পরীমনি ইস্যুতে ‘শিল্পী সমিতির আচরণ আমাকে হতবাক ও বিস্মিত করেছে’: শাকিব খান

চিত্রনায়িকা পরীমনির বিষয়ে মুখ খুললেন নায়ক শাকিব খান।

আজ শনিবার সকালে  তিনি বলেন, ‘একজন সহকর্মী হিসেবে যতটা জেনেছি, পরীমনি বাবা-মা হীন একটি মেয়ে। তার বেড়ে ওঠার সঙ্গে আর দশটা তরুণ-তরুণীর বেড়ে ওঠার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। তার স্ট্রাগল এবং আর দশটা মানুষের স্ট্রাগল এক হবে না। হয়তো অভিভাবকের অভাবেই অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্তটা নিতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১০ আগস্ট আদালত চত্বরে পরীমনির শতবর্ষী নানা তার নাতনিকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন। করোনার ভয়াবহতাও তাকে আটকাতে পারেনি। রক্তকে উপেক্ষা করতে পারেনি রক্ত। কিন্তু সময় কি নিষ্ঠুর। নাতনীর সঙ্গে দেখাই হলো না তার নানার। আদালত চত্বরেই তার নানাকে বলতে শুনেছি, “নিজের জন্য জীবনে কিছুই করেনি পরীমনি। সব মানুষের জন্য দান করে গেছে। আর এখন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।”‘

‘বিষয়টা এখন বিচারাধীন, ওই বিষয়ে কিছু বলছি না। তিনি যে মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন, তার কী অপরাধ সেটা বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। দেশের প্রচলিত আইন-আদালতে যা আছে, নিশ্চয়ই নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে সঠিক বিচার হবে। শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর তার প্রতি কোনো ধরণের সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে, দুঃসময়ে শিল্পীর পাশে না থেকে, উল্টো তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। কোনো কিছু না ভেবে পরীমনির সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এটা কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো। সমিতির এই আচরণ ব্যক্তিগতভাবে আমাকে হতবাক ও বিস্মিত করেছে। আমি মনে করি, সহশিল্পীর সঙ্গে সংগঠনের এটি একটি অমানবিক আচরণ। প্রশ্ন থেকে যায়, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তাহলে কাদের স্বার্থে?’ যোগ করেন শাকিব খান।

শাকিব খান বলেন, ‘যারা পরীমনিকে বিপথে নিয়ে গেছে, তাদেরকেও খুঁজে বের করা উচিত। ৩০টির বেশি সিনেমার সঙ্গে তিনি জড়িত বলে জানতে পেরেছি। তার হাতে আছে আরও বেশ কিছু সিনেমা। কিন্তু যারা বছরের পর বছর একটি সিনেমাতেও কাজ না করে দিনের পর দিন শিল্পী সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে, তাদেরও আয়ের উৎস খুঁজে বের করা উচিত।’

‘সহশিল্পী হিসেবে আশা রাখি, পরীমনির ক্ষেত্রে আইন তার স্বকীয়তা বজায় রাখবে। পরীমনি যখন ফিরবে, তার ভুল থেকে শিক্ষাও নেবে। যে শিক্ষা তার আগামী জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।’

সর্বশেষ তিনি বলেন, ‘খেয়াল করছিলাম, অপেক্ষাও করছিলাম। প্রত্যাশা ছিল, বিপরীতে বেড়েছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। গত কয়েকদিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থেকে শুক্রবার আদালতের নির্দেশে পরীমনিকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

অধ্যক্ষের থলের বিড়াল বেরিয়ে এলো

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদ, ভর্তি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর পরই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল, প্রতিষ্ঠানটির স্বয়ং অধ্যক্ষই নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত! তাই অনুসন্ধানকালে যেন তিনি বিদেশ পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য তার দেশত্যাগে আসছে নিষেধাজ্ঞা। পাশাপাশি ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ ও নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের সব সদস্যেরই তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক। এমনটাই জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

দুদক সূত্রে জানা যায়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ ও নির্মাণকাজের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন, বিভিন্ন ব্যাংকে শত কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. শাহান আরাসহ আরও বেশ কয়েকজনের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য মিলেছে। অনুসন্ধান পর্যায়ে ইতোমধ্যে আতিকের বিদেশগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অধ্যক্ষও যাতে অনুসন্ধানকালে বিদেশ যেতে না পারেন সে জন্য নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করবে দুদক।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুর্নীতির ঘটনায় একটি অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর সেটি হচ্ছে দুদকের অনুসন্ধান শাখা-১ থেকে। ঘটনার সঙ্গে অধ্যক্ষেরও জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। আমরা মনে করি এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, গভর্নিং বডির সদস্য ও সরবরাহকারীÑ যাদের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরই ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দুদকের। অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে দুদক কর্মকর্তারা জানান, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান খানসহ একটি সিন্ডিকেট ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ ও নির্মাণকাজের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমন একটি অভিযোগ পায় দুদক। কমিশন তা অনুসন্ধান করতে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলমকে দায়িত্ব দেয়। অনুসন্ধানে নেমে আতিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির সহায়তায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের তথ্য-উপাত্ত পান অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। এর পরই অভিযুক্ত ব্যক্তি যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন সেজন্য দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি করতে ঢাকা মহানগর আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত এরই মধ্যে আতিকুর রহমান খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেছেন।

আদালতে দাখিলকৃত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান খানের নামে সাউথইস্ট ব্যাংকে ২৬টি, প্রাইম ব্যাংকে ২৯টি, ঢাকা ব্যাংকে ১০টি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে ১০টি ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকে তিনটিসহ মোট ১৫টি ব্যাংকের ৯৭টি হিসাবে ছয় বছরে ১১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া তার নামে বনশ্রী মসজিদ মার্কেটে ‘বিশ^াস লাইব্রেরি’ নামে বিশাল বইয়ের দোকান, আফতাবনগর বি-ব্লকে ৩৪ নম্বর প্লটে ‘বিশ^াস বাজার’ নামে সুপারশপ, ‘ভিশন ৭১’ নামে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আফতাবনগর ও বনশ্রীতে পাঁচটি বাড়ি পাওয়া গেছে। তার অর্জিত সম্পদ বিদেশে পাচারের জন্য দেশত্যাগেরও চেষ্টা করছেন। তিনি বিদেশ চলে গেলে তার অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুদকের তথ্য বলছে, আতিকুর রহমান খান ২০০৪ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সর্বসাকল্যে ৩০ হাজার টাকা বেতন পান। অতিরিক্ত কাজের জন্য পান আরও কিছু ভাতা। অথচ তার ৯৭টি ব্যাংক হিসাবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ আছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি সোনার হরিণ হাতে পেয়েছেন। প্রতিবছর স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণিতে অবৈধভাবে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করানোর নামে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। এসব অর্থ দিয়েই গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।

জানা গেছে, গাজীপুরের কালীগঞ্জের বাসিন্দা আতিকুর রহমানের বাবা একজন কৃষক। আইডিয়াল স্কুলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কনকর্ড নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আয়কৃত অর্থ দিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। এর মধ্যে আতিকুর রহমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, স্ত্রী নাহিদা আক্তার নীপা, বড় ভাই আবদুস সালাম খান, ফজলুর রহমান খান ও শ্বশুর নুরুল ইসলামের নামেও লেনদেন রয়েছে বিপুল অংকের টাকা। এর মধ্যে তার বড় ভাই আবদুস সালাম মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বাংলা মাধ্যম দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

দুদকের তথ্য মতে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শাখা ছাড়াও মুগদা ও রামপুরায় পৃথক দুটি শাখা রয়েছে। এই স্কুলে বাংলা মাধ্যমে প্রভাতি ও দিবা এবং ইংলিশ ভার্সনে প্রভাতি ও দিবা শাখায় প্রতিবছর অন্তত তিন থেকে চার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। প্রতিবছরই অর্থের বিনিময়ে এখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়ে থাকে। অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হলেন এই আতিকুর রহমান খান। চলতি বছর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন শাখায় তিন হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে কয়েকশ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হয় অর্থের বিনিময়ে। প্রতি শিক্ষার্থীকে ভর্তি করাতে আতিকুল ইসলাম খান নিতেন ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা।

জামিন নামঞ্জুর, কারাগারেই থাকছেন পরীমনি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় দুই দফা রিমান্ড শেষে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে আদালতের হাজতখানায় আনে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবীদের জামিন আবেদন নাখোশ করে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

গত ৪ আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলার বাদী হলেন র‌্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান।

মামলায় বলা হয়, পরীমনি এসব মাদকদ্রব্য কবির নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাসায় রাখতেন। যদিও মামলায় কবিরের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। একই মামলায় র‌্যাব আরও দাবি করেছে, চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তিনি প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করতেন। তবে পরীমনি ও আশরাফুল ইসলামের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, র‌্যাব বাসায় মাদক পাওয়ার অভিযোগে যে মামলা করেছে, তা সঠিক নয়।

পদ্মাসেতুর পিলারে থাকবে ক্যামেরা-আলোকসজ্জা-রাবার, ফেরিতে সেনা সদস্য

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে চলাচলকারী তিনটি ফেরির ধাক্কায় পদ্মাসেতুর ১০, ১৬ ও ১৭ নম্বর পিলারের পাইল ক্যাপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার নিরাপত্তার জন্য সেতুর পিলারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। পিলার ও ফেরিগুলোর চারপাশে রাবারের টায়ার লাগানো হবে। এছাড়া, এ নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলোতে দুই জন সেনা সদস্য থাকবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পদ্মাসেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনী আয়োজিত সভায় এ সব সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসবের মধ্যে আছে-তুলনামূলক কম যানবাহন ফেরিতে নেওয়া, অনেক বছরের পুরনো ফেরি সরিয়ে শক্তিশালী ফেরি আনা, ফেরি ও লঞ্চের জন্য আলাদা পথ।

শিগগির এসব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো এগুলো বাস্তবায়ন করবে।

বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম  বলেন, ‘ফেরির ধাক্কায় পিলার ক্ষতিগ্রস্তের ঘটনায় সরকার থেকে নির্দেশনা এসেছে পদ্মাসেতুর নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে। সেতুর পিলারগুলোতে আলোকসজ্জা বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি পিলারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পদ্মাসেতুর পিলারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রেখে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চালানো নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ঘাট, ফেরি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে যৌথভাবে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। গতকাল বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত শরীয়তপুরের জাজিরা ক্যান্টনমেন্টে সেনাবাহিনীর আয়োজনে আলোচনা সভায় এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পদ্মানদীতে ঘূর্ণায়মান স্রোতের কারণে রো রো ফেরি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলমান বর্ষা মৌসুমে এসব বড় ফেরি চালানো পদ্মাসেতুর জন্য বিপদজনক। ঘাট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অন্য ঘাট থেকে তিনটি মাঝারি আকৃতির ফেরি আনা হবে।

ইতিমধ্যে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথের ফেরি চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদারভাবে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘বড় ফেরি যেহেতু এ নৌপথে চলাচল বন্ধ তাই ট্রাক পার হতে পারবে না। ট্রাক চালকরা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট ব্যবহার করবে। ওই ঘাটে বড় বড় ফেরি যুক্ত করা হয়েছে। পদ্মাসেতুর নিরাপত্তার কথা ভেবে ভারী যানবাহনকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে না আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’

মাওয়া নৌ-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল কবীর  জানান, শিমুলিয়াঘাট থেকে ফেরিগুলো পদ্মাসেতুর ৩, ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের পাশ দিয়ে যাবে। আর বাংলাবাজার ঘাট থেকে আসা ফেরিগুলো ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের পাশ দিয়ে আসবে।

এছাড়া সেতুর পিলারে আলোকসজ্জা বৃদ্ধি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পিলারের পাশ দিয়ে ফেরি চলাচলের পথও চিহ্নিত করা হবে বলে জানান তিনি।

দেশে করোনায় আরও ২১৫ জনের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় এ ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ১২৬ জন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৩৭ জনের মৃত্যু এবং ১০ হাজার ৪২০ জন রোগী শনাক্তের খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল গত ৫ আগস্ট।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি–পিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে ৭০৮টি সক্রিয় ল্যাবে ৪৫ হাজার ৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করলে ১০ হাজার ১২৬ টির ফল পজিটিভ আসে। সে হিসাবে রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

যেখানে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ হাজার ৪৩০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০ হাজার ৪২০টি পজিটিভ আসে। সে হিসাবে রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এই সময়ে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে গত এক দিনে মারা গেছেন ৬৫ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪, রাজশাহীতে ৮, খুলনায় ২৮, বরিশালে ১২, সিলেটে ২২, রংপুরে ১৬ ও ময়মনসিংহে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এক দিনে করোনায় মৃত ২১৫ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৭৮ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩৪ জন এবং বাসায় মারা গেছেন ৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১০৭ আর নারী ১০৮ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, একশ বছরের বেশি বয়সী ১ জন, ৮১-৯০ বছর বয়সী ৯ জন, ৭১-৮০ বছর বয়সী ৩৬ জন, ৬১-৭০ বছর বয়সী ৬৩ জন, ৫১–৬০ বছর বয়সী ৫৬ জন, ৪১–৫০ বছর বয়সী ১৯ জন, ৩১–৪০ জন বছর বয়সী ১৯ জন, ২১–৩০ বছর বয়সী ৯ জন, ১১-২০ বছর বয়সী ১ জন এবং এবং ০–১০ বছর বয়সী দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন ১৩ হাজার ৯৯০ জন রোগী। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ১২ লাখ ৬২ হাজার ৬৫ জন। যেখানে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮৬৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২৩ হাজার ৬১৩ জন করোনা রোগীর।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম কোভিডে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে নভেল করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্তের খবর জানানো হয় গত বছরের ৮ মার্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রথম মৃত্যুর খবর জানায় ১৮ মার্চ।

যৌতুকের টাকা না পেয়ে নানা ও মামাশ্বশুরকে বেঁধে পেটালেন জামাই

যৌতুকের টাকা পরিশোধ না করায় নাতনিকে দেখতে আসা নানা ও মামাকে প্রকাশ্যে হাত বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার নির্যাতনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এলাকাবাসী জানায়, ১৩ মাস আগে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার খাসেরচর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর কাজীপাড়া গ্রামের বসির মহাজনের বখাটে ছেলে আবুল কালামের।

বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দিতে পারেনি সোনিয়ার পরিবার। অন্যদিকে, এতিম মেয়ে হিসেবে কনের পরিবার থেকে কালামের কোনো খোঁজখবর এমনকি সমাদর না করায় ক্ষোভে ফেঁসে ওঠে কালামের পরিবার।

দীর্ঘদিন পর গতকাল মঙ্গলবার এতিম নাতনি ও ভাগ্নিকে দেখতে যান নানা আবদুল মান্নান মোল্লা ও মামা শহিদ মোল্লা। সোনিয়াকে দেখতে তার শ্বশুড়বাড়ি যাওয়ায় তাদের দুজনকে প্রথমে বাড়ির ছাদে নিয়ে পাইপের সঙ্গে হাত বেঁধে মারধর করেন জামাই আবুল কালাম ও তার বাবা বসির মহাজন।

অভিযোগ উঠেছে, সেখানে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা কেড়ে নিয়ে তাদের দ্বিতীয় দফায় আবার মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। বিষয়টি আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য কালামেরে বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের দেখেই আবুল কালাম ও তার বাবা বসির মহাজন তেড়ে আসেন। সাভার মডেল থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসপির বিরুদ্ধে পুলিশ পরিদর্শকের ধর্ষণ মামলা

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভস্টিগেশন (পিবিআই) এ কর্মরত এসপি মোকতার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে করেছেন পুলিশের এক পরিদর্শক। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই পুলিশ সদস্য আদালতে হাজির হয়ে বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

বিচারক শামসুন্নাহার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে উত্তরা পূর্ব থানাকে বাদীর আদালতে দাখিলকৃত আরজি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে বলেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন ২০১৯ সালের মে মাসে সুদানে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হন। বাদী আগে থেকেই সেখানে কর্মরত থাকায় মিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় বিভিন্ন অজুহাতে সহযোগিতার নামে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে আসামি বাদীর বাসায় গিয়ে তার ব্যবহৃত গাড়ির চাবি চান। বাদী চাবি ইউনিফর্মের পকেট থেকে আনতে গেলে আসামি পেছন থেকে তাকে জাপ্টে ধরে ধর্ষণ করেন। এরপর এ ঘটনা কাউকে না জানাতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি হুমকি-ধামকি দেন। ২২ ডিসেম্বর ক্ষমা চেয়ে আবারও তাকে ধর্ষণ করেন।

২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি মৌখিকভাবে বিয়ে করে বাদীকে আবারও ধর্ষণ করেন। এরপরও আরও কয়েকদফা বাদী ধর্ষণ করেন মোক্তার হোসেন। নিকাহ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে বাদীকে গ্রহণ করার তাগিদ দিলে মোক্তার হোসেন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বাদীকে এড়িয়ে যেতে থাকেন। এর অবস্থায় গত ২১ এপ্রিল বাদী মোক্তার হোসেনের রাজারবাগ বাসায় গিয়ে আশ্বান অনুযায়ী বিয়ের কাবিননামা সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়। এতে মোক্তার হোসেন অস্বীকৃতি জানান।

মোক্তার হোসেন, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে বাদীকে মারধর করেন এবং হুমকি ধামকি দেন। করোনার কারণে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী। গত ১০ আগস্ট বাদী উত্তরাপূর্ব থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলার করার জন্য বলেন। এজন্য আদালতে এসে মামলা দায়ের করলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন বাদী।

এডিসের লার্ভা পাওয়ায় কনকর্ড আইকে টাওয়ারকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

এডিসের লার্ভা পাওয়ায় রাজধানীর গুলশানের কনকর্ড আইকে টাওয়ার, এইচএসবিসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে মোট পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত এ জরিমানা করে।

এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এডিসের লার্ভা পাওয়ায় রাজধানীর গুলশানের কনকর্ড আইকে টাওয়ারকে চার লাখ টাকা এবং এইচএসবিসি ব্যাংককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, ব্যক্তিগত, সরকারি কিংবা বেসরকারি যে কোনও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতি শনিবার নিজ নিজ ঘর পরিষ্কার করার জন্য মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে হবে এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ ঘর পরিষ্কারের কাজে অংশ নিতে হবে।’

‘সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো পাত্র, ফুলের টব, ছাদ বা অন্য কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না পারে,’ যোগ করেন তিনি।

তিন সপ্তাহ সময় পাচ্ছে ইভ্যালি

গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধসহ সার্বিক তথ্য দেওয়ার জন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে ইভ্যালির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।

হাফিজুর রহমান বলেন, ইভ্যালি দেনা কীভাবে পূরণ করবে, কাস্টমারের দেনা কীভাবে পরিশোধ করবে সেটির বিষয়ে জানতে চেয়ে আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। সে বিষয়ে ১ আগস্ট তাদের চিঠি রিসিভ করেছি। তাদের তথ্য তৈরি করতে ছয় মাস সময় লাগবে বলে আমাদের জানিয়েছে। তারা বলেছে, এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের চুক্তি করেছে। এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ পেয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে নিয়মিত তারা পণ্য ডেলিভারি দেবে। তারা ১৫ দিন অন্তর তথ্য জানাবে। তবে তারা বলছে, ছয় মাসের মধ্যে থার্ড পার্টি দিয়ে অডিট করে রিপোর্ট দেবে।

তিনি বলেন, আমরা চিঠি দিয়েছিলাম ১৯ জুলাই। তারপর তারা ৩১ তারিখ জবাব দিয়ে চিঠি দিয়েছে, সেখানে ১২ দিন সময় চলে গেছে। এখন এ মাসে আরও ১১ দিন গেছে। সব বিবেচনা করে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক বলেন, আজ গুরুত্বপূর্ণ একটি মিটিং ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সমস্যার কারণে ভোক্তারা তাদের কাছে অগ্রিম অর্থ দিয়ে পণ্য পাচ্ছিল না। সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কোম্পানি হলো ইভ্যালি। কিছুদিন আগে ইভ্যালিকে কারণ দর্শানোর একটি নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেটি জুলাই মাসের ১৯ তারিখ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে ইভ্যালির কাছে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। এটি মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালির কাছে জানতে চায়, তারা দেনা কীভাবে পূরণ করবে। কাস্টমারের প্রতিশ্রুত পণ্য তারা কীভাবে দেবে এবং মার্চেন্টকে কীভাবে পেমেন্ট দেবে।

এসেট লাইভেলিটিস (সম্পদ দায়) তাৎক্ষণিক বা দ্রুত পাওয়া যেতে পারে উল্লেখ করে মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সেই তথ্য প্রাথমিকভাবে চাওয়া হবে। এভাবে বিভিন্ন ধাপে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক বলেন, ‘মন্ত্রণালয় আরও কিছু সোর্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে। যেমন এনবিআর। এনবিআরের ভ্যাট অফিস, ইনকাম ট্যাক্স অফিস থেকে এ কোম্পানিটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে এবং আরজেএসসি থেকেও তথ্য সংগ্রহ করবে, যাতে ইভ্যালির দেয়া তথ্য আমরা চেক করতে পারি, তারা সঠিক তথ্য দিচ্ছে কি না।’

তিন সপ্তাহ সময় দিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার ইভ্যালিকে চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক। তিনি জানান, সেদিন থেকেই তিন সপ্তাহ হিসাব করা হবে।

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি টঙ্গীতে যুবক গ্রেফতার

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে মো: শরীফ নামে এক যুবককে টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত শরীফ নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানার দুর্গাপুর গ্রামের মোঃ ওয়াজেদ আলীর ছেলে। সোমবার রাতে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদনগর চানকিরটেক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গাজীপুর মহানগর ডিবি (দক্ষিণ) উপ—কমিশনার মোহাম্মদ নুরে আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গীর চানকিরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সময় টিভির ৪টি আইডি কার্ড, ২টি মোবাইল ফোন, ২টি হ্যান্ডকাফ, গাড়ীতে ব্যবহারের জন্য ৩টি লেমনেটিং করা স্টিকার (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোগোসহ, বেঙ্গল গ্রুফ ও সময়টিভির) ও প্রধানমন্ত্রীর নামসহ একটি সিল এবং বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা একটি প্রাইভেটকার (এলিয়ন এ ১৫, (ঢাকা মেট্রো ট—২৭—৮৬৮২) গাড়ী উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও শরীফ বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী, বিশেষ সহকারী, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, বেঙ্গল গ্রুপের পরিচালক, সময় টিভির সাংবাদিক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (পরিচালক প্রশাসন), ঋইঈঈও এর পরিচালক হিসেবে সিআইপি, ৩৬ তম বিসিএস ক্যাডার (অফসরহ) ও রাজনৈতিক পরিচয়সহ ইত্যাদি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল । তার কাছে প্রাপ্ত মোবাইল ও ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সাথে তার এডিট করা ছবি পাওয়া যায়। শরীফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ৪টি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।