টঙ্গীতে ৫৫ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল টঙ্গীর মিলগেইট এ বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫৫ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের আহবায়ক মোঃ দেলোয়ার হোসেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বেগম শামসুন্নাহার ভুইঁয়া এমপি। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব ওসমান আলী, টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রজব আলীসহ অনান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অবিলম্বে বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অনান্য খুনি পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করে ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবী জানায়।
জাতীয় পতাকা নিয়ে তালেবানের সঙ্গে বিক্ষোভ, নিহত ২
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পূর্বদিকে অন্যতম প্রধান শহর জালালাবাদ। সেখানে তালেবানের পতাকা নামিয়ে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা। এ সময় গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
আল–জাজিরার সাংবাদিক রক ম্যাকব্রাইড কাবুল থেকে জানান, ‘আফগানিস্তানের অবস্থা এখনো সহিংস। জালালাবাদ থেকে আমরা বেশ কয়েকটি গুরুতর বিশৃঙ্খলার খবর পেয়েছি। কাবুলের পূর্বদিকের এই শহরটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরীও। সেখানে জাতীয় পতাকাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তালেবান দখল নেওয়ার পর থেকে তারা আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা সরিয়ে তালেবানের পতাকা টানিয়ে দিচ্ছিল। আমরা কাবুলেও এটা দেখেছি। অনেকেই তালেবানের এ আচরণে নাখোশ। তারপর তারা মেনে নিয়েছে। কিন্তু জালালাবাদের লোকজন তা মেনে নেয়নি। সেখানকার লোকজনের একটি বড় অংশ এর প্রতিবাদ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে শ খানেক লোক পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন। পরে তারা জালালাবাদের গুরুত্বপূর্ণ স্কয়ারে আবারও জাতীয় পতাকা টানিয়ে দেন। এ নিয়ে তখন তালেবানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। গোলাগুলিতে তিনজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।’
এদিকে বিবিসির পশতু সার্ভিসের খবরে বলা হয়, জালালাবাদ, কুনার ও খোস্ত শহরে দেশটির জাতীয় পতাকা হাতে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। তবে এই বিক্ষোভ এখনই পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে কি না, তা বলার সময় আসেনি। তবে দ্রুতই অনেক কিছু পাল্টে যাচ্ছে ও তালেবান এ নিয়ে চিন্তিত বলে বিবিসির পশতু সার্ভিসের সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন।
অবশেষে জানা গেল আশরাফ গনির অবস্থান
কাবুল থেকে পালিয়ে প্রথমে তাজাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আফগানিস্তানের সদ্য ক্ষমতাচ্যূত প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। সেখানে আশ্রয় না পেয়ে বিমান ঘুরিয়ে ওমান পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে তার সর্বশেষ অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। তবে তিনি পরিবার নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন বলে বুধবার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মানবিকতার খাতিয়ে গনিকে সপরিবারে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে।
এদিকে, আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশরাফ গনি চারটি গাড়ি ভর্তি নগদ অর্থ সাথে নিয়েছিলেন বলে আফগানিস্তানে অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন।
দীর্ঘ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন আশরাফ গনি। ২০১৪ সালে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে, সেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন তিনি। তবে তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাই শেষ পর্যন্ত গনি দেশটিতে আশ্রয় নিতে পারেন বলে জল্পনা চলছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সচিব কমিটির সভায় ভার্চুয়ালি গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে এই নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া দরকার এবং সেটা খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো না, আমাদের স্কুলগুলোও খোলা…আমি ধন্যবাদ জানাই, আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।
শেখ হাসিনার আরও বলেন, কাজেই এটাই (স্কুল খুলে দেয়া) এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাচ্চারা ঘরে থাকতে থাকতে তাদেরও কষ্ট হচ্ছে। কাজেই সেদিকেও আমাদের নজর দেয়া দরকার।
সরকার প্রধান বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ের মানুষগুলো যেন উন্নত জীবন, দারিদ্রের হাত থেকে মুক্তি, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার সুযোগ পায়। বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতেও যেন একইভাবে এগিয়ে যেতে পারে, সেভাবে আমাদের কার্যক্রম চালাতে হবে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়; ১৮ মার্চ আসে মৃত্যুর খবর। ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে আরোপ করা হয় নানা বিধিনিষেধ, ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গত বছর থেকে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে কয়েকবার ইঙ্গিত দিলেও সর্বশেষ ঘেষণায় সরকার ছুটি বাড়িয়ে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করেছে। এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রসঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী।
আফগান বাহিনী লড়াই করছে না, সেখানে মার্কিন সেনারা কেন জীবন দেবে: বাইডেন
তালেবানের হাতে মার্কিন সমর্থক সরকারের পতন হয়েছে। ফলে নিজ দেশেই তোপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ অবস্থায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন তিনি।
ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আফগান পরিস্থিতির জন্য সব দায় কাবুলের ওপরেই চাপিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা ব্যক্ত করেন।
সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া ভাষণে জো বাইডেন বলেন, ‘আফগানিস্তানে দেশ গঠনের কোনো লক্ষ্যই ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের। তবে জঙ্গি হামলা মোকাবিলার যে লক্ষ্য ছিল, তা সফল হয়েছে। দুর্বল করে দেয়া হয়েছে আল কায়দাকে। আফগানিস্তানে আমাদের অভিযানের একটাই লক্ষ্য ছিল, যেন যুক্তরাষ্ট্রে জঙ্গি হামলার জন্য দেশটির মাটি ব্যবহার না হয়।’
বাইডেনের বক্তব্য, আফগান বাহিনী নিজেদের জন্য লড়াই করছে না। সেখানে মার্কিন সেনারা কেন লড়াই করে জীবন দেবে? তবে প্রয়োজন হলে ‘সন্ত্রাসে’র বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারে নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেন, ‘আমি আমার সিদ্ধান্তে পুরোপুরি অটল রয়েছি। সব সময় আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে মার্কিন জনগণের সঙ্গে থাকব।’
‘মার্কিনীরা এমন যুদ্ধে লড়াই করে মরতে পারে না, যেখানে আফগানরা নিজেরাই যুদ্ধ করতে ইচ্ছুক নয়।’ বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে বাইডেন স্বীকার করেন যে, তালেবান তাদের প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুততার সঙ্গে আফগানিস্তান দখল করে নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘২০ বছর পর এসে আমি শিখেছি যে, আফগানিস্তান ত্যাগ করার জন্য কখনোই ভালো সময় ছিল না। আমি নতুন করে এ ভুল করতে পারি না। তাই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ প্রেসিডেন্ট যে আফগানিস্তানে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছে। পঞ্চম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আফগানিস্তানে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য আমি আর এই যুদ্ধের দায় রাখতে চাই না।’
বাইডেন জানান, আফগানিস্তানে কূটনীতিক চাপ অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন।
আফগান জনগণের পক্ষে সমর্থন রাখার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা রোধে আঞ্চলিক কূটনীতি তৎপরতার চাপ রাখতে হবে। এছাড়া কথা বলতে হবে আফগান জনগণের মৌলিক অধিকারের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলছি, অবশ্যই আমাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে মানবাধিকার। কিন্তু দীর্ঘদিন সামরিক শক্তি মোতায়েন মানবাধিকার রক্ষার কোনো মাধ্যম হতে পারে না।’
‘আমরা যে খারাপ অবস্থা এখন দেখছি তাতে নতুন করে আরও সৈন্য মোতায়েন করলেও আফগানিস্তানে কখনো শান্তি ফিরে আসবে না।’
শিক্ষকের হাতে-পায়ে ধরেও ক্ষমা পেলো না শিক্ষার্থী মৃদুল
‘স্যার আমি এতিম, আমার মা বাবা নেই, আমাকে মাইরেন না। স্যারের হাতে পায়ে ধরেও ক্ষমা পাইনি। স্যার আমাকে বেদম মারধর করেছেন। আমি এখন চলা ফেরা করতে পারিনা’- এভাবেই কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সিতাইকুন্ড নেছারউদ্দিন তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র তৌফিক জামান মৃদুল।
আজ মঙ্গলবার তৌফিক জামান মৃদুলের বাড়িতে গেলে অসুস্থ মৃদুল এভাবেই তাকে মারধরের কথা উল্লেখ করেন। মৃদুল উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের সিতাইকুন্ড গ্রামের মৃত মনিরুজ্জামানের ছেলে।
জানা গেছে, গত বুধবার (১১ আগস্ট) সিতাইকুন্ড নেছারউদ্দিন তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির ছাত্রদের মাঝে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলার প্রথমার্ধে নবম শ্রেণীর দল অষ্টম শ্রেণীর দলকে ৩টি গোল দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র তামিম হোসেন হাওলাদারের সাথে তৌফিক জামান মৃদুলের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তামিম মৃদুলকে লাথি মারে। এ সময় মৃদুলও তামিমকে লাথি মারে। খেলার মাঠে এ দৃশ্য দেখে তামিমের পিতা স্কুল শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন দৌড়ে মাঠে গিয়ে মৃদুলকে বেধড়ক মারধর করে। মারধরে গুরুত্বর আহত মৃদুলকে প্রথমে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এ হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলে অর্থের অভাবে পূর্ণ চিকিৎসা না করিয়ে মৃদুলকে বাড়ি নিয়ে আসে তার পরিবার। মৃদুল বর্তমানে শয্যাশায়ী অবস্থায় তার বাড়িতে রয়েছে।
মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনা : চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাদীর নারাজি
তরুণী মোসারাত জাহান (মুনিয়া) আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে দাখিল করা প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেছেন বাদিনী মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান। নারাজিতে পুলিশ মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত না করে প্রভাবিত হয়ে ‘অভিযোগ প্রমাণিত হয় নাই মর্মে আসামিকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন’ মর্মে উল্লেখ করে মামলা অন্য তদন্ত সংস্থা দিয়ে তদন্ত করার আবেদন করেন।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী ওই নারাজির উপর শুনানি গ্রহণ করে পরে আদেশ দিবেন মর্মে জানিয়েছেন। এর আগে গত ১৯ জুলাই আদালতে ওই ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ দাখিল করে পুলিশ। ওই প্রতিবেদনে মুনিয়ার আত্মহত্যায় বসুন্ধরার এমডি সায়েমে সোবহান আনভীরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি মর্মে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যার পর গুলশান-২-এর একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামের এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই তরুণীর বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহানকে আসামি করেন।
নিততের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান। তাদের বাড়ি কুমিল্লার উজির দিঘিরপাড়। এক লাখ টাকা ভাড়ায় মাস দুয়েক আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন মোসারাত। মামলার পর গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসান এর আবেদনে আনভীরের বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন সিএমএম আদালত।
বাদী মামলার এজাহারে বলেন, মোসারাত জাহান (২১) মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তারা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সবসময় মোবাইলে কথা বলতেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তারা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আসামির মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং তাকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে তার (বাদী নুসরাতের) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, সবশেষ গত ১ মার্চ মোসারাতকে প্ররোচিত করেন আসামি। তিনি বাসা ভাড়া নিতে বাদী নুসরাত ও তার স্বামীর পরিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তার (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখা হয়। আসামি বাসায় এলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।
বাদী নুসরাত এজাহারে বলেন, বোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তাকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবেন। কারণ দেশে থাকলে আসামির মা-বাবা আসামিকে কিছু না করলেও তার বোনকে মেরে ফেলবেন। গত ১ মার্চ থেকে আসামি মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন।
বাদী এজাহারে বলেন, গত ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করে বলেন, আনভীর তাকে বকা দিয়েছেন। বলেছেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রীর বান্ধবী পিয়াসা দেখেছেন। তিনি তার (আসামির) মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন।
এজাহারে বলা হয়, আসামি মোসারাতকে বলে, তিনি দুবাই চলে যাচ্ছেন, সে যেন কুমিল্লায় চলে যায়। আসামির মা জানতে পারলে তাকে (মোসারাত) মেরে ফেলবেন।
এজাহারে নুসরাত বলেন, দুদিন পর গত ২৫ এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। ওই সময় তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভোগ করেছেন। আসামিকে উদ্ধৃত করে মোসারাত বলেন, আসামি তাকে বলেছেন, তিনি (মোসারাত) তার শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মোসারাতকে তিনি ছাড়বেন না। মোসারাত চিৎকার করে বলেন, আসামি তাকে ধোঁকা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তার বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তারা (বাদী নুসরাতের পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, নুসরাত তার আত্মীয়স্বজন নিয়ে বেলা দুটার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মোসারাতের ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তারা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাটের মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তার বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশ এসে ওড়না কেটে মোসারাতের মৃতদেহ নামায়। আলামত হিসেবে আসামির সঙ্গে ছবি, আসামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ডায়েরি ও তার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নিয়ে যায় পুলিশ।
পরিকল্পনা কমিশনের সচিবের গাড়ি ভাঙচুর
পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের মধ্যে চন্দ্রিমা উদ্যোনে থাকা পরিকল্পনা কমিশনের সচিবের গাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, আজ মঙ্গলবার সকালে অফিসে যাওয়ার সময় চন্দ্রিমা উদ্যানের কাছে বিজয় স্মরণী মোড়ে তার গাড়ি আক্রান্ত হয়।
সচিব বলেন, ‘হঠাৎ একদল লোক আমার গাড়িতে আক্রমণ করে। তখন আমি ভয়ে গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ বক্সে আশ্রয় নিই। এ সময় ইট পাটকেল মারায় সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে আমার তেমন ক্ষতি হয়নি।’
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সী বলেন, ‘আমরা এখনো এ বিষয়ে (সচিবের গাড়ি ভাঙচুর) কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় সরাসরি জড়িত কয়েকজনকে আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
প্রসঙ্গত, আজ সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যান বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে তাদের। পরে পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটে অর্ধশতাধিক বিএনপিকর্মী আহত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাস্তায় থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে।
কারজাই- আবদুল্লাহর সঙ্গে আলোচনায় তালেবান নেতা
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও এক সময়ে দেশটির শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে কাবুলে আলোচনায় বসেছেন তালেবান নেতা আমির খান মুত্তাকি। এক প্রতিবেদনে এই খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য দায়িত্বশীল নন বলে তিনি নাম প্রকাশে রাজি হননি।
তালেবানের সর্বশেষ শাসনকালে মুত্তাকি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এ সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট প্যালেস থেকে পালানোর আগে পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় ছিল মুত্তাকির।
দায়িত্বশীল ওই কর্মকর্তা জানান, তালেবান নয়-এমন নেতারা সরকারে আসতে পারেন। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন বলেছেন, ‘এটি সমন্বিত আফগান সরকার হবে।’
আলোচনার বিষয়ে জানেন-এমন কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, কিছু কিছু আলোচনা মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছে। গনি দেশ ছেড়ে পালানোর পরও এ রকম আলোচনা চলছে।
ই-অরেঞ্জের মালিক ও তার স্বামী কারাগারে
১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের করা মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুবকর সিদ্দিকের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ই-অরেঞ্জ এর কারণে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার চুক্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও পণ্য দিচ্ছে না বলে গ্রাহকরা দাবি করেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর ই-অরেঞ্জ এর গ্রাহকরা বিচ্ছিন্নভাবে মিরপুর সাড়ে ১১ রোডে অবস্থিত মাশরাফির বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
করোনার কারণে চলা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ই-অরেঞ্জ গোপনে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বিক্রি করে দেয় অন্য গ্রুপের কাছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। গতকাল সোমবার ফেসবুকে নিজেদের অফিসিয়াল পেজে দেওয়া এক পোস্টে ই-অরেঞ্জ জানায়, মাশরাফির সঙ্গে এখন আর তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
তারা জানায়, ই-অরেঞ্জ.সপ এর সকল সম্মানিত গ্রাহকদের জানানো যাচ্ছে যে, ই-অরেঞ্জ.সপ এর সঙ্গে পহেলা জুলাই, ২০২১ থেকে মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে। তাই আমাদের অফিসিয়াল কোনো বিষয়ে তিনি কোনোভাবেই অবগত নন এবং তিনি অফিসিয়ালভাবে কোনো কিছুই আপডেট দিতে পারবেন না। আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি তাদের কাছে যারা পণ্য অর্ডার করেছেন, কিন্তু এখনো পণ্য হাতে পাননি। এরপরই রাস্তায় নামে গ্রাহকরা।
বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে বাড়ির সামনে জড়ো হওয়ায় তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন মাশরাফি। এরপর ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন মাশরাফি। তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।