রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই গাজীপুরে কারখানায় শ্রমিকদের টিকা দেওয়া শুরু

রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই গাজীপুরের চারটি পোশাক তৈরি কারখানার শ্রমিকদের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে রোববার সকালে মহানগরীর কোনাবাড়ী থানা এলাকায় অবস্থিত তুসুকা ডেনিম লিমিটেড এবং তুসুকা ওয়াক্সিং লিমিটেডের চতুর্থ তলায় এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর  আলম।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম,  গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার জাকির হাসান, বিজিএমইএর সভাপতি মো. ফারুক হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, তুসুকার পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, হেড অব কান্ট্রি, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার, বাংলাদেশ, স্বপ্না ভৌমিক, কান্ট্রি ডিরেক্টর, কেয়ার বাংলাদেশ রামেশ সিং প্রমুখ।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন জানান, গাজীপুরে একসঙ্গে চারটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের এনআইডি নিয়ে টিকাদান শুরু হয়েছে। এনআইডি নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো— প্রয়োজনে পরবর্তী সময় রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। কারখানাগুলো হচ্ছে— গাজীপুরের লক্ষ্মীপুরা এলাকার স্পেরো অ্যাপারেলস লিমিটেড, কোনাবাড়ী এলাকায় তুসকা গ্রুপের দুটি ও ভোগড়া এলাকার রোজভ্যালি।

গাজীপুর করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এদিকে গতকাল শনিবার গাজীপুরে করোনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটিই জেলায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ ছাড়া ৪৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৩৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

সিভিল সার্জন খায়রুল আলম জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৩৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে গাজীপুর সদরে ৯১ জন, কালীগঞ্জে ১৭, কালিয়াকৈরে আট ও কাপাসিয়ায় ২২ জন।

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ

সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিবন্ধিত হজযাত্রীরা পবিত্র নগরী মক্কায় সমবেত হতে শুরু করেছেন। গত বছরের মতো এ বছরও পবিত্র হজ পালিত হবে করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতপরিসরে দ্বিতীয় বছরের মতো এবারও হজে অংশ নিতে অন্য দেশ থেকে কেউ অনুমতি না পেলেও সৌদি আরবে থাকা ১৫০ দেশের নাগরিকসহ এবারের হজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ৬০ হাজার মানুষ।

সেই ভাগ্যবান ৬০ হাজার হজযাত্রী গতকাল শনিবার ছুটে গেছেন ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কায়। আজ রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে হজের। করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছরও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য কোনো দেশের মুসলিমরা হজে যেতে পারছেন না। হজ করছেন শুধু সৌদি আরবের নাগরিক এবং সেখানে যারা বসবাস করেন তারা। তবে অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ টিকা নিতে হয়েছে। গত বছর সৌদি আরব ইসলামের এই মহামিলন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করে। কোনো রকম ভাইরাস সংক্রমণ ছড়ায়নি। এবারও সেই সফলতা ধরে রাখতে চাইছে সৌদি আরব। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গালফ নিউজ।

সৌদি আরবের দাম্মামে বসবাস করেন ভারতীয় একজন কন্ট্রাক্টর আমিন (৫৮)। তিনি এবার হজ করছেন। সঙ্গে নিয়েছেন স্ত্রী ও তিন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে। এ সুযোগ পেয়ে খুশিতে আত্মহারা তিনি। মিসরের ফার্মাসিস্ট মোহাম্মদ আল ইতের বলেন, আমার মনে হচ্ছে লটারি জিতেছি। এই লটারির মূল্য অসীম। আনন্দ আর রাখতে পারছি না। এটা এক বিশেষ সুযোগ। যে কারও জীবনেই এটি এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা এ সুযোগ আমাকে দান করার জন্য। তিনিই হাজার হাজার মানুষের ভেতর থেকে আমাকে গ্রহণ করেছেন।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণের আগে ২০১৯ সালে এই হজে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। এ মাসের শুরুতে সৌদি আরবের হজবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, তারা স্বাস্থ্য সতর্কতার সর্বোচ্চ লেভেল অনুসরণ করে কাজ করছেন। কারণ মহামারী এবং করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট এখনো চোখ রাঙাচ্ছে। উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর মতোই সৌদি আরবে অবস্থান করেন বিপুলসংখ্যক দক্ষিণ এশিয়া, দূরপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভিবাসী। ওদিকে এবারের হজকে নিরাপদ করতে পবিত্র কাবা, গ্রান্ড মসজিদকে জীবাণুমুক্ত করতে দেখা গেছে কর্মীদের। আনুষ্ঠানিকভাবে রবিবার পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে। তার আগে গতকাল শনিবার হজযাত্রীরা পবিত্র কাবাকে তাওয়াফ করছেন।

সংবাদ সংস্থা আল-আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে হাজিদের সেবা দিতে ৪৫টি স্ট্রোক সেন্টার থাকবে। জাবালে রহমত এলাকায় ২৩টি ও মিনা প্রান্তরে থাকবে ২২টি। এ ছাড়া ৪২টি নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র থাকবে। হজের স্থানগুলোতে চিকিৎসাসেবা দিতে কাজ করবে ৩২টি চিকিৎসক দল ও ৩৬টি অ্যাম্বুলেন্স।

ইসলামের ৫ স্তম্ভের একটি হজ। পবিত্র মক্কায় হাজিদের বায়তুল্লাহ জিয়ারত, আরাফাতের ময়দানে অবস্থানসহ আনুষঙ্গিক আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে হজ পালিত হয়। বিত্তবান ও শারীরিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ এবং প্রতি বছর কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব।

টঙ্গীতে ৪শ’ টাকার জন্য ছুরিকাঘাতে কিশোর খুন

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি :  ছুরিকাঘাতে আহত কিশোর মো. সালমান (১৮) ১৩ দিন বাসায় চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার মৃত্যুবরণ করেছে। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ মৃতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। এঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে টঙ্গীর মরকুন পশ্চিমপাড়া এলাকায়।
টঙ্গী পূর্ব থানার এস আই মো. ইয়াছিন আরাফাত জানান, মো. সালমান (১৮), মিলন মিয়া এবং সজিব হোসেন স্থানীয় মরকুন পশ্চিম পাড়া এলাকায় বসবাস করে আসছে। তারা তিনজনই একে অপরের বন্ধু ছিল। পরিচয়র সূত্রে মিলন নামক ব্যক্তি মো. সালমানের কাছ থেকে ৪শ টাকা ধার নেয়। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরৎ না দেয়ায় গত ৩ জুলাই-২০২১ইং সালমান ওই টাকা আনতে মিলনের কাছে যায়। মিলন টাকা ফেরৎ দিতে টালবাহানা করে। এ নিয়ে সালমান ও মিলনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মিলনের সহযোগী মরকুন পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার কুড়িগ্রাম গ্রামের মৃত জমসেদ আলীর ছেলে মো. সজিব ধাঁরালো ছোঁরা দিয়ে পিছন থেকে সালমানের বাম কানের নীচে স্ব-জোরে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত সালমানকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় নিয়ে চিকিৎসা চলমান অবস্থায় শনিবার ভোর ৪ টায় মো. সালমান মৃত্যুবরণ করে। খবর পেয়ে টঙ্গী থানার এস আই ইয়াছিন আরাফাতসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ এবং ঘটনার সাথে জড়িত মো. সজিবকে গ্রেফতার করে। ঘটনার পর থেকে মো. মিলন পলাতক রয়েছে। পুলিশ মিলনকে গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
নিহত মো. সালমান জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ থানার ফুলদোপাড়া গ্রামের মো. জিয়াউর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে। টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে এম. এ লতিফ সভাপতি ও শাহাদাত হোসেন কাজল সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত

গাজীপুরের টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন  আজ শনিবার দুপুরে চেরাগআলীস্থ টোকিও টাওয়ারে সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে এম. এ লতিফ সভাপতি ও শাহাদাত হোসেন কাজল সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

২৫ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচিত কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি বিকাশ আচার্য্য, মোশারফ হোসেন, মামুনুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক নাসির উদ্দিন বুলবুল, আবু সাঈদ দেওয়ান, সহ-সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী, হালিম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন মাস্টার, দপ্তর সম্পাদক হাবিবুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আজিজ, ক্রীড়া সম্পাদক নূরুল ইসলাম নুরু এবং সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন খোরশেদ আলম, সামসুল হক ও আবু তাহের। নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক ও মোকাদ্দেছ আলী বাচ্চু।

দ্বিগুণ ভাড়া আর যানজট ঠেলে বাড়ির পথে মানুষ

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার পর গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানী ছেড়েছে মানুষ। দ্বিগুণ ভাড়া, তীব্র যানজট ও উপচে পড়া ভিড় চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে তাদের। গতকাল বাস-ট্রেন ও নৌপথে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি ছিল উপেক্ষিত।

রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া বেশির ভাগ বাসই বর্ধিত ভাড়ার দ্বিগুণ আদায় করেছে যাত্রীদের কাছ থেকে। তাছাড়া সরকারের নিয়ম অনুযায়ী পাশের সিট খালিও রাখা হয়নি। ঢাকা থেকে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামগামী যাত্রীরা জানিয়েছেন, দ্বিগুণ ভাড়া দেয়ার পরও টিকিট পাওয়া যায় না। আশরাফুল আলম নামের এক যাত্রী বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়ার ভাড়া ২৫০ টাকা। এখন টিকিট কাটতে হয়েছে ৫০০ টাকা দিয়ে। পাশের সিটেও যাত্রী ছিল।

লক্ষ্মীপুরগামী ইকোনো বাসের সুপারভাইজার রবিউল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, এক সিট ফাঁকা রাখার নিয়ম বেশির ভাগ বাস মালিকই মানছেন না। সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের থেকে ভাড়া কিছুটা কম রাখছেন। তিনি বলেন, ৬০ শতাংশ হিসেবে ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের ভাড়া ৬০০ হলেও তারা ৫০০ টাকা রাখছেন। তাই যাত্রীরা এক সিট খালি রাখার বিষয়টি নিয়ে তেমন আপত্তি করছেন না।

এদিকে বেশি ভাড়া দিয়েও সময়মতো বাস পাচ্ছেন না যাত্রীরা। সময়মতো বাস না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে তাদের। তাদেরই একজন আলিফ। তিনি সকাল ৯টায় গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছে অপেক্ষা শুরু করেন। অবশেষে বেলা ১টায় বগুড়ার বাসে উঠতে পারেন তিনি। আলিফ জানান, প্রথমে কয়েকটা বাসে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় ইচ্ছা করেই সেগুলোতে ওঠেননি তিনি। অনেক সময় পরপর বাস আসে, ফলে সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো যাত্রীতে বোঝাই হয়ে যায়। যাত্রীদের অনেকেই মাস্ক পরা বা সামাজিক দূরত্বে নিয়ম মেনে চলেন না। অনেক যুদ্ধের পর বেলা ১টার বাসের টিকিট পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে তীব্র যানজট ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে বহুগুণ। গতকাল ভোর থেকে সাভারে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নবীনগর থেকে বাড়াইপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার থেকে নবীনগর পর্যন্ত আরিচামুখী লেনে আট কিলোমিটার ও গেন্ডা থেকে হেমায়েতপুর ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা যানজট ছিল। পাশাপাশি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর তিন কিলোমিটার ও জিরাব থেকে বাইপাইল পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ঢাকা থেকে আরিচাগামী লেনে যানজটের ফলে গাবতলী এলাকা থেকে সাভার পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। এছাড়া সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে নবীনগর-বাইপাইল পর্যন্ত পৌঁছতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। সেই সঙ্গে তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে আটকে থাকায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের।

অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায়ও গতকাল প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল দুপুরের পর শুরু হওয়া এ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষ ও গাড়িচালকরা। জানা গেছে, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঊষা জুট মিল পর্যন্ত সড়কের দুপাশে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটে আটকা পড়ে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন। এতে করে দুর্ভোগে পড়েন ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষ। চালকরা জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী পরিবহনের অতিরিক্ত চাপ ও পথচারীরা ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করায় প্রতিবারই ঈদের আগে ও পরে এ জায়গায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

একই চিত্র ছিল ঢাকা সদরঘাটেও। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ছিল চরম উপেক্ষিত। ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানিয়েছেন, দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে কেবিন ও চেয়ার পেতে রাখা হয়েছে। হাতিয়ার যাত্রী মুহসিন আল জাবির বণিক বার্তাকে বলেন, হাতিয়ার লঞ্চগুলোতে ডিলাক্স কেবিনের ভাড়া ১ হাজার ১০০ টাকা। সে কেবিন পেতে তাকে ২ হাজার ৫০০ টাকা গুনতে হয়েছে। বরিশাল-চাঁদপুরে লঞ্চেও দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মানতেও দেখা যায়নি যাত্রীদের। চাঁদপুরের নিয়মিত যাত্রী শাহীন বণিক বার্তাকে বলেন, কেবিন তো পাওয়া যাচ্ছেই না, কেবিনের সামনের চেয়ার পর্যন্ত ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন নজির আগে কখনো দেখিনি।

যদিও বিধিনিষেধ শিথিলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর নৌ-পরিবহন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছিলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যাত্রী ও লঞ্চ মালিকদের জরিমানা করা হবে। তবে দ্বিতীয় দিনে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের দ্রুতযান এক্সপ্রেসসহ বেশকিছু ট্রেনেও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। যদিও ট্রেনের টিকিট কাটতে হচ্ছে অনলাইনে, কিন্তু রেলওয়ের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। ঈদ যত এগিয়ে আসবে, এ অবস্থা তত বাড়বে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিয়মিত ট্রেন যাত্রীরা।

ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত তীব্র যানজট ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি

Continue reading “ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত তীব্র যানজট ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি”

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে লকডাউন শিথিলের দ্বিতীয় দিনে টাঙ্গাইলে মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে মাঝে পরিবহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে কাঁচামাল ও গরু ব্যবসায়ীরা।

আজ শুক্রবার ভোররাত থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব হতে বিক্রমহাটি পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার অংশে পরিবহন ধীরগিতে চলাচল করছে। সকালে পৌলি, এলেঙ্গা, জোকারচর, আনালিয়াবাড়ি রসুলপুর এলাকায় এ চিত্র দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে লকডাউন শিথিল হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পরিবহনের চাপ বেড়ে যায়। এতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মহাসড়কে দ্বিগুণ পরিবহন চলাচল করায় শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। এতে কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে উত্তরবঙ্গগামী লেনে পরিবহন কম থাকলেও ভোররাত থেকে ঢাকাগামী লেনে পরিবহন চলছে ধীরগতিতে। এছাড়া সিরাজগঞ্জের নলকা ব্রিজ ও পশ্চিমপাড় অংশে মহাসড়কের কাজ চলামান থাকায় সেখানকান পরিবহনের চাপ টাঙ্গাইল অংশে গিয়ে ঠেকে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ পরিবহন চলাচল করছে। এতে চাপ বেড়ে যাওয়ায় ধীরগতিতে পরিবহন চলাচল করছে। মহাসড়কে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) শফিকুল ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বছরের ৩৬৫ দিনের ৩০০ দিনই ঘুমিয়ে কাটান পুরখারাম

গল্প নয়, সত্যি। বছরের ৩৬৫ দিনের ৩০০ দিনই ঘুমিয়ে কাটান পুরখারাম নামের এক ব্যক্তি। এ কারণে ৪২ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ‘কুম্ভকর্ণ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

পুরখারাম ভারতের রাজস্থানের বাসিন্দা। তার ‘কুম্ভকর্ণ’ উপাধি অবশ্য নিজ গুণে পাননি। অ্যাক্সিস হাইপারসোমনিয়া নামের একটি বিরল রোগ বাসা বেধেছে তার শরীরে। এতে কেউ আক্রান্ত হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমোতে থাকেন। ২৩ বছর আগে এই সমস্যা শুরু হয়েছিল পুরখারামের। এখন একটানা ২৫ দিন ঘুমিয়ে থাকেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন’র প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরখারাম রোজগারের জন্য একটি মুদি দোকানও খুলেছিলেন। কিন্তু তার অতিরিক্ত ঘুমের কারণে দোকানটি বছরের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। এমনো হয়েছে, দোকানে বসে থাকতে থাকতেই ঘুমিয়ে পড়েছেন তিনি।

পুরখারাম ঘুমিয়ে থাকলে সেই অবস্থাতেই তাকে খাইয়ে দেন তার স্ত্রী লিছমি দেবী। ঘুমন্ত অবস্থাতেই তাকে গোসল করানো হয়। অনেক ডাক্তার দেখিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তবে পুরখারামের মা কঁওয়ারি দেবী তার ছেলের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।

করোনা রোগীর ফ্রি অক্সিজেন ও এ্যাম্বুলেন্স সেবায় মহানগর যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন মোল্লা

গাজীপুরের টঙ্গী কলেজ গেইট এলাকায় গাজীপুর মহানগর যুবলীগ নেতা বিল্লাল মোল্লার উদ্যোগে ফ্রি এ্যামবুলেন্স সেবা ও অক্সিজেন সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আনেয়ারুল হক, বীরমুক্তিযোদ্ধা সর্দার আনোয়ার হোসেন, ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসাপাতালে পরিচালক আনিসুর রহমান, টঙ্গী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি কিরন হোসেন, টঙ্গী পশ্চিম থানা আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, টঙ্গী অঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি হিরন মিয়া, মেরিডিয়ান স্কুলের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, সাবেক টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুন কিবরিয়া, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবলীগ নেতা মো: মোস্তাফিজুর রহমান, সিমান্ত খোকন, নাহিদ, সিফাত মোল্লা, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবলীগ নেতা এসকে খোকন, গাজীপুর জেলা দায়রা জজ আদালতের এডভোকেট রনি রায় প্রমুখ।
এসময় বিল্লাল হোসেন মোল্লা বলেন, সারাদেশে দিন দিন করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বেড়েই চলছে। এই মহামারি সময় অসহায় মানুষের পক্ষে অক্সিজেন ও এ্যমবুলেন্স সার্ভিস নেওয়া সম্ভব হয় না তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শেখ ফজলে শামস পরশের ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের দিকনির্দেশনা গাজীপুর মহানগর যুবলীগ উদ্যোগ হট লাইনে ফোন করলে করোনা রোগীর জন্য ফ্রি অক্সিজেন ও এ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য ৬টি এ্যাম্বুলেন্স সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের যুবলীগের কর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমে রোগীদের বাসায় গিয়ে অক্সিজেন সেবাসহ যে কোন ধরনের সার্বিক সহযোগিতায় তৎপর রয়েছে। আমাদের ফ্রি অক্সিজেন ও এ্যাম্বুলেন্স সেবা গ্রহণ করতে হট লাইন নাম্বারঃ ০১৯৪১৮৫১৩৩১, ০১৯২৮৪৮৩৩৯৬।

উদীচী কার্যালয়ে বোমা হামলা: প্রধান আসামির ফাঁসি কার্যকর

নেত্রকোণায় উদীচী ও শতদল শিল্পী গোষ্ঠীর কার্যালয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান পনিরের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় কাশিমপুর কারাগারে পনিরের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

আসাদুজ্জামান পনির নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য।

২০০৫ সালের ৬ ডিসেম্বর নেত্রকোনার উদীচী ও শতদল শিল্পী গোষ্ঠীর কার্যালয়ে চালানো আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৮ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হন।

ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নেত্রকোণা থানায় দুটি মামলা দায়ের করে।

এর মধ্যে হত্যা মামলার রায়ে ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আসামি আসাদুজ্জামান পনির, সালাউদ্দিন ওরফে সোহেল ও ইউনুছ আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২।

মামলার অপর আসামি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাই ও আতাউর রহমান সানির অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলা ভাইয়ের স্ত্রী ফারজানাকে খালাস দেন আদালত।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামি পনির হাইকোর্টে আপিল করে। পাশাপাশি আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় বহাল রাখেন।

তবে হাইকোর্টের সে রায়ের বিরুদ্ধে জেএমবি সদস্য পনির আপিল বিভাগে আবেদন (আপিল) করে। পনির কাশিপুর কারাগারেই ছিলেন।