দেড় বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ‘যেকোনো মূল্যে’ অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা: রয়টার্সকে সেনাপ্রধান

গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করে ১৮ মাস বা দেড় বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘যে কোনো মূল্যে’ পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। 

এই সময়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না বলেও জানান তিনি। গতকাল সোমবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সেনাপ্রধান।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও তাঁর বাহিনী আগস্টের শুরুতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ থামাতে ব্যবস্থা নেয়নি। এটি শেখ হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে পদত্যাগ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত চলে যেতে বাধ্য হন তিনি।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় তাঁর কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্তি দেওয়ার একটি রূপরেখাও দিয়েছেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, আমি তাঁর ( মুহাম্মদ ইউনূস) পাশে থাকব। যেন তিনি তাঁর মিশন সম্পন্ন করতে পারেন।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের অগ্রদূত ড. ইউনূস বিচার বিভাগ, পুলিশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে ১৭ কোটি মানুষের দেশটিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কয়েক সপ্তাহ আগে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়া জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সংস্কারের পর গণতন্ত্রে উত্তরণ এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে হওয়া উচিত। তবে একই সঙ্গে এ বিষয়ে ধৈর্য ধরার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, তবে আমি বলব একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশের এই সময়সীমাই থাকা উচিত আমাদের।’

বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি গত আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছিল।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও তিনি প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। সেনাবাহিনী একটি অশান্তির পর দেশকে স্থিতিশীল করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

‘আমি নিশ্চিত, একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের ব্যর্থ হওয়ার কারণ নেই।’ বলেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুলাইতে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়, পরে এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। এ সময় ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিদ্রোহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রাজধানী ঢাকার জমজমাট রাস্তায় শান্তি ফিরে এলেও হাসিনা সরকারের নাটকীয় পতনের পর প্রশাসনের কিছু অংশ এখনো সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি।

বাংলাদেশের পুলিশের বড় একটি অংশ এখনো বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে। তাই সেনাবাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালনের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা পায় বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে আসে।  ১৯৯০ সালে একটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। ২০০৭ সালে আবার বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থান হয়। তাদের সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন।

তবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী রাজনৈতিকভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমি এমন কিছু করব না, যা আমার সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর হবে। আমি একজন পেশাদার সৈনিক। আমি আমার সেনাবাহিনীকে পেশাদার রাখতে চাই।’

তিনি জানান, সরকারের পতনের পর সংস্কারের অংশ হিসেবে সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়েকজনকে শাস্তির আওতায়ও আনা হয়েছে।

ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘যদি কোনো দায়িত্বরত সদস্য দোষী প্রমাণিত হন, অবশ্যই আমি ব্যবস্থা নেব।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলোতে থাকায় কিছু সামরিক কর্মকর্তা আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করে থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক ‘গুম’ হতে পারে এমন প্রায় ৬০০ জনের বিষয়ে তদন্তের জন্য হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছে।

যা-ই ঘটুক, তাঁর বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে চান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি সৈন্য রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সবচেয়ে বেশি সেনা পাঠােনা দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।

‘এটি কেবল তখনই ঘটতে পারে (সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা), যখন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার কিছুটা ভারসাম্য থাকে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনীকে সরাসরি রাষ্ট্রপতির অধীনে রাখা যেতে পারে।’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে, যা সাধারণত প্রধানমন্ত্রী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সংশোধনের দিকে নজর দিতে পারে বলে মনে করেন সেনাপ্রধান।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে সামরিক বাহিনীকে কখনোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। একজন সৈনিকের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়াটা উচিত নয়।’

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১০০

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার ইসরায়েলি হামলায় ১০০ জন নিহত এবং অন্তত ৪০০ মানুষ আহত হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে চলা দুই দেশের আন্ত সীমান্ত সংঘর্ষের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ হতাহতের সংখ্যা এটি।

লেবানিজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এদিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি শত্রুদের ক্রমাগত অভিযানে ১০০ জন নিহত এবং অন্তত ৪০০ জন আহত হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও জরুরি কর্মীরা রয়েছে।

ইসরায়েল প্রায় এক বছরের আন্ত সীমান্ত সংঘর্ষের পর তাদের মনোযোগ হিজবুল্লাহর দিকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই সংঘর্ষ গত বছরের অক্টোবর মাসে শুরু হয়, যখন ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে একটি নজিরবিহীন আক্রমণ চালায় এবং সেই হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করে।

অবরোধে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রামের যোগাযোগ বন্ধ

খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পাহাড়িদের ওপর হামলা, খুন ও বিহার-ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ চলছে।

অবরোধের প্রথম দিনে খাগড়াছড়িতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।  এতে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।  এছাড়া খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, পানছড়ি ও মাটিরাঙাসহ আন্তঃউপজেলাগুলোতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

ঢাকায় বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র-জনতার আয়োজিত সমাবেশ থেকে ঘোষিত তিন পার্বত্য জেলায় ৭২ ঘণ্টা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচির প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে ইউপিডিএফ।

শুক্রবার ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা স্বাক্ষারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ সমর্থন জানিয়েছে।

অবরোধের সমর্থনে শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি সাজেক সড়ক, পানছড়ি ও রামগড় সড়কে টায়ার জ্বালায় অবরোধকারীরা।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, অবরোধে জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলা সদর ও উপজেলাগুলো পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল রয়েছে।

জুমার খুতবার সময় বায়তুল মোকাররমে দুপক্ষের মারামারি, আহত অন্তত ৬

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন মুসল্লি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আজ শুক্রবার জুমার বয়ানের সময় মুফতি রুহুল আমিনের (আগের খতিব) পেছনে নামাজ পড়া না পড়া নিয়ে দুই পক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—মোস্তাইন বিল্লাহ (১৭), লিমন (১৩), এনামুল হাসান (১৬), শাকিল (২১), ফেরদৌস (২২) ও হাবিবুর (২০)।

আহত এনামুল হাসান জানায়, সে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার এক মাদ্রাসার ছাত্র। বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ পড়তে তারা তিন ছাত্র যায়। তিনজনই বারান্দার দিকে ছিল। হঠাৎ ভেতরে মারামারি শুরু হয়। ভেতর থেকে কাচের টুকরা এসে তার খতিব জটিলতায় অনেকটা থমথমে পরিস্থিতিতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আজ জুমার নামাজ আদায় করতে হয়েছে মুসল্লিদের। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আজই বায়তুল মোকাররমে আসেন খতিব রুহুল আমিন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শুরুর আগে বায়তুল মোকাররমের বর্তমান খতিব হাফেজ মাওলানা ড. মুফতি ওয়ালিয়ুর রহমান খান বয়ান করছিলেন। এ সময় মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন অনুসারীদের নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদে এসে বর্তমানে খতিবের মাইক্রোফোনে হাত দেন। এ সময় বর্তমান খতিবের অনুসারীরা রুহুল আমিনের অনুসারীদের প্রতিরোধ করেন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। এতে মসজিদের সাধারণ মুসল্লিরা বিচলিত হয়ে পড়েন।

এ দিকে মসজিদের ভেতরে ভাঙচুর করা হয়। দরজা-জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মাসুদ আলম জানান, দুপুরে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের আঘাত গুরুতর ছিল না।

দুর্গাপূজায় সেনা মোতায়েনসহ ৪ দাবি হিন্দু মহাজোটের

প্রত্যেকটি স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্দিরে দুর্গাপূজায় সেনা মোতায়েনসহ ৪ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। 

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

দাবিগুলো হলো—দুর্গাপূজায় তিন দিন সরকারি ছুটি, স্থায়ী অস্থায়ী পূজা মন্দির ও মণ্ডপে সরকারি খরচে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্রতিটি মন্দিরে পূজার ১০ দিন আগে থেকে পূজা চলাকালীন সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা এবং প্রত্যেকটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজা মন্দিরে দুর্গাপূজায় সেনা বাহিনী মোতায়েন।

বক্তারা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা আগামী ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়কে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে ৫ দিনব্যাপী ধর্মীয় কর্মযজ্ঞ পালন করতে হয়। পূজার মূল তিন দিন সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী। এই উপলক্ষে দিন রাত পূজার কাজে ব্যস্ত থেকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দুর্গা পূজা সম্পাদন করতে হয়। কিন্তু ছুটির বেলায় হিন্দু সম্প্রদায় বৈষম্যের শিকার।

বক্তারা আরও বলেন, দুর্গাপূজা পালনের সময় ৫ দিনের হলেও মাত্র ১ দিন সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। যে কারণে দুর্গাপূজার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেকেই উপস্থিত থেকে পূজার আনন্দ ও ধর্মীয় যজ্ঞ শেষ করতে পারে না। এমনকি পরিবার পরিজনের সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন না।

এ সময় তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আসন্ন দুর্গা পূজা থেকে সরকারি ছুটি তিন দিন (অষ্টমী, নবমী ও দশমী) ঘোষণার দাবি জানান।

পূজা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অতীত অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়। পূজার আগে ও পরে বিভিন্ন জেলায় প্রতিমা বানানোর সময় প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। এবার পূজা মণ্ডপ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থাপনা সাম্প্রদায়িক শক্তির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলেও মনে করেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজা মন্দিরে ও মণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানায় হিন্দু মহাজোট।

সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের সভাপতি প্রভাস চন্দ্র রায়, নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে, প্রধান সমন্বয়কারী ড. সোনালী দাস, নির্বাহী সভাপতি সুধাংশু চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুই মাসের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পেল সেনাবাহিনী

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার। সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আগামী দুই মাস (৬০ দিন) এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

এতে বলা হয়, ১৮৯৮–এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হলো। আরও বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪,৬৫, ৮৩,৮৪, ৮৬,১৫ (২), ১০০,১০৫, ১০৭,১০৯, ১১০,১২৬, ১২৭,১২৬, ১৩০,১৫৩, ১৪২ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ঢাকাসহ সারা দেশে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন ও কারফিউ জারি করেছিল তৎকালীন সরকার। এরপর ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তিন দিনের মাথায় ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এখনো সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুই মাসের মতো ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনা সত্য।’

ত্রাণের টাকা বন্যার্তদের না দিয়ে ব্যাংকে কেন রেখেছেন সমন্বয়করা?

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় আক্রান্তদের সাহায্যার্থে গত আগস্টে গণত্রাণ সংগ্রহের ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অসংখ্য মানুষকে তখন ট্রাকভরে ত্রাণের মাল নিয়ে সমবেত হতে দেখা গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি)।

ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ নগদ অর্থ দিয়েছিলেন ত্রাণ তহবিলে। ছোট-বড় অনেকেই তখন নিজের জমানো অর্থ দান করতে মাটির ব্যাংক হাতে হাজির হয়েছিলেন টিএসসিতে, যা দেখে কেউ কেউ আপ্লুতও হয়েছিলেন।
কিন্তু ত্রাণ তহবিলে জমা পড়া সেসব অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় ঠিকঠাক ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ধরনের আলোচনা চলছিল।আলোচনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে যখন শনিবার সমন্বয়কদের বার্তা থেকে জানা গেছে যে সংগৃহীত অর্থের বেশির ভাগই অব্যবহৃত অবস্থায় ব্যাংকে পড়ে রয়েছে। গত শনিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টে বলেন, ‘ব্যয় বাদে বাকি টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক শাখা, ইসলামী ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।’মূলত এই পোস্টের পরেই ত্রাণ তহবিলের টাকার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে দেখা যাচ্ছে।

বিভিন্ন মহলে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। বন্যার্তদের নামে টাকা তুলে কেন সেটি তাদের সহযোগিতায় ব্যয় করা হলো না, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার ‘অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা হচ্ছে’ বলেও অভিযোগ তুলছেন।
কত টাকা অবশিষ্ট রয়েছে :বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জেলার মানুষের জন্য টিএসসিতে গত ২২ অগাস্ট গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

পরবর্তী দুই সপ্তাহে ওই তহবিলে প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা জমা পড়েছিল। এর মধ্য থেকে এখন পর্যন্ত বন্যার্তদের সহায়তায় খরচ হয়েছে প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অবশিষ্ট প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এ ছাড়া খাবারদাবারসহ অন্যান্য যত প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ হয়েছিল, প্রায় ১৯১টি ট্রাকে করে সেগুলো বন্যাদুর্গত এলাকায় নিয়ে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। চলতি মাসের শুরু দিকে দেশের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় গত ৪ সেপ্টেম্বরের পর নতুন করে আর গণত্রাণ সংগ্রহ করা হয়নি বলেও প্ল্যাটফরমটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারি হিসাবে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় ৫৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে আক্রান্ত এলাকার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অসংখ্য বাড়িঘর। অন্যদিকে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এখন নতুন সংকট হিসেবে সামনে এসেছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। দুর্গত এলাকায় শিশুসহ অসংখ্য মানুষ ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।কোনো কোনো এলাকায় খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের সংকটের কথাও শোনা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিলয় মাহফুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অথচ আমাদের সমন্বয়করা ওই সব মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে ত্রাণের টাকা ব্যাংকে রেখে দিয়েছেন।’

মাহফুজ জানান, তিনি নিজে ত্রাণ তহবিলে অর্থ দিয়েছেন, পরিবারসহ পরিচিতজনদেরও ত্রাণ কাজে সহায়তা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তখন যারেই এই কাজে পার্টিসিপেট করতে অনুরোধ করছি, কেউই না করে নাই। যে যেভাবে পারছে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এত কিছু করে লাভটা হলো কী? এই টাকা কি ব্যাংকে ফেলে রাখার জন্য তোলা হইছে?

একই প্রশ্ন তুলেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মাসুমা আক্তার। হতাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, খবরটা শুনে আমি খুব হতাশ হয়েছি, কষ্ট পেয়েছি। কারণ টিএসসিতে ত্রাণ জমা দিতে গিয়ে ওই ছেলে-মেয়েদের যে কর্ম উদ্দীপনা আমি নিজের চোখে দেখেছি, তাতে ভেবেছিলাম এদের হাতে ধরে ভালো কিছু হবে। কিন্তু তারা যে কেন ত্রাণের টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ না করে ব্যাংকে ফেলে রাখল, সেটাই মিলাইতে পারতেছি না।’

এদিকে তহবিলের টাকাটা ব্যাংকে আছে কি না, সেটাই নিয়েও সন্দেহ পোষণ করেছেন কেউ কেউ। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘চারিদিকে এখন যেভাবে সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ধান্ধাবাজির অভিযোগ শুনতেছি, তাতে তো টাকাটা আদৌ ব্যাংকে আছে কি না, সেটাই আমার সন্দেহ লাগতেছে। ক্ষমতায় গেলে সবার চেহারা চেঞ্জ হয়ে যায়।

এদিকে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা যেসব সভা-সমাবেশ করছেন, সেটি ঘিরেও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহফুজ বলেন, ‘ত্রাণের টাকা ব্যবহার করে উনারা (সমন্বয়করা) নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন না-তো! জেলায় জেলায় এত কিসের মিটিং?’

তবে বন্যার্তদের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে গঠিত ত্রাণ তহবিলের যে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখা হয়েছে, সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে জানাচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। সমন্বয়কদের একজন হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ত্রাণ সহায়তার জন্য যত অর্থ আমরা পেয়েছি, সেগুলোর প্রতিটি পয়সার হিসাব আমাদের কাছে আছে। কাজেই এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। প্রাথমিক ত্রাণ কার্যক্রমে খরচের পর তহবিলের বাকি অর্থের বেশির ভাগই জমা রাখা হয়েছে জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায়। চাইলেও সেগুলো কেউ আত্মসাৎ করতে পারবে না। কারণ সেগুলো বিশেষভাবে খোলা হয়েছে, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও যুক্ত রয়েছেন। তিনিসহ আরো দুজনের সম্মিলিত সিগনেচার ছাড়া কেউ টাকা তুলতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা ত্রাণ কার্যক্রমের আয় ও ব্যয়ের ওপর একটি অডিট করছি এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। সিএ ফার্মের প্রফেশনাল ব্যক্তিদের দিয়েই নিজ দায়িত্বে এটা আমরা করছি, যাতে পরবর্তীতে কেউ কোনো অভিযোগ বা অপবাদ দিতে না পারে।’

প্ল্যাটফরমের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জেলায় যত সভা-সমাবেশ হচ্ছে, সেগুলোতেও ত্রাণের কোনো অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি দেখাতে পারে যে, আমরা ত্রাণ তহবিলের কোনো টাকা অন্য কাজে ব্যবহার করছি, তাহলে যা শাস্তি দেওয়া হবে, বিনাবাক্যে সেটা মাথা পেতে নেব।’

কিন্তু ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ তাহলে কোথা থেকে আসছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু করার পর থেকেই সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় আমাদের সহযোগিতা করে আসছেন, এখনো করছেন। তবে কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ সহায়তা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা শুধু সেবাটা নিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ তাদের গাড়ি দিয়ে আমাদের পৌঁছে দিচ্ছেন, অনেকে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন, এভাবেই চলছে। তবে এখন যেহেতু এটা নিয়েও কথা উঠছে, সে জন্য আগামীতে কারা কী ধরনের সেবা দিয়ে আমাদের সহায়তা করছেন, সেটার তালিকাও আমরা প্রকাশের কথা ভাবছি।’

টাকা ব্যাংকে কেন :

ত্রাণ তহবিলের বেশির ভাগ টাকা পরিকল্পিতভাবেই ব্যাংকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘তহবিল সংগ্রহের শুরুতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে সব খরচ না করে বেশির ভাগই জমা রাখা হবে। কারণ আগের অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা জেনেছি যে, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরবর্তী ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর অর্থ সহায়তা বেশি প্রয়োজন হয়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় এখন ওই অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আরো আগে থেকেই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর নির্মাণসহ অন্য কাজগুলো করে দেওয়ার কথা ভাবছিলাম, কিন্তু আয়-ব্যয়ের অডিট কমপ্লিট না হওয়ায় সেটা সম্ভব হচ্ছিল না। নিরীক্ষা শেষ করে শিগগিরই তহবিলের সব অর্থ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার যে তহবিল গঠন করেছে, সেখানেই টাকাগুলো দেওয়া হবে। এর ফলে সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবেই আমাদের তহবিলের অর্থ মানুষের কাজে আসবে বলে আশা রাখি।’

কিশোরগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবীর র‍্যালিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মসজিদ-মাজার ভাঙচুর, নিহত ১

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম মীর আরিফ মিলন (৫০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের ১৫ জন। 

আজ সোমবার দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সুতি ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে। নিহত মীর আরিফ মিলন উপজেলার ছয়সুতি ইউনিয়নের পূর্ব ছয়সুতি গ্রামের হাজি জমির উদ্দিনের ছেলে। তিনি ছয়সুতি বাজারের জুতা ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য। ছয়সুতি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, আজ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ছয়সুতি ইউনিয়নে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের পক্ষ থেকে জশনে জুলুস ও মাহফিল আয়োজনের কথা ছিল। অপর দিকে ইমাম ওলামা পরিষদের পক্ষ থেকেও একটি মাহফিলের আয়োজনের কথা ছিল। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল রোববার দুই পক্ষের অনুষ্ঠানই বন্ধ রাখতে বলা হয়। তবে পরে পৃথক সময়ে দুই পক্ষকেই অনুমতি দেওয়া হয়। আজ সকালে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের পক্ষ থেকে জশনে জুলুস বের হয়। তবে উপজেলা প্রশাসন মিছিলটি ছয়সুতি বাজারে প্রবেশ করতে নিষেধ করে। কিন্তু মিছিলটি ছয়সুতি বাজারে এলে ইমাম ওলামা পরিষদের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। এতে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষে বাধে।

সংঘর্ষের সময় ছয়সুতি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং মাজার, ঘরবাড়িও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাজিতপুরের জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মীর মিলন নামে একজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইমাম ও উলামা পরিষদের নেতা মুফতি নাছির উদ্দিন রহমানিয়া বলেন, ‘প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা সিরাতুন্নবী মাহফিল বন্ধ রাখি। বেলা ১১টায় বেদাতিরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের মসজিদে হামলা চালায়। এ ঘটনায় বাজারের একজন ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।’ প্রশাসনের এত নজরধারীর পরও এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি একটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি এর বিচার দাবি করেন।

এদিকে সৈয়দ আবু মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হামিদ (রহ.) মাজারের খাদেম সৈয়দ ফয়জুল আল আমিন বলেন, ‘আমাদের এখানে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে গিয়াস উদ্দিন আত্ব-তাহেরী আসার কথা ছিল। কিন্তু কিছু উগ্রপন্থী এতে বাধা দেয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা তা মেনে নিলেও আজ আমাদের ওপর তাঁরা হামলা চালিয়েছে। মাজার ঘরটি ভাঙচুরসহ আরও ১০টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করেছে।’ তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার দাবি করেন।  নিহতের ভাই আলফাজ ও ছোট বোন আছমা আক্তার বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষকে ফেরাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে মারা গেছে আমাদের ভাই।’

কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা ফাতেমাতুজ-জোহরা বলেন, সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অপর দিকে ইমাম ওলামাদের মাহফিলের জন্য অনুমতি দেওয়া হয় বেলা ১টার পরে। কিন্তু আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের ২০-২৫ জনের একটা ছোট দল মসজিদের সামনে দিয়ে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সংঘর্ষ বাধে। ঘটনাস্থলসহ আশপাশে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ আল আমিন হোসাইন বলেন, ‘এ ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

গাওসিয়া কমিটি  গাজীপুর মহানগর ও টঙ্গী শাখার আয়োজনে জশনে জুলুশ মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে জশনে জুলুশ মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাওসিয়া কমিটি  বাংলাদেশ গাজীপুর মহানগর ও টঙ্গী শাখা এ জশনে জুলুস মিলাদের আয়োজন করে। এতে শত শত মানুষ অংশ গ্রহন করে। সোমবার গাজীপুর মহানগরের শিল্পাঞ্চল খ্যাত গাজীপুর সিটির টঙ্গী আঞ্চলিক অফিস থেকে জশনে জুলুস মিলাদ শুরু হয়। এটি ঢাকা ময়মনসিংহ রোড প্রদক্ষিণ করে টঙ্গী প্রেসক্লাব চেরাগ আলী টঙ্গীবাজার হয়ে টঙ্গীর মিলগেইট নুর মদিনা মাদ্রাসায় এসে শেষ হয়। জশনে জুলুস মিলাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন গাওসিয়া কমিটি গাজীপুর মহানগরের সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী মন্নু জামে মসজিদ এর ইমাম সাখাওয়াত হোসেন,  টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, টঙ্গীর নুর মদিনা মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।  জশনে জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা কলেমা খচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন বহন করেন। জশনে জুলুসে ‘ইয়া নবী ছালামু আলাইকা’, ‘ইয়া রাসূল ছালামু আলাইকা’ কাসিদা গজলে অংশগ্রহণকারীরা নারায়ে তকবিরসহ নানান স্লোগানে স্লোগানে টঙ্গীর রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। জুলুস শেষে নুর মদিনা মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনায় হযরত মাওলানা আবদুল্লা আল মামুন,টঙ্গীর নুর মদিনা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক নুরুউদ্দিন, নুর মদিনা মাদ্রসার শিক্ষক নজরুল ইসলামসহ অন্যারা অংশ নেন।

লড়াই চালাতে এখনো উচ্চ সক্ষমতা রয়েছে হামাসের

একজন শীর্ষস্থানীয় হামাস কর্মকর্তা রবিবার এএফপিকে জানিয়েছেন, গাজা উপত্যকায় ১১ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে ফিলিস্তিনি ইসলামী আন্দোলনের কাছে পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে।

ওসামা হামদান ইস্তাম্বুলে এএফপির সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘প্রতিরোধ চালিয়ে উচ্চ সক্ষমতা রয়েছে। অনেকে শহীদ হয়েছে এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করা হয়েছে…কিন্তু বিনিময়ে প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় ও নতুন প্রজন্মের নিয়োগ হয়েছে।’

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বক্তব্যের প্রায় এক সপ্তাহ পর তার এই মন্তব্য এলো।

গ্যালান্ট সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গাজায় সামরিক সংগঠন হিসেবে হামাসের অস্তিত্ব আর নেই, গত বছরের ৭ অক্টোবর যাদের হামলার পর যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন ওই হামলার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসকে ধ্বংসের জন্য প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন। ইসরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে এএফপির গণনা অনুসারে, হামাসের হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে এক হাজার ২০৫ জন নিহত হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল বেসামরিক নাগরিক। পাশাপাশি যোদ্ধারা সেদিন ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে গিয়েছিল।

তাদের মধ্যে ৯৭ জন এখনো গাজায় আটক রয়েছে। তবে ৩৩ জন জিম্মি মৃত বলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। অন্যদিকে হামাসশাসিত অঞ্চলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪১ হাজার ২০৬ জন নিহত হয়েছে।এদিকে নেতানিয়াহু ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছেন, যাতে জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির একটি চুক্তি সম্পন্ন করা যায়।

ইসরায়েল এই মাসে ঘোষণা করেছিল, গাজায় একটি সুড়ঙ্গ থেকে ছয় জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের হামাস ‘নির্বিচারে হত্যা’ করেছে। এই ঘোষণা দুঃখ ও ক্ষোভের স্রোত সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে একটি সংক্ষিপ্ত সাধারণ ধর্মঘট এবং বৃহৎ আকারের বিক্ষোভ দেখা দেয়, যা শনিবার রাতেও তেল আবিব ও জেরুজালেমে চলতে থাকে। অন্যদিকে কয়েক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির আলোচনা স্থগিত হয়ে আছে।রবিবারের সাক্ষাৎকারে হামদান বলেন, ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিত্র যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুর কাছ থেকে রক্তপাত বন্ধের জন্য ছাড় আদায় করতে যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করছে না।

তিনি আরো বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলি পক্ষের ওপর যথেষ্ট বা উপযুক্ত চাপ প্রয়োগ করছে না।

বরং তারা ইসরায়েলি পক্ষের কোনো প্রতিশ্রুতি এড়ানোর ন্যায্যতা খুঁজছে।’এই মাসের শুরুতে ছয় জিম্মির মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার পর দুটি সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, হামাস আপস করতে অস্বীকার করছে এবং বাকি সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তিনি ‘চাপের কাছে নতিস্বীকার করবেন না’। তিনি আরো বলেছিলেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিহত হামাস যোদ্ধার সংখ্যা ‘১৭ হাজারের কম নয়’।