আওয়ামী লীগ নেতা কে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

গাজীপুরের টঙ্গীতে র‌্যাবের হাত থেকে আওয়ামী লীগ নেতা কবির উদ্দিন বেপারি (৫০)-কে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই বিএনপি নেতা ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে টঙ্গীবাজার সংলগ্ন আনারকলি সিনেমা হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কবির উদ্দিন বেপারি স্থানীয় ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। অভিযোগ ওঠা বিএনপির দুই নেতা হলেন ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হালিম উদ্দিন বেপারি ও একই ওয়ার্ড বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক সমির উদ্দিন বেপারি।তারা সবাই টঙ্গীর বউবাজার এলাকার মৃত আক্কাস আলী ওরফে আক্কু বেপারির ছেলে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় বউবাজার এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-১-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় বহু অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা কবির উদ্দিন বেপারিকে আটক করে রাজধানী উত্তরার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন র‌্যাব সদস্যরা। পরে তার দুই ভাই বিএনপি নেতা হালিম উদ্দিন বেপারি ও সমির উদ্দিন বেপারি খবর পেয়ে তাদের সমর্থকদের নিয়ে টঙ্গী বাজার সংলগ্ন আনারকলি সিনেমা হল এলাকায় র‌্যাবের গাড়ি আটকে তাদের ভাই কবির উদ্দিন বেপারিকে রেখে দেন।
এলাকার লোকজন আরো জানায়, একদল লোক র‌্যাবের গাড়ি আটকে কবির বেপারিকে নামিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা র‌্যাবের গাড়ি ঘিরে মিছিল করেন।
এ বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা কবির উদ্দিন বেপারির মুঠোফোনে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হালিম উদ্দিন বেপারি ফোন রিসিভ করেননি।
ওয়ার্ড বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সমির উদ্দিন বেপারি জানান, আমার ভাগিনা ফোন করে আমাকে জানিয়েছে, কবির ভাইকে আটকের পর র‌্যাব আনারকলি হলের সামনে থেকে ছেড়ে দিয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহম্মেদ সুমন বলেন, বিএনপি নেতা হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া জঘন্য কাজ। দলীয় সভা ডেকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ জানান, একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত কবির হোসেন।

বিএনপির লোকজন র‌্যাবের গাড়ি ঘিরে ফেলে গাড়ি থেকে কবির হোসেনকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই মাস ধরে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সবই জানেন। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।তবে র‌্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এই বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

৬ দফা দাবিতে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, ব্যাপক যানজট

ছয় দফা দাবিতে রাজধানীর সাতরাস্তা মোড় অবরোধ করেছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এতে মগবাজার-মহাখালী, খামারবাড়ি-ফার্মগেট-শাহবাগ-কারওয়ান বাজার সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে তারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত তারা রাস্তায় অবস্থান করছেন। 

কারিগরি সেক্টর পরিচালনায় কারিগরি শিক্ষা বহির্ভূত কোনো জনবল না রাখা, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স ৪ বছর মেয়াদি করা এবং প্রতি সেমিস্টার পূর্ণ মেয়াদের ৬ মাস করা, ২০২১ সালের বিতর্কিত নিয়োগ প্রাপ্ত ক্র্যাফট ইন্সট্রাক্টরদের কারিগরি অধিদপ্তর এবং সকল প্রতিষ্ঠান থেকে অপসারণ করা, কারিগরি সেক্টরে সকল শূন্য পদে কারিগরি জনবল নিয়োগ দ্রুত সম্পূর্ণ করা, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সকল নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করা এবং উপসহকারী প্রকৌশলী ১০ম গ্রেড পদে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যতীত অন্য কেউ আবেদন সুযোগ না দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি পূরণে রাজধানীর সাতরাস্তা মোড় অবরোধ করে তারা।

সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের কারণে হাতিরঝিল, রামপুরা, মগবাজার, শান্তিনগর, কাকরাইল ও মিন্টু রোড এলাকায়ও তীব্র যানজট দেখা গেছে। এসব এলাকায় শত শত গাড়ি আটকা পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তবে অ্যাম্বুলেন্স দেখলেই ছেড়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী জানান, যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। আশা করি সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নেবে।

ডিএমপি তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) স্নেহ শীষ বলেন, ‘সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা সাত রাস্তায় সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন করছে। এতে এই সব এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হলেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপির আন্দোলন চলবে, ঘোষণা তারেক রহমানের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছে। জনগণের আন্দোলনে, জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন ঠিকই হয়েছে কিন্তু এখনো আমাদের  লক্ষ্য অর্থাৎ জনগণের রাজনৈতিক অধিকার এখনো অর্জিত হয়নি। কাজেই আমাদের আন্দোলন শেষ হয়ে যায়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা বিএনপির আয়োজিত কলারেয়া পাইলট হাই স্কুল ফুটবল মাঠে রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, প্র‌তি‌বেশী দে‌শের ফাঁদে পা দিয়ে কিছু রাজ‌নৈ‌তিক দল বিভ্রান্ত হ‌য়ে কিছু কথা বলছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব‌লেন, দে‌শের ভেত‌রে-বাই‌রে যারা কলকা‌ঠি নাড়‌ছে তারা চায় না দে‌শে গণতন্ত্র ফি‌রে আসুক। এক যু‌গেরও বে‌শি সময় ধ‌রে সমগ্র বাংলা‌দে‌শের মানুষ নির্যাতিত হ‌য়ে‌ছে।
কলা‌রোয়া সাতক্ষীরার মানুষ এর প্রমাণ। দুই যুগ ধ‌রে আ‌ন্দোল‌নের মাধ্য‌মে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হ‌য়ে‌ছে।তারেক রহমান সাতক্ষীরার আম, চিং‌ড়ি মাছ ও সুন্দরব‌নের কথা উল্লেখ ক‌রেন এবং এখানকার সম্ভাবনাময় পণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষ‌ণের মাধ্য‌মে বেকার যুবক‌দের কর্মসংস্থান গ‌ড়ে তোলার উ‌দ্যোগ গ্রহ‌ণের কথা জানান।

কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সহসংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আমিনুল ইসলাম, ডাক্তার শহিদুল আলম, সাবেক এমপি-কাজী আলাউদ্দিন, হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট শাহানারা আক্তার বকুল, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল হাসান, যুবদল নেতা আইনুল ইসলাম নান্টা।

সাবেক জিমন্যাস্টের ঘরে পুতিনের ২ সন্তান, ইংরেজি শিক্ষায় মাসে খরচ ১০ লাখ টাকা 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দুটি গোপন সন্তান আছে। তাদের মা সাবেক অলিম্পিক জিমন্যাস্ট আলিনা কাবায়েভা। জন্মগ্রহণের পর থেকে দুজনই বসবাস করছে এক অজ্ঞাত স্থানে। আর এই দুজনকে ইংরেজি শেখাতে প্রতি মাসে খরচ করা হয় ৮ হাজার ৫০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি।

পুতিনের সাবেক এক প্রতিপক্ষের প্রতিষ্ঠিত অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ডোশিয়ার সেন্টারের প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ করেছে বিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস। প্রতিবেদনে এমনটা দাবি করা হলেও এক দশকের বেশি সময় ধরে এমন কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে থাকার কথা নাকচ করে দিয়েছেন পুতিন ও কাবায়েভা দুজনেই।

ডোশিয়ার সেন্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন-কাবায়েভার দুই সন্তান হলো ইভান পুতিন ও ভ্লাদিমির পুতিন জুনিয়র। ইভানের জন্ম ২০১৫ সালে এবং পুতিন জুনিয়রের জন্ম ২০১৯ সালে। সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্যের উৎস হিসেবে একাধিক অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়েছে। এসব সূত্র বলেছে, তারা নিয়মিতভাবেই পুতিনের ওই দুই সন্তানকে দেখে থাকে।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, লুদমিলার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার ছয় বছর আগে ২০০৮ সালের শুরুর দিকে কাবায়েভার সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক শুরু। তবে এক দশকের বেশি সময় ধরে এ ধরনের কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে থাকার কথা নাকচ করে দিয়েছেন উভয়ই।

পুতিন তাঁর সাবেক স্ত্রী লুদমিলার গর্ভে দুই কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। ১৯৮৩ সালে লুদমিলার সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন পুতিন। ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের দুই সন্তান হলেন মারিয়া (৩৯) ও ক্যাটরিনা (৩৮)। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তঃসত্ত্বা কাবায়েভা (৪১) ইভানকে জন্ম দিতে সুইজারল্যান্ডের লুগানোর একটি ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। আর ভ্লাদিমির জুনিয়রকে তিনি জন্ম দেন রাশিয়ার মস্কোয়।

ইভান ও ভ্লাদিমির পুতিন জুনিয়র দুজনই মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে পুতিনের একটি বাড়িতে থাকে। তবে সমবয়সী অন্য শিশুদের সঙ্গে তাদের কোনো ওঠাবসা নেই। গান, সাঁতার ও জিমন্যাস্টিকস শেখার জন্য তাদের রয়েছে ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক। জিমন্যাস্টিক প্রতিযোগিতায় ইতিমধ্যে ইভান অংশগ্রহণ করেছে বলে জানা যায়। বাবার সঙ্গে সে মাঝেমধ্যে হকিও খেলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দুই সন্তানের ব্যক্তিগত ইংরেজি শিক্ষকের পেছনে মাসে পুতিনের খরচ হয় ৮ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার (টাকার অঙ্কে ১০ লাখ ১৫ হাজার)। এ তথ্যের প্রমাণ হিসেবে ডোশিয়ার সেন্টার একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করেছে। বিজ্ঞাপনে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পুতিন পরিবার দক্ষিণ আফ্রিকার পাসপোর্টধারী আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিজ্ঞাপনে এ-ও উল্লেখ করা হয়, পরিবারটি (ইভান ও ভ্লাদিমির জুনিয়র) ‘বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস’ করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইভান ডিজনির কার্টুন ও সিনেমার ভক্ত। পছন্দের সব কার্টুন চরিত্রের পোশাকে সাজতেও পছন্দ করে সে; যদিও পুতিন ওয়েস্টার্ন অ্যানিমেশনের সমালোচনা করেন এবং সোভিয়েত আমলের কার্টুনকে প্রাধান্য দেন।

প্রেসিডেন্ট পুতিন ও জিমন্যাস্ট তারকা কাবায়েভার কথিত সম্পর্কের কথা প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে। সে সময় গুজব ছড়িয়ে পড়ে, পুতিন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে গোপনে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। ওই সময় নিজেদের মধ্যে রোমান্টিক সম্পর্ক থাকার দাবি অস্বীকার করেছিলেন পুতিন ও কাবায়েভা।

গাজী টায়ার কারখানায় ফের লুটপাট, আগুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী টায়ার কারখানায় ফের লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। এ সময় কারখানার ভেতরে থাকা অকেজো যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় প্রায় অর্ধশত দুর্বৃত্ত কারখানায় প্রবেশ করে লুটপাট চালায়। লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় কারখানার ভেতর।

খাদুন এলাকার বাসিন্দা নজরুল বলেন, ‘আমরা কারখানায় ধোঁয়া দেখে বেরিয়ে আসি। কারখানার পেছন দিক থেকে দেখতে পাই ভেতরে অনেক মানুষ লুটপাট চালাচ্ছে এবং আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ আসার পরে তাঁরা পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী কয়েকজনকে ধরে বেঁধে রেখেছে।’

কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিকেল ৫টার দিকে কারখানার পেছনের কাঁটাতার ভেঙে কিছু লোক ঢুকে লুটপাট চালায় ও ওয়েস্টিজ সেকশনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা এলাকাবাসীর সহায়তায় কয়েকজনকে আটক করেছি।’

এ নিয়ে চতুর্থ দফায় লুটপাটের ঘটনা ঘটল গাজী টায়ার কারখানায়। গত ৫ আগস্ট, ৮ আগস্ট এবং ২৫ আগস্ট লুটপাট চালানো হয় এই কারখানায়। ২৫ আগস্ট কারখানার ভেতরে অগ্নিসংযোগে অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁদের স্বজনেরা। এই ঘটনার পর ফের আজ লুটপাটের ঘটনা ঘটল।

টঙ্গীতে ৩কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল

প্রতিনিধি,টঙ্গী (গাজীপুর)
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ায় জোরপূর্বক ৩কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করে সেমিপাকা বিøডিং নির্মানের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। ওই জমিতে থাকা ১০ লক্ষ টাকা মুল্যের বাউন্ডারী ওয়াল ও টিনসেট ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর আবেদনে গাজীপুর আদলত টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশকে আইন শৃংখলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, টঙ্গীর আউচপাড়ার সাইদ সরকার ও কাজল মিয়ার সঙ্গে টঙ্গীর মুদাফা গ্রামের সাইদুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত মঙ্গলবার সাইদুলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে থাকা ১০ লক্ষ টাকা মুল্যের বাউন্ডারী ওয়াল ও টিনসেট ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এতে বাধা দেওয়ায় সাইদুল সরকার ও কাজল মিয়া ও তাঁর লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গলমন্দ করে মারধর করতে উদ্যত হয়। এ ঘটনার পর বাদী সাইদ সরকার গাজীপুর আদালতে আবেদন করলে আদলত টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশকে আইন শৃংখলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিবাদীপক্ষ লোকজন নিয়ে গতকাল শুক্রবার পর্ষন্ত দখলকাজ অব্যাহত রাখছে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে।
সাইদ সরকার ও কাজল মিয়া বলেন,এর আগেও সাইদুল ইসলাম আমাদের ৮ জনের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে ৫৮১/২১নং মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গাজীপুর পিআইবি আমাদের পক্ষে তদন্ত রির্পোট আদালতে প্রেরন করেন। এরপর বাদী আদালতে নারাজি দিলে আদালত মামলাটির তদন্তবার গাজীপুর সিআিইডি বরাবর প্রেরন করেন। সিআইডি তদন্ত শেষে তদন্ত রির্পোট আমাদের পক্ষে প্রেরন করেন।
অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম বলেন, এ জমি আমাদের। আমরা এ জমির মালিক। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে এ জমি সাইদ সরকার ও কাজল মিয়া গং দাবী করছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের এসআই কাজী নেওয়াজ আদালতের নির্দেশ পেয়ে ১৪৫ ধারায় উভয় পক্ষকে আইন শৃংখলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

টঙ্গীতে ছুরকিাঘাতে যুবকের  মৃত্যু

গাজীপুরের টঙ্গীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ফরিদ হোসেন (৩৯) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে টঙ্গীর গাজীপুরা বাঁশপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তি নোয়াখালী জেলার সোনাগাজী থানার বগাদানা গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে। তিনি টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় পরিবার নিয়ে বাস করতেন। বুধবার সকালে থানা-পুলিশ লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত ফরিদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকা থেকে বাসে করে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এ সময় গাজীপুরা বাঁশপট্টি এলাকায় পৌঁছে বাস থেকে নামতেই কয়েক যুবক তাঁকে ঘিরে ধরেন। এ সময় তাঁদের হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ফরিদের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে সড়কে চলাচলকারী লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ রাফিউল করিম বলেন, হত্যাকান্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত এমন কাউকে এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

সাংবাদিকদের নামে যত্রতত্র খুনের মামলা বন্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নিন, সরকারকে সম্পাদক পরিষদ

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নির্বিচার হত্যা মামলা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

আজ মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনায় মতবিনিময় সভা শেষে পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশে একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক। সেখানে আমি একজন সম্পাদক হিসেবে যেটা উত্থাপন করেছি, সেটা হচ্ছে—সাংবাদিকদের নিশ্চয়তা এবং তাঁদের ব্যাপারে যেভাবে যত্রতত্র খুনের মামলা হচ্ছে, সেটা যাতে বন্ধ হয় এবং সরকার যেন সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়। সাংবাদিকদের যদি দোষ থাকে, তাঁরা যদি দুর্নীতি করে থাকেন, তাহলে আলাদা মামলা হতে পারে। কিন্তু এইভাবে (ঢালাও খুনের মামলা) যেন না হয়।’

পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে আজকের মতবিনিময় সভায় দেশের প্রথম সারির ২০টি দৈনিকের সম্পাদকেরা উপস্থিত ছিলেন। দুজন দেশের বাইরে অবস্থান করায় অংশ নিতে পারেননি বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে যমুনার গেটে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মাহ্‌ফুজ আনাম।

মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, ‘সব কালাকানুন বাতিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে; গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে যতগুলো কালো আইন রয়েছে, যেমন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট—এ ধরনের আইনের যেগুলোতে সাংবাদিকদের নিপীড়নের অধ্যায় রয়েছে, সেগুলো বাতিল করা।’

সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, ‘উনি (ইউনূস) বলেছেন, এটা তাঁর সরকারের পলিসিগত (সাংবাদিকদের নামে মামলা) না।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করেন’ জানিয়ে মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, ‘আমাদের কাছে ওনার আবেদন হচ্ছে, আমরা যেন লেখনীর মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করি। আমাদেন সাজেশন্স উনি সাদরে গ্রহণ করেছেন। আমাদের বলেছেন, সরকার পরিচালনায় ভুল-ত্রুটি হলে আমরা যেন নির্দ্বিধায় কাগজে ছাপি। ওনার সরকারকে সহযোগিতা করি।’

আলোচনায় জাতীয় ঐক্যের কথা উঠে এসেছে জানিয়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশে একটা জাতীয় ঐক্য স্থাপিত হোক। রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত জাতি যেন ঐক্য স্থাপন করতে পারে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সম্পাদকেরা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আশা করেন উল্লেখ করে মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, ‘সংস্কারের মধ্যে সংবিধান পরিবর্তন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করে সত্যিকার অর্থে গণমুখী সংস্থায় পরিণত করা। ভবিষ্যতে সমস্ত নির্বাচনে জাতির এবং ভোটারদের চিন্তার প্রতিফলন ঘটায়—এমন নির্বাচন কমিশন চাই। দেশে যে দুর্নীতি হয়, সেটা যেন স্বাধীনভাবে দুদক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে যে আলোচনা উঠেছে, সেই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে একটি বিশেষ কমিটি করে দিয়ে সব ধরনের আইনের পরিবর্তন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ পুনর্গঠন—এগুলো বিভিন্নভাবে হতে পারে। অর্থাৎ, আমরা পরিবর্তন চাই। এগুলোর আমরা গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন চাই।’

সরকারের মেয়াদ কত দিন থাকবে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ কত দিন হতে পারে, সেটা প্রধান উপদেষ্টা আমাদের জিজ্ঞেস করেছেন। এটা নিয়ে অনেকে অনেক মতামত দিয়েছেন বিভিন্ন সময়। কিন্তু মূলকথা যেটা এসেছে সেটা হলো, সরকারের অ্যাজেন্ডা কী, সেই অনুপাতে সময়। অনেক রাজনৈতিক দল বলেছে, আপনাদের (সরকার) যত দিন দরকার লাগে, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বলেছে, যৌক্তিক সময়—এগুলো তো অস্পষ্ট। প্রধান উপদেষ্টার ইচ্ছা, খবরের কাগজের মাধ্যমে আমরা একটা ধারণা দিই, যাতে জাতি কী চায়, কয় বছর হতে পারে—দুই, তিন, পাঁচ বছর। এটা নিয়ে ওনার কোনো নিজস্ব চিন্তা নেই। প্রধান উপদেষ্টা চান জনতার চিন্তাটা জানতে। সেই ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যমকে আহ্বান জানিয়েছেন, আমরা যেন গণমাধ্যম হয়ে জনগণের কথা লিখি।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এতে দেশটি ৫৭ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়ে কারাগারে পাঠায়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দেশটি।

এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, ‘এটা আনন্দের খবর। আমি মনে করি, ইউনূস ভাইয়ের মতো একজন নেতা না হলে আন্তর্জতিকভাবে এটা আসত না। এতে আমরা খুবই খুশি।’

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বিটিভি, বেতারকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরামর্শ সম্পাদকেরা দিয়েছেন বলে জানান মাহ্‌ফুজ আনাম। তিনি বলেন, তারা যেন পেশাগতভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

যারা অতীতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেনি, তারাও এখন সহযোগিতার আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানান জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।

টঙ্গীতে জমি দখলের চেষ্টা

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ায় ইউসুফ আলী সরকার রোডের শাখায়  জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। ওই জমিতে থাকা ১০ লক্ষ টাকা মুল্যের বাউন্ডারী ওয়াল ও টিনসেট ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কাজল মিয়া গং  বাদী হয়ে গাজীপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টঙ্গীর দত্তপাড়ার কাজল মিয়া গংদের সঙ্গে টঙ্গীর মুদাফা গ্রামের সাইদুল ইসলাম গংদের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গতকাল জামায়াত ইসলামীর সদস্য পরিচয়ে সাইদুল ইসলাম,নুরে আলম ও নেয়ামতের নেতৃত্বে  ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে থাকা ১০ লক্ষ টাকা মুল্যের বাউন্ডারী ওয়াল ও টিনসেট ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এতে বাধা দেওয়ায় কাজল মিয়া ও তাঁর লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গলমন্দ করে মারধর করতে উদ্যত হয়। এ ঘটনার পর কাজল মিয়া গংদের অভিযোগ থানায় গ্রহন না করায় তিনি গাজীপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

কাজল মিয়া বলেন,এর আগেও সাইদুল ইসলাম আমাদের ৮ জনের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে ৫৮১/২১নং মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গাজীপুর পি আই বি আমাদের পক্ষে তদন্ত রির্পোট আদালতে প্রেরন করেন। এরপর বাদী আদালতে নারাজি দিলে আদালত মামলাটির তদন্তবার পুনরায় গাজীপুর সিআইডি বরাবর প্রেরন করেন। সিআইডি তদন্ত শেষে তদন্ত রির্পোট আমাদের পক্ষে প্রেরন করেন।

অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম বলেন, এ জমি আমাদের। আমরা এ জমির মালিক। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে এ জমি কাজল মিয়া গং দাবী করছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৬ জিম্মির লাশ উদ্ধারের পর ইসরায়েলে ব্যাপক বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ছয় ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন দেশটির জনগণ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও ধর্মঘট ডেকেছে।

টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়ছে।

হিস্তাদ্রুত লেবার ফেডারেশনের প্রধান আর্নন বার-ডেভিড গাজায় আটক জিম্মিদের মুক্তিতে ব্যর্থতার দায় সরকারের ওপর চাপিয়েছেন। এর প্রতিবাদে তিনি আগামীকাল সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো কিছুর চেয়ে শান্তিচুক্তিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।’

এ ছাড়া ইসরায়েলি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ এবং বিরোধী দলীয় নেতা বেনি গানজও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।

একদিনের এই ধর্মঘট সোমবার সকাল ৬টায় শুরু হবে। তবে বার-ডেভিড বলেছেন, সোমবারের পরে কর্মসূচি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তেল আবিবের হোস্টেজ অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলি ফোরামের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গাজার টানেলে ইহুদিদের হত্যা করা হচ্ছে। এটা থামতে হবে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামাসের কাছে থাকা এসব জিম্মিকে দুই-একদিন আগে হত্যা করা হয়েছে। এরপর তাদের উদ্ধার করেছেন তারা।

বিক্ষুব্ধরা বলছেন, নেতানিয়াহুর কারণে ইসরায়েল হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তি করতে পারেনি। এ কারণে এসব জিম্মি জীবিত অবস্থায় ফিরতে পারেননি। অথচ ৩০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে হামাসের কাছে জীবিত ছিলেন তাঁরা।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আজ রোববার থেকেই বড় বিক্ষোভ শুরু হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দল সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এরমধ্যে অনেকে সেগুলো পালন করা শুরু করেছেন। জিম্মিদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ইসরায়েলের রাজধানী তেলআবিবসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষ তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া শুরু করেছেন।

ইসরায়েলের আইনসভা নেসেটের বাইরে বিক্ষোভকারীরা আগামীকাল ১২টায় একটি সমাবেশ ঘোষণা করেছে। একজন সংগঠক চিৎকার করে বলেন, ‘জাতির জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ—সরকারের সদস্যরা এবার হাড়েহাড়ে টের পাবে। এই বিক্ষোভ শান্ত হবে না।

জিম্মিদের পরিবারের যে সংগঠন রয়েছে তারা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে। সেখানে তারা প্রতীকী কফিন নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।

হামাস জানিয়েছে, আজ ইসরায়েলি বাহিনী যে ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করেছে তাদের মধ্যে তিনজনকে চুক্তি হলেই মুক্তি দেওয়া হতো।