চার মামলায় সাবের হোসেন চৌধুরীর জামিন

খিলগাঁও থানার পৃথক চার মামলায় সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

 

ম্যাজিস্ট্রেট তাপসীকে বরখাস্তে রনির ক্ষোভ

চাকরিবিধি লঙ্ঘনের দায়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম উর্মিকে প্রথমে ওএসডি ও পরে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সোমবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম উর্মিকে সাময়িক বরখাস্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আইডিতে করা পোস্টে নানা প্রশ্ন তুলেছেন রনি।

এর আগে শনিবার নিজের ফেসবুকে তাপসী তাবাসসুম উর্মি লেখেন, ‘সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ।

কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।’এর আগেও তাপসী তার ফেসবুকে জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন নিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট করেন। তিনি রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহেত আবু সাঈদকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেও একটি পোস্ট দিয়ে প্রশাসনে বিতর্কের জন্ম দেন।

এদিকে উর্মিকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও লালমনিরহাটে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উর্মিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, ‘উত্তরবঙ্গ ব্লকেট’ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

৭ অক্টোবর সামনে রেখে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে দেশে দেশে বিক্ষোভ

গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের এক বছর পূর্তি ৭ অক্টোবর। এই যুদ্ধ বন্ধ চান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ। তাই ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবিতে ফ্রান্সের প্যারিস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ইতালির রোমসহ নানা দেশে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।

বিক্ষোভে কোথাও পুলিশ বাধা দিয়েছে, কোথাও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে আবার কোথাও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

আল–জাজিরার খবর বলছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপজুড়ে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রিট অভিমুখে পুলিশের কড়া পাহারায় কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। সে সময় পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। ফিলিস্তিনের সমর্থক বিক্ষোভকারীদের, ইসরায়েলের সমর্থক বিক্ষোভকারীদের পাশ কাটিয়ে যেতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা প্রতিবন্ধকতা পার করে যেতে চাইলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, সেখান থেকে কমপক্ষে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডিপিএ বলেছে, দেশটির হামবুর্গ শহরে ফিলিস্তিন ও লেবাননের পতাকা নিয়ে ৯৫০ জন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ফিলিস্তিন ও লেবাননের পতাকা দেখা গেছে। তাঁরা এ সময় ‘গণহত্যা বন্ধ করুন’ বলে স্লোগান দেন।

এদিকে প্যারিসের রিপাবলিক প্লাজায় ফিলিস্তিনি ও লেবাননের নাগরিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে কয়েক হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। এ সময় অনেক ফিলিস্তিনির হাতে ‘স্টপ দ্য জেনোসাইড’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘হ্যান্ডস অফ লেবানন’ লেখা পোস্টার দেখা দেয়।

ইতালির রোমে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। শনিবার বিকেলে রোমে কয়েক হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেন। সে সময় কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এই বিক্ষোভের অনুমোদন দেয়নি। সেখানে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও জলকামানের পাল্টা হিসেবে বিক্ষোভকারীরা পাথর, বোতল ছুড়ে মারে। একপর্যায়ে আগুন জ্বালিয়ে কাগজবোমা ছুড়তে থাকে। সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩০ জন ও তিনজন বিক্ষোভকারী আহত হন।

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে যুদ্ধবিরতির দাবিতে ফিলিস্তিনি সমর্থকেরা জড়ো হয়েছেন। তাঁরা ‘গাজা, গাজা’ বলে স্লোগান দেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবিতে লাল রং মাখিয়ে, ফিলিস্তিনি ও লেবাননের পতাকা হাতে তাঁরা বিক্ষোভে অংশ নেন।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ও গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। আল–জাজিরার খবর অনুসারে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনে প্রাণহানি এ পর্যন্ত প্রায় ৪২ হাজারে পৌঁছেছে। নাহাল ওজ নামের একটি ঘাঁটি ৭ অক্টোবর সকালে দখলে নিয়েছিলেন হামাসের বন্দুকধারীরা। ওই ঘাঁটির ৬০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। অন্যদের জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে ইসরায়েল অব্যাহতভাবে গাজায় হামলা চালাচ্ছে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলের কয়েকটি বিমানঘাঁটি

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি বিমানঘাঁটি। তবে এসব বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী (আইএএফ)। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার রাতে কোনো সতর্কবার্তা না দিয়েই ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রকাশ না করলেও অবশেষে তাঁরা বেশ কয়েকটি বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানাল।

তবে ঠিক কতগুলো বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেগুলোতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। দেশটির সশস্ত্রবাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানঘাঁটিগুলোর অফিস ভবন ও রক্ষণাবেক্ষণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েলি সশস্ত্রবাহিনী বিমানঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘অকার্যকর’ বলে ঘোষণা করে জানিয়েছে, এতে আইএএফ—এর অপারেশনাল কার্যক্রমের কোনো ক্ষতি হয়নি। এই হামলায় যুদ্ধবিমান, ড্রোন, অন্যান্য বিমান, যুদ্ধাস্ত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা।

এর আগে, গত মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। মোট ১৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দেশটিতে হামলা চালানো হয়েছিল বলেও দাবি করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি। এই হামলার ফলে ইসরায়েলের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ১ কোটি মানুষ আশ্রয় নেয়।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী দাবি করেছে, তারা অধিকাংশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রকে আগেভাগেই ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে ইরান দাবি করেছে, তাদের ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এদিকে, ইরান দাবি করেছিল—তারা বেশ কিছু হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু আইডিএফ দাবি করেছে, ইরান কোনো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের দেশে নিক্ষেপ করেনি।

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরান ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করার পরই এমন দাবি করেছে ইসরায়েল।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটের পর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালিয়েছে তেহরান।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, আজকের হামলায় ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একসঙ্গেও দুইশরও বেশি মিসাইল ছুড়েছে ইরান।

 

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরান থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। গোটা ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজেছে।

ইসরায়েলিরাও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটেছে। রাষ্ট্রীয় টিভি সম্প্রচার চলার সময় সাংবাদিকরাও মাটিতে শুয়ে পড়েন।

এর আগে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ইরানের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে লোকজনকে সতর্ক করেছিল। তাদেরকে এমন হামলার ক্ষেত্রে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ ইসরায়েলের বিমান হামলার নিহত হওয়ার পর ইরান এর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল।

নাসরাল্লাহ হত্যার পরপরই ইসরায়েল লেবাননে সীমিত আকারে স্থল অভিযান শুরু করার পর ইরান থেকে ইসরায়েলে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হল।

কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ছবি প্রকাশ করে বলেছে, তেল আবিবের আকাশে এই ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গেছে। গণমাধ্যমগুলি ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ছবি প্রকাশ করে বলেছে, তেল আবিবের আকাশে এই ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গেছে।

ওদিকে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল থেকে এক ইউরোপীয় সাংবাদিক বলেছেন, সেখানে গত ১ ঘণ্টায় মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া কমলা রঙের উজ্জ্বল কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গেছে।

তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেট নাকি ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তা স্পষ্ট জানা যায়নি।

সূত্র- দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস।

আশুলিয়ায় সংঘর্ষে শ্রমিক নিহত, গুলিবিদ্ধ ৫

ঢাকার আশুলিয়ায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আরো ৫ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন শ্রমিক। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অন্তত ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের জিরাবো এলাকার মণ্ডল গ্রুপের কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাউসার হোসাইন খান (২৭) আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার ম্যাঙ্গো টেক্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিক। এনাম মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার মো. ইউসুফ আলী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গুলিবিদ্ধ ৫ শ্রমিকরে মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে।

তারা হলেন ন্যাচারাল ডেনিমসের শ্রমিক হাবীব ও ন্যাচারাল ইন্ডিগো কারখানার নাজমুল হাসান। তাদের পিএমকে হাসপাতাল ও এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত শ্রমিকদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।গুলিবিদ্ধ দুজন শ্রমিক জানান, সকালে মণ্ডল গ্রুপের শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মালিকপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ত্রিপক্ষীয় মিটিং শুরু হয়।

মিটিংয়ে মালিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী একপেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে কারখানার প্রধান ফটকে এসে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের প্রধান ফটক থেকে সড়ে যেতে বলেন। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি অস্বীকৃতি জানালে তারা তাদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। পরে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী শ্রমিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৫ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় পিএমকে হাসপাতাল ও সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গুলিবিদ্ধ কাউসার হোসাইন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।এনাম মেডিক্যালের ডিউটি ম্যানেজার ইউসুফ আলী বলেন, ‘আজ সোমবার দুপুরের দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ৩ জন শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করে। এর মধ্যে কাউসার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্য দুজনের চিকিৎসা চলমান রয়েছে।’

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এবার নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

হিজবুল্লাহর মহাসচিব হাসান নাসরুল্লাহর হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেন।এরই জেরে ইসরাইল সরকার তাদের আকাশসীমা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং ইউরোপের সঙ্গে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

রোববার ইসরাইলি মিডিয়া জানিয়েছে, দখলকৃত অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে এবং ইউরোপের সঙ্গে সবগুলো ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে, এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইসরাইলের বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইয়েমেন থেকে তেলআবিবের ওই বিমানবন্দরে ‘প্যালেস্টাইন-২’ নামের একটি দেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। যখন ইসরাইলের অপরাধী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে বিমানবন্দরে পা রাখেন।

বিবৃতিতে জেনারেল সারি বলেন, ‘আমরা নেতানিয়াহুর আগমনের সময় বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে প্যালেস্টাইন-২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছি’।

হাসান নাসরাল্লাহর হত্যার বদলা হিসেবেই এই হামলা চালানো হয় বলেও জানান তিনি। আর এ ঘটনার পর থেকেই দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে দখলকৃত অঞ্চলে চলাচলকারী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে ইসরাইল।

এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (EASA) পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রভাব যথাযথ মনিটর করছে। ওই অঞ্চলের আকাশে আক্রমণ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। যা দখলকৃত ফিলিস্তিন এবং লেবাননের ওপর বিমান পরিবহনের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে’।

এমন পরিস্থিতির কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এ অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

মুসলিমদের যা আছে, তাই নিয়ে ইসরায়েলকে প্রতিরোধের ডাক খামেনির 

লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বিশ্বের সব মুসলমানকে তাঁদের যা আছে তাই নিয়ে জালেম ইসরায়েলকে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন। 

একই সঙ্গে তিনি লেবাননের জনগণ এবং হিজবুল্লাহর পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন। ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।  

খামেনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, জায়নবাদীদের জানা উচিত যে, লেবাননে হিজবুল্লাহর মজবুত ভিত্তির বড় কোনো ক্ষতি করার যোগ্যতা তাঁদের নেই। এই অঞ্চলের সমস্ত প্রতিরোধী শক্তি হিজবুল্লাহর পাশে আছে এবং সমর্থন করবে। এই অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইরানের ‘প্রতিরোধী শক্তি’। আর তাঁদের নেতৃত্বে থাকবে হিজবুল্লাহ।

গতকাল শুক্রবার লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নেতা হাসান নাসরুল্লাহকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল। ওই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয় হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরকে। হামলার সময় নাসরুল্লাহ সদর দপ্তরে ছিলেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এই হামলায় ২ হাজার কেজির বাঙ্কার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। আর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে। গতকাল স্পষ্ট করে কিছু না জানালেও আজ শনিবার সকালে ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নাসরুল্লাহ।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। হামাসকে সহযোগিতা করতে এরপরের দিন থেকে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালানো শুরু করে হিজবুল্লাহ। এত দিন যুদ্ধ হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে থাকলেও; দুই সপ্তাহ আগে থেকে ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা শুরু করে। তারা পেজার ও ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হিজবুল্লাহর কয়েক হাজার যোদ্ধাকে আহত করে। এরপর বিমান হামলা চালিয়ে হত্যা করে একাধিক কমান্ডারকে। সর্বশেষ নাসরুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা।

হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহত, নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় যিনি 

লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হয়েছেন। তিনি ৩২ বছর এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই নেতাকে হারিয়ে এখন বেশ চাপে ইরানপন্থী শক্তিশালী গোষ্ঠীটি। তবে এরই মধ্যে হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য নতুন নেতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই আলোচনায় বার বার একজন ব্যক্তির নাম উঠে আসছে। তিনি হলেন হাসেম সাফিয়েদ্দিন। তাঁকে নিয়ে হিজবুল্লাহর ভেতরে-বাইরে তুমুল আলোচনা চলছে।

তবে কে এই হাসেম সাফিয়েদ্দিন? বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে।

রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, পুরো লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা হলেও এখনো বেঁচে আছেন হাসেম সাফিয়েদ্দিন। নির্বাহী কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে তিনি হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক বিষয়গুলো তত্ত্বাবধান করেন। তিনি জিহাদ কাউন্সিলের সদস্য, যা সশস্ত্র সংগঠনটির সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

হাসেম সাফিয়েদ্দিন হাসান নাসরাল্লাহর চাচাতো ভাই এবং তাঁর মতোই একজন ধর্মীয় নেতা। তিনি মহানবী হযরত মোহাম্মদের (সা.) বংশধর হিসেবে পরিচিতমূলক কালো পাগড়ি পরেন।

২০১৭ সালে তাঁকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গত জুনে এক হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত হলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। তখন বলেছিলেন, ‘শত্রুকে প্রস্তুত থাকতে বল, কান্না ও বিলাপের জন্য।’

প্রায় সময়ই দেশের জনগণের উদ্দেশে বিবৃতি দেন হাসেম সাফিয়েদ্দিন। সেখানে হিজবুল্লাহর সামরিক অবস্থান ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের বিষয় উঠে আসে। সম্প্রতি বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েতে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতিহাস, আমাদের বন্দুক ও আমাদের রকেট সবই তোমাদের (ফিলিস্তিনিদের) সঙ্গে আছে।’

ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীটির গবেষক ফিলিপ স্মিথ বলেন, হাসান নাসরাল্লাহও হিজবুল্লাহর বিভিন্ন কাউন্সিলে তাঁর জন্য বিভিন্ন পদ তৈরি করতে শুরু করেছিলেন। এর মধ্যে কিছু পদ ছিল অন্যদের চেয়ে বেশি গোপনীয়। তাঁরা তাঁকে আনা-নেওয়া করতেন, মাঝে মাঝে জনসমক্ষে কথা বলতেও পাঠাতেন।

হাসেম সাফিয়েদ্দিনের পারিবারিক সম্পর্ক এবং নাসরাল্লাহর সঙ্গে তাঁর শারীরিক সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি মহানবী হযরত মোহাম্মদের (সা.) বংশধর। এ কারণে তাঁর ধর্মীয় মর্যাদা রয়েছে। এসব বিষয় হিজবুল্লাহর হাল ধরতে তাঁর পক্ষে সহায়ক হবে।

মার্কিন নীতির সমালোচনায় বেশ সোচ্চার হাসেম। হিজবুল্লাহর ওপর আমেরিকান চাপের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ২০১৭ সালে বলেছিলেন, মানসিকভাবে বিকৃত, পাগল মার্কিন প্রশাসন, যার নেতৃত্বে ট্রাম্প রয়েছেন, প্রতিরোধ আন্দোলনকে ক্ষতি করতে পারবে না। তাদের পদক্ষেপ শুধু হিজবুল্লাহর সংকল্পকেই শক্তিশালী করবে।

আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বৈধ সংস্কার ও নির্বাচন অসম্ভব: সজীব ওয়াজেদ জয়

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করার যে সময়সীমা উল্লেখ করেছেন, তাতে তিনি খুশি। যদিও এই সময় তাঁর প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বৈধ সংস্কার ও নির্বাচন অসম্ভব।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, দেশে দেড় বছরের মধ্যে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। এর আগে, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ নিতে অস্বীকৃতি জানান সেনাপ্রধান। ফলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।

গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘আমি খুশি যে আমাদের প্রত্যাশিত একটি সময়সীমা এখন আছে আমাদের সামনে। তবে আমরা এই নাটক আগেও দেখেছি, যেখানে একটি অসাংবিধানিক, অনির্বাচিত সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তারপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’

এ সময় জয় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক আগে পাকিস্তানের জান্তা সরকারের কর্মকাণ্ডের উদাহরণ দেন। পাশাপাশি নিকট অতীতে, ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আগে এই অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় ছিল।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশ বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সে সময় সেনাবাহিনী শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহণ করে। সেনাপ্রধান জানিয়েছিলেন, তিনি সপ্তাহে এক দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কারণ, সেনাবাহিনী স্থিতিশীলতার পক্ষে।

যাহোক, গত আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং অপর প্রধান দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দাবি করে। কিন্তু শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের আগে বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেনি।

আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে, গঠিত ছয়টি সংস্কার প্যানেলের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হলে এবং ভোটার তালিকা তৈরি হওয়ার পরপরই ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হবে।’ তবে বিএনপি বলেছে, তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন চায়।

বর্তমানে ওয়াশিংটনে বসবাসকারী সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তিনি বা অন্তর্বর্তী সরকার কেউই ১৭ কোটি মানুষের দেশে ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন পর্যন্ত পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে বৈধ সংস্কার ও নির্বাচন করা অসম্ভব।’

গত আগস্ট মাসে দেশ ছাড়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের আরও অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাকে হয় হাজারের বেশি লোক মারা যাওয়া সহিংসতায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, নয়তো তাঁরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। জয় বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

জয়ের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা সাড়া দেয়নি।

এদিকে, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, পর্যালোচনা করে তিন মাসের মধ্যে সুপারিশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ হবে কি না, নাকি দলটি ছাড়াই তারা নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করবে, সেটা সরকারের ওপর নির্ভর করছে।’

এর আগে, গত আগস্টে সজীব ওয়াজেদ জয় রয়টার্সকে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা দেশে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচনে লড়াই করতে চায়।

গতকাল রয়টার্স জয়ের কাছে জানতে চায়, শেখ হাসিনা কবে দেশে ফিরতে পারেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি তাঁর (হাসিনা) ওপর নির্ভর করবে। এ মুহূর্তে আমি আমার দলের লোকদের নিরাপদ রাখতে চাই, তাই আমি এই ইউনূস সরকার তাদের ওপর যে নৃশংসতা চালাচ্ছে, সে বিষয়ে সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সচেতনতা বাড়াতে চাই।’