ওসি একাই ৩ বার ধর্ষণ করেছেন, তারপর এসআই ও অন্যরা!

গৃহ’বধূকে ধরে নিয়ে থানায় আটকে ওসি ওসমান গনি পাঠান একাই পর’পর তিনবার ধর্ষণ করেছেন। পরে এসআই ও অন্যান্য পুলিশ সদস্য’দের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ। এসময় ধর্ষকরা প্রত্যেকেই জন্ম’নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেন।

 

খুলনার জি’আরপি থানায় গত ২ আগস্ট রাতের এ ঘটনায় শুক্র’বার রাতে দায়ের হওয়া মামলায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন ভুক্ত’ভোগী নিজেই। একই’সঙ্গে সেদিন রাতে থানায় যেভাবে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন তা মামলার এজা’হারে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন ওই গৃহবধূ।

 

এদিকে, চাঞ্চল্য’কর এ গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পরও গৃহ’বধূর পরিবারের সদস্যদের একের পর এক হুমকি দিচ্ছে ধর্ষক’রা। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত আসা’মিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

 

৯ আগস্ট রাতে থানায় দায়ের হওয়া মাম’লায় ধর্ষিত গৃহবধূ উল্লেখ করেছেন, আটকের পর ডিউটি অফি’সারের (এসআই) সহায়তায় আমার ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালান ওসি ওসমান গনি পাঠান। ঘটনার দিন রাত দেড়’টার দিকে আমাকে অপর একটি কক্ষে নিয়ে যান ডিউ’টি অফিসার। ওসি ওই কক্ষে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা আট’কে দেন। এরপর মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে পর’পর তিনবার আমাকে ধর্ষণ করেন ওসি।

 

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ষণের সময় জন্ম’নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেন ওসি। ওসির পর আমাকে ধর্ষণ করেন মুখে দাগওয়ালা ডিউ’টি অফিসার। এরপর বাকি তিন’জন পুলিশ সদস্য আমাকে ধর্ষণ করেন। তারা সবাই ধর্ষণের সময় জন্ম’নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। ধর্ষণের সময় আমাকে মার’পিটও করা হয়।

 

আলোচিত এ মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী আরও উল্লেখ করেন, পরদিন শনিবার আমার বিরুদ্ধে পাঁচ বোতল ফেন’সিডিল’সহ মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত আমাকে কারা’গারে পাঠায়। পরে আইন’জীবীর মাধ্যমে রোববার আমাকে আদালতে আনা হয়। তখন আদালতে বিচার’কের সামনে নেয়ার পর জি’আরপি থানায় গণধর্ষণের বর্ণনা দেই আমি। আদালতের বিচারক বক্তব্য শুনে আমার ডাক্তারি পরীক্ষা’র নির্দেশ দেন। সোমবার দুপুরে আমার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করার জন্য আ’দালত থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়ার পর শুক্র’বার আমার মামলা নেয় পুলিশ।

 

এদিকে এরই’মধ্যে এ গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গত সোম’বার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটিকে সাত’দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। পাশা’পাশি পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটিও এ ঘটনা’টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

 

ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গঠন করে দেয়া তদন্ত কমিটি’র প্রধান এসপি সেহেলা পারভীন ওই থানার পুলিশ সদস্য ও ধর্ষ’ণের শিকার গৃহবধূ এবং তার পরিবা’রের সঙ্গে কথা বলেছেন। সে বিষয়ে সংবাদ’মাধ্যমকে এখনও কিছুই না জানালেও ‘তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হবে’ বলে জানি’য়েছে তদন্ত কমিটি

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে এনেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে বিষয়টি নজরে আনেন।

আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ আদালতে বলেন, মাই লর্ড ফৌজদারি কার্যবিধিতে রিমান্ডের কোনো বিধানই তো নেই। এরপরও চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বার বার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। আমি আদালতের কাছে রিমান্ড বন্ধে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ প্রার্থনা করছি।

তখন আদালত বলেন, কোন মামলায় রিমান্ড চাচ্ছে বা চাচ্ছে না, তা খবর দেখে অনেক সময় বোঝা যায় না। মনে করেন, এক মামলায় আটক করেছে, তারপর একাধিক মামলা হচ্ছে। একেক সময় একেক মামলায় রিমান্ডে নিচ্ছে। এটি তো নিতেই পারে। তবে কতবার রিমান্ড নিচ্ছে, কতদিন রিমান্ড নিচ্ছে, এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আদালত বলেন, চাইলে এসব উল্লেখ করে নিয়মিত রিট করতে পারেন। এগুলোতে সুয়োমোটো রুল (স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ) ইস্যু করা যায় না। যথাযথ আবেদন নিয়ে আসতে পারেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমনিকে আজ তৃতীয় দফায় রিমান্ডে পেয়েছে সিআইডি। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত পরীমনির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বনানী থানায় করা এই মামলায় পরীমনিকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল সিআইডি। শুনানি শেষে আদেশ দেন আদালত।

পরীমনিকে প্রথম দফায় চার দিন ও দ্বিতীয় দফায় দুদিন রিমান্ডে নিয়ে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। ৪ আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন র‍্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান।

গাজীপুরে লুণ্ঠিত পিকআপ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫

গাজীপুরে লুণ্ঠিত একটি পিকআপ উদ্ধারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ (উত্তর) জাকির হাসান জানান, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, গাইবান্ধার হাফিজুর রহমান ওরফে রানা (২২) , মো. ফিরোজ ওরফে কেরানী (২২), রংপুরের এরশাদ ওরফে সাবু (২৫), ঝালকাঠির আকাশ ওরফে রানা (২০) এবং নয়ন মল্লিক (২৭)।

জাকির হাসান জানান, গত ১৮ অগাস্ট রাতে ভাড়া করার নামে কৌশলে পিকআপটি লুট করে তারা।

এ ঘটনায় পিকআপ মালিক মো. সুজন কাশিমপুর থানায় মামলা করেন।

পরদিন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকার গাবতলী, আদাবর, গাজীপুরের কাশিমপুর এবং ভোগড়ায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে বলেন তিনি।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারই গ্রেনেড হামলার জন্য দায়ী : প্রধানমন্ত্রী

মানুষ মারা কোন ধরনের গণতন্ত্র ছিল-তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলার দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভায় তিনি এমন প্রশ্ন করেন। গ্রেনড হামলার জম্য তিনি জামায়াত বিএনপি জোট সরকারকে দায়ী করেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ওই সভায় যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্রেনেড হামলায় মানুষ মারা কোন ধরনের গণতন্ত্র ছিল?’ তিনি বলেন, ‘আক্রমণকারীদের রক্ষা করার জন্য সেদিন ভয়াবহতার মধ্যেই পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে। সব আলামত সিটি করপোরেশনের গাড়িতে পানি এনে তা দিয়ে ধুয়ে নষ্ট করা হয়েছে। একটা গ্রেনেড অবিস্ফোরিত থেকে যায়, সেটিও সংরক্ষণের কথা বলায় একজন অফিসারকে ধমকানো হয়। পরে তাকে নির্যাতনও করা হয়েছে। সরকারের সহযোগিতা না থাকলে তো এমন হতে পারে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওইদিন রাত ১১টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে চারজনকে দেশ থেকে বাইরে পাঠিয়ে দেন খালেদা জিয়া (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী)। তার মধ্যে তাজউদ্দীনও ছিল। শোনা যাচ্ছে, তখন কর্নেল রশিদ ও ডালিম ঢাকায় এসেছিল। তাদের রক্ষা করে খালেদা জিয়া। যখন তারা জানলো- আমি মরি নাই। তখন দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও জড়িত ছিল।’

২১ আগস্টের ক্ষেত্র তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আগস্ট মাস আসেই শোক ব্যথা-বেদনা নিয়ে। ১৫ আগস্ট জাতির পিতা, আমার ভাই-বোনসহ সবাইকে হারালাম। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আমাদের চরম যন্ত্রণা ও কষ্টের। বিএনপির অত্যাচারটা শুরু হয়েছিল ২০০১ সালের ১ অক্টোবর থেকেই। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতোই নির্যাতন শুরু করেছিল।’

advertisement

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর হামলা হলো। আমরা সেটার প্রতিবাদ করলাম। সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ ডাকলাম। মুক্তাঙ্গনে সভা হওয়ার কথা ছিল, অনুমতি দেয়নি। মধ্যরাতে পার্টি অফিসের সামনে করার অনুমতি দিলো। তখনই সন্দেহ হল কেন এত রাতে অনুমতি দিলো। প্রকাশ্যে দিবালোকে এভাবে গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যা করবে, তা কখনো ভাবিনি।’

বাবার পথ ধরেই এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রেনেড, বোমা, বুলেট দিয়ে বারবার হত্যাচেষ্টা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে নেতাকর্মীরা আমাকে বাঁচিয়েছেন।’

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা গুম-খুনের কথা বলে। তাদের হারিস চৌধুরী, সালাউদ্দিন আরও কে কে গুম হয়েছে বলে বেড়ায়। পরে বিদেশে খোঁজ পাওয়া যায়। কেউ ভারতে, লন্ডনে বা আমেরিকায়। আসলে তারা নিজেরা নিজেদের গুম করে রাখে। এটাও এ দেশে ঘটে, দুর্ভাগ্য।’

সভায় ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলার স্মৃতিচারণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ও বিএমএ’র সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী প্রমুখ।

তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে আদালতে পরীমনি, কারাগারে পাঠানোর আবেদন

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত ও সমালোচিত নায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেছে সিআইডি।
আজ শনিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে আদালতে আনা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক (নি.) কাজী গোলাম মোস্তফা তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমামের আদালতে আজ দুপুর আড়াটার দিকে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের উপর শুনানি হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বনানী থানার মাদক আইনের ওই মামলায় তৃতীয় দফায় এক দিন রিমান্ডে নিয়ে এ চিত্রনায়িকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম এ রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক (নি.) কাজী গোলাম মোস্তফা ওইদিন পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পরীমনিকে রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের শেষ দিকে এ আসামি মামলার ঘটনা ও ঘটনার নেপথ্যে মূল হোতাদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তার দেওয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ অবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরীমনিকে ইতিপূর্বে আদালতের আদেশে পুলিশ রিমান্ডে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদে যে সকল তথ্য দিয়েছে তা সঠিকতাসহ মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্যের মজুদ উদ্ধারসহ মাদক ব্যবসার পিছনে অর্থের যোগানদাতাদের খুঁজে বের করার জন্য পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।’

আবেদনে আরও বলা হয়, তাকে (পরীমনি) রিমান্ডে পাওয়া গেলে মাদক ব্যবসায়ী মূল হোতাদের গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎসসহ অপরাপদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে। পরীমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্তরালে বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে মর্মে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে পরীমনি ও তার ম্যানেজারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তার আগে গত ৫ আগস্ট পরীমনি ও রাজ এবং তাদের ম্যানেজারদের মাদক মামলায় চারদিন করে ও গত ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুদিন করে রিমান্ডে পাঠান আদালত।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিকেল ৪টার পরপরই বনানীর ১২ নম্বর রোডের পরীমনির বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এ সময় পরীমনির বাসা থেকে ১৮.৫ লিটার বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস, এক স্লট এলএসডি এবং একটি পাইপ উদ্ধারের কথা বলা হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান মাদক আইনে একটি মামলা করেন।

মামলায় বলা হয়, পরীমনি এসব মাদকদ্রব্য কবির নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাসায় রাখতেন। মামলায় কবিরের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা উল্লেখ নেই।

একই মামলায় আবার র‌্যাব দাবি করেছে, চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তিনি প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করতেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের যে ধারায় পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারলে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

আরও উল্লেখ্য, গত জুনে রাজধানীর আশুলিয়ায় অবস্থিত বোট ক্লাবের ঘটনায় আলোচনায় আসেন নায়িকা পরীমনি। আশুলিয়ার এ ক্লাবে গভীর রাতে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত ১৪ জুন তিনি ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় নাসির ইউ মাহমুদ ও তার সহযোগী পরিমনির বন্ধু তুহিন সিদ্দিকী অমি গ্রেপ্তার হন। সম্প্রতি নাসির উদ্দিন আহমেদ জামিন পেয়েছেন।

খোঁজ মিলছে না তালেবান শীর্ষ নেতার

তালেবান যোদ্ধারা পাঁচদিন আগে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলেও খোঁজ মিলছে না তালেবান শীর্ষ নেতা হাইবাতুল্লা আখুন্দজাদার। তিনি কোথায় তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না কেউ। ছয় মাস আগে শেষবার এই নেতার কথা শোনা গেলেও এখনো আড়ালেই রয়েছেন তিনি। অথচ নতুন সরকার গঠন করে তালেবান শাসন কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে তালেবানের শীর্ষ এই নেতার অবস্থান এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

গতকাল শুক্রবার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আখুন্দজাদা সম্ভবত পাকিস্তানে রয়েছেন। বিদেশি গোয়েন্দারা তালেবান শীর্ষ নেতার অবস্থান সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছিল ভারতকে। সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারত জেনেছে, আখুন্দজাদা পাক সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে যদি তথ্যটি সত্যি হয়, তবে পাকিস্তান এরপর কী করবে, তা জানতে আগ্রহী ভারত।

এর আগে আফগান তালেবানকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমরান খান। এই পরিস্থিতিতে তালেবান শীর্য নেতা যদি সত্যিই পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকেন, তবে পাকিস্তান এই পরিস্থিতিকে কীভাবে সামলাবে সেটাই দেখতে চায় ভারত। দেশটির বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্মচারী এমনটাই জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর পদে যারা বসতে পারেন বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, আখুন্দজাদা তার শীর্ষে ছিলেন। আখুন্দজাদা তালেবানের শীর্য পদে বসেন ২০১৬ সালে। আমেরিকার ড্রোন হামলায় প্রাক্তন নেতা আখতার মনসুরের মৃত্যুর পর একটি বৈঠকে পদোন্নতি হয় তার। সেই বৈঠকও বসেছিল পাকিস্তানে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

হেফাজতের ‘নতুন আমির’ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলামের প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে আমির ঘোষণা করল সংগঠনটি। আজ বৃহস্পতিবার রাতে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর জানাজার আগে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা মাওলানা মুহিব্বুল্লাহকে আমিরের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলামের ছেলে মোরেশদ বিন নুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বেলন, ‘সংগঠনের শুরা মিটিং হয়নি, ফোনে ফোনেই আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে মহাসচিব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এর আগে, গত ৭ জুন হেফাজতের ঘোষিত কমিটির ১৬ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। প্রয়াত হেফাজত আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী ও প্রধান উপদেষ্টা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী দুজনে সম্পর্কে আপন মামা-ভাগ্নে।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার শাইখুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যু হয়।

পরে জুনায়েদ বাবুনগরীর মরদেহ রাখা হয় হাটহাজারী মাদরাসায়। সেখানে রাত ১১টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে হাটহাজারী মাদরাসায় দাফন করা হয় তাকে।

তালেবানের কথা-কাজে এখনই গরমিল

আফগানিস্তান ছাড়তে মরিয়া মানুষগুলো আটকা পড়ছেন কাবুলের মোড়ে মোড়ে। ‘তালেবান ২.০’ শাসনের শুরুতেই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির কথা ও কাজে গরমিল পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশ ছেড়ে যারা যেতে চায়, তাদের বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে চিত্র উল্টো। কাবুলের বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সেই পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন না প্রাণ-শঙ্কায় থাকায় আফগানরা। তালেবানের সশস্ত্র সদস্যরা মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চৌকিতে তাদের বাধা দিচ্ছে, ফেরত পাঠাচ্ছে, এমনকি নির্যাতন করছে বলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রতিনিধিদের বরাতে জানাচ্ছে বিবিসি, আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান। জাতিসংঘের গোয়েন্দা ইউনিট বলছে, যারা আফগান যুদ্ধে আমেরিকা ও এর মিত্র সামরিক জোট ন্যাটোকে সহযোগিতা করেছে, তাদের তালিকা তৈরি করে ‘হত্যার জন্য ঘরে ঘরে কড়া নাড়ছে’ তালেবান।

এদিকে গতকাল আফগানিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে দেশি ও প্রবাসী আফগানরা স্বাধীন পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি ও এএফপি। কেন্দ্রীয় রাজধানী কাবুলের রাজপথেও আফগান পতাকা নিয়ে ‘গৌরবের মিছিল’ করেছেন অনেকে। কুনার প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদেও বড় জনমিছিল হয়েছে। এ সময় তালেবানের গুলিতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। এর আগের দিন নঙ্গরহার প্রদেশের রাজধানী জালালাবাদে জাতীয় পতাকা সরিয়ে তালেবানের নতুন রাষ্ট্র ভাবনার পতাকা উড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘাতে অন্তত তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে।

আফগানিস্তান ১৯১৯ সালের ১৯ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়। তখন থেকে প্রত্যেক বছর ১৯ আগস্টকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে দেশটি।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা সরানো শুরু করলে তালেবান এ মাসের শুরুর দিকে একে একে ২৫টি প্রদেশ দখল করে নেয়। ১৫ আগস্ট তারা কাবুল দখল করে, চূড়ান্ত পতন হয় নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকারের।

advertisement

এর আগে ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করেছিল। দেশজুড়ে চার বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা কাবুল দখল করার পর তালেবানের পতাকা উড়িয়েছিল সরকারি ভবনগুলো থেকে। ক্ষমতা জোর করে কেড়ে নেওয়ার পর তালেবান প্রথম যেসব কাজ করেছিল, তার মধ্যে ছিল তৎকালীন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহকে প্রকাশ্যে হত্যা। তালেবান নীতি ঠিক করে দিয়েছিল, নারীরা কাজে যেতে পারবেন না, মেয়েরা স্কুলে যেতে পারবে না। নারীদের বাধ্যতামূলক মুখ ঢেকে রাখতে হবে এবং বাড়ির বাইরে গেলে অবশ্যই সঙ্গে পুরুষ স্বজন থাকতে হবে। পাথর ছুড়ে মেরে ফেলা ও অঙ্গ ছেদÑ এ রকম কঠিন শাস্তির প্রচলনও করেছিল তালেবান।

কিন্তু এবার কৌশল বদল করার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল তালেবানের কথায়। মঙ্গলবার কাবুলে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়, যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা মানুষ, মিলিশিয়া, সেনা, পুলিশ এবং সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে, নিঃশর্ত সাধারণ ক্ষমা করে দিয়েছে। তারা তরুণদের ‘সম্পদ’ অভিহিত করে দেশ না ছাড়ার অনুরোধ জানায়; কিন্তু কেউ চলে যেতে চাইলে বাধা না দেওয়ার অঙ্গীকার করে। নারী অধিকার ও মেয়েদের শিক্ষার অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়, অবশ্য ‘যতটুকু শরিয়া আইন সমর্থন করে’। গণমাধ্যমকেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আর একটি ‘সর্বদলীয়’ ধাঁচের সরকার গঠনের কথাও জানিয়েছে তালেবান।
কিন্তু দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনগুলোয় এসব প্রতিশ্রুতি এখনই ভঙ্গের ছাপ উঠে এসেছে। কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনেক ফ্লাইট পর্যাপ্ত যাত্রী না নিয়েই ফিরে যাচ্ছে গন্তব্যে। এ অন্যতম কারণ, বিশেষত দেশত্যাগে ইচ্ছুক আফগানরা বিমানবন্দরেই যেতে পারছেন না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তালেবান সদস্যরা লোকজনকে বিমানবন্দরের ভেতরে যেতে বাধা দিচ্ছে, যাদের ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে তাদেরও বাধা দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ দিনে কাবুলের প্রধান বিমানবন্দরটিতে ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, তবে কারা দায়ী তা স্পষ্ট নয়।

জাতীয় পতাকা নিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে তালেবান। রক্তপাত হয়েছে, মানুষের প্রাণ গেছে।
এদিকে তাজিকিস্তানে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত জহির আগবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তালেবানবিরোধীদের দুর্গ হবে আফগানিস্তানের পঞ্জশির প্রদেশ এবং এর নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আরুল্লাহ সালেহ।

রয়টার্স বলছে, সরু পঞ্জশির উপত্যকায় আজও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আশির দশকে মুজাহিদিন নেতা আহমদ শাহ মাসউদের বাহিনীর হাতে ধ্বংস হওয়া সোভিয়েত যুদ্ধযানগুলো। এলাকাটি এক সময় তালেবানবিরোধীদের অন্যতম ঘাঁটি হয়ে ওঠে। ২০০১ সালে তালেবান সরকারকে হটাতে পঞ্জশিরভিত্তিক জোটগুলোর সাহায্য নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও। আগবর বলেছেন, ‘আমি বলব না, তালেবান যুদ্ধে জিতেছে। যুদ্ধ এখনো বাকি।’

মার্কিন সমরাস্ত্র নিজেদের কব্জায় নিয়েছে তালেবান

গোটা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আফগান সরকারি বাহিনীর সমরাস্ত্রেরও দখল নিয়েছে তালেবানরা। এসব সমরাস্ত্র আফগান সেনাবাহিনীকে উপহার হিসেবে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এক মাস আগে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন সাতটি হেলিকপ্টারের ছবি দিয়েছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। কিন্তু এর কয়েক সপ্তাহ পরে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। ফলে সেইসব হেলিকপ্টারও এখন তালেবানের জিম্মায়। তবে কী পরিমাণ যুদ্ধের সরঞ্জাম তালেবানের হাতে পড়েছে, তার সঠিক হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে ২ হাজারের মতো সাঁজোয়া যান, যার মধ্যে হামভি যানও রয়েছে; রয়েছে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ ৪০টি উড়োজাহাজ, স্ক্যানইগল মিলিটারি ড্রোন – এগুলো তালেবানের হাতে পড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা। এক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এমন ধারণা পোষণ করেন।

কাবুল সরকারের পতন ঘটার পর এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সাঁজোয়া যানের বহরের সামনে তালেবান সদস্যরা, তারা পরীক্ষা করে দেখছে নতুন নতুন নানা সমরাস্ত্র। এর সঙ্গে ছিল ড্রোনও।

এদিকে তালেবান যোদ্ধাদের হাতে আমেরিকান অস্ত্র পৌঁছে যাওয়াকে আমেরিকা ও তার মিত্রদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য মাইকেল ম্যাককউল।

এক পরিসখ্যানে দেখা যায়, ২০০২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীকে ২৮০০ কোটি টাকার সমরাস্ত্র দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দুক, রকেট, নাইট-ভিশন গগলস, গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর জন্য ড্রোন।

তবে উপহারের তালিকায় সবকিছুর উপরে ছিল ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার। তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগান সেনাদের এটা বেশ এগিয়ে রাখত।

তবে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের নেতৃত্বদাতা অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলছেন, যে সমরাস্ত্রগুলো তালেবানের হাতে গেছে, সেগুলো স্পর্শকাতর প্রযুক্তি সম্বলিত নয়। তিনি বলেন, বেশিরভাগে ক্ষেত্রে বলা যায়, এগুলো এখন ট্রফি হিসেবে সাজিয়ে রাখার মতো।

২০০৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আফগান পদাতিক বাহিনীকে এম১৬ রাইফেলসহ কমপক্ষে ৬ লাখ অস্ত্র, ১ লাখ ৬২ হাজার যোগাযোগ সরঞ্জাম, ১৬ হাজার নাইট-ভিশন গগলস দিয়েছে। জেনারেল ভোটেলসহ অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, মেশিনগান, মর্টারের মতো যেসব অস্ত্র তালেবান পেয়েছে, সেগুলো তাদের লড়াইয়ে কাজে দেবে।

আফগানিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসে তালেবানদের লুটপাট

আফগানিস্তানের কান্দাহার ও হেরাটে ভারতীয় দূতাবাসে লুটপাট চালিয়েছে তালেবানরা। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে, এই দুই শহরের দূতাবাস থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া দূতাবাসের সামনে থাকে তারা গাড়িও ছিনতাই করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

আফগানিস্তানে ভারতের চারটি দূতাবাস রয়েছে। কাবুল ছাড়াও কান্দাহার, হেরাট ও মাজার-ই-শরিফে ভারতের দূতাবাসগুলো কাজ করে। তালেবান ক্ষমতা দখল করার আগে থেকেই অশান্তির আঁচ পেয়ে এই দূতাবাসগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তালেবান ক্ষমতা দখল করার পর গত মঙ্গলবার কাবুল থেকে ১৭০ জনকে উদ্ধার করে ভারত। উদ্ধার করা হয় ভারতের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মী ও সেই সব ভারতীয়দের, যারা আফগানিস্তানের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। উদ্ধার করা হয় ভারতীয় সাংবাদিকদেরও। যদিও এখনো আফগানিস্তানে বেশ কয়েকজন ভারতীয় আটকে রয়েছেন।

কাবুল দখলের পর থেকে শহরের প্রায় প্রতি দরজায় হানা দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে তালেবান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, জাতিসংঘের এক নথিতে বলা হয়েছে, নানা মাধ্যমে জানা গেছে তালেবান একটি তালিকা তৈরি করেছে। মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর হয়ে কাজ করেছেন, এমন আফগানদের নাম রয়েছে তালেবানদের তালিকায়। তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনে শাস্তি দিতে চায় তালেবান।

নথিতে আরও বলা হয়, যারা ইতিমধ্যে পালিয়ে গেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, নিজে থেকে ধরা না দিলে পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হবে। এমনকি তালেবানের পক্ষ থেকে অনেকে হত্যার হুমকিও পেয়েছেন। যদিও কাবুল দখলের পর বিদেশি বাহিনীদের সহায়তাকারী আফগানদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তালেবান।

এর আগে গত মঙ্গলবার প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। এ সময় তার কাছে বিদেশি বাহিনীগুলোর জন্য এত দিন যারা দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘কাউকেই শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে না। যেসব তরুণ এখানে বড় হয়েছে, আমরা তাদের ছাড়তে চাই না। তারা আমাদের সম্পদ। কেউ তাদের দরজায় টোকা দিয়ে জানতে চাইবে না তারা কার জন্য কাজ করেছে। তারা নিরাপদে থাকবে। কেউ তাদের জেরা বা তাড়া করবে না।’

এ বিষয়ে আফগানিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রদূত রুদ্রেন্দ্র ট্যান্ডোন জানিয়েছেন, ২০০ জনকে শেষ তিনদিনে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদেরও ফিরিয়ে আনা হয়েছে।