চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার জন্য শাটডাউন স্থগিত

চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। এ আশ্বাস পেয়ে আগামীকাল সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন চিকিৎসকরা।

শনিবার (৩১ আগস্ট) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস টেকনোলজির (বিইউবিটি) শিক্ষার্থী আহসানুল হক দীপ্তর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের তিন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন চিকিৎসকরা।

একই দিন মধ্যরাতে খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ এলাকা থেকে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহতরা ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসেন। তখন অন্য আরেক গ্রুপ চাপাতিসহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে ঢুকে যায়। এ সময় হাতেনাতে চারজনকে আটক করে সেনাবাহিনীকে দেয় কর্তৃপক্ষ।

পরে অন্য আরেক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে ভাঙচুর চালায় রোগীর স্বজনরা। এতে করে নিরাপত্তা শঙ্কায় জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। আলটিমেটামের ২৪ ঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই কর্মবিরতিতে যান তারা।

এদিকে, ঢামেক হাসপাতালের (ঢামেক) নিউরো সার্জারি বিভাগের তিন চিকিৎসকের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা হয়।

মামলায় বেসরকারি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) শিক্ষকসহ তিন শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০-৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

রোববার (১ সেপ্টেম্বর) ঢামেক হাসপাতালের অফিস সহায়ক আমির হোসেন (৫৩) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

অন্যদিকে, আজ রোববার দুপুরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, দোষীদের গ্রেপ্তার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশের সব হাসপাতালে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়।

হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের আবাসিক সার্জন আব্দুল আহাদ এ ঘোষণা দেন।

পরে বিকালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

এরপরও চিকিৎসকরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অটল থাকলে বিপাকে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেক গুরুতর রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে থাকেন।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের শাটডাউন কর্মসূচি উঠিয়ে নেওয়ারও আহ্বান জানান।

এদিকে, বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে কর্মবিরতিতে থাকা ডাক্তারদের সঙ্গে সভা ডাকা হয়। ওই সভায় চার দফা দাবি জানান চিকিৎসকরা। তাদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন করেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। চিকিৎসকদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ারও আশ্বাস দেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস পেয়ে কর্মবিরতি স্থগিত করেন চিকিৎসকরা।

গণভবন ছাড়তে মাত্র ৫ মিনিট সময় পেয়েছিল এসএসএফ

টানা ১৫ বছর পর গত ৫ আগস্ট পরাজয় ঘটে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। কোটা আন্দোলনের জেরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে গণভবন থেকে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন শেখ হাসিনা।

এদিকে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পরপরই সেদিন বিকেলে হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে পড়ে।
তখন নিজেদের প্রাণরক্ষা এবং পালানোর জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় ছিল গণভবনের প্রহরায় থাকা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) সদস্যদের।এসএসএফের গণভবনের বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্টিক্যাল গিয়ার, অস্ত্র, গোলাবারুদ, সাজসরঞ্জাম, বেতার যোগাযোগ ও অপারেশনাল সরঞ্জামাদির মজুদ ছিল। কিন্তু হাতে সময় একদমই না থাকায়, এসব ফেলে শুধু নিজেদের সঙ্গে থাকা ছোট আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিভিন্নভাবে গণভবন থেকে সংসদ ভবনে গিয়ে প্রাণরক্ষার চেষ্টা করেন তারা। জনতা যখন সংসদ ভবনেও ঢুকে পড়ে, তখন এসএসএফ সদস্যরা দ্রুত নিজেদের অস্ত্র ও পোশাক খুলে সংসদ ভবনের ভল্টে রেখে সাধারণ পোশাকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে প্রাণরক্ষা করেন।
পরবর্তীতে গণভবন ও সংসদ ভবনে থাকা ভল্টগুলো আর পাওয়া যায়নি। এসএসএফ মনে করছে, আন্দোলনকারী বেশে দুষ্কৃতকারীরা ওই ভল্টগুলো নিয়ে গেছে।গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, বিভিন্ন ধরনের অপারেশনাল সরঞ্জাম যেমন অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, বেতার যোগাযোগের ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ– যার মূল্য পাঁচ কোটি টাকারও বেশি– সেদিন গণভবন ও সংসদ থেকে লুট হয়েছে এবং নষ্ট করা হয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে এসএসএফের অস্ত্র, গোলাবারুদ, অপারেশনাল সরঞ্জামাদি ও বিবিধ দ্রব্যাদির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে সংস্থাটি তিনটি তদন্ত পর্ষদ গঠন করে।

এসব পর্ষদ ইতোমধ্যে গণভবন ও সংসদ ভবন সরেজমিন পরিদর্শন করে–বিভিন্ন অস্ত্র, সরঞ্জাম ও দ্রব্যাদি ইস্যু সংখ্যার সঙ্গে বর্তমান সংখ্যা যাচাই করেছে।অনুসন্ধানের উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে তারা, যা এসএসএফের প্রধান কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।এদিকে মোট ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ৫ আগস্টের ঘটনায় এসএসএফের বিভিন্ন অস্ত্র ও দ্রব্য লুট ও ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে অস্ত্র ও ম্যাগাজিনের ক্ষতি ১১ লাখ ৬২ হাজার টাকা; গোলাবারুদ ও গ্রেনেড খোয়া যাওয়ায় ক্ষতি ১১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা; যোগাযোগ ও অপারেশনাল সরঞ্জামাদি বাবদ ক্ষতি প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা; আইটি ও গোয়েন্দা সরঞ্জামাদি বাবদ ক্ষতি প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যানবাহনে ক্ষতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা এবং অন্যান্য দ্রব্যাদিতে ক্ষতি প্রায় ৭৪ লাখ টাকা।

গণভবনে এসএসএফের স্থাপিত অপারেশন রুমে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার জন্য দুটি অত্যাধুনিক ভল্ট স্থায়ীভাবে স্থাপন করা ছিল, যার প্রতিটির ওজন ১০০ কেজি।

একটি ভল্টে ২টি এসএমজি টি-৫৬ রাইফেল ছিল, এবং অপর ভল্টে ৯ হাজার ৪৯৮ রাউন্ড তাজা গুলি ছিল। লুটপাট চলাকালীন আন্দোলনকারী বেশে দুর্বৃত্তকারীরা ওই ভল্ট দুইটি নিয়ে চলে যায়।৫ আগস্টের ঘটনাবলির বিবরণও দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতাসহ আন্দোলনকারীরা গণভবনের গেট ভেঙে ও সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করতে থাকলে দায়িত্বরত ৬ জন এসএসএফ সদস্য গণভবন থেকে বের হওয়ার জন্য মাত্র ৫ মিনিট সময় পান। এই অল্প সময়ের কারণে তারা নিজস্ব অস্ত্র, গোলাবারুদ, বেতার সরঞ্জামাদি ও অপারেশন সরঞ্জামাদি রেখেই পাশে সংসদ ভবনে যান। কিন্তু অভ্যুত্থানকারী জনতা সংসদ ভবনে প্রবেশ করলে এসএসএফ এজেন্টরা সংসদ ভবনে এসএসএফের অপারেশন রুমে অবস্থিত ভল্টে নিজস্ব অস্ত্র ৬টি পিস্তল ও ২০০ রাউন্ড গুলি সুরক্ষিত করে এবং পোশাক পরিবর্তন করে জনতার সঙ্গে মিশে যাওয়ায় প্রাণনাশের হাত থেকে রক্ষা পান।প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সব ভিআইপি বাসভবন ও সংসদ ভবনে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পিজিআর, এসবি, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ওয়্যারলেস সেট থাকে। এসব ওয়্যারলেস সেট বিভিন্ন কক্ষে সংযোজিত ছিল। সময় স্বল্পতার কারণে এসএসএফ সদস্যরা এসব বেতার সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারেননি। বেশ কিছু বেতার যন্ত্র দুষ্কৃতকারীরা নিয়ে গেছে।

এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে জোর তৎপরতা চালানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এসএসএফের অপারেশনাল রুম আরো সুরক্ষিত রাখতে একটি আলাদা অফিসার্স পর্ষদ গঠন করতে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া এসএসএফের সব বেতার যন্ত্রের প্রাইভেসি কোড পরিবর্তন করে নতুন নেটওয়ার্কে যোগাযোগ করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত অপারেশনাল সরঞ্জামাদি ও যানবাহন জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের মাধ্যমে সচল করার সুপারিশও করেছে এসএসএফ। অপারেশনাল কার্যক্রম যুগোপযোগী এবং বেগবান করার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা, এবং এ জন্য অতিরিক্ত বাজেট প্রয়োজন হলে–তার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে এসএসএফ।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও সরকার ঘোষিত অন্যান্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ, অত্যাধুনিক যানবাহন, অপারেশনাল ও যোগাযোগ সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে থাকে। এগুলো মূলত ভিআইপিদের বাসভবন, কার্যালয় ও অন্যান্য স্থানে সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়।

সারা দেশে চিকিৎসকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপদ কর্মস্থলসহ চার দফা দাবিতে আজ রবিবার দুপুর ২টা থেকে সারা দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকরা।

দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক গেটে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. আবদুল আহাদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যে দুইবার ইনসিডেন্ট ঘটেছে, সেখানে আমাদের চিকিৎসকরা নিজের জীবন বাজি রেখে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়েছেন। এমনকি নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়েছেন, খাবার দিয়েছেন। আমরা বাংলাদেশের ডাক্তাররা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটা অংশ। গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে, নিউরোসার্জারির অপারেশন থিয়েটার থেকে রোগীর লোক এক ডাক্তারকে বের করে এনে মারধর করে। শুধু তাই নয়, মারতে মারতে ২০০/৩০০ মিটার দূরে পরিচালকের রুমে নিয়ে যায়।ডা. আহাদ বলেন, এ বিষয় নিয়ে আমরা দফায় দফায় বৈঠক করি। বৈঠকে দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি হলো, অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা যারা জরুরি বিভাগে থাকি তাদের নিরাপত্তার জন্য আর্মি-পুলিশসহ অন্যান্য ফোর্স এখানে থাকবে। কিন্তু আমাদের প্রশাসন সেটা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত রাতে আরও দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। বাইরে এক গ্রুপ এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করে। সেই গ্রুপ চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিকেলে আসে। তখন বিপক্ষ গ্রুপ ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে এসে চিকিৎসা নিতে আসা গ্রুপকে আবার মারধর করে। তাহলে যেখানে রোগীও নিরাপদ না, সেখানে চিকিৎসকরা কেমন করে নিরাপদ থাকবেন? কিছুক্ষণ পর জরুরি বিভাগের ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস সেন্টারে (ওসেক) এক যুবকের মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্সদের ওপর হামলা হয়, ইমার্জেন্সিতে ভাঙচুর করে। আমরা দেখতে পাই ডাক্তার ও রোগী কেউ নিরাপদ নয়।

ডা. আহাদ বলেন, হাসপাতালের পরিচালকের অনুরোধে রাত ১১টার পরে আমরা কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাই। রাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ডিউটি করি। কিন্তু কোনো সিকিউরিটি আমরা দেখতে পাইনি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে নিজের নিরাপত্তার জন্য কর্মবিরতি করছি। সারা বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল বন্ধ থাকবে।

তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা চলবে, পাশাপাশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে  জরুরি বিভাগ চালু করা হবে।

চার দফা দাবি হলো :

১. হাসপাতালের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে যেসব ব্যক্তি বা কুচক্রী মহল এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা। দ্রুত বিচার আইনের মাধ্যমে তাদের শাস্তির আওতায় আনা।

২. নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে অবিলম্বে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পুলিশের (আমর্ড ফোর্স) মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৩. নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালে রোগীর ভিজিটর (ভিজিটর কার্ডধারী) ছাড়া বহিরাগত কাউকে কোনোভাবেই ভেতরে প্রবেশ করতে না দেওয়া। বিষয়টি স্বাস্থ্য পুলিশের মাধ্যমে নিশ্চিত করা।

৪. হাসপাতালে রোগীর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা-অসংগতি পরিলক্ষিত হলে, তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ আকারে জানানো। এভাবে শাস্তি নিশ্চিত করা যেতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।

১১ দফা দাবিতে শ্রমিকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, বিকালে সেনাবাহিনীর আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা

টঙ্গী (গাজীপুর)প্রতিনিধি
২০১৫সালের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, অসৎ কর্মকর্তাদের অপসারণসহ ১১ দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করছেন টঙ্গীর পিপলস সিরামিক ইন্ডষ্ট্রিজ লি: এর শ্রমিকরা। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী সাধারণ। রোববার সকাল ১১ টার পর থেকে টঙ্গীতে অবস্থিত পিপলস সিরামিক ইন্ডষ্ট্রিজ লি: কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন। বিকাল ৪টায় সেনাবাহিনীর আশ^াসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের প্রধান দাবী হচ্ছে ২০১৫ সালের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, ২০১৫সালের এরিয়া বিল কার্ষকর সহ ১১ দফা বাস্তবায়ন করা। এছাড়া তারা অভিযোগ করেছেন, বেশ কিছু অসৎ সিবিএ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে আসছেন এবং ন্যায্য পাওনা থেকে তাদের বঞ্চিত করছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে, নিজেদের অধিকার রক্ষায় বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
সেনাবাহিনী ও শিল্প পুলিশ পিপলস সিরামিক কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তাদের দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন বলেন, পিপলস সিরামিক ইন্ডষ্ট্রিজ লি: এর এমডি সোমবার কারখানায় উপস্থিত হয়ে সেনাসদস্য,শিল্পপুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ^াসে শ্রমিকরা বিকেল ৪ টায় মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়।

বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪, ফেনীতেই ১৯ জন

দেশের ১১ জেলায় চলমান বন্যায়  মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে ৷

গত বৃহস্পতিবার মৃতের এই সংখ্যা ছিল ৫২ জন। এখন পর্যন্ত মোট মৃতের মধ্যে ফেনীতে সর্বোচ্চ, ১৯ জন ৷

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদন বলা হয়, বন্যায় মৃত মানুষের সংখ্যা এখন ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪১ জন, নারী ৬ জন ও শিশু ৭ জন। মৃতদের মধ্যে কুমিল্লা‌য় ১৪ জন, ফেনীতে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ৬, খাগড়াছড়িতে ১, নোয়াখালীতে ৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১, লক্ষ্মীপুরে ১, কক্সবাজার ৩ ও মৌলভীবাজারে ১ জন। এরা পানিতে ডুবে, সাপের কামড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এরা মারা গেছেন। মৌলভীবাজারে এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সিলেট, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলা থেকে প্রাপ্ত আজকের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে ৷ ৬৪টি উপজেলা বন্যা প্লাবিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন/পৌরসভা ৪৮৬টি। ১১ জেলায় মোট ১০ লাখ ৯ হাজার ৫২২টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৬৭ জন।

এতে আরও বলা হয়, তিন হাজার ২৬৯ টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনও ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৬৮৭ জন লোক এবং ৩৮ হাজার ১৯২টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মোট ৫৬৭টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে বলে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সশস্ত্রবাহিনী বন্যাদুর্গত এলাকায় এক লাখ ৯৪ হাজার ২৮৫ প্যাকেট ত্রাণ, ১৯ হাজার ২৬০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। মোট ৪২ হাজার ৭৬৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৮ হাজার ৩৮৯ জনকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ১৫৩ জনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নগদ বরাদ্দ রয়েছে ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা ৷

এছাড়া সশস্ত্রবাহিনীর পরিচালিত মোট ২৪টি ক্যাম্প এবং ১৮টি মেডিক্যাল টিম বন্যা উপদ্রুত এলাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। সার্বিকভাবে দেশের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছেন বলেও জানানো হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বাতিল

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক ফাহিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এতে বলা হয়—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহের বিদ্যমান গভর্নিং বডি/অ্যাডহক কমিটি বাতিল করা হলো।

আরও বলা হয়—কলেজ/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহকে বিধি মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়নের নিমিত্তে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রিধারী তিনজন করে শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এর আগে গত ২০ আগস্ট দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আর ২১ আগস্ট দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল করে এসব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মূলত কলেজগুলোর উচ্চশিক্ষা দেখভাল করে। এর কার্যক্রম অনেকটা শিক্ষা বোর্ডের মতো। মূল কাজ অধিভুক্ত কলেজগুলোর পরীক্ষা নেওয়া। এর অধিভুক্ত কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছেন ২৯ লাখের বেশি। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডিগ্রি দেওয়া হয়। আছে পেশাগত কোর্সও।

১৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে হামলায় আহত আ.লীগ নেতার মৃত্যু

১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২–এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতা এম এ মমিন পাটোয়ারী (৫৪) মারা গেছেন। নিহত মমিন পাটোয়ারী লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। আজ শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এদিন সকালে নিহত মমিন পাটোয়ারীর ভাতিজা মুনতাকিম পাটোয়ারী তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক উপকমিটির সহসম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সদস্য ছিলেন মমিন পাটোয়ারী। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মমিন পাটোয়ারীর সংসারে স্ত্রী ও এক ছেলে আছে। তিনি ডায়াবেটিক ও হৃদ্‌রোগেও আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর মরদেহ রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

রামগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া সুমন ও জেলা যুবলীগের নেতা নজরুল ইসলাম ভুলু ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল তাঁদের ফেসবুক আইডিতে মমিন পাটোয়ারীর ছবি দিয়ে আবেগঘন একটি লেখা পোস্ট করেন।

এতে তাঁরা লিখেছেন, ‘ভাই আর নাই। ১৫ আগস্টেই আপনাকে হারিয়েছি। যদি হাসপাতালে আক্রমণ হয়? যদি হাসপাতাল থেকে জেলে নেওয়া হয়? আজ আর কেউ আক্রমণ করবে না। আজ আর কেউ জেলে নেবে না। ভাই ভালো থাকবেন ওপারে। আপনি অনেক আবেগী ছিলেন। মানা করছিলাম ১৪ আগস্ট রাতে। আপনি রেগে গিয়েছিলেন। এত অভিমান? অভিমান নিয়েই চলে গেলেন।’

গাজায় পোলিও টিকা দিতে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল: প্রতিবেদন

 অবরুদ্ধ, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল গাজায় পোলিও আক্রান্ত প্রথম শিশু শনাক্ত হয়েছে। মাত্র ১০ মাস বয়সী সেই শিশুর নাম আব্দেল রহমান আবু আল-জাদেইন। এই অবস্থায় অঞ্চলটিতে পোলিও টিকা দেওয়ার জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। এমনটাই জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন তাঁকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিয়েছিলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গাজায় পোলিও ছড়িয়ে পড়ার গুরুতর আশঙ্কা ব্যক্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়টি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং কোন কোন অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি হবে সেই বিষয়টি নির্ধারণ করতে কাজ চলছে। এর বাইরে এই বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে—পোলিও টিকা দেওয়ার জন্য ইসরায়েল কোনো ধরনে যুদ্ধবিরতি দিতে সম্মত হয়নি বরং এ লক্ষ্যে গাজায় কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল বরাদ্দ করতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা এই বিষয়টিরই অনুমোদন দিয়েছে।

তিনি তাঁর টুইটে লিখেন, ‘পোলিওর দ্রুত বিস্তার গাজার সব শিশুকে হুমকির মুখে ফেলেছে। যারা এরই মধ্যে বাস্তুচ্যুতি, বঞ্চনা এবং অপুষ্টির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমি অবিলম্বে ৩ দিনের মানবিক যুদ্ধবিরতির—গাজায় যে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছে তার থেকে আলাদাভাবে—আহ্বান জানাই। যাতে ডব্লিউএইচও ও ইউনিসেফ শিশুদের টিকা দিতে সক্ষম হয়। এটি আমাদের মানবিক দাবি।’

ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থায় অঞ্চলটির শিশুদের মধ্যে পোলিও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এমনকি সংস্থাটি গাজায় ১০ লাখ পোলিও ভ্যাকসিনও পাঠিয়েছিল। এবার সেই ভ্যাকসিন গাজার শিশুদের দিতে অঞ্চলটিতে ৩ দিনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান করা হলো।

সে সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম ঘেব্রেইসাস গত জুলাই মাসের ২৭ তারিখ জানান, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ড গাজায় শিশুদের পোলিও রুখতে ১০ লাখের বেশি ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে লিখিত কলামে তেদরোস আধানম ঘেব্রেইসাস উল্লেখ করেন, গাজার পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায় এমন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। তবে দুই বছর বয়সী শিশুরা আরও বেশি ঝুঁকিতে। কারণ তাদের জন্মের পরপরই যেসব প্রয়োজনীয় টিকা পাওয়ার কথা, তার অধিকাংশই পাওয়া হয়নি গাজায় ৯ মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে।

সাধারণত পোলিওমাইলাইটিস রোগটি মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস, যা স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করতে পারে এবং এর কারণে মানুষের প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত ঘটতে পারে। ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পোলিওর ঘটনা ৯৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে গণ টিকা অভিযানের কারণে।

আলোচনা ফলপ্রসূ, খুব দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে আশাবাদী: বিএনপি

অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য কোনো সময় দেয়নি বিএনপি। যৌক্তিক একটি সময়ে সরকারই নির্বাচনের তারিখ দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমনটাই জানান বিএনপি মহাসচিব। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদও অংশ নেন। বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য কোনো তারিখ চাওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘না… আমরা কোনো তারিখ বলিনি। উনারাই (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) তো তারিখ বলবেন।’

দেড় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে। তারা তাদের আন্তরিকতা, দেশপ্রেম এবং যোগ্যতা দিয়ে খুব দ্রুতই একটা স্ট্যাবল অবস্থায় নিয়ে আসতে পারবেন। একই সঙ্গে তারা একটা নির্বাচনের দিকেও যেতে পারবেন। প্রয়োজনীয় সংস্কারও করবেন।’

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একটি প্রতিনিধিদল আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বিএনপি প্রতিনিধিরা মূলত বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার ভাবনা, নির্বাচন নিয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।

তাঁরা বলেছেন, এই সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ব্যাপারে তাঁদের পূর্ণ সমর্থন আছে। ভবিষ্যতেও এই সমর্থন থাকবে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংস্কার এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ব্যাপকভিত্তিক সংলাপ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে তাঁরা অনুরোধ করেন। তাঁরা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও জানতে চান এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা ও সম্ভাবনা আছে, সে ব্যাপারেও তাঁরা একমত পোষণ করেন।

সবশেষে তাঁরা এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, বর্তমান সরকার সংস্কার এবং নির্বাচন–সম্পর্কিত এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেবে, সেটা নিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে এবং তারা সেটার একটি সমন্বিত অংশীদার হবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দীন আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা আপাতত ভারতেই থাকবেন!

চলতি মাসের ৫ তারিখে গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, তৃতীয় কোনো গন্তব্য চূড়ান্ত না হলে তিনি ভারতেই থাকতে বাধ্য হবেন। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, তার মায়ের আপাতত ভারত ত্যাগের কোনো ইচ্ছা নেই।

২৭ আগস্ট এশিয়া টাইমস ‘হাসিনা’স লাস্ট স্টান্ড লিনস অন ইন্ডিয়া অ্যান্ড প্রো-হিন্দু মিসইনফরমেশন’ শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং তার হিন্দুত্ববাদী সমর্থকদের সঙ্গে জড়িত বলেই মনে হচ্ছে।প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হাসিনা যদি ফের ক্ষমতা দখল করতে পারেন তাহলে বাংলাদেশে ভারতের জন্য সম্ভাব্য বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার সহজ হয়ে দাঁড়াবে। হাসিনা এবং ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য কী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে তা উপলব্ধি করা অপরিহার্য।

দিল্লি সরকার ধারাবাহিকভাবে হাসিনা এবং তার আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে।ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে নিজের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে হাসিনা নিজের অধীনে নির্বাচন দেয় এবং ক্ষমতায় আসে। সে সময় প্রধান বিরোধী দল বিএনপি হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে চরম বিতর্ক থাকলেও ভারতের তখনকার পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে উদ্বুব্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন।

ওই নির্বাচনটি প্রতারণামূলক ভোট হিসেবে স্বীকৃত। তবে সেটাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ভারত তাদের কৌশল ব্যবহারের চেষ্টা করে।২০১৮ সালের নির্বাচনেও হাসিনার আওয়ামী লীগ নিজেদের নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের মাধ্যমে আরেকটি ভোটে জয় লাভ করে। হাসিনার এমন আচরণে তখন উত্তর কোরিয়ার কথা স্মরণ হয়। প্রায় ৯৫ শতাংশ আসনে নিজেদের ক্ষমতা পোক্ত করেছিলেন হাসিনা।

সরকারি আমলা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষালম্বন করায় আওয়ামী লীগের ওই বিজয় বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন প্রতারণামূলক নির্বাচন ছাড়া আর কিছুই ছিল না।নির্বাচনে জালিয়াতি করার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দার ঝড় উঠলেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারই প্রথম হাসিনাকে অভিনন্দন জানায়। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রদান করার মাধ্যমে তার শাসনকে শক্তিশালী করেছিল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দিল্লি আছে আমরাও আছি (তিনি দিল্লির সমর্থনের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন)। এ ছাড়া তিনি এ বিষয়টিও নিশ্চিত করেন যে আওয়ামী লীগের আধিপত্যের প্রতি সাংবিধানিক যেকোনো হুমকি প্রতিরোধে ভারত তাদের আশ্বস্ত করেছে।’

সম্প্রতি হাসিনার ছেলে জয় বলেছেন, ‘আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপ দেবে ভারত।’ কেননা হাসিনার আকস্মিকভাবে ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ায় ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতি বড় একটি ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর কয়েক দিন বাংলাদেশ কার্যক্ষম সরকারহীন হয়ে পরে এবং বেশ কিছু নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়।

প্রতিবেদন মতে, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় কার্যালয় এবং থানাগুলোকে দুর্নীতি, দমন-পীড়ন এবং চাঁদাবাজির আখড়ায় পরিণত করেছিল। যাতে বছরের পর বছর অন্যায় এবং জুলুমের শিকার হওয়া জনগোষ্ঠীর ভেতর এসব স্থানের ওপর আক্রোশ তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়টিই জনতাকে থানা এবং কার্যালয়ের ওপর সহিংস হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সহিংসতায় তারা শতাধিক থানা ও দলীয় কার্যালয় জ্বালিয়ে দেয়।