ঘর থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’

গাজীপুরে কাপাসিয়ার নয়াসাঙ্গুন এলাকায় ঘর থেকে তুলে নিয়ে এক কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে আসামি করে মামলা কারা হয়েছে। তবে মামলায় তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। আজ রোববার সকালে কিশোরীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় মামলা হয়।

জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই কিশোরী গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রয়েছে।

জানা গেছে, মা প্রবাসে ও বাবা নিজের দোকানে রাত্রিযাপন করায় দাদির কাছে ঘুমোত ওই কিশোরী। ঘটনার দিন গভীর রাতে ২-৩ জন যুবক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কিশোরীর দাদিকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘুমে আচ্ছন্ন কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির পাশের একটি কাঁচা সড়কে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে কিশোরীর দাদির চিৎকারে লোকজন জড়ো হলে তাকে বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলম চাঁদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। কিশোরীর বর্ণনা অনুযায়ী অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা  চলছে।

চুরির দায়ে মাথার চুল কেটে শিশুকে নির্যাতন

 

মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক শিশুকে প্রকাশ্যে বাজারে মারধর করে তার মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা বাজারে। সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী, নির্যাতিত শিশু ও তার মা জানায়, উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক লাল মিয়া সরদারের শিশু ছেলে সজীব (১১)। গৈলা বাজারের অলি টেলিকম থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় শাহীন খানের ছেলে তাওহীদ খানের নেতৃত্বে এনামুলসহ চার-পাঁচজন সজীবকে গতকাল শনিবার বিকেলে গৈলা বাজারে প্রকাশ্যে মারধর করে। এরপর  কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দিয়েছে।

শিশুর মা সানু বেগম বলেন, দুপুরে তার ছেলে বাড়ি আসে। একটু পরে গৈলা অলি টেলিকমের মালিক অলি বেপারী তাদের বাড়ি এসে সজীবকে বাজারে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর বিকেলে তার ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসে জানায়, একটি মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে তাকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দিয়েছে।

ঘটনার বিচার দাবি করে সানু বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে যদি চুরি করে থাকে তাহলে তারা আমার কাছে বিচার দিলে আমি আমার ছেলের বিচার করতাম। আমার ছেলেকে মারধর করে বাজারের লোকজন অমানবিকভাবে মাথার চুল কেটে দিয়েছে।’

শিশুর বাবা ভ্যানচালক লাল মিয়া সরদার বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, আমাদের এই ঘটনার মধ্যে টানবেন না।’ বিষয়টি নিয়ে তার যেন কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

অলি টেলিকমের মালিক অলি বেপারী বলেন, ‘আমি দোকানে না থাকার অবস্থায় অন্য একজনের উপস্থিতিতে সজীব আমার দোকান থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়।’ দোকানের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে সজীবকে ফোন নেওয়ার ঘটনায় তার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে সে ফোন চুরির কথা স্বীকার করে। একপর্যায়ে চুরি যাওয়া ফোনটি সজীব ফেরত দেয়।

অলি বেপারী  আরও বলেন, ‘মোবাইলের মধ্যে সীম না থাকায় তাকে সীম দুটি ফেরত দিতে বললে সে জানায়, সীম ফেলে দিয়েছে। তবে কোথায় ফেলেছে, তা দেখানোর জন্য তাকে বাড়ি থেকে ডেকে আনলে সজীব কাঁচা বাজারের ময়লা ফেলার স্থান দেখিয়ে দেয়। সেখানে খুঁজে সীম দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে মসজিদে নামাজ পরে মিলাদের তবারক দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেই। এরপরে শুনেছি যে, বাজারে বসে তার চুল কেটে দিয়েছে উৎসুক লোকজন।’

গৈলা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি সুশান্ত কর্মকার বলেন, তিনি গৈলা মনসা পূঁজার আয়োজনের জন্য মনসা বাড়িতে ছিলেন। বাজারে এসে একটি শিশুর চুল কাটার কথা শুনেছেন। তবে কে বা কারা ওই শিশুটির চুল কেটেছে তা তিনি জানেন না।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, নির্যাতিত শিশু ও তার অভিভাবকদের থানায় ডেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১২ ফেসবুক পেজ-ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে সিটি ব্যাংকের মামলা

পরীমণির সঙ্গে সিটি ব্যাংকের এমডি মাশরুর আরেফিনকে জড়িয়ে ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা হয়েছে। সিটি ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (হেড অব কোর্ট অপারেশন) গাজী এম শওকত হাসান বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

আজ রোববার গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৮ আগস্ট সকাল থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেখে যে, অজ্ঞাতনামা আসামিরা  তাদের ফেক ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং ওয়েব সাইট থেকে দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন ও অন্যান্য কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতীত পরিচিতি তথ্য ব্যবহার করে মিথ্যা, মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। অজ্ঞাত আসামিরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করে ব্যক্তি সুবিধা লাভ করার জন্য বিভিন্ন সময়ে উল্লিখিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েব সাইট-গুলোতে দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের  সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সমাজের চোখে হেয় প্রতিপন্ন করাসহ ব্যাংক থেকে অসাধু উপায়ে অর্থ আদায়ের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুমতি ব্যতীত পরিচিতি তথ্য ব্যবহার করে মিথ্যা, মানহানিকর তথ্য ও ভিডিও তৈরি করে অপপ্রচার করছে।

যেসব ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

১. ভাইরাল প্রতিদিন।

advertisement

২. Nayeem Korea

৩. ইলিয়াস হোসাইন

৪. CarHub BD

৫. ইউটিউব চ্যানেল: Khobor BD

৬. ইউটিউব চ্যানেল: MTIS BD VOICE

৭. ইউটিউব চ্যানেল: TALK WITH SHAWON

৮. ইউটিউব চ্যানেল: STAR NEWS BANGLA

৯. ইউটিউব চ্যানেল: London Bangla-লণ্ডনবাংলা

১০. ইউটিউব চ্যানেল: AROUND NEWS24

১১. ইউটিউব চ্যানেল: Probashi360

১২. ইউটিউব চ্যানেল: Monira Sultana Popy

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস পুকুরে, এক পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৭

দুর্ঘটনায় কবলিত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সিরাজুল ইসলাম।কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে এক পরিবারের তিনজনসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পুকপুকুরিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজরের মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ঈসমাইলের স্ত্রী হাজেরা বেগম (৫৫), চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রতন বিজয় চৌধুরী (৫০), একই এলাকার রতন বিজয়ের স্ত্রী মধুমিতা চৌধুরী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা সাধনপুরের প্রদীপ রুদ্রের স্ত্রী পূর্ণিমা রুদ্র (৩০), ছেলে স্বার্থক রুদ্র (৪) ও মা রানী রুদ্র (৬০)। তবে নিহত এক নারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

আহতরা হলেন- চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুরের প্রদীপ রুদ্র, তার মেয়ে শ্যামলী রুদ্র ও বাবর আলী। তারা বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে কক্সবাজার থেকে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। পথিমধ্যে চকরিয়া মহাসড়কের পুকপুকুরিয়া এলাকায় পৌঁছলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পুকুরে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে নারী ও শিশুসহ সাতজন নিহত হয়। এ সময় আরও তিনজন আহত হয়। আহতরা বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

advertisement

আহত প্রদীপ রুদ্র বলেন, ‌‘আমার মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রোগী দেখতে কক্সবাজার থেকে মাইক্রোবাসে করে বাশঁখালীর কালিপুর যাচ্ছিলাম। আমাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি চকরিয়ায় পৌঁছালে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় আমার মা, স্ত্রী ও ছোট্ট সন্তান মারা যায়। আমি আর আমার মেয়ে কোন রকম গাড়ি থেকে বের হয়ে প্রাণে বাঁচি।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস চকরিয়া মহাসড়কের পুকপুকুরিয়া এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় নারী ও শিশুসহ সাতজন নিহত হয়।

ক্ষমতা গ্রহণে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে তালেবান

ক্ষমতা হস্তান্তর প্রস্তুতির জন্য তালেবানের পক্ষ থেকে একটি সমঝোতাকারী দল আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের দিকে রওয়ানা হয়েছে। এক আফগান কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আফগান সরকারের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল তালেবানের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। আর সেই লক্ষ্যেই সবকিছু করা হচ্ছে।

অবশ্য তালেবান নেতারা জানিয়েছেন, তারা জোরপূর্বক কাবুল দখল করতে চান না। তাদের এক নেতার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, কাবুল ছাড়তে আগ্রহীদের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে তালেবান। রাজধানীতে সহিংসতা চালানো থেকে বিরত থাকতেও যোদ্ধাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালেবানের ওই নেতা জানিয়েছেন, নারীদের সুরক্ষিত এলাকায় যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে আজ রোববার সকালে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় জালালাবাদ শহর প্রায় বিনাযুদ্ধে দখলে নেয় তালেবান। তারও আগে গতকাল শনিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফ দখল করে তালেবান সদস্যরা। এখন শুধু কাবুলের পতন ঘটলেই আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালেবানের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হবে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতীয় শোক দিবস ও ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আজ রোববার সকাল ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বঙ্গবন্ধু ভবনের ভেতরে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ১৪ দলের নেতারা।

এদিকে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিবসটি পালন করবে। তবে এবারও বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হবে।

দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে ও জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।

টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনাসভা।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছু সংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগনে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

গাড়ির নিচে ফেলে হত্যা, উল্টো নিহতের নামে মামলা

‘আমার মা মরা ছেলেটাকে ওরা গাড়ির নিচে ফেলে হত্যা করেছে। ও ছিনতাইকারী না। আমি ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার চাই।’ ছেলে হত্যার ভিডিও দেখিয়ে এভাবেই কান্নায় জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর পুরান ঢাকায় খুন হওয়া কিশোর জয়ের বাবা শামসুদ্দিন জুম্মন।

গত ৭ আগস্ট রাতে জয় নামের এক কিশোরকে মারধোর করে গাড়ির নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।  ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৮ আগস্ট চকবাজার থানায় একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলায় আসামি করা হয়েছে নিহত কিশোর জয়কে। নিহত জয় একজন ছিনতাইকারী ছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জয়কে যেভাবে মারধোর করে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে।

আজ শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত কিশোর জয়ের বাবা ও অন্য স্বজনরা এসব অভিযোগ করেছেন। সংবাদ সস্মেলনে নিহত জয়ের বাবা বলেন, ‘পুলিশ উল্টা আমাদের হেনস্তা করছে। আমার ছেলেক হত্যা করে আমাদের স্বজনদের আসামি দিয়ে ডাকাতি মামলা দিয়েছে। সন্তানকেও হারিয়েছে, আবার হয়রানিও হচ্ছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই সত্য ঘটনার বিচার চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে জয়ের বাবা সামসুদ্দীন জুম্মন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমি সামসুদ্দীন জুম্মন। ছেলে হারিয়ে আজ আপনাদের সামনে এসে ছেলে হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার চাইছি। আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহা-পুলিশ পরিদর্শকসহ (আইজিপি) সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপের আকুল আবেদন করছি। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও থানা পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী মো. রিয়াজ উদ্দিন ও তার সহযোগী রাব্বি। দীর্ঘ দিনযাবত এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং মাদকব্যবসা করে আসছে। তাদের অপরাধমূলক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধা দিয়ে আসছিল আমার ছেলে জয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যার প্রেক্ষিতে রিয়াজের সাথে জয়ের সম্পর্ক খুবই খারাপ হয়েছিল। তাদের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি হওয়ায় জয়ের ক্ষতি করার জন্য তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত ওই দুই সন্ত্রাসী। যার ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটে চকবাজার থানা এলাকার উর্দু রোডের জনতা ব্যাংকের সামনের পথ দিয়ে জয় যাওয়ার সময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মো. রিয়াজ উদ্দিন ও রাব্বিসহ আরও ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে অতর্কিতভাবে হামলা চালায় এবং সন্ত্রাসীরা জয়কে মারধর করে রক্তাক্ত করে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা জয়ের গলা চেপে ধরে জোড়পূর্বক চলন্ত গাড়ির দিকে ধাক্কা মারে। এতে জয়ের দেহ গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে যায়। এ সময়ও সন্ত্রাসীরা তার ওপর অমানসিক নির্যাতন চালালে ঘটনাস্থলেই জয়ের মৃত্যু হয়। যার প্রমাণ সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে রয়েছে।’

 

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জয়ের বাবা বলেন, ‘জয়ের ওপর এমন হামলা ও নির্যাতনের দৃশ্য দূর থেকে দেখে মো. হাসিব হোসেন ওরফে আকিব নামের এক যুবক সন্ত্রাসীদের হাত থেকে জয়কে রক্ষা করতে দৌড়ে এসে নিচ থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করলে তাকেও সন্ত্রাসীরা ব্যাপক মারধর করে। ’

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় জয়ের নিথর দেহ উদ্ধার করে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালায় জড়িত সন্ত্রাসীরা। তারা চকবাজার থানার এক পুলিশ অফিসারের মাধ্যমে ঘটনার পরদিন অর্থাৎ একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে নিহত জয় ও তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া মো. হাসিব হোসেন ওরফে আকিবসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় চকবাজার থানায় একটি মিথ্যা সাজানো ডাকাতি মামলা দায়ের করে।’

জয়ের বাবা বলেন, ‘এতে প্রমাণিত হয় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হত্যাকারীদের প্ররোচনায় সাজানো ডাকাতি মামলা দিয়ে নিহতের পরিবারসহ কয়েকটি পরিবারকে হয়রানি করছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে ও মিথ্যা মামলাকারী জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপির জরুরি হস্তক্ষেপের সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে নিহত জয়ের বাবার এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, “এই বিষয়ে ওসি স্যারের সাথে কথা বলুন। তিনিই বিস্তারিত বলতে পারবেন।’

পরে এই বিষয়ে জানতে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুমের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তা রিসিভ করেননি।

পরীমণির জন্য ন্যায় বিচার চাইলেন কণ্ঠশিল্পী কোনাল

পরীমণি ইস্যুতে কথা বলতে শুরু করেছেন দেশের শোবিজ তারকারা। শনিবার পরীমণির জন্য ন্যায় বিচার চেয়েছেন দেশের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। আরও অনেকে কথা বলছেন পরীমণির পক্ষে। শনিবার পরীমণির জন্য ন্যায় বিচারের চাইলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কোনাল।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বাবা-মা হারা পরী যেন ন্যায়বিচার পায়।’

গেল বছর সুশান্ত সিং রাজপুত্রের মৃত্যু ঘিরে বলিউডে যে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল সেই প্রসঙ্গ তুলে কোনাল বলেন, খবর পড়ছিলাম বসে বসে। হঠাৎ মনে পড়ে গেলে গত বছরের সেই ঘটনার কথা। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুকে ঘিরে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) যখন মাদক মামলায় দীপিকা পাড়ুকোনকে তলব করল (বলা হয় মাদক সংশ্লিষ্ট একটি হোয়াটস্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন ছিলেন দীপিকা) দীপিকা তখন ছিলেন মুম্বাইয়ের বাইরে, শুটিংয়ে ব্যস্ত। তিনি পরদিন চার্টার্ড বিমানে ফিরলেন মুম্বাই (তাকে সম্মান সূচক সেই সময় এবং স্পেস দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সময়টুকু দীপিকা কাজে লাগিয়েছিলেন তার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে)। পুলিশের মনে হলো, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীপিকার বাসায় এবং থানার সামনে হতে পারে হট্টগোল। দীপিকাকে হেয় করতে পারে জনগণ। তার সম্মানহানি হতে পারে, পড়তে হতে পারে বাড়তি ঝামেলায়। তাই তখন মুম্বাইয়ে পুলিশ স্টেশন থেকে একটা টিম মোতায়েন করা হলো দীপিকার বাড়ির সামনে। তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সম্মান দিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।

কোনাল লিখেছেন, ‘দীপিকা ওই মামলার সঙ্গে আদৌ জড়িত কি না, বা কতটুকু জড়িত, তা জানবার আগ পর্যন্ত পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সম্মান তাকে দেওয়া হয়েছিল। এটা একজন সাধারণ নাগরিকেরই প্রাপ্য, সেখানে দীপিকা তাদের দেশের সম্পদ!’

এ প্রসঙ্গে কোনাল প্রশ্ন ছুঁড়ে লিখেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি পরীমণিকে ডাকত, সে কি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতো না থানায়? পরীমণির ১০৫ বছরের বৃদ্ধ নানা আদালত প্রাঙ্গনে ছুটে গিয়েছিলেন এই কঠিন সময়েও! অথচ তাকে দেখা করতেই দেওয়া হয়নি পরীর সাথে। টেনে হেঁচড়ে পরীকে জাকড়ে ধরে নেওয়া হচ্ছে, আনা হচ্ছে, যেন তিনি দেশ ও জাতির বিশাল কোনো ক্ষতি করে ফেলেছেন!’

‘পরীর পার্সোনাল ভিডিও জনসমুক্ষে এসেছে কীভাবে? যে ইউটিউব চ্যানেল থেকে এই ভিডিও প্রকাশ করা হলো সেই চ্যানেলমালিক কি করে পেলো এই ভিডিও? তার মানে শুধু এই ভিডিও নয়, আরো কিছু পৌঁছেছে তার কাছে! উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ঘৃণিত কাজ কারা করছে? জানতে পারব কি কোনোদিন?’- প্রশ্ন রাখেন কোনাল।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কড়া সমালোচনা করে ব্যক্তিগত উদাহরণ দিয়ে কোনাল লিখেছেন, ‘আমার পরিবার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিবার। জন্মের পর থেকেই দেখছি সংগঠন বা সমিতি, কীভাবে তাদের সদস্যদের পাশে দাঁড়ায়, সদস্যদের জন্য সংঘবদ্ধ থাকেন। অথচ চলচ্চিত্রের সেই সমিতি পরীর সদস্যপদই সাময়িক স্থগিত করে দিলে। তা হয়তো তাদের সংবিধান অনুযায়ী যা আছে করুক। কিন্তু তাদের সংবিধানে কি নেই যে, একজন শিল্পীর মন্দ যেমন দেখব ভালোটাও দেখতে হবে? পরীর কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা, ওর সঙ্গে কোনো অবিচার হচ্ছে কিনা, পরী ঠিক মতো আইনের সহযোগিতা পাচ্ছে কিনা, এটা দেখাও কি সমিতি বা সংগঠনের বিধানে নেই? তাহলে কেন এবং কাদের স্বার্থে এই সমিতি/সংগঠন?’

কোনাল লিখেছেন, ‘তালি এক হাতেই বেজেছে এতদিন? তবে তো সেটা বিশ্ব রেকর্ড! পরীর দিকে আঙ্গুল উচানো এতো এতো খারাপ কাজ, সেগুলো সে একা করেছে? একা করলে তো আর কথাই নেই। নিজের ক্ষতি নিজে করছে, অন্যকে অসুবিধা করেনি। কিন্তু তালি তো আসলে এক হাতে বাজে না। সেই তালির আরেক হাত কোথায়? তালির এই হাতগুলো কারা! কেন তাদের নাম গোপন রাখা হচ্ছে? মান-সম্মানের স্বার্থে? তাহলে পরীর যে মান-সম্মান বিকি কিনি হয়ে গেলো, সেটার কি হবে? প্রশ্নগুলো রয়ে গেল…. উত্তর???’

সবশেষে কোনাল অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমি এ দেশের একজন ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র শিল্পী হয়ে পরীর সহকর্মী হয়ে, একজন নারী হয়ে, দেশের একজন সচেতন নাগরিক হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই, বাবা-মা হারা পরী যেন ন্যায় বিচার পায়। তাকে আলাদা করে সহযোগিতা করতে হবে না। তার প্রাপ্যটুকু যেন নিরপেক্ষভাবে তাকে দেওয়া হয়। আমার দেশের বিচার বিভাগের উপর আমি আশাবাদী। এটুকু হতেই চাই। এটুকু হতেই হবে!’

নাসির-অমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট

রাজধানীর উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের বাসায় মাদকের আসর বসাতেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমি। ওই বাসায় নিয়মিতই চলত ইয়াবা ও বিদেশি মদ নিয়ে ‘আমোদ-ফুর্তি’। তদন্ত শেষে এমন তথ্যই পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এক হাজার পিস ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার হওয়া ওই দু’জনকে আসামি করে সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট দিয়েছে তদন্ত সংস্থা ডিবি। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাসির জামিনে রয়েছেন আর অমি কারাগারে।

ঢাকার তুরাগ তীরে অবস্থিত বোট ক্লাবে আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর আলোচনায় আসেন ব্যবসায়ী নাসির ও অমি। গত ১৪ জুন ওই নায়িকা সাভার থানায় তাদের নাম উল্লেখসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর পরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ডিবি।

মামলার পরদিন ডিবি পুলিশ উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ওই দু’জনকে। তখন সেখান থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা ও বিদেশি মদ উদ্ধার করার কথা জানানো হয়। একই সময় আরও তিন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে নাসির, অমি এবং ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। মামলাটি ডিবির গুলশান বিভাগ তদন্ত করছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার গতকাল শুক্রবার বলেন, বিমানবন্দর থানার মামলাটির তদন্ত শেষ হওয়ায় তারা আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন।

ডিবির তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার এজাহারে নাসির, অমি, লিপি আক্তার, সুমি আক্তার ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা নামে পাঁচজন আসামি ছিলেন। তবে তদন্তে মাদকের সঙ্গে ওই নারীদের সম্পৃক্ততা মেলেনি। তাই চার্জশিটে তাদের আসামির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। নাসির ও অমিকে আসামি করা হয়েছে।

ওই সূত্র জানায়, পরীমণির মামলার পর আসামি নাসির ও অমি উত্তরার ওই বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন। এর আগে থেকেই তারা বাসাটি ভাড়া নিয়ে আমোদ-ফুর্তির কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। সেখানে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসানো হতো।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পুলিশের সাধারণ নিবন্ধক শাখার এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বিমানবন্দর থানার ওই মামলাটির চার্জশিট গত ২৭ জুলাই জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিট নম্বর-১৩১। লকডাউনের মধ্যে আদালতের কার্যক্রম সীমিত থাকায় তখন তা হাকিমের কাছে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। শিগগিরই তা জমা দেওয়া হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, দুই আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ (১ ) এর টেবিল ২৪ (ক), ১০ (ক) এবং ৪১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরীমণির মামলাটির তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেওয়ার ৯ দিন পর ৪ আগস্ট এই নায়িকাও গ্রেপ্তার হন। বনানীর বাসা থেকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকেও মাদক জব্দ করা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি পরীমণিকে দুই দফায় ছয় দিন রিমান্ডের পর গতকাল শুক্রবার কারাগারে পাঠিয়েছে।

তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, নাসির উদ্দিন মাহমুদ নাসির ইউ মাহমুদ নামেই পরিচিত। চার দশক ধরে আবাসন ব্যবসায় যুক্ত নাসির ঢাকা বোট ক্লাবেরও সদস্য। তিন দফায় উত্তরা ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। এ ছাড়া এই ব্যবসায়ী জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি বোট ক্লাবে পরীমণি কাণ্ডে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।

এদিকে অপর আসামি অমিও ক্লাবপাড়ায় একজন পরিচিত মুখ। আশকোনায় তার মালিকানাধীন ‘সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নারী পাচার করে প্রচুর অর্থ উপার্জনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কথিত আছে, বিত্তশালী ও তাদের বখে যাওয়া সন্তানদের বিপথে নিতে অমির জুড়ি নেই। তাকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, পরীমণিকে সেই রাতে কৌশলে আশুলিয়ার বেড়িবাঁধে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়েছিলেন অমি।

করোনায় আক্রান্ত মেয়র জাহাঙ্গীর শোক দিবসে দিলেন ১৫০টি গরু

১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে গাজীপুর মহানগরের ৫৭টি ওয়ার্ড সহ মোট ১৫০ টি স্থানে মিলাদ দোয়া ও খাবারের জন্য ১৫০টি গরু বিতরণ করেছেন করোনা আক্রান্ত গাজীপুর সিটি মেয়র আলহাজ্ব এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

আজ শনিবার নিজ বাসভবন থেকে তিনি এসব গরু বিতরণ করেন। প্রতিটি গরুর সাথে ৫০ হাজার টাকা করেও দেন তিনি। মেয়র অসুস্থ থাকায় মেয়রের পক্ষে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫০ টি গরু বিতরণ করেন। এ সময় মেয়র বাসভবনে থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গরু বিতরণ অনুষ্ঠান মনিটরিং করেন।

 

এ সময় গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি কাজী আলিমুদ্দিন বুদ্দিন, সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট আব্দুল হাদী শামিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান সহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মেয়র হওয়ার পূর্ব থেকেই প্রতিটি শোক দিবসে গাজীপুর মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড সহ শতাধিক পয়েন্টে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে খাবারের জন্য গরু ও খরচের জন্য টাকা বিতরণ করে আসছেন।