এই রহস্য মানবীর জন্যই কি ধরা পড়লেন টেলিগ্রাম বস দুরভ

২৪ বছর বয়সী এই ‘ক্রিপটো বিশেষজ্ঞ’ এবং ভিডিও গেম স্ট্রিমারের নাম জুলি ভাভিলোভা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা শুরু হয়েছে, ফ্রান্সে টেলিগ্রামের সিইও পাভেল দুরভের গ্রেপ্তারের সঙ্গে রহস্যময় এই নারীর যোগসূত্র রয়েছে।

মঙ্গলবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রেমলিনের কাছে এনক্রিপ্ট করা ডেটা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করার পর ২০১৪ সালে রাশিয়া থেকে পালানো দুরভ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। সর্বশেষ টেলিগ্রামের অসংযমী ব্যবহার এবং এই প্ল্যাটফর্মে ক্রিপটোমুদ্রা ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে মাদক পাচার এবং শিশু নির্যাতনে জড়িত থাকার দাবি সহ বিভিন্ন অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের অংশ হিসাবে দুরভের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছাকাছি লে বোর্গেট বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে দুরভের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন রহস্য মানবী ভ্যাভিলোভা। গত শনিবার দুরভের গ্রেপ্তারের পর থেকে ভ্যাভিলোভার আর কোনো খোঁজ নেই। এ অবস্থায় তাঁর পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এএফপিকে তাঁরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর ভ্যাভিলোভার সঙ্গে তাঁদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

দুরভের গ্রেপ্তারের পেছনে ভ্যাভিলোভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন ফরাসি ‘গোপন তথ্য’ গবেষক ব্যাপটিস্ট রবার্ট। তাঁর মতে, ভ্যাভিলোভার পোস্টগুলো পাভেল দুরভের সঙ্গে তাঁর আজারবাইজান সহ অন্যান্য স্থানে ভ্রমণের বিষয়টিকে চিহ্নিত করে। এমনও হতে পারে, অসাবধানতাবশত টেলিগ্রাম বস দুরভের গতিবিধি প্রকাশ পেয়েছিল ভ্যাভিলোভার পোস্টগুলোর মাধ্যমে। এ বিষয়ে রবার্ট বলেন, ‘তাঁর (ভ্যাভিলোভা) পোস্টগুলো দুরভকে গ্রেপ্তারে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে কিনা, তা বলা কঠিন। তবে আপনি যদি তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুসরণ করেন তবে আপনি সহজেই দুরভের গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারেন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভাভিলোভার পোস্টগুলোর একটি সংকলন শেয়ার করেছেন রবার্ট। ভ্যাভিলোভার ভ্রমণের সঙ্গে দুরভের কথিত ভ্রমণপথগুলোর একটি আকর্ষণীয় সম্পর্ক দেখা যায় এই পোস্টগুলোতে। শুধু তাই নয়, উজবেকিস্তানে দুরভের সঙ্গে ভ্যাভিলোভার একটি ভিডিও রয়েছে। একটি পোস্টে গত ২১ আগস্ট আজারবাইজানে দুরভের গাড়িতে ভ্যাভিলোভাকেও দেখা গেছে।

ভ্যাভিলোভার অন্যান্য পোস্টগুলোতে এটাই দেখা যায় যে—দুরভ এবং তিনি আজারবাইজানের রাজধানীতে একই শুটিং রেঞ্জ পরিদর্শন এবং হোটেলে অবস্থান করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখা গেলেও তাঁদের সম্পর্কের সঠিক প্রকৃতি এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। কখন বা কিভাবে তাঁদের দেখা হয়েছিল তা এখনো অজানা। তবে দুজনই দুবাইয়ে থাকেন। সেখানেই টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের সদর দপ্তর অবস্থিত।

এদিকে দুরভের গ্রেপ্তারের পর ভ্যাভিলোভার নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নিয়ে অনেকেই নানা ধরনের তত্ত্ব দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারকে ধরার জন্য ভ্যাভিলোভাকে ‘হানি-ট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এমন দাবি পক্ষে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

‘নবান্ন অভিযানে’ কলকাতা, হাওড়াসহ বহু এলাকা রণক্ষেত্র

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় নবান্ন অভিযান ঘিরে মঙ্গলবার পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। সচিবালয়কে সুরক্ষিত রাখতে কলকাতা ও হাওড়া থেকে নবান্নগামী সব রাস্তায় তিন স্তরের ব্যারিকেড লাগানো হয়েছিল। তার পেছনে ছিল প্রচুরসংখ্যক পুলিশ। দাঙ্গা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছিল।

ছিল জলকামান। পুলিশের একটাই লক্ষ্য ছিল, সচিবালয় নবান্নে কোনো বিক্ষোভকারী যেন না ঢুকতে পারে। কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজে নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল।এত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও দুপুর ১টার পর থেকে কলকাতা ও হাওড়া থেকে নবান্নগামী রাস্তায় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ধরনের বিক্ষোভের কোনো অনুমতি নেই, তারা যেন চলে যায়। কিন্তু জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা জানিয়ে দেয়, তারা ফিরে যাবে না। এরপর বিভিন্ন রাস্তায় যা ঘটল, তা এককথায় পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পুলিশের সমানে জলকামান ছোড়া, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো, নির্বিচারে লাঠি চালানো এবং বিক্ষোভকারীদের ইট ছোড়া।ইটের আঘাতে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
চণ্ডীতলা থানায় আইসির মাথা ফাটে। আবার পুলিশের লাঠি, জলকামানে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।এদিন ডয়চে ভেলের চিত্রসাংবাদিক সুব্রত গোস্বামী ছিলেন কলেজ স্ট্রিট, মহাত্মা গান্ধী রোডসহ কলকাতার দিকে। আরেক চিত্রসাংবাদিক সত্যজিৎ সাউ ছিলেন হাওড়া ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায়।

দুজনই জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের সামলাতে পুলিশ রীতিমতো বিপাকে পড়ে। অনেক জায়গায় পুলিশ তাদের সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ করতে পারলেও আবার তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। ঘন ঘন টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। জলকামান ব্যবহার করা হয়।এবিপি আনন্দ চ্যানেলে দেখা যায়, জলকামানের পানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর সেই জলকামান একটু সরিয়ে নিয়ে দমকলের ইঞ্জিন থেকে পানি ভরা হচ্ছে। তারপর আবার তা কাজে লাগানো হয়। সেই সঙ্গে পুলিশ সমানে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। সেই শেল অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা তুলে আবার পুলিশের দিকে পাঠিয়ে দেয়। অনেক জায়গায় তারা ইট মারতে তাকে। ফলে এই জায়গাগুলো রণক্ষেত্রর চেহারা নেয়।

নবান্নের খুব কাছে বিক্ষোভকারীরা
হাওড়ার মন্দিরতলা থেকে শরৎ চ্যাটার্জি রোড ধরে নবান্নের খুব কাছে পৌঁছে যায় বিক্ষোভকারীরা। সেখানে পুলিশের ব্যারিকেড থেকে ১০০ মিটার দূরে ছিল নবান্ন। পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের চলে যেতে বলে। তারা যায়নি। তখন পুলিশ লাঠি চালায়, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে থাকে। পুলিশ ও দাঙ্গাবিরোধী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের কিছুটা পেছনে সরিয়ে দেয়।

কলকাতার পরিস্থিতি
কলকাতায় স্ট্র্যান্ড রোড, মহাত্মা গান্ধী রোড, প্রিন্সেপ ঘাট স্টেশনের কাছে, সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কাছে জাজেস ঘাটের কাছে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ সমানে লাঠি চালায়, সমানে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়।

জাজেস ঘাটের কাছে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ হয়। পরে পুলিশ ব্যাপক লাঠি চালায়। গঙ্গার ধার থেকে বিক্ষোভকারীদের ধরে এনে লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয়।

সুরেন্দ্রনাথ কলেজের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকরা সেখানে ছিল। তাদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা যাওয়ার সময় ঢিল মারে, মুখ্যমন্ত্রীর প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলে দেয়। এটা নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়।

হাওড়া ব্রিজ, হাওড়া ময়দান, ফোরশোর রোডে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। পরে তারা আবার জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। অনেক জায়গায় তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দেয়।

 আটক
পুলিশ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিয়ে যায়। ভ্যানে করে আটকদের থানায় নিয়ে যায় তারা।

আন্দোলনকারীরা বারবার বলতে থাকে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ লাঠি চালায়। অনেক জায়গায় মেয়েরা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের ওপর লাঠি চালিয়েছে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, পুলিশ প্রচুর বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। বিজেপি তাদের আইনি সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।

বিজেপির বক্তব্য
সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, বুধবার ১২ ঘণ্টার পশ্চিমবঙ্গ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বিজেপি। তিনি বলেন, ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট সফল করতে দ্বারে দ্বারে গিয়ে তারা সবাইকে অনুরোধ জানাবেন।

এর আগে বুধবার থেকে বিজেপি অনির্দিষ্টকালের অবস্থান করবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের অনুমতি দেয়নি। বুধবার আদালতে মামলা আছে। আদালতের অনুমতি পেলে বৃহস্পতিবার থেকে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার৷

তৃণমূলের বক্তব্য
তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ বলেছেন, ‘এটা কিসের অরাজনৈতিক আন্দোলন? উদ্যোক্তারা নিজেরা স্বীকার করে নিয়েছেন তারা আরএসএস। তার পরও কারা এটাকে অরাজনৈতিক আন্দোলন বলছেন।’

কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের ইচ্ছা এই সরকারের নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

 অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের ইচ্ছা অন্তবর্তী সরকারের নেই। সংবিধানে সংগঠন ও রাজনৈতিক দল পরিচালনার যে স্বাধীনতা রয়েছে, এই সরকার সেটিতে বিশ্বাস করে। গত কর্তৃত্ববাদী সরকারের সঙ্গে জড়িতদের অন্যায়-অবিচারের বিচার আদালতের মাধ্যমে হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যে নতুন স্বাধীনতা এসেছে, সেখানে সবার বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হতে হবে। রাজনৈতিক দল পরিচালনার স্বাধীনতা এসময় বন্ধ হতে পারে না।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহবুবুল উল ইসলামের বেঞ্চে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা ও দলটির নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানিতে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

মানবাধিকার সংগঠন সারডা সোসাইটির পক্ষে নির্বাহী পরিচালক আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া রিটটি করেছিলেন। আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। পরে আদালত আগামী ১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা নিয়ে মাঠের রাজনীতি আদালতে টেনে আনা ঠিক হবে না। এছাড়া কোন রাজনৈতিক দল এই রিট নিয়ে আসেনি। রিটে আওয়ামী লীগকে পক্ষভূক্ত করা হয়নি, কোন নোটিশও দেওয়া হয়নি। এই রিট মেইনটেনেবল (গ্রহনযোগ্য) না।  প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা হয়েছে, যা আমাদের কারোরই কাম্য ছিল না। গত কর্তৃত্ববাদী শাসনের সঙ্গে বিচার বিভাগের সমর্থন ও অবিচারের প্রেক্ষাপটেই এমন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে বিচার বিভাগে আক্রমণ হলে সেটি আমাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণের বিষয়।’

এর আগে গত রোববারও এই রিটের শুনানি হয়। ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শুনানিতে বলেন, অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদ কতদিন হবে সেটি সরকারের পলিসি ম্যাটার। এটা আদালত কীভাবে ঠিক করে দিবে? এটা ডকট্রিন অব নেসিসিটি। তাতে আবেদনকারী অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদ নির্ধারনের অংশটুকু ‘নট প্রেস’ (উত্থাপিত নয়) করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও দলটির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন সারডা সোসাইটির পক্ষে আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া গত ১৯ আগস্ট রিট আবেদনটি করেন।

আবেদনে দেশ সংস্কারের লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বতী সরকারের মেয়াদ সর্বনিম্ন তিন বছর করতে, বিদেশে পাচারকৃত ১১ লক্ষ কোটি টাকা ফেরত আনতে, যে সব প্রতিষ্ঠান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে রয়েছে সেগুলোর নাম পরিবর্তন করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এনায়েতপুর থানার ১৫ পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় মামলা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র-গুলি লুট ও ১৫ পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। গত রবিবার (২৫ আগস্ট) রাতে এনায়েতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। 

মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের চার নেতার নাম উল্লেখ করে ৫-৬ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পূর্বক্ষোভের কারণে আওয়ামী লীগ নেতারা এ হামলা চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমদ মোস্তফা খান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বিএসসি, শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুল্লুক চাঁন এবং বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গবাড়ি ইউপির চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ভূইয়া।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমদ মোস্তফা খান বাচ্চু থানায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন। পুলিশ তার দাবি না মেনে ওই আসামির বিরুদ্ধে মামলা নেয়। এ কারণে আহমদ মোস্তফা খান বাচ্চুর নেতৃত্বে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন লোক থানা ঘেরাও করেন।

সে সময় থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাকের অপসারণের দাবিও করেছিলেন তিনি। 

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় অবৈধ দাবি না মানায় থানা পুলিশের ওপর আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চুর ক্ষোভ ছিল। তাই তিনি এনায়েতপুর থানা পুলিশের ক্ষতি করার সুযোগের সন্ধানে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে গত ৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা এনায়েতপুর থানার সামনে সমবেত হয়।

এ সময় ওসি আব্দুর রাজ্জাক হ্যান্ডমাইকে সমবেত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন।ওসি রাজ্জাক বলেন, এই থানা সাধারণ জনগণের। আপনারা থানার কোনো ক্ষয়ক্ষতি করবেন না। এ কথায় ছাত্র-জনতা চলে যায়। পরে ১ নম্বর আসামি আহমদ মোস্তফা খান বাচ্চুর নেতৃত্বে এজাহার নামীয় আসামিসহ পাঁচ থেকে ছয় হাজার দুষ্কৃতকারী দেশি অস্ত্র নিয়ে থানায় হামলা চালায়।

আসামিরা পুলিশের কোয়ার্টার ও ওসির বাসভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুন দেখে পুলিশ সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আসামিরা থানা কম্পাউন্ডে উপপরিদর্শক (এসআই) তহছেনুজ্জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ওবায়দুর রহমান, কনস্টেবল আরিফুল আজম, রবিউল আলম শাহ, হাফিজুল ইসলাম, শাহিন, রিয়াজুল ইসলামকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। একপর্যায়ে আসামিরা থানা ভবন ধ্বংস ও জীবিত পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে ভেতরে ঢুকে যায়। পুলিশের ও জনসাধারণের জমা দেওয়া বেসরকারি অস্ত্র ও গুলি লুট করে।পরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে থানার ভেতর ও বাইরে থাকা অফিসার ও ফোর্সকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক, এসআই আনিছুর রহমান, এসআই রহিজ উদ্দিন খান, এসআই প্রণবেশ কুমার বিশ্বাস, কনস্টেবল আব্দুল সালেক, কনস্টেবল হানিফ আলী থানার পাশে বাবু মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেন। আসামিরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। সেখানে গিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে তাদেরও। এ সময় নারী কনস্টেবল রেহেনা পারভীনকে মারধর করে টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করে। পরবর্তী সময়ে বিকেলে সেনাবাহিনীর একটি দল থানা এলাকায় পৌঁছে নিহত পুলিশ সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

বন্যায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু : দুর্যোগ উপদেষ্টা

চলমান বন্যায় দেশে ১১ জেলায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ৫৬ লাখ ৩৭৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এ তথ্য জানান।ত্রাণ উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টিই আছে।

১১ জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৬ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৫ জন। পানিবন্দি পরিবার ১২ লাখ ৭ হাজার ৪২৯টি।
এখন পর্যন্ত বন্যায় মোট ২৭ জন মারা গেছে জানিয়ে দুর্যোগ উপদেষ্টা বলেন, এর মধ্যে কুমিল্লায় ১০ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন এবং কক্সবাজারে তিনজন মারা গেছেন।

বেগমগঞ্জের প্রত্যান্ত অঞ্চলে ১ ছটাক চালও পৌঁছেনি,ঝাউ খেয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা

নোয়াখালী বেগমগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল আমান উল্লা পুর ইউনিয়নের কোয়াশিয়া গ্রাম।৪ দিন আগেই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে গোটা গ্রাম।কয়েক পরিবার আশ্রয়ান কেন্দ্রে গেলেও অধিকাংশ পরিবারের লোকেরা বাড়িতে রয়ে গেছে। চৌকির উপর চৌকি দিয়ে বসবাস করলেও খাদ্যাভাবে ৩ দিন ধরে উপবাস করে চলে কোন রকমে।এমনি সচ্ছল এক পরিবারের বাড়ি পচলাম অনোক কষ্টে।পূর্ পরিচয়ের সাএল ধরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে তাঁর বাড়ি যাওয়া। আশা ছিল একটু চাই খেয়ে শরীরটা তরতাজা করা।গিয়ে যা দেখলাম এবং যা শোনালাম ছোখে পানি ধরে রাখতে পারলাম না। গোলাঘর ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে, পুকুরের ৭/৮ লাখ টাকার মাচ ভেসে গেছে। বন্যার প্রথম দিকে প্রতিবেশীদের খাওয়ার জন্য ৫/১০ কেজি করে চাল দিয়ে ঘরের চাল শেষ করে নিজে এখন এখানের আশায় রয়েছে।গত ৩ দিন ধরে চালের গুরা ও ঝাউ খেয়ে পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু দুটো শিশু নাতির কান্না আর সহ্য করতে পারছেন না। এলাকায় কোন উদ্ধার কর্মি বা এখান কর্মি কেহ আসেনি।তিনি আমাকে এখান নয় কিছু শিশু খাদ্যের জন্য অনুরোধ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ঘরের ভিতর থেকে তাঁর স্রীর কান্না শোনাতে পেরে জিগ্যেস করতেই তিনি জবাব দিলেন সারা জীবন মানুষকে সাহায্য করতাম এখন আমারা ভিক্ষার আশায় বসে আছি।

এ সময় ঘরের ভিতর শিশুদের কান্নার সাথে সাথে তাঁর পুএ বুদের ও কান্নার শব্দ শোনে সাথী সাংবাদিক সহ নিজের কান্না ও আটকাতে পারলামনা।

এমনি আলাইয়ার পুর ইউনিয়নের দোয়ালিয়া বাজার গ্রামের আবুল মিয়ার বাড়িতে। আবুল মিয়া এক সময় প্রকাশে নিজের টাকা খরচ করে অনেক লোক পাটিয়েছে। আজ নিজের পরিবার ৫/৬ দিন থেকে এক রকম আধা পেটা খেয়ে না খেয়ে বসবাস করছে।গোটা গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। সরকার বা বেসরকারি কোন এখান সহায়তাকারী কারুকে এ এলাকায় ও দেখা যায়নি নিলে জানান তিনি।

সুলতান পুরণের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রব জানায়, পরিবারের ৮ সদস্য নিয়ে একরকম না খেয়ে আছে।পরিবারের শিশুদের কান্নার রোল আর সইতে পারছিনা।

একই অবস্থা রামপুর,মিয়া পুর,আপ্তারাম পুর,বাহাদুর পুর,আলাইয়ার পুর গ্রামেও।

টঙ্গীতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাষ্টি ডাঃ নাজিমকে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
টঙ্গীতে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ট্রাষ্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ডাঃ নাজিম উদ্দিন আহমেদ। গতকাল সোমবার দুপুরে টঙ্গী বাজার তার নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় ডা: নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ২৪ আগস্ট সকালে হাসপাতালে আমার অফিসে এসে আমার কাজে অব্যাহিত দিয়ে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করতে বলে। আমার সাথে খারাপ আচরণ সহ আমাকে হুমকি প্রদান করিয়া চাপ সৃষ্টি করিতে থাকে। একপর্যায়ে তাহাদের লিখিত কাগজে জোর পূর্বক আমার স্বাক্ষর নেয়। আমি স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করি নাই। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ডাঃ নাজিম উদ্দিন আহমেদ হরগঙ্গা কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলজের ছাত্রসংসদের সাবেক সমাজকল্যাণ সেক্রেটারী। সেক্টর ২নং এর ১ম হেডকোয়াটার মতি নগর এর চীফ মেডিকেল অফিসার, ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১ম হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা।পরবর্তীতে সেক্টর ২ এর হেডকোয়াটার মেলাঘরের চীফ মেডিকেল অফিসার। বাংলাদেশ সরকারের অর্থয়ানে ত্রিপুরা রাজ্যের বিশ্রামগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফোর্সেস হাসপাতালের উপঅধিনায়ক, বাংলাদেশ আমি মেডিকেল কোরের লেফট্যানেন্ট। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে ডাঃ কাসেম চৌধুরী ও শিরিন হকের নেতৃত্বে যে নেককার জনক ঘটনার সূত্রপাত করেছে, তারা দূর্নীতিবাজদের সাথে হাত মিলিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাট ও চুরি কায়েম শুরু করেছে।

১৮ ঘণ্টায়ও নেভেনি গাজী টায়ার কারখানার আগুন, নিখোঁজ ১৬০ 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসীতে অবস্থিত গাজী টায়ার কারখানার আগুন এখনো জ্বলছে। ১৮ ঘণ্টায়ও আগুন নেভেনি। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট রাত থেকে কাজ করলেও আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আগুন নেভানো যায়নি। ১৬০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। 

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম বলেন, ১৬০ জন নিখোঁজের তালিকা করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে গাজী টায়ার কারখানায় লুটপাট চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল বিকেল থেকে কয়েকশ লোক কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। লুটপাট শেষে রাতে একাধিক ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে এলেও তাঁরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি সারা রাতেও।’ লুটপাট ঠেকাতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, ভেতরে থাকা টায়ার উৎপাদনের দাহ্য পদার্থ ও কাঁচামালের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর আগে গতকাল রোববার বিকেলে গাজী গ্রুপের মালিক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীকে আদালতে তোলার খবর এলেই একদল দুর্বৃত্ত গাজীর টায়ার কারখানায় হামলা চালায় এবং লুটপাট শুরু করে।

লুটপাটের একপর্যায়ে এক পক্ষকে ভেতরে রেখে আরেক পক্ষ আগুন ধরিয়ে দেয় বলে দাবি করছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: খাবারের অভাবে দিন কাটছে বানভাসিদের

গত ৩ দিন বৃষ্টি বন্ধ হলেও ভারত থেকে নেমে আসা পানির কারণে নোয়াখালীর সেনবাগে প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। যার ফলে ক্রমেই ভোগান্তি বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের। আশ্রয়ের খোঁজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটাছুটি করছে তারা। 

উপজেলার সব স্কুল কলেজ, মাদ্রাসাকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হলেও ওই কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষ ঠিকমতো পাচ্ছেন না খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোকজন ত্রাণ তৎপরতা চালালেও তা অপ্রতুল। এছাড়া গবাদি পশু নিয়েও মহাবিপাকে রয়েছে খামারিরা। পশুগুলোর নেই খাদ্য, নেই থাকার জায়গা।

যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না। সামাজিক সংগঠনগুলো সড়কের পাশে এবং শহরকেন্দ্রিক ত্রাণ বিতরণ করার কারণে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে বলে জানা গেছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর দাবি, সরকারিভাবে স্পিডবোট ব্যবস্থা করা হলে উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের নিকট ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কসহ উপজেলার সকল পাকা ও কাঁচা সড়ক পানির নিয়ে তলিয়ে থাকায় ছোট ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এসব এলাকায় ট্রাক আর ট্রাক্টর একমাত্র ভরসা। গত এক দু’দিনে মধ্যে নৌকা এসে পৌঁছানোর কারণে তা দিয়ে কোনো রকমে চলছে যোগাযোগ।

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিসান বিন মাজেদ জানান, বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদত্যাগের জন্য বলপ্রয়োগ করা যাবে না-শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কারও বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে পদায়ন ও নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে প্রশাসন ভেঙে পড়তে পারে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পেতে অসুবিধা হবে।

আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

একটি সফল অভ্যুত্থানের পর সুশৃঙ্খল সমাজে ফিরে যেতে চান উল্লেখ করে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যে ধরনের সম্পর্ক আশা করা হয়, সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করা যাবে না। শিক্ষাঙ্গনে ভদ্রতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষা উপদেষ্টা।