সাংবাদিকদের নামে ঢালাও হত্যা মামলা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন: সম্পাদক পরিষদ

আজ শনিবার এক বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ এ কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢালাও অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার ঘটনা এখনো অব্যাহত। সম্পাদক পরিষদ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চায়, এ ধরনের মামলা প্রচলিত আইনের অপব্যবহারের শামিল। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতিশ্রুতিরও লঙ্ঘন। সাংবাদিকেরা কোনো অপরাধ করে থাকলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ ধারা অনুসরণ করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সম্পাদক পরিষদ আরও জোর দিয়ে বলতে চায় যে পেশাদারত্ব বাদ দিয়ে নীতিবিবর্জিত ও লেজুড়বৃত্তির সাংবাদিকতা বর্জনীয়। যে সাংবাদিকেরা বিগত সরকারের নানা নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকতার নামে সমর্থন দিয়েছেন, প্রেস কাউন্সিলে একটি কমিটি গঠন করে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধান হতে পারে। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রেস কাউন্সিল আইনে তাঁদের সাজা হতে পারে। তাঁদের অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রচলিত আইনে তাঁদের বিচার চলতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) বা সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ (সিএসএ) নিবর্তনমূলক বিভিন্ন আইন ও হয়রানিমূলক আটক-গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের যে প্রয়াস চালানো হয়েছিল, তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত নিন্দিত ও সমালোচিত হয়েছিল। আর বর্তমানে সাংবাদিকদের নামে এভাবে ক্রমাগত হত্যা মামলা দেওয়ার প্রবণতাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে বলে সম্পাদক পরিষদ মনে করে।

এ অবস্থায় যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে এসব মামলা থেকে দ্রুত তাঁদের অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানায় সম্পাদক পরিষদ।

রিপন-লুনা দম্পতির কবজায় বেসরকারি ৩২ ট্রেন!

এক যুগের বেশি সময় ধরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত ৩২টি ট্রেন নিয়ন্ত্রণ করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সালাউদ্দিন রিপন ও তার স্ত্রী মিফতাহুল জান্নাত লুনা। বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত ৩৭টি ট্রেনের মধ্যে ৩২টিই নিয়ন্ত্রণ করছেন এই দম্পতি।নতুন ইজারা না করে অনিয়মের মাধ্যমে এই নবায়নের ফলে রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন সংস্থাটি।

সালাউদ্দিন রিপন বরিশাল ৫ সংসদীয় আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  অংশ নিয়েছিলেন। নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠান খুলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দরপত্রে অংশ নিয়ে ট্রেন পরিচালনার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। দেশের বাণিজ্যিক রেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কব্জায় নিয়েছেন এই দম্পতি।অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ট্রেন পরিচালনার জন্য দরপত্রে অংশ নেওয়া সব প্রতিষ্ঠানই ছিল রিপনের।
ফলে প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে খুব নিম্ন দরে টেন্ডারে অংশ নিয়েও কাজ পেয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কারচুপি বা অনিয়মের বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয় আর বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।আয়কর সনদে দেওয়া তথ্যমতে, মেসার্স এসআর ট্রেডিং, এলআর ট্রেডিং ও এনএল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী সালাউদ্দিন রিপন। টিএম ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী হিসেবে রয়েছেন মিফতাহুল জান্নাত লুনা।
এই চার কোম্পানির ঠিকানাই রাজধানীর ৭৮ মতিঝিলে। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যমতে, ট্রেন ইজারার জন্য খোলা দরপত্রে অংশ নেওয়া মেসার্স শান্তা ট্রেডার্স, এমকে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস ও রুবায়েত ট্রেড ইন্টারন্যাশনালও রিপনের অফিসের ঠিকানা ৭৮ মতিঝিলে পরিচালিত হচ্ছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করে জানান, নামে-বেনামে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নিয়ে থাকেন।তথ্যমতে, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৮ জোড়া ট্রেন বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা করছে। এগুলো হচ্ছে বলাকা কমিউটার, মহুয়া কমিউটার, জামালপুর কমিউটার, দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার, কর্ণফুলী কমিউটার, তিতাস কমিউটার ও সাগরিকা কমিউটার।
এগুলো সবকটিরই ইজারা পেয়েছেন রিপন-লুনা দম্পতি।রেলওয়ের তথ্যমতে, ৯৯ নম্বর ঢাকা কমিউটার, ৫ নম্বর আপ ও ডাউন কমিউটার এবং ৫৫৪ নম্বর লোকাল ট্রেন ইজারা নিতে দরপত্রে অংশ নেয় ৫টি প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানই আওয়ামী লীগ সমর্থিত এই দম্পতির। এসব কোম্পানির ঠিকানা একই। ২৩-২৪ রকেট মেইল ও ২৭-২৮ চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের দরপত্রে অংশ নিয়েছিল তিনটি প্রতিষ্ঠান। যার সবই রিপন-লুনা দম্পতির মালিকানাধীন।১৫ নম্বর মহানন্দা, ৫৮৫ লোকাল ও ১৬ নম্বর মহানন্দা এবং ২৫/২৬ নম্বর নকশিকাথা এক্সপ্রেসের দরপত্রে অংশ নিয়েছিল তিনটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোও রিপন-লুনার। এ ছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক ট্রেনের দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন এই দম্পতি। অভিযোগ রয়েছে, এই দম্পতির অধীনে কর্মরত বিভিন্ন কর্মচারীরাও খোলা দরপত্রে অংশ নিয়ে বাণিজ্যিক ট্রেন পরিচালনার কাজ নিয়েছেন। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি ট্রেনের মধ্যে ১৬টি ট্রেনের পরিচালনার কাজও পেয়েছেন রিপন ও তার স্ত্রী লুনা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও খুলনার মধ্যে যাতায়াত করে। ২০০৯ সালে এই ট্রেনটি ইজারা দেওয়া হয়েছিল রিপনের এলআর ট্রেডিংকে। তখন প্রতি ট্রিপে একটি কোচের ইজারা মূল্য ধরা হয়েছিল ৪০ হাজার ৭৬০ টাকা। সে সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে খুলনা পর্যন্ত একজন যাত্রীর ভাড়া ছিল ৬০ টাকা।

২০১৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে এই ভাড়া ৯৫ টাকা নির্ধারণ করা। অথচ তখন ইজারা মূল্য কমিয়ে ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ২৯ টাকা। অথচ একটি কোচও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৩ সালে ট্রেন পরিচালনার কাজ আবার বাগিয়ে নেয় রিপনের আরেক প্রতিষ্ঠান এনএল ট্রেডিং।

তথ্যমতে, চারটি প্রতিষ্ঠান এই দরপত্রে অংশ নিয়েছিল। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এনএল ট্রেডিং, টিএম ট্রেডিং, মেসার্স শান্তা ট্রেডার্স ও এলআর ট্রেডিং। যার সবই রিপন ও তার স্ত্রী  লুনার মালিকানাধীন। ফলে কারসাজি করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নিয়ে খুব নিম্নদরে কাজ পেয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, রিপনের চাচা ছিলেন ঢাকা রেলওয়ের ঠিকাদার। ২০০৪ সালে চাচার মৃত্যুর পর চাচাতো বোনকে বিয়ে করেন রেলের জগতে প্রবেশ করেন রিপন। এর পর রেলপথ মন্ত্রণালয় আর বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে রেলের জগতে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন রিপন। কারসাজির মাধ্যমে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্রে অংশ নিলেও তা মূল্যায়নের সময় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মকর্তারা আমলে নেননি। ফলে একই ব্যক্তিকে বিভিন্ন ট্রেনের পরিচালনার কাজ দিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অধিক রাজস্বপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

অনিয়ম আর কারসাজি করে বিভিন্ন ট্রেন পরিচালনার কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিপনের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, নামে-বেনামে এসব কম্পানিকে টেন্ডার দিতে সরকারের সাবেক দুই মন্ত্রীর পক্ষ থেকে চাপ ছিল। যার কারণে বাধ্য হয়েই কাজ দিতে হয়েছে প্রভাবশালী এ দম্পতিকে।চার বছরের জন্য ট্রেন পরিচালনার ইজারা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের আশীর্বাদে বারবার নবায়ন করা হয়েছে চুক্তি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী গতকাল বলেন, অনেক আগে থেকে এই দম্পতি বাণিজ্যিক ট্রেনগুলোর পরিচালনার কাজ পেয়েছেন। খোলা দরপত্রের মধ্যেই তারা এই কাজ পেয়েছেন। কিন্তু তাদের কাজ দিতে কোনো চাপ বা সরকারের প্রভাবশালী মহলের নির্দেশ ছিল কিনা তা এখন বলতে পারছি না। এসব খোলা দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল তা নিয়ে কোনো জবাব দেননি তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের এই মহাপরিচালক পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা থাকাকালে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে একাধিক ট্রেনের চুক্তি অবৈধভাবে নবায়ন করে এই দম্পতিকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন।

 

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঢাকায় জশনে জুলুস

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীতে বিরাট জুলুস বের করেছে আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট।

আজ শুক্রবার সকালে ‘জশনে জুলুস’ বা আনন্দ র‍্যালি ঢাকার মোহাম্মদপুরের কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলিয়া (কামিল) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়। এটি শাহজাহান রোড, আওরঙ্গজেব রোড, মিরপুর রোড, আসাদ গেট হয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোড, সাত মসজিদ রোড, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, সাত মসজিদ সুপার মার্কেট, শিয়া মসজিদ, রিং রোড, শ্যামলী, খিলজি রোড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মাদ্রাসা ময়দানে যায়। পরে সেখানে বিশাল মাহফিল করা হয়।

মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। বিশেষ মেহমান ছিলেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাশেম শাহ। সঞ্চালনা করেন কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হক।

মাহফিলে সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ বলেন, একদিকে সন্ত্রাসবাদ, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আঘাতে বর্তমান পৃথিবী আজ দিশেহারা। শান্তির খোঁজে ছুটছে মানুষ। মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত পৃথিবীর অধিকাংশ জনগোষ্ঠী। সম্পদের পাহাড় করছে কিছু মানুষ। অন্যদিকে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও বাসস্থানের অভাবে আছে বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণ। অন্যায়ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে প্রতিবছর শরণার্থী করা হয় অসংখ্য মানুষকে। বিশেষ করে অনেক জায়গায় মুসলিম নিধন ঘটে নীরবে। নৈতিক ও যথাযথ ধর্মীয় শিক্ষা ও অনুশীলনের অভাবে সমাজে খুন-খারাবি, ঘুষ-দুর্নীতি, নারী নির্যাতন ইত্যাদি লেগেই আছে। এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ও শিক্ষার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন।

সত্যিকারের আদর্শবান, নৈতিকতাসম্পন্ন ও দেশপ্রেমিক দ্বীনদার মানুষ গড়ার জন্য প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুপম আদর্শ অনুসরণ করাই যথেষ্ট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাশিম শাহ বলেন, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ থেকে বিচ্যুতির কারণেই মূলত পৃথিবীতে অশান্তি নেমে এসেছে। যারা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে নবী-অলিদের প্রতি বিদ্বেষী করে তোলে, হাজার বছর ধরে চলে আসা ইসলামি অনুষ্ঠানমালা যেমন—ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), শবে বরাত, শবে মেরাজ ও ফাতেহা ইত্যাদির বিরোধিতা করে, তাঁদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা দরকার।

মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, ঢাকার চেয়ারম্যান মো. শহীদ উল্লাহ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আঞ্জুমানের সম্মানিত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা আঞ্জুমানের সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমান।

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও ঢাকা আঞ্জুমানের নেতৃবৃন্দ এবং প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম, দেশবরেণ্য গবেষক, ইসলামি চিন্তাবিদ, শিক্ষানুরাগী এবং সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তাৎপর্য তুলে ধরে বয়ান করেন কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল-আজহারী, উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হক প্রমুখ।

খতমে গাউসিয়া ও মিলাদ শরিফ শেষে বাংলাদেশসহ সমস্ত মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় দোয়া করেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ।

শাহবাগে ৪ দাবিতে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের অবরোধ 

বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতিতে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন, মঠ-মন্দির, ঘর-বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, জায়গা-জমি দখলসহ সব অত্যাচারের প্রতিবাদে এবং অন্তর্বতীকালীন সরকারের কাছে পেশ করা আট দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। 

আজ শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে এ অবরোধ শুরু হয়। অবরোধের ফলে রাজধানীর এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে কাঁটাবন-সায়েন্স ল্যাব রাস্তা ও শাহবাগ-পরীবাগ রাস্তা হয়ে বেশ কিছু যান চলাচল করতে দেখা গেছে। হিন্দুদের সব সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে শাহবাগ অবরোধ করে বাংলাদেশ হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। আজকের অবরোধ কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

দাবিগুলো হলো—অনতিবিলম্বে আট দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে; ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সব হামলার সুষ্ঠু বিচারের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে; ঠাকুরগাঁও, চট্টগ্রামসহ সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিচার করতে হবে এবং আসন্ন দুর্গাপূজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।

হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক প্রদীপ কান্তি দে বলেন, ‘আপনারা (সরকার) যদি দুই কোটি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দিতে না পারেন, তবে বলে দিন আমরা জাতিসংঘের কাছে নিরাপত্তা চাইব। আমরা অন্তরর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি করছি, এ দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে আগামীতে বাংলাদেশ হিন্দু জাগরণ মঞ্চ সব সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

অবরোধ চলাকালে দাবির পক্ষে নানান স্লোগান দেন তাঁরা।

জ্বালানি ক্রয়ে বকেয়ায় বাড়ছে লোডশেডিং

বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় ঘাটতিতে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে সারা দেশে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রগুলো এখন নিয়ম করে অপরিকল্পিত লোডশেডিং চালাচ্ছে। দিনে তিন-চারবার থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে এই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির পেছনের বড় কারণ মোটা বকেয়ার জন্য জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে না পারা। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি ছাড়াও বিদ্যুৎ তথা জ্বালানিসংকট শিল্প খাতসহ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ হচ্ছে জ্বালানি। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানির শতকরা ৬০ ভাগই আমদানি করতে হয়। এই জ্বালানির বড় অংশ হলো ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েল। বাকিটা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। দেশে এখন জ্বালানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে কয়েক দিন ধরেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমেছে।

দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে কমপক্ষে ২ হাজার মেগাওয়াট। ফলে ব্যাপক মাত্রায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতে সরকারের বিপুল বকেয়া জমেছে। জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এলএনজি আমদানি বাবদ সরকারের বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০৭.৩৫ মিলিয়ন ডলার। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময় ডলার-সংকটের কারণে বকেয়া পরিশোধ করা যায়নি। এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির নিশ্চয়তা এবং বকেয়া অর্থ চাইছে। কিন্তু সরকারের কাছে ডলারের ঘাটতি থাকায় তা মেটানো যাচ্ছে না। এখন জ্বালানিসংকট তীব্র হওয়ার এটা বড় কারণ। ৮ মাস ধরেই এ পরিস্থিতি চলতে থাকায় মজুত জ্বালানিও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। আদানি গ্রুপ বকেয়া শোধের তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে।

জমেছে মোটা অঙ্কের বকেয়া
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বকেয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলএনজি আমদানির বকেয়া বিলের পরিমাণ ছিল ৬৩ কোটি ডলার। ১০ সেপ্টেম্বর কাতার এনার্জিকে এর একটা ছোট অংশ (আড়াই কোটি ডলার) পরিশোধ করেছে সরকার। জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বাকি ৬০ কোটি ডলার দ্রুত পরিশোধের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি আমদানি করে থাকে। এর আগে আইটিএফসি থেকে ঋণ নিয়ে কাতার এনার্জির দুটি বিল গত মে ও জুলাই মাসে পরিশোধ করেছিল জ্বালানি বিভাগ। মে মাসে আইটিএফসির সেই ঋণের একটি কিস্তিও বকেয়া পড়ে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনমতে, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন কোম্পানি শেভরনের মোট সাতটি বিল বকেয়া পড়েছে। শেভরনের সরবরাহ করা গ্যাসের বকেয়া জমেছে ২২৪.৮২ মিলিয়ন ডলার। ১০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটিকে ৩.৪২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। গত বুধবার অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাকি অর্থ পরিশোধ করার অনুরোধ করেছেন শেভরনের কর্মকর্তারা।

চুক্তির বাইরে দ্রুত সরবরাহ পেতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া, গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড ও এক্সেলারেট এনার্জির মাধ্যমে গ্যাস কিনেছে জ্বালানি বিভাগ। এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্যাসের দামের ৮৭.২০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে।

জানা গেছে, বকেয়ার অঙ্ক বেশি থাকায় ২ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুই কার্গো এলএনজি খালাস না করে সরবরাহকারীরা ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ পর্যন্ত  নিয়েছিল। পরে জ্বালানি বিভাগ জরুরিভাবে অনুরোধ করে তা খালাসের ব্যবস্থা করে।

আটকে ছিল এলএনজি আমদানির উদ্যোগ 
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলন চলাকালে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক সময়মতো হয়নি। এ কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির কয়েকটি প্রস্তাবের অনুমোদন আটকে ছিল। আন্দোলন ঠেকাতে বিগত সরকার দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখায় বিদেশের সঙ্গে লেনদেন করা সম্ভব হয়নি। এর ফলেও বকেয়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে কক্সবাজারের দুটি ভাসমান স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) মধ্যে একটি অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে আমদানি করা এলএনজি খালাসের সক্ষমতাও অর্ধেকে নেমে আসে। গত বুধবার থেকে দুটি এফএসআরইউ সচল হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এগুলোর মাধ্যমে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

আশাবাদ জানালেন উপদেষ্টা
চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, সংকট কাটাতে দ্রুত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর কিছু আসবে দীর্ঘমেয়াদি প্যাকেজে। আর কিছু আসবে তাৎক্ষণিক কেনার স্পট মার্কেট থেকে। উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে জ্বালানি আসা শুরু হবে। এই জ্বালানি এলেই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা শামসুল আলম  বলেন, ‘অর্থনীতির চক্রাকার তৎপরতাকে সচল রাখার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। একইভাবে চাহিদামাফিক বিদ্যুতের সরবরাহ দেওয়া। তাই সরকারের এখন উচিত, সব উন্নয়ন প্রকল্পের বিনিয়োগ স্থগিত এবং সেই অর্থ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে জ্বালানি খাতে বরাদ্দের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের পথ তৈরি করা।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের ফোন ধরলেন না নেতানিয়াহু, কেন?

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, গাজায় যা ঘটছে তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য৷গাজা যুদ্ধ শুরুর পর তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও নেতানিয়াহু তার ফোন ধরেননি বলে জানান গুতেরেস৷

বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব৷

গাজায় নিহত জাতিসংঘের কর্মী ও অন্যান্য ত্রাণ কর্মীদের হত্যার ঘটনায় জবাবদিহিতার অভাবও ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন গুতেরেস৷গাজায় প্রায় ৩০০ ত্রাণ কর্মী মারা গেছেন যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জাতিসংঘের কর্মী বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ৷

গাজায় এখন পর্যন্ত ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি মারা গেছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন৷ হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের প্রতিশোধ বিষয়ে গুতেরেস বলেন, সেখানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অত্যন্ত নাটকীয় লঙ্ঘন ঘটছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি সেখানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি৷

তবে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করে৷ গাজায় নিহতদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জঙ্গি বলে দাবি করে তারা৷ হামাস সাধারণ নাগরিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী৷তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে গুতেরেসের কথা না হওয়া প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, আমি তার সঙ্গে কথা বলিনি কারণ তিনি আমার ফোন ধরেননি৷

দুই সপ্তাহ পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি রাজি আছেন বলেও জানান গুতেরেস৷ আমার তার সঙ্গে কথা না বলার কোনো কারণ নেই, বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব৷

বর্তমান পৃথিবীর অবস্থাকে ‘বিশৃঙ্খল’ বলে আখ্যায়িত করেন গুতেরেস৷ তিনি বলেন, গাজা ও ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না৷

বেসামরিক সরকারের হাতে এত প্রাণহানি বিশ্বে বিরল: রোবায়েত ফেরদৌস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস বলেছেন, ‘এরশাদ সরকারের নয় বছরে ৩৭০ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে ৬১ জন মানুষ নিহত হয়েছিলেন। আর শেখ হাসিনার সরকার মাত্র দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) ১ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। যুদ্ধ অবস্থা ছাড়া পুরো পৃথিবীতে এটি খুবই বিরল। কোনো একটি সিভিল সরকার তার জনগণের মধ্যে ১ হাজার জনকে হত্যা করেছে। খুব বেশি নজর খুঁজে পাবেন না।’

রাজধানীর মহাখালীর সেনা কল্যাণ টাওয়ারের একটি কনফারেন্স রুমে আজ বুধবার ‘রাষ্ট্র সংস্কারে সকলের একাত্মতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আলোচনার আয়োজন করে গুড গভর্নেন্স নামের একটি সংগঠন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক একেএম শরিফুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সিকদার মকবুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিচারক ইকতেদার আহমেদ।

ঢাবি শিক্ষক রোবায়েত বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে ৭৪ জন শিশু। ৪০০ জন মানুষ অন্ধ হয়ে গেছে, এক চোখ কিংবা দুই চোখ। ২০ হাজার জন মানুষ পঙ্গু হয়ে গেছে চিরতরে। এসব যদি মাথায় না রেখে আমরা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের কথা বলি তাহলে সহজে বিষয় না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্মৃতি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অধ্যায় লেখা হবে। বাংলাদেশের কোনো সরকার প্রধান কোনো দিন পালিয়ে যায়নি। বঙ্গবন্ধু এখানে নিহত হয়েছেন। জিয়াউর রহমান এখানে নিহত হয়েছেন। এরশাদ জেল খেটেছেন। পালিয়ে কোনো দিন যাননি। তাই অনেক নতুন ফিচার এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।’

শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের ঝোঁকই ছিল স্বৈরাচারী হওয়া। কোনো ক্ষমতার ঝোঁকই হচ্ছে স্বৈরাচারী হওয়া। এ কারণে পলিটিক্যাল ফিলোসফারদের সারাক্ষণই চিন্তা ছিল ক্ষমতাকে কীভাবে আটকে রাখা যায়। এটিকে কীভাবে চোখে চোখে রাখা যায়। এটিকে কীভাবে পাহারা দিয়ে রাখা যায়।’

আলোচনা সভায় বিচারক ইকতেদার আহমেদ বলেন, ‘২০০৮–এর নির্বাচন থেকে ২০১৮ পর্যন্ত নির্বাচন অবৈধ। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়ে গেছে। ভোট গ্রহণ রাতে হয় না। দিনেই হয়।’

তিনি বলেন, ‘এসব নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সবাই অবৈধ। তারা যেসব বেতন ভাতা নিয়েছে, সেগুলোও অবৈধ। তাদের এসব বেতন ভাতা আদায়ের জনগণ দাবি তুলতে পারে।’

এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, ‘সমাজের সবাই নেতৃত্বদানকারী। এখানে কাউকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।’

তিনি বলেন, ‘গুড গভর্নেন্স মানে কোনো পক্ষ–বিপক্ষ নয়, নিরপেক্ষ। তার কোনো পক্ষ থাকতে পারে না। সব জনগণের জন্য যেটা কল্যাণকর সেটা হচ্ছে সুশাসন। দল মত বর্ণ নৃগোষ্ঠী নিয়ে জাতিগত বৈষম্য দূর করতে হবে। সেই সঙ্গে দলবল নির্বিশেষে নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ চাই। তা ছাড়াও আমরা শান্তি সমৃদ্ধি, সৌহার্দ্য, ভালোবাসার বাংলাদেশ চাই।’

গণ সংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘১৯৬৯ পর ১৯৭১ এসেছে। কিন্তু ১৯৭১ সালের পর এসে দেখলাম তারা ১৯৭০–এ এসে দাঁড়িয়ে আছে। ৭১ সালকে অস্বীকার করার মতো ঘটনা ঘটেছে।’

আলোচনা সভায় মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের ঐক্য ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের নাম দেওয়া দরকার ছিল নির্বাচক। আমরা বলব, আমাদের নির্বাচন করেছে। প্রতিটি ইট এক নম্বর হলেই একটি এক নম্বর বিল্ডিং সম্ভব। ভালো নাগরিক ছাড়া ভালো সরকার হয় বলে আমি মনে করি না।’

সংস্কার পার্টির নির্বাহী আহ্বায়ক মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী বলেন, ‘এই সরকারের ফেল মানে সবার ফেল। এটা সবার সরকার, সেই বিশ্বাসটা সবাইকে ধারণ করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সরকারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাহলে আমাদের সকলেরই পাশ হবে।’

বিচারপতি সিকদার মকবুল হক বলেন, ‘আন্দোলনে যেসব আত্মত্যাগ করা হয়েছে তার ফসল এখনো আমাদের কাছে আসেনি। এর জন্য সবাইকে একত্রিত হতে হবে। যারা এই অর্জনে বিরুদ্ধে এখনো কাজ করতেছে তাদের কাছে এখনো লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা আছে। যেটা এই সরকারের কাছে নেই। কোনো ব্যাংকে নেই। কোন পলিটিক্যাল পার্টির কাছে নেই। শেষ দিনও নাকি আন্দোলন বানচাল করার জন্য কোটি কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যেসব টাকাগুলো রয়ে গেছে।’

আলোচনা সভার সভাপতির বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি মকবুল বলেন, ‘যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করেছে তারা দেশের ভালো চায়। শুধু যে আন্দোলন ছাত্ররাই করেছে তাই নয়। জনগণও সঙ্গে ছিল।’

তিনি বলেন, ‘কোনো অভ্যুত্থান হলে আইন ভাঙতেই হয়। আইনের মধ্য থেকে কখনো অভ্যুত্থান হয় না। সংবিধানের মূল কথা হলো জনগণই দেশের মালিক। সংবিধান অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে, সেগুলো দলীয়, রাজনৈতিক ও পারিবারিক কারণে হয়েছে। কিন্তু জনগণের স্বার্থে কোন কিছুই হয়নি। তাই সংবিধান নতুন করে বানাতে হবে, না হলে আগেরটাকে নতুন করে সংশোধন করতে হবে।’

সরকারের ৬ কমিশনে নেতৃত্ব দেবেন কারা, জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বার্তাকে প্রতিফলিত করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি। এসব বিষয়ে সংস্কার করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব কমিশনের কাজ পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিককে এই কমিশনগুলি পরিচালনা করার দায়িত্ব দিয়েছি। এরপর আরো বিভিন্ন বিষয়ে কমিশন গঠন প্রক্রিয়া আমরা অব্যাহত রাখব।

’বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন সরফরাজ চৌধুরী, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিক দায়িত্ব পালন করবেন।’

তিনি বলেন, ‘এসব কমিশনের অন্য সদস্যদের নাম কমিশনপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। কমিশনগুলোর আলোচনা ও পরামর্শসভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ছাত্র, শ্রমিক, জনতা আন্দোলনের প্রতিনিধি,  নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

’তিনি আরো বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হওয়ার পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু করতে পারবে বলে আশা করছি এবং এটি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আমরা ধারণা করছি। কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শসভার আয়োজন করবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্র সমাজ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক তিন থেকে সাত দিনব্যাপী একটি পরামর্শসভার ভিত্তিতে সংস্কার ভাবনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এতে এই রূপরেখা কিভাবে বাস্তবায়ন হবে তার একটি ধারণাও দেওয়া হবে।
এই আয়োজন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বার্তা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র পুনঃনির্মাণ তাগিদের ঐক্যবন্ধনে গোটা জাতিকে শক্তিশালী ও আশাবাদী করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’ 

ডিসি পদ না পেয়ে সচিবালয়ে হট্টগোল

গত দুই দিনে দেশের ৫৯ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার নজিরবিহীন হট্টগোল হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের ‘সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের’ ডিসি করা হয়েছে অভিযোগ তুলে ডিসি নিয়োগের দুটি প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিসিএস ২৪, ২৫ ও ২৭ ব্যাচের ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা। এই দাবিতে গতকাল দিনভর তাঁরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভেতরে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের দুই যুগ্ম সচিবকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

গত সোমবার দেশের ২৫ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেখানে মাত্র তিনজন ‘বঞ্চিত কর্মকর্তা’ রয়েছেন বলে দাবি বিএনপি-জামায়াত ঘরানার কর্মকর্তাদের। নতুন পদায়নে সিলেটের ডিসিসহ বেশির ভাগ নতুন ডিসিই ‘হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত’ ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। বিতর্ক ওঠায় নিয়োগের এক দিন পরই সিলেটের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া পি কে এম এনামুল করিমকে প্রত্যাহার করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব শের মাহবুব মুরাদকে নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু গতকাল দুপুরে আরও ৩৪ জেলায় নতুন ডিসি পদায়ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেটির প্রজ্ঞাপন জারি হলেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ডিসি পদে নিয়োগপ্রত্যাশী বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের দাবি, অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের ‘দালাল’দের ডিসি বানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রেখেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের দুই যুগ্ম সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং কে এম আলী আযম।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ডিসির পদপ্রত্যাশী বিসিএস ২৪, ২৫ ও ২৭ ব্যাচের ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা গতকাল দুপুরে এপিডি অনুবিভাগের দুই কর্মকর্তা ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং কে এম আলী আযমের রুমে ঢুকে জানতে চান, কীভাবে এ ধরনের ব্যক্তিদের ডিসি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হলো? এ সময় যুগ্ম সচিব কে এম আলী আযমও উত্তেজিত হয়ে জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের আপত্তির কারণে ‘বঞ্চিত’দের ডিসি করা যায়নি। এতে আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন কর্মকর্তারা। শুরু হয় হট্টগোল। গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের একজন কর্মকর্তা এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা তাঁর ফোন ছিনিয়ে নেন। শুধু তা-ই নয়, ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তিও হয়। এ সময় যুগ্ম সচিব আলী আযম নিজের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দিলে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আসেন। আলী আযম ও জিয়াউদ্দিনের কক্ষের সামনে পুলিশ অবস্থান নেয়। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও অবস্থান নেন ঘটনাস্থলে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসনসচিব ওই সময় নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে ছিলেন।

বেলা তিনটায় বঞ্চিত কর্মকর্তারা দুই যুগ্ম সচিবের কক্ষ অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তিনি চলে গেলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বঞ্চিতরা এক জোট হয়ে দুই যুগ্ম সচিবকে সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কক্ষে যাওয়ার উদ্যোগ নেন।

কর্মকর্তাদের রোষ থেকে নিজেকে বাঁচাতে যুগ্ম সচিব আলী আযম পাশের রুমের টয়লেটে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। প্রায় ২ ঘণ্টা পর সিনিয়র কর্মকর্তারা তাঁকে বের করেন। পরে দুই কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৫টার দিকে প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসনসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বঞ্চিতরা। বৈঠক দুই সচিব ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলবেন এবং এ দুটি আদেশ বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এপিডি অনুবিভাগের প্রধান অতিরিক্ত সচিব আবদুর রউফ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ডিসি নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন হয়েছে। আমি এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। সবকিছুই করেছেন যুগ্ম সচিব কে এম আলী আযম। তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করুন।’

৩৪ জেলায় নতুন ডিসি যাঁরা: গতকাল মঙ্গলবারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অর্থ বিভাগের উপসচিব মনোয়ারা হোসেন মোল্লাকে মানিকগঞ্জ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. সাবেত আলীকে টাঙ্গাইল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদারকে সিরাজগঞ্জ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তোষাখানা ইউনিটের পরিচালক (উপসচিব) মোস্তাক আহমেদকে সাতক্ষীরা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশরাফুর রহমানকে ঝালকাঠি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খানকে পিরোজপুর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামকে চুয়াডাঙ্গা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব বনানী বিশ্বাসকে নেত্রকোনা, আরপিএটিসির উপপরিচালক মনোয়ারা বেগমকে রাজবাড়ী, ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-ওয়াক্‌ফ প্রশাসক হাছিনা বেগমকে জামালপুরের ডিসি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুস সামাদকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব সুফিয়া আক্তার রুমীকে লক্ষ্মীপুর, জয়িতা ফাউন্ডেশনের পরিচালক (উপসচিব) মোছা. ইয়াসমিন আক্তারকে মাদারীপুর, জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব ফৌজিয়া খানকে কিশোরগঞ্জ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমানকে রাজশাহী, নিউরো ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ দিদারুল আলমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পরিকল্পনা বিভাগের উপসচিব ফাতেমা তুল জান্নাতকে মুন্সিগঞ্জ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব মো. আব্দুল আজিজকে শরীয়তপুর, অর্থ বিভাগের উপসচিব আহমেদ কামরুল হাসানকে বাগেরহাট, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরীক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে পটুয়াখালী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াকে সুনামগঞ্জ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপসচিব মো. আজাদ জাহানকে ভোলা, খুলনা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (উপসচিব) সিফাত মেহনাজকে মেহেরপুর, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানকে পঞ্চগড়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (উপসচিব) মো. আজহারুল ইসলামকে যশোর, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে বরগুনা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারমিন আক্তার জাহানকে নড়াইলের জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সেতু বিভাগের উপসচিব শরিফা হককে নীলফামারী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনার নুসরাত সুলতানাকে কুড়িগ্রাম, ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) এইচ এম রকিব হায়দারকে লালমনিরহাট, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. দেলোয়ার হোসেনকে বরিশাল, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইশরাত ফারজানাকে ঠাকুরগাঁও, জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরীকে নরসিংদী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মোবাশশেরুল ইসলামকে দিনাজপুরের ডিসি করা হয়েছে।

যেসব ডিসি নিয়ে বেশি আপত্তি: ডিসি পদে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মনির হোসেন হাওলাদারকে। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকের সঙ্গে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০১৫ সালের ১৯ মে বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকনেতারা অভিযোগ করেন, মনির হোসেন হাওলাদার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষককে পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছিলেন।

দিনাজপুরের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম। রাজশাহীর ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহবুবুর রহমান। আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী একই কর্মকর্তা নিজেকে শেখ হাসিনার ম্যান হিসেবে নিজেকে দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। এই কর্মকর্তা জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার আত্মীয় বলে জানা গেছে।

পঞ্চগড়ের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। শেখ হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী এই কর্মকর্তা দীর্ঘ ৬ বছর এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের পিএস হিসেবে কাজ করেছেন।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব বনানী বিশ্বাস। তাঁর স্বামী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সঙ্গে জড়িত। পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকায় গত ১৫ বছর সরকারের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন তিনি। ময়মনসিংহের জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

শরীয়তপুরের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. আব্দুল আজিজ সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমের পিএস ছিলেন। নীলফামারীর ডিসি হওয়া শরিফা হক এবং বাগেরহাটের ডিসি হওয়া আহমেদ কামরুল হাসানের মাঠ প্রশাসনে কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

পেট্রোবাংলায় তিতাস কর্মীদের হামলা-ভাঙচুর

জাতীয় তেল কম্পানি পেট্রোবাংলায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী হামলা চালিয়ে খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলার প্রধান কার্যালয় পেট্রো সেন্টারের নিচতলার অভ্যর্থনা কক্ষে ঢুকে গ্লাস ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় তারা বিক্ষোভ করেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা চলে যান।
জানা যায়, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ মোল্লার চুক্তি গত ২১ আগস্ট শেষ হয়ে যায়। মেয়াদ না বাড়িয়ে গতকাল সোমবার চুক্তি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এরপর গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজকে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। জিটিসিএল-এর এমডি পদের দায়িত্ব পালনের আগে তিনি পেট্রোবাংলার জিএম ছিলেন।

বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, তিতাসের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই এমডি নিয়োগ দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, তিতাসের লোকজনের দাবি হচ্ছে তাদের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এমডি করতে হবে। কিন্তু পেট্রোবাংলার সিনিয়রিটির তালিকায় তিতাস গ্যাসের শীর্ষ ৫০-৬০ এর মধ্যেও কেউ নেই। আবার অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এটা করে একশ্রেণির লোকজন দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি হচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।তিনি বলেন, আমরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে অবহিত করেছি। যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে