়ে গ্যাসলাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে শেষ হতে চলছে রেললাইনের কাজও। আগামী বছরের জুনের আগেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা হবে। এজন্য এ প্রকল্পে কর্মরত সবাই একযোগে দিনরাত কাজ করে চলেছেন বলে জানান দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।

 

সেতুর মোট ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে সর্বশেষটি আজ সকালে বসানো সম্পন্ন হয়। এর আগে চলতি বছরের ২০ জুন শেষ হয়েছিল দ্বিতল সেতুর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ।

সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত সেতু প্রকল্পের সার্বিক কাজ এগিয়েছে ৮৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ মূল সেতুর কাজের আর বাকি মাত্র ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পিচঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে আগামী অক্টোবর মাসের শেষ দিকে। এ কাজে তিন মাসের মতো সময় লাগতে পারে। সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) সেতু বিভাগকে জানিয়েছে, তারা আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই সব কাজ শেষ করবেন।

সব মিলিয়ে আগামী মে মাসেই পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব। তবে সেতু বিভাগ জানিয়েছে, দিনক্ষণ ঠিক করা হবে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার পর।

 

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে মাওয়া পুরান ফেরিঘাটে মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই সেতুর ফলক উন্মোচন করেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সরকার বদল হলে, থেমে যায় কাজ। আবার ২০০৯ সালে তোড়জোড় শুরু হয় কাজের। অনেক চড়াই-উতরাই পার করে অবশেষে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসানো হয়। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছিল। একই সঙ্গে চলতে থাকে রোডওয়ে ও রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোসহ অন্যান্য কাজ।

 

আজ রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপে পদ্মা সেতু চোখের সামনে শুভ উদ্বোধনের অপেক্ষায়। ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যেই পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে।

হঠাৎ নগর কমিটি বিলুপ্ত, কেন্দ্র নিয়ে নতুন আলোচনা

 

বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন যুবদলকে ঢেলে সাজানোর কাজে হাত দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। এরই অংশ হিসেবে সাড়ে চার বছর পর শনিবার রাতে আকস্মিকভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের তাগিদও শুরু হয়েছে। ফলে বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার যে প্রক্রিয়া চলছিল, তাতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুবদলের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হয়েছে। সংগঠনের নেতাকর্মীদের নতুন করে নানা আলোচনাও শুরু হয়েছে।

সংগঠনের কেউ কেউ বর্তমান অপূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার পক্ষে। এর পক্ষে তাদের যুক্তি- যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে আছেন, তাদের অনেকে পদপদবি পাননি। পূর্র্ণাঙ্গ কমিটি হলে পরিচয় দেওয়ার মতো পদ পাবেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথ ‘সুন্দর’ করবে মনে করেন।

কারও কারও মতে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করলে সময়ক্ষেপণ হবে। তার চেয়ে ভালো, নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা। এতে দলে প্রাণ আসবে। নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব তৈরি হবে।

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলন ও নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন নীতিনির্ধারকরা। সে কারণে অনেকের ধারণা, শিগগিরই যুবদলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-ই গঠন করা হবে।

অবশ্য যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান  বলেন, ‘আমরা যুবদলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার চেষ্টা করছি।’

এদিকে মহানগর কমিটি গঠন হওয়ায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সম্ভাব্য নতুন কমিটির শীর্ষপদে কারা আসতে পারেন তা নিয়েও আলোচনা শুরু করেছেন। অনেকে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। নেতৃত্ব নির্বাচনে যাদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তাদের তালিকাও খুব ছোট নয়। এ তালিকায় রয়েছেন যুবদলের বর্তমান কমিটির সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, শফিকুল ইসলাম মিলটন, আবদুল মোনেম মুন্না, গোলাম মাওলা শাহীন, জাকির হোসেন নান্নুু। এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব ও আকরামুল হাসানের নামও আলোচনায় আছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়টি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেখভাল করেন। শনিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি গঠন নিয়ে তার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ যুবদলের শীর্ষ ৫ নেতা। বৈঠক শুরুর কয়েক মিনিটের মাথায় ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিলটন এবং দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শরিফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীনের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। একই বৈঠকে বিলুপ্ত উভয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিলটন ও শাহীনকে আহ্বায়ক করা হয়। বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলকে উত্তরে ও ছাত্রদলের আগের সভাপতি খন্দকার এনামুল হককে দক্ষিণের সদস্য সচিব করা হয়।

নতুন কমিটি গঠনের পর গতকাল রবিবার নতুন নেতৃত্ব নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলে সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। কমিটি গঠন কেন্দ্র করে সংগঠনের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড়ও ছিল অনেক বেশি। এ সময় সেখানে মহানগরের পদপ্রত্যাশী অনেক নেতাকর্মীকে দেখা যায়। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি এসএম জাহাঙ্গীর ও রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি মজনুকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব করা হয়।

জানতে চাইলে মামুন হাসান বলেন, আশা করি এই কমিটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, সাত দিনের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটির বাকি সদস্যদের নাম জমা দিতে বলা হয়েছে। কত সদস্যের এ কমিটি হবে, সেটি কমিটি জমা দেওয়ার পর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আকস্মিকভাবে কেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের কমিটি ভেঙে দেওয়া হলো? এই প্রশ্নে যুবদলের দায়িত্বশীল নেতারা বিশেষ কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সদ্য বিলুপ্ত কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে ভালোভাবে সমন্বয় হচ্ছিল না। যার কারণে বিভিন্ন ওয়ার্ড থানা কমিটি গঠনে বিলম্ব হচ্ছিল। এ কারণে ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত এসএম জাহাঙ্গীরের কমিটি বিলুপ্ত করা নিয়ে দলের মধ্যে নানা কথাবার্তা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, যেহেতু জাহাঙ্গীরের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে, এখন কেন্দ্রীয় কমিটিও যে কোনো সময় বিলুপ্ত করা হতে পারে। এ অবস্থায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত ১২ নেতা চিন্তায় পড়ে গেছেন। কারণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পদ পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার কথা ছিল।

অবশ্য, জাহাঙ্গীর নতুন কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আগামীর আন্দোলন সংগ্রামে এই নেতৃত্ব অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে আশা করি।

জানতে চাইলে বহিষ্কৃত নেতা এজমল হোসেন পাইলট  বলেন, ‘দলের যে কোনো সংগ্রামে আমরা আবার নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে অংশগ্রহণ করতে চাই। যদিও বহিষ্কার হওয়ার পরও দল ঘোষিত সব কর্মসূচিতে আছি। আমরা আশাবাদী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি দিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সংগঠনে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন।’

যুবদলের কয়েক নেতা বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও ১১৪ সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়ে কাজ চলছে। এ অবস্থায় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হলে যুবদলের কিছু সক্রিয় নেতাকর্মী পদপদবি পেয়ে পরিচয় নিয়ে বিদায় নিতে পারবেন।

 

প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা হান্নান পাটোয়ারী আর নেই

টঙ্গীস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল হান্নান পাটোয়ারী দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত রবিবার দিবাগত রাত নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্যা আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা টঙ্গীর মধুমিতা রেলগেইট সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাঁদপুর জেলা ফরিদগঞ্জ থানার ৫নং গোপতি ইউনিয়নের নারিকেলতলা পাটোয়ারীর বাড়িতে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শোক প্রকাশ ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মো: জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. আজমত উল্লা খান, সাধারণ সম্পাদক, সিটি মেয়র আলহাজ¦ মো: জাহাঙ্গীর আলম, টঙ্গীস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, মহাসচিব শাহরাস্তী পৌরসভার মেয়র আলহাজ¦ আব্দুল লতিফ, কার্যকরী সভাপতি জরিফ আহমেদ মন্টু, সিনিয়র সহ সভাপতি সফিকুল ইসলাম শহীদ, দফতর সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ সাদেক হোসেন খান, সহ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ড. নয়ন পাটোয়ারী,টঙ্গী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক শাহজাহান সিরাজ সাজু, যুগ্ম আহ্বায়ক মো: হেদায়েত উল্লাহ, নাসির উদ্দিন বুলবুল।

পরীমণির পক্ষে বিনা পয়সায় লড়তে চাচ্ছেন আইনজীবীরা

মামলায় কারাগারে আছেন ঢাকাই ছবির আলোচিত নায়িকা পরীমণি। তিন দফা রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

পরীমণিকে মুক্ত করতে আদালতে বর্তমানে আদালতে লড়ছেন আইনজীবী মুজিবর রহমান ও তার দলের আট সদ্যস। কিন্তু বারবার জামিন চেয়েও না পাওয়ায়  এবার পরীর পক্ষে উচ্চ আদালতে বিনা পয়সায় আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না। তার সঙ্গে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের একদল আইনজীবীও।

সোমবার আইনজীবী জেড আই খান পান্না বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরীমনির পক্ষে  বিনা পয়সায় আইনি লড়াই করব। আমার সঙ্গে একদল আইনজীবী থাকবেন। আইনজীবী দলে রয়েছেন- অ্যাডভোকেট মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম, অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল, মাহরিন মাসুদ ভূইয়া, আয়েশা আক্তার, রোহানী সিদ্দিকা, রোহানী ফারুক খান, দেবাজিৎ দেবনাথ, মশিউর রহমান রিয়াদ, মানিবেন্দ্র রায় মন্ডল, নাজমুস সাকিব, ইয়াসমিন ইতি প্রমুখ আইনজীবী।

রোববার রাতে ফেসবুক পোস্টে আইনজীবী জেড আই খান পান্না লিখেন, ‘পরীমনির মামলা বিনা পারিশ্রমিকে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা সঙ্গে থাকতে চান থাকবেন।’

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া মিন্নির পক্ষে আইনি লড়াই করে হাইকোর্ট থেকে জামিন করিয়েছিলেন এই আইনজীবী।

গত ১৯ আগস্ট পরীমনির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম। এর আগে গত ১৩ আগস্ট পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

গত ১০ আগস্ট পরীমনি ও আশরাফুল ইসলাম দীপুর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস। তার আগে গত ৫ আগস্ট পরীমণি ও দীপুর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ। এখন পরীমণি রয়েছেন কাশিমপুর কারাগারে।

গণঅভ্যুত্থানের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল

গণঅভ্যুত্থানের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, গত ১৪ বছর যাবৎ সংগ্রাম করছি, লড়াই করছি। এবার জনগণকে সাথে নিয়ে একটি গণঅভ্যুত্থানের কোনো বিকল্প নেই। আমরা সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাস করি না। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে বিজয় অর্জন করতে চাই। রুহুল আমিন গাজী আজকে সেই সংগ্রামটাই করছেন, সেই লড়াইটাই করছেন।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী মুক্তি পরিষদ আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে সংবিধানের কথা বলছেন। কিসের সংবিধান? সরকার যেটা মুখে বলে সেটাই সংবিধান। আজকে আপনারা কোথায় বিচার চাইবেন? বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নাই। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিম্ন আদালতে সাত বছর সাজা দেয়া হয়েছে আর সেটা হাইকোর্টে যাওয়ার পরে দশ বছর করা হয়েছে। যেই মামলার কোনো ভিত্তি নেই। যে মামলায় দুই কোটি টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটি এখন ওই ব্যাংকে আট কোটি টাকা হয়েছে। এই প্রশ্নগুলো এখন করে আর লাভ নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা গত ১৪ বছর যাবৎ দেখছি, আমরা প্রেসক্লাবের বাহিরে দাঁড়াবো সেটা দিচ্ছে না। আমরা আমাদের পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলবো, সেটাও তারা দিচ্ছ না। অর্থাৎ যখন জনগণ থেকে একটা সরকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তখন ওই পাওয়ার দিয়ে টিকে থাকার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। সরকার সেটাই করছে। আমাদের দাবি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিচালনায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।

মির্জা ফখরুল বলেন, রুহুল আমিন সাহেবকে বেআইনিভাবে দশ মাস আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি শুধু একজন সাংবাদিক না, তিনি একজন স্বাধীনচেতা মানুষ। তিনি সর্বদা সত্য কথা বলেন, কাউকে ভয় পান না। যে কারণে আজকে তাকে একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ১০ মাস আটক করে রাখা হয়েছে। যে আইনে তাকে আটক করা হয়েছে সেটি একটি গণবিরোধী আইন। এটি মুক্ত সাংবাদিকতা বিরোধী আইন।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন কয়েক দিন আগে আমাদের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তারা নিয়ম অনুযায়ী আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলো। সেখানে ১৫/১৬ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। তা দেখে সরকার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গেছে। আসলে সরকারের পায়ের নিচে মাটি নাই তাই একসাথে এত লোক দেখে তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বেধড়ক লাঠিপেটা করেছে এবং ১৮৭ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। পায়ের নিচে মাটি না থাকলে এই ভয়টা হয়। সেখানে আমাদের আব্দুস সালাম, আমানউল্লাহ আমান, আমিনুল ইসলামসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

 

নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, মায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, কবি আব্দুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, ডিআরইউ সভাপতি মোরসালিন নোমানি, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

রোগীর পেটে ‘লাথি মারলেন’ ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা!

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক রোগীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে রোগীর স্বামী-স্বজন এবং পুলিশকেও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আজ রোববার সকালে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী নাম জয়নব বেগম। তিনি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নন্দগ্রাম এলাকার আসলাম আলীর স্ত্রী। তারা বগুড়া শহরের কামারগাড়ি এলাকায় বসবাস করেন।

আসলাম আলী জানান, তার স্ত্রী জয়নব বেগম ছয় সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। পেটে ব্যথাজনিত সমস্যায় গত বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্ত্রীর রক্তক্ষরণ হওয়ায় অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিল। চিকিৎসকদের বিষয়টি জানালেও তারা আমলে নিচ্ছিলেন না।

গতকাল দুপুরে স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হলে আবার তিনি চিকিৎসকদের কাছে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা সমস্যা খতিয়ে না দেখে উল্টো বাগবিতণ্ডা শুরু করেন। চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি মুঠোফোনে ভিডিও করায় চিকিৎসকদের হুমকিতে হাসপাতাল ছেড়ে চলে আসতে হয় তাকে। পরে স্ত্রীকে সেখান থেকে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করাতে চাইলেও চিকিৎসকেরা ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এরপর মুঠোফোনে থাকা ওই ভিডিও মুছে ফেলতে চিকিৎসকেরা কৌশলে রাতে তাকে হাসপাতালে ডাকেন। সেখানে যাওয়ার পর চিকিৎসকদের কক্ষে আটকে রেখে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় তার ছোট ভাই বাঁচাতে এলে তাকেও পেটানো হয়।

আসলাম আলী অভিযোগ করেন, ‘আটকে রাখার খবর পেয়ে আমার স্ত্রী সেখানে ছুটে এলে তাকেও মারধর করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা আমার স্ত্রীর তলপেটে লাথি মারলে তার রক্তক্ষরণ বেড়ে যায়। এ সময় পুলিশ এলে তারাও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হন। পরে সেখান থেকে কোনোরকমে বের হয়ে রাতেই শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে স্ত্রীকে ভর্তি করিয়েছি।’

মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাকিবুল ইসলাম জানান, তিনি খবর পেয়ে হাসপাতালে যান। গিয়ে দেখেন, আসলাম ও তার স্ত্রীকে মারধর করা হচ্ছে। পুলিশ তাদের বাঁচাতে গেলে চিকিৎসকরা তাকেও কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। ওই সময় আসলামের সঙ্গে থাকা টিএসআই আশরাফুল, কনস্টেবল শরীফকেও মারধর করেন চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ রোগীর পেটে লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, রোগীর অবস্থা উন্নতি হলেও ওই রোগীর স্বামী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রোগীদের উসকে দিয়ে কয়েকজনের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে তা অনলাইনে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। রাত ৯টার দিকে আবার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।

একপর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তার ধস্তধস্তি হয়। সেখানে সাদাপোশাকে পুলিশ এসে রোগীর পক্ষ নিলে তাদের সঙ্গেও কথাকাটাকাটি হয়। পরে ওই রোগীর ছাড়পত্র নিয়ে তার স্বজনরা বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করান। তারপরও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শজিমেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। কিন্তু ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কেউই রোগীকে মারধর করেনি। তবে রোগীর স্বামী ও তার দলবলের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতাহাতি হয়েছে।

পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে রোগীর স্বজনের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা পুলিশের সঙ্গেও বাগবিতণ্ডায় জড়ান। তবে বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে।

ডাকাতি মামলায় ওসি সাইফুল তৃতীয় দফায় রিমান্ডে

চট্টগ্রামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০টি স্বর্ণবার ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি সাইফুল ইসলামের তৃতীয় দফা তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ রোববার আবেদনের শুনানি করেন ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ খান। এর আগে গত ১৯ আগস্ট সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলম। ফেনী কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. গোলাম জিলানী সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, ওসি সাইফুলকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার আবার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। এবার জিজ্ঞাসাবাদে আশা করি বাকি পাঁচটি স্বর্ণবার উদ্ধার করতে পারব। এর আগে সাইফুল দুই দফায় চার দিন করে ৮ দিন রিমান্ডে ছিলেন। যে ১৫টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো সাইফুলের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে ডিবির ওই সদস্যরা তার গাড়ি থামান। ওই সময় তার কাছে থাকা ২০টি স্বর্ণবার নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। প্রথমে পুলিশ চারজনকে আটক করে। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী আরও দুজনকে আটক করা হয়। ডিবির ওসি সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ১৫টি বার উদ্ধার করা হয়।

এরপর গত ১০ আগস্ট রাতে গোপাল কান্তি দাস তাদের নামে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিকে, অভিযুক্ত সেই ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় পরিকল্পনাকারী ফেনীর ডিবি পুলিশের সহযোগী চট্টগ্রামের ছমদুল করিম ভুট্টুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

একাধিক বিয়ের কথা জেনে ফেলায় স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর ফাঁসির দণ্ডাদেশ

খুলনায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী পরিমল বাইনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে খুলনার সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার আসামি পরিমল বাইন পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার এএসআই আবদুল মজিদ গাজীরহাট এলাকার পদ্মবিলা ও বামনডাঙ্গা বিলের মাঝে আত্রাই নদীর সংযোগস্থল থেকে মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করেন। লাশের পরিচয় না পাওয়ায় এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার এসআই আসাদুজ্জামান এ ঘটনার  কূলকিনারা করতে পারেননি। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক মীর আতাহার আলী তদন্ত করে স্বামী পরিমল বাইন ও টিপু সুলতান শেখকে গ্রেপ্তার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরিমল বাইন তার স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে এবং ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পরিমল বাইনের একাধিক বিয়ের ঘটনা জেনে যাওয়ায় স্ত্রী মিনারানী পোদ্দার স্বামীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। তাই তাকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করে স্বামী পরিমল। হত্যার জন্য ১০ হাজার টাকায় ভাড়া করা হয় একই এলাকার টিপু সুলতানকে। সে অনুযায়ী ভিকটিমকে তার স্বামী ১৩ এপ্রিল রাতে টিপু সুলতানের বাড়ি নিয়ে যান। বাড়িতে নেওয়ার সাথে সাথে টিপু দা দিয়ে ভিকটিমের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। পরে চুক্তি অনুযায়ী পরিমল খুনী টিপু সুলতানকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

২০১৭ সালের ২০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের দুজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বিচার চলাকালীন সময়ে আসামি টিপু সুলতানের মৃত্যু হলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর অপর আসামি পরিমল জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

টঙ্গীতে তিব্র পানি সংকট

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ৫৬নং ওয়ার্ডে গত ১৫দিন যাবত ওয়াসার পানির তীব্র সংকটে বিরাজ করছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে। ওয়াসার পানির জিম্মি দসা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এলাকার সাধারণ মানুষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে একাধিক বার যোগাযোগ করার পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পানি সংকটের কারনে অনেক ভাড়াটিয়া বাসা—বাড়ী ছেড়ে দিয়েছে। এতে করে অনেক বাড়ীর মালিক ক্ষতিগস্ত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে ৫৬নং ওয়ার্ডে যাদের অর্থ আছে তারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সিটি কর্পোরেশনের ওয়াসার আইন অমান্য করে অবৈধভাবে গভীর নলকূপ বসানোর হিড়িক পড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৫৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পাম্পগুলো পুরাতন হয়ে গেলে মেরামত করতে হয় এজন্য পানির সংকট দেখা দেয়। পানির সংকট থাকায় অবৈধ নলকুপের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন টঙ্গী অঞ্চলের ওয়াসার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, মধুমিতা রোডে পানির পাম্পটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পানি সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করছি।

টঙ্গীতে শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

টঙ্গীতে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও ২১ আগষ্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
রোববার ২২ আগষ্ট বাদ জোহর নগরীর টঙ্গী পূর্ব  থানাধীন দত্তপাড়া এলাকার নবদিগন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে হোসেন মার্কেট আওয়ামী লীগ  ইউনিট কমিটির আয়োজনে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী থানা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ ছাত্তার মোল্লা, টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন খোকন, খা বাড়ি মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও  আওয়ামী লীগ ইউনিট কমিটির সভাপতি  জাহাঙ্গীর আলম,এম এ কাশেম মোল্লা, নুরুল ইসলাম, সফি খান, মন্টু প্রধান, মজিবুর রহমান প্রমুখ।